“পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে ৫ বছর ভাঙা ব্রীজে চরম দূর্ভোগ, দুই উপজেলার মানুষ সমস্যায়”

মির্জাগঞ্জ উপজেলার আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের ডোমরাবাদ এলাকায় ধানবোঝাই ট্রলারের ধাক্কায় ‘ডোমরাবাদ-জলিশা সংযোগ ব্রীজ’ ভেঙে পড়ে গত পাঁচ বছর ধরে নদে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় স্থানীয় স্কুল শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ মানুষজন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ডিঙ্গি নৌকায় পারাপার হচ্ছেন।

সম্প্রতি নদীর দুই তীরের বাসিন্দারা নিজস্ব উদ্যোগে ভাঙা সেতুর পশ্চিমাংশে গাছ দিয়ে অস্থায়ী সাঁকো তৈরি করেছেন। নেট দিয়ে বিশেষ নিরাপত্তা বেষ্টনীও বসানো হয়েছে। তবে ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকোর কারণে এখনও জরুরি রোগী ও প্রসূতি মায়ের জন্য ১০–১২ কিলোমিটার দীর্ঘ ঘুরিয়ে পথ চলতে হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ২০০৬ সালের ৭ এপ্রিল নির্মিত ব্রীজটি ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ভেঙে পড়ে। ব্রীজের পশ্চিম পাড়ে বেতাগীর জলিশা, পূর্ব পাড়ে মির্জাগঞ্জের ডোমরাবাদ গ্রাম। ব্রীজটি ভেঙে যাওয়ায় দুই উপজেলার মানুষ যাতায়াত, কৃষি আবাদ ও হাট-বাজারে সমস্যায় পড়েছেন। দীর্ঘ চার বছর শিক্ষার্থীরা নৌকা ভাড়া দিয়ে পারাপার হতেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ ইউসুফ মিয়া জানান, ব্রীজ ভাঙার পর তার মেয়ে ও ভাতিজারা নিরাপত্তার কারণে অন্য স্কুলে ভর্তি হয়েছেন। ডোমরাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ফিরোজ আলম জানান, ব্রীজ ভাঙার কারণে স্কুলে আসা শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে।

মির্জাগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী চন্দন কুমার চক্রবর্তী জানান, ভাঙা ব্রীজের সয়েল টেস্ট সম্পন্ন হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া মাত্র দরপত্র আহ্বান করে দ্রুত ব্রীজ নির্মাণ শুরু করা হবে।

স্থানীয়রা প্রশাসনের প্রতি দাবি জানান, দ্রুত ব্রীজ নির্মাণ করলে শিক্ষার্থীরা নিরাপদে স্কুলে যাতায়াত করতে পারবে এবং কৃষকরা ফসল বাজারজাত করতে সক্ষম হবেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




“তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফেরানোর চূড়ান্ত আপিল শুনানি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মুলতবি”

দেশের সর্বোচ্চ আদালত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরানোর চূড়ান্ত আপিল শুনানি বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) পর্যন্ত মুলতবি করেছে।

বুধবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের সাত সদস্যের বেঞ্চে দ্বিতীয় দিনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।  শুনানি করেন সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া। তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরলেও আগামী নির্বাচন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে হবে। তবে চতুর্দশ সংসদ নির্বাচন হলে তা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে ২৭ আগস্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন সর্বোচ্চ আদালত মঞ্জুর করেন এবং আপিলের অনুমতি দেন। এরপর ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচজন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ার আপিল করেন।

২০১১ সালের ১০ মে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায় দেন তৎকালীন আপিল বিভাগ। ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরানোর জন্য নতুন আইনি লড়াই শুরু হয়।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




“কালো উইকেটের ফাঁদে বাংলাদেশ, জয়ের স্বাদ ওয়েস্ট ইন্ডিজের”

মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ওয়ানডে ক্রিকেটে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে ‘কালো উইকেট’। সবুজ আউটফিল্ডের মাঝখানে ঘূর্ণিময় কালো মাটি, যা মূলত স্পিনারদের জন্য সহায়ক। বাংলাদেশের পরিকল্পনা ছিল, এই উইকেটে প্রতিপক্ষকে ফাঁদে ফেলা। কিন্তু বাস্তবে উল্টোটা ঘটেছে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশ নিজেই এই কালো উইকেটের ফাঁদে জড়িয়ে পড়েছে। কিউরেটররা এই বিশেষ মাটিতে এমন মিশ্রণ ব্যবহার করেছেন যাতে বল নিচু থাকে, বেশি ঘুরে এবং পেসারদের সুবিধা কম হয়। তবে ব্যাটাররা সামান্য ঘূর্ণন, অপ্রত্যাশিত বাউন্স এবং স্লো ডেলিভারিতেও বারবার ভুল করছেন। প্রথম দুই ওয়ানডেতে বাংলাদেশের স্কোর যথাক্রমে ২০৭ ও ২১৩, যেখানে ৩০০ রান সাধারণ ঘটনা।

অবশ্য, এই উইকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটাররা চমক দেখিয়েছে। ইতিহাস গড়েছে তারা—৫০ ওভার পুরো স্পিনার দিয়ে বল করেছে। খারি পিয়ের, গুড়াকেশ মতি, রস্টন চেজ, আকিল হোসেন ও পার্টটাইমার অ্যালিক আথানেজ ১০ ওভার করে বল করে ৫০ ওভার সম্পূর্ণ করেছেন। অ্যালিক আথানেজ আগের ১৫ ওয়ানডেতে মাত্র ৪ ওভার বল করেছিলেন, কিন্তু দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ২ উইকেট নিয়ে মাত্র ১৪ রান খরচ করেন।

বিজয়ী দলের স্পিন জাদুকর আকিল হোসেন বলেন, “টিভি চালু করেও ভেবেছিলাম স্ক্রিনে সমস্যা! পরে বুঝলাম, পিচটাই কালো।” এ হাসির মধ্যে লুকিয়ে ছিল বাস্তবতা—বাংলাদেশের বানানো কালো মাটি এবার প্রতিপক্ষের জন্য সুযোগ তৈরি করেছে।

বাংলাদেশের ব্যাটাররা ফাঁদে পড়লেও, ওয়েস্ট ইন্ডিজ বুঝে নিয়েছে—ধৈর্য এবং ডানহাতি-বাঁহাতি কম্বিনেশনই জয়ের চাবিকাঠি। শাই হোপ ৬৭ বলে ৫৩ রানে ম্যাচটি সমান করেছে, এবং আকিল হোসেনের হাতে জয়ের কাঙ্ক্ষিত ম্যাচ তুলে দিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি সৌম্য সরকার বলেন, “ওরা ভালো ব্যাট করেছে, তাই জিতেছে। আমরা স্পিন বল করেছি, তারা স্পিনে সাড়া দিয়েছে।”

তবে মাঠের চিত্রে দেখা যাচ্ছে, কৌশলগত ভুলই বাংলাদেশের পতনের মূল কারণ। প্রতিপক্ষের পরিকল্পনা বোঝার আগেই বাংলাদেশ নিজস্ব স্ক্রিপ্টে আটকে পড়েছে। সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে হবে একই কালো উইকেটে, যেখানে আবারও উত্তেজনার সম্ভাবনা রয়েছে।

এখন প্রশ্ন, বাংলাদেশ কি শিখবে নিজের পিচের ভাষা, নাকি আবারও নিজেদের তৈরি ফাঁদে জড়িয়ে যাবে?


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




“পিরোজপুরে নতুন সংযোগ সেতুর উদ্বোধন”

দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে ভাঙা সংযোগ সেতুর দুর্ভোগ শেষ হয়েছে। স্থানীয় উদ্যোগে নির্মিত মল্লিকবাড়ী-বাদুরা সংযোগ সেতুটি শুক্রবার সন্ধ্যায় পিরোজপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইসরাত জাহান উদ্বোধন করেন। সেতুটি সদর উপজেলার বাদুরা খালের উপর নির্মিত।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সদর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা ও এসিল্যান্ড এস. এম. আল আমীন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম খান, সদস্য সচিব সাইদুল ইসলাম কিসমত, সরকারী কৌশুলী (জিপি) অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাব্বির আহমেদ, পিরোজপুর প্রেসক্লাব সভাপতি এস এম রেজাউল ইসলাম শামীম, ইত্তেফাকের স্টাফ রিপোর্টার মো: মনিরুজ্জামান নাসিম আলী, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল হক রিয়াজ, জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রহিমা আক্তার হাসি, সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও শংকরপাশা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন মল্লিক নাসিরসহ জেলা ও উপজেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে স্থানীয়রা একটি সভার আয়োজনও করেন।

স্থানীয়রা জানান, প্রায় ১৩ বছর আগে বাদুরা খালের উপর নির্মিত সংযোগ সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর খালের দু’তীরের অন্তত দশ গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছিলেন। বিগত সময়ে সরকার সেতুটি পুনঃনির্মাণ না করায়, এলাকাবাসী পিরোজপুর জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় নিজেদের উদ্যোগে ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করে।

সেতুর উদ্বোধনের পর এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা জানিয়েছেন, সেতুটি নির্মাণের মাধ্যমে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা আগের অবস্থায় ফিরেছে এবং সড়ক ও যোগাযোগের সমস্যা কমেছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




“মায়ের বিয়ের শাড়িতে ‘অতীতে’ ফিরলেন জয়া আহসান”

নন্দিত অভিনেত্রী জয়া আহসান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আবারও নতুন চমক দেখিয়েছেন। এবার তিনি মায়ের বিয়ের এবং বৌভাতের শাড়ি পরে ফটোশ্যুট করেছেন, যা নিয়ে ভক্তদের মধ্যে উচ্ছ্বাস সৃষ্টি হয়েছে।

জয়া জানান, এই শাড়ি দুটির বয়স প্রায় ৪৫ বছর। এগুলো তার মায়ের বিয়ের সময় ব্যবহৃত হয়েছিল—একটি বিয়ের শাড়ি, আর একটি বৌভাতের। শাড়ি দুটি কলকাতা থেকে তার বাবা কিনে এনেছিলেন। সোনার সুতোয় কাজ করা এই শাড়ি আজও নতুন বিবাহের উচ্ছ্বাসের মতো শোভা বহন করছে।

ফটোশ্যুটের সময় আয়নার সামনে জয়া স্মৃতিকাতর হয়ে জানিয়েছেন, “এই শাড়ি নিয়ে আমাদের দুই বোন ছোটবেলা থেকেই হুল্লোড় করতাম। বিবাদ হোক বা খুনসুটি, সেটা হতো কে কোনটা নেবে তা নিয়ে। আমি নীল শাড়ি চাইতাম, বোন পছন্দ করত টুকটুকে লাল শাড়ি।”

জয়া শাড়ি দুটিকে অমূল্য সম্পদ মনে করেন। তিনি বলেন, “আমার মাতৃতান্ত্রিক শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের অংশ হিসেবে সব শাড়িই আমার কাছে রয়েছে—মায়ের বিয়ের শাড়ি, আমার জন্মের আগে মায়ের শাড়ি সবই। এগুলো আলমারির যত্নে সংরক্ষিত। এবার হঠাৎ সুযোগ হলো সুন্দরভাবে স্টাইলিং করে ফটোশ্যুট করার।”

ফটোশ্যুটের ছবি প্রকাশের পর ভক্তদের প্রতিক্রিয়া ছিল উচ্ছ্বাসপূর্ণ। এক ভক্ত লিখেছেন, “কী সুন্দর, ভালোবাসাময় মোহনীয় সৌন্দর্যের ছোঁয়া।” আরেকজন মন্তব্য করেছেন, “ছবিগুলো দেখে ও জেনে খুব ভালো লাগলো, মার্জিত ও নান্দনিক।”

জয়ার এই ফটোশ্যুট তার ভক্ত ও অনুসারীদের মধ্যে নস্টালজিয়া এবং উচ্ছ্বাসের সৃষ্টি করেছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




নেছারাবাদে চেয়ারম্যান ও আ’লীগ নেতাকে গ্রেফতার

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার সোহাগদল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রশিদকে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের হাতে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার সময় মিয়ার হাট বন্দর থেকে তাকে গ্রেফতার করে নেছারাবাদ থানায় হস্তান্তর করা হয়।

নেছারাবাদ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বনি আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং জানান, গ্রেফতারের কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে জেলা ডিবি পুলিশের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়েছে।

ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মৃণাল কান্তি হালদার বলেন, “শুনেছি চেয়ারম্যানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে কী কারণে তা জানা যায়নি।”

পিরোজপুর জেলা পুলিশ সুপার খাঁন মোঃ আবু নাছের জানান, চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যক্রমের কারণে বা তার বিরুদ্ধে বিদ্যমান কোনো মামলার কারণে ডিবি পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে পারে। তিনি বলেন, “ডিবি পুলিশই বিস্তারিত জানাতে পারবেন।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




পাথরঘাটায় ঝুঁকিতে ৩৯ সেতু, দুর্ভোগে লাখো মানুষ

বরগুনার পাথরঘাটায় ঝুঁকিপূর্ণ ৩৯টি সেতু দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছে হাজারো মানুষ। পুরোনো ও ভগ্নদশাগ্রস্ত এসব সেতু যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি করেছে। ফলে স্থানীয়দের পাশাপাশি স্কুল শিক্ষার্থী, কৃষক ও রোগী পরিবহনে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

সংস্কারের অভাবে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সেতুগুলোর বেশিরভাগই এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অনেক সেতু ভেঙে খালে পড়ে আছে, তবুও বিকল্প না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছেন স্থানীয়রা। কোথাও কোথাও স্থানীয়রা নিজেরাই বাঁশের সাঁকো তৈরি করে চলাচলের ব্যবস্থা করেছেন।

পাথরঘাটা এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় মোট প্রায় শতাধিক সেতুর মধ্যে ৩৯টি সেতু ঝুঁকিপূর্ণ। এসব সেতুর বেশিরভাগ নির্মিত হয়েছে ১৯৯৭ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সেগুলোর লোহার কাঠামো মরিচা পড়ে দুর্বল হয়ে গেছে। ঝুঁকিপূর্ণ এসব সেতুর মোট দৈর্ঘ্য প্রায় দুই হাজার ৩৫৮ মিটার।

রূপধন এলাকার বাসিন্দা অ্যাডভোকেট সোহেল রানা বলেন, “বছরের পর বছর ধরে সেতুটি ভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে। কোনো সংস্কার না হওয়ায় আমরা নিজেরাই বাঁশের সাঁকো বানিয়ে চলাচল করছি। আমাদের দাবি, দ্রুত সেতুটি নতুন করে নির্মাণ করা হোক।”

চরদুয়ানীর বাসিন্দা জামান জানান, “রোগী পারাপার করতে গিয়ে অনেক কষ্ট হয়। বাচ্চারা স্কুলে যেতে গিয়ে ঝুঁকি নেয় প্রতিদিন। এখনই ব্যবস্থা না নিলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”

এ বিষয়ে পাথরঘাটা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সমীরন মন্ডল বলেন, “উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ ৩৯টি সেতুর তালিকা করা হয়েছে। পুনর্নির্মাণের জন্য মন্ত্রণালয়ে বাজেট প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে দ্রুত সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব সেতুর কোথাও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি। ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়েই পার হতে হচ্ছে সবাইকে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




সাঁকো দিয়ে ব্রিজ পারাপার, ছয় বছর ধরে দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার শুক্তাগড় ইউনিয়নের তালুকদার হাট সংলগ্ন সন্ধ্যা নদীর ওপর ভেঙে পড়া ২২৫ ফুট দীর্ঘ আয়রন ব্রিজটি ছয় বছরেও সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ হয়নি। ফলে স্থানীয়দের যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনো সীমিত একটি অস্থায়ী সাঁকোর ওপর নির্ভরশীল। এতে করে অন্তত ৩০টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ প্রতিদিন চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।

২০১৯ সালের ১১ ডিসেম্বর ভোরে গাছবাহী নৌকার ধাক্কায় ব্রিজটির মাঝের অংশ নদীতে ভেঙে পড়ে। এরপর থেকেই রাজাপুর, পাশের কাউখালী ও ঝালকাঠি সদর উপজেলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

যাত্রীবাহী গাড়ি ও মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকায় মানুষজন বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পারাপার করছেন। বিশেষ করে এলাকার সাতটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থী প্রতিদিন যাতায়াতে মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ব্রিজটির ওপর দিয়ে প্রতিদিন গড়ে পাঁচ-ছয় শ মানুষ যাতায়াত করতেন। এই পথে কৃষিপণ্য, বাজারের মালামালসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পরিবহন করা হতো।

বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম, আবু ইউসুফ, আনোয়ার মিলন ও মামুন জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত ও মৌখিকভাবে অভিযোগ করলেও এখনো স্থায়ী সমাধান মেলেনি। তারা দ্রুত ব্রিজটি নির্মাণের দাবি জানান।

রাজাপুর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার বলেন, “ব্রিজ নির্মাণের জন্য স্কিম তৈরি করে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু করা হবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরগুনায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকার, ১৩ জেলের কারাদণ্ড

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকারের অপরাধে বরগুনায় ১৩ জেলেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছে। মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) রাতে বরগুনা সদর উপজেলার নলটোনা এলাকার বিষখালী নদীতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইয়াছিন আরাফাত রানা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ট্রলার মালিক রিপন মীরকে ১৫ দিনের এবং অপর ১২ জেলেকে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।

মৎস্য বিভাগ জানায়, অভিযানে জেলেদের কাছ থেকে প্রায় ১ মণ ইলিশ ও অন্যান্য মাছ জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে জব্দ করা মাছ স্থানীয় ৫টি এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে।

দণ্ডিত জেলেরা হলেন — মো. পালাশ, মো. আউয়াল, মো. মনির, সাগর, ছগীর, মো. নুরুজ্জামান, রাকিব, রিপন মীর, রাজিব সিকদার, জয় বিশ্বাস, সুশীল চন্দ্র হাওলাদার, মাসুদ এবং রিপন সিকদার। তারা সবাই বরগুনা সদর উপজেলার নলটোনা এলাকার বাসিন্দা।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মহসীন বলেন, মা ইলিশ রক্ষায় চলমান ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার রাতে নলটোনা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৩ জেলেকে আটক করা হয়েছে।

এদিকে জেলা মৎস্য দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞার শুরু থেকে এ পর্যন্ত ৫৪টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, প্রায় ১৮৭ কেজি ইলিশ জব্দ এবং বিভিন্ন এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




তজুমদ্দিনে শিশুদের টাইফয়েড প্রতিরোধে সচেতনতা প্রচারণা

ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় শিশুদের টাইফয়েড জ্বর থেকে সুরক্ষিত রাখতে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হয়েছে। “টাইফয়েড জ্বর প্রতিরোধে, টিকা নেবো দল বেধে” — এই স্লোগান নিয়ে রবিবার (২০ অক্টোবর) দিনব্যাপী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে “টাইফয়েড ক্যাম্পেইন–২০২৫” এর সড়ক প্রচার কার্যক্রম আয়োজন করে ভোলা জেলা তথ্য অফিস

বাংলাদেশ সরকার সারাদেশে ১২ অক্টোবর ২০২৫ থেকে ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী সকল শিশুকে বিনামূল্যে এক ডোজ টাইফয়েড টিকা প্রদানের কার্যক্রম শুরু করেছে। এই কর্মসূচির আওতায় প্লে–নার্সারি থেকে নবম শ্রেণি বা সমমান পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা তাদের বিদ্যালয়ে ৩০ অক্টোবরের মধ্যে টিকা গ্রহণ করতে পারবে।

এছাড়া বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের শিশুরা ১ থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত দেশের সকল ইপিআই কেন্দ্রে গিয়ে টিকা নিতে পারবে।

টিকা গ্রহণের জন্য শিশুর জন্মনিবন্ধনের ১৭-সংখ্যার তথ্য ব্যবহার করে www.vaxepi.gov.bd ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করতে হবে এবং প্রাপ্ত টিকা কার্ড সঙ্গে নিয়ে উপস্থিত থাকতে হবে।

সচেতনতামূলক এই সড়ক প্রচারে স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্যকর্মী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা অংশগ্রহণ করেন। আয়োজকরা জানান— টাইফয়েড প্রতিরোধে জনগণকে সচেতন করা এবং শিশুদের টিকা গ্রহণে উৎসাহিত করাই এ প্রচারের মূল লক্ষ্য।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫