বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের বাশাইল এলাকায় ২৭ লাখ ৭৯ হাজার ৬১৮ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতু ব্যবহার করতে এলাকাবাসী ও স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের বাধ্য হয়ে বাঁশের মই ব্যবহার করতে হচ্ছে। সেতু নির্মাণের পরও সংযোগ রাস্তা না থাকায় তারা সেতুর পূর্ণ সুবিধা পাচ্ছেন না। বর্ষা মৌসুমে সেতুর নিচের অংশ পানির তলায় তলিয়ে যায়, আর শুকনো মৌসুমে দুইপাশের মই বেয়ে সেতু পারাপার করতে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থী ও বয়স্ক ব্যক্তিদের। প্রায়ই মানুষ মই বেয়ে সেতু পারাপারে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।
বাশাইল কলেজের ছাত্রী ফাতেমা আক্তার জানান, “মই বেয়ে সেতু পারাপার করা আমাদের জন্য খুবই কষ্টসাধ্য। তবুও অন্য কোনো উপায় না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেতু পার হতে হচ্ছে।”
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের গ্রামীণ রাস্তায় সেতু/কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ২০২৩ সালের ১২ এপ্রিল বাশাইল এলাকার ওয়াপদা খালের ওপর সেতু নির্মাণের জন্য দরপত্র আহবান করা হয়। মুলাদী উপজেলার বান্দ রোডের মেসার্স পাপ্পু এন্টারপ্রাইজ নামের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কাজটি পেয়ে ২০২৩ সালের ৬ আগস্ট নির্মাণ কাজ শুরু করে। চলতি বছরের মার্চে কাজ শেষ করা হলেও সংযোগ রাস্তা নির্মাণ করা হয়নি।
স্থানীয় একাধিক জনপ্রতিনিধি জানান, সেতু নির্মাণের ছয় মাস অতিবাহিত হলেও দুইপাশের এ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ হয়নি। ফলে জনগুরুত্বপূর্ণ এই সেতু দিয়ে প্রতিদিন শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীকে বাঁশের মই বেয়ে পারাপার হতে হচ্ছে।
ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স পাপ্পু এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. বাদল হোসেন বলেন, “আমার প্রতিষ্ঠানের নামে কাজ হলেও প্রকৃত কাজ করেছে অন্য কেউ। যারা কাজ করেছেন তাদের সাথে যোগাযোগ করে এ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আগৈলঝাড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা অয়ন সাহা জানিয়েছেন, “সেতুর টেন্ডার আমার আগমনের পূর্বে হয়েছে। আমি সরেজমিন পরিদর্শন করে যত দ্রুত সম্ভব সংযোগ সড়ক নির্মাণের ব্যবস্থা করব।”
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা দ্রুত সময়ে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে সেতুটি ব্যবহার উপযোগী করার জন্য সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫