পিআর সিস্টেমে নির্বাচন নিরাপদ ও আদর্শপূর্ণ হবে: মুফতী ফয়জুল

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতী মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেছেন, পিআর (Proportional Representation) সিস্টেমে নির্বাচন হলে কোনো ফ্যাসিস্ট তৈরি হবে না, ভোট ছিনতাই হবে না, কালো টাকা ব্যবহার হবে না এবং কোনো ধরণের লুটপাট, ডাকাতি বা ব্যক্তিস্বার্থচর্চা ক্ষমতায় যেতে পারবে না। তিনি বলেন, “পিআর সিস্টেমে নির্বাচন হবে নিরাপদ, আদর্শের নির্বাচন। এমন সংসদ গঠিত হবে যেখানে আলোচনার ভিত্তিতে সমস্যা সমাধান হবে।”

শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জয়পুরহাট জেলা শহরের শহীদ ডা. আবুল কাসেম ময়দানে ইসলামী আন্দোলনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে জেলার বিভিন্ন নেতা ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ফয়জুল করীম আরও বলেন, বর্তমান রাজনীতিতে একে অপরের প্রতি সহিংসতা ও হত্যার ঘটনা ঘটছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি আবরার ও ফাহাদের হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করেন এবং বলেন, “ছাত্রদল, যুবলীগ ও অন্যান্য দলের মধ্যে যারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত তারা মূলত স্বাভাবিক মানুষ ছিল না, কিন্তু দল তাদের এই অবস্থায় পৌঁছে দিয়েছে।”

তিনি উল্লেখ করেন, ৫৩ বছর ধরে শাসকরা জাতিকে মুক্তি দিতে পারেননি। ইসলামী আন্দোলন দেশ পরিচালনায় আদর্শ ও নৈতিকতা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করছে। ফয়জুল করীম বলেন, “আমরা রসূলের আদর্শ, মদিনার চেতনা, কোরআন ও হাদিস অনুসরণ করি। ক্ষমতা নয়, আদর্শ বাস্তবায়নই আমাদের লক্ষ্য।”

সমাবেশে তিনি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, যারা নৌকা, ধানের শীষ বা লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে, তারা বাস্তবে সেই কাজ করতে সক্ষম নয়। “নৌকা চালায় গরিব, ধান কাটে গরিব, লাঙ্গল বইতে পারে গরিব। তাই যারা হাতপাখা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে, তারা সাধারণ মানুষের শান্তি ও কল্যাণ নিশ্চিত করবে।”

জেলা ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুল ওয়াদুদের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মাওলানা মুহাম্মাদ নাজমুল হাসান মাহমুদের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন আল্লামা আব্দুল হক আজাদ, জেলা জামায়াতে ইসলামী কমিটির আমীর ডা. ফজলুর রহমান সাঈদ, জেলা গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব আমিনুল ইসলাম মাসুদ এবং জেলা নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর যুগ্ম সমন্বয়কারী ওমর আলী বাবু।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশাল-১ আসনে বিএনপি নেতার ব্যতিক্রমী গণসংযোগ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনে ব্যতিক্রমী গণসংযোগ কর্মসূচি পরিচালনা করেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মনোনয়ন প্রত্যাশী ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান।

শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে পায়ে হেঁটে আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের বিভিন্ন বাজার ঘুরে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এ সময় তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন।

গণসংযোগ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আবদুস সোবহান বলেন, “দলমত নির্বিশেষে এলাকার সাধারণ মানুষ যে ভালোবাসা দেখিয়েছেন, তাতে আমি মুগ্ধ। বহুদিন পর মানুষ মুক্তভাবে কথা বলছেন, তাদের দুঃখ-দুর্দশা জানাচ্ছেন। আমার কাছে রাজনীতি কখনো ক্ষমতার লড়াই নয়, বরং মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা ধরে রাখার প্রতিশ্রুতি।”

বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে দলীয় আন্দোলন-সংগ্রামে তৃণমূল কর্মীদের পাশে ছিলাম। কারাবাস, হামলা-মামলার মধ্যেও তাদের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছি। এবারও আমার মূল লক্ষ্য ছিল তৃণমূল পর্যায়ের জনগণের কাছে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের সালাম পৌঁছে দেওয়া।”

গণসংযোগ চলাকালে কেউ কেউ স্থানীয় সমস্যার কথা জানিয়েছেন, আবার অনেকে উন্নয়ন ও পরিবর্তনের স্বপ্ন বর্ণনা করেছেন। তাদের সবার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “যদি আমার হাতে দল ধানের শীষ প্রতীক তুলে দেয়, আর জনগণ মনে করেন আমি দুর্নীতিগ্রস্ত বা খারাপ, তাহলে আমাকে ভোট দেবেন না। কারণ জনগণের আস্থা হারালে রাজনীতির কোনো মূল্য নেই।”

তিনি আরও যোগ করেন, “অতীতের মতো ভবিষ্যতেও আমি এই এলাকার মানুষের পাশে থাকব। বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গেও থাকব সব পরিস্থিতিতে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বিএনপির নামে ব্যক্তিস্বার্থে কেউ যেন সুযোগ না নেয়: তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দলের নাম ব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ বিষয়ে নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কিশোরগঞ্জ শহরের পুরোনো স্টেডিয়ামে জেলা বিএনপির ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে তিনি ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন।

তারেক রহমান বলেন, “শহীদ জিয়া ও দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার প্রতিটি সৈনিককে অত্যন্ত সচেতন থাকতে হবে। কেউ যেন বিএনপির নাম ব্যবহার করে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াতে না পারে। এই দলের নাম বা আমাদের নাম ব্যবহার করে কেউ যেন ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করতে না পারে। এ বিষয়ে প্রত্যেককে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের প্রতিটি ধানের শীষের কর্মী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে আজও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আমাদের সামনে একটি লক্ষ্য—যেকোনো মূল্যে ঐক্যবদ্ধ থাকা। এর বিকল্প নেই।”

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, “স্বৈরাচার পতন ঘটালেও মাঝে মাঝে অদৃশ্য অপশক্তি মাথা তোলে। কিন্তু আমরা উন্নয়ন ও উৎপাদনের রাজনীতি করি। শহীদ জিয়া ও দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার আদর্শে গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা এগিয়ে নিতে হবে। ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে যদি আমরা ইস্পাতের মতো ঐক্যবদ্ধ হতে পারি, জনগণের কাছে পৌঁছাতে পারি, তবে সফল জনরায় নিশ্চিত হবে।”

এ সময় তিনি নেতাকর্মীদের দুটি বিষয়ে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে বলেন—প্রথমত, দলীয় সিদ্ধান্তে ঐক্যবদ্ধ থাকা; দ্বিতীয়ত, দলের নামে কেউ যেন ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করতে না পারে এবং দলের বিরুদ্ধে কোনো চক্রান্ত সফল হতে না পারে। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে উপস্থিত নেতাকর্মীরা হাত তুলে প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বিএনপির বিরুদ্ধে চলছে ষড়যন্ত্র: মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তবে অতীতে যেমন ষড়যন্ত্রকারীরা সফল হতে পারেনি, আগামীতেও পারবে না।

শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কিশোরগঞ্জের পুরাতন স্টেডিয়ামে জেলা বিএনপির ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছি। বিএনপিকে ধ্বংস করার চেষ্টা হয়েছে বহুবার। কিন্তু বিএনপি উড়ে এসে জুড়ে বসা দল নয়, এই দল জনগণের হৃদয়ে বেঁচে আছে।”

তিনি আরও বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান জনগণের ভোটে জনগণের পার্লামেন্ট গঠন করেছিলেন। তিনি একদলীয় বাকশালের পরিবর্তে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তাই বিএনপি সব সময় জনগণের অধিকার ও গণতন্ত্রের পক্ষে।

বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করেন, “একাত্তরে ভিন্ন অবস্থানে থাকা দল, এমনকি যাদের কাল জন্ম হয়েছে তারাও বিএনপিকে নিয়ে সমালোচনা করে। অথচ এই দল ফিনিক্স পাখির মতো—ভেঙে ফেলার ষড়যন্ত্র হয়েছে, কিন্তু সফল হয়নি। বরং ষড়যন্ত্রকারীরাই পালিয়ে গেছে।”

তিনি দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, কোনো ব্যক্তির নামে স্লোগান নয়, স্লোগান হবে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নামে।

অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা ছাড়াও কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ছাত্র-জনতার আন্দোলন জাতিকে পথ দেখিয়েছে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান ছিল সত্য ও ন্যায়ের সংগ্রাম। ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে সেই আন্দোলন গণমানুষের প্রত্যাশাকে একত্রিত করে জাতিকে নতুন দিশা দেখিয়েছে।

শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পদ্মা সেতুর মাওয়া ও জাজিরা প্রান্তে জুলাই শহীদদের স্মরণে অঙ্কিত বিশেষ গ্রাফিতি ‘জুলাই বীরত্ব’‘জুলাই আত্মত্যাগ’ উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “এই প্রজন্ম এবং আগামী প্রজন্মকে জানতে হবে—জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান কেবল একটি আন্দোলন ছিল না, বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম ছিল। ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে সেই আন্দোলন জাতিকে নতুন দিশা দিয়েছে। এ উদ্যোগ তরুণ সমাজকে অনুপ্রাণিত করবে সত্য, ন্যায়, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের চেতনায় উজ্জীবিত হতে।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের দায়িত্ব হবে শহীদদের ত্যাগকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা এবং তাদের আদর্শ ধারণ করা। শহীদদের স্বপ্ন ছিল একটি ন্যায়, সমতা ও মানবিকতার বাংলাদেশ। আমাদের সেই পথেই এগিয়ে যেতে হবে।”

গ্রাফিতি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম, সেতু বিভাগের সচিব (রুটিন দায়িত্বে), মুন্সিগঞ্জ ও শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক ও স্থানীয় কর্মকর্তারা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




রোহিঙ্গা সংকট সমাধান সরকারের অগ্রাধিকার: পররাষ্ট্র সচিব

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মাদ নজরুল ইসলাম বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধান শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, এটি দেশের পররাষ্ট্রনীতিরও অবিচ্ছেদ্য অংশ। এ বিষয়ে কেবল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দায়ী করা সঠিক হবে না।

শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীতে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) এবং অক্সফামের যৌথ আয়োজনে ‘শিরোনামের বাইরে নতুন চোখে রোহিঙ্গা সংকট’ শীর্ষক এক সিম্পোজিয়ামে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

পররাষ্ট্র সচিব জানান, রোহিঙ্গা সংকট অব্যাহত থাকায় কক্সবাজার ও মহেশখালী এলাকায় বিদেশি বিনিয়োগ ব্যাহত হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা সব সময় চাই শান্তিপূর্ণ ও আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধান হোক। জাতিসংঘের আসন্ন হাই-লেভেল বৈঠককে বাংলাদেশ বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।”

ড. নজরুল ইসলাম জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের অবস্থান সবসময়ই সংঘাত এড়িয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে। আন্তর্জাতিক মহলে এ বিষয়ে সহযোগিতা এবং ইতিবাচক ভূমিকাই এখন সবচেয়ে জরুরি।

সিম্পোজিয়ামে অন্যান্য বক্তারা বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যু সমাধানে ভূ-রাজনৈতিক সদিচ্ছাই মূল চাবিকাঠি। কেবল বাংলাদেশ নয়, এই অঞ্চলের অন্যান্য রাষ্ট্রেরও কার্যকর ভূমিকা রাখা প্রয়োজন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরগুনায় ডেঙ্গুর ভয়াবহতা: ২৪ ঘণ্টায় ৪ জনের মৃত্যু

ডেঙ্গুর প্রকোপ দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে বরগুনায়। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে তিনজন পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং একজন স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. আবু ফাত্তাহ। মৃতদের পরিচয় হলো—পাথরঘাটা উপজেলার কালমেঘা ইউনিয়নের ঘুটাবাছা এলাকার শুক্লা ঢালী (১৩), আমড়াতলার হাসান (২৫), কাকচিড়া ইউনিয়নের সিদ্দিক মোল্লা (৪৫) এবং পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের নুরজাহান বেগম (৭৫)।

জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৪৫ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সরকারি হিসাবে এখন পর্যন্ত জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা ৬ হাজার ৯২৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ১৩ জনের মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত রয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা সরকারি হিসাবের প্রায় তিনগুণ।

আইইডিসিআরের এক জরিপে দেখা গেছে, বরগুনার গ্রামীণ এলাকায় এডিস মশার বিস্তার মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছেছে। চলতি বছরের জুনে প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয়, গ্রামাঞ্চলের ৭৬ শতাংশ এবং পৌরসভার ৩১ শতাংশ বাড়িতেই এডিসের লার্ভা পাওয়া গেছে।

গত এক সপ্তাহের ধারাবাহিক বৃষ্টির পর রোদ উঠতেই ডেঙ্গুর প্রকোপ হঠাৎ বেড়ে গেছে। পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. রাখাল বিশ্বাস অপূর্ব।

তিনি বলেন, “বৃষ্টি কমার পর থেকেই ডেঙ্গু রোগীর চাপ বেড়েছে। প্রতিদিনই অসংখ্য রোগী ভর্তি হচ্ছেন। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি চিকিৎসা দিতে, কিন্তু পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে অবস্থা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।”

স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এডিস মশার বিস্তার রোধে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হলেও জনসচেতনতার অভাব এবং জলাবদ্ধতার কারণে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




মানুষ জামায়াতকে বিশ্বাস করে: অধ্যাপক মুজিবুর রহমান

জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেছেন, সৎ নেতৃত্বের কারণেই দেশের মানুষ জামায়াতে ইসলামীকে বিশ্বাস করে। আগামী নির্বাচনে জনগণ জামায়াতকেই ভোট দেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত ‘বিশ্ব নবীর জীবন ও কর্মনীতি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে জামায়াতে ইসলামীর গোদাগাড়ী পৌর ওলামা বিভাগ।

অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ডাকসু) ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (জাকসু) নির্বাচনে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীদের নিরঙ্কুশ বিজয় প্রমাণ করেছে, জনগণ জামায়াতকে আস্থার জায়গায় রেখেছে। আধুনিক ও কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনের পূর্বশর্ত হলো সৎ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন সেই রাষ্ট্রের রূপকার। তাঁর নীতি-আদর্শই আমাদের পথপ্রদর্শক।”

সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী মহানগরের মাজলিসুল মুফাসসিরীনের সভাপতি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। সভাপতিত্ব করেন গোদাগাড়ী পৌর ওলামা বিভাগের সভাপতি শায়খ আবু মুহাম্মদ বজলুর রহমান এবং সঞ্চালনা করেন মাওলানা ওবায়দুল্লাহ।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের আমির আব্দুল খালেক, রাজশাহী আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের সভাপতি ড. ওবায়দুল্লাহ, গোদাগাড়ী পৌর আমির আনারুল ইসলাম, জেলার সহকারী সেক্রেটারি মো. কামরুজ্জামান ও উপজেলা জামায়াতের আমির নোমায়ন মাস্টারসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

দিনব্যাপী আলোচনা সভায় বক্তারা বিশ্বনবীর জীবন ও কর্মনীতি অনুসরণের আহ্বান জানান এবং সমাজে ন্যায়-নীতি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




অভ্যুত্থানকে ঘিরে উগ্রপন্থার আশঙ্কা: জোনায়েদ সাকি

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, সাম্প্রতিক অভ্যুত্থানের সুযোগ নিয়ে একটি রাজনৈতিক দল উগ্রপন্থার দিকে ঝুঁকতে চাইছে। তারা আন্দোলনের সুযোগকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার পরিকল্পনা করছে।

শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বরিশাল নগরীর সদর রোডে অশ্বিনী কুমার টাউন হলে গণসংহতি আন্দোলনের দ্বিতীয় জেলা সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের বরিশাল জেলা সমন্বয়কারী দেওয়ান আব্দুর রশিদ নীলু।

জোনায়েদ সাকি বলেন, “যে কেউ যদি আবার মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিতে চায়, জনগণ তা মেনে নেবে না। অধিকার ও মানবিক মর্যাদা রক্ষায় আমাদের সবাইকে সংগঠিত হতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, অভ্যুত্থানের পর থেকেই গণসংহতি আন্দোলন জোর দিয়ে বলছে, এ দেশের গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে বিচার সংস্কার ও সুষ্ঠু নির্বাচন অপরিহার্য। যারা হত্যা ও ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিল, তাদের অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা না হলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রসঙ্গে সাকি বলেন, “আমরা ঐকমত্য চাই। আগামী জনপ্রতিনিধিরা যেন এই ঐকমত্য বাস্তবায়নে বাধ্য থাকে তার নিশ্চয়তা তৈরি করতে হবে। সংসদে বসে সংস্কার কার্যকর করার জন্য টেকসই গ্যারান্টি প্রয়োজন।”

তিনি অভিযোগ করেন, পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তি, দেশি-বিদেশি দোসর ও ভারতীয় আধিপত্যবাদীরা এ অভ্যুত্থান ভিন্ন পথে নিতে চক্রান্ত করছে। তাই রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা বাচ্চু ভূঁইয়া, জেলা সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান মিরাজ, কৃষক মজুর সংহতির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম, যুব ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ সুজন এবং ছাত্র ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফাতেমা রহমান বিথী।

দিনব্যাপী সম্মেলন শেষে গণসংহতি আন্দোলনের বরিশাল জেলা শাখার নতুন কমিটি ঘোষণা করেন দেওয়ান আব্দুর রশিদ নীলু। পরে জোনায়েদ সাকির নেতৃত্বে নগরীর সদর রোডে একটি বর্ণাঢ্য মিছিল বের করা হয়, যা শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরগুনায় এক দিনে ডেঙ্গুতে কেড়ে নিল চারজনের প্রান

চন্দ্রদ্বীপ ‍নিউজ: জীবন যেন কচু পাতার পানি একটু   এদিক ওদিক হলে গড়িয়ে পরে।শনিবার সকাল আটটা পর্যন্ত বরগুনার পাথরঘাটায় ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চারজনের  মৃত্যু হয়েছে।  এর মধ্যে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনজন এবং স্থানীয় ক্লিনিকে একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

বরগুনার সিভিল সার্জন আবু ফাত্তাহ প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সরকারি হিসাবে এ নিয়ে চলতি বছর জেলার ১৩ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী মারা গেলেন। এর মধ্যে বরগুনার জেনারেল হাসপাতালে মারা গেছেন ৯ জন।

সর্বশেষ মারা যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন পাথরঘাটা উপজেলার উপজেলার কালমেঘা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ঘুটাবাছা এলাকার সুজন ঢালীর মেয়ে শুক্লা ঢালী (১৩), আমড়াতলা এলাকার হাসান (২৫), কাকচিড়া ইউনিয়নের হরিদ্রা এলাকার সিদ্দিক মোল্লা (৪৫) এবং পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের রুহিত এলাকার নুরজাহান বেগম (৭৫)।

পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা রাখাল বিশ্বাস অপূর্ব জানান, গত কয়েক দিন বৃষ্টি ছিলে। বৃষ্টি কমে যাওয়ার পর থেকে ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে ডেঙ্গু রোগীর চাপ বেড়েছে। প্রতিনিয়ত জ্বর নিয়ে রোগী আসছেন চিকিৎসা নিতে।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, আজ সকাল আটটা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় বরগুনায় ৪৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) জুনের মাঝামাঝি সময়ে বরগুনায় এডিস মশার লার্ভা জরিপ কার্যক্রম চালায়। গত ২৬ জুন এক সংবাদ সম্মেলনে আইইডিসিআর জরিপের ফলাফল প্রকাশ করে জানায়, বরগুনা পৌরসভার ৩১ শতাংশ এবং গ্রামাঞ্চলের ৭৬ শতাংশ বাড়িতে এডিসের লার্ভা পাওয়া গেছে।