বরিশালে চোরকে শাস্তি, শীতের রাতে পুকুরে ২০ বার ডুব

বরিশালে নগরীর সদর রোডের বিবির পুকুরে চোরকে শাস্তি হিসেবে টানা ২০ বার ডুব দেওয়া হয়েছে। ঘটনা একটি অভিনব ও নজিরবিহীন পদ্ধতিতে ঘটেছে, যেখানে কোন মারধর ছাড়াই অপরাধীর শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নগরীর সদর রোড এলাকায় গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পার্কিং করা মোটরসাইকেলের হেলমেট চুরির ঘটনা এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি করেছিল। ক্ষুব্ধ মোটরসাইকেল চালকরা অবশেষে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে ওই চোরকে হাতেনাতে ধরেন।

আটক ব্যক্তি ইউসুফ হোসেন, নিজেকে উজিরপুর উপজেলার মশাং গ্রামের বাসিন্দা বলে পরিচয় দেন। তিনি বর্তমানে নগরীর সাগরদী এলাকায় বসবাস করেন। শাস্তি দেওয়ার আগে তিনি সবার সামনে নিজের ভুল স্বীকার করে অনুরোধ জানান যেন তাকে মারধর না করা হয়।

এরপর স্থানীয়রা একটি ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নেন। ইউসুফ নিজে পুকুরে নেমে কান ধরে একের পর এক ২০ বার ডুব দিতে রাজি হন। প্রতিটি ডুবের সময় তিনি নিজের অপরাধের জন্য ক্ষমা চাইতে থাকেন।

শেষে স্থানীয় কয়েকজন তাকে কাছের দোকান থেকে নতুন প্যান্ট ও টি-শার্ট কিনে দিয়ে ছেড়ে দেন। এভাবে নগরবাসীর উদ্যোগে চোরকে শাস্তি দেওয়ার এই ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।




বরিশালে জাল টাকাসহ চার কিশোর গ্রেফতার, শহরে আতঙ্ক

নগরীর বাজার ও দোকানগুলোতে হঠাৎ ছড়িয়ে পড়া জাল টাকার কারণে সাধারণ মানুষ ও খুচরা ব্যবসায়ীরা চরম সতর্ক হয়ে পড়েছিলেন। তবে বরিশাল মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কৌশলগত অভিযান চালিয়ে চার কিশোরকে গ্রেফতার করেছেন, যারা সংঘবদ্ধভাবে জাল নোট তৈরি ও ছড়িয়ে দিতো।

গ্রেফতারকৃত কিশোররা

ডিবি পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চার কিশোরকে আটক করা হয়। তাদের নাম হলো:

  • শাওন (১৭), ঝাউতলা তৃতীয় গলি, হাসপাতাল রোড
  • আলভি (১৮), নথুল্লাবাদ এলাকা
  • তানভীর (১৮), ভাটিখানা এলাকা
  • আলিফ (১৬), শহরের বাসিন্দা

তারা সবাই শিক্ষার্থী।

ঘটনার বিবরণ

শাহেদের মতে, শহরের বগুড়া রোডের একটি চায়ের দোকানে শাওন ও আলিফ ১০০ টাকার জাল নোট দিয়ে সিগারেট ক্রয় করতে যায়। দোকানদারের সন্দেহের ফলে স্থানীয়রা তাদের আটক করে পুলিশকে খবর দেন। এরপর ডিবি অভিযান চালিয়ে তানভীরের বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ ১০০ ও ৫০ টাকার জাল নোট, কম্পিউটার ও প্রিন্টার জব্দ করে। পরে নথুল্লাবাদ এলাকা থেকে আলভিও গ্রেফতার হন।

পুলিশের প্রাথমিক তথ্য

ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক মো. ফিরোজ বলেন, “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তারা শহরের বিভিন্ন দোকান ও বাজারে জাল নোট ছড়িয়ে দিত। আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।”

বরিশালবাসী এই ঘটনায় সতর্ক হয়ে উঠেছেন। শিশু-কিশোরদের এমন কর্মকাণ্ড সমাজে সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বাক ও দৃষ্টিহীন রাশিদা বেগম: সন্তানের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, জীবন সংগ্রামের পথে

মানুষের জীবন কখনো কখনো সবচেয়ে নিঃসঙ্গ মুহূর্তে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা দেয়। রাশিদা বেগম সেই নিঃসঙ্গতার জীবন্ত উদাহরণ। বাক ও দৃষ্টিহীন এই নারী, স্বামীহীন, গৃহহীন ও ভূমিহীন হয়ে প্রতিদিনের রুটি-রুজির জন্য ভিক্ষাবৃত্তির ওপর নির্ভর করছেন। পাশাপাশি ৮ বছরের একমাত্র ছেলে সন্তানকে নিয়ে প্রতিনিয়ত লড়াই করে চলেছেন।

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের কৃষ্ণকাঠি গ্রামের মৃত নুরু চৌধুরীর মেয়ে রাশিদা বেগম। জন্ম থেকেই বাক প্রতিবন্ধী হলেও তার দু’চোখে ছিল আলো দেখার স্বপ্ন। বিয়ের দুই বছর পর শারীরিক অসুস্থতার কারণে দৃষ্টি হারান তিনি। স্বামীর সংসার থেকে তাকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। বাবা-মাও মৃত্যুবরণ করার পর রাশিদা একেবারে অসহায় হয়ে পড়েন।

বর্তমানে রাশিদা বেগমের কাছে নেই নিরাপদ আশ্রয়, নেই খাদ্য বা চিকিৎসার ন্যূনতম সুযোগ। বাজার, মসজিদের সামনে বা রাস্তায় বসে সহযোগিতার অপেক্ষায় দিন কাটান। স্থানীয় মানুষের সামান্য সহায়তায় বেঁচে থাকলেও সরকারি কোনো সামাজিক নিরাপত্তা বা পুনর্বাসন সুবিধা তিনি এখনো পাননি। কখনো খোলা আকাশের নিচে, কখনো প্রতিবেশীর বারান্দায় রাত কাটাতে হয় তাকে।

রাশিদার একমাত্র ছেলে ৮ বছর বয়সী। মা–ছেলের জীবনযাত্রা বর্তমানে অনিশ্চিত। শিক্ষা, নিরাপত্তা ও মৌলিক জীবনচাহিদা পূরণে রাশিদা অভিভাবক হিসেবে প্রায় একা লড়ছেন। স্থানীয়রা বলছেন, “এরকম অসহায় মানুষদের সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা উচিত।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ জানান, “অসহায় রাশিদা বেগমের খোঁজখবর নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।” যদিও সরকারি সহায়তার আশ্বাস আছে, বাস্তবে তার জীবনযাত্রা ও সন্তানের ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত।

রাশিদা বেগমের কষ্টময় মুখে এবং চোখে প্রতিফলিত জীবনের যন্ত্রণার গল্প আমাদের মানবিক সহানুভূতির আবেদন জানায়। তার বয়সের শেষভাগে মাথা গোঁজার নিরাপদ জায়গা এবং সন্তানের জন্য সুরক্ষিত জীবনই যেন একমাত্র আকাঙ্ক্ষা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ঝালকাঠি বিএনপির দুর্গে আঘাত হানতে প্রস্তুত জামায়াত ও ‘ইসলামী জোট’

সবুজ মাঠ, গাছগাছালি, নদী-নালা, খাল-বিল, অপার সৌন্দর্যমণ্ডিত পরিপাটি জেলা ঝালকাঠি। জেলার দুটি আসনেই বিএনপির ধানের শীষের ভোট বেশি। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেশ কয়েকবার জনগণের ভোটেও তা প্রমাণ হয়েছে। তবে আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ দুর্গে আঘাত হানতে প্রস্তুতি নিয়েছে জামায়াতে ইসলামীসহ ইসলামী জোটবদ্ধ দলগুলো। তাই বিএনপির ভোটব্যাংকখ্যাত এ জনপদে একক আধিপত্য শেষ পর্যন্ত থাকবে কি না তা নিয়ে সন্দিহান এলাকার ভোটাররা। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ সমমনা দলগুলো সমন্বয় করে প্রার্থী দেবে এমন গুঞ্জন ছড়িয়েছে চারদিকে।

ইসলামী দলগুলোর সমন্বয়ে প্রার্থী ঘোষণা করা হলে ভোটের মাঠে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারেন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। জেলার চারটি উপজেলা নিয়ে দুটি সংসদীয় আসন গঠিত হয়েছে। উভয় আসনেই বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীর সংখ্যা দেড় ডজনের বেশি। বিপরীতে জামায়াত দিয়েছে একক প্রার্থী। তবে সেটাও চূড়ান্ত নয় বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। ভোটের মাঠে লড়ার জন্য চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হবে অন্য দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতার বিষয়ে আলোচনা শেষ হওয়ার পর। এরপর তুলনা করা যাবে কার চেয়ে কে বেশি জনপ্রিয়তায় শক্তিশালী ও ভোটের মাঠে প্রভাব কার বেশি থাকবে।
ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর ও কাঁঠালিয়া) ॥ রাজাপুর ও কাঁঠালিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনটিতে তৎপর আছেন বিএনপির আট নেতা। তারা সবাই দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী। তাদের মধ্যে বেশি আলোচনায় আছেন ২০০৮ সালের ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামাল, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহসাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আজম সৈকত ও নিউইয়র্ক দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান সেলিম রেজা।

এছাড়া জাতীয়তাবাদী গবেষণা পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা ইঞ্জিনিয়ার একেএম রেজাউল করিম, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহসভাপতি রফিক হাওলাদার, জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী পরিষদের সহসভাপতি ও রাজাপুর উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা ড. জাকারিয়া লিংকন এবং সদ্য বিএনপিতে যোগ দেওয়া কর্নেল (অব.) মোস্তাফিজুর রহমানও প্রচারের মাঠে সরব রয়েছেন।
তারা সবাই নানা কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের শক্তি ও সক্ষমতার জানান দিচ্ছেন। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে তাদের দোয়া ও সমর্থন কামনা করছেন। এলাকায় ব্যাপক সাড়াও পাচ্ছেন বলে তারা দাবি করছেন। তাদের মধ্যে প্রচারে এগিয়ে আছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা রফিকুল ইসলাম জামাল। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করে তিনি পরাজিত হন। একই পরিণতি হয় ২০১৮ সালেও।
নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রাখতে গিয়ে জেল-জুলুম, হামলা-মামলার শিকার হয়েছি। বারবার কারাবরণও করেছি। দলের দুর্দিনে নেতাকর্মীদের পাশে ছিলাম। তাই আমি মনে করি দল এবার আমাকে মনোনয়ন দিয়ে এই ত্যাগের মূল্যায়ন করবে।’
বিএনপির মনোয়নপ্রত্যাশী সেলিম রেজা বলেন, ‘দেশের বাইরে অবস্থান করলেও ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ে সর্বদা জাগ্রত ও সক্রিয় ছিলাম। এ কারণে বিভিন্ন সময় রোষানলেও পড়ি। দেশে পরিবারের লোকজনকেও হয়রানির শিকার হতে হয়। আশা করি নিরাশ করবে না।’
ইঞ্জিনিয়ার একেএম রেজাউল করিম বলেন, ‘একযুগ ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণসহ জনসেবামূলক বিভিন্ন কাজ করে জনগণের মন জয় করেছি। এরপরও চারবার দলীয় মনোনয়ন চেয়ে ব্যর্থ হই। এবার আশা করি দল আস্থা রাখবে।

ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা গোলাম আজম সৈকত বলেন, ‘কিশোর বয়স থেকেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ছাত্রদলে অংশগ্রহণ করি। দলের দুঃসময়ে আন্দোলন- সংগ্রামে অংশ নিয়েছি। ফ্যাসিবাদী সরকারের মামলা, হামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছি। দলের পাশে সব সময় ছিলাম, আছি এবং থাকব। দলীয় স্বার্থে মনোনয়ন পাব বলেও আশাবাদী।’
অপরদিকে এই আসনে একক প্রার্থী ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলের রাজাপুর উপজেলা শাখার সাবেক আমির ও বর্তমান জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা হেমায়েত উদ্দিনকে মনোনয়ন দেওয়ায় মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন তিনি। তিনি রাজাপুর-কাঠালিয়ার প্রত্যন্ত জনপদে জনসাধারণের সঙ্গে গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন। তার পক্ষে জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীরা ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। বিভিন্ন জনসেবামূলক কাজ, স্বেচ্ছাশ্রম ও অর্থায়নে বিভিন্ন ইউনিয়নে রাস্তা ও সেতু সংস্কারসহ সামাজিক কাজ করে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে দলটি।
নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে মাওলানা হেমায়েত উদ্দিন বলেন, ‘জনগণ আমাকে ভোট দেবে না, ইসলামী হুকুমাত কায়েম করার জন্য দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেবে।’
ইসলামিক স্কলার ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ড. ফয়জুল হক ইসলামী দলগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখছেন। বিভিন্ন মিডিয়ায়, স্থানীয় এবং জাতীয় সম্মেলনে ইসলামের পক্ষে জোরালো বক্তব্য দিচ্ছেন। জামায়াত তৎপর থাকলেও এখনো পর্যন্ত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি ইসলামী আন্দোলনসহ অন্য ইসলামী দল এবং জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) অন্য দলগুলো। তবে জামায়াতের সঙ্গে জোট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে। প্রচার আছে সেক্ষেত্রে মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ড. ফয়জুল হককে জামায়াতসহ অন্য দলগুলো যৌথ সমর্থন দিতে পারে।
রাজাপুর-কাঠালিয়া আসনে ইসলামী দলগুলো সমন্বয় করে প্রার্থী দিলে ইসলামী রাষ্ট্র এবং কুরআনের আইন কায়েমের দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। কোনো ব্যক্তির মতাদর্শ নয়, আল্লাহ ও রাসুলের নির্দেশিত পথ প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

ঝালকাঠি-২ (সদর উপজেলা ও নলছিটি) ॥ ঝালকাঠি সদর উপজেলা ও নলছিটি উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনটিতে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী অন্তত আটজন। তাদের মধ্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি এবং ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী জীবা আমিনা আল গাজী, সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল হক নান্নু, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মনিরুল ইসলাম নূপুর এবং জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি ও যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা জিএম আব্দুস সবুর কামরুল জোর প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগ চালাচ্ছেন। বিভিন্ন সভা-সমাবেশে অগ্রভাবে অংশ নিচ্ছেন তারা।

জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি জুলফিকার আলী ভুট্টোর মরণোত্তর উপনির্বাচনে স্ত্রী ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো ২০০০ সালে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করলেও তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের খাদ্যমন্ত্রী আমির হোসেন আমু নৌকা প্রতীক নিয়ে ভোট কারচুপিতে জয়ী হন। এরপর ২০০১ সালের চারদলীয় ঐক্যজোটের নির্বাচনে বিজয়ী হন ইলেন ভুট্টো। তারই ধারাবাহিকতা ২০০৮ সালে বিএনপির মনোনয়ন পান ইলেন ভুট্টো। তিনি সে যাত্রায় পার হতে না পারলেও এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৮ সালেও দলের টিকিট পান তিনি। তবে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালে বিএনপির টিকিট দেওয়া হয় জীবা আমিনার হাতে।
আওয়ামী লীগ সরকারের শেষের দিকে রাজনীতিতে পুনরায় সক্রিয় হলেও সভা-সমাবেশে কোণঠাসা করে রাখা হয়েছিল ইলেন ভুট্টোকে। রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ায় তাকে নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তাদের অভিযোগ, ইলেন ভুট্টো ২০১৮ সালের নির্বাচনের পরে নেতাকর্মীদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখেননি। এরপর তাকে কেউ খুঁজে পায়নি। আওয়ামী শাসনামলে তার নামে হয়নি কোনো মামলাও।
বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী জীবা আমিনা বলেন, ‘২০১৮ সালে নির্বাচনী প্রচারে নামায় বাড়িতে হামলা, পথে পথে সন্ত্রাসী হামলায় গাড়ি ভাঙচুর করে। এরপর বিভিন্নভাবে হামলা-মামলা দিয়ে নির্যাতন ও হয়রানি করে ফ্যাসিবাদী সরকার। এত কিছুর পর নেতাকর্মীদের আগলে রাখার চেষ্টা করেছি। এবার দল তার প্রতিদান দেবে বলে প্রত্যাশা রাখি।’

 

মাহবুবুল হক নান্নু ছাত্রদল মনোনীত বরিশাল বিএম কলেজের সাবেক ভিপি, বিএনপির বর্তমান সহসাংগঠনিক সম্পাদক পদের দায়িত্ব পালন করছেন। বিগত দিনে রাজধানী ঢাকাসহ ঝালকাঠির আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন তিনি। তিনি একাধিকবার কারাবরণও করেন। নির্বাচনের মাঠে লড়ার ইচ্ছা তার বহু আগের। বেশ কয়েকবার তিনি দলের মনোনয়নও চান। এবারও তিনি আশাবাদী বলে জানিয়েছেন।
২০২০ সালে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পর থেকে সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় আছেন। দলের দুঃসময়ে তিনি জেলা বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ করে রেখেছেন। তার নামে একাধিক মামলাও হয়েছে। তার বাসায় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা হামলা করে ভাঙচুর চালায়।
দলের আরেক ত্যাগী নেতা মনিরুল ইসলাম নূপুরও মনোনয়ন পাওয়ার জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, তৃণমূল নেতাকর্মীদের চাহিদার আলোকে রাজনীতি করছি। এবার দল আমাকে টিকিট দেবে বলে আশা রাখি।

জিএম আব্দুস সবুর কামরুল জানান, ফ্যাসিবাদী সরকার পতনের এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন-সংগ্রামে জেলায় ও কেন্দ্রে সব সময় অগ্রভাগে ছিলাম। এজন্য অনেক হামলা ও মামলা সহ্য করতে হয়েছে। একাধিকবার কারাবরণ করেছি। তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ সব সময়ই রেখেছি, যা এখনো বহাল আছে। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে তার অবমূল্যায়ন হবে না, বরং বিজয় নিশ্চিত বলেও আশা করেন তিনি।
এদিকে বারবার কারা নির্যাতিত ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য ব্যারিস্টার এম জি জাকারিয়াও এবার বিএনপির মনোনয়ন চাইবেন বলে জানিয়েছেন। গত ১৫ বছরে তার নামে আওয়ামী লীগ ৪৫টি মামলা দিয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

এই আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে শেখ নেয়ামুল করীমকে। যিনি বরিশাল বিএম কলেজ ছাত্র সংসদের এজিএস এবং ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় অফিস সম্পাদক ছিলেন। তিনি ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগ চালাচ্ছেন। তার পক্ষ হয়ে জামায়াত-শিবিরের লোকজনও প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগ করছেন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দল থেকে এখনো মনোনয়ন প্রদান করা হয়নি। তবে ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ধর্মীয় আলোচক নবমুসলিম ডা. সিরাজুল ইসলাম সিরাজী গণসংযোগ ও প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। জনগণের দ্বারে দ্বারে গিয়ে কুশল বিনিময় করছেন এবং খোঁজখবর নিচ্ছেন। ঝালকাঠির ইসলামী দলগুলোর সমন্বয়ে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে বাছাই করে তাকে সমন্বিত মনোনয়ন দিয়ে নির্বাচন করার প্রক্রিয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে।




কাফনের কাপড় হাতে পার্কের বেঞ্চে শুয়ে জীবন ছুঁয়ে দেখা বরিশালে তরুণীর বিষপানে হৃদয়বিদারক গল্প

মানুষ বাঁচতে চায়। প্রতিদিনের কোলাহলে সে খোঁজে একটু আশ্বাস, একটু ভালোবাসা, আগামী দিনের ছোট্ট একটি স্বপ্ন। কিন্তু যখন সেই স্বপ্নগুলো একে একে ভেঙে যায় অপমান, অবহেলা আর মানসিক নির্যাতনের ভারে—তখন কিছু মানুষ বেছে নেয় এমন পথ, যা ভাবতেই শিউরে ওঠে মন।

বরিশালে তেমনই এক তরুণী সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে নগরীর মুক্তিযোদ্ধা পার্কে কাফনের কাপড় ও দাফনের প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাশে রেখে বিষপান করেন। পার্কের একটি বেঞ্চে শুয়ে পড়া তার নিস্তেজ দেহ দেখে মুহূর্তে স্তব্ধ হয়ে যায় চারপাশ। পরে তাকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানান, তার অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বরিশাল সদর উপজেলার বাসিন্দা ওই তরুণীর সঙ্গে প্রকৌশলী সিদ্দিকুর রহমান সাগরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরিবারের অসম্মতিতে ২০২৫ সালের মে মাসে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। শুরুটা ছিল স্বপ্নে মোড়া। কিন্তু সেই স্বপ্ন বেশিদিন টিকেনি। বিয়ের মাত্র চার মাস পর গোপনে তাকে তালাক দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

তরুণীর অভিযোগ, এর আগেই তিনি অন্তঃসত্ত্বা হলে শ্বশুরবাড়ির লোকজন জোরপূর্বক তার গর্ভপাত করান। মাতৃত্বের স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার ক্ষত তখনই তার হৃদয়ে গেঁথে যায়। সোমবার ছিল সেই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি মামলার শুনানির দিন। আদালতে হাজির হয়ে ন্যায়ের আশায় দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। কিন্তু শুনানি শেষে আদালত চত্বর থেকে বের হওয়ার সময় শ্বশুর ও দেবরের কটাক্ষ ও অশালীন মন্তব্যের শিকার হন।

সেই মুহূর্তের অপমান, মানুষের ভিড়ে একাকিত্ব আর জমে থাকা মানসিক যন্ত্রণা—সব মিলিয়ে যেন ভেঙে পড়ে তার ভেতরের শক্ত শেষ দেয়ালটিও। আদালত থেকে বের হয়ে বাজারে যান তিনি। কেনেন কাফনের কাপড়, দাফনের সামগ্রী। তারপর হেঁটে যান মুক্তিযোদ্ধা পার্কে। বেঞ্চে শুয়ে পড়ে এক চুমুক বিষ—জীবন আর মৃত্যুর মাঝখানে দাঁড়িয়ে নিজের অস্তিত্বকে প্রশ্ন করেন তিনি।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বরিশাল জেলা পুলিশের সদস্য মো. জীবন জানান, পার্কের একটি বেঞ্চে শুয়ে তরুণী কাতরাচ্ছিলেন। শিশু-কিশোরদের কাছ থেকে খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পাশে পড়ে ছিল একটি বিষের বোতল ও দাফনের সামগ্রী। দ্রুত ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিলে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।

শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মেহেদী হাসান বলেন, তিনি কীটনাশকজাতীয় বিষ পান করেছেন। হাসপাতালে আনার পর তার পাকস্থলী পরিষ্কার করা হয়েছে। বর্তমানে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা এখনো সন্তোষজনক নয়।

এই ঘটনায় নগরজুড়ে নেমে এসেছে গভীর নীরবতা ও চাঞ্চল্য। সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন উঠছে—একজন নারী কতটা ভেঙে পড়লে কাফনের কাপড় হাতে নিয়ে পার্কের বেঞ্চে শুয়ে পড়ে মৃত্যুকে ডাকতে পারে? অনেকেই বলছেন, সামাজিক অবহেলা, পারিবারিক চাপ, আইনি জটিলতা আর মানসিক নির্যাতনের বোঝা বহন করতে গিয়েই এমন চরম সিদ্ধান্তের পথে হাঁটতে বাধ্য হচ্ছেন নারীরা।

এই তরুণীর গল্প কেবল একটি ঘটনার বিবরণ নয়—এটি আমাদের সমাজের আয়না। যেখানে ভালোবাসা ভেঙে যায়, ন্যায় পেতে গিয়ে মানুষ অপমানিত হয়, আর জীবনের শেষ আশাটুকুও যখন নিভে যায়—তখন কেউ কেউ কাফনের কাপড় হাতেই জীবনের শেষ অধ্যায় লিখতে বসে।

আমরা কি পারি না, এমন আরেকটি বেঞ্চে যেন আর কোনো তরুণী মৃত্যুর অপেক্ষায় শুয়ে না পড়ে—সেই সমাজটা গড়ে তুলতে?


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




নৌকার গায়ে লেখা থাকে জীবনের গল্প, ভেসে চলে শত পরিবারের স্বপ্ন

ভোরের আলো ফুটতেই নদীপাড়ের বাতাসে মিশে যায় হাতুড়ির ঠকঠক শব্দ। করাতের ঘ্রাণে ভরে ওঠে গজারিয়া বাজার। কাঠের টুকরোর ফাঁকে ফাঁকে জমে ওঠে ঘামের গল্প, স্বপ্নের রং। এখানে প্রতিদিন জন্ম নেয় নতুন নৌকা—আর সেই নৌকার গায়ে ভেসে ওঠে শত শত পরিবারের জীবনের গল্প।

ভোলার লালমোহন ও চরফ্যাশন এলাকার গজারিয়া বাজারে নৌকা শুধু যাতায়াতের বাহন নয়, এটি জীবনের অবলম্বন। যারা এই নৌকা বানান, স্থানীয়ভাবে তারা পরিচিত ‘নৌকা ব্যাপারী’ নামে। বাপ-দাদার হাত ধরে শেখা এই পেশাই যুগের পর যুগ ধরে টিকিয়ে রেখেছে অসংখ্য পরিবারকে।

চার দশকের কারিগর আলতাফ হোসেন আজও চোখে ভাসান শৈশবের দিনগুলো। বাবার পাশে দাঁড়িয়ে কাঠ ঘষা, নৌকার গায়ে প্রথম পেরেক ঠোকার মুহূর্ত—সেই স্মৃতি এখনো তাকে শক্তি জোগায়। দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে তিনি এই পেশায় যুক্ত। তার কারখানায় বর্তমানে কাজ করেন চারজন মিস্ত্রি। চরফ্যাশন, দক্ষিণ আইচা, শশীভূষণ, মনপুরা থেকে জেলেরা এসে তার কাছে নৌকা বানান।

আলতাফ বলেন,
“জেলেদের চাহিদামতো নৌকা বানাই। বর্ষায় কাজ বেশি, শীতে কিছুটা কমে যায়। তবুও এই কাজেই আমাদের সংসার চলে।”

গজারিয়া বাজারে আলতাফ একা নন। মো. নাগর, কালাম, আলমগীর, বেল্লাল, হাসান, মিলন, আল-আমিন, শানু, ইকবাল, জুয়েল, শেখ ফরিদ, আমির—এমন অন্তত ১৫ জন নৌকা ব্যাপারী এখানে প্রতিদিন কাঠ আর ঘামের বন্ধনে গড়ে তুলছেন ভবিষ্যৎ। তাদের কারখানায় কাজ করেন শতাধিক শ্রমিক।

ব্যাপারী ফয়সাল বলেন,
“সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ চলে। নৌকা বানিয়ে জেলেরা নিয়ে যায়। সরকারিভাবে কোনো সহায়তা পাইনি। যদি আর্থিক সহযোগিতা পাওয়া যেত, এই শিল্প আরও এগিয়ে যেত।”

চরফ্যাশন-ভোলা মহাসড়কের পাশে গজারিয়া বাজারে প্রায় অর্ধশত বছর ধরে টিকে আছে এই নৌ-শিল্প। মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে মাছ ধরতে নৌকা অপরিহার্য হওয়ায় বছরের অন্তত ছয় মাস এখানে ব্যস্ততা থাকে তুঙ্গে। মূলত দুই ধরনের নৌকা তৈরি হয়—ডিঙি ও কোষা। কোষা সাধারণত ৯ থেকে ১০ ফুট, আর ডিঙি ১৫ থেকে ১৬ ফুট লম্বা হয়।

রেইনট্রি, কড়ই, চাম্বুল, সুন্দরী কিংবা মেহগনি কাঠ ব্যবহার করা হয় নৌকা বানাতে। সঙ্গে লাগে পেরেক, তারকাটা ও জলুয়া। একটি ১২ হাতের নৌকা বানাতে তিনজন শ্রমিকের মজুরি পড়ে প্রায় ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা। কাঠে লাগে প্রায় ৪ হাজার, আনুষঙ্গিকে আরও ৩ হাজার। সব মিলিয়ে ৯-১০ হাজার টাকায় তৈরি নৌকা বিক্রি হয় ১৪-১৫ হাজার টাকায়। লাভ খুব বেশি নয়, তবুও থামে না তাদের লড়াই। অনেকেই ঋণ নিয়ে এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

স্থানীয় স্কুলশিক্ষক রিয়াজুর কবির বলেন,
“প্রায় ৪০ বছর ধরে এই শিল্প চলছে। শতাধিক পরিবার এর সঙ্গে যুক্ত। তারা পরিবার চালাচ্ছে, দেশের অর্থনীতিতেও অবদান রাখছে। কিন্তু সরঞ্জামের দাম বেড়েছে, লাভ কমেছে। ধারদেনা করে তারা শিল্প টিকিয়ে রেখেছেন। এই নৌ-শিল্প বাঁচাতে এখন সরকারি সহায়তার বিকল্প নেই।”

নদীমাতৃক বাংলাদেশে যখন অনেক ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে, তখন গজারিয়ায় এখনো বেঁচে আছে নৌকার স্বপ্ন। হাতের নিপুণ ছোঁয়ায় তৈরি প্রতিটি নৌকা যেন বলে—এই নদীর পাড়ে মানুষ এখনো স্বপ্ন বানায়, কাঠে খোদাই করে ভবিষ্যৎ।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




স্বেচ্ছাশ্রমে গড়া দুই সেতু, ছয় বছরের দুর্ভোগের অবসান মঠবাড়িয়ায়

ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের পর কেটে গেছে দীর্ঘ ছয় বছর। এই সময়জুড়ে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করেছেন হাজারো মানুষ। স্কুলে যেতে শিশুদের পা কাঁপত, অসুস্থ রোগীকে কোলে নিয়ে পার হতে হতো খাল, বাজারে যেতে বৃদ্ধদের চোখে থাকত ভয়। অবশেষে সেই কষ্টের দিন ফুরালো। পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত হলো দুটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজ—যা একসঙ্গে যুক্ত করেছে সাতটি গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রা।

মঠবাড়িয়া উপজেলার ধনীসাফা ইউনিয়নের আলগীপাতাকাটা খাল ও মিরুখালী ইউনিয়নের বাদুরা খালের ওপর নির্মিত কাঠের এই দুটি ব্রিজ উদ্বোধন করা হয় সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে। উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহ-সম্পাদক এ আর মামুন খান।

এই সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ওহিদুজ্জামান মিল্টন, উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব তাহসিন জামাল রুমেল, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি ইমরান হোসেন মনি ও ইউনিয়ন যুবদলের নেতাকর্মীরা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ২০২০ সালের ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে এই দুটি ব্রিজ ভেঙে পড়ে। এরপর দীর্ঘ সময়েও তা পুনর্নির্মাণ হয়নি। ফলে ধনীসাফা ও মিরুখালী ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত সাতটি গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন। স্কুল-মাদ্রাসায় যাতায়াত, বাজার করা কিংবা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাওয়ার মতো সাধারণ কাজও হয়ে ওঠে বিপজ্জনক।

ধনীসাফা ইউনিয়নের আলগীপাতাকাটা খালের ওপর ৭৫ ফুট এবং মিরুখালী ইউনিয়নের বাদুরা খালের ওপর ২৫ ফুট দৈর্ঘ্যের ব্রিজ দুটি ভেঙে থাকায় হাজারো পথচারী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো বা ভাঙা কাঠের ওপর দিয়ে পার হতেন। অনেক সময় শিশু ও বৃদ্ধরা পড়ে গিয়ে আহতও হয়েছেন।

এই দুরবস্থার চিত্র স্থানীয় যুবদলের নজরে আসে। সরকারি উদ্যোগের অপেক্ষায় না থেকে ইউনিয়নের যুবদল নেতাকর্মীরা নিজেরাই এগিয়ে আসেন। স্বেচ্ছাশ্রমে, নিজেদের উদ্যোগ ও সহযোগিতায় তারা ব্রিজ দুটি পুনর্নির্মাণ করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ আর মামুন খান বলেন,
“ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে সেতু দুটি ভেঙে পড়ার পর থেকে হাজার হাজার মানুষ দুর্ভোগে ছিলেন। বিষয়টি আমাদের স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে নজরে আসে। সাধারণ মানুষের চলাচলের সুবিধার্থেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যুবদল সবসময় মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চায়।”

ব্রিজ দুটি চালু হওয়ার পর স্থানীয়দের মুখে ফিরে এসেছে স্বস্তির হাসি। একজন বৃদ্ধ বাসিন্দা বলেন,
“এতদিন মনে হতো আমরা যেন আলাদা হয়ে গেছি। এখন আবার সহজে বাজারে যেতে পারব, নাতি-নাতনিরা স্কুলে যেতে পারবে। এই সেতু শুধু কাঠের নয়, আমাদের জীবনের সঙ্গে যুক্ত।”

স্বেচ্ছাশ্রমে গড়া এই দুটি সেতু এখন শুধু পথ নয়—এগুলো হয়ে উঠেছে মানুষের আশার প্রতীক।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ধানের দামে ধস, মাঠের ঘামে ভাসছে হতাশা পটুয়াখালীর হাটে কৃষকের কান্না

ভোরের আলো ফোটার আগেই ঘুম ভাঙে কৃষকের। কাঁধে নেমে আসে বছরের পর বছরের ক্লান্তি, হাতে তুলে নেয় ঘামের ফসল—ধানের বস্তা। আশা থাকে, আজ হয়তো পরিশ্রমের ন্যায্য দাম মিলবে। কিন্তু পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের সাপ্তাহিক ধান হাটে সেই আশাই ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছে। এখানে ধানের বস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আজ কৃষকের চোখে শুধু হতাশা, মুখে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের ছায়া।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকাল থেকেই হাটে জড়ো হন শত শত কৃষক। নৌকা, ভ্যান কিংবা কাঁধে করে বস্তাবন্দি ধান নিয়ে তারা অপেক্ষায় থাকেন ক্রেতার। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে একে একে ফিরছেন বিমর্ষ মুখে। বাজারে এক মণ ধানের দাম ঘুরপাক খাচ্ছে মাত্র ১,১০০ থেকে ১,১৫০ টাকার মধ্যে—যেখানে উৎপাদন খরচই উঠে না।

গলাচিপা উপজেলার উলানিয়া এলাকার ষাট বছর বয়সী কৃষক আবু জাফর বলেন, “চাল, তেল, ডাল—সব কিছুর দাম বাড়ছে। কিন্তু ধানের দাম বাড়ছে না। একজন শ্রমিক খাটাতে দিনে ৭০০-৮০০ টাকা দিতে হয়, সঙ্গে তিন বেলা খাবার। এক মণ ধান বিক্রি করেও সেই খরচ ওঠে না। এভাবে চলতে থাকলে কিছুদিন পর আমরা আর খাইতেই পারব না।”

কালাইয়া হাটের আরেক কৃষক কাওসার আলী (৫৬) ভাঙা কণ্ঠে জানান, “এই বছর যে দামে ধান বিক্রি হচ্ছে, তাতে লাভ তো দূরের কথা, খরচই ওঠে না। ১,১৫০ টাকায় এক মণ ধান বিক্রি করে কী হবে? যদি এমন চলতে থাকে, অল্প কিছুদিনের মধ্যেই জমি বিক্রি করে খেতে হবে।”

হাটে ঘুরে দেখা যায়, সারি সারি ধানের বস্তা। কেউ বসে আছেন বস্তার ওপর, কেউ দাঁড়িয়ে তাকিয়ে আছেন সম্ভাব্য ক্রেতার দিকে। কিন্তু মুখে কারও হাসি নেই। কৃষকদের অভিযোগ, চলতি মৌসুমে সার, বীজ, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের মজুরি—সবকিছুর দাম বেড়েছে। অথচ ধানের বাজারদর সেই অনুপাতে বাড়েনি। ফলে প্রতিদিনই তারা পড়ছেন আর্থিক চাপে।

চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চর ডিয়ারা গ্রামের কৃষক আরিফুর রহমান (৩৫) জানান, ১৯০ কড়া জমিতে ধান করেছি। আজ ৪০ মণ ধান বিক্রি করতে এনেছি। কিন্তু বাজারদর আর উৎপাদন খরচের হিসাব মিলালে লাভ তো নেই-ই, বরং লোকসান। প্রতিদিনের পরিশ্রমের মূল্য না পেয়ে ভীষণ হতাশ লাগছে।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মিলন বলেন,“চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৩৪ হাজার ৭১০ হেক্টর জমিতে ধান আবাদ হয়েছে এবং উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৯০ হাজার মেট্রিক টন। কৃষক যেন তার পরিশ্রমের ন্যায্য মূল্য পায়, সে বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। সার, বীজ ও অন্যান্য উপকরণ সহজলভ্য রাখতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।”

তবে মাঠের বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। হাটের প্রতিটি ধানের বস্তা যেন কৃষকের জীবনের গল্প বহন করছে—ঘাম, শ্রম আর অনিশ্চয়তার গল্প। ন্যায্য দাম না পেলে সেই গল্প যে আরও বেদনাদায়ক হয়ে উঠবে, তা বুঝতে কারও বাকি নেই।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




মঠবাড়িয়ায় অবৈধ ইটভাটায় প্রশাসনের কঠোর অভিযান, গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো কাঁচা ইট

পরিবেশ ধ্বংসের নীরব কারখানা হয়ে ওঠা অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিল প্রশাসন। পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় অনুমোদনহীনভাবে পরিচালিত একটি ইটভাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বিপুল পরিমাণ কাঁচা ইট। একই সঙ্গে ভাটার মালিককে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার সাপলেজা ইউনিয়নের ভাইজোড়া গ্রামে বলেশ্বর নদীর তীরবর্তী এলাকায় অবস্থিত ‘মেসার্স মক্কা ব্রিকস’-এ এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন মঠবাড়িয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রাইসুল ইসলাম।

অভিযান চলাকালে দেখা যায়, সরকারি অনুমোদন ও পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই ইটভাটাটি দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হচ্ছিল। আইন অমান্য করে নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভাটা স্থাপন করায় পরিবেশ ও কৃষিজমির ওপর মারাত্মক হুমকি তৈরি হচ্ছিল। এসব অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রাইসুল ইসলাম জানান,
“অবৈধভাবে ইটভাটা পরিচালনার দায়ে ভাটার মালিক মো. ইউসুফ মুন্সিকে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ অনুযায়ী এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রস্তুত করা কাঁচা ইট বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, পরিবেশ রক্ষা ও জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে। কোনোভাবেই আইন লঙ্ঘন করে ইটভাটা পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই ভাটার ধোঁয়ায় আশপাশের ফসল নষ্ট হচ্ছিল, বাতাস দূষিত হচ্ছিল এবং নদীর তীর ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছিল। প্রশাসনের এই উদ্যোগে তারা স্বস্তি প্রকাশ করেন এবং নিয়মিত অভিযান চালানোর দাবি জানান।

পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে প্রশাসনের এমন কঠোর পদক্ষেপ এলাকাবাসীর মধ্যে সচেতনতা বাড়াবে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




পানিতে পড়লেই বাঁচবে জীবন ভোলার তরুণের যুগান্তকারী ‘চাইল্ড সেফটি ডিভাইস’

এক মুহূর্তের অসাবধানতা, আর তাতেই নিভে যায় একটি ছোট্ট প্রাণ। নদী–খাল আর পুকুরে ঘেরা উপকূলীয় জনপদে শিশুদের পানিতে ডুবে মৃত্যু যেন নিত্যদিনের ভয়াবহ বাস্তবতা। সেই বাস্তবতাকে বদলাতে স্বপ্ন দেখেছেন ভোলার মনপুরার তরুণ উদ্ভাবক মো. তাহসিন। আর সেই স্বপ্ন থেকেই জন্ম নিয়েছে ‘চাইল্ড সেফটি ডিভাইস’—একটি লকেট আকৃতির প্রযুক্তি, যা শিশু পানিতে পড়লেই বেজে উঠবে সাইরেন, আর সঙ্গে সঙ্গে অভিভাবকের মোবাইলে পৌঁছে যাবে সতর্কবার্তা।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে ভোলা পৌরসভার পুকুরে এই ডিভাইসের পরীক্ষামূলক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দেখা যায়, সাঁতার না জানা এক শিশু পানিতে নামার সঙ্গে সঙ্গেই ডিভাইসটি সক্রিয় হয়ে ওঠে। মুহূর্তেই চারপাশে বেজে ওঠে বিপদ সংকেত। শব্দ শুনে ছুটে আসেন মানুষ, উদ্ধার করা হয় শিশুটিকে। কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে রক্ষা পায় একটি প্রাণ।

এই ডিভাইসটি শিশুর গলায় লকেটের মতো ঝুলিয়ে রাখা যাবে। অভিভাবকের কাছে থাকবে একটি ছোট পোর্টেবল রিসিভার। শিশু পানির সংস্পর্শে এলেই রিসিভার থেকে সাইরেন বাজবে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে অভিভাবকের মোবাইলে কল যাবে। শুধু তাই নয়, এতে যুক্ত আছে জিপিএস প্রযুক্তি—যার মাধ্যমে জানা যাবে শিশুটি ঠিক কোন স্থানে পানিতে পড়েছে।

প্রদর্শনী দেখতে ভিড় করেন নানা বয়সী মানুষ। উপস্থিত ছিলেন ভোলার সিভিল সার্জন ডা. মনিরুল ইসলাম ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান। তারা উদ্ভাবনটির প্রশংসা করেন এবং এর প্রসারে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

সিভিল সার্জন ডা. মনিরুল ইসলাম বলেন,“ভোলার মতো পানিবেষ্টিত এলাকায় শিশুদের পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঝুঁকি অনেক বেশি। এই উদ্ভাবন মানুষের জন্য আশার আলো। এর প্রসারে আমরা সব ধরনের সহায়তা করব।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান বলেন,“এই ডিভাইস যদি একজন শিশুর জীবনও রক্ষা করতে পারে, সেটাই হবে এর সবচেয়ে বড় সাফল্য। তরুণ তাহসিনের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়।”

উদ্ভাবক তাহসিন জানান, পানিতে ডুবে তার দুই খালাতো বোনের মৃত্যুই তাকে ভেতর থেকে নাড়িয়ে দেয়। সেই বেদনা থেকেই তিনি ভাবতে শুরু করেন—কীভাবে প্রযুক্তির মাধ্যমে এই মৃত্যু রোধ করা যায়। বিজ্ঞানপ্রেমী তাহসিন নিজের ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেন ‘চাইল্ড সেফটি ডিভাইস’-এ।

তিনি বলেন,
“আমি চাই আর কোনো পরিবার যেন পানিতে ডুবে শিশুকে হারিয়ে শোকে ভেঙে না পড়ে। এই ডিভাইস শিশুর সঙ্গে থাকলে দুর্ঘটনার মুহূর্তেই সবাই জানতে পারবে।”

ডিভাইসটি তৈরি করতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার টাকা, যা পরিবারের সহায়তায় জোগাড় করা হয়েছে। শুরুতে লকেটটির আকার ও ওজন বেশি ছিল। কিন্তু এখন সেটি মাত্র ২ গ্রাম ওজনের—শিশুর গলায় ঝোলানো একেবারেই সহজ।

ইউনিসেফের তথ্যমতে, বাংলাদেশে প্রতিবছর গড়ে প্রায় ১৪ হাজার শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে উপকূলীয় এলাকার ১ থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুরা। সচেতনতা ও সাঁতার শেখানোর পাশাপাশি প্রযুক্তির এই ব্যবহার নতুন আশার দুয়ার খুলে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তাহসিনের উদ্ভাবন যেন শুধু একটি যন্ত্র নয়—এ যেন অসংখ্য শিশুর ভবিষ্যৎ বাঁচানোর এক নীরব প্রতিশ্রুতি।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫