দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও এক কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতি দিলেন আমীর খসরু

চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত এক জনসভায় আগামী ১৮ মাসের মধ্যে এক কোটি মানুষকে কর্মসংস্থানের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, দেশের মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসা বিনামূল্যে দেওয়ার এবং দ্রব্যমূল্য কমিয়ে জনজীবন স্বাভাবিক রাখার অঙ্গীকার নিয়েছে বিএনপি।

বুধবার (৬ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের নিউ মার্কেট মোড়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির তিনটি জেলা ইউনিটের আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশ শেষে নিউ মার্কেট থেকে শুরু হয়ে চেরাগি মোড় ঘুরে প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয় একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি।

আমীর খসরু বলেন, “জনগণ আজ প্রমাণ করেছে, তারা জাতীয়তাবাদী শক্তির পক্ষে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে তারা নতুন বাংলাদেশ গড়তে চায়।”

তিনি বলেন, “আমরা গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য ১৬ বছর ধরে ত্যাগ স্বীকার করছি। এই আন্দোলন জনগণের মালিকানা পুনরুদ্ধারের জন্য। আমরা এখন নির্বাচনের পথে আছি, দেশবাসী ধানের শীষের জন্য প্রস্তুত।”

অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শৃঙ্খলিত রাজনীতির ওপর গুরুত্বারোপ করে খসরু জানান, দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে পাঁচ থেকে ছয় হাজার নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “কোনো দখলদার, চাঁদাবাজ বা ভাইয়ের রাজনীতি বিএনপিতে চলবে না। জনগণের জন্য রাজনীতি করতে হবে। আমরা নতুন রাজনীতির সূচনা করেছি—যেখানে মতপার্থক্য থাকবে, কিন্তু সম্মানবোধও থাকবে।”

সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে তিনি বলেন, “তারা রাজনীতি করবে কিন্তু গণতন্ত্রে বিশ্বাস করবে না। জনগণকে বাইরে রেখে একতরফাভাবে দেশ চালানোর চেষ্টা আবারও শুরু হয়েছে, কিন্তু জনগণ সেটা আর মেনে নেবে না।”

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, শ্রম সম্পাদক এ এম নাজিম উদ্দীন, কেন্দ্রীয় নেতা হুম্মাম কাদের চৌধুরী ও তরিকুল ইসলাম তেনজিং।




ফেসবুকে শীর্ষ অনুসারীতে যে ১২ নায়িকা

বাংলাদেশে সিনেমা ও নাটকের নায়িকারা শুধু পর্দায় নয়, সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকেও দারুণ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। অনুসারীর সংখ্যার বিচারে দেখা গেছে, শীর্ষে অবস্থান করছেন এমন অনেক তারকা, যারা পর্দার বাইরেও ব্যক্তিজীবনের খুঁটিনাটি শেয়ার করে ভক্তদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন।

ফেসবুকে সবচেয়ে বেশি অনুসারী রয়েছে জনপ্রিয় অভিনেত্রী পরীমণির। তার অনুসারীর সংখ্যা ১৬ মিলিয়ন। ব্যক্তিগত নানা ঘটনা, সন্তান, সম্পর্ক, বিবাহ, বিচ্ছেদ, এমনকি মামলা—সবই নিয়মিত ফেসবুকে তুলে ধরায় তিনি সর্বাধিক আলোচিত তারকায় পরিণত হয়েছেন।

তার পরেই রয়েছেন লাক্স তারকা মেহজাবীন চৌধুরী। সাবলীল অভিনয় আর পরিশ্রম দিয়ে তিনি নাটক থেকে ওটিটিতে জায়গা করে নিয়েছেন। তার অনুসারী সংখ্যা ১০ মিলিয়ন।

পুরোনো প্রজন্মের সবচেয়ে জনপ্রিয় অভিনেত্রীদের একজন পূর্ণিমার ফলোয়ার সংখ্যা ৯.৮ মিলিয়ন। অভিনয়ে সক্রিয় না থাকলেও তার সৌন্দর্য ও ব্যক্তিত্ব এখনো তাকে সোশ্যাল মিডিয়ার আলোচনার কেন্দ্রে রেখেছে।

অপু বিশ্বাস এখন তেমন একটা অভিনয়ে দেখা না গেলেও, ব্যক্তি জীবনের আলোচিত ঘটনাগুলোর জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় সদা সরব। তার ফলোয়ার সংখ্যা ৯.১ মিলিয়ন।

তরুণ প্রজন্মের আইকন নুসরাত ফারিয়ার রয়েছে ৭.১ মিলিয়ন ফলোয়ার। অভিনয়ের পাশাপাশি গান ও উপস্থাপনায়ও জনপ্রিয় তিনি।

তাসনিয়া ফারিণ, ‘পাশের বাড়ির মেয়ে’ ইমেজে অল্প সময়ে ৭ মিলিয়ন ফলোয়ার পেয়েছেন। নাটক ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মে তিনি সমান জনপ্রিয়।

সাফা কবির (৬.৬M), বিদ্যা সিনহা মিম (৬.৫M), কেয়া পায়েল (৬.১M) – এদের জনপ্রিয়তাও চোখে পড়ার মতো। এরা প্রত্যেকে অভিনয়, স্টাইল ও ভক্তদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় অবস্থান মজবুত করেছেন।

জয়া আহসান (৫.৭M) শুধু বাংলাদেশ নয়, ভারতেও তার জনপ্রিয়তা চরমে। বয়স পেরিয়ে গেলেও তার সৌন্দর্য ও মেধাবী অভিনয় তাকে আন্তর্জাতিক তারকায় পরিণত করেছে।

শবনম বুবলী (৫.১M) ও সাবিলা নূর (৩.৯M) সোশ্যাল মিডিয়ায় দারুণ সক্রিয়। সাবিলা পোস্ট প্রতি এনগেজমেন্টে অনেক শীর্ষ তারকাকেও পেছনে ফেলেছেন।

এছাড়াও জনপ্রিয়তার তালিকায় রয়েছেন:

  • রাফিয়াত রশীদ মিথিলা – ৩.৬M
  • পূজা চেরী – ৩.৬M
  • সামিরা খান মাহি – ৩M
  • জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি – ৩M
  • তানজিন তিশা – ২.৯M
  • শবনম ফারিয়া – ২.৩M
  • মুমতাহিনা চৌধুরী টয়া – ২.৩M

বাংলাদেশের বিনোদন অঙ্গনে এখন ‘ডিজিটাল স্টারডম’-এর যুগ। শুধু অভিনয় নয়, সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয়তা এখন জনপ্রিয়তার অন্যতম মাপকাঠি হয়ে দাঁড়িয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




অন্তর্বর্তী সরকার নয়, দেশ চালাবেন রাজনীতিবিদরাই: আলী রীয়াজ

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি ড. আলী রীয়াজ বলেছেন, বাংলাদেশ চালানো হবে রাজনীতিবিদদের মাধ্যমে, অন্তর্বর্তী সরকার দিয়ে নয়। তিনি বলেন, এজন্যই একে ‘অন্তর্বর্তী সরকার’ বলা হয়।

বুধবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর সিরডাপে ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা : অভিযোগ ও স্ব-নিয়ন্ত্রণ অন্বেষণ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ড. আলী রীয়াজ সাংবাদিকদের উদ্দেশে প্রশ্ন তোলেন, গত ১৬ বছর ধরে দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে কেন সাংবাদিক ইউনিয়নগুলো সিভিল সোসাইটি যুক্ত করে কোন রিভিউ তৈরি করেনি। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের মাঝে বিভাজন গভীর এবং তারা রাজনৈতিক দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাংবাদিকতার নামে কিছু ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, “এক বছর আগে জুলাই আন্দোলনের সময় সাংবাদিকদের নিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী এক বৈঠক করেছিলেন, সেখানে উপস্থিতরা কী বলেছিলেন, তা সবাই জানে। সেটাই সাংবাদিকতা?”

সাংবাদিকদের মধ্যে দলীয় বিভাজন নিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে), ঢাকা ইউনিয়ন অব জার্নালিস্ট (ডিইউজে) সহ বিভিন্ন সংগঠন দলীয়ভাবে বিভক্ত হয়ে কোথায় পৌঁছেছে তা সবাই দেখে।’ তিনি বলেন, এই অবস্থায় সাংবাদিকতার উন্নয়নের জন্য অন্যদের কাছে সাহায্য চাইতে হবে।

ড. রীয়াজ বলেন, ‘দেশের রাজনীতির জন্য একটি বিকল্প সম্পাদক পরিষদ গঠিত হয়েছে যা রাজনৈতিক দলীয় স্বার্থে কাজ করছে।’


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




নির্বাচনের আগে লটারিতে এসপিদের বদলি, প্রতিটি কেন্দ্রে থাকবে বডি ক্যামেরা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ৬৪ জেলার পুলিশ সুপারদের (এসপি) লটারির মাধ্যমে বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ভোট কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা বাড়াতে প্রতিটি কেন্দ্রে থাকবে বডি ক্যামেরা।

বুধবার (৬ আগস্ট ২০২৫) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রস্তুতি-সংক্রান্ত এক সভা শেষে এসব তথ্য জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা জাতির উদ্দেশে ভাষণে নির্বাচন প্রস্তুতির নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা তার আলোকে নির্বাচনকে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু করতে লজিস্টিকসহ নিরাপত্তা পরিকল্পনা চূড়ান্ত করছি।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, সব প্রার্থীই চায় নিজের পরিচিত প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নির্বাচনী এলাকায় রাখতে। এমন অভিযোগ এড়াতে এসপিদের লটারির মাধ্যমে বদলি করা হবে। নির্বাচন কমিশনের তারিখ ঘোষণার আগেই এই বদলি সম্পন্ন হবে। একইভাবে থানার অফিসার ইনচার্জদের (ওসি) বদলিও ডিভিশনভিত্তিক করা হবে। তবে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) বদলির সিদ্ধান্ত নেবে সংস্থাপন মন্ত্রণালয়।

নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রায় ৪৭ হাজার ভোট কেন্দ্রে প্রতিটিতে একটি করে বডি ক্যামেরা ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই ক্যামেরাগুলো পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে থাকবে।

এছাড়া প্রিজাইডিং অফিসারদের কেন্দ্রে নিরাপদে দায়িত্ব পালনে আনসার-পুলিশসহ নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হবে। নির্বাচন উপলক্ষে সব বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং ট্রেনিং শেষে মহড়াও পরিচালিত হবে। নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ জানানো হয়েছে প্রিজাইডিং অফিসার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরও প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে।

এই পরিকল্পনার মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




দাঁত ও মাড়ি সুস্থ রাখতে এড়িয়ে চলুন ৩টি খাবার

উজ্জ্বল হাসি কেবল আত্মবিশ্বাস বাড়ায় না, এটি সামগ্রিক সুস্থতারও প্রতীক। তবে আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস দাঁতের স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু খাবার দাঁত ও মাড়ির মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। ভারতের অর্থোডন্টিস্ট ডা. জৈনীল পারেখ জানিয়েছেন, দাঁতের যত্নে কিছু নির্দিষ্ট জিনিস এড়িয়ে চলা খুবই জরুরি।

তিনি বলেন, অতিরিক্ত চিনি খেলে মুখে থাকা ব্যাকটেরিয়া তা অ্যাসিডে রূপান্তর করে, যা দাঁতের এনামেল নষ্ট করে। এতে দাঁতের ক্ষয়, ক্যাভিটি ও ব্যথার সমস্যা দেখা দেয়।

যে খাবারগুলো এড়িয়ে চলা জরুরি:

১. চিনিযুক্ত খাবার:
চকলেট, মিষ্টি, ক্যান্ডি, কোক বা চিনিযুক্ত পানীয় বেশি খেলে দাঁতের ক্ষয় দ্রুত হয়। চিনি ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে মিশে দাঁতের এনামেল ভেঙে দেয়।

২. কোমল পানীয় ও জুস:
সোডা, ফিজি ড্রিংকস, সাইট্রাস জুসে থাকা অ্যাসিড দাঁতের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। দাঁত সংবেদনশীল হয়ে পড়ে, হলুদ দাগ পড়ে এবং গহ্বর সৃষ্টি হয়।

৩. স্টার্চযুক্ত খাবার:
আলুর চিপস, সাদা পাউরুটি ও প্রেটজেলের মতো স্টার্চজাতীয় খাবার মুখে গিয়ে চিনিতে রূপ নেয়। এতে দাঁতে প্লাক তৈরি হয় যা দাঁতের ক্ষয় বাড়ায়।

করণীয়:

  • দিনে অন্তত দুইবার দাঁত ব্রাশ করুন।
  • ফ্লস ব্যবহার করুন।
  • চিনি ও কোমল পানীয় কমিয়ে আনুন।
  • ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য থেকে বিরত থাকুন।
  • প্রতি ছয় মাসে একবার দাঁতের ডাক্তারের কাছে যান।

দাঁতের যেকোনো সমস্যা যেমন ব্যথা, মাড়ি থেকে রক্তপাত বা ফোলা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন। মনে রাখবেন, নিয়মিত যত্ন ও সচেতনতাই দাঁতের সুস্থতা নিশ্চিত করে এবং আপনাকে দেয় ঝকঝকে সুন্দর হাসি।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বাংলাদেশ-লাওসের কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে বাংলাদেশ ও লাওসের মধ্যে ফরেন অফিস কনসালটেশন (এফওসি) বিষয়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

বুধবার (৬ আগস্ট ২০২৫) ভিয়েতনামের হানোইতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেন ভিয়েতনামে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. লুৎফর রহমান এবং লাওসের রাষ্ট্রদূত খামফাও এনথাভান।

রাষ্ট্রদূত লুৎফর রহমান এই চুক্তিকে “ঐতিহাসিক মাইলফলক” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি বাংলাদেশ ও লাওসের মধ্যে নিয়মিত কূটনৈতিক সভা ও আলোচনার পথ উন্মুক্ত করবে। একই সঙ্গে দুই দেশের অর্থনৈতিক, বিনিয়োগ, সাংস্কৃতিক এবং বহুপাক্ষিক ফোরামে সহযোগিতা আরও গভীর হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশকে লাওসের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে লাওসের রাষ্ট্রদূত খামফাও এনথাভান বাংলাদেশ দূতাবাসের সক্রিয় ভূমিকার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের স্থায়ী ফোরাম গঠনের পথ সুগম হলো, যা ভবিষ্যতে পারস্পরিক সহযোগিতাকে আরও গভীর করবে।”

১৯৮৮ সালে বাংলাদেশ ও লাওস কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। তবে এবারের সমঝোতা স্মারক দুই দেশের মধ্যে গঠনমূলক কূটনৈতিক সভা ও সংলাপ সংক্রান্ত প্রথম আনুষ্ঠানিক চুক্তি, যা দুই দেশের সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বর্তমানে ভিয়েতনামে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস লাওসের সঙ্গেও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক রক্ষার দায়িত্ব পালন করছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




তারেক রহমানের সাথে বৈঠকে বসছে ১২ দলীয় জোট শুক্রবার

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী শুক্রবার (৮ আগস্ট) বিকেল ৩টায় ১২ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেবেন। বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিতব্য এ বৈঠকে তিনি লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন।

বুধবার (৬ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান ১২ দলীয় জোটের প্রধান এবং জাতীয় পার্টি (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার। তিনি বলেন, “বৈঠকে চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, যুগপৎ আন্দোলনের কার্যক্রম এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়সীমা ঘোষণা পরবর্তী করণীয় নিয়ে আলোচনা হবে।”

এ বৈঠকটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস নির্বাচনকালীন সময়সীমা ঘোষণার পর এটাই প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক তারেক রহমানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

এই বৈঠককে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল ও আগ্রহ বেড়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি বিএনপির পরবর্তী কৌশল নির্ধারণে বড় ধরনের দিক নির্দেশনা দিতে পারে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




শাকিবকে ঘিরে জয়ের মন্তব্য ভাইরাল: “দুই স্ত্রীকে খুশি রাখা অসম্ভব”

ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা শাকিব খান ও তার ব্যক্তিগত জীবন ঘিরে আলোচনা যেন থামছেই না। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত শাকিব খান ও চিত্রনায়িকা শবনম বুবলীর একগুচ্ছ রোমান্টিক ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এর আগে তিনি সময় কাটিয়েছেন সাবেক স্ত্রী অপু বিশ্বাস ও ছেলে আব্রাম খান জয়ের সঙ্গে।

এই দুই স্ত্রীর প্রসঙ্গ নিয়েই এবার নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন অভিনেতা ও উপস্থাপক শাহরিয়ার নাজিম জয়। রোববার (৩ আগস্ট) গভীর রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে একটি ছবি পোস্ট করেন তিনি। ছবিতে দেখা যায়, জয় বিমান ভ্রমণে রয়েছেন।

ছবির ক্যাপশনে জয় ইঙ্গিত করে লেখেন,
“শাকিব খানের দুই স্ত্রী এবং দুই সন্তান। তিনি সবার প্রতি সমানভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু তিনি এমন এক ফ্যাসাদে পড়েছেন, দায়িত্ব পালন করলেও খুশি করতে পারছেন না কাউকেই।”

তিনি আরও লেখেন, “অধিকাংশ মানুষ এক স্ত্রীকেই খুশি রাখতে পারে না। সেখানে দুই স্ত্রীকে খুশি রাখা অসম্ভব। তিনি যত বড় স্টার, তত বড় মেধাবী নন। আবার আমি যত মেধাবী, তত বড় স্টার নই।”

এই মন্তব্য মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয় এবং শুরু হয় আলোচনার ঝড়। কেউ কেউ শাকিব খানের ‘দায়িত্বশীলতা’র প্রশংসা করছেন, অন্যদিকে অনেকেই জয়ের মন্তব্যকে বাস্তবসম্মত বলে মন্তব্য করছেন।

একজন নেটিজেন কমেন্টে লিখেছেন, “দুই পক্ষকে খুশি রাখার চেষ্টা করেও কেউ খুশি নয়— কথাটা খুব সত্যি!”
আরেকজন মন্তব্য করেন, “স্টার হতে হলে শুধু জনপ্রিয়তা না, ব্যক্তিগত জীবনেও ভারসাম্য থাকতে হয়।”

উল্লেখ্য, শাকিব খান বর্তমানে তার দুই সন্তান—আব্রাম ও শেহজাদ—এবং তাদের মায়েদের নিয়ে একের পর এক আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন। তবে, এসবের মাঝেও তিনি তার সন্তানদের পাশে থাকার চেষ্টা করছেন বলেই মনে করছেন তার ভক্তরা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




ভোলার গজারিয়ায় নৌকা নির্মাণের ঐতিহ্য জ্বলজ্বল করছে কাঠের বৈঠায়

তারিকুর ইসলাম তুহিন,বরিশাল :: ভোলার লালমোহন উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের গজারিয়া কাঠপট্টি নদী ও নৌকা জীবনযাপনের প্রাণকেন্দ্র। চারদিকে জলাঘেরা এই এলাকায় নৌকা শুধু যাতায়াতের বাহন নয়, এটি জীবিকার প্রধান অবলম্বন ও সংস্কৃতির অংশ। দীর্ঘ অর্ধশতাব্দী ধরে চলমান নৌকা নির্মাণ শিল্পে কাঠের ঘ্রাণ আর করাতের শব্দে মুখরিত এই এলাকা।

প্রতিদিন গজারিয়ায় প্রায় ১০টি টিম্বার দোকানে তৈরি হচ্ছে ডিঙি নৌকা, জয়া নৌকা ও বড় ফিশিং বোট। নৌকার দাম আকার ও গুণগতমান অনুযায়ী ৫০ হাজার থেকে ছয় থেকে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। শুধু ভোলাতেই নয়, পটুয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী ও কক্সবাজারেও এই নৌকা সরবরাহ করা হয়।

এ শিল্পে প্রায় ২০০ জন শ্রমিক কাজ করেন, যাদের অধিকাংশই মৌসুমী, বৈশাখ থেকে শ্রাবণ পর্যন্ত কর্মব্যস্ত থাকেন। কারিগর মনির উদ্দিন বলেন, “আগে মজুরি কম ছিল, এখন দিনে ৯০০ টাকা পাই, কিন্তু কাজ থাকে কেবল মৌসুমেই।”

নৌকা নির্মাণে সময় লাগে এক থেকে তিন সপ্তাহ, কাঠ, পেরেক, রঙ ও অন্যান্য উপকরণ মিলিয়ে নৌকায় লাখ টাকার খরচ হয়। লাভের অংশ সীমিত; ১ লাখ টাকার নৌকায় ২০ হাজার টাকা, আর ৫-৬ লাখ টাকার নৌকায় সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা লাভ হয়।

পাইকার নুরু ব্যাপারী জানান, “দৈনিক কয়েক লাখ টাকার নৌকা বিক্রি হয়, কিন্তু শ্রমিক উন্নয়ন ও পুঁজি বৃদ্ধির জন্য সরকারি কোনো সহায়তা নেই। অধিকাংশ কাজ চলছে এনজিও ঋণের মাধ্যমে।”

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আলী আহমদ আকন্দ বলেন, “এই সম্ভাবনাময় শিল্পকে এগিয়ে নিতে আমরা কাজ করছি এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব।”

তবে কারিগররা দাবি করেন, শুধু আশ্বাস নয়, সরকার থেকে সহজ শর্তে ঋণ, প্রশিক্ষণ ও উপকরণে ভর্তুকি চাই। তারা বলেন, এ শিল্পকে প্রয়োজন সুষ্ঠু সহযোগিতা যাতে ভোলাসহ উপকূলীয় অঞ্চলের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হয়।

গজারিয়া কাঠপট্টির কাজের গর্জন, শ্রমিকদের কঠোর পরিশ্রম আর নৌকার নতুন রঙের গন্ধে স্পষ্ট যে, নদীর দেশ ভোলায় জীবন আজও কাঠের বৈঠা বেয়ে চলে। নদী যেখানে পথ, সেখানে নৌকা শুধু বাহন নয়, জীবনের প্রতিচ্ছবি। এই ঐতিহ্যবাহী নৌকা শিল্প রক্ষা করতে সরকারি দৃষ্টি ও সহযোগিতা অত্যাবশ্যক, কারণ এখানকার মানুষই দেশের উপকূলীয় সংস্কৃতি ও অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি ধরে রেখেছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




“জানাজার নামাজে কান্না করার সুযোগ পেতাম না” : শামীম সাঈদী

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেছারাবাদ উপজেলা শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত গণজমায়েত ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বড় ছেলে ও সাঈদী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আলহাজ শামীম সাঈদী প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।

শামীম সাঈদী বলেন, “স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আমরা মিটিং মিছিল তো দূরের কথা, জানাজার নামাজে কান্না করার সুযোগ পর্যন্ত পেতাম না। জামায়াতের নেতাকর্মীরা যদি কারও জানাজায় অংশগ্রহণ করত, তাদের পোষ্য পুলিশ বাহিনী দিয়ে গ্রেপ্তার করানো হত। এখন আমরা স্বাধীনভাবে চলতে পারছি।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার গণতন্ত্র, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও মানবাধিকারের সব সীমা অতিক্রম করেছে। জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে ৫ আগস্ট ছাত্র আন্দোলনে জনগণ তার যথাযথ জবাব দিয়েছে। নতুন বাংলাদেশে আমরা ইসলাম ও দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় লড়াই চালিয়ে যাব ইনশাআল্লাহ।”

শামীম সাঈদী আরো বলেন, “শেখ পরিবারের সবাই চোর-ডাকাত। শেখ মুজিবের ছেলে স্বাধীনতার পরবর্তী বাংলাদেশে প্রথম ব্যাংক ডাকাতি করেছে। তার মেয়ে ১৪টি ব্যাংক ডাকাতি করেছে। সারা দেশের রাস্তাঘাটের কাজ না করে বিল তুলে নিয়ে দেশ থেকে পালিয়েছে। শুধু পিরোজপুরেই ছাব্বিশ শত কোটি টাকা চুরি করেছে। আমরা চোরদের বিরুদ্ধে। তাই জুলাইয়ের বিপ্লব ছিল বৈষম্যবিরোধী ও দুর্নীতিবিরোধী বিপ্লব।”

তিনি উল্লেখ করেন, “বাংলাদেশে কোনো সংখ্যালঘু শব্দ নেই। পাসপোর্ট, ভিসা ও জাতীয় পরিচয়পত্রেও তা লেখা নেই। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ও মুসলমান সবাই এক সূত্রে গাঁথা। ১৯৯৬ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত আমার বাবা আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে হিন্দুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছিলেন।”

শামীম সাঈদী বলেন, “৫ আগস্টের পরে যেমন হিন্দুদের বাড়িঘর আমরা আগলে রেখেছিলাম, আগামীতেও তাদের মন্দির, জান-মাল, জমি ও সন্তানদের রক্ষা করব। আগামী নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা মার্কাকে বিজয়ী করলে নেছারাবাদকে মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলব।”

নেছারাবাদ উপজেলা আমির মো. আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি সিদ্দিকুল ইসলাম, সাঈদী ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি মো. রফিকুল ইসলাম, পৌর জামায়াতের আমির জহিরুল ইসলামসহ নেছারাবাদ ফোরামের বিভিন্ন নেতারা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫