বরিশাল অঞ্চলের প্রায় ১৭শ কিলোমিটার সড়ক ও মহাসড়কের উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজ দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে আছে। নজিরবিহীন বর্ষণ, বাজেট ঘাটতি ও প্রশাসনিক জটিলতায় দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার অবস্থা এখন চরম নাজুক পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বরিশাল-ফরিদপুর-ঢাকা এবং বরিশাল-ভোলা-লক্ষ্মীপুর-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কসহ বরিশাল-ঝালকাঠি-রাজাপুর-ভান্ডারিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কগুলোতে মেরামত ও পুনর্বাসন কাজ শুরুই হয়নি। অথচ প্রতিদিন এসব সড়কে ধারণক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি পণ্যবাহী যানবাহন চলছে। বিশেষ করে ২০২২ সালের পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর যানবাহন চলাচল তিনগুণ বেড়ে গেছে। পায়রা বন্দর চালুর পর প্রতিদিনই ৩৫-৪০ টন ওজনের কনটেইনারবাহী ট্রেইলার চলাচল করছে, কিন্তু সে অনুযায়ী সড়কের সক্ষমতা বাড়েনি।
বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগ জানিয়েছে, তহবিল সংকটে জোড়াতালি দিয়ে কিছু এলাকায় চলাচল সচল রাখার চেষ্টা চলছে। তবে বড় ধরনের মেরামত কার্যক্রম প্রায় বন্ধ। ১৯৬০-এর দশকে নির্মিত এসব সড়কের বহনক্ষমতা তখনকার তুলনায় অনেক কম থাকায় বর্তমানে তা প্রায় অচল।
ইতোমধ্যে বরিশাল-ফরিদপুর-ঢাকা মহাসড়কের কিছু অংশে (গড়িয়ার পাড় থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার এবং জয়শ্রী থেকে কাসেমাবাদ পর্যন্ত ৯ কিলোমিটার) পুনর্বাসন ও প্রসারিতকরণের জন্য দরপত্র মূল্যায়ন শেষ হয়েছে। প্রায় ১৪ কোটি টাকার এই প্রকল্প মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
অন্যদিকে বরিশাল-ঝালকাঠি-রাজাপুর-ভান্ডারিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের ১৮ কিলোমিটার অংশে ১৮ কোটি টাকার মেরামত প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায়। এই মহাসড়ক দিয়েই চট্টগ্রাম, ভোলা, খুলনা ও মোংলা বন্দরের সাথে দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ নির্ভরশীল।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় মোড় থেকে ভোলা লিংক রোড পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার অংশে মেরামতের কাজ শিগগিরই শুরু হচ্ছে। এছাড়া ভুরঘাটা থেকে মোস্তফাপুর পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার ও মোস্তফাপুর থেকে টেকেরহাট পর্যন্ত ১৭ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারেও প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে কাজ শুরু হবে বলে জানা গেছে। টেকেরহাট থেকে ভাংগা পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার অংশে ৭০ কোটি টাকার সংস্কারকাজ চলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বরিশাল-ফরিদপুর-ঢাকা মহাসড়কের ভাংগা পর্যন্ত ৯১ কিলোমিটার অংশ সচল না থাকলে তা শুধু দক্ষিণাঞ্চল নয়, সারাদেশের অর্থনীতিতেও বিরূপ প্রভাব ফেলবে।
বরিশাল সড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, এবারের অতিবৃষ্টি দেশের ৮ নম্বর জাতীয় মহাসড়কসহ প্রায় সব সড়কের ক্ষতি করেছে। ২০১৫ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থে সড়ক প্রশস্তকরণের পরিকল্পনা থাকলেও ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া ঝুলে আছে। ফলে ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি।
এ অবস্থায় দ্রুত মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দ ছাড়া দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫