পায়রায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকার, দুমকিতে দুই জেলের কারাদণ্ড

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পায়রা নদীতে কারেন্ট জাল ব্যবহার করে ইলিশ শিকার করার অপরাধে দুই জেলেকে ১৬ দিন করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শুক্রবার (১০ অক্টোবর) সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ দণ্ডাদেশ দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মো. ইজাজুল হক

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—দুমকির আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের ঝাটরা গ্রামের মৃত চান্দু তালুকদারের ছেলে জামাল তালুকদার (৫০) এবং একই গ্রামের মৃত বারেক হাওলাদারের ছেলে মো. কাওছার হাওলাদার (৩০)

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, ইলিশ প্রজনন রক্ষায় ঘোষিত জাতীয় নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) গভীর রাতে মৎস্য বিভাগের একটি বিশেষ দল বাহেরচর সংলগ্ন পায়রা নদীতে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় কারেন্ট জাল দিয়ে ইলিশ শিকাররত অবস্থায় দুই জেলেকে হাতে-নাতে আটক করা হয়।

অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন দুমকি সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম। এ সময় তাদের ব্যবহৃত একটি মাছ ধরার নৌকা ও বিপুল পরিমাণ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়।

পরবর্তীতে শুক্রবার সকালে আটক দুই জেলেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে হাজির করা হলে, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে উভয়কে ১৬ দিন করে সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

দুমকি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, “আদালতের রায়ের পর দণ্ডপ্রাপ্ত দুই জেলেকে পটুয়াখালী জেলা কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।”

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ইলিশ মাছের প্রজনন মৌসুমে দেশের সকল নদী ও সমুদ্র উপকূলে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ ধরা, পরিবহন, সংরক্ষণ, বাজারজাতকরণ ও বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

মৎস্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




শিক্ষাবিদ ও কথাসাহিত্যিক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম আর নেই

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম আর নেই। শুক্রবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। শুক্রবার সকালে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে পুনরায় লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। বিকেলে তিনি ইন্তেকাল করেন।

প্রকাশনা সংস্থা অন্যপ্রকাশের প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম গণমাধ্যমকে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।

সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে তিনি অসংখ্য ছাত্রছাত্রী ও গবেষকের অনুপ্রেরণার উৎস ছিলেন। অবসরের পর তিনি ওই বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

বাংলা সাহিত্যে গল্প, উপন্যাস ও প্রবন্ধে তাঁর অবদান অনন্য। উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে *‘অন্য পৃথিবীর গল্প’, ‘প্রত্নজীবিরা’, ‘দগ্ধস্তূপের ঘ্রাণ’*সহ আরও অনেক সাহিত্যকর্ম। তিনি একুশে পদকপ্রাপ্ত সাহিত্যিক হিসেবেও দেশের সংস্কৃতি ও শিক্ষাক্ষেত্রে গভীর ছাপ রেখে গেছেন।

তাঁর মৃত্যুতে সাহিত্য, সংস্কৃতি ও শিক্ষাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দেশের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




ফেব্রুয়ারি নির্বাচন নিয়ে সব সংশয় কেটে গেছে: প্রেস সচিব শফিকুল আলম

আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সব বাধা ও সংশয় দূর হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, “দেশবাসী এবার একটি বাস্তব ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখতে পাবে। বহু বছর পর সত্যিকারের গণতান্ত্রিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।”

শুক্রবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

প্রেস সচিব আরও বলেন, “বিগত ষোলো বছর ধরে জনগণ শুধু ‘ফেইক ইলেকশন’ দেখেছে। কিন্তু এবার আমরা সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছি। ইতোমধ্যে নির্বাচনী আমেজ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন জেলায় নেতাকর্মীরা পোস্টার, প্রচারণা শুরু করেছে। এটি প্রমাণ করে, জনগণ একটি সুষ্ঠু ও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত।”

তিনি জানান, ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য হয়েছে। আগামী ১৫ অক্টোবর সব রাজনৈতিক দল এই সনদে আনুষ্ঠানিকভাবে সই করবে।

মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি নওয়াব আলী, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি এম আইয়ুব আলীসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদকর্মীরা।

এসময় প্রেস সচিব আরও জানান, সাংবাদিক শহীদুল আলমকে মুক্ত করতে ভূমিকা রাখার জন্য তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।

নির্বাচন নিয়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, “এবারের নির্বাচন হবে ইতিহাসের অন্যতম সেরা নির্বাচন—স্বচ্ছতা, অংশগ্রহণ ও গণতন্ত্রের চেতনায় ভরপুর।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




কোরিয়ার জালে ব্রাজিলের গোল বন্যা

দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে যেন ব্রাজিল ফুটবলের এক উৎসবই হয়ে গেল। বহুদিন পর সেই পুরনো নান্দনিক ফুটবলে ফিরেছে সেলেসাওরা। শুক্রবার (১০ অক্টোবর) সিউলের ওয়ার্ল্ড কাপ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ব্রাজিল ৫-০ গোলের বড় জয় পেয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে।

কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে খেলতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল ব্রাজিল। ১৩ মিনিটেই এগিয়ে যায় দল। ব্রুনো গুইমারেসের নিখুঁত পাস থেকে গোল করেন তরুণ প্রতিভা এস্তেভাও উইলিয়ান। ৪০ মিনিটে রদ্রিগোর অসাধারণ দূরপাল্লার শটে ব্যবধান বাড়ায় ব্রাজিল। ক্যাসেমিরো ও ভিনিসিউসের সঙ্গে চমৎকার সমন্বয়ে তৈরি হয় গোলটি।

বিরতির পর আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে ব্রাজিল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই মাত্র দুই মিনিটের ব্যবধানে দুটি গোল পায় সেলেসাওরা। ৪৭ মিনিটে এস্তেভাও নিজের দ্বিতীয় গোল করেন কোরিয়ান ডিফেন্ডারের ভুলে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে। আর ৪৯ মিনিটে ভিনিসিউসের দারুণ পাস থেকে রদ্রিগো পান তার দ্বিতীয় গোলের দেখা।

শেষ দিকে ৭৭ মিনিটে দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে ব্রাজিলের হয়ে পঞ্চম গোলটি করেন ভিনিসিউস জুনিয়র। ম্যাথুস কুনহার লম্বা পাসে ছুটে গিয়ে কোরিয়ান গোলরক্ষককে পরাস্ত করে তিনি এই গোলটি করেন।

এই ৫-০ ব্যবধানের জয় দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ব্রাজিলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জয়ের রেকর্ড। আগের রেকর্ড ছিল ২০২২ সালে ৫-১ ব্যবধানে।

বিশ্বকাপের আগে নিজেদের প্রস্তুতি ঝালিয়ে নিতে এই জয় নিঃসন্দেহে ব্রাজিলের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেবে। এশিয়া সফরে ব্রাজিলের এটি ছিল প্রথম ম্যাচ। সামনে ১৪ অক্টোবর টোকিওতে জাপানের বিপক্ষে আরেকটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে তারা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




আগামী নির্বাচনে ইসলামী শক্তি বনাম বিপক্ষ শক্তির লড়াই অনিবার্য: মুফতি ফয়জুল করীম

আগামী জাতীয় নির্বাচন ইসলামের পক্ষের শক্তি ও বিপক্ষ শক্তির মধ্যে এক অনিবার্য লড়াইয়ে পরিণত হবে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীম।

শুক্রবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “আগামী নির্বাচনে ইসলামী শক্তির সঙ্গে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াই হবে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সেই যুদ্ধে ইসলামের পক্ষে থাকা দেশপ্রেমিক শক্তিই বিজয়ী হবে। যারা বিদেশি স্বার্থে দালালি করে, তাদের পতন অনিবার্য।”

তিনি আরও বলেন, ইসলামী শ্রমনীতি বাস্তবায়ন ছাড়া শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। ইসলামী আন্দোলন এমন একটি সমাজ গঠন করতে চায়, যেখানে মালিক-শ্রমিক দ্বন্দ্ব থাকবে না, কেউ খাদ্যের অভাবে কষ্ট পাবে না, আর সবাই শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করবে।

সমাবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর চরমোনাই) বলেন, শ্রমিকবান্ধব রাষ্ট্র গঠনে ইসলামি শক্তিকে ক্ষমতায় আনা সময়ের দাবি। বর্তমান পরিস্থিতি ইসলাম প্রতিষ্ঠার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। তাই সুষ্ঠু প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে নির্বাচনে পিআর (Proportional Representation) পদ্ধতির বাস্তবায়ন এখন জরুরি।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সংখ্যাগরিষ্ঠতাভিত্তিক ভোটব্যবস্থায় জনগণের প্রকৃত মতামত সংসদে প্রতিফলিত হয় না। এতে জাতীয় রাজনীতিতে বৈষম্য, অস্থিরতা ও অবিচার সৃষ্টি হয়, যা শ্রমিকদের অধিকারকেও বাধাগ্রস্ত করে।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন ও অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমাদ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, সহকারী মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের সিনিয়র সহ-সভাপতি হাফেজ সিদ্দিকুর রহমান, সেক্রেটারি জেনারেল কে এম বিল্লাল হোসাইন, যুগ্ম সেক্রেটারি জেনারেল এইচ এম রফিকুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল উদ্দিন আহম্মেদসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




উদ্যোক্তা রুনার খামার পরিদর্শনে বিএনপি নেতা জিয়াউদ্দিন হায়দার

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার নারী উদ্যোক্তা সৈয়দ মাফুজা রুনা গড়ে তুলেছেন এক আধুনিক দুগ্ধ খামার, যেখানে রয়েছে ১৮টি অস্ট্রেলিয়ান জাতের গাভী। প্রতিদিন প্রায় ১৩০ লিটার দুধ উৎপাদন করে তিনি মাসে দুই লাখ টাকারও বেশি আয় করছেন।

একসময় সংসারের টানাপড়েনে থাকা মাফুজা রুনা আজ আত্মবিশ্বাস, পরিশ্রম ও দৃঢ় মনোবলের মাধ্যমে হয়েছেন সফল নারী উদ্যোক্তা। বর্তমানে তার খামারে তিনজন স্থায়ী কর্মী কাজ করছেন।

সম্প্রতি তার উদ্যোক্তা জীবনের অনুপ্রেরণামূলক গল্প গণমাধ্যমে প্রচারিত হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া পড়ে। সেই সংবাদ দেখে শুক্রবার (১০ অক্টোবর) সকালে রুনার খামারটি পরিদর্শন করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার।

এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা গোলাম আজম সৈকত, রাজাপুর উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি জাকারিয়া সুমন, গালুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আবুয়াল হাসান চাঁন মিয়া, উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি গোলাম ফারুক মোল্লা, উপজেলা তাঁতীদলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান, গালুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক টুটুল গাজী, যুবদল নেতা ইমাম হোসেন সেন্টু এবং সাতুরিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মীর শহিদ প্রমুখ।

খামার পরিদর্শন শেষে ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, “নিজের পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস আর অধ্যবসায় দিয়েই প্রমাণ করেছেন মাফুজা রুনা। তিনি এখন রাজাপুরের নারী উদ্যোক্তাদের অনুপ্রেরণার প্রতীক।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা: ভোলায় ছয় দিনে ২২ জেলের কারাদণ্ড

ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে চলছে ২২ দিনের বিশেষ অভিযান। মা ইলিশ রক্ষায় পরিচালিত এই অভিযানে গত ছয় দিনে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় ২২ জেলেকে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

ভোলা জেলা মৎস্য দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে গত ছয় দিনে জেলায় ১২২টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ ধরার অপরাধে ২৪ জেলেকে জেল ও জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া ৪৪ মেট্রিক টন ইলিশ ও এক লাখ চার হাজার মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে।

প্রতিদিন জেলার সাতটি উপজেলায় মৎস্য বিভাগ, কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে আটটি বিশেষ টিম সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নদীতে অভিযান পরিচালনা করছে।

সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ভূঁইয়া জানান, মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান অব্যাহত থাকবে। বৃহস্পতিবার রাতে দুইটি পৃথক অভিযানে পাঁচ হাজার মিটার নিষিদ্ধ জাল জব্দ করা হয়েছে।

গত ৪ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা চলবে আগামী ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত। এই সময়ে মা ইলিশ ধরা, বিক্রি, মজুদ ও পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




সিলেটে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে উত্তেজনা

সিলেটের বিশ্বনাথে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও মনোনয়নপ্রত্যাশী তাহসীনা রুশদী লুনা এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সমর্থকদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্বনাথের বাসিয়া ব্রিজ ও থানার সামনে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

এ ঘটনায় যুবদল নেতা আব্দুর রহমান, ছাত্রদল নেতা মিনহাজসহ উভয়পক্ষের একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে বাকিদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। সংঘর্ষ চলাকালীন সময়ে আতঙ্কে আশপাশের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় এবং যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সিলেট-২ আসনের বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে লুনা ও হুমায়ুন কবিরের সমর্থকদের মধ্যে বৃহস্পতিবার দুপুর থেকেই বিরোধ ও উত্তেজনা দেখা দেয়। বিকেলে হুমায়ুন কবির দৌলতপুর ইউনিয়নের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন, আর অপরদিকে লুনার সমর্থকরা পৌর বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে লিফলেট বিতরণ শেষে বাসিয়া সেতুর সামনে মিছিল করেন।

সন্ধ্যার পর উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক বাড়তে থাকে এবং রাত ৯টার দিকে নতুন বাজার ও পুরান বাজার এলাকায় অবস্থান নেওয়া সমর্থকদের মধ্যে শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলতে থাকে, এতে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা চরম আতঙ্কে পড়ে।

ঘটনার খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনা সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ওসমানীনগর সার্কেল) আশরাফুজ্জামান পিপিএম (সেবা) জানান, “ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকা শান্ত রয়েছে, তবে আমরা সতর্ক অবস্থানে আছি।”

এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, মনোনয়নকে কেন্দ্র করে এমন বিরোধ ভবিষ্যতে আরও বড় সংঘর্ষের রূপ নিতে পারে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




দশমিনায় যুবকের দায়ের কোপে শিশুসহ আহত ৬, প্রাণ গেল একের

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় এক মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের দায়ের কোপে সাফায়েত হোসেন (৮) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নারী-পুরুষ-শিশুসহ আরও পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের চরহোসনাবাদ গ্রামের মৃধাবাড়িতে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত সাফায়েতের বাবা জামাল হোসেন তাঁর সন্তানের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আহতরা হলেন—বাবুল সরদার (৪৭), মইন হাসান (৮), পঞ্চমালী সরদার (৪৭), নাছিমা (৩২) এবং মরিয়ম বেগম (২৮)। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হামলাকারী সবুজ মৃধা (৩০) দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত এবং মানসিক ভারসাম্যহীন। তিনি একই গ্রামের আবু মৃধার ছেলে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হঠাৎ করেই সবুজ মৃধা হাতে দা নিয়ে নিজ পরিবারের সদস্যদের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালান। মুহূর্তের মধ্যেই বাড়ির ভেতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে তিনি আরও উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং দৌড়ে গাছের মগডালে উঠে লুকিয়ে পড়েন।

আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে শিশু সাফায়েত, মরিয়ম ও মুইন হাসানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু পথেই বাউফল উপজেলার বগা এলাকায় পৌঁছালে সাফায়েতের মৃত্যু হয়।

স্থানীয় কবির চৌকিদার জানান, “সবুজ মৃধা দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত এবং মাঝে মাঝেই অস্বাভাবিক আচরণ করত। হঠাৎ করেই সে পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। পরে গ্রামবাসী তাকে ধরতে গেলে সে গাছের মগডালে উঠে যায়। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস এসে অনেক চেষ্টা করেও প্রথম দিকে তাকে নামাতে পারেনি।”

ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দশমিনা থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। তারা আহতদের হাসপাতালে পাঠানোর পাশাপাশি হামলাকারীকে গাছ থেকে নামানোর চেষ্টা চালায়। প্রায় আড়াই ঘণ্টার চেষ্টার পর অবশেষে সবুজকে নিচে নামানো সম্ভব হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ আবদুল আলীম বলেন, “প্রথমে আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। সবুজ মৃধাকে গাছ থেকে নামানোর পর চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে।”

গ্রামজুড়ে এখনো আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, মানসিক ভারসাম্যহীন ও মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের প্রতি নজরদারি বাড়ানো জরুরি, যেন ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পিআর ছাড়া জনগণের সঠিক প্রতিনিধিত্ব সম্ভব নয়: অধ্যক্ষ বাবর

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বরিশাল মহানগর আমির অধ্যক্ষ জহির উদ্দিন মু. বাবর বলেছেন, “পিআর (Proportional Representation) ছাড়া জনগণের সঠিক প্রতিনিধিত্ব নির্বাচন করা সম্ভব নয়।”

বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) বরিশাল প্রেসক্লাবের হলরুমে মহানগর জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

অধ্যক্ষ বাবর বলেন, স্বাধীনতার পর গত ৫০ বছরে অনুষ্ঠিত কোনো নির্বাচনে জনগণের প্রকৃত মতামত প্রতিফলিত হয়নি। নির্বাচনের পর জনগণকে বলা হয়— “তোমার ভোট পচে গেছে।” কিন্তু ভোট কখনো পচে না। জনগণের প্রতিটি ভোটের মূল্য দিতে হবে, আর এজন্য পিআর ব্যবস্থার বিকল্প নেই।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় ঐক্য কমিটির একাধিক বৈঠক হলেও তা কার্যত বিলুপ্তির পথে। দেশের স্বার্থে এখন সময় এসেছে সব রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ করার। জনগণ এবার কোনো প্রহসনের নির্বাচন মেনে নেবে না। সন্ত্রাস ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দাঁড়াতে হবে এবং জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

সভায় মহানগর সেক্রেটারি মাওলানা মতিউর রহমানের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন মহানগর নায়েবে আমির মাহমুদ হোসেন দুলাল, কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা হাবিবুর রহমান ও মুহাম্মাদ শামীম কবির, অধ্যাপক সুলতানুল আরেফিন, এডভোকেট আবুল খায়ের শহিদ, অধ্যাপক গোলাম গোফরান, মোয়াজ্জেম হোসেন হাওলাদার প্রমুখ।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫