পবিপ্রবির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে আবারও আত্মসাতের অভিযোগ

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার মো. ইউনুছ শরীফের বিরুদ্ধে আবারও সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। সর্বশেষ অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরের সামনে রাখা লক্ষাধিক টাকার টাইলস গোপনে সরিয়ে নিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২৬ সেপ্টেম্বর শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটির সময়ে ক্যাম্পাস প্রায় ফাঁকা থাকায় দুপুর আড়াইটার দিকে ইউনুছ শরীফ টাইলসগুলো সরিয়ে নেন। এ ঘটনায় কোনো প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষকে তিনি অবহিত করেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিসি ক্যামেরায় পুরো ঘটনাই ধরা পড়ে। প্রতিবেদকের হাতে এর ছবি ও ভিডিও ফুটেজও এসেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, উন্নয়ন প্রকল্প পরিচালকের দপ্তরের জন্য রাখা বিভিন্ন স্যাম্পলের ৫২০টি টাইলস তিনি দপ্তরের আরেক কর্মকর্তার সহায়তায় সরিয়ে নেন। এসব টাইলসের বাজারমূল্য লক্ষাধিক টাকা। ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কারণ, এর আগে ইউনুছ শরীফের বিরুদ্ধে এক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজশে নয়টি প্রকল্পে অনিয়মের মাধ্যমে প্রায় ৫৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছিল। সেই সময় তাঁকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে আত্মসাৎকৃত অর্থ ফেরত দেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আবুল বাশার খান বলেন,
“উপাচার্যের নির্দেশে টাইলস উদ্ধারের চেষ্টা করেছি। তবে সংখ্যার হিসাব ও গন্তব্য নিয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্যে গরমিল পাওয়া গেছে। এখনো টাইলস ফেরত বা বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।”

চলমান ৪৫১ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক মো. ওবায়দুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন,
“অফিস থেকে খবর পাই তিনি গোপনে টাইলস সরিয়ে নিয়েছেন। বিষয়টি জানতে ফোন করলে উল্টো আমাকে গালাগাল করেন। এর আগে তিনি আমাকে পদ ছাড়তে একাধিকবার হুমকি দিয়েছেন। এ নিয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগও করেছি।”

এ বিষয়ে জানতে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ইউনুছ শরীফকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

 মো: আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




রোহিঙ্গা ও আশ্রয়দাতাদের সহায়তায় ৫৮ মিলিয়ন ডলার দিচ্ছে এডিবি

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে চুক্তি করে মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ও তাদের আশ্রয়দাতা কক্সবাজারের স্থানীয়দের জন্য ৫৮.৬ মিলিয়ন ডলারের অনুদান এবং ২৮.১ মিলিয়ন ডলারের স্বল্পসুদে ঋণ প্রদান করবে। এই অর্থ মৌলিক অবকাঠামো ও জরুরি সেবা সম্প্রসারণে ব্যবহার হবে।

সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) কার্যালয়ে চুক্তি স্বাক্ষর করেন ইআরডি সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী এবং এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর হোয়ে ইউন জিয়ং।

এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর বলেন, “মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত ও তাদের আশ্রয়দাতা স্থানীয়দের স্থিতিশীলতা ও জীবিকা নির্বাহের সুযোগ জোরদারে বাংলাদেশকে সহায়তা করতে পেরে আমরা আনন্দিত। শরণার্থী শিবিরের বাসিন্দা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে সামাজিক সংহতি বৃদ্ধি করা হবে।”

প্রকল্পের আওতায় কক্সবাজার ও ভাসানচর এলাকায় পানি, স্যানিটেশন, স্বাস্থ্য, সড়ক-সেতু, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খাদ্য নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ এবং দুর্যোগ সহনশীলতা উন্নত ও সম্প্রসারিত করা হবে।

বিশেষ উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে,

  • কক্সবাজারে সোলার-পাওয়ারড স্ট্রিটলাইট স্থাপন/প্রতিস্থাপন
  • ভাসানচরে পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা পুনঃস্থাপন
  • রান্নার জন্য বায়োগ্যাস উৎপাদন সম্প্রসারণ
  • ক্ষুদ্র পাইপযুক্ত পানি সরবরাহ ব্যবস্থা কক্সবাজার ও ৯টি উপজেলায় চালু
  • হাতিয়ায় বহুমুখী সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ
  • পালংখালী ও উখিয়ায় ভূ-পৃষ্ঠস্থ পানি শোধনাগার নির্মাণ

বর্তমানে কক্সবাজারের ৩৩টি শিবিরে ১০ লাখেরও বেশি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা বাস করছে, যাদের মধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশ নারী ও শিশু। ভাসানচর শিবিরে ৩৬ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা স্বেচ্ছায় স্থানান্তরিত হয়েছে।

এই প্রকল্পের মাধ্যমে রোহিঙ্গা শিবির ও আশ্রয়দাতা স্থানীয়দের জন্য সামাজিক, স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনধারণ সুবিধা বৃদ্ধি পাবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




‘পিআর পদ্ধতির নির্বাচন চাইছে দেশের অধিকাংশ দল’

পিরোজপুরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পিরোজপুর জেলা শাখার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত গণ সমাবেশে দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দল প্রস্তাবিত সংখ্যানুপাতিক (পিআর) নির্বাচন পদ্ধতির পক্ষপাতী বলে মন্তব্য করেছেন সিনিয়র নায়েব আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম।

সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় পিরোজপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে অনুষ্ঠিত সমাবেশে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, জনগণের মতামত নিয়ে নির্বাচন পদ্ধতি নির্ধারণ করা হোক। সমীক্ষা অনুযায়ী, ৭১ শতাংশ মানুষ পিআর পদ্ধতির পক্ষে মত প্রদান করেছে।

ফয়জুল করীম বলেন, “পিআর পদ্ধতি চালু হলে একটি সুষম সংসদ গঠন হবে। বিশ্বের ৯১টি দেশে এটি কার্যকর, এবং নতুন করে আরও দেশ এই পদ্ধতির দিকে ঝুঁকছে। বর্তমানে প্রচলিত নির্বাচন পদ্ধতি কালো টাকার দৌরাত্ম্য, ভোট জালিয়াতি ও চাঁদাবাজির সুযোগ দেয়। তাই আমরা বাংলার মাটিতে আর এটি দেখতে চাই না।”

তিনি আরও বলেন, ছাত্র আন্দোলনের সময় অনেক শিক্ষার্থী জীবন হারিয়েছে বা অক্ষম হয়েছে। এ কারণে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচন ব্যবস্থার মৌলিক পরিবর্তন, হত্যাকাণ্ডের দৃশ্যমান বিচার এবং সংখ্যানুপাতিক পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন অপরিহার্য।

গণ সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী যারা ক্ষমতায় ছিল, তারা জনগণকে হতাশ করেছে। নতুন বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থায় কোনো স্বৈরশাসক, দুর্নীতিবাজ বা সন্ত্রাসী শ্রেণি ক্ষমতার অপব্যবহার করতে পারবে না। এজন্য মৌলিক রাষ্ট্র সংস্কার দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে এবং আগামী নির্বাচনে সংখ্যানুপাতিক পিআর পদ্ধতিতে ভোটের সুষ্ঠু মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ্ব নজরুল আহসান, ইসলামী যুবি আন্দোলন জেলা সভাপতি মুহাম্মাদ সাইদুল ইসলাম, জাতীয় ওলামা মাশায়েখ ও আইম্মা পরিষদ জেলা সভাপতি মাওলানা রফিকুল ইসলাম, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন জেলা সভাপতি মুহাম্মাদ তরিকুল ইসলাম, সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজ পিরোজপুর শাখার সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মাদ নাঈমুল ইসলাম সহ জেলা ও থানা নেতৃবৃন্দ।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




পিরোজপুরের ২ রেজিস্ট্রি অফিসে দুদকের অভিযান, জব্দ নগদ টাকা

অনিয়ম-দুর্নীতি, ঘুষ ও চেম্পারিংয়ের অভিযোগে পিরোজপুর জেলা রেজিস্ট্রি অফিস ও সদর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বেশ কিছু অভিযোগের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে জানিয়েছেন জেলা দুদক কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জাকির হোসেন।

দুদক সূত্র জানায়, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কর্মকর্তাদের মতো সরাসরি অফিস কক্ষে বসে প্রায় ৫০ জন নকলনবিশ সেবা দিয়ে আসছিলেন, যা নিয়মবহির্ভূত। অভিযানে নকলনবিশ মর্জিনা খানমের কাছ থেকে নগদ ৫০ হাজার এবং শিল্পি রানীর কাছ থেকে ১৭ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। মোট ৬৭ হাজার টাকা সন্দেহজনকভাবে জব্দ করা হয়েছে।

অভিযুক্ত মর্জিনা খানম (৪৩) সদর উপজেলার বাঁশবাড়িয়া গ্রামের মানিক সিকদারের স্ত্রী এবং শিল্পি রানী (৪৮) নাজিরপুর উপজেলার শ্যামল বড়ালের স্ত্রী। তারা দুজনই নকলনবিশ হিসেবে কর্মরত।

সহকারী পরিচালক জাকির হোসেন বলেন, “অভিযানে বেশ কিছু অনিয়ম ধরা পড়েছে। নকলনবিশরা নিয়ম ভেঙে কর্মকর্তাদের মতো কাজ করছিলেন। এছাড়া নগদ অর্থ জব্দ করা হয়েছে। এ বিষয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




গভীর নলকূপেও মিলছে না পানি, ঝালকাঠিতে সুপেয় জলের তীব্র সংকট

দিন দিন ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় গভীর নলকূপ থেকেও পানি উঠছে না। এতে ঝালকাঠি জুড়ে দেখা দিয়েছে সুপেয় পানির ভয়াবহ সংকট।

সরেজমিনে দেখা গেছে, এক কলসি পানি তুলতে আধা ঘণ্টার বেশি সময় লাগছে। নলকূপের ওপর পানি ঢেলে বা বারবার মেরামত করেও মিলছে না যথেষ্ট পানি। ঝিরিঝিরি করে যে পানি ওঠে, তা সংগ্রহে নারী-পুরুষ সবারই নাভিশ্বাস উঠে যাচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, আগে ৭ থেকে ৮’শ ফুট গভীরেই পানি মিলত, এখন এক হাজার ফুট খুঁড়লেও পর্যাপ্ত পানি ওঠে না। শহর থেকে গ্রাম সর্বত্রই মানুষ চরম ভোগান্তির মধ্যে রয়েছেন।

কামারপট্টির বাসিন্দা মনির হোসেন মিন্টু বলেন, “আধা ঘণ্টা চেষ্টা করেও অল্প পানি পাওয়া যাচ্ছে। এতে সুপেয় জলের মারাত্মক সংকট তৈরি হয়েছে।”

পরিবেশকর্মী মাহাবুব সৈকত বলেন, “পৌরসভার সরবরাহ করা পানি সবই ভূগর্ভস্থ। এটি শুধু পান করার কাজে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত। গোসল, ধোয়া-মোছা বা অন্য কাজে উপরিভাগের পানি সরবরাহ করা হলে সংকট অনেকটা লাঘব হবে।”

এ বিষয়ে জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার এরশাদুজ্জামান মৃদুল বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, কৃষিতে সেচ এবং শক্তিশালী মেশিনে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে। বিকল্প হিসেবে বৃষ্টির পানি, পুকুর ও জলাশয়ের পানি বিশুদ্ধ করে ব্যবহারের প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে।”

প্রসঙ্গত, ঝালকাঠি জেলার প্রায় ৭ লাখ মানুষ এখনো সুপেয় জলের জন্য গভীর নলকূপের ওপর নির্ভরশীল।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




মনপুরার চরাঞ্চলে শিক্ষক সংকটে থমকে শিক্ষা

ভোলার মনপুরা উপজেলার চরাঞ্চলের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। শিক্ষক সংকটের কারণে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে, ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে।

মনপুরার বিচ্ছিন্ন কলাতলি ইউনিয়নে রয়েছে ৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এসব বিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রায় ৫৫০ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। কিন্তু পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় পাঠদান কার্যক্রম সঠিকভাবে চলছে না।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১ নম্বর কলাতলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০৬ জন শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষক রয়েছেন মাত্র দুইজন। ৪২ নম্বর চর কলাতলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৮২ জন শিক্ষার্থীকে পড়াচ্ছেন দুই শিক্ষক। ৩ নম্বর মনপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৫৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষক আছেন তিনজন। আর ২২ নম্বর মাছুমাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১০৭ জন শিক্ষার্থীর জন্য চারজন শিক্ষক থাকলেও একজন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকায় কার্যত শিক্ষক সংকট বিদ্যমান।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলছে, নির্ধারিত সময়ে ক্লাস শুরু হয় না। অনেক সময় এক বা দুটি বিষয়ের বেশি পড়ানো সম্ভব হয় না। এতে পরীক্ষার প্রস্তুতিও ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বৃত্তি পরীক্ষার আগে যথাযথ পাঠ না পেয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে।

অভিভাবকরা জানাচ্ছেন, কলাতলির অধিকাংশ মানুষ জেলে ও কৃষক। আর্থিক সংকট ও যোগাযোগ সমস্যার কারণে সন্তানদের উপজেলা সদরে পাঠানো তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই সরকারের কাছে দ্রুত শিক্ষক সংকট দূর করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

১ নম্বর কলাতলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মঈন উদ্দিন বলেন, “মাত্র দুই শিক্ষক দিয়ে ২০৬ শিক্ষার্থীকে পড়ানো সম্ভব নয়। অনেক সময় প্রশাসনিক কাজে উপজেলা সদরে যেতে হয়, আবার সহকর্মী অসুস্থ হলে একজনকেই পুরো স্কুল চালাতে হয়। এতে শিক্ষার্থীরা সঠিকভাবে শিক্ষা পাচ্ছে না।”

৪২ নম্বর চর কলাতলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শুকবল চন্দ্র দাস বলেন, “আমরা মাত্র দুইজন শিক্ষক। একজন না থাকলে পুরো স্কুল সামলানো সম্ভব হয় না। এতে প্রাথমিক শিক্ষার মান ব্যাহত হচ্ছে।”

মনপুরা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান জানান, “বদলির কারণে শিক্ষক সংকট তৈরি হয়েছে। আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। শিগগিরই নতুন নিয়োগ এবং ডেপুটেশনের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে।”

শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও নিয়মিত পাঠ পাচ্ছে না। শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অবিলম্বে শিক্ষক নিয়োগ না দিলে মনপুরার চরাঞ্চলের শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ভোলায় কৃষি বিপ্লব,পতিত জমি নামমাত্র, আবাদে সাফল্যের গল্প

ভোলায় দিন দিন বাড়ছে কৃষি আবাদ, আর কমে আসছে পতিত জমির সংখ্যা। চলতি রবি মৌসুমে জেলার সাত উপজেলায় পতিত জমির পরিমাণ শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। কৃষকরা বলছেন, সরকারি সহায়তা ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির কারণে এখন প্রতিটি মৌসুমেই তারা জমিতে ফসল ফলাচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, চলতি মৌসুমে কৃষকরা আমন ধানের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করছেন। কেউ কেউ ইতোমধ্যে সবজি বিক্রিও শুরু করেছেন। জলাবদ্ধতার কারণে অনেক কৃষক জমি উঁচু করে পিরামিড ও মাচা পদ্ধতিতে সবজি আবাদ করছেন। এতে তারা ভালো ফলন পাচ্ছেন।

ভোলা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলার মোট কৃষিজমি রয়েছে ১ লাখ ৯২ হাজার ৩৮২ হেক্টর। এর মধ্যে ২০২৪-২৫ রবি মৌসুমে সবজিসহ গম, সরিষা, সয়াবিনের চাষ হয়েছে পুরো জমিতে। খরিপ-১ মৌসুমে চাষ হয়েছে ৭৫ হাজার ২ হেক্টর জমিতে, যা আগের মৌসুম থেকে ৩ হাজার হেক্টর বেশি। খরিপ-২ মৌসুমে চাষ হয়েছে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৮৮২ হেক্টর জমিতে, যা আগের তুলনায় প্রায় ৫ হাজার হেক্টর বেশি।

কৃষকরা জানাচ্ছেন, কৃষি অফিস থেকে বীজ, সার ও প্রণোদনা পেয়ে তারা এখন রবি মৌসুমেও চাষাবাদে আগ্রহী হয়েছেন। ভোলা সদর, দৌলতখান, বোরহানউদ্দিন, চরফ্যাশন, মনপুরা, লালমোহন ও তজুমদ্দিন—সব উপজেলাতেই একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

ভেদুরিয়ার কৃষক বজলুল হক জানান, আগে রবি মৌসুমে জমি খালি থাকলেও এখন তিনি বিভিন্ন ফসল আবাদ করছেন। চরফ্যাশনের কৃষক সাহাবুদ্দিন বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে আগে জমিতে ফসল ফলানো যেত না, কিন্তু এবার মাচা পদ্ধতিতে সবজি চাষ করে লাভবান হচ্ছেন।

ভোলা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. খাইরুল ইসলাম মল্লিক বলেন, “এই মৌসুমে কোনো জমি খালি থাকবে না। পাশাপাশি খরিপ-১ ও খরিপ-২ মৌসুমেও চাষের পরিমাণ বাড়ানো হবে। এজন্য কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হবে।”

কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃষকদের আগ্রহ ও সরকারি সহায়তা অব্যাহত থাকলে ভোলা আগামীতে দেশের অন্যতম কৃষি উৎপাদনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বাউফলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করলেন সাবেক এমপি শহিদুল আলম তালুকদার

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রস্তাবিত ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও আসন্ন দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন সাবেক এমপি শহিদুল আলম তালুকদার। রোববার রাতে বাউফল প্রেসক্লাবের বীর উত্তম সামসুল আলম তালুকদার মিলনায়তনে আয়োজিত এ সভায় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে সাবেক এমপি (পটুয়াখালী-২) শহিদুল আলম তালুকদার বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগ জাতি কখনো ভুলবে না। তিনি তাঁদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। পাশাপাশি তিনি সাংবাদিকদের মাধ্যমে বাউফলে বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আহ্বান জানান, তারেক রহমান কর্তৃক ঘোষিত রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা জনগণের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কমিটি গঠনের মাধ্যমে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। জনগণের সাথে প্রত্যক্ষ যোগাযোগের মাধ্যমে দফাগুলো তুলে ধরার কাজে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা এগিয়ে আসছেন।

শহিদুল আলম তালুকদার আরও বলেন, বাউফলে শারদীয় দুর্গাপূজা উৎসবকে শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও আনন্দঘন করতে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন। তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসবে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

মতবিনিময় সভায় উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক তসলিম তালুকদার, পৌর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহজাহান হাওলাদার, পৌর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আবদুল্লাহ আল ফাহাদসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ধর্মকে রাজনীতির হাতিয়ার বানানো দেশের জন্য হুমকি : রহমাতুল্লাহ

ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারকারীরা দেশের শত্রু বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ।

সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বরিশাল সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন মন্দিরে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় ও শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “কোনো দেশপ্রেমিক শক্তি ক্ষমতায় যাওয়ার হাতিয়ার হিসেবে ধর্মকে ব্যবহার করতে পারে না। প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় অধিকার সংবিধান দ্বারা স্বীকৃত। জনগণের সামনে যার যার রাজনৈতিক দর্শন তুলে ধরলে জনগণই ঠিক করবে কাকে তারা তাদের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করবে।”

তিনি আরও বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিছু রাজনৈতিক দল ধর্মভিত্তিক জোট গঠন করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে, যা দেশের জন্য দুঃখজনক। বাংলাদেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ হলেও ধর্মান্ধ নয়, তাই তারা ধর্মীয় বিভাজনের ফাঁদে পা দেবে না।

রহমাতুল্লাহ আরও উল্লেখ করেন, “বাংলাদেশে মুসলমান ও সনাতন ধর্মাবলম্বীরা একে অপরের উৎসবে আন্তরিকভাবে অংশগ্রহণ করেন। ধর্মীয় উৎসবকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা একেবারেই অনুচিত।”

এ সময় বিএনপির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন মন্দির কমিটির সভাপতি-সম্পাদকসহ সনাতন ধর্মাবলম্বী প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




৫৪ বছর পর আমতলীতে শহীদ মিনার নির্মাণ, তিন মাসেই উদ্যোগ ইউএনও’র

স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও বরগুনার আমতলীতে শহীদ মিনার, স্মৃতিসৌধ ও মুক্ত মঞ্চের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নির্মাণ হয়নি। তবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র তিন মাসের মধ্যেই এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে দৃঢ় পদক্ষেপ নিয়েছেন নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রোকনুজ্জামান খান।

দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়রা এসব স্থাপনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন, কিন্তু প্রশাসন কিংবা জনপ্রতিনিধিরা এ বিষয়ে উদ্যোগ নেননি। আমতলীতে যোগদানের পর প্রথম পরিচিতি সভাতেই স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে ইউএনও প্রতিশ্রুতি দেন দ্রুত এসব স্থাপনা নির্মাণের। এরপর থেকেই একে একে প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু হয়।

ইতোমধ্যে একটি প্রকল্প উদ্বোধন হয়েছে, আরেকটি উদ্বোধনের অপেক্ষায় আছে চলতি মাসের ৩০ তারিখ। মোট ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে শহীদ মিনার, স্মৃতিসৌধ, মুক্ত মঞ্চ, অফিসার্স ক্লাব, উপজেলা পরিষদ মিলনায়তন, শিশু পার্ক সংস্কার ও নতুন রাইড স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলছে।

উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইদ্রিস আলী জানান, ইউএনও’র আন্তরিক প্রচেষ্টা ও প্রকৌশল বিভাগের তত্ত্বাবধানে অল্প সময়ে এসব কাজ সম্পন্ন হচ্ছে। তিনি বলেন, “একটি প্রকল্প উদ্বোধন হয়েছে, আরেকটি উদ্বোধন হবে শিগগিরই।”

ইউএনও মো. রোকনুজ্জামান খান বলেন, “আমতলীতে যোগদানের পর স্থানীয়রা পাঁচটি প্রকল্পের দাবি জানান। আমি গুরুত্ব বুঝে দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছি। এর সুফল অচিরেই জনগণ ভোগ করবে।”

স্থানীয়রা আশা করছেন, বহু প্রতীক্ষিত এই উদ্যোগে আমতলী উপজেলার সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে নতুন প্রাণ সঞ্চার হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫