কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে এলো মৃত ডলফিন

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে আবারও ভেসে এসেছে একটি মৃত ডলফিন। শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সৈকতের গঙ্গামতি ফরেস্টার ঢালা এলাকায় স্থানীয়রা ১০ ফুট লম্বা ইরাবতী প্রজাতির এ ডলফিনটি দেখতে পান। ডলফিনটির মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে ক্ষতচিহ্ন এবং চামড়া উঠে যাওয়ার চিত্র দেখা গেছে।

প্রথমে বিষয়টি কুয়াকাটা ট্যুর গাইড এসোসিয়েশনের সদস্য রহমান বিশ্বাসের নজরে আসে। তিনি ঘটনাটি উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন (উপরা)-এর সদস্যদের জানালে দ্রুত তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে বন বিভাগ এবং কুয়াকাটা পৌরসভার সমন্বয়ে ডলফিনটির মৃতদেহ মাটিচাপা দিয়ে রাখা হয়।

উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন (উপরা)-এর যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন রাজু জানান, “খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। ডলফিনটির শরীরের অবস্থা দেখে মনে হয়েছে এটি জোয়ারের পানির স্রোতে এসে ভেসে উঠেছে। ইরাবতী প্রজাতির এই ডলফিন সাধারণত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী নদীর মোহনায় বেশি দেখা যায়।”

কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটির টিম লিডার রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, “এখানে পরিবেশকর্মীরা সবসময় সতর্কভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁদের সহযোগিতায় মৃত ডলফিনটি মাটিচাপা দেয়া হয়েছে। চলতি বছরেই এখন পর্যন্ত উপকূলীয় এলাকায় ১০টির মতো ডলফিনের মৃতদেহ ভেসে এসেছে। আমরা চাই কর্তৃপক্ষ দ্রুত এর কারণ উদঘাটন করুক।”

বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী গবেষক (সিফ্যাচ) সাগরিকা স্মৃতি জানান, “বর্ষা মৌসুমে ডলফিনের মৃতদেহ ভেসে আসা নতুন কিছু নয়। তবে উন্নত বিশ্বে সামুদ্রিক প্রাণী রক্ষায় যে ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়, বাংলাদেশ এখনো সে পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন-২০১২ অনুযায়ী ডলফিনসহ সব সামুদ্রিক প্রাণী রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।”

বন বিভাগের মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা কেএম মনিরুজ্জামান বলেন, “আমরা খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে সদস্যদের পাঠিয়ে ডলফিনটির মৃতদেহ মাটিচাপা দেয়ার ব্যবস্থা করেছি। এতে দুর্গন্ধ ছড়ানো বন্ধ হবে।”

স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা জানান, ডলফিনের মৃত্যুর এ ধারা উপকূলের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত সঠিক গবেষণা ও প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ না নিলে এই প্রজাতি মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়বে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




সীরাতুন্নবী (সঃ) ও ইছালে সওয়াব মাহফিল সম্পন্ন

চন্দ্রদ্বীপ নিউজঃ শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার আধুনগর আকবর পাড়া জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত সিরাতুনবী (সঃ) মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী (এমপি)।

আকবর পাড়া ইউনিটি ক্লাবের প্রচার সম্পাদক শহিদুল আনোয়ারের সঞ্চালনায় মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট সমাজসেবক হাজ্বী আব্দুল মান্নান। আমন্ত্রিত বক্তাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, লোহাগাড়া ইসলামিয়া ফাযিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল কাদের, লোহাগাড়া বটতলী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মাহমুদুল হক ওসমানি, আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবু তাহের, ক্বারী নুরুচ্ছোলতান প্রমূখ।

আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আমীর আনোয়ারুল আলম চৌধুরী, লোহাগাড়া উপজেলা আমীর আসাদুল্লাহ ইসলামাবাদী, আধুনগর ইউনিয়ন আমীর মাওলানা আব্দুল কাদের, বিশিষ্ট সমাজসেবক হাজ্বী শামসুল ইসলাম, হাজ্বী খোরশেদ আলম, চট্টগ্রাম জর্জ কোর্টের এডভোকেট সাদ্দাম হোসেন আজাদ, বিশিষ্ট সমাজসেবক হাজ্বী ইকবাল হোসেন, সমাজসেবক মফিজুর রহমান, হাফেজ মাওলানা  চুনতী তাজভীদুল কুরআন হিফয খানা ও একাডেমির পরিচালক হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মূসা তুরাইন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী বলেন, পাক পবিত্রতা ঈমানের অঙ্গ। পাক পবিত্রতা বলতে আমরা সচরাচর বাহ্যিক পরিচ্ছন্নতাকেই বুঝি। কিন্তু ইসলামে পাক পবিত্রতার ব্যাপক পরিধি রয়েছে। তারমধ্যে অন্যতম হল হালাল ইনকাম করে ভোগ করতে পারাটা। হারাম ইনকাম করে ঐ উপার্জনের টাকায় কিছু খেলে শরীরে হারাম প্রবেশ করে। আর এ হারাম শরীরে কখনই ইবাদত কবুল হবে না। তাই আমাদের সকল বিষয়ে পরিচ্ছন্ন থেকে সুন্দর পবিত্র জীবনধারণের চেষ্টা করতে হবে। তবেই আমরা একজন খাঁটি মুসলিম হিসেবে পরিগনিত হব।




নদী যেন এখন লাশ গোপন করার নিরাপথ স্থান

চন্দ্রদ্বীপ ‍নিউজ:

  •    দেড় বছরে ৭৫০ মরদেহ উদ্ধার
  •     দীর্ঘ সময় পানিতে থাকায় ৩০ শতাংশেরই পরিচয় শনাক্ত সম্ভব হয় না
  •     হত্যার প্রমাণ নষ্টের জন্যই খুনিরা লাশ ফেলে নদীতে

বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ । নদী আমাদের প্রানের স্পন্দন  জালের মতো জড়িয়ে থাকা বাংলাদেশের নদীপথগুলো যোগাযোগ ও বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। কিন্তু কালের পরিক্রমায় এখন নদীগুলো যেন অপরাধী চক্রের কাছে লাশ ফেলার ‘ডাম্পিং স্টেশন’ হয়ে উঠেছে। গত দেড় বছরে নদী থেকে ৭৫০টি মরদেহ উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অর্থাত্ প্রতি মাসে গড়ে ৪২টি মরদেহ মিলছে নদীতে। এর মধ্যে ৩৯১টির পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। দীর্ঘ সময় পানিতে থাকার কারণে এসব মরদেহ শনাক্তে সমস্যা দেখা দেয়। মূলত হত্যার পর প্রমাণ লোপাট এবং আইনের চোখ ফাঁকি দিতেই মরদেহগুলো ফেলে দেওয়ার জন্য নদীকে বেছে নিচ্ছে খুনিরা।

গত ২৩ আগস্ট বুড়িগঙ্গা নদীর তীরবর্তী কেরানীগঞ্জের মীরেরবাগ এলাকা থেকে ভাসমান অবস্থায় গলায় কালো কাপড় প্যাঁচানো এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ উদ্ধারের এক ঘণ্টা পরে একই স্থানে ওড়না দিয়ে প্যাঁচানো অবস্থায় এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে নৌ- পুলিশ। একই দিনে মাত্র ছয় ঘণ্টার ব্যবধানে একই নদী থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক যুবক ও এক যুবতির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তে প্রাথমিকভাবে উঠে আসে, হত্যার পর তাদের লাশ ফেলে দেওয়া হয়েছে নদীতে। গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত ২৬ দিনেও তাদের পরিচয় মেলেনি।

পুলিশ জানিয়েছে, আঙুলের ছাপ মুছে যাওয়ায় নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পুলিশের ভাষ্য, কেউ মরদেহ নিতেও আসেনি। পুলিশ দুই জনের  ডিএনএ সংরক্ষণ করেছে। কেউ মরদেহ শনাক্ত করতে এলে মিলিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন থানায় নিখোঁজ ডায়ারির সঙ্গে তাদের তথ্য মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।

নৌ-পুলিশের সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোহাগ রানা জানিয়েছেন, সাধারণত পরিচয় জানা সম্ভব না হলে তদন্তে অগ্রগতি হয় না। হত্যার সূত্র খুঁজে পেতে পরিচয় শনাক্ত করা জরুরি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নদী থেকে উদ্ধার মরদেহ শনাক্ত করতে প্রায়ই পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়। এটি একটি নিয়মিত চ্যালেঞ্জ।

পুলিশ ও অপরাধতত্ত্ব বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণ গ্রেফতার এড়াতে অপরাধীরা মরদেহ নদীতে ফেলে দেয়। চলতি বছর প্রতি মাসে নৌ-পুলিশ গড়ে ৪৩টি মরদেহ উদ্ধার করেছে। গত বছর প্রতি মাসে এই সংখ্যা ছিল ৩৬টি।

নৌ-পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুসারে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত দেশ জুড়ে অন্তত ৩০১ নারী-পুরুষ ও শিশুর মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জে সর্বোচ্চসংখ্যক ৩৪টি মরদেহ পাওয়া গেছে। এর পরের অবস্থানে রয়েছে ঢাকা। সেখানে ৩২টি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে এই সময়ের মধ্যে। এর মধ্যে ২০৯ জনের পরিচয় জানা গেলেও ৯২ জন এখনো অজ্ঞাত। গত বছর নদী থেকে ৪৪০টি মরদেহ উদ্ধার হয়েছিল, যার মধ্যে ১৪১ জনের পরিচয় এখনো শনাক্ত হয়নি। মরদেহ উদ্ধারের পর এ বছর বিভিন্ন থানায় অন্তত ৪১টি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। গত বছর ৫৩টি মামলা হয়েছিল। নৌ-পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, মরদেহের অবস্থা ও পারিপার্শ্বিক প্রমাণ সাপেক্ষে সন্দেহজনক মনে হলে তারা হত্যা মামলা দায়ের করেন। তবে হত্যার প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি।

সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যায় একটি মস্তকহীন মরদেহ পাওয়া যায়। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সহায়তায় আঙুলের ছাপ মিলিয়ে দেখা যায়, নিহত ব্যক্তির নাম হাবিব (২৭)। তিনি সোনারগাঁ উপজেলার মধ্য কাঁচপুর এলাকার বাসিন্দা। এটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড। নিহত ব্যক্তির পরিচয় যেন শনাক্ত করা সম্ভব না হয়, সে উদ্দেশ্যে খুনিরা লাশ ফেলে দেওয়ার আগে তার মাথা কেটে অন্যত্র লুকিয়ে রাখে। লাশটি বেশি পচে না যাওয়ায় এবং দ্রুত ভেসে ওঠায় পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। কাঁচপুর নৌ-ফাঁড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) আব্দুল মাবুদ জানান, হত্যাকাণ্ডের এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজন তিন জনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছিল। তবে এখনো মাথা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

পরিদর্শক মাবুদ আরো বলেন, পানিতে দেহ দ্রুত পচে যায়, প্রমাণ নষ্ট হয়ে যায়। কখনো কখনো মাছের কামড় বা জাহাজের আঘাতে সৃষ্ট ক্ষতের কারণে তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ফরেনসিক চিকিত্সকরা বিভ্রান্ত হন। প্রাথমিক তদন্তে হত্যা মনে না হলে লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ সাধারণত অপমৃত্যুর মামলা করে। তদন্তে বা ময়নাতদন্তে হত্যার প্রমাণ পাওয়া গেলে পরে সেটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়, জানান তারা।

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধতত্ত্ব ও পুলিশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ওমর ফারুক জানিয়েছেন,অপরাধীরা প্রমাণ নষ্ট করতে ও আইনের চোখ ফাঁকি দিতে হত্যার পর মরদেহ ফেলার জন্য নদী ও রেলপথ বেছে নেয়। তিনি আরো বলেন, অনেক লাশ পাওয়া যায় যেগুলো অনেক বেশি পচে গেছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে নিহত ব্যক্তির ঠিকানা থেকে অনেক দূরের এলাকায় মরদেহ ফেলে দেয় অপরাধীরা। কখনো কখনো লাশ ভাসতে ভাসতে অনেক দূরে চলে যায়, পরে পরিবার খোঁজ পায় না। ফলে লাশ অজ্ঞাত থেকে যায়। পরিবার ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়।

ঢাকা জেলা নৌ-পুলিশ সুপার (এসপি) আবদুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, যখন আমরা পরিচয় শনাক্ত করতে পারি না এবং দীর্ঘ সময় পরও মামলার অগ্রগতি হয় না, তখন সদর দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে অন্য কোনো সংস্থাকে তদন্তের ভার দেওয়া হয় অথবা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়। তবে, কেউ মরদেহ শনাক্ত করতে এলে মিলিয়ে দেখার জন্য আমরা ডিএনএ নমুনা সংরক্ষণ করে রাখি।

 




নাড়ীছেড়া ধনের লাশের অপেক্ষায় চেয়ে থাকতে থাকতে চোখ ঝাপসা অইয়া গেছে, তবু আসতেছে না’

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: ছেলের লাশটা আইন্না দেও। শেষবারের মতোন ছেলেডার মুখ এট্টু দেখতে চাই।‘লাশের অপেক্ষায় চোখ ঝাপসা অইয়া গেছে, তবু আসতেছে না।’ আজ শুক্রবার সকালে কাঁদতে কাঁদতে মুঠোফোনে নিজের আকুতি জানাচ্ছিলেন পারুল বেগম।  সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি হাসপাতালের মর্গে প্রায় এক মাস ধরে তাঁর ছেলে মো. সবুজের (৩৬) লাশ পড়ে আছে। তবে নানা জটিলতায় সেখান থেকে লাশটি আনতে পারছেন না।

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার সবুজ শ্যামল  ছায়া ঢাকা  ছোট গ্রামে দুর্গাপুর সবুজের বাড়ি জীবিকার । তিনি একই গ্রামের মৃত আমছর আলী ও পারুল বেগম দম্পতির ছোট ছেলে। প্রায় দুই বছর আগে দুবাই শহরের পাড়ি জমান সবুজ। সেখানে তিনি শ্রমিকের কাজ করতেন। চলতি বছরের ২২ আগস্ট নিজের ভাড়া বাসার সামনে দুর্বৃত্তের অস্ত্রের আঘাতে তিনি খুন হন বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২২ আগস্ট সন্ধ্যায় সেখানকার এক প্রবাসীর সঙ্গে টাকার লেনদেন নিয়ে সবুজের কথা-কাটাকাটি হয়। এর জেরে সবুজকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন ওই ব্যক্তি। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন সবুজ। পরে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সেখানকার একটি হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ। এখনো সেখানেই পড়ে আছে লাশটি। এ ঘটনায় সেখানকার থানায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেছে। এ মামলায় ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারও করেছে পুলিশ।

সবুজের বড় ভাই সুলতান মিজি বলেন, তাঁর ভাইয়ের লাশ আনার জন্য দুই দেশের দূতাবাসে যোগাযোগ করা হয়েছে। কিন্তু সেখানকার মামলা মীমাংসা না হওয়ার পাশাপাশি নানা প্রক্রিয়াগত ও আইনগত জটিলতায় লাশটি আনতে দেরি হচ্ছে। তাঁর পরিবারের সদস্যরা লাশটির অপেক্ষায় হাঁপিয়ে উঠছেন। তাঁর মা, সবুজের স্ত্রী ও শিশুপুত্রকে কিছুতেই সান্ত্বনা দেওয়া না। লাশটি দ্রুত আনার ব্যবস্থা করতে সরকারের প্রতি দাবি জানান তিনি।

সবুজের স্ত্রী রিভা আক্তার (২৫) বলেন, তাঁদের শিশু সন্তানটি বারবার বাবার কথা জানতে চায়। কিন্তু ছেলেটির প্রশ্নের উত্তর দিতে পারছেন না। সামনে অন্ধকার দেখছেন। স্বামী হত্যার বিচার দাবি করে লাশটি দ্রুত বাড়িতে আনার ব্যবস্থা করতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

 




সামাজিক মাধ্যমে মিথ্যা অপপ্রচারে দলীয় পথ হারিয়ে সংবাদ সম্মেলন

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী ছাত্রলীগ নেতা মাসুম মীরা সহ কিছু অপপ্রচারকারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালিয়েছে। এর মাধ্যমে আমার সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে এবং  আমি দীর্ঘ ১৭ বছর বিএনপি রাজনীতির সাথে দলীয় কার্যক্রম হামলা মামলা খেয়েও দলীয় পথ দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নিতাম।  কিন্তু   ১৭ সেপ্টেম্বর  মৎস্যজীবী দল থেকে আমাকে একটা চিঠি দিয়ে দলের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।  আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং রাজনৈতিক চক্রান্তের অংশ।

১৮ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার বিকাল ৫ টায় পটুয়াখালী পৌর নিউমার্কেট ক্ষুদ্র মৎস্য ব্যবসায়ি সমিতির কার্যালয় সংবাদ সম্মেলনে এই কথা বলেন সদ্য দল থেকে অব্যাহতি প্রাপ্ত  পটুয়াখালী নিউ মার্কেট ক্ষুদ্র মৎস্য সমবায় সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির ক্যাশিয়ার এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ শামীম মৃধা।

তিনি বলেন আমি পটুয়াখালী পৌরসভার অনুমোদিত একজন বৈধ ইজারাদার। এ সংক্রান্ত সকল সরকারি নথিপত্র আমার কাছে বিদ্যমান। কিন্তু একটি সিন্ডিকেট , যারা অতীতে পৌরসভায় ইজারা ছাড়াই অবৈধভাবে রাজস্ব অর্থ লুটপাট করত, তারা এখন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে্ আমার নামে গুজব ছড়াচ্ছে। পৌরসভা কর্তৃক প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী আমি ৮০/৮১ ধারার অধীনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ইজারাদার হিসেবে নিউ মার্কেট স্লটার হাউস ও জবাইখানার দায়িত্বে রয়েছি এবং পৌরসভার ২৮ ধারায় দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন বৈধ ব্যবসায়ী।

উক্ত মাসুম মীরা শুধু আমার বিরুদ্ধেই নয়, আরও অনেকের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়েছে। এর কারণে তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই সাইবার ক্রাইমে মামলা হয়েছে।

আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল একজন নাগরিক হিসেবে সরকারের কাছে  আবেদন জানাচ্ছি—
সামাজিক মাধ্যমে যারা মানুষের মানহানি করে, মিথ্যা তথ্য ও গুজব ছড়ায়, তাদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা  গ্রহন করা হয়।




বরিশালে ৬৪০ মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা আয়োজন

বরিশাল জেলার ১০টি উপজেলা ও সিটি করপোরেশন এলাকায় এবার মোট ৬৪০টি মণ্ডপে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। প্রতিটি মণ্ডপে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে, সম্পন্ন হয়েছে প্রতিমা তৈরির কাজ ও আলোকসজ্জা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মহানগরে সার্বজনীন ৩৯টি ও ব্যক্তিগতভাবে ৬টিসহ মোট ৪৫টি পূজামণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া সদর উপজেলায় ২২টি, আগৈলঝাড়ায় ১৬১টি, উজিরপুরে ১২০টি, গৌরনদীতে ৮৪টি, বাকেরগঞ্জে ৭৪টি, বানারীপাড়ায় ৫৯টি, মেহেন্দিগঞ্জে ২৪টি, বাবুগঞ্জে ২৪টি, মুলাদীতে ১২টি এবং হিজলায় ১৫টিসহ সর্বমোট ৬৪০টি মণ্ডপে পূজা হবে।

বরিশাল মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক সমির দাস ও সদস্য সচিব পলাশ চন্দ্র দেবনাথ জানান, উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করা হয়েছে, পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতাও থাকবে। ইতোমধ্যে মহানগরে ১০ থেকে ১৩ সদস্য বিশিষ্ট পাঁচটি পর্যবেক্ষক টিম গঠন করা হয়েছে।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মানিক লাল মুখার্জী জানান, কেন্দ্রীয় পূজা উদযাপন পরিষদের নির্দেশনা অনুযায়ী পূজা আয়োজন করা হবে। বৈরী আবহাওয়া ও অন্যান্য চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও পূজায় কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটে, সে বিষয়েও মণ্ডপগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতিমূলক সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে প্রশাসন, পুলিশ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, পূজা উদযাপন পরিষদের প্রতিনিধি এবং সরকারি–বেসরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় প্রতিটি মণ্ডপে নিরাপত্তা জোরদার এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পূজা চলাকালীন নগরীর প্রতিটি মণ্ডপে সাদা পোশাক ও ইউনিফর্ম পরিহিত পুলিশ সদস্য টহল দেবে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সবশেষে জেলা প্রশাসন, পূজা উদযাপন পরিষদ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




প্রতিবন্ধীরা সুবিধা বঞ্চিত থাকবে কতদিন, কারিতাসের সেমিনারে অভিযোগ

বরিশালে শারীরিক প্রতিবন্ধীরা সরকারের প্রতিশ্রুত সুবিধা প্রাপ্তিতে বাধার কথা জানিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়টি উঠে এসেছে কারিতাস বাংলাদেশ বরিশাল অঞ্চলের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত দিনব্যাপী সেমিনারে।

বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) নগরীর সাগরদী কারিতাস অঞ্চলিক কার্যলয়ে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে বরিশাল জেলা-উপজেলার প্রতিবন্ধীসহ সমাজসেবা ও স্বাস্থ্য বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। সেমিনারের বিষয় ছিল—“শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার, বিভিন্ন সেবা ও স্বাবলম্বী হওয়া।”

সভায় প্রতিবন্ধীরা অভিযোগ করেছেন, সরকারি নানা সুবিধা তাদের হাতে পৌঁছায় না। ভুয়া প্রতিবন্ধী, রাজনৈতিক সুপারিশ এবং একই ব্যক্তির একাধিক কার্ডের কারণে প্রকৃত প্রতিবন্ধীরা সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

সেমিনারে বক্তারা সামাজিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্বাবলম্বী করে তোলার জন্য নানা পরামর্শ দিয়েছেন। সভার প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজ অধিদপ্তর বরিশাল জেলা কার্যলয়ের উপপরিচালক এ কে এম আখতারুজ্জামান তালুকদার। সভার সভাপতিত্ব করেন কারিতাস বরিশাল অঞ্চলের কর্মকর্তা মি. পল রায়। এছাড়া বরিশাল সদর উপজেলার সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এ কে এম কুদরত ই খুদা উপস্থিত ছিলেন।

কারিতাসের সহায়তায় ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সামাজিক অন্তর্ভুক্তির প্রকল্পের মাধ্যমে দুই শতাধিক প্রতিবন্ধী নারী-পুরুষকে প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাবলম্বী করা হয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




মাইকে ঘোষণা দিয়ে কুমিল্লায় ৪ মাজারে হামলা ভাঙচুর ও অগ্নি সংযোগ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: সামাজিক মাধ্যমে ধর্ম নিয়ে কটূক্তির জেরে  মাইকে ঘোষণা দিয়ে কুমিল্লার হোমনায় চারটি মাজারে হামলা ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার পর কুমিল্লা পুলিশ সুপার মো. নাজির আহমেদ খান ও হোমনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্ষ্যেমালিকা চাকমা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জেলার হোমনার আসাদপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ও সেনা সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। কুমিল্লা পুলিশ সুপার মো. নাজির আহমেদ খান বলেন ‘এ ঘটনায় উসকানি ও ইন্ধনদাতাদের আইনের আওতায় আনা হবে।’

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ‘বেমজা মহসিন’ নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে গত বুধবার সকালে এক যুবক ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দেন। এ ঘটনায় স্থানীয় কিছু লোক ক্ষুব্ধ হয়ে থানার সামনে জড়ো হয়ে ওই যুবকের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ তাদের শান্ত করেন। দুপুরে ওই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় ওই দিন সন্ধ্যায় ‘বাংলাদেশ ইসলামী যুবসেনা’ হোমনা উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শরীফুল ইসলাম বাদী হয়ে ওই যুবকের বিরুদ্ধে হোমনা থানায় একটি মামলা করেন। আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে কুমিল্লা পুলিশ সুপার মো. নাজির আহমেদ খান বলেন, ‘ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্ট দেওয়ার পর তাৎক্ষণিক পুলিশ জড়িত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। কিন্তু আইন হাতে তুলে নিয়ে যারা ঘটনার উসকানি দিয়ে মাজারে হামলা ভাঙচুর ও আগুন দিয়েছে তাদের শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’




দুর্গাপূজা ঘিরে মিথ্যাচার করছে পার্শ্ববর্তী দেশ: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) জানিয়েছেন, আসন্ন দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে পার্শ্ববর্তী দেশ নানা ধরনের মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছে। তিনি বলেন, এখনও দেশে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়নি, ঢাকাসহ সারাদেশের প্রতিটি পূজা মণ্ডপের কাজ চলছে। এসময় পাশ্ববর্তী দেশ অপপ্রচার চালাচ্ছে, যা এড়িয়ে চলা প্রয়োজন।

বৃহস্পতিবার বিকালে উত্তরায় র‌্যাব সদরদপ্তরে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ও র‌্যাবের কর্মকাণ্ড বিষয়ে এক অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি এ তথ্য জানান। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে র‌্যাবের কার্যক্রম অনেক উন্নত এবং তাদের পারফরমেন্স প্রশংসনীয়। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারসহ তারা যথাযথভাবে কাজ করছেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, দেশের ৩৩ হাজারের বেশি পূজামণ্ডপে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কিছু ছোটখাটো ঘটনা ঘটতে পারে, তবে সেগুলোও পর্যবেক্ষণে রয়েছে। শিগগিরই আনসার সদস্যদের নিয়োগ দিয়ে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হবে।

তিনি আরও সতর্ক করেছেন, সম্প্রতি পঞ্চগড় এলাকায় একটি ঘটনা নিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ মিথ্যা সংবাদ প্রচার করেছে। সাংবাদিকদের প্রতি তিনি অনুরোধ জানান, এসব মিথ্যা সংবাদের বিপরীতে সঠিক তথ্য প্রচার করতে হবে। এছাড়া পূজামণ্ডপ কমিটিকেও সতর্ক থাকতে হবে।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, বিগত সরকারের সময়ে যারা অবসরে গেছেন, তাদের পুনরায় নিয়োগ নিয়ম মেনে দেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের নিয়োগ প্রথা আগেও ছিল এবং এখনও রয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশালে ডেঙ্গুতে এক নারীর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৫১

বরিশাল শের-ই বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়ে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত আসমা বেগম (৪০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। তিনি বরগুনার আমতলী উপজেলার বাসিন্দা। বুধবার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার দুপুরে তার মৃত্যু হয়।

বরিশাল বিভাগের স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল জানিয়েছেন, বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৩৮১ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চলতি বছর বিভাগজুড়ে মোট ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে ২৩ জন।

একই সময়ে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে নতুন করে ১৫১ জন রোগী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে বরগুনা হাসপাতালে ৫৬ জন, বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ২২ জন, বরিশাল জেলার অন্যান্য হাসপাতালে ১৭ জন, পটুয়াখালী জেলার হাসপাতালে ২৩ জন, পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজে ১৫ জন, ভোলায় পাঁচজন এবং পিরোজপুরে সাতজন রোগী রয়েছেন।

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানান, ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যবস্থা অব্যাহত রয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫