রকস্টার জেমসের তৃতীয় বিয়ে, জন্ম নিল পুত্র সন্তান

বাংলাদেশের রকসংগীতের কিংবদন্তি জেমস তৃতীয়বারের মতো বিয়ে করেছেন এবং এবার তিনি বাবা হয়েছেন। দীর্ঘ এক দশক একাকী জীবন কাটানোর পর ২০২৪ সালের ১২ জুন তিনি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক নামিয়া আমিনকে বিয়ে করেন।

চলতি বছরের ৮ জুন, নিউইয়র্কের হান্টিংটন হাসপাতালে জন্ম নেয় তাদের প্রথম পুত্র সন্তান, যার নাম রাখা হয়েছে জিবরান আনাম। জেমস বলেন, “বাবা হওয়ার অনুভূতি অসাধারণ। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া, তিনি আমাকে সুস্থ সন্তান দান করেছেন।”

জানা গেছে, ২০২৩ সালে লস অ্যাঞ্জেলসে এক অনুষ্ঠানে প্রথম দেখা হয় জেমস ও নামিয়ার। পরিচয়ের এক বছর পর ঢাকায় ঘরোয়া পরিবেশে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। নামিয়া যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং জন জে কলেজ থেকে ক্রিমিনাল জাস্টিসে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

এর আগে জেমসের দুটি বিবাহ হয়েছিল। প্রথম স্ত্রী ছিলেন চলচ্চিত্র অভিনেত্রী রথি; তাদের ঘরে রয়েছে এক ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান। দ্বিতীয় স্ত্রী বেনজীর সাজ্জাদের সঙ্গে তার একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।

নতুন জীবন ও সন্তানের খবরে সামাজিক মাধ্যম এখন জেগে উঠেছে। ভক্তরা নগরবাউল জেমসকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন এবং নতুন সূচনা উদযাপন করছেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫



দুবাই ও মিয়ানমার থেকে একলাখ টন চাল আমদানি করবে সরকার

দেশের সরকারি খাদ্য মজুত বৃদ্ধি এবং সরকারি বিতরণ ব্যবস্থা সচল রাখার জন্য মিয়ানমার ও দুবাই থেকে মোট একলাখ টন নন বাসমতি সেদ্ধ চাল আমদানি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রতিটি দেশ থেকে ৫০ হাজার টন করে চাল আমদানি করা হবে। এই আমদানিতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৪৬ কোটি ২৩ লাখ ৮ হাজার ৫৭০ টাকা।

সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র ও জিটুজি (G2G) পদ্ধতিতে এই চাল আমদানির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুবাইয়ের মেসার্স ক্রেডেন্টওয়ান এফজেডসিও প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতি টন ৩৫৫.৯৯ মার্কিন ডলারে ৫০ হাজার টন নন বাসমতি সিদ্ধচাল আমদানি করা হবে। বাংলাদেশের মুদ্রায় এর পরিমাণ ২১৬ কোটি ৯০ লাখ ৪৭ হাজার ৭০ টাকা। প্রতি কেজি চালের দাম নির্ধারিত হয়েছে ৪৩ টাকা ৩৮ পয়সা।

মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে জিটুজি ভিত্তিতে ৫০ হাজার টন আতপ চাল আমদানি করা হবে। প্রতি কেজি আতপ চালের দাম ধরা হয়েছে ৪৫ টাকা ৮৭ পয়সা।

এ ধরনের উদ্যোগ দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সরকারি বিতরণ ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য মজুত বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




অবৈধ ইউরোপ যাত্রায় লিবিয়ায় আটক বরিশালের ৭০ যুবক

অবৈধভাবে ইউরোপের দেশ ইতালিতে যাওয়ার স্বপ্ন বুনে ভূমধ্যসাগর পার হওয়ার সময় লিবিয়ার একটি গুদামে আটকা পড়েছে ১০৮ জন বাংলাদেশি যুবক। তাদের মধ্যে ৭০ জন বরিশালের গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা।

জানা গেছে, যুবকদের মধ্যে ৬০ জন গৌরনদীর খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ডুমুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তারা ইতালি প্রবাসী দালাল জাকির মোল্লা ও বগুড়ার দালাল সাজু মিয়ারের মাধ্যমে ১৫ থেকে ১৮ লাখ টাকা করে দিয়ে গেমিং নৌকায় ইতালির উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন। বাকি ১০ জন যুবক গৌরনদী ও আগৈলঝাড়ার অন্যান্য গ্রাম থেকে কুষ্টিয়ার দালাল লিটনের মাধ্যমে নৌকায় ওঠেন।

আটককৃত যুবকদের অভিভাবকরা জানিয়েছেন, লিবিয়ার বাংকিনা কারাগারের পাশে একটি গুদামে তাদের সন্তানরা আটক রয়েছেন। অভিভাবকরা বিভিন্নভাবে চেষ্টা করে ১৭ অক্টোবর রাতে ৩ জনকে মুক্ত করান। পরবর্তীতে চাপে পড়ে দালাল জাকির মোল্লা ২০ জনকে আরও একটি নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরিত করেন।

জাকির মোল্লার মা নুরজাহান বেগম বলেন, “জাকির কাউকে জোর করে সাগর পথে পাঠায়নি। যারা গিয়েছে তারা ঝুঁকি জেনেই গিয়েছেন। আগামী ৩ দিনের মধ্যে অন্যান্য আটককৃতদেরও নিরাপদে ফিরিয়ে আনা হবে।”

অবৈধভাবে লিবিয়ায় যাওয়া যুবকদের পরিবার সদস্যরা উদ্বিগ্ন। এ বিষয়ে স্বজনরা জানিয়েছেন, ১০৮ জনের মধ্যে ৬০ জন গৌরনদী ও ১০ জন আগৈলঝাড়া উপজেলার বাসিন্দা। বাকি ৩৮ জন ঢাকার পাশাপাশি মাদারীপুর, সিরাজগঞ্জ ও শরীয়তপুর জেলার।

যুবকদের পরিবারগুলো দালালদের মাধ্যমে সন্তানদের দ্রুত নিরাপদে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে তাদের ফেরার সময়সূচি এখনও অনিশ্চিত।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




ড্রাইভিং লাইসেন্সে ৬০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক, মিলবে ভাতাও

ভবিষ্যতে ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে চালকদের স্বীকৃত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে ৬০ ঘণ্টার বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ নিতে হবে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণগ্রহণকারীদের ভাতা প্রদান করার বিষয়ও ঘোষণা করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।

তিনি এ কথা জানিয়েছেন জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে বুধবার রাজধানীর সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায়। সভার প্রতিপাদ্য ছিল ‘মানসম্মত হেলমেট ও নিরাপদ গতি, কমবে জীবন ও সম্পদের ক্ষতি’

উপদেষ্টা বলেন, “সড়কে দুর্ঘটনা ও যানজটের মূল কারণ হলো প্রশিক্ষণহীন ড্রাইভার। সড়ককে নিরাপদ করতে হলে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ড্রাইভার প্রয়োজন। তাই ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানের প্রক্রিয়া আমূল পরিবর্তন করা হচ্ছে। এখন থেকে প্রশিক্ষণই হবে লাইসেন্সের মূল ভিত্তি।”

তিনি আরও জানিয়েছেন, বিআরটিএকে নিয়ন্ত্রণমূলক সংস্থা থেকে সেবামূলক সংস্থা হিসেবে পরিণত করা হবে এবং বেশিরভাগ কাজ ড্রাইভিং ইনস্টিটিউটে হস্তান্তর করা হবে। এছাড়া, সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ট্রাস্টি বোর্ড গঠনের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




বরিশালের ‘ধানসিঁড়ি’: শুধু নামেই আছে, জীবনানন্দ চর্চার সুযোগ নেই

রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের স্মৃতি বিজড়িত ‘ধানসিঁড়ি’ বাড়িটি বর্তমানে শুধু নামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। সাহিত্য সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন, বাড়িটি পুনরুদ্ধার করে সরকারি উদ্যোগে জীবনানন্দ গবেষণা কেন্দ্র ও জীবনানন্দ চর্চার ব্যবস্থা করা উচিত।

বরিশাল কবিতা পরিষদের সভাপতি ছড়াকার তপংকর চক্রবর্তী বলেন, জীবনানন্দ দাশ বাংলা সাহিত্যের পরিচয় ও বিশ্ব সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ কবি। তার বাড়ির প্রায় ১০ শতাংশ জমিতে মিলনায়তন নির্মিত হলেও বাকি জমি বেহাত হয়ে গেছে। সরকারের উদ্যোগে তা পুনরুদ্ধার করে গবেষণা কেন্দ্র করা সম্ভব, যা নতুন প্রজন্মকে জীবনানন্দ চর্চার সুযোগ দেবে।

প্রাবন্ধিক দেবাশীষ হালদার বলেন, শিল্প-সংস্কৃতি রক্ষা করাই জাতীয় দায়িত্ব। জীবনানন্দ দাশের বাড়ি পুনরুদ্ধার করা সরকারের দায়িত্ব।

বিএম কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সঙ্গীতা সরকার জানান, ‘জীবনানন্দকে আমরা এখন শুধু বইয়ের পাতায় দেখি, চর্চার সুযোগ নেই। নতুন প্রজন্মকে তার সাহিত্য ও দেশপ্রেমের চেতনা জানানো জরুরি।’

সরকারি বিএম কলেজের প্রভাষক নূরুল আমীন মোল্লা বলেন, আধুনিক বাংলা সাহিত্যে জীবনানন্দ একজন শক্তিমান কবি। তাকে চর্চা করলে শিক্ষার্থীরা বোদ্ধা ও সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারবে।

বরিশাল অমৃত লাল দে মহাবিদ্যালয় সংস্কৃত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মনন অধিকারী বলেন, ‘ধানসিঁড়ি নামেই আছে, কিন্তু বাড়িটির বাস্তব চিত্র আমরা পাই না। নতুন প্রজন্মের কাছে জীবনানন্দকে তুলে ধরতে সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন।’

বাড়ির বর্তমান বাসিন্দা জলিল ফারুক জানিয়েছেন, পরিবার ১৯৫৫-৫৬ সালে ৬ হাজার টাকায় সম্পত্তি কিনে নিয়েছিলেন। মোট ৯৭ শতাংশ জমির মধ্যে ৪৫ শতাংশ তারা অধিকার করেছেন, বাকি ৫২ শতাংশ এখনো সরকারের দখলে রয়েছে।

বরিশাল জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী বিপ্লব কুমার বিশ্বাস জানান, মিলনায়তনের পাঠাগারের সংস্কারের জন্য ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শীঘ্রই নতুন ফার্নিচার ও সংস্কার কাজ শুরু হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




ঢাকায় জোবায়েদ হত্যায় বর্ষা: বরগুনার মিন্নির আধুনিক প্রতিচ্ছবি

পুরান ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ হোসেন হত্যার ঘটনায় তার ছাত্রী ও কথিত প্রেমিকা বর্ষা বার্জিস শাবনামকে বরগুনার আলোচিত মিন্নির আধুনিক প্রতিচ্ছবি বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) হত্যার তদন্তে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বর্ষা চাইলে হয়তো জোবায়েদকে বাঁচাতে পারতেন। পুলিশ বলছে, বর্ষার জিজ্ঞাসাবাদে প্রেম, প্রতারণা ও প্রতিশোধের একটি জটিল গল্প উদঘাটিত হয়েছে। ঘটনাটি রিফাত শরীফ হত্যার মতো নারীর দ্বিমুখী সম্পর্কের ফলাফল।

তদন্তে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ষা ও জোবায়েদের পরিচয় ঘটে এবং ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। একই সময়ে বর্ষা মাহির হোসেনের সঙ্গেও সম্পর্ক বজায় রাখছিলেন। দুই প্রেমিকই দ্বিমুখী সম্পর্কের কথা জানতে পারলে শুরু হয় সন্দেহ, ঝগড়া ও ঈর্ষা।

বর্ষার প্ররোচনায় মাহির ও তার বন্ধু আয়লান জোবায়েদকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেন। পুলিশ বর্ণনা অনুযায়ী, ১৯ অক্টোবর মাহির ও সহযোগীরা জোবায়েদকে এলোপাতাড়ি কোপে আঘাত করলে সে দোতলা থেকে তৃতীয় তলায় দৌড়াতে বাধ্য হয়। বর্ষার সামনে দাঁড়িয়ে জোবায়েদ সাহায্য চাইলেও বর্ষা তার মৃত্যুকে নিশ্চিত করে চলে যান। পরে জোবায়েদ মারা যান।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ বলছে, এটি একটি ত্রিভুজ প্রেমের জটিল পরিণতি। বর্ষা মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন; মাহির ও আয়লান তার কথায় হত্যায় অংশ নেন।

মঙ্গলবার আদালতে বর্ষা, মাহির ও ফারদীন আহম্মেদ আয়লান জবানবন্দি দিয়েছেন হত্যায় জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে। একই দিন সকালেই নিহত জোবায়েদের ভাই এনায়েত হোসেন সৈকত বংশাল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ছাত্রদলও জোরেশোরে হত্যার বিচারের দাবি তুলেছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




ঝালকাঠিতে টেকসই উন্নয়ন ও সুশাসন বিষয়ক কর্মশালা

টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন জোরদারকরণের লক্ষ্যে স্থানীয় প্রশাসন ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে ঝালকাঠিতে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ঝালকাঠি সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) এ কর্মশালার আয়োজন করে। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক আশরাফুর রহমান, বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়। সভাপতিত্ব করেন সনাক সভাপতি সত্যবান সেন গুপ্ত এবং স্বাগত বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. কাওছার হোসেন।

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন টিআইবির কো-অর্ডিনেটর (সিভিক এনগেজমেন্ট) কাজী শফিকুর রহমান। এছাড়া টিআইবির ক্লাস্টার কো-অর্ডিনেটর মো. ফিরোজ উদ্দিন কর্মশালার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন।

বক্তারা বলেন, টেকসই উন্নয়ন বাস্তবায়নে সুশাসন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুশাসনের অভাবে উন্নয়ন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় এবং জনগণের অংশগ্রহণ ও সেবার মান হ্রাস পায়। তাই স্থানীয় প্রশাসন ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।

কর্মশালায় আলোচ্য বিষয় ছিল—সুশাসন ও এর উপাদান, শুদ্ধাচার, প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসনের অভাব ও করণীয়, সুশাসন টুলস, এসডিজি লক্ষ্য অর্জনের পদক্ষেপ এবং টেকসই উন্নয়নে চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণে কর্তৃপক্ষের ভূমিকা।

দিনব্যাপী কর্মশালায় স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, সমাজসেবা ও অন্যান্য দপ্তরের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




কাঠালিয়ায় উৎসবমুখর ভেলা বাইচ প্রতিযোগিতা

ঝালকাঠির কাঠালিয়ায় ডাইনের নদীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ভেলা বাইচ প্রতিযোগিতা, যেখানে স্থানীয় ও আশপাশের গ্রামের শিশু-কিশোরসহ সব বয়সী মানুষ উপভোগ করেন উৎসবমুখর পরিবেশ।

মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) বিকালে আওরাবুনিয়া এলাকায় অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতার আয়োজন করে আওরাবুনিয়া সার্বজনীন কালী মন্দির। ভেলা বাইচে মোট ৬টি দল অংশগ্রহণ করে। চূড়ান্ত পর্বে চৌধুরিহিস্যা ভেলা দল প্রথম স্থান অর্জন করে, সুবোত হাওলাদারের ভেলা দল দ্বিতীয় এবং শুশিল ঘরামীর ভেলা দল তৃতীয় স্থান লাভ করে।

দর্শকরা নৌকায় চড়ে, নদীর পাড়ে ও ব্রিজের ওপর দাঁড়িয়ে প্রতিযোগিতা দেখেন এবং আনন্দঘন মুহূর্ত উপভোগ করেন। আয়োজক কমিটি জানায়, প্রতিবছর কালীপূজা উপলক্ষে এলাকাবাসীর মধ্যে ভিন্ন মাত্রার আনন্দ ছড়াতে কলাগাছের তৈরি ভেলা বাইচের আয়োজন করা হয়। এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে স্থানীয়দের মধ্যে সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি হয়।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




বরগুনা উপকূলে অবৈধ ট্রলিং বোটে বিপন্ন মৎস্যসম্পদ

অবৈধ ট্রলিং বোটের দৌরাত্ম্যে সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য ও মৎস্য সম্পদ ধ্বংসের মুখে পড়েছে। এতে মাছের উৎপাদন ও প্রজনন কমে গিয়ে উপকূলীয় এলাকায় দেখা দিয়েছে মাছের সংকট। মৎস্যজীবীরা দাবি করছেন, অবৈধ ট্রলিং চলতে থাকলে সমুদ্রের মাছের আবাসস্থল ও বাস্তুতন্ত্র দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সম্প্রতি বরগুনার পাথরঘাটায় কয়েক হাজার জেলে মানববন্ধন করে অবৈধ কাঠের তৈরি ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রলিং ট্রলার বন্ধের দাবি জানান। জানা গেছে, এসব ট্রলার সাধারণ মাছ ধরার ট্রলার নয়; এতে লোহার উপকরণ ও হাইড্রোলিক উইঞ্চ বসানো থাকে, যা দিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জাল ফেলা ও তোলা সম্ভব। জিপিএস ব্যবহার করে মাছের অবস্থান নির্ণয় করা হয়। কিন্তু এই ট্রলারগুলো উপকূলীয় অগভীর এলাকায় মাছ আহরণ করছে, যার ফলে ছোট ফাঁসের জালে মারা যাচ্ছে মাছের ডিম, পোনা এবং ছোট প্রজাতির মাছ।

জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, “সরকারের ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা মেনে সাধারণ জেলেরা ইলিশ রক্ষায় কাজ করছে। অথচ কিছু প্রভাবশালী ট্রলিং মালিক প্রশাসনের নীরবতায় অবৈধভাবে মাছ ধরছে। এতে জাতীয় সম্পদ ও জেলেদের জীবিকা বিপন্ন হচ্ছে।”

জেলেরা অভিযোগ করেছেন, অবৈধ ট্রলিংয়ে তারা অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। প্রতিবাদ করলে তাদের ওপর হামলার চেষ্টা করা হয়। পাথরঘাটা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব কামরুল ইসলাম বলেন, “কাঠের তৈরি এই ট্রলারগুলো উপকূলীয় অঞ্চলে মাছের পোনা ও ডিম ধ্বংস করছে। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে ইলিশসহ নানা প্রজাতির মাছ বিলুপ্তির মুখে পড়বে।”

বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মহসিন জানান, অবৈধ ট্রলিং বন্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে এবং কোস্টগার্ডও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। প্রশাসন ও মৎস্য কর্মকর্তারা জানান, তারা জেলেদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে অবৈধ ট্রলিং বন্ধে কাজ করছেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




বরগুনা এসপি অফিসের গেটে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ, রহস্য ঘিরে জট

বরগুনা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের গেটের সামনেই এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে রহস্য ও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

সোমবার (২০ অক্টোবর) রাত আড়াইটার দিকে ঘটেছে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা। নিহত যুবকের নাম সীমান্ত দাস (২৪), তিনি বরগুনা সদর উপজেলার গৌরীচন্না ইউনিয়নের লাকুরতলা গ্রামের বিজন দাসের ছেলে।

পুলিশ জানায়, খবর পাওয়ার পর রাত দুইটার দিকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে একটি শুকনো গাছের সঙ্গে গলায় দড়ি প্যাঁচানো অবস্থায় সীমান্তের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহটি বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, সীমান্ত আত্মহত্যা করেছেন।

তবে স্থানীয়দের বয়ানে ঘটনার আগে কিছু অস্বাভাবিকতার আভাস পাওয়া গেছে। প্রত্যক্ষদর্শী কাইউম জানান, “রাত ১২টার দিকে আমি বাইক নিয়ে ওই পথে যাচ্ছিলাম। দেখি এক চিকন ছেলে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে চিৎকার করছে। কাছে যেতেই সে বলে, আমাকে অসীম অনেক মারছে। আমি তাকে জিজ্ঞেস করি, অসীম কে? সে তখন বলে, ‘ভাই, আপনি এসপি স্যারকে ফোন দেন’। তাকে চিনতাম না, তাই চলে যাই। সকালে শুনি সে মারা গেছে।”

স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, এসপি কার্যালয়ের সামনেই এমন ঘটনা কিভাবে ঘটল এবং তা কারো নজরে পড়ল না কেন। অনেকেই ধারণা করছেন, রাতের আঁধারে আত্মহত্যা পরিকল্পিত কিছু হতে পারে।

বরগুনা সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ইউনুস আলী ফরাজী বলেন, “সীমান্ত একটি মরা গাছের সঙ্গে নাইলনের দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে ধারণা করছি। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া চলছে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫