বরিশালে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীসহ চার নারীর অপমৃত্যু, এক নারীর শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে

বরিশাল নগরীসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চার নারীর রহস্যজনক মৃত্যু ঘটেছে। নিহতরা হলেন – বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাসফিয়া হক (১৯), নগরীর ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গাউয়াসার মিয়াবাড়ি এলাকার তানহা তাবাসসুম তিনথী (২৪), উজিরপুরের ধামসর গ্রামের নাগসি মণ্ডল (১৭) এবং ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার সাফিয়া বেগম সেফু (৪৫)।
প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানিয়েছে, চারজনেরই মৃত্যু আত্মহত্যার সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে নগরীতে মারা যাওয়া তানহা তাবাসসুম তিনথীর শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তার মুখের একটি দাত ভাঙা এবং নাকসহ শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, “তাকে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকেরা নির্যাতন করে হত্যা করেছে।”
- তাসফিয়া হক (১৯): বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। নগরীর কালুশাহ সড়ক এলাকায় ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
- তানহা তাবাসসুম তিনথী (২৪): গৃহবধূ। বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করলেও সুরতহালে শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তার পরিবার দাবি করেছে, স্বামী ও শ্বশুরবাড়ি তাকে নির্যাতন করে হত্যা করেছে।
- নাগসি মণ্ডল (১৭): উজিরপুরের কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী। পুলিশের রিপোর্ট অনুযায়ী, তিনি ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
- সাফিয়া বেগম সেফু (৪৫): ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার বাসিন্দা। দীর্ঘদিন মানসিক ও উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। কীটনাশক গ্রহণের পর হাসপাতালে ভর্তি হলে মৃত্যু হয়।
বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের মর্গে তাদের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানার উপ-পরিদর্শক এসআই রুহুল আমিন এবং কাউনিয়া থানার উপ-পরিদর্শক কাজী শাওন জানান, প্রাথমিক তদন্ত চলমান। নিহতদের মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্ত রিপোর্টের উপর নির্ভর করা হচ্ছে।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫








