গভীর সমুদ্রে নিখোঁজ পটুয়াখালীর পাঁচ জেলে, ৭ দিনেও সন্ধান মেলেনি

পটুয়াখালীর মহিপুর থানার ধূলাসার ইউনিয়নের নতুনপাড়া গ্রামের পাঁচ জেলে গভীর সমুদ্রে মাছ শিকারে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন। নিখোঁজের সাত দিন পার হলেও এখনো তাদের কোনো সন্ধান মেলেনি।

নিখোঁজরা হলেন — মিলন বিশ্বাস, মিরাজ বিশ্বাস, রায়হান হাওলাদার, কাইউমইউনুস

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ সেপ্টেম্বর ভোরে নতুনপাড়া জেলেঘাট থেকে লাল রঙের একটি ফাইবার নৌকা নিয়ে তারা বঙ্গোপসাগরের উদ্দেশে রওনা দেন। সর্বশেষ ১ অক্টোবর তাদের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ হয়। এরপর থেকে তাদের কারও সঙ্গে কোনো যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।

নিখোঁজ জেলে মিলন বিশ্বাসের ভাই মুস্তাকিন বিশ্বাস বলেন, “আমার ভাইসহ আরও চারজন জেলে মাছ ধরতে সমুদ্রে যায়। সাধারণত দুই দিন পরপর ফিরে আসে তারা। কিন্তু এবার ৭ দিন কেটে গেলেও কোনো খবর নেই তাদের। হয়তো নিম্নচাপের প্রভাবে নৌকাটি ডুবে গেছে অথবা ইঞ্জিন বিকল হয়ে ভেসে আছে কোথাও।”

স্থানীয় মহাজন সগীর বুড়া জানান, “নৌকাটিতে আমার কিছু দাদনের টাকা বিনিয়োগ ছিল। তাদের কোনো খোঁজ না মেলায় আমিও চিন্তায় আছি। পরিবারগুলোর অবস্থা এখন খুবই করুণ।”

অন্যদিকে স্থানীয় জেলে জাকির বলেন, “নিখোঁজদের খোঁজে আশপাশের নৌকাগুলোকে সমুদ্রে পাঠানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। বিষয়টি কোস্টগার্ড ও প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।”

কুয়াকাটা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বিকাশ মণ্ডল জানান, “গত ২৮ সেপ্টেম্বর পাঁচ জেলে সমুদ্রে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন। তাদের পরিবার মহিপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি এবং কোস্টগার্ডের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি।”

এদিকে, সমুদ্রে নিম্নচাপ ও মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় নতুনপাড়া ও আশপাশের জেলে গ্রামগুলোতে শোক ও উদ্বেগ নেমে এসেছে। পরিবারগুলো প্রিয়জনদের ফিরে পাওয়ার আশায় প্রতিদিন ঘাটে অপেক্ষা করছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




দুমকিতে অবৈধ কারেন্ট জাল বিক্রির সময় দু’জন আটক, এক মাসের কারাদণ্ড

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় অবৈধ কারেন্ট জাল ক্রয়-বিক্রয়ের সময় দু’জনকে হাতেনাতে আটক করেছে উপজেলা মৎস্য বিভাগ ও থানা পুলিশ। শনিবার (৪ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার পাংগাশিয়া ইউনিয়নের আলগী গ্রামে যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলেন — কাইয়ুম ফরাজী (৩০), পিতা খলিল ফরাজী, এবং মনির খান (৪০), পিতা হাকিম খান। স্থানীয়দের দেওয়া সংবাদের ভিত্তিতে মৎস্য বিভাগ ও পুলিশের যৌথ দল অভিযান চালিয়ে অবৈধ কারেন্ট জালসহ তাদের আটক করে।

পরে আটক দুজনকে দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ‘মৎস্য সংরক্ষণ আইন ১৯৫০’-এর আওতায় তাদের প্রত্যেককে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।

দুমকি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান বলেন, “মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের অংশ হিসেবে নদী ও বাজার এলাকায় নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অবৈধ জাল ব্যবহার বা বিক্রির সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মৎস্য বিভাগের এই ধারাবাহিক অভিযানের ফলে স্থানীয় জেলেদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া দেখা দিয়েছে বলে জানান তিনি।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কলাপাড়ায় প্রশাসনের মানবিক উদ্যোগে টেটাবিদ্ধ কুকুরের প্রাণরক্ষা

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার চাকামাইয়া ইউনিয়নের নিশানবাড়িয়া গ্রামে এক হৃদয়বিদারক ঘটনার জন্ম দেয় এক অজ্ঞাত ব্যক্তি। নির্মমভাবে টেটা (বর্শার মতো মাছ ধরার যন্ত্র) দিয়ে একটি নিরীহ কুকুরকে আঘাত করে গুরুতর আহত করা হয়। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে মানবিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জনাব ইয়াসিন সাদেক

তিনি ঘটনাটি দ্রুত নজরে এনে স্বেচ্ছাসেবী প্রাণিকল্যাণ ও পরিবেশবাদী সংগঠন “অ্যানিমেল লাভার্স অব পটুয়াখালী”-কে কুকুরটির চিকিৎসার নির্দেশ দেন এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের নির্দেশ দেন।

সংগঠনটির প্রাণী চিকিৎসা সদস্য মো. কাওসার ওরফে হৃদয় জানান, “খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি কুকুরটি পুকুরপাড়ে টেটাবিদ্ধ হয়ে কাতরাচ্ছে। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কলাপাড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতালের নিয়ে যাই।” সেখানে চিকিৎসা শেষে রাত ১০টার দিকে কুকুরটিকে নিজ হেফাজতে নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে কুকুরটি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে এবং চিকিৎসা ও যত্ন অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জনাব ইয়াসিন সাদেক বলেন, “বায়েজিদ মুন্সী ঘটনাটি জানালে আমি সঙ্গে সঙ্গে প্রাণিসম্পদ বিভাগের সহকর্মীদের সহযোগিতা চাই। পরে অ্যানিমেল লাভার্স অব পটুয়াখালী এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে আহত কুকুরটির সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “প্রাণী আমাদের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের অপরিহার্য অংশ। তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ মানবতার প্রকৃত প্রকাশ। কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসন ভবিষ্যতেও প্রাণিকল্যাণ, সচেতনতা বৃদ্ধি ও উদ্ধার কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাবে।”

প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ এবং প্রাণিপ্রেমী সংগঠনের সহযোগিতায় আহত কুকুরটির প্রাণরক্ষা হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ও প্রশংসার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। মানবিক এ উদ্যোগে এলাকাজুড়ে প্রশাসনের প্রশংসা ছড়িয়ে পড়েছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পিরোজপুরে জমি নিয়ে বিরোধে সংঘর্ষ, স্কুলছাত্রী নিহত

পিরোজপুর পৌরসভার পশ্চিম শিকারপুর এলাকায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সংঘর্ষে সপ্তম শ্রেণির স্কুলছাত্রী সৃষ্টি সর্বন আঁখি (১৪) নিহত হয়েছে। সে স্থানীয় বিশ্বজিৎ সর্বনের মেয়ে এবং পিরোজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধ চলছিল। গত ২৯ সেপ্টেম্বর পৌরসভার পানি সংযোগকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ সময় সংঘর্ষে আঁখি গুরুতর আহত হয়। হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে বাড়িতে পাঠানো হলেও শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। শুক্রবার (৩ অক্টোবর) উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

নিহতের পরিবার ও প্রতিবেশীরা জানান, সংঘর্ষের সময় চাচাতো ভাই-বোনদের ছোড়া ইটের আঘাত আঁখির মাথায় লাগে। সেই আঘাতেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে তাদের দাবি।

এ বিষয়ে পিরোজপুর সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তরিকুল ইসলাম বলেন, “ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। জমিজমা নিয়ে মামলা হয়েছে, তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ভ্যানই এখন তার ঘর, ভ্যানই তার পৃথিবী

স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে স্বপ্নের সংসার গড়েছিলেন কাঠুরে মো. ইমরান শেখ। প্রতিদিনের পরিশ্রমে চলত সংসার, সন্তানদের মানুষ করে তোলার স্বপ্নই ছিল তার জীবনের লক্ষ্য। কিন্তু ২০১৯ সালের ঘূর্ণিঝড় বুলবুল-এর পর গাছ কাটতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ভেঙে যায় সব স্বপ্ন।

গাছ থেকে পড়ে গিয়ে মেরুদণ্ড ভেঙে যায় এবং স্পাইনাল কর্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয় ইমরানের। সেই থেকে কোমরের নিচ থেকে তিনি চিরতরে অচল হয়ে পড়েন। হাঁটা-বসা তো দূরের কথা, সারাদিন তাকে শুয়ে থাকতে হয়।

গত ছয় বছর ধরে এমন করুণ বাস্তবতার সঙ্গেই বেঁচে আছেন তিনি। প্রতিদিন সকালে ভ্যানগাড়ির ওপর শুয়ে নিজেই ভ্যান চালিয়ে মানুষের কাছে সাহায্য চান। দিনে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা আয় হয়, তাতেই কোনোমতে চলে চার সদস্যের সংসার। স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে নাজিরপুরের একটি আবাসনে থাকেন তিনি।

কিন্তু টাকার অভাবে চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়নি। এমনকি ভ্যানগাড়িতে ওঠা-নামার কাজও করতে হয় অন্যের সহায়তায়। সন্তানদের লেখাপড়াও এখন অনিশ্চয়তার মুখে।

আক্ষেপ ভরা কণ্ঠে ইমরান বলেন,“ছয় বছর ধরে শুধু ভ্যানের ওপর শুয়ে আছি। এই ভ্যানই এখন আমার ঘর, আমার পৃথিবী।”

নাজিরপুরের এই অসহায় মানুষটির জীবন যেন সমাজের বঞ্চিত ও দুঃখী মানুষের প্রতিচ্ছবি। সামান্য সহায়তা, চিকিৎসা আর সহযোগিতা পেলে হয়তো আবারো নতুন স্বপ্ন দেখতে পারতেন তিনি ও তার পরিবার।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ন্যাশনাল ইনফ্লুয়েন্স অ্যাওয়ার্ড পেলেন বরিশালের সন্তান সিফাত ই মঞ্জুর রোমান

জাতীয় পর্যায়ে অনন্য স্বীকৃতি অর্জন করলেন বরিশালের তরুণ স্বেচ্ছাসেবী মো: সিফাত ই মঞ্জুর রোমান। রাজধানীর মালিবাগের ফোর-স্টার হোটেল স্কাই সিটি-তে আয়োজিত জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয় মর্যাদাপূর্ণ ন্যাশনাল ইনফ্লুয়েন্স অ্যাওয়ার্ড ২০২৫

সামাজিক পরিবর্তন, স্বেচ্ছাসেবক নেতৃত্ব এবং তরুণদের সমাজ উন্নয়নমূলক কাজে সম্পৃক্ত করার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এ পুরস্কার পান তিনি। সিফাত প্রহেলিকা ইয়ুথ ফাউন্ডেশন-এর প্রতিষ্ঠাতা, যা দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, মানবিক কার্যক্রম, পরিবেশ সচেতনতা এবং সমাজ উন্নয়নকেন্দ্রিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত কৃতি ব্যক্তিত্ব, সমাজকর্মী, উদ্যোক্তা, গণমাধ্যমকর্মী, ব্যবসায়ী ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। মোট ২০টি ক্যাটাগরিতে ৫০ জনকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়। এর আগে সিফাত পেয়েছেন ন্যাশনাল টেক অ্যাওয়ার্ড ২০২৩ এবং বাংলাদেশ ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড

পুরস্কার হাতে নিয়ে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে রোমান বলেন,“এই স্বীকৃতি শুধু আমার নয়; বরং বাংলাদেশের সকল স্বেচ্ছাসেবীর। যারা নিরলসভাবে সমাজ পরিবর্তনের জন্য কাজ করছেন, এই সম্মান তাদের প্রত্যেকের জন্য। ঐক্যবদ্ধ তরুণরাই পারে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে এবং একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে।”

প্রায় আট বছর ধরে স্বেচ্ছাসেবায় যুক্ত আছেন তিনি। স্থানীয় পর্যায় থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংগঠনের সাথেও কাজ করেছেন। বৃক্ষরোপণ, প্লাস্টিক দূষণ কমানো, সচেতনতা সেশন এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় টেকসই উন্নয়নকেন্দ্রিক কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছেন দীর্ঘদিন।

পরিবার থেকেও পেয়েছেন অনুপ্রেরণা ও সমর্থন। পুরস্কার প্রাপ্তির পর পরিবারের প্রতিক্রিয়াও ছিল আবেগঘন। পরিবারের সদস্যরা বলেন,“এটি শুধু সিফাতের ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং পরিবারের ও বরিশালের গর্ব। তরুণ প্রজন্মের জন্য এ সাফল্য অনুপ্রেরণার।”

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানিয়ে সিফাত বলেন,“আমি চাই তরুণদের আরও বেশি স্বেচ্ছাসেবায় সম্পৃক্ত করতে, নতুন নেতৃত্ব গড়ে তুলতে এবং জলবায়ু পরিবর্তনসহ সামাজিক সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান খুঁজে পেতে। প্রহেলিকা ইয়ুথ ফাউন্ডেশনকে দেশের প্রতিটি জেলায় বিস্তৃত করতে চাই, যেন তরুণরা ঐক্যবদ্ধভাবে সমাজ উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে।”

ইউনিভার্সিটি অফ গ্লোবাল ভিলেজ থেকে কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং-এ বিএসসি সম্পন্ন করেছেন তিনি। পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে যুক্ত আছেন পুরোপুরি।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশাল সদর উপজেলার চর কাউয়ায় এনসিপির সাংগঠনিক সভা

বরিশাল সদর উপজেলার চর কাউয়া ইউনিয়ন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে শনিবার (৪ অক্টোবর) সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সদর উপজেলার প্রধান সমন্বয়কারী জাকির হোসেন তালুকদারের সভাপতিত্বে এ সভা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় সংগঠক আসাদ বিন রনি বলেন, ২৪-এর চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে আগামীতে বিচার, সংস্কার ও গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সংবিধান বাস্তবায়ন করবে এনসিপি। তাই পাড়া-মহল্লা ও ওয়ার্ডে কমিটি গঠনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ ও ২৪-এর চেতনা বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বরিশাল জেলার প্রধান সমন্বয়কারী আবু সাঈদ মুসা বলেন, স্বাধীনতার চেতনা সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য এনসিপি আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে। ফ্যাসিবাদ বিরোধী গণঐক্য গড়ে তুলে নতুন সংবিধান ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠায় জনগণকে এনসিপির পতাকা তলে আসতে হবে।”

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন স্থানীয় ছাত্র, যুব, শ্রমিক ও এনসিপির নেতৃবৃন্দ।

শেষে অহিদুজ্জামান শরিফ বাশারকে আহ্বায়কমো. রেজাউল আলম হেলালকে সদস্য সচিব করে চর কাউয়া ইউনিয়ন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ইউনিয়ন কমিটি ঘোষণা করা হয়।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




জোয়ার-ভাটার নিয়মে চলে উপকূলের মহিষ বাথান

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ঢালচর, চরমন্তাজ, টুঙচর ও চরফারুকিসহ বিভিন্ন চরে প্রতিদিন হাজারো গরু-মহিষ চরে বেড়ায়। সাগরের কোল ঘেঁষে মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর মোহনার বিশাল তৃণভূমি নির্ভর করে জোয়ার-ভাটার ওপর। এখানকার মানুষ ও পশুর জীবন চলে প্রকৃতির এই ওঠানামার নিয়ম মেনে।

স্থানীয় রাখালরা জানান, দিন-রাতের কোনো হিসাব নেই তাদের। জোয়ারের সময় গরু-মহিষ কিল্লায় (অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র) ওঠে, আর ভাটার সময় নেমে বিশাল তৃণভূমিতে ঘাস খায়। ঝড়-জলোচ্ছ্বাস, অমাবস্যা-পূর্ণিমার জোয়ার কিংবা বর্ষা মৌসুমে ভয়াবহ প্লাবন—সবকিছুই মোকাবিলা করতে হয় তাদের। অনেক সময় পানির স্রোতে মহিষ ভেসে যায় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

চরাঞ্চলে বাঁশ, কাঠ, টিন ও পলিথিন দিয়ে তৈরি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র ‘কিল্লা’ই গরু-মহিষের নিরাপদ আশ্রয়। দিনভর তৃণভূমিতে থাকে পশুরা, আর রাখালরা বেদুইনের মতো যাযাবর জীবন কাটায়। মহিষের পিঠে চড়ে ঘুরে বেড়ানো, বাঁশি বাজানো ও গান গাওয়া তাদের জীবনের অংশ।

রাখালরা জানান, একজন রাখালের দায়িত্বে থাকে প্রায় ৫০টি গরু-মহিষ। ঝড়-বৃষ্টি বা রোদ যাই হোক না কেন, তারা খোলা আকাশের নিচেই কাটান। রাতের বেলা ছোট ছোট ছাউনিতে আশ্রয় নেন। শিয়ালের উপদ্রব দেখা দিলে সারা রাত জেগে পাহারা দিতে হয়।

যদিও চরে হাজার হাজার গরু-মহিষ থাকে, রাখালরা সহজেই নিজেদের পশু চিনে নিতে পারেন। তবে চোরের ভয়ে সবসময় সতর্ক থাকতে হয়। তারা দাবি করেছেন—চরাঞ্চলে গবাদিপশুর চিকিৎসা ও ভ্যাকসিন সহজলভ্য করা, রাখালদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় এবং বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা জরুরি।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু, তীরে ফিরেছেন ভোলার জেলেরা

মা ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে ইলিশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে শুরু হয়েছে ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা। শনিবার (৪ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে কার্যকর হওয়া এ নিষেধাজ্ঞা চলবে ২৫ অক্টোবর রাত ১২টা পর্যন্ত।

সরকারি নির্দেশনা মেনে ইতোমধ্যেই জাল, নৌকা ও ট্রলারসহ মাছ ধরার সরঞ্জাম নিয়ে তীরে ফিরে এসেছেন ভোলার হাজারো জেলে। শনিবার সকালে ভোলা সদর উপজেলার তুলাতুলি, শিবপুরের ভোলার খাল এলাকা ও মেঘনা নদীর তীরবর্তী জেলে পল্লীগুলোতে গিয়ে দেখা গেছে ব্যস্ততার চিত্র। কোথাও জেলেরা ট্রলার নোঙর করছেন, কেউ ইঞ্জিন খুলে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন, আবার কেউ জাল গোছানো ও মেরামতে ব্যস্ত।

তুলাতুলি এলাকার জেলে ফিরোজ মাঝি ও আকবর মাঝি বলেন, মৌসুমের শুরুতে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ মেলেনি। সম্প্রতি মাছ ধরা শুরু হলেও নিষেধাজ্ঞা আসায় আবারও নদী থেকে ফিরতে হলো। তারা অভিযোগ করেন, বাজারে মাছ বিক্রি করলেও দাম বেশি মেলেনি।

এদিকে জেলে আলমগীর মাঝি ও ছগির মাঝি জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও তারা সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে চলবেন। তবে দাবি করেন—নিষেধাজ্ঞার সময় যেন অসাধু জেলেরা নদীতে না নামে এবং জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল দ্রুত বিতরণ করা হয়।

ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ভোলা জেলার সাত উপজেলায় প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন। এর মধ্যে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৪৩৮ জন জেলেকে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার সময়ে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হবে। ইতোমধ্যেই কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং আগামী ২-৩ দিনের মধ্যে চাল বিতরণ শুরু হবে। আমাদের লক্ষ্য আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে সম্পূর্ণ বিতরণ শেষ করা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




মা ইলিশ রক্ষায় বরিশালে শুরু ২২ দিনের বিশেষ অভিযান

ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে বরিশালে শুরু হয়েছে টানা ২২ দিনের বিশেষ অভিযান। শনিবার (৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টায় নগরীর ডিসি ঘাট থেকে জেলা প্রশাসন ও জেলা মৎস্য অধিদফতরের উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য নৌর‍্যালির মাধ্যমে এ অভিযানের উদ্বোধন করা হয়।

কীর্তনখোলা নদীতে আয়োজিত নৌর‍্যালিতে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন। উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় মৎস্য পরিচালক কামরুল হাসান, পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন, নৌ পুলিশ সুপার এস এম নাজমুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. ওবায়দুল্লাহ, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কান্তি দে, র‌্যাব-৮, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ডসহ বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তারা।

অভিযানে এবার প্রথমবারের মতো আকাশ থেকে নজরদারিতে যুক্ত করা হয়েছে আধুনিক ড্রোন। পাশাপাশি নদীতে নিয়মিত টহল দিচ্ছে কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশ ও র‌্যাব। শুধু নদী নয়, হাট-বাজার, মাছের আড়ত, লঞ্চ ও বাস টার্মিনালেও পরিচালিত হবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ ধরা, বিক্রি, পরিবহন ও মজুত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। এ আইন ভঙ্গ করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড অথবা ৫ লাখ টাকা জরিমানা হতে পারে।

বরিশাল জেলায় প্রায় ৮০ হাজার জেলের মধ্যে কার্ডধারী ৬৬ হাজার জেলে পরিবারকে মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ২৫ কেজি করে চাল বিতরণ করা হচ্ছে। এতে মোট বরাদ্দ হয়েছে ১ হাজার ৬৬৩ মেট্রিক টন চাল। শুধু বরিশাল বিভাগেই রয়েছে প্রায় সাড়ে চার লাখ জেলে, যাদের মধ্যে সাড়ে তিন লাখ পরিবার পাচ্ছে এ সহায়তা।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, মা ইলিশ সংরক্ষণে ৫৪টি বিশেষ টিম মাঠে কাজ করছে। অভিযানের সার্বিক তদারকিতে নিয়োজিত রয়েছেন ৩০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। মূল লক্ষ্য হলো— মা ইলিশ নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়ার সুযোগ পায়, যাতে উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে দেশের বাজারে ইলিশের সরবরাহ আরও বাড়ানো যায়।

অভিযান শেষে জেলা প্রশাসক ও মৎস্য কর্মকর্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, কঠোর নজরদারি থাকায় এ বছর মা ইলিশ সংরক্ষণের অভিযান আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে সফল হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫