বরিশালের উন্নয়নে ছয় লেন সড়ক ও মীরগঞ্জে সেতু নির্মাণের দাবি ব্যারিস্টার ফুয়াদের

বরিশাল বিভাগের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও দারিদ্র্য দূরীকরণের দাবিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে এবি পার্টি। সোমবার (২৮ এপ্রিল) ঢাকায় নৌপরিবহন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি, খনিজ সম্পদ, সড়ক পরিবহন, সেতু ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাদের হাতে স্মারকলিপি তুলে দেন এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।

স্মারকলিপিতে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বরিশাল বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “পদ্মা সেতুর পর ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত ছয় বা আট লেনের মহাসড়ক নির্মাণ প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে এর জন্য বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে বরিশাল শহর ও বাবুগঞ্জ উপজেলার সঙ্গে মুলাদী, হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জকে যুক্ত করতে মীরগঞ্জে আড়িয়াল খাঁ বা সুগন্ধা নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ জরুরি।”

এছাড়া ফেরীঘাট ইজারা না দিয়ে স্থানীয় জনগণকে হয়রানি থেকে মুক্ত রাখার দাবি জানান তিনি। ঘাটের রক্ষণাবেক্ষণ যেন সুলভমূল্যে পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়—এই দাবি স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়। সেতু নির্মিত হলে মীরগঞ্জ ফেরীর সুবিধা বাবুগঞ্জ খেয়াঘাটে স্থানান্তরের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনমানের পরিবর্তন সম্ভব বলেও জানান তিনি।

স্মারকলিপিতে আরও দাবি করা হয়:

বরিশালের সড়ক ও মহাসড়ক মেরামত ও উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ।

গ্রামীণ জনপদের ভাঙাচোরা রাস্তা পুনর্নির্মাণ বা সংস্কার।

পর্যটন ও মৎস্য শিল্পের প্রসার ঘটিয়ে অর্থনীতির উন্নয়ন।

বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা।

বেকার যুবকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি।

অনাদায়ী কৃষি ঋণ মওকুফের ব্যবস্থা গ্রহণ।

আলোচনা শেষে উপদেষ্টারা বরিশালের সমস্যাগুলো আমলে নিয়ে যৌক্তিক দাবিগুলোর বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) গাজী নাসের, সহকারী অর্থ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক এবং বরিশাল সোসাইটির আহ্বায়ক আমানুল্লাহ খান নোমান।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /

 




বাবুগঞ্জে পানির সংকটে নাজেহাল জনজীবন, অমৃত গ্রুপের বিরুদ্ধে মানববন্ধন

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় ভূগর্ভস্থ পানি শূন্য হয়ে পড়ার পেছনে দায়ী অমৃত গ্রুপের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয়রা।

সোমবার (২৮ এপ্রিল) সকাল ১১টায় সাতমাইল এলাকায় আয়োজিত এই মানববন্ধনে শতাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধন থেকে অমৃত গ্রুপের অবৈধ পানি উত্তোলন অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানানো হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে অমৃত গ্রুপ বাবুগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করে খনিজ পানি বোতলজাত করে বাজারজাত করছে। এতে হিজলা, খাতিয়া, রহমতপুর, মেখিয়া, চাঁদপাশা, মাধবপাশা, পাংশা, গড়িয়ার পাড় ও ক্যাডেট কলেজ এলাকার পানির স্তর বিপজ্জনকভাবে নিচে নেমে গেছে।

বর্তমানে গভীর নলকূপের মাধ্যমেও অনেক এলাকায় পানি পাওয়া যাচ্ছে না। মসজিদ-মাদ্রাসাসহ জনজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ভয়াবহ পানি সংকট দেখা দিয়েছে।

মানববন্ধনে স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন,
“ভোর ৪টায় উঠেও টিউবওয়েলে পানি পাই না। অথচ আমাদের এলাকার পানি চুরি করে অমৃত গ্রুপ কোটি কোটি টাকার ব্যবসা করছে। আমরা আর সহ্য করবো না। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কঠোর আন্দোলনে নামবো।”

এসময় বাবুগঞ্জ এলাকার গৃহিণী মিসেস নাসরিন আক্তার বলেন,
“গ্রামের মানুষ এখন পানি কিনে খাচ্ছে। খনিজ পানি আমাদের মৌলিক অধিকার। অথচ তা বাণিজ্যিকভাবে লুটপাট করা হচ্ছে। যদি প্রশাসন ব্যবস্থা না নেয়, আমরা নিজেরাই রাস্তায় নামবো।”

 

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট এম. মাসুদ হাওলাদার বলেন, ভূগর্ভস্থ পানি জাতীয় সম্পদ। কোনোভাবেই ব্যক্তি বা কোম্পানির মালিকানায় যেতে পারে না। অবৈধ পানি উত্তোলন অব্যাহত থাকলে বড় ধরনের জনক্ষোভ সৃষ্টি হবে, যা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারে। সরকারকে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




মুফতী ফয়জুল করীমের মেয়রের চেয়ারে বসা আটকে আছে কোথায়?

বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমের মেয়রের চেয়ারে বসার পথ এখনো আটকে আছে। চট্টগ্রাম ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে বিএনপির প্রার্থীরা মামলা করে মেয়র পদে বসতে পারলেও বরিশালে ফয়জুল করীমের বিষয়টি ঝুলে আছে আদালতে। একদিকে শুনানির তারিখ বারবার পিছিয়ে দেওয়া, অন্যদিকে সরকারের সদিচ্ছার অভাব—দুইয়ে মিলে সৃষ্টি হয়েছে নানা প্রশ্ন।

২০২৩ সালের বরিশাল সিটি নির্বাচন ঘিরে হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতী ফয়জুল করীমের জয়ের সম্ভাবনা ছিল প্রবল। তবে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে ব্যাপক অভিযোগ ওঠে যে, তাঁকে কারচুপির মাধ্যমে হারানো হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৭ এপ্রিল বরিশালের আদালতে মামলা করেন তিনি। শুনানির জন্য ২৪ এপ্রিল তারিখ নির্ধারিত থাকলেও, সেদিন শুনানি শেষে আদালত পরবর্তী শুনানির দিন ৫ মে নির্ধারণ করে, ফলে বিষয়টি আরও বিলম্বিত হয়।

সরকারি উপদেষ্টার মন্তব্যে নতুন বিতর্ক:: 

সরকারের স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার একটি বক্তব্য নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এক গণমাধ্যমকে তিনি জানান, তিনি ক্ষমতাচ্যুত সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের প্রার্থীদের আদালতের মাধ্যমে মেয়র পদে বসানোর পক্ষে নন। তাঁর মতে, এতে অবৈধ নির্বাচনকে বৈধতা দেওয়া হবে। এই বক্তব্যের পর ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা দাবি করছেন, সরকারের ইচ্ছাকৃত বাধার কারণেই ফয়জুল করীমকে মেয়রের চেয়ারে বসতে দেওয়া হচ্ছে না।

বিক্ষোভ ও দাবির ঝড়:: 

ইতোমধ্যে বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মুফতী ফয়জুল করীমকে মেয়র ঘোষণা করার দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতিও দেওয়া হয়েছে। তাঁরা একে ইসলামী আন্দোলনের প্রতি বৈষম্য ও অবিচার হিসেবে দেখছেন।

নতুন মামলা, নতুন ষড়যন্ত্রের অভিযোগ:: 

এর মধ্যে গত ২৩ এপ্রিল জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী ইকবাল হোসেন (তাপস) একই নির্বাচন নিয়ে আদালতে নতুন করে মামলা করেছেন। যিনি নির্বাচনে তৃতীয় হয়েছিলেন। ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে, হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থীকে মেয়র ঘোষণা ঠেকাতে পরিকল্পিতভাবে এই মামলা করা হয়েছে।

বর্তমানে মুফতী ফয়জুল করীম ও তার অনুসারীরা ৫ মে’র শুনানির দিকে তাকিয়ে আছেন। তাঁদের দৃঢ় বিশ্বাস, সেদিন আদালত হাতপাখার পক্ষে রায় দেবে এবং এরপর নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশ করবে। যদি এমনটা হয়, তবে বাংলাদেশের ইতিহাসে মুফতী ফয়জুল করীম হবেন প্রথম কোনো আলেম মেয়র।


মো: তুহিন হোসেন / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪.কম /




ঝালকাঠিতে মুগ ডাল চাষে কৃষকদের মুখে হাসি

ঝালকাঠি জেলার কৃষকদের জন্য চলতি মৌসুমটি অত্যন্ত সুখবর বয়ে এনেছে। মুগ ডালের বাম্পার ফলন এই অঞ্চলের কৃষকদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। কৃষি বিভাগের প্রযুক্তিগত সহায়তা ও চাষিদের প্রশিক্ষণের ফলে এবারের মুগ ডালের আবাদ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৪০০ হেক্টর জমিতে বাড়ানো সম্ভব হয়েছে। এই অঞ্চলের উৎপাদিত মুগ ডাল এখন স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে যাচ্ছে। কৃষকেরা লাভবান হওয়ার পাশাপাশি মুগ ডাল চাষে নতুন উদ্যোক্তাদের আগ্রহও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

নলছিটি উপজেলার কুলকাঠি গ্রামের কৃষকদের মতে, মুগ ডাল চাষে সময়মতো বীজ, সার ও প্রশিক্ষণ সহায়তা পাওয়ায় তাদের ফলন সন্তোষজনক হয়েছে। প্রায় প্রতিটি পরিবারে কৃষি কাজে নারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও মাঠে কাজ করছেন। এর ফলে উৎপাদন এবং লাভও বেড়েছে, যা নতুন কৃষি উদ্যোক্তাদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করছে।

ঝালকাঠি সদর, নলছিটি, রাজাপুর এবং কাঁঠালিয়া উপজেলার মোট ২ হাজার ৬০৫ হেক্টর জমিতে মুগ ডাল চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও এই বছর ৩ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ করা হয়েছে। কৃষি বিভাগ আশা করছে, এই উৎপাদন প্রায় ৩,৫০০ মেট্রিক টন মুগ ডাল হবে, যার বাজার মূল্য প্রায় ৪৫ কোটি টাকা। বিশেষত বারি মুগ-৬ ও বারি মুগ-১৪ জাতের চাষ বেশ জনপ্রিয় হয়েছে।

জেলার কৃষকরা জানাচ্ছেন, মুগ ডাল চাষে তাদের খরচ কম হলেও ভালো লাভ হচ্ছে। এমনকি সেচ ও সার ছাড়াও মুগ ডাল চাষ লাভজনক। কৃষকরা মুগ ডাল চাষে আরও আগ্রহী হয়ে উঠছেন, কারণ এটি তুলনামূলকভাবে কম রক্ষণাবেক্ষণের ফসল এবং খরচও কম।

নলছিটি উপজেলার কুলকাঠি ইউনিয়নের কৃষক রুস্তম আলী বলেন, “আবহাওয়া অনুকূল থাকায় এবং কৃষি বিভাগের সহায়তায় মুগ ডালের ফলন অত্যন্ত ভালো হয়েছে। খরচ বাদেও এবার ভালো লাভ হবে।”

ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. রিফাত সিকদার জানান, আধুনিক জাতের মুগ ডাল চাষে কৃষকরা নতুন করে উৎসাহিত হয়েছেন। এ বছর মুগ ডালের ভালো ফলন হচ্ছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষভাবে, কৃষি প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কৃষকেরা আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতিতে দক্ষতা অর্জন করেছেন, যা নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করছে এবং চাষিদের জন্য সাফল্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে।

এই চাষের ফলে মুগ ডাল শুধু খাদ্য হিসেবে নয়, পুষ্টিকর এবং লাভজনক একটি ফসল হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। কম সেচ এবং সার ব্যবহারের কারণে এটি কৃষকদের জন্য একটি সুবিধাজনক ফসল হয়ে উঠেছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ভোলায় সেতু-গ্যাস-মেডিকেলের দাবিতে ঢাকায় বিক্ষোভ

ঢাকায় বসবাসকারী ভোলার জনসাধারণ শনিবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৫, সকাল ১০ টা থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে একটি বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। ‘আগামীর ভোলা’ সংগঠনের ব্যানারে আয়োজিত এই সমাবেশে বক্তারা ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ, ভোলার গ্যাস সরবরাহ এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, যদি এসব দাবি দ্রুত বাস্তবায়িত না হয়, তবে কঠোর আন্দোলন করা হবে।

বিক্ষোভে প্রায় দেড় হাজার মানুষ অংশ নেয়। সমাবেশের পর একটি বিক্ষোভ মিছিল পল্টন মোড় ঘুরে আবারও প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। এ সময় কিছু সময়ের জন্য পল্টন-প্রেসক্লাব এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়।

সমাবেশে উপস্থিত ভোলা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম বলেন, “ভোলা খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণ, কিন্তু এখনও আমাদের প্রতিটি ঘরে গ্যাস নেই, সেতু নির্মাণ হয়নি, এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য কোনো মেডিকেল কলেজও নেই।” তিনি আরো বলেন, “চিকিৎসার অভাবে প্রতিদিন বহু মানুষ মারা যাচ্ছেন এবং শিক্ষা ব্যবস্থাও দুর্বল হয়ে পড়েছে।”

‘আগামীর ভোলা’ সংগঠনের মুখপাত্র সাংবাদিক মীর মোহাম্মদ জসিম বলেন, “আমাদের আন্দোলন চলবে যতদিন না আমাদের দাবিগুলো পূর্ণ হয়।”

এ সময় কিছু দুর্বৃত্ত সমাবেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের প্রতিহত করে। শাহবাগ থানার পেট্রোল ইন্সপেক্টর সরদার বুলবুল আহমেদ বলেন, “আমরা কোনো মারধর করিনি, বরং শান্তিপূর্ণভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরগুনার আমতলীতে মুগডালের ভালো ফলন, দামে খুশি কৃষকরা

বরগুনার আমতলী উপজেলার কৃষকরা রবি মৌসুমে মুগ ডালের চাষে সফলতা পেয়েছেন। স্থানীয় কৃষকদের জানানো মতে, এবার উপজেলায় সাত হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড মুগ ডালের চাষ করা হয়েছে, যা খুবই ভালো ফলন দিয়েছে। বাজারে দামেরও উন্নতি হয়েছে, ফলে কৃষকরা খুশি।

আমতলীর হলদিয়া, চাওড়া, কুকুয়া, আঠারগাছিয়া, গুলিশাখালী, আমতলী সদর ও আমতলী সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ও মাঠে মুগ ডালের সমারোহ দেখা গেছে। ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পুরুষ, নারী এবং শিশুরা মিলেমিশে ডাল তুলছেন।

আড়পাঙ্গাসিয়া ইউনিয়নের চাষি মো. বারেক মিয়া বলেন, “আমি চার একর জমিতে মুগ ডাল চাষ করেছি এবং ভালো ফলন পেয়েছি।”

হলদিয়া এলাকার চাষি মো. নান্নু মিয়া বলেন, “আমি দুই একর জমিতে মুগ ডাল চাষ করেছি এবং ফলনও ভালো হয়েছে। বাজারে দামও ভালো পাচ্ছি।”

উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিখিল চন্দ্র জানান, “এ বছর উপজেলায় সাত হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড মুগ ডাল চাষ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৬০% বেশি পতিত জমিতে চাষ করা হয়েছে।”

এদিকে স্থানীয় বাজারের আড়তদাররা জানাচ্ছেন, বাজারে প্রতি মণ মুগ ডাল চিকন ৪ হাজার ৫০০ টাকা এবং মুগ মোটা ডাল ৩ হাজার ৭০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাসেল বলেন, “কৃষি বিভাগের পরামর্শ, তদারকি এবং ভালো আবহাওয়ার কারণে বাম্পার ফলন হয়েছে। এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে মুগ ডালের চাষ করা হয়েছে এবং হেক্টর প্রতি ৯০০ কেজি থেকে এক হাজার ২০০ কেজি ডাল ফলন হয়েছে।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




আমতলীতে বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু

বরগুনার আমতলী উপজেলার আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নের আলগী গ্রামে বজ্রপাতে রিপন হাওলাদার (২৩) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২৭ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

রিপন আলগী গ্রামের বশির হাওলাদারের ছেলে ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার সকালে রিপন গরু চরাতে গিয়ে মাঠে ছিলেন। হঠাৎ ভারি বৃষ্টিপাত শুরু হলে বজ্রপাতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

গাজীপুর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই হুমায়ুন কবির জানান, “মাঠে গরু চরাতে গিয়ে রিপন হাওলাদার বজ্রপাতে মারা গেছে।” আমতলী থানার ওসি মো. আরিফুল ইসলাম আরিফ জানিয়েছেন, “ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।”

এটি একটি দুঃখজনক ঘটনা, যা প্রমাণ করে বজ্রপাতের সময় নিরাপত্তার গুরুত্ব কতটা বেশি।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ভোলায় মুক্তা চাষে নতুন দিগন্তের সূচনা

ভোলা সদর উপজেলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নের চর গাজী গ্রামে পরীক্ষামূলক মুক্তা চাষে অভূতপূর্ব সাফল্য পেয়েছে গ্রামীণ জনউন্নয়ন সংস্থা (জিজেইউএস)। এই চাষ প্রকল্পটি ইতোমধ্যেই সম্ভাবনার নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে এবং ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে, জিজেইউএস নিজস্ব অর্থায়নে যশোর থেকে অল্পসংখ্যক ঝিনুক সংগ্রহ করে শুরু করে এই পরীক্ষামূলক প্রকল্প। পুকুরের মাটি ও পানির গুণগত মান যাচাই করে, প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে ঝিনুকে কৃত্রিম মুক্তা প্রতিস্থাপন করে। এরপর ঝুড়িতে ডুবিয়ে রাখা হয় নির্দিষ্ট গভীরতায়, যেখানে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও যত্নের মাধ্যমে মুক্তার স্তর গঠিত হতে থাকে।

মুক্তা প্রস্তুত হতে সাধারণত ৯ থেকে ১২ মাস সময় লাগে, তবে এই প্রকল্পের অধীনে মাত্র ৭ মাসে সফলতা এসেছে। প্রতি ১৫ দিন পর পর পুকুরে ইউরিয়া, পটাশ, ড্যাব ও খৈল ছিটিয়ে ঝিনুকের জন্য প্রাকৃতিক খাদ্য তৈরি করা হয় এবং নিয়মিত পানি ও মাটির মান পরীক্ষা করা হয়।

জিজেইউএস-এর পরিচালক (লিগ্যাল এডভোকেসি ও প্রোগ্রাম) এডভোকেট বীথি ইসলাম জানান, “আমাদের এই পাইলট প্রকল্প সফল হয়েছে। ভবিষ্যতে আমরা এই চাষ পদ্ধতি আমাদের সদস্যদের মধ্যেও ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছি।”

স্থানীয়দের মধ্যে মুক্তা চাষের ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে এবং অনেকেই ঝিনুক চাষ শুরু করার পরিকল্পনা করছেন। ভোলা মৎস্য অধিদপ্তরের খামার ব্যবস্থাপক এ এইচ এম জাকির হোসেন বলেন, “মুক্তা চাষে এই সফলতা অব্যাহত থাকলে দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা যেমন বাড়বে, তেমনি বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করাও সম্ভব হবে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং আত্মনির্ভরশীলতার পথ প্রশস্ত করবে। ভোলা সদর উপজেলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নের চর গাজীতে এই পরীক্ষামূলক মুক্তা চাষ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




পিরোজপুরে নিজ গোপনাঙ্গ কেটে ফেললেন যুবক

পিরোজপুরের নাজিরপুরে নিজ পুরুষাঙ্গ কেটে ফেললেন মো. বায়েজিদ শিকদার (২৮) নামে এক যুবক। তিনি উপজেলার মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ বানিয়ারী গ্রামের এমেদুল শিকদারের ছেলে।

রোববার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে নিজ বাড়ির বসত ঘরে বসে ওই যুবক এ ঘটনা ঘটান। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডাক্তার শিমুল কৌশিক সাহা বলেন, রোববার দুপুরে ওই যুবককে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসা হয়। তার পুরুষাঙ্গ সম্পূর্ণ কেটে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ওই যুবকের চাচি জানান, যুবকের পিতা মাঠে ধান কাটার কাজে ও মা পরিবারের কাজে ব্যস্ত থাকায় দুপুরে তিনি তার নিজ বাড়ির বসত ঘরের বিল্ডিংয়ের দরজা আটকে নিজের পুরুষাঙ্গ কেটে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। এতে গুরুতর আহত হলে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, ওই যুবক মানসিক ভারসাম্যহীন। এর আগে গত বছর তিনি আত্মহত্যার উদ্দেশে নিজ বাড়ির ছাদ থেকে লাফিয়ে আহত হয়েছিলেন।

এ ব্যাপারে নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদ আল ফরিদ ভুইয়া বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। এ বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছি।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




খাল বাঁচলেই বরগুনা বাঁচবে: এখনও সম্ভব ভাড়ানি খাল রক্ষা

ভাড়ানি খাল বরগুনা শহরের প্রাণ। একসময় যেখানে ছিল খরস্রোতা নৌপথ, এখন সেখানে জমেছে আবর্জনা, দখল আর বিষাক্ত বর্জ্য। তবে পরিবেশবাদীরা বলছেন—আশা এখনও শেষ হয়নি, চাই শুধু কার্যকর পদক্ষেপ।

বরগুনা শহরের বুক চিরে খাকদোন নদী থেকে পায়রা নদীতে মিশে যাওয়া খালটির গুরুত্ব অপূরণীয়। পরিবেশ, নৌ-যোগাযোগ, শহরের সৌন্দর্য এবং পানির উৎস—সব কিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এই খালটি। অথচ দখলদারদের দাপট, পৌরসভার অবহেলা ও নাগরিকদের অসচেতনতার কারণে খালটি আজ মৃত্যুর মুখে।

২০১৮ সালে ‘বেলা’র করা মামলার রায়ে হাইকোর্ট খালের দুই কিলোমিটার এলাকার দখল উচ্ছেদের নির্দেশ দিলেও বাস্তবে তার অল্পই বাস্তবায়ন হয়েছে। ২০১৯ সালে ৫০টির বেশি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হলেও বর্তমানে ১৫০টির বেশি অবৈধ স্থাপনা আবার গড়ে উঠেছে খাল ঘিরে। নিয়মিত আবর্জনা ফেলা, বাজার ও বাসাবাড়ির বর্জ্য নিঃসংশয়ে নিক্ষেপ—এটাই এখন বাস্তবতা।

পরিবেশ আন্দোলনকারীরা বলছেন, এটি শুধু খাল রক্ষার প্রশ্ন নয়, পুরো শহরের অস্তিত্ব রক্ষার বিষয়। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) বরগুনা শাখার সভাপতি মুশফিক আরিফ বলেন, “এই খাল শহরের অন্যতম জলাবদ্ধতা প্রতিরোধকারী প্রাকৃতিক ব্যবস্থাও বটে। এটি শুকিয়ে গেলে শহর বৃষ্টিতে ডুববে, বাস্তুতন্ত্র ভেঙে পড়বে।”

বরগুনা স্বাস্থ্য ফোরামের সিনিয়র সহসভাপতি জাহাঙ্গীর কবীর মৃধা বলেন, “মুরগির বর্জ্য, মাছ বাজারের আবর্জনা এই খালে পড়ছে, আর সেই পানি দিয়েই অনেক পরিবার রান্না ও গোসল করছে—এটা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।”

জনসাধারণ ও পরিবেশকর্মীরা একমত—খাল রক্ষা করতে হলে প্রয়োজন ৩টি প্রধান পদক্ষেপ:

  1. নিয়মিত খাল পরিষ্কার কার্যক্রম
  2. নতুন দখল রোধে কঠোর নজরদারি
  3. জনসচেতনতা ও গণমাধ্যমে প্রচার

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন—এভাবে চলতে থাকলে একদিন পুরো খালটাই কেবল মানচিত্রেই থাকবে, বাস্তবে নয়। বরগুনাবাসী এখন পৌরসভার দৃশ্যমান পদক্ষেপের অপেক্ষায়, যাতে ভাড়ানি খাল ফিরে পায় তার হারানো প্রাণ ও গৌরব।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /