গৌরনদীতে বাসের ধাক্কায় পথচারীর মৃত্যু

বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের আশোকাঠী ফিলিং স্টেশনের সামনে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় রশিদ মোহরী (৫৫) নামে এক পথচারী নিহত হয়েছেন। শনিবার (৪ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

গৌরনদী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. বিপুল হোসেন জানান, খবর পাওয়ার পরপরই তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুরুতর আহত রশিদ মোহরীকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

গৌরনদী হাইওয়ে থানার ওসি মো. আমিনুর রহমান জানান, মহাসড়ক পারাপারের সময় ঢাকাগামী ‘সেভেন স্টার পরিবহন’ বাসটি পথচারীকে ধাক্কা দেয়। দুর্ঘটনার পর চালক বাসটি ফেলে পালিয়ে যায়। পুলিশ বাসটি জব্দ করে থানায় নিয়ে এসেছে এবং চালকের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

দুর্ঘটনার কারণে মহাসড়কে সাময়িক যানজট সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, মহাসড়কের অব্যবস্থাপনা এবং গাড়ির অতিরিক্ত গতি বারবার মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




পটুয়াখালীতে কিশোর গ্যাংয়ের চার সদস্য আটক

পটুয়াখালী সদর থানার পুলিশ শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে চার কিশোর গ্যাং সদস্যকে আটক করেছে। শুক্রবার রাতের এ অভিযানে গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ভয়ভীতি, চাঁদাবাজি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছিল বলে জানা গেছে।

আটককৃতরা হলো— তালহা মৃধা (২০), মো. আল কাইয়ুম রিফাত (২১), মো. নাজমুল হাসান (১৯) এবং মো. সিয়াম সিকদার ওরফে আকাশ (১৯)। এরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ভাইরাল করার ভয় দেখিয়ে লোকজনের কাছ থেকে অর্থ আদায় করত বলে অভিযোগ উঠেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী এক ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতে সদর থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান পরিচালনা করে চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করে। তদন্তে আরও জানা গেছে, এ গ্যাং দীর্ঘদিন ধরে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে আসছিল। তাদের কারণে সাধারণ মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছিলেন।

পটুয়াখালী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইমতিয়াজ বলেন, “কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে আমরা শূন্য সহনশীল নীতি অবলম্বন করেছি। শহরের শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

তিনি আরও জানান, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে শনিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পটুয়াখালী শহরের স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশি এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “এমন অভিযান নিয়মিত চালানো হলে এলাকায় শান্তি ফিরে আসবে।”

শেষ পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য কমবে বলে আশাবাদী সাধারণ মানুষ।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




২৭ লাখ টাকার সেতু, অথচ উঠতে হয় মই দিয়ে

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের বাশাইল এলাকায় ২৭ লাখ ৭৯ হাজার ৬১৮ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতু ব্যবহার করতে এলাকাবাসী ও স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের বাধ্য হয়ে বাঁশের মই ব্যবহার করতে হচ্ছে। সেতু নির্মাণের পরও সংযোগ রাস্তা না থাকায় তারা সেতুর পূর্ণ সুবিধা পাচ্ছেন না। বর্ষা মৌসুমে সেতুর নিচের অংশ পানির তলায় তলিয়ে যায়, আর শুকনো মৌসুমে দুইপাশের মই বেয়ে সেতু পারাপার করতে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থী ও বয়স্ক ব্যক্তিদের। প্রায়ই মানুষ মই বেয়ে সেতু পারাপারে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।

বাশাইল কলেজের ছাত্রী ফাতেমা আক্তার জানান, “মই বেয়ে সেতু পারাপার করা আমাদের জন্য খুবই কষ্টসাধ্য। তবুও অন্য কোনো উপায় না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেতু পার হতে হচ্ছে।”

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের গ্রামীণ রাস্তায় সেতু/কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ২০২৩ সালের ১২ এপ্রিল বাশাইল এলাকার ওয়াপদা খালের ওপর সেতু নির্মাণের জন্য দরপত্র আহবান করা হয়। মুলাদী উপজেলার বান্দ রোডের মেসার্স পাপ্পু এন্টারপ্রাইজ নামের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কাজটি পেয়ে ২০২৩ সালের ৬ আগস্ট নির্মাণ কাজ শুরু করে। চলতি বছরের মার্চে কাজ শেষ করা হলেও সংযোগ রাস্তা নির্মাণ করা হয়নি।

স্থানীয় একাধিক জনপ্রতিনিধি জানান, সেতু নির্মাণের ছয় মাস অতিবাহিত হলেও দুইপাশের এ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ হয়নি। ফলে জনগুরুত্বপূর্ণ এই সেতু দিয়ে প্রতিদিন শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীকে বাঁশের মই বেয়ে পারাপার হতে হচ্ছে।

ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স পাপ্পু এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. বাদল হোসেন বলেন, “আমার প্রতিষ্ঠানের নামে কাজ হলেও প্রকৃত কাজ করেছে অন্য কেউ। যারা কাজ করেছেন তাদের সাথে যোগাযোগ করে এ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আগৈলঝাড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা অয়ন সাহা জানিয়েছেন, “সেতুর টেন্ডার আমার আগমনের পূর্বে হয়েছে। আমি সরেজমিন পরিদর্শন করে যত দ্রুত সম্ভব সংযোগ সড়ক নির্মাণের ব্যবস্থা করব।”

ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা দ্রুত সময়ে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে সেতুটি ব্যবহার উপযোগী করার জন্য সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বিয়ের আগের রাতে তরুণের ঝুলন্ত মরদেহে স্তব্ধ দশমিনা

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় বিয়ের আগের রাতে মো. শুভ দ্বীন ইসলাম (২৬) নামের এক তরুণের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের মীর মদন গ্রামে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। শুভ ওই গ্রামের প্রবাসী নুরুল ইসলামের ছেলে। শুক্রবার বাদ আসর তাঁর বিয়ের দিন ধার্য ছিল।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিয়ের প্রস্তুতি ঘিরে গত কয়েকদিন ধরে শুভ ছিলেন ভীষণ ব্যস্ত। বাড়ির সাজসজ্জা থেকে শুরু করে অতিথি আপ্যায়নের নানা আয়োজন তিনিই তত্ত্বাবধান করেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাড়িতে আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের উপস্থিতিতে ছিল উৎসবের আমেজ। নাচ-গান আর আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ভরে ওঠে বাড়ির আঙিনা, সেখানে শুভও অংশ নিয়েছিলেন। তবে কিছুক্ষণ পর হঠাৎই তিনি নিজের চায়ের দোকানের দিকে চলে যান। দীর্ঘ সময়েও ফেরত না আসায় পরিবারের সদস্যরা খুঁজতে গিয়ে দোকানের আড়ার সঙ্গে তাঁর ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান।

চিৎকার শুনে আত্মীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে আনার আগেই শুভর মৃত্যু হয়েছে। তাঁর গলায় দড়ির স্পষ্ট চিহ্ন ছিল।

শুভর দাদা আবদুর রব হাওলাদার জানান, “বিয়ের ব্যাপারে শুভর কোনো আপত্তি ছিল না। বরং সে-ই সব আয়োজন করছিল। হঠাৎ করে কেন এমন করল, আমরা কেউই বুঝতে পারছি না।” শুভর মামাতো ভাই মো. রাবিনও একই কথা বলেন, তিনি জানান, সন্ধ্যা পর্যন্ত শুভ হাসি-আনন্দে সবার সঙ্গে মেতে ছিলেন।

দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল আলীম বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে পটুয়াখালী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।”

ঘটনার পর পুরো গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। আনন্দঘন বিয়ের আয়োজন এক মুহূর্তে পরিণত হয়েছে বিষাদে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




দুমকিতে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষার প্রস্তুতি, নদীতে নামতে জেলেদের সরব আয়োজন

দেশব্যাপী মা-ইলিশ রক্ষায় সরকারের ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার বিভিন্ন নদীতে চলছে শিকারের প্রস্তুতি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকে জেলেরা জাল-নৌকা মেরামত ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

সরকারি নির্দেশনায় ৪ অক্টোবর থেকে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের সব নদীতে ইলিশ ধরা, মজুদ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণ নিষিদ্ধ। কিন্তু দুমকির পায়রা, লোহালিয়া, পান্ডব ও পাতাবুনিয়া নদীর বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক নৌকা ইতোমধ্যেই প্রস্তুত রাখা হয়েছে। লোহালিয়ার বাহেরচর, আংগারিয়া, পাতাবুনিয়া, পাংসিঘাট, পায়রার লেবুখালী, আলগি, হাজিরহাট ও রাজগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলে পল্লীতে বিকল্প জাল ও নৌকার ব্যবস্থাও করে রেখেছেন তারা।

স্থানীয় কয়েকজন জেলে জানান, ভিজিএফ চালের বরাদ্দ পর্যাপ্ত নয়। ফলে পরিবার চালাতে বাধ্য হয়ে তারা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে নামার পরিকল্পনা করছেন। তাদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত বিকল্প কর্মসংস্থান বা সহায়তা না থাকায় জীবিকার টানেই তারা এমন ঝুঁকি নিচ্ছেন।

এদিকে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান জানিয়েছেন, মা-ইলিশ সংরক্ষণে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, জাল ও নৌকা জব্দসহ আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সচেতন মহলের মতে, জেলেদের জন্য সহায়তা ও বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না হলে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা কঠিন হয়ে পড়বে। এতে একদিকে ইলিশের প্রজনন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি নদী তীরবর্তী মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে পড়তে পারে।


মো:আল-আমিন



পটুয়াখালীতে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় শারদীয় দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত হলো বহু প্রতীক্ষিত নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা। বৃহস্পতিবার দুপুরে সদর ইউনিয়নের নিবারণ কবিরাজ বাড়ির দীঘিতে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ অর্ধশতাব্দী ধরে বিজয়া দশমীর দিনে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে, যা স্থানীয় মানুষের জন্য আনন্দ-উৎসবের অন্যতম অনুষঙ্গ।

এবারের নৌকা বাইচে ছয়টি দল অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন হাজারো দর্শক। নৌকা বাইচ শেষে হাসেম ফকিরের দল প্রথম স্থান অর্জন করে। শাহ আলমের দল দ্বিতীয় এবং লাল মিয়ার দল তৃতীয় স্থান লাভ করে।

পুরস্কার হিসেবে বিজয়ী দলকে একটি ডিপ ফ্রিজ দেওয়া হয়। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দলকে দেওয়া হয় দুটি এলইডি টেলিভিশন। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানকে ঘিরে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন নিবারণ কবিরাজ বাড়ি পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি শ্রী শুভময় কৃষ্ণ দাস।

এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জুয়েল রানা, দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইরতিজা হাসান, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও পটুয়াখালী-৩ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী হাসান মামুন, দশমিনা থানার ওসি আব্দুল আলীম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল আলীম তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম শানু সিকদার, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ফখরুজ্জামান বাদল ও অ্যাডভোকেট এনামুল হক রতনসহ অনেকে।

নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন উপজেলা ছাত্রদল নেতা আবুল বশার। স্থানীয়রা জানান, এই আয়োজন শুধু বিনোদনেরই নয়, বরং ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে জীবন্ত রাখার একটি অনন্য দৃষ্টান্ত। প্রতি বছর এ আয়োজনে অংশ নিতে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করেন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীতে দুর্গাপূজায় সংবাদ সংগ্রহকালে সাংবাদিক হেনস্তা

পটুয়াখালী শহরের শ্রীশ্রী মদনমোহন জিউর মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজা চলাকালে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হেনস্তার শিকার হয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক সুনান বিন মাহাবুব। বৃহস্পতিবার রাতে পূজামণ্ডপে সরাসরি সংবাদ সংগ্রহের সময় এই ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পূজা মণ্ডপের পরিবেশ ও সার্বিক আয়োজন নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করার সময় হঠাৎ একদল ব্যক্তি সাংবাদিকের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। তারা তার হাতে থাকা মুঠোফোন কেড়ে নেয় এবং তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করে।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক সুনান বিন মাহাবুব বলেন, “আমি শুধু দায়িত্ব পালন করছিলাম। পূজার পরিবেশ ও আয়োজন কভার করার সময় হঠাৎ কয়েকজন এসে আমার ফোন কেড়ে নেয় ও অপ্রত্যাশিতভাবে হেনস্তা করে। আমি তাৎক্ষণিকভাবে পূজা উৎযাপন কমিটির একাধিক সদস্যকে বিষয়টি জানিয়েছিলাম, কিন্তু তারা দায়িত্ব নিতে এড়িয়ে যান।”

এ ঘটনায় পটুয়াখালীর বেশ কয়েকজন সিনিয়র সাংবাদিক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে সংবাদকর্মীর উপর এমন আচরণ শুধু নিন্দনীয়ই নয়, বরং সাংবাদিকতার স্বাধীনতার জন্য হুমকি। অবিলম্বে দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

অন্যদিকে, পূজা উৎযাপন কমিটির কয়েকজন দায়িত্বশীল সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে ভবিষ্যতে সাংবাদিকরা তাদের স্বাভাবিক দায়িত্ব পালনে নিরুৎসাহিত হয়ে পড়বেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




নদী পথে কোস্টগার্ড টহল জোরদার, কোস্টগার্ড মহাপরিচালক

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : বুধবার (১ অক্টোবর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ শহরের রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক বলেছেন, শারদীয় দুর্গাপূজার প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত নদীপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোস্টগার্ড সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকবে।

প্রতিমা বিসর্জনের স্থান গুলোতে সম্ভাব্য দুর্ঘটনা মোকাবেলায় কোস্টগার্ডের বিশেষ ডুবুরি দল প্রস্তুত রয়েছে। এ ছাড়া যে কোনো দুর্ঘটনা রোধে জনসচেতনতা মূলক কার্যক্রমসহ সার্বক্ষণিক টহল চলছে। প্রতিমা বিসর্জনের সময় কোথাও যাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয় তার জন্য সচেতন থাকতে সনাতন ধর্মাবলম্বী সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

কোস্টগার্ড মহাপরিচালক আরো বলেন, ‘ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামসহ দেশের নদী তীরবর্তী উপকূলীয় এলাকাগুলোর মন্দির ও পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোস্টগার্ড শুরু থেকেই কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আগামীকাল বিজয়া দশমীর দিন প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত সনাতন ধর্মীয় উৎসবটি শান্তিপূর্ণ, প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হবে বলে আমরা আশা প্রকাশ করছি। তবে প্রতিমা বিসর্জনের সময় নৌকায় যাতে অতিরিক্ত লোক উঠানো না হয় এবং যারা সাঁতার জানেন না তারা যেন কেউ নৌকায় না উঠেন সে বিষয়টি সবাইকে লক্ষ্য রাখতে হবে।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন রামকৃষ্ণ মিশনের মহারাজ স্বামী একনাথা নন্দ, পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি শংকর কুমার দে, সাধু নাগ মহাশয় আশ্রমের সভাপতি বাবু তারাপদ আচার্য্য সহ কোস্টগার্ড ও জেলা পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং জেলা ও মহানগর পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ।

 




গভীর নিম্নচাপ উত্তাল সাগর, সমুদ্রবন্দর সমুহে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত জারি

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এর প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

বৃহস্পতিবার সকালে আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক স্বাক্ষরিত আবহাওয়া অধিদপ্তরের ৩ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘণীভূত হয়ে পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় গভীর নিম্নচাপে (১৬.৯° উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৬.০° পূর্ব দ্রাঘিমাংশ) পরিণত হয়েছে। এটি আজ সকাল ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৭৫ কি.মি. দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৩০ কি.মি. দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৩৫ কি.মি. দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৪০ কি.মি. দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল।

এটি আরও উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা ও সমুদ্রবন্দরসমূহের ওপর দিয়ে দমকা/ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

এতে আরও বলা হয়েছে, নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৮ কি.মি. এর মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কি.মি., যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৬০ কি.মি. পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে।

এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরসমূহকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

 




যুক্তরাজ্যের সভাপতি এমএ মালিককে সতর্ক করল বিএনপি

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও যুক্তরাজ্যের সভাপতি এমএ মালিককে সতর্ক করেছে বিএনপি।

বুধবার বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে চিঠি দিয়ে তাকে সতর্ক করা হয়। বিএনপির একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

চিঠিতে বলা হয়, ‘আপনি বিদেশ থেকে দেশে আসা-যাওয়ার সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বা সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে আপনাকে স্বাগত ও বিদায় জানানোর সময় লোকসমাগম করেন; যা অপরিণামদর্শী কাজ ও তাতে জনদুর্ভোগ তীব্রতর হয়। আপনার অবিবেচনাপ্রসূত এই কর্মকাণ্ডে বিমানবন্দরে অসংখ্য যাত্রীকে বিড়ম্বনা ও কষ্টকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয়। ইতোপূর্বেও আপনি বিমানবন্দরে মাত্রাতিরিক্ত লোকসমাগম ঘটিয়ে বিমানবন্দর এলাকার আশপাশের সড়কগুলোতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি করেছেন। দলের একজন দায়িত্বশীল নেতা হিসেবে আপনার এ ধরনের লোকসমাগম সাংগঠনিক নীতির পরিপন্থি; যা দৃষ্টিকটু ও জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে’।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘এখন থেকে আপনার দেশে আসা ও বিদেশে যাওয়ার সময় বিমানবন্দরগুলোতে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে- এমন লোক সমাগম ঘটালে বিএনপি আপনার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণে বাধ্য হবে’।

প্রসঙ্গত, গত সোমবার যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফেরেন এমএ মালিক। এ সময় ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হাজারো নেতাকর্মী বিভিন্ন ব্যানার, প্ল্যাকার্ড ও স্লোগান দিয়ে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। বুধবার বিকালে বিমানে নিজ এলাকা সিলেটে যান। এ সময়ও সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত ও বিদায় জানাতে লোকসমাগম হয়।