‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠে দেশজুড়ে জনসমাগম নিশ্চিতে সরকার ভাড়া নিল ১৬টি বিশেষ ট্রেন

জাতীয় সংসদের সামনে আয়োজিত ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠ অনুষ্ঠানে দেশজুড়ে ছাত্র-জনতার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ১৬টি (৮ জোড়া) বিশেষ ট্রেন ভাড়া করেছে সরকার। আগামী ৫ আগস্ট দুপুরের মধ্যে এসব ট্রেনে অংশগ্রহণকারীরা রাজধানীতে পৌঁছাবেন এবং অনুষ্ঠান শেষে রাতেই ফিরে যাবেন নিজ নিজ গন্তব্যে।

রেলওয়ে ও মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এ ব্যবস্থার জন্য প্রাথমিকভাবে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩০ লাখ ৪৬ হাজার টাকা। সম্পূর্ণ ব্যয়ভার বহন করবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

রোববার (৩ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তরের আবেদনের প্রেক্ষিতে রেলপথ মন্ত্রণালয়কে ট্রেন ভাড়ার নির্দেশ দেয় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এরপরই ট্রেনের রুট, সময়সূচি ও কোচ সংখ্যা নির্ধারণ করে প্রস্তুতি সম্পন্ন করে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী—

  • রংপুর, রাজশাহী, সিলেট ও চট্টগ্রামের মতো দূরবর্তী জেলা থেকে ট্রেনগুলো ছাড়বে ৪ আগস্ট রাতে ও ৫ আগস্ট ভোরে।
  • ঢাকার আশপাশের গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী ও ফরিদপুর থেকে ট্রেন ছাড়বে অনুষ্ঠান শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে।
  • অনুষ্ঠান শেষেই রাত ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে এসব ট্রেন গন্তব্যে ফিরতি যাত্রা শুরু করবে।

রেলওয়ের তথ্য মতে, রংপুর থেকে ১৪ কোচের একটি ট্রেনের ভাড়া ধরা হয়েছে সর্বোচ্চ—প্রায় ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। চট্টগ্রাম থেকে ১৬ কোচের ট্রেনের জন্য ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ লাখ টাকার কিছু বেশি। অন্যান্য জেলার ট্রেনগুলোর ভাড়া নির্ধারিত হয়েছে দূরত্ব ও কোচ সংখ্যার ভিত্তিতে।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম বলেন, “আমরা নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ট্রেন ভাড়া দিয়েছি। এখানে মূল বিষয় হলো—সরকার নিজে অর্থ পরিশোধ করছে।”

এর আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও কর্মসূচিতে অংশ নিতে বিশেষ ট্রেন ভাড়া করেছে। রোববার ছাত্রদলের শাহবাগের ছাত্র সমাবেশে চট্টগ্রাম থেকে ২০ কোচের বিশেষ ট্রেন আনা হয়। এর আগে জামায়াতে ইসলামীর একটি কর্মসূচিতে চারটি রুটে ট্রেন চালানো হয়েছিল, যার ভাড়া ছিল প্রায় ৩২ লাখ টাকা।

রেল কর্মকর্তারা জানান, ট্রেন ভাড়ার জন্য নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আবেদন করলে যে কোনো সংস্থা বা সংগঠনকে ট্রেন দেওয়া হয়ে থাকে। তবে এ ধরনের ভাড়ায় সাধারণ টিকিট মূল্যের তুলনায় গড়ে ৩০ শতাংশ বেশি চার্জ নেওয়া হয়।

সরকারের উদ্যোগে ট্রেন ব্যবস্থাপনার এই পদক্ষেপ ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠ অনুষ্ঠানে ব্যাপক জনসম্পৃক্ততা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মনে করছে।




আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, গৃহবধূর মর্মান্তিক আত্মহত্যা!

পিরোজপুরের স্বরূপকাঠিতে (নেছারাবাদ) পরকীয়ার অভিযোগ এবং একটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার জেরে ফাহিমা আক্তার আইমিন (২৮) নামের এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার (২ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের বিন্না গ্রামে নিজ বাড়িতে আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে নেছারাবাদ থানা পুলিশ। পরদিন লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য পিরোজপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

জানা গেছে, প্রায় এক দশক আগে একই গ্রামের আব্দুল মন্নান মাঝির ছেলে রাজু মাঝির সঙ্গে ফাহিমা আক্তারের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে। স্বামী রাজুর দাবি, বিয়ের পর থেকেই স্ত্রী আইমিন পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ হয়। পরবর্তীতে তারা ঢাকার কালিগঞ্জের বড়ইতলায় গিয়ে বসবাস শুরু করেন। কিন্তু সেখানেও আইমিনের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ ওঠে।

রাজুর ভাষ্য মতে, একপর্যায়ে একটি বখাটে চক্র তার স্ত্রীর আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে তাকে ব্ল্যাকমেইল করে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করে। কয়েকদিন আগে আইমিনকে এক যুবকের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ধরে ফেলে এলাকাবাসী। এরপর তাকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

শনিবার দুপুরে রাজু শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে পুরো ঘটনা তার শ্বশুর-শাশুড়িকে জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শাশুড়ি মেয়েকে শাসন করেন এবং চড়-থাপ্পড় মারেন বলে জানা গেছে। কিছুক্ষণ পরই ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আইমিন আত্মহত্যা করেন।

নিহত নারীর মা আক্তারুননাহার জানান, মেয়ের সংসার দীর্ঘদিন ধরেই অশান্ত ছিল। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য বাবুল হাওলাদার বলেন, ‘আইমিনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ ছিল, এমনকি তাদের একবার বিবাহ বিচ্ছেদও হয়, পরে আবার একত্রে বসবাস শুরু করে।’

নেছারাবাদ থানার ওসি বনি আমিন বলেন, “ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। তদন্ত চলছে।”

এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




এক দশক ধরে তালাবদ্ধ পিরোজপুরের নৌ আবহাওয়া অফিস

প্রায় এক দশক ধরে বন্ধ অবস্থায় পড়ে আছে পিরোজপুরের কাউখালীতে নির্মিত কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি নৌ আবহাওয়া পূর্বাভাস কেন্দ্রটি। স্থানীয়দের অভিযোগ—যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো থাকলেও নেই কোনো কার্যক্রম, নেই সেবাপ্রদান। বরং এখন সেটি পরিণত হয়েছে আবাসিক হোটেলের মতো এক পরিত্যক্ত ভবনে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, অফিসের মূল ফটকে তালা ঝুলছে। পাশের পকেট গেট দিয়ে ঢুকে দেখা যায়, অফিস কক্ষগুলোতে বসার টেবিল সরিয়ে বিছানা পাতা, চলছে রান্নাবান্না, কাপড় শুকানো। অফিসের আসবাবপত্র রাখা হয়েছে বাইরে। অনেকটা যেন সরকারি দপ্তরের নামে একটি বসবাসযোগ্য আবাস।

২০০৮ সালে গণপূর্ত বিভাগের তত্ত্বাবধানে প্রায় ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে শুরু হয় নৌ আবহাওয়া পূর্বাভাস কেন্দ্রটির নির্মাণকাজ। মূল ভবনের কাজ শেষ হয় ২০১২ সালে এবং হস্তান্তর হয় ২০১৬ সালে। এরপর ২০১৮ সালে কিছুসংখ্যক জনবল নিয়োগ দেওয়া হলেও সেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দেখা মেলে না বলেই জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এমনকি অফিসে নিযুক্ত আনসার সদস্যও নিয়মিত থাকেন না।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, বছরের পর বছর তারা অফিস খোলা দেখেননি। ব্যবসায়ী সোয়াইব সিদ্দিক বলেন, “এটি উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও কোনো কার্যক্রম চোখে পড়ে না। আমরা এই অফিসের কোনো সুফল পাইনি।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, মংলা থেকে ঢাকা পর্যন্ত নৌপথে কাউখালী একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এখান থেকে দুটি নদীপথ বিভক্ত হয়ে বরিশাল ও স্বরূপকাঠী হয়ে ঢাকায় গিয়ে মিশেছে। তাই এখানে একটি কার্যকর আবহাওয়া পূর্বাভাস কেন্দ্র সময়ের দাবি।

এ বিষয়ে কেন্দ্রটির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাজেদুল হক বলেন, “আমি ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে এখানে দায়িত্বে রয়েছি এবং নিয়মিত অফিস চালাচ্ছি। কিছু যন্ত্রপাতি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ থাকলেও বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “রাত্রিকালীন ডিউটির কারণে বিশ্রামের জন্য বিছানা রাখা হয়েছে, এর বাইরে কিছু নয়।”

তবে স্থানীয়দের দাবি, একটি কার্যকর পূর্বাভাস কেন্দ্র চালুর উদ্দেশ্যে নির্মিত এই সরকারি স্থাপনাটি যেন অদক্ষতা, অবহেলা ও অনিয়মের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




বৈদেশিক মুদ্রার উৎস এখন পিরোজপুরের কচুরিপানা

এক সময় অযত্ন আর অবহেলার প্রতীক ছিল কচুরিপানা, এখন তা পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার মানুষের জন্য রীতিমতো স্বপ্নের সোপান। উপজেলার দেউলবাড়ী দোবড়া ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের এই জলজ উদ্ভিদ এখন বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম উৎসে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয়রা কচুরিপানা দিয়ে তৈরি করছেন পাপোশ, রকমারি ফুলদানি, দৃষ্টিনন্দন ঝুড়ি, রঙিন পাটি, ব্যাগ, টুপি, জায়নামাজসহ নানা ধরনের কুটির শিল্প পণ্য। এসব পণ্য পরিবেশবান্ধব হওয়ায় দেশে-বিদেশে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে আয় হচ্ছে লাখ লাখ টাকা।

প্রথমে জলাশয় থেকে ১৮ ইঞ্চি মাপের কচুরিপানা সংগ্রহ করে তা কেটে ৩-৪ দিন রোদে শুকানো হয়। শুকনো কচুরিপানা প্রতি কেজি ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এই কাজে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও যুক্ত হচ্ছেন, তৈরি হচ্ছে গ্রামের মানুষের কর্মসংস্থান।

সরেজমিন দেখা গেছে, ছোট ছোট গ্রামীণ সড়কের পাশে কর্মচঞ্চল শ্রমিকরা কচুরিপানা শুকানোর কাজে ব্যস্ত। মৌসুম মাঘ থেকে জ্যৈষ্ঠ পর্যন্ত হলেও, সারা বছরই এ কাজ চলে।

মাদরাসা ছাত্র হাফিজুর রহমান বলেন, “অবসর সময়ে কচুরিপানা শুকিয়ে দৈনিক একশ থেকে দুইশ টাকা আয় করছি।” উদ্যোক্তা আলমগীর হোসেন বলেন, “যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হলে এ শিল্প আরও সমৃদ্ধ হবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারবে।”

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান মিল্টন জানান, “নাজিরপুরের কৃষকদের উদ্ভাবনী শক্তি অসাধারণ। কচুরিপানা প্রসেসিং করে কুটির শিল্পের কাঁচামাল বানিয়ে তারা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছেন। এর পণ্যকে জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিতে আমরা উদ্যোগ নেব।”

অবহেলিত কচুরিপানার এমন রূপান্তর শুধু নাজিরপুর নয়, গোটা দেশের কুটির শিল্পের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




ভরা মৌসুমেও বাজারে নেই ইলিশ, আকাশচুম্বী দামে দিশেহারা ক্রেতারা

বরিশালসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলে চলছে ইলিশের মৌসুম। অথচ কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা নেই বাজারে। যা অল্প পরিমাণে পাওয়া যাচ্ছে, তার দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। ফলে দেশের ঐতিহ্যবাহী এই মাছটি যেন শুধুই ‘স্বপ্নের খাবার’ হয়ে দাঁড়িয়েছে সাধারণ মানুষের কাছে।

এক সময় ইলিশের জন্য বিখ্যাত বরিশালের পোর্ট রোড আজ প্রায় মাছশূন্য। এক সময় যেখানে প্রতিদিন এক থেকে দেড় হাজার মণ ইলিশ আসত, এখন সেখানে দিনে ৩০-৪০ মণের বেশি পাওয়া নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, ইলিশের এই সংকটে ব্যবসা চলছে চরম মন্দায়।

স্থানীয় বাজারগুলো ঘুরে দেখা গেছে, ১২০০-১৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ কেজি প্রতি ২৮০০ থেকে ৩০০০ টাকা, ১ কেজি ওজনের ইলিশ ২২০০-২৫০০ টাকা, ৭০০-৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১৮০০-২০০০ টাকা, ৫০০-৭০০ গ্রাম ১২০০-১৫০০ টাকা এবং ২০০-৫০০ গ্রাম ইলিশ ৮০০-৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা সাধারণ মানুষের জন্য একপ্রকার অসম্ভব।

পোর্ট রোডে ইলিশ কিনতে আসা ক্রেতারা বলছেন, শুধু দাম নয়, ইলিশের সরবরাহই নেই। গৌরনদী থেকে আসা ক্রেতা আতাউর বলেন, “এত দামে ইলিশ কেনা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এই দাম তো শুধু বিত্তবানদের জন্য।”

বিক্রেতারা অভিযোগ করছেন, ইলিশের মূল সংকট upstream– নদীতে জেলেরা মাছ পাচ্ছেন না। অনেক সময় জালে মাছ না পড়ায় ধার-দেনা করে দিন পার করছেন জেলেরা। অন্যদিকে যে অল্প মাছ ধরা পড়ছে, তার বড় একটি অংশ উচ্চমূল্যে বিক্রির আশায় ঢাকায় পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

পটুয়াখালীর কলাপাড়া থেকে আসা জেলে আনোয়ার হোসেন বলেন, “সাগরমুখী পানির প্রবল স্রোতের কারণে নদীতে জাল ফেলা যাচ্ছে না। তাই তেমন মাছও উঠছে না।”

ঝালকাঠি মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি শহিদ বলেন, “সুগন্ধা নদীতে আগে প্রতিদিন প্রচুর ইলিশ পাওয়া যেত, এখন দিনভর একটিও ওঠে না। ডুবোচর আর নাব্য সংকট এর প্রধান কারণ।”

এ বিষয়ে বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রিপণ কান্তি ঘোষ বলেন, “বর্তমানে ব্যবসায়ীরা অধিক দামের আশায় মাছ সরাসরি ঢাকায় পাঠিয়ে দিচ্ছেন। তবে সাগর থেকে সরবরাহ বাড়লে স্থানীয় বাজারে দাম কমে আসবে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিবছর ভরা মৌসুমে ইলিশের সংকট এবং দাম বৃদ্ধির কারণ হলো জলবায়ু পরিবর্তন, নদী-নাব্য সংকট, অতিরিক্ত আহরণ এবং বাজারে নিয়ন্ত্রণহীন সিন্ডিকেট। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে প্রয়োজন সমন্বিত পদক্ষেপ।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




সুপ্রিম কোর্টে অস্ত্রসহ প্রবেশ, বরিশাল বিএনপির নেতা জিয়াউদ্দিন আটক

রাজধানীর সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় বৈধ অস্ত্র নিয়ে প্রবেশের সময় বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব মো. জিয়াউদ্দিন শিকদার (৫৮) আটক হয়েছেন। রবিবার (৩ আগস্ট) দুপুর ১টা ৩০ মিনিটের দিকে তাকে টেকনিক্যাল ফোর্সের সদস্যরা আটক করেন।

সূত্র জানায়, তিনি ছাত্রদলের একটি সমাবেশে অংশ নিতে ঢাকা গিয়েছিলেন এবং সুপ্রিম কোর্টের একজন বেঞ্চ অফিসারের সঙ্গে দেখা করার উদ্দেশ্যে আদালত প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন। এ সময় তার সঙ্গে বৈধ লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র থাকায় তাকে আটক করা হয়।

এদিন সকালে একই অভিযোগে আরেক ব্যক্তি, ঢাকার সূত্রাপুর এলাকার প্রেস ব্যবসায়ী মোল্লা মোসলেহ এলাহী (৫৭) কে আটক করা হয়। তবে যাচাই-বাছাই শেষে ডিএমপির সুপ্রিম কোর্ট ইউনিট থেকে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট পুলিশ বিভাগ জানায়, সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র, হোক বৈধ বা অবৈধ—কোনোটিই বহনের অনুমতি নেই। দু’জন আটক ব্যক্তি জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, তারা এ নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি জানতেন না।

এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আইন অনুযায়ী প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশালে ডেঙ্গুতে এক ব্যক্তির মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ১১১ জন

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে রিয়াজ (৫০) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তিনি বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার (৩ আগস্ট) তার মৃত্যু হয়।

শেবাচিম হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. এস এম মনিরুজ্জামান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর চাপ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় দপ্তর থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্যানুসারে, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের বিভিন্ন জেলায় নতুন করে আরও ১১১ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এরমধ্যে বরগুনা সদর হাসপাতালে সর্বাধিক ৬৮ জন, শেবাচিমে ৯ জন, বরিশাল জেলার অন্যান্য হাসপাতালে ৩ জন, পটুয়াখালীতে ১৯ জন, পিরোজপুরে ১০ জন এবং ভোলায় ২ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

বর্তমানে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২৯১ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছেন বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল। তিনি বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা ছাড়া বিকল্প নেই। প্রতিটি মানুষকে নিজ নিজ বাসস্থান এবং আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। সেই সঙ্গে মশার কামড় থেকে রক্ষা পেতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।”

স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, জরুরি প্রয়োজনে চিকিৎসা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে এবং কেউ আর্থিক অক্ষমতার কারণে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হবে না।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




চরবাড়িয়ায় সরকারি খাল দখল, চারটি পাকা দোকান ভেঙে দিল প্রশাসন

বরিশাল সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়নের লামচরী এলাকায় সরকারি খালের জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা চারটি পাকা দোকানঘর গুঁড়িয়ে দিয়েছে স্থানীয় ভূমি অফিস। রোববার (৩ আগস্ট) দুপুরে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. শাহীন আলমের নেতৃত্বে পরিচালিত এ উচ্ছেদ অভিযানে স্থানীয় জনসাধারণও অংশ নেন।

সরেজমিনে জানা যায়, স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল ও আমিন দুই ভাই (পিতা: হযরত আলী মৃধা) এবং মামুন ও সোলায়মান দুই ভাই (পিতা: মাহাবুর মৃধা) দীর্ঘদিন ধরে সরকারি খালের জায়গা অবৈধভাবে দখল করে দোকানঘর নির্মাণ করে আসছিলেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রশাসনের নিষেধ উপেক্ষা করে তারা দখল কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. শাহীন আলম জানান, বারবার সতর্ক করার পরও অভিযুক্তরা কাজ বন্ধ করেননি। পরে বিষয়টি সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর অবহিত করা হলে তার নির্দেশনায় এ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে চারটি একতলা পাকা দোকান ভেঙে দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, “সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। বারবার নিষেধ করার পরও তারা কথা না শুনায় বাধ্য হয়েই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করতে হয়েছে। ভবিষ্যতে কেউ সরকারি জমি দখল করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় আরও কঠোর ভূমিকার দাবি জানিয়েছেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরগুনার তরুণদের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ‘ইয়ুথ কপ ২০২৫’ সম্মেলন

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে তরুণদের সচেতনতা ও নেতৃত্ব বিকাশে বরগুনায় অনুষ্ঠিত হলো ‘আঞ্চলিক ইয়ুথ কপ ২০২৫’ সম্মেলন। শনিবার (২ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এই সম্মেলনে বরগুনা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকার শতাধিক তরুণ প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।

আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা অ্যাকশনএইড এর সহযোগিতায় এবং ব্রাইটার্স, গ্রীনপিস ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি, দুর্বার ইয়ুথ নেটওয়ার্কসোনার বাংলা ইয়ুথ ক্লাব এর যৌথ আয়োজনে সম্মেলনে আলোচনা, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সুপারিশ প্রণয়নের নানা পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক অনিমেষ বিশ্বাস।
বিশেষ অতিথি ছিলেন:

  • যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক গৌতম চন্দ্র দে

  • সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইয়াছিন আরাফাত রানা

  • বরগুনা প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাড. সোহেল হাফিজ

  • সিবিডিপির প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন মিরাজ

  • সংগ্রামের প্রধান নির্বাহী চৌধুরী মুনির হোসেন

সভাপতিত্ব করেন গ্রীনপিস ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির সভাপতি খাইরুল ইসলাম মুন্না এবং সঞ্চালনায় ছিলেন ইয়ুথ ক্লাইমেট অ্যাক্টিভিস্ট ইফতার ইমা।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর, বিশেষ করে নারী, শিশু ও তরুণদের ওপর। অথচ নীতিনির্ধারণী আলোচনায় তাদের অংশগ্রহণ এখনও সীমিত। ‘ইয়ুথ কপ ২০২৫’ সেই সীমাবদ্ধতা ভাঙার এক সাহসী উদ্যোগ।”

দুর্বার ইয়ুথ নেটওয়ার্কের সভাপতি ইবরার হোসেন নিঝুম বলেন, “সম্মেলনের লক্ষ্য ছিল বরগুনার তরুণদের মধ্যে জলবায়ু-সচেতনতা বাড়িয়ে নেতৃত্বে যুক্ত করা এবং নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে তাদের কার্যকর সংযোগ গড়ে তোলা।”

ফুলঝুড়ি ইউনিয়নের অংশগ্রহণকারী রিয়াদুল ইসলাম বলেন, “প্রতিবছর বর্ষায় আমাদের ঘর-বাড়ি তলিয়ে যায়, পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যায়, অথচ আমাদের কণ্ঠ নীতিনির্ধারকদের কানে পৌঁছায় না। আজকের এই সম্মেলন আমাদের সেই সুযোগ তৈরি করেছে।”

সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম খোকন, মহিউদ্দিন অপু, ফটো সাংবাদিক আরিফুল মুরাদসহ অনেকেই বক্তব্যে তরুণদের মতামতকে জলবায়ু নীতিতে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান।

সম্মেলনের প্রস্তুতি হিসেবে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ৯টি ফোকাস গ্রুপ আলোচনা (FGD) ও ৪টি কী-ইনফরম্যান্ট ইন্টারভিউ (KII) অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় তরুণদের বাস্তব অভিজ্ঞতা, অভিযোজন কৌশল এবং নেতৃত্বের অভিপ্রায় এসব আলোচনায় উঠে আসে।

সম্মেলনের শেষ অংশে তরুণ প্রতিনিধিরা অঙ্গীকার করেন
জলবায়ুবান্ধব জীবনযাপন গ্রহণ, সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়া, অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এবং আন্তর্জাতিক জলবায়ু নীতিতে তরুণদের কণ্ঠস্বর জোরালো করা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




আন্তর্জাতিক মানের নয় মিরপুরের পিচ, স্বীকার করলেন বিসিবি পরিচালক

বাংলাদেশ-পাকিস্তান সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি সিরিজের মাধ্যমে ১৪ মাস পর মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরলেও, পুরনো সমস্যা থেকেই গেছে উইকেট নিয়ে। সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচেই দেখা গেছে ব্যাটারদের দুর্দশা এবং লো স্কোরিং পরিস্থিতি, যা নিয়ে এবার বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদিন ফাহিম প্রকাশ করেছেন স্পষ্ট অসন্তোষ।

চট্টগ্রামে শুক্রবার গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ফাহিম বলেন, “বোর্ড থেকে লো ও স্লো ট্র্যাক তৈরির কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। বরং আমরা চাই ভালো, স্পোর্টিং এবং বাউন্সি উইকেট হোক। যারা উইকেট প্রস্তুত করে, দায়টা তাদের। এবার চেষ্টা সত্ত্বেও সেটা সম্ভব হয়নি।”

উল্লেখ্য, সিরিজের প্রথম দুই টি-টোয়েন্টিতে উভয় দলের ব্যাটাররা রান করতে হিমশিম খেয়েছে। পাকিস্তান দলের কোচ মাইক হেসন পিচের মান নিয়ে কড়া সমালোচনা করে বলেছিলেন, মিরপুরের উইকেট আন্তর্জাতিক মানের নয়। এবার একই সুরে কথা বলেছেন বিসিবি পরিচালকও।

ফাহিম আরও বলেন, “মিরপুরের উইকেট মোটেই সন্তোষজনক নয়। হয়তো ভবিষ্যতে পুরো মাটিই পরিবর্তন করতে হবে। সেটা নিয়ে আমরা ভাবছি। কিছু কাঠামোগত পরিবর্তন আনা হলে হয়তো ভালো উইকেট তৈরি সম্ভব হবে।”

মিরপুরের ঐতিহ্যবাহী কালো মাটির উইকেট নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “এই ধরনের উইকেটে ঘাস কম থাকলে বলের গায়ে কালচে দাগ পড়ে, বল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এটি অবশ্যই চিন্তার বিষয়। আমাদের বোর্ড সভাপতি সঠিকভাবে বলেছেন—এই উইকেটে ব্যাটসম্যানরা আত্মবিশ্বাস পায় না, ব্যাটও ভেঙে যায়।”

এর আগেও বিসিবি সভাপতি মিরপুরের উইকেটকে ‘আদর্শ নয়’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। তার মতে, ক্রিকেটারদের উন্নতির জন্য ভালো উইকেট অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে মিরপুরের উইকেট সে মানে পৌঁছাতে পারেনি, যা দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলছে।

ফাহিমের এ বক্তব্যে স্পষ্ট—হোম অব ক্রিকেটের উইকেট নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য হচ্ছে বিসিবি। সামনে বড় পরিবর্তন আসার ইঙ্গিতও মিলছে।