সমুদ্রপথে ইতালি যাওয়া অভিবাসীদের তালিকায় শীর্ষে বাংলাদেশিরা

চলতি বছর সমুদ্রপথে ইতালি পাড়ি দেওয়া অভিবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি রয়েছেন। ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ইতালিতে পৌঁছানো অভিবাসীদের মধ্যে বাংলাদেশির সংখ্যা ১৬ হাজার ৫৫২ জন, যা অন্য সব দেশের তুলনায় সর্বাধিক।

সোমবার (২০ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অভিবাসন বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ইনফোমাইগ্রেন্টস বাংলা এ তথ্য প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে—সমুদ্রপথে ইতালি প্রবেশকারীদের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এক নম্বরে।

ইতালিতে পৌঁছানো অভিবাসীদের মধ্যে বাংলাদেশের পর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মিশর, যেখান থেকে এসেছে ৭ হাজার ৬৯০ জন। তৃতীয় স্থানে রয়েছে আফ্রিকার দেশ ইরিত্রিয়া, যাদের সংখ্যা ৬ হাজার ৮৮৭।

এরপর রয়েছে পাকিস্তান (৩,৭২৬), সুদান (৩,৩৪৭), সোমালিয়া (২,৫৬৬), ইথিওপিয়া (২,০৩৭), টিউনিসিয়া (১,৫২৪), ইরান (১,৪৯৩), সিরিয়া (১,২৪৫), গিনি (১,২১৮), আলজেরিয়া (১,১১৫), নাইজেরিয়া (৮০১), মালি (৭৫৩) এবং আফগানিস্তান (৬১২)। এছাড়া অন্যান্য দেশের অভিবাসীদের সংখ্যা মিলিয়ে মোট দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩৮২ জন।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, আফ্রিকার দেশগুলো থেকে সমুদ্রপথে আগমন কিছুটা কমলেও দক্ষিণ এশীয় দেশগুলো, বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে অভিবাসনের প্রবণতা বেড়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইতালির উপকূলে পৌঁছানো বাংলাদেশিদের সংখ্যা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (IOM) বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, কর্মসংস্থানের অভাব এবং ইউরোপে উন্নত জীবনের প্রত্যাশাই অনেক বাংলাদেশিকে ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রায় প্ররোচিত করছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বুধবার প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে বসছে জামায়াত

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে আগামীকাল (বুধবার) বৈঠকে বসবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধি দল। দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও চলমান ইস্যু নিয়ে সরকারের সঙ্গে সংলাপের অংশ হিসেবেই এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

জামায়াতে ইসলামীর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বুধবার (২২ অক্টোবর) বিকাল ৫টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন দলের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহেরের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল।

বৈঠকে অংশ নেওয়া প্রতিনিধি দলের সদস্যরা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচনকালীন সরকারের ভূমিকা ও জাতীয় ঐক্য বিষয়ে মতামত তুলে ধরবেন বলে জানা গেছে।

এর আগে মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় একই স্থানে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দেশের স্থিতিশীলতা ও সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজতে প্রধান উপদেষ্টার এ ধারাবাহিক বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




অচল সিসিটিভিতে বরিশালের নিরাপত্তা হুমকিতে

বরিশাল নগরজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রধান অবলম্বন হিসেবে স্থাপিত শত শত সিসিটিভি ক্যামেরা বর্তমানে অচল হয়ে পড়েছে। ফলে নগরীর বিভিন্ন স্থানে অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ কার্যক্রমে সৃষ্টি হয়েছে বড় চ্যালেঞ্জ।

গত ১০ বছরে বরিশাল সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে শহরের ৫৮টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ৪১৬টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রায় সব ক্যামেরাই বিকল হয়ে গেছে। এর মধ্যে ৭০টিরও বেশি ক্যামেরা চুরি হয়েছে—ক্যাবলসহ সম্পূর্ণ ইউনিট উধাও। অথচ কেন এগুলো সংস্কার বা প্রতিস্থাপন করা হয়নি, তা স্পষ্টভাবে জানাতে পারছে না কর্তৃপক্ষ।

চাঁদমারি এলাকার বাসিন্দা মমতাজ বেগম বলেন, “রাস্তায় চলাচল করতে এখন ভয় লাগে। সিসিটিভি ক্যামেরা সচল না থাকায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। সকালে বা সন্ধ্যায় রাস্তায় বের হতে ভয় লাগে।”

সচেতন নাগরিক রফিকুল ইসলাম বলেন, “নগরীর নিরাপত্তা এখন বড় প্রশ্নের মুখে। ক্যামেরা না থাকায় অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায় না, অপরাধীরাও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।”

বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী জানান, “বেশিরভাগ ক্যামেরা দীর্ঘদিন ধরে অকেজো। আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে নতুন ক্যামেরা স্থাপন বা পুরনোগুলো সংস্কার করা সম্ভব হয়নি। আমরা চেষ্টা করছি পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নিতে।”

সিটি করপোরেশনের অচল ক্যামেরার ঘাটতি পূরণে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ গত পাঁচ বছরে ২০০টির বেশি স্থানে ২৬০টি নতুন সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেছে। তবে নগরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে এখনও পর্যাপ্ত নজরদারি সম্ভব হয়নি।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি নিরাপত্তা নিশ্চিত রাখতে। তবে নগরজুড়ে সিসিটিভি ক্যামেরা সচল না হলে অপরাধ দমন কার্যক্রম কার্যকরভাবে চালানো কঠিন হয়ে যাবে।”

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সিসিটিভি ক্যামেরা সচল রাখা শুধু অপরাধ দমন নয়, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও নগর ব্যবস্থাপনায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই দ্রুত সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ না করলে নগরীর নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




একজনের পরিচয় মেলেনি ১৫ মাসেও; বরিশালের দুই হত্যা রহস্য অবঘটিত

শহর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ঘটে যাওয়া দুইটি বহুল আলোচিত হত্যাকাণ্ডের রহস্য অনেক চেষ্টা সত্ত্বেও উদ্ঘাটন হয়নি। মামুন রাঢ়ীর হত্যা ও আরেক অজ্ঞাতনামা যুবকের লাশ-ঘটনা তদন্তে পুলিশ তৎপরতা বজায় রাখলেও, নিস্পত্তি আনতে পারেনি।

প্রথম ঘটনাটি ঘটেছে ২০২০ সালের ১৯ আগস্ট রাতে—গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর বন্দর থেকে ইজিবাইকসহ নিখোঁজ হন বামরাইল ইউনিয়নের উত্তর মোড়াকাঠীর আব্দুস সালাম রাঢ়ীর ছেলে মামুন রাঢ়ী। সাত দিন পর (২৬ আগস্ট) মহাসড়কের পার্শ্ববর্তী খালে তার গলাকাটা, ক্ষতবিক্ষত লাশ ভেসে ওঠে। নিহতের বাবা ওইদিনেই গৌরনদী মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। শুরুতে থানা পুলিশ তদন্ত করলেও কোনো গুরুত্বপূর্ণ ক্লু না পেতে মামলার তদন্ত পিবিআইর কাছে হস্তান্তরের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়; পরে মামলা তদন্তের নির্দেশ পেয়েছে জেলা সিআইডি।

পরবর্তী কয়েকদফা সিআইডি অভিযান, ঘটনাস্থল ও নিহতের গ্রাম পরিদর্শন, সন্দেহভাজনদের কথা-ক করা সত্ত্বেও আজও মামুনের ব্যবহৃত ইজিবাইক উদ্ধার করা যায়নি এবং হত্যার সঙ্গে যুক্ত অভিযুক্তদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। নিহত মামুনের বড় ভাই সোহেল রানা ও পরিবার চান দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি; মা রাশিদা বেগম বারবার দ্রুত বিচার দাবি করেছে।

অপরদিকে ২০২৪ সালের ২০ জুলাই সকালে গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের কমলাপুর গ্রামের পাটক্ষেত থেকে উদ্ধার হন আনুমানিক ৩৫ বছর বয়সী এক অজ্ঞাতনামা যুবক। তার গায়ে নেভি ব্লু টি-শার্ট ও জলপাই রঙের গ্যাবার্ডিন প্যান্ট ছিল। মৃতদেহের গায়ে মাথায় আঘাতের চিহ্ন, শরীরে ফোস্কা ও পচন দেখা গেছে; বিশেষ করে দুই পায়ের হাঁটুর নিচে গোড়ালির ওপর মাংসপেশি বিচ্ছিন্নভাবে পাওয়া গেছে—মেডিক্যাল রিপোর্টে হত্যার নীরস প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ আছে। ঘটনার পর মৃতদেহ বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়।

মেডিক্যাল ও তদন্ত নথি অনুযায়ী ওই অজ্ঞাতনামা লাশটি ২০২৪ সালের ১৭ থেকে ২০ জুলাই মধ্যবর্তী সময়ে ঘটনাস্থলে ফেলা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা জানিয়েছে—পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় টিঁকে আছে তদন্তের বড় বাধা; প্রকাশিত সময় থেকে প্রায় ১৫ মাস পার হতে চললেও ওই যুবকের পরিচয় মেলেনি, যার কারণে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন এখনো সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় সচেতন মহল ও নিহত পরিবার দুটি ঘটনার যথাযথ, দ্রুত ও পারদর্শী তদন্ত দাবি করে বলেছেন—নির্বাহিত তদন্তে কারণভিত্তিক গবেষণা ও গোয়েন্দা তৎপরতা না বাড়ালেই ভুলু হয়ে যাবে সুবিচারের দাবি। তারা আশা করেন—আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুততম সময়ে অভিযোগকারীদের আশা অনুযায়ী সুষ্ঠু তদন্ত সম্পন্ন করে দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করবে, যাতে ভবিষ্যতে এ জাতীয় গোমরার ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




পটুয়াখালীতে পারিবারিক বিরোধে শ্বশুরের কোদালের আঘাতে জামাইয়ের মৃত্যু

পটুয়াখালী সদর উপজেলার ছোটবিঘাই ইউনিয়নের হরতকিবাড়িয়া গ্রামে পারিবারিক বিরোধের জেরে শ্বশুরের কোদালের আঘাতে জামাইয়ের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২০ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।

নিহতের নাম অভিনাশ চন্দ্র দাস (২৮)। তিনি সদর উপজেলার লাউকাঠী ইউনিয়নের ঢেউখালি গ্রামের বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি অভিনাশ কিছু অর্থ ও স্বর্ণালংকার শ্বশুরবাড়িতে জমা রাখেন। সোমবার বিকেলে স্ত্রী মনিকা দাসকে সঙ্গে নিয়ে তিনি শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে সেই অর্থ ও গহনা ফেরত চান। এ সময় শ্বশুর শান্তি দাস (৫৫), শ্যালক হৃদয় দাস এবং স্ত্রী মনিকা দাসের সঙ্গে তার কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে শ্বশুর শান্তি দাস কোদাল দিয়ে অভিনাশের মাথায় আঘাত করেন, এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত শান্তি দাস, হৃদয় দাস ও মনিকা দাস বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, “ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।”

পুলিশ ধারণা করছে, পারিবারিক বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।


 




বাউফলে নিখোঁজের একদিন পর ডোবায় মিলল শিশুর মরদেহ

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় নিখোঁজের একদিন পর নাহিদ মৃধা (৭) নামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয়রা। হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি ঘটেছে রোববার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার কাছিপাড়া ইউনিয়নের উত্তর পাকডাল গ্রামে।

স্থানীয়রা জানান, দুপুর দেড়টার দিকে উত্তর পাকডাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশে একটি ডোবায় শিশুটির মরদেহ ভাসতে দেখতে পান তারা। পরে আশপাশের লোকজন ছুটে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে পরিবারের কাছে খবর দেন।

নিহত নাহিদ মৃধা উত্তর পাকডাল এলাকার নিজাম মৃধা ও সালমা বেগম দম্পতির ছোট ছেলে। সে স্থানীয় উত্তর পাকডাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১৮ অক্টোবর) সকালে নাহিদ ঘর থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি। আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয়দের সহায়তায় রাতভর খোঁজাখুঁজি চালানো হলেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। অবশেষে পরদিন দুপুরে বিদ্যালয়ের পাশের ডোবায় শিশুটির মরদেহ ভেসে উঠলে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

এদিকে স্থানীয়রা ধারণা করছেন, শিশুটি খেলার সময় দুর্ঘটনাবশত ডোবার পানিতে পড়ে মারা যেতে পারে। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কলাপাড়ায় গাঁজা পরিবহনে যুবকের কারাদণ্ড

কলাপাড়া উপজেলার হাজীপুর টোল ব্রিজ এলাকায় গাঁজা পরিবহনের দায়ে গাজী সায়েম মেহেদী (৩২) নামে এক ব্যক্তিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। শনিবার (১৮ অক্টোবর) রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে মহিপুর থানা পুলিশের সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে আটক করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হাজীপুর টোল ব্রিজ এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানের সময় সন্দেহজনক এক ব্যক্তিকে থামার নির্দেশ দিলে তিনি পালানোর চেষ্টা করেন। পরে ধাওয়া করে পুলিশ তাকে আটক করে। তার কাছ থেকে গাঁজা উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক পরিবহনের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।

এরপর ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৪২(১) ধারায় গাজী সায়েম মেহেদীকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

অভিযান পরিচালনাকারী কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসিন সাদেক জানান, “মাদক সমাজের জন্য ভয়ংকর এক অভিশাপ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়মিত এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

এদিকে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ওই এলাকায় কিছুদিন ধরে মাদকের লেনদেন বেড়ে গিয়েছিল। প্রশাসনের এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপে জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




দশমিনায় নৌকা বাইচ, সাঁতার ও হাঁস ধরা প্রতিযোগিতায় গ্রামজুড়ে উৎসবের আমেজ

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ, সাঁতার ও হাঁস ধরা প্রতিযোগিতা। শনিবার (১৮ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে দশমিনা সদর ইউনিয়নের কাটাখালী আশ্রয়ণ প্রকল্পের দীঘিতে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। দিনব্যাপী উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় স্থানীয় গ্রামবাসী, যুব সমাজ ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজারো মানুষ অংশ নেন।

আয়োজনে সকাল থেকেই অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে দেখা যায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। দীঘির পানিতে শুরু হয় সাঁতার প্রতিযোগিতা ও হাঁস ধরার মজার আয়োজন, আর দুপুর গড়িয়ে বিকেল নাগাদ শুরু হয় উত্তেজনাপূর্ণ নৌকা বাইচ। নদীজীবনের ঐতিহ্য ধরে রাখতে এই প্রতিযোগিতাকে গ্রামবাসী আনন্দ উৎসবে পরিণত করে।

একইদিন বিকালে অনুষ্ঠিত হয় জনপ্রিয় লাঠিখেলা, যা স্থানীয় দর্শকদের দৃষ্টি কাড়ে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি নেতা আজাহার সিকদার এবং সঞ্চালনা করেন সরকারি আব্দুর রসিদ তালুকদার ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আবুল বশার।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল আলিম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি জিয়া তালুকদার, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফখরুজ্জামান বাদল, দপ্তর সম্পাদক রাজিব মিয়া, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব শামীম খান ও মো. আমিনুল ইসলাম মৃধা প্রমুখ।

দিনব্যাপী প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। স্থানীয়রা বলেন, “এমন আয়োজন আমাদের গ্রামীণ ঐতিহ্য ও বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করে।”


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ আগুন, ফায়ার সার্ভিসের ৩০ ইউনিট নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের ৩০টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় রাজধানীর বিভিন্ন ফায়ার স্টেশন থেকে আরও ৬টি ইউনিট ঘটনাস্থলে রওনা দিয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করছে নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সদস্যরাও।

শনিবার (১৮ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তাহলা বিন জসিম। তিনি জানান, “বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজের আগুন নিয়ন্ত্রণে আমাদের ৩০টি ইউনিট কাজ করছে, আরও ৬টি ইউনিট ঘটনাস্থলের পথে রয়েছে। এখন পর্যন্ত আগুন লাগার কারণ বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। হতাহতের খবরও পাওয়া যায়নি।”

এদিকে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর দুটি ফায়ার ইউনিট এবং নৌবাহিনীর সদস্যরাও কাজ করছে। এছাড়া সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষও আগুন নিয়ন্ত্রণে সম্পৃক্ত হয়েছে।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, আগুন মূলত কার্গো ভিলেজ এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকলেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিমান চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। যাত্রী টার্মিনালের কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয়, সেজন্য বিকল্প ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হচ্ছে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কার্গো ভিলেজের একটি গুদাম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। ঘটনাস্থলে আগুনের ধোঁয়া চারপাশে ছড়িয়ে পড়ায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




চরমপন্থী নেতা’কে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: পাবনার জেলার ফরিদপুর উপজেলার মঙ্গলগ্রাম বাজারে মাদ্রাসার সামনে  আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আবদুল মতিন (৪৬) নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করেছেন প্রতিপক্ষের লোকজন । আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে এই হত্যাকান্ডটি সংঘটিত হয়। নিহত মতিন পাবনা সদর উপজেলার আতাইকুলা থানার শ্রীকোল বটতলা এলাকার আজিমুদ্দিন বিশ্বাসের ছেলে। পুলিশের দাবি, তিনি চরমপন্থী দল নকশালের নেতা ছিলেন।

ফরিদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাকিউল আজম জানান, দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে চরমপন্থীদের দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে আবদুল মতিন মঙ্গলগ্রাম বাজারে মাদ্রাসার সামনে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁকে কুপিয়ে ও গুলি করে চলে যান। পরে স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত ও গুরুতর অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যার পরে তিনি মারা যান।

ওসি শাকিউল আজম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তবে কারা তাঁকে হত্যা করেছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।