সৌদির সড়কে থেমে গেল বরিশালের মিজানুরের স্বপ্ন

বিদেশের মাটিতে ঘাম ঝরিয়ে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়ে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন মিজানুর রহমান। চোখভরা ছিল সচ্ছল জীবনের আশা, বুকভরা ছিল বাবা-মা, স্ত্রী ও সন্তানকে ভালো রাখার দৃঢ় প্রত্যয়। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। প্রবাসজীবনের মাত্র এক বছরের মাথায় সড়ক দুর্ঘটনায় থেমে গেল তার জীবন, নিভে গেল একটি পরিবারের আশার আলো।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) সৌদি আরবের ইয়াম্বো শহরে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মারা যান মিজানুর রহমান (৩০)। তিনি বরিশাল জেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের বটতলা এলাকার বাসিন্দা আলমগীর শরীফের বড় ছেলে।

জীবিকার তাগিদে প্রায় এক বছর আগে সৌদি আরবে যান মিজানুর। গ্রামের সাধারণ একটি পরিবার থেকে উঠে আসা এই যুবক বিদেশে গিয়ে কষ্ট করে কাজ করতেন শুধু পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য। স্বজনরা জানান, দুর্ঘটনার পর তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে তার মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা রয়েছে।

মিজানুরের মৃত্যুর খবর প্রথমে পরিবার বিশ্বাসই করতে পারেনি। বিদেশে থাকা সন্তানের কণ্ঠ শোনার অপেক্ষায় থাকা বাবা-মায়ের ঘরে নেমে আসে গভীর নীরবতা। তার স্ত্রী বারবার প্রশ্ন করছেন—এত তাড়াতাড়ি সব শেষ হয়ে যাবে কেন? সাড়ে তিন বছরের অবুঝ কন্যাশিশুটি এখনও জানে না, আর কোনো দিন বাবার কোলে ওঠা হবে না।

মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে তার চাচা সালাম শরীফ বলেন, “মিজানুর পরিবারের বড় ছেলে ছিল। সব দায়িত্ব তার কাঁধেই ছিল। সে শুধু নিজের জন্য নয়, পুরো পরিবারের ভবিষ্যৎ বদলাতে চেয়েছিল।”

চাঁদপাশা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান সবুজ বলেন, “মিজানুর ছিলেন অত্যন্ত পরিশ্রমী ও দায়িত্ববান একজন যুবক। পরিবারের কথা ভেবেই তিনি বিদেশে গিয়েছিলেন। তার এই অকাল মৃত্যু আমাদের সবাইকে গভীরভাবে শোকাহত করেছে।”

মিজানুর রেখে গেছেন স্ত্রী, সাড়ে তিন বছরের এক কন্যা, দুই ভাই ও তিন বোনসহ অসংখ্য স্বজন। তার উপার্জনের ওপর নির্ভর করেই চলত পরিবারের বড় একটি অংশ। হঠাৎ এই মৃত্যুতে পরিবারটি পড়েছে চরম অনিশ্চয়তায়।

এদিকে পরিবারের পক্ষ থেকে মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। স্বজনদের একটাই আকুতি—অন্তত শেষবারের মতো প্রিয় মানুষটিকে দেশে এনে নিজের মাটিতে চিরনিদ্রায় শায়িত করতে চান তারা।




ভোট শুরুর আগেই কেন্দ্র দখলের ছক: বরিশাল-৩ আসনে শঙ্কা প্রকাশ ব্যারিস্টার ফুয়াদের

ভোটার ও প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন কখনোই অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে না—এমন মন্তব্য করেছেন বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ–মুলাদী) আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা এলাকায় জোটের নেতাকর্মীদের নিয়ে নির্বাচন আচরণবিধি বিষয়ক এক সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে একাধিকবার লিখিত ও মৌখিকভাবে অভিযোগ জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রত্যাশিত তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। তাঁর দাবি, প্রশাসনের একটি অংশ নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে।

তিনি আরও বলেন, ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার আগেই একটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা কেন্দ্র দখলের পরিকল্পনা করছে—এমন তথ্য তাদের কাছে রয়েছে। ইতোমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোর একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু কেন্দ্রে অস্ত্রের মহড়ার প্রস্তুতির তথ্যও পাওয়া গেছে। এসব বিষয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

নির্বাচনের অতীত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০০১ সালের পর দেশে প্রকৃত অর্থে একটি ভালো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আসন্ন নির্বাচন হবে ঈদের আনন্দের মতো। কিন্তু ভোটার ও প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে এবং আগেভাগেই কেন্দ্র দখলের ছক কষে রাখলে সেই নির্বাচন কখনোই ভালো হতে পারে না।

একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য সরকারের প্রতি কঠোর অবস্থানের আহ্বান জানিয়ে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ও ভোটকেন্দ্র দখলের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে প্রশাসনের কাছে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। স্থানীয়ভাবে এসব তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ ক্ষমতা আইন বা ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে স্বল্পমেয়াদি আটক নিশ্চিত করা গেলে সহিংসতা ও কেন্দ্র দখলের প্রবণতা অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে তিনি জানান, জোটের পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে নেতাকর্মীদের নির্বাচন আচরণবিধি বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক সভা করা হচ্ছে। কোন ধরনের প্রচারণা আইনসম্মত এবং কোনটি নয়—সে বিষয়ে মাঠপর্যায়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রতিদ্বন্দ্বী কিছু রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা নিজেদের নামে ও বেনামে ব্যানার-পোস্টার ব্যবহার করে আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন। এসব অনিয়মের বিষয়েও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।

সবশেষে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, এসব অনিয়ম বন্ধ না হলে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হবে—এমন আস্থা তৈরি হয় না। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হলে নির্বাচন আচরণবিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাবুগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলাম, বরিশাল জেলা ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক মো. শাহাদাত হোসেন, বাবুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রশিবির সভাপতি মো. সৌরভ সরদার, এবি পার্টির জেলা সদস্যসচিব ইঞ্জিনিয়ার জি এম রাব্বি, যুগ্ম-আহ্বায়ক মেরিন ইঞ্জিনিয়ার সুজন তালুকদার, যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তানভীর আহমেদসহ জোটের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ভোট মানেই কি শুধু ব্যালটে সিল? গণভোট নিয়ে বিভ্রান্ত বরিশালের মানুষ

ভোট বলতে আমরা সাধারণত ব্যালট পেপারে সিল মারাকেই বুঝি। কিন্তু এবারের নির্বাচনে যুক্ত হয়েছে নতুন একটি বিষয়—‘গণভোট’। এই শব্দটি শুনে অনেক সাধারণ ভোটারই এখনো বুঝে উঠতে পারছেন না, আসলে গণভোট কী এবং কেন তা দিতে হবে।

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার বাবুগঞ্জ খেয়াঘাট এলাকার ষাটোর্ধ্ব বাসিন্দা দুলাল গাজী একটি চায়ের দোকানে বসে বলেন,“ভোট বলতে তো কেন্দ্রে গিয়ে ব্যালটে সিল মারাকে বুঝি। কিন্তু গণভোট কী, সেটা তো জানি না।”

একই এলাকার জাহাঙ্গীর হোসেনের ভাষ্য,“আমরা তো ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ব্যালট পেপারে ভোট দিতেই অভ্যস্ত। গণভোটের বিষয়ে কিছুই জানি না। এলাকায় এ নিয়ে কোনো প্রচার-প্রচারণাও চোখে পড়েনি। মানুষকে এটা বোঝানো দরকার।”

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এবারই প্রথম জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে একসঙ্গে গণভোটও হবে। সরকারিভাবে গণভোট নিয়ে প্রচারণা চালানোর কথা থাকলেও বরিশাল শহরের কিছু স্থানে সীমিত প্রচার দেখা গেলেও উপজেলার গ্রামাঞ্চলে তা তেমন চোখে পড়ছে না।

হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ আসনের নতুন ভোটার রিমন খান বলেন,“শুনেছি এবার দুইটা ভোট দিতে হবে—একটা সংসদ নির্বাচনের, আরেকটা গণভোট। কিন্তু গণভোটটা কী জন্য, কেন দেব—সেটাই বুঝি না। ক্যাম্পেইন করে না বোঝালে সাধারণ মানুষ বিষয়টা বুঝবে না।”

মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার ভাষানচর এলাকার আবুল কালাম বলেন,“এ বিষয়ে আমার কোনো পরিষ্কার ধারণা নেই। শুধু শুনেছি সেখানে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ দিতে হবে। এর বেশি কিছু জানি না।”

শিক্ষকরাও বলছেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে গণভোট নিয়ে স্পষ্ট ধারণার ঘাটতি রয়েছে। বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের অধ্যাপক মোস্তফা কামাল বলেন,“গণভোটে যে চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর মতামত নেওয়া হবে, সেগুলো সম্পর্কে সাধারণ ভোটারদের স্বচ্ছ ধারণা নেই। বিষয়গুলো সহজ ভাষায় বোঝাতে হবে। এজন্য আরও জোরালো প্রচার-প্রচারণা দরকার।”

এ বিষয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা খাইরুল আলম সুমন বলেন,
“গণভোট সম্পর্কে প্রচারণা চালাতে জেলার সব উপজেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রচারণামূলক ব্যানার ও বিলবোর্ড স্থাপনের বিষয়েও উপজেলা প্রশাসনকে বলা হয়েছে।”

বরিশালের ছয়টি আসনে মোট ভোটার ২২ লাখ ৮৪ হাজার ৯৪৮ জন। এর মধ্যে—

  • বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া): ৩,২৩,৮১৭ জন
  • বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া): ৩,৮০,৪৯৬ জন
  • বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী): ৩,২৭,৮৯৫ জন
  • বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ): ৪,১৭,০৫৪ জন
  • বরিশাল-৫ (সিটি-সদর): ৪,৯৩,৯৫০ জন
  • বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ): ৩,১০,৪৯৭ জন

গণভোটে ভোটারদের চারটি বিষয়ের ওপর ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট দিতে হবে। বিষয়গুলো হলো—

  1. তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান
  2. দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ ব্যবস্থা
  3. ৩০টি ঐকমত্যভিত্তিক সংস্কার প্রস্তাব
  4. অন্যান্য সাংবিধানিক সংশোধনী

গ্রাম থেকে শহর—সবখানেই এখন প্রশ্ন একটাই: ব্যালটে সিল দেওয়ার বাইরে এই নতুন ভোট আসলে কী? সাধারণ মানুষের ভাষায় গণভোটের উদ্দেশ্য ও প্রভাব বোঝাতে না পারলে ভোটের দিন অনেক ভোটারই বিভ্রান্ত হয়ে পড়তে পারেন—এমন আশঙ্কাই করছেন স্থানীয়রা।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরিশালে ৪৪ প্রার্থীর মধ্যে ২১ জনের বিরুদ্ধে ১৮৬ মামলা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশালের ছয়টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ৪৪ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে ২১ জনের বিরুদ্ধে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের মোট ১৮৬টি মামলা। প্রার্থীদের দাখিল করা হলফনামা বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

গড় হিসাবে দেখা যায়, মামলা থাকা প্রার্থীদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে প্রায় নয়টি করে মামলা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রার্থী ও আইনজীবীদের বড় অংশের দাবি, এসব মামলার অধিকাংশই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও হয়রানির অংশ হিসেবে দেওয়া হয়েছে।

বরিশাল-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী ও ২৫ মামলার আসামি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, “আমরা আইনের পথ মেনেই নির্বাচনে এসেছি। অতীতে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। এবার যেন জনগণ নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে—সেই লক্ষ্যেই মাঠে নেমেছি। মামলা থাকা মানেই কেউ ভোটের অধিকার হারাবে, এমন নয়।”

বরিশাল সদর আসনের বাসদ প্রার্থী ডা. মনীষা চক্রবর্তী বলেন, “বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিরোধী দলে থাকলেই মামলা দেওয়ার একটি সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। কার নামে কয়টি মামলা আছে, তা দেখে চরিত্র নির্ধারণ করা যায় না। দেখতে হবে মামলার ধরন ও সত্যতা।”

হলফনামার তথ্যে দেখা যায়—

  • বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া): ৫ প্রার্থীর মধ্যে ৩ জনের নামে ১১টি মামলা
  • বরিশাল-২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর): ১০ প্রার্থীর মধ্যে ৭ জনের নামে ১৮টি মামলা
  • বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী): ৯ প্রার্থীর মধ্যে ৩ জনের নামে ৪১টি মামলা
  • বরিশাল-৪: ৫ প্রার্থীর মধ্যে ৩ জনের নামে সর্বোচ্চ ৮৬টি মামলা
  • বরিশাল-৫ (সদর): ১০ প্রার্থীর মধ্যে ৩ জনের নামে ১৮টি মামলা
  • বরিশাল-৬: ৫ প্রার্থীর মধ্যে ২ জনের নামে ১২টি মামলা

সবচেয়ে বেশি মামলা রয়েছে বরিশাল-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী রাজিব আহসানের বিরুদ্ধে—মোট ৮২টি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মামলা রয়েছে বরিশাল-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের নামে—২৫টি।

আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ বলেন, “নির্বাচনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা মূলত রাজনৈতিক চরিত্র। এসব মামলার বড় অংশই রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত। প্রায় ৯৮ শতাংশ মামলা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, যার অনেকগুলো আদালতে টেকে না।”

আরেক আইনজীবী শাহে আলম বলেন, “পূর্ববর্তী সরকারের সময় মামলা ছিল দমন-পীড়নের বড় হাতিয়ার। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে এসব মামলা দেওয়া হয়েছে। যেহেতু এগুলো রাজনৈতিক, ভবিষ্যতে অনেক মামলা প্রত্যাহারের সম্ভাবনাও রয়েছে।”

বরিশালের ছয়টি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২১ লাখ ২৯ হাজার ৯৪৭ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১০ লাখ ৪৮ হাজার ৮১০ জন। নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন ৩ লাখ ৪৮ হাজার ৩১৮ জন। ৮২৭টি ভোটকেন্দ্রের ৪ হাজার ৯৪১টি বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “বিগত সরকারের সময় যাদের নামে মামলা হয়েছে, তার অধিকাংশই বানানো বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দেওয়া। এগুলো পর্যালোচনায় রয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে মামলা নিয়ে আলোচনা হতে পারে, তবে ভোট নিয়ে আতঙ্কের কোনো কারণ নেই। এমপি প্রার্থীদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মামলা নেই—যা আছে, তা রাজনৈতিক।”

তিনি আরও জানান, নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সর্বোচ্চ প্রস্তুত থাকবে এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




প্রথম দিনে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন ৫১ জন,

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ:ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীতা বাতিলের বিরুদ্ধে আপিলের  ‍শুনানির আজ প্রথম দিন ।

আজ মোট ৭০টি আপিলের শুনানি শেষে ৫১ জন প্রার্থীতা ফেরত পেয়েছে।

শনিবার সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে এ শুনানি বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের অডিটরিয়ামে এ শুনানি হয়। এতে স্থানীয় পর্যায়ে মনোনয়ন বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল করা প্রার্থী ও তাঁদের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

শুনানি শেষে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ জানান, প্রথম দিনের ৭০টি আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ৫২টি আপিল মঞ্জুর করা হয়েছে।

এ ছাড়া ১৫টি আপিল নামঞ্জুর এবং ৩টি আপিল অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে মোট ৬৪৫টি আপিল আবেদন জমা পড়েছে। নির্বাচন কমিশনে ৫ জানুয়ারি আপিল গ্রহণ শুরু হয়ে ৯ জানুয়ারি (শুক্রবার) শেষ হয়। আপিল গ্রহণের শেষ দিনে (শুক্রবার) ১৭৬টি আপিল জমা হয়।

আজ শনিবার সকাল ১০টা থেকে নির্বাচন কমিশনে আপিল শুনানি শুরু হয়, যা চলবে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রথম দিনে ৭০টি আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ২৮০ জনের আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।




বরিশালের ছয় আসনে ১২ দলীয় জোটের একাধিক প্রার্থী, দিশেহারা ভোটাররা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শেষ হলেও বরিশালের ছয়টি সংসদীয় আসনে এখনো একক প্রার্থী চূড়ান্ত করতে পারেনি ইসলামী সমমনা ১২ দলীয় জোট। ফলে একই আসনে জোটভুক্ত একাধিক দলের প্রার্থী মাঠে থাকায় ভোটারদের মধ্যে দেখা দিয়েছে বিভ্রান্তি ও অনিশ্চয়তা।

জোট সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো বৃহৎ পরিসরে গঠিত এই ১২ দলীয় জোটে রয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি, খেলাফত মজলিসসহ মোট ১২টি রাজনৈতিক দল। কিন্তু বরিশালের আসনগুলোতে আসন ভাগাভাগি ও সমঝোতা না হওয়ায় একাধিক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এতে পুরো জেলায় বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪ জন।

আসনভিত্তিক প্রার্থীদের চিত্র

বরিশাল-১ (গৌরনদী–আগৈলঝাড়া):
এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. কামরুল ইসলাম খান এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. রাসেল সরদারের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে।

বরিশাল-২ (উজিরপুর–বানারীপাড়া):
এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জামায়াতের আবদুল মান্নান মাস্টার, খেলাফত মজলিসের মুন্সি মোস্তাফিজুর রহমান এবং ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ নেছার উদ্দিন।

বরিশাল-৩ (মুলাদী–বাবুগঞ্জ):
এখানে ইসলামী আন্দোলনের মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম ও এবি পার্টির মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান ভুইয়া নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। তবে জোটের স্বার্থে জামায়াতের প্রার্থী জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন।

বরিশাল-৪ (মেহেন্দিগঞ্জ–হিজলা):
এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার এবং ইসলামী আন্দোলনের সৈয়দ এহছাক মো. আবুল খায়ের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

বরিশাল-৫ (সদর ও সিটি কর্পোরেশন):
জোটের সবচেয়ে আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ আসন এটি। এখানে ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল এবং এবি পার্টির মো. তারিকুল ইসলাম প্রার্থী হয়েছেন। চরমোনাই পীরের দরবার এই আসনে অবস্থিত হওয়ায় ইসলামী আন্দোলন ছাড় দিতে রাজি নয়, অন্যদিকে শক্তিশালী সাংগঠনিক অবস্থানের কারণে জামায়াতও অনড় অবস্থানে রয়েছে।

বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ):
এ আসনেও ইসলামী আন্দোলনের মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম ও জামায়াতের মো. মাহমুদুন্নবী বৈধ প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন।

ভোটারদের উদ্বেগ ও বিশ্লেষকদের মতামত

বরিশাল সদরসহ বিভিন্ন আসনের ভোটাররা জানিয়েছেন, একই আদর্শ ও একই জোটের একাধিক প্রার্থী থাকলে ভোট বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এতে জোটের মূল লক্ষ্য অর্জন ব্যাহত হতে পারে বলে তারা মনে করছেন। অনেক ভোটারের প্রশ্ন—শেষ পর্যন্ত জোটের প্রকৃত ও চূড়ান্ত প্রার্থী কে হবেন?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত আসন সমঝোতায় না পৌঁছাতে পারলে এই বিভক্তি নির্বাচনে জোটের জন্য বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একই ভোটব্যাংকে একাধিক প্রার্থী থাকায় প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলো বাড়তি সুবিধা পেতে পারে।

তবে জোটভুক্ত প্রার্থীরা জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে, শেষ পর্যন্ত তারা সেটিই মেনে নেবেন এবং জোটের স্বার্থেই কাজ করবেন।


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকদের অবস্থান সর্বোচ্চ ১০ মিনিট: বরিশালের এসপি

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন বরিশালের নবাগত পুলিশ সুপার (এসপি) ফারজানা ইসলাম। তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী সাংবাদিকরা ভোটকেন্দ্রে সর্বোচ্চ ১০ মিনিট অবস্থান করতে পারবেন এবং গোপন কক্ষে প্রবেশের কোনো সুযোগ থাকবে না।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দুপুরে বরিশাল পুলিশ লাইন্সের গ্র্যাটিটিউট হলরুমে আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য তুলে ধরেন নবাগত এই পুলিশ সুপার। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, সাংবাদিকরা নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ স্টেকহোল্ডার হলেও ভোটের স্বচ্ছতা ও গোপনীয়তা রক্ষায় নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

সাংবাদিকদের জন্য যেসব বিধিনিষেধ

বরিশালের এসপি জানান—

  • ভোটকেন্দ্রের গোপন কক্ষে সাংবাদিকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ
  • ভোটকেন্দ্রে ১০ মিনিটের বেশি অবস্থান করা যাবে না
  • কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও নির্বাচনী এজেন্টদের সাক্ষাৎকার নেওয়া যাবে না
  • ভোটকেন্দ্রের ছবি তোলা যাবে, তবে লাইভ সম্প্রচার করা যাবে না

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনকালীন পরিবেশ শান্ত রাখতে এবং ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করতেই এসব নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির হালনাগাদ

পুলিশ সুপার ফারজানা ইসলাম জানান, গত ৩০ নভেম্বর থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত বরিশাল জেলায় মোট ৬১৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ২০১ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ভোট হবে ভোটের দিনেই

সংবাদ সম্মেলনে বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো. মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, “ভোট হবে দিনের ভোট দিনেই। যাঁর ভোট, তিনিই দেবেন। ভোটাররা সম্পূর্ণ নিরাপত্তার সঙ্গে কেন্দ্রে যেতে পারবেন।” তিনি আরও বলেন, ভোটার, প্রার্থী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবে এবং আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে বিশেষ ব্যবস্থা

অনুষ্ঠানে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান জানান, বিভাগজুড়ে ‘ডেভিল হান্ট অপারেশন’ চলমান রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, যৌথ বাহিনীর কার্যক্রম এবং বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, মহানগরীর ২৩টি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের শরীরে ‘বডি ওর্ন ক্যামেরা’ সংযুক্ত থাকবে। এতে ভোটকেন্দ্রের স্বচ্ছতা বাড়বে এবং যেকোনো বিশৃঙ্খলা দ্রুত শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতে নষ্ট হচ্ছে বোরো বীজতলা, চরম দুশ্চিন্তায় ভোলার কৃষকরা

ভোলায় কয়েকদিন ধরে চলমান শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশার কারণে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বোরো ধানের বীজতলা। বৈরী আবহাওয়ার প্রভাবে ধানের চারা লাল, হলুদ ও সাদা রঙ ধারণ করে শুকিয়ে যাচ্ছে। এতে বোরো আবাদ নিয়ে গভীর উদ্বেগে পড়েছেন কৃষকরা।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকালে জেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বোরো মৌসুমের শুরুতেই এমন পরিস্থিতিতে পড়ায় তারা বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। কয়েকদিনের মধ্যেই চারা রোপণের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা থাকলেও ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীত সেই সম্ভাবনাকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।

বীজতলা নষ্ট হয়ে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কা

দৌলতখান উপজেলার দক্ষিণ জয়নগর ইউনিয়নের পশ্চিম জয়নগর গ্রামের কৃষক সাইদুল রহমানমো. ইসমাইল জানান, তারা প্রত্যেকে ১৬ শতাংশ জমিতে বোরো বীজতলা তৈরি করেছিলেন। কিন্তু কয়েকদিনের শৈত্যপ্রবাহে তাদের বীজতলার অধিকাংশ চারাই নষ্ট হয়ে গেছে। চারাগুলো বিবর্ণ হয়ে ধীরে ধীরে মারা যাচ্ছে।

একই গ্রামের কৃষক আব্দুল আজিজ বলেন, এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে তিনি বীজতলা তৈরি করেছিলেন। তবে প্রচণ্ড ঠান্ডা ও কুয়াশার কারণে দুই দফা বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। পাঁচ-ছয় দিন আগে তৃতীয়বারের মতো বীজতলা তৈরি করেছেন তিনি। “এবারও যদি নষ্ট হয়, তাহলে ঋণের টাকা শোধ করাই অসম্ভব হয়ে যাবে,”—বলেছেন তিনি।

চারা সংকটে আবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা

ভোলা সদর উপজেলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নের কৃষক আনিছ ফরাজীমো. সবুজ জানান, এভাবে যদি বীজতলা নষ্ট হতে থাকে, তাহলে সামনে ধানের চারার মারাত্মক সংকট দেখা দেবে। এতে অনেক জমিতে বোরো আবাদ করা সম্ভব হবে না এবং কৃষকরা বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন।

কৃষি বিভাগের পরামর্শ

এ বিষয়ে ভোলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক খায়রুল ইসলাম মল্লিক বলেন, ভোলাসহ সারাদেশেই বর্তমানে শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নতুন করে বোরো বীজতলা না করার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, যেসব জমিতে ইতোমধ্যে বীজতলা রয়েছে, সেগুলো রক্ষায় রাতে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা, সঠিক পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কীটনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ভোলার সাত উপজেলায় ৩ হাজার ৯০৫ হেক্টর জমিতে বোরো বীজতলা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি হয়েছে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালের প্রায় ৮৭ হাজার প্রবাসীর ভোট পোস্টাল ব্যালটে

প্রবাসে অবস্থান করেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন বরিশাল বিভাগের বিপুলসংখ্যক নাগরিক। নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগের ছয় জেলা থেকে মোট ৮৬ হাজার ৭১৬ জন প্রবাসী ভোটার পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন।

এই সংখ্যার মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ৬৭ হাজার ৯১৫ জন এবং নারী ভোটার ১৮ হাজার ৮০১ জন। এছাড়া নিবন্ধন করেও যাচাই ও অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছেন আরও ৩৭৫ জন প্রবাসী

বরিশাল আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এটি দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রবাসীদের জন্য পোস্টাল ব্যালট চালু হওয়ায় ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, “প্রথম অভিজ্ঞতা হিসেবে অংশগ্রহণ সন্তোষজনক। প্রবাসীরা ভোটাধিকার প্রয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।”

জেলা ভিত্তিক নিবন্ধনের চিত্র

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী—

  • বরিশাল জেলা থেকে নিবন্ধন করেছেন ২৯ হাজার ৪৭৭ জন প্রবাসী। এর মধ্যে পুরুষ ২১ হাজার ৮২৮ জন এবং নারী ৭ হাজার ৬৪৯ জন
  • ভোলা জেলা থেকে নিবন্ধন করেছেন ১৪ হাজার ৮২৩ জন, পুরুষ ১২ হাজার ৮৫৪ জন, নারী ১ হাজার ৯৬৯ জন
  • পিরোজপুর থেকে নিবন্ধন ১১ হাজার ৮৩৪ জন,
  • পটুয়াখালী থেকে ১১ হাজার ৭৫৪ জন,
  • বরগুনা থেকে ১১ হাজার ৩২৭ জন,
  • ঝালকাঠি থেকে ৭ হাজার ৫০১ জন প্রবাসী ভোটার নিবন্ধিত হয়েছেন।

সংসদীয় আসনভিত্তিক হিসাব

বরিশালের ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে—

  • বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া): ৪,৫১৬ জন
  • বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া): ৫,১০৯ জন
  • বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী): ৪,৬৭২ জন
  • বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ): ৪,৪৭৮ জন
  • বরিশাল-৫ (সদর): ৬,৭৩৭ জন
  • বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ): ৩,৮৮৬ জন প্রবাসী ভোটার তালিকাভুক্ত হয়েছেন।

অন্যান্য পোস্টাল ভোটার

এছাড়াও পোস্টাল ব্যালটের আওতায় রয়েছেন ৫৭ হাজার ২৯৩ জন সরকারি চাকরিজীবী, নির্বাচনি কর্মকর্তা, কারাবন্দি এবং আনসার ও ভিডিপি সদস্য। এর মধ্যে সরকারি চাকরিজীবী ৪৩ হাজার ৭১৬ জন, নির্বাচনি কর্মকর্তা ১২ হাজার ৪৭৭ জন, আনসার ও ভিডিপি সদস্য ৭৫৪ জন এবং কারাবন্দি ৩৪৬ জন

নির্বাচন কমিশন জানায়, পোস্টাল ভোটে নিবন্ধিত ভোটারদের ঠিকানায় ডাকযোগে ব্যালট পাঠানো হবে। ভোট প্রদান শেষে নির্ধারিত ফিরতি খামের মাধ্যমে তা সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠাতে হবে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশাল কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে সেনা মোতায়েন, ফিরেছে শৃঙ্খলা ও স্বস্তি

বরিশাল মহানগরীর নথুল্লাবাদ এলাকায় অবস্থিত কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে সেনাবাহিনী মোতায়েনের পর পুরো এলাকায় যান চলাচল ও শৃঙ্খলা ব্যবস্থায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকেল থেকে সেনাবাহিনী ওই এলাকার সার্বিক দায়িত্ব গ্রহণ করে।

সেনা সদস্যরা দিনভর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের ভেতরে ও আশপাশের এলাকায় অবস্থান নিয়ে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। এর ফলে স্থানীয় ও দূরপাল্লার বাস চলাচল ছিল স্বাভাবিক ও সুশৃঙ্খল।

সেনা মোতায়েনের কারণে বরিশাল-ফরিদপুর-ঢাকা জাতীয় মহাসড়কের এই গুরুত্বপূর্ণ অংশে দিনভর কোনো উল্লেখযোগ্য যানজট দেখা যায়নি। যাত্রী ও সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে বাসে ওঠানামা করতে পেরেছেন এবং স্বাচ্ছন্দ্যে নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকা অতিক্রম করেছেন।

বাসযাত্রী ও পথচারীরা জানান, সেনাবাহিনীর উপস্থিতির কারণে চালক ও পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে। দীর্ঘদিন পর এই এলাকায় ভোগান্তিহীন চলাচল করতে পেরে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সাধারণত কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের একাধিক সদস্য দায়িত্ব পালন করলেও তাদের উদাসীনতা এবং কিছু চালকের আইন অমান্যের কারণে এলাকাটি প্রায়ই যানজট ও বিশৃঙ্খলার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতো। এতে নগরবাসী ও যাত্রীদের প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো।

সংশ্লিষ্টদের আশা, এ ধরনের উদ্যোগ নিয়মিত থাকলে বরিশালের অন্যতম ব্যস্ত এই টার্মিনাল এলাকায় স্থায়ীভাবে শৃঙ্খলা ও নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত হবে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম