ঢাকা বরিশাল মহাসড়কে মর্মান্তিক বাস দুর্ঘটনা ৬ জনের মৃত্যু

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ:দেশের মহাসড়ক গুলো যেন একএকটা মৃত্যু ফাদ যার বাকে বাকে মিশে আছে মৃত্যুর ভয় ।  যানবাহনের বেপরোয়া গতি আর মহাসড়কে ধীর গতির যানবাহন এই মৃত্যু ঝুকি আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মাদারীপুরের মস্তফাপুর মিলগেইট এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ইজিবাইককে চাপা দিয়ে খাদে পড়েছে একটি যাত্রীবাহী বাস। এ ঘটনায় ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের সদর দপ্তর থেকে ছয়জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে, তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় জানা যায়নি।

জানা গেছে, সার্বিক পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস মাদারীপুর থেকে ঢাকা যাচ্ছিল। পথে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মিলগেইট এলাকায় এলে একটি ইজিবাইককে চাপা দেয়। এতে ইজিবাইকটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং বাসটি মহাসড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়। এ সময় ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে পাঠান। হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও তিনজনের মৃত্যু হয়।

 




২৭ আসনে এনসিপির প্রার্থী চুড়ান্ত

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে থাকা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩০টি আসনের মধ্যে ২৭টিতে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। বাকি তিনটি আসনে শিগগিরই প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে বলে দলটি জানিয়েছে।

আজ রোববার এনসিপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ২৭টি আসনে এনসিপির প্রার্থীদের নাম ও ছবিসংবলিত পোস্টার পোস্ট করা হয়েছে। সেখানে ওই প্রার্থীদের পক্ষে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে ভোট চেয়েছে দলটি।

চূড়ান্ত হওয়া এনসিপির প্রার্থীদের মধ্যে-

আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঢাকা–১১ আসনে ,

সদস্যসচিব আখতার হোসেন,রংপুর–৪ আসনে,

দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহকুমিল্লা–৪ আসনে,

উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমপঞ্চগড়–১ আসনে,

মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ওঢাকা–৮ আসনে,

নোয়াখালী–৬ আসনে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ নির্বাচন করছেন। এ ছাড়া  —

ঢাকা–১৮ আসনে আরিফুল ইসলাম আদীব, লক্ষ্মীপুর–১ আসনে মাহবুব আলম, সিরাজগঞ্জ–৬ আসনে এস এম সাইফ মোস্তাফিজ, নরসিংদী–২ আসনে সারোয়ার তুষার, নারায়ণগঞ্জ–৪ আসনে আবদুল্লাহ আল আমিন, পার্বত্য বান্দরবান আসনে এস এম সুজা উদ্দিন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ আসনে মাওলানা আশরাফ মাহদী, চট্টগ্রাম–৮ আসনে জোবাইরুল হাসান আরিফ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া–৩ আসনে মোহাম্মদ আতাউল্লাহ এনসিপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

দিনাজপুর–৫ সংসদীয় আসনে মো. আবদুল আহাদ, নোয়াখালী–২ আসনে সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া, ঢাকা–১৯ আসনে দিলশানা পারুল, ঢাকা–২০ আসনে নাবিলা তাসনিদ, কুড়িগ্রাম–২ আসনে আতিক মুজাহিদ, ময়মনসিংহ–১১ আসনে জাহিদুল ইসলাম, টাঙ্গাইল–৩ আসনে সাইফুল্লাহ হায়দার, ঢাকা–৯ আসনে জাবেদ রাসিন, গাজীপুর–২ আসনে আলী নাছের খান, মুন্সিগঞ্জ–২ আসনে মাজেদুল ইসলাম, পিরোজপুর–৩ আসনে শামীম হামিদী এবং নাটোর–৩ আসনে এস এম জার্জিস কাদির ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে লড়বেন।

বাকী তিনটি আসনের প্রার্থী তালিকা অতি শিঘ্রই চুড়ান্ত করা হবে ।




হত্যার পর ২১ দিন লাশের সঙ্গে বসবাস

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ:বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় মা-মেয়ের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় শিক্ষিকা মীম আক্তার (২৪) ও তার আপন ছোট বোন নুসরাত জাহানকে (১৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গত ২৫ ডিসেম্বর বিকালে ওই বাসায় প্রাইভেট পরতে যায় সদ্য নবম শ্রেণিতে উঠা ফাতেমা। পরে তাকে খুঁজতে সেখানে যান ফাতেমার মা রোকেয়া। এরপর দুজনই নিখোঁজ হন।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি সাইফুল আলম জানান, ওই দিনই (২৫ ডিসেম্বর) প্রথমে মেয়েকে, তারপর মাকে হত্যা করে শিক্ষিকা ও তার বোন নুসরাত। এরপর ফ্ল্যাটের একটি রুমের খাটের নিচে মায়ের লাশ ও বাথরুমের ফলস ছাদের ভেতর মেয়ের লাশ লুকিয়ে রাখে। লাশ উদ্ধারের আগ পর্যন্ত তারা ওই ফ্ল্যাটে স্বাভাবিক জীবনযাপন করে ।

জানা যায়, এইচএসসি পাশ ওই শিক্ষিকা কোনো প্রাতিষ্ঠানিক জব করতেন না। বাসায় থেকে প্রাইভেট পড়াতেন।

ওসি জানান, শিক্ষিকার প্রতিবেশী ছিলেন ভিকটিম রোকেয়া। তারা পূর্ব পরিচিত। শিক্ষিকা একটি এনজিও থেকে দেড় লাখ টাকা কিস্তি তুলেছিলেন। এই ঋণের জামিনদার (গ্রান্টার) ছিলেন রোকেয়া। কিন্তু সময়মতো কিস্তির টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হন শিক্ষিকা।

এনজিও কিস্তির টাকা না পেয়ে জামিনদার রোকেয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করে। এ নিয়ে রোকেয়া ও শিক্ষিকার মধ্যে চরম বাকবিতণ্ডা হয়। শিক্ষিকার সঙ্গে তার আপন ছোট দুই বোনও থাকতো। ছোট দুই বোনের একজন নুসরাত (১৫)। বোনকে (শিক্ষিকাকে) গালিগালাজ ও অপমান করায় সে রোকেয়ার ওপর প্রচন্ড ক্ষুব্ধ ছিল।

তিনি আরও জানান, ঘটনার দিন (২৫ ডিসেম্বর) বিকাল সোয়া ৫টার দিকে রোকেয়ার মেয়ে ফাতেমা প্রাইভেট পড়তে ওই বাসায় গেলে নুসরাতের সঙ্গে ফাতেমার কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে নুসরাত ফাতেমার গলা চেপে হত্যা করে। ফাতেমাকে হত্যার পর শিক্ষিকার বুদ্ধিতে ফাতেমার জামা খুলে সেগুলো নুসরাত পরিধান করে বাসা থেকে বেরিয়ে যায়। বাড়িতে দুটো সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। সিসিটিভি ফাঁকি দিতে নুসরাত ফাতেমার পোশাক পরে বেরিয়ে যায়। যাতে পরবর্তীতে কেউ সিসিটিভি চেক করলে বুঝতে পারে ফাতেমা শিক্ষিকার বাসা থেকে বেরিয়ে গেছে। এর দুই ঘণ্টা পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রোকেয়াকে শিক্ষিকা ফোন করে। তার মেয়ে ফাতেমা অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলে জানায়। তাকে নিয়ে যেতে বলে। ফোন পেয়ে রোকেয়া শিক্ষিকার ফ্ল্যাটে ঢুকলে তাকে পেছন থেকে গলায় ওড়না পেচিয়ে ধরে নুসরাত। এ সময় শিক্ষিকা মীম তাকে ধাক্কা দিয়ে মেঝেতে ফেলে দেন। এরপর দুই বোন মিলে গলায় ওড়না পেচিয়ে শ্বাসরোধে রোকেয়াকে হত্যা করে। মেয়ে ফাতেমার ওজন কম হওয়াতে তাকে দুজন তুলে বাথরুমের ফলস ছাদের ভেতর আর মা রোকেয়ার লাশ বক্স খাটের ভেতর লুকিয়ে রাখে।

এদিকে এ ঘটনার তদন্তে পুলিশের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ করেছে নিহতের পরিবার। মা-মেয়ে নিখোঁজ হয় ২৫ ডিসেম্বর। ২৭ ডিসেম্বর স্ত্রী ও মেয়ের নিখোঁজের বিষয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন রোকেয়ার স্বামী শাহীন আহমেদ।  এতেও কোনো কাজ না হওয়ায় গত ৬ জানুয়ারি তিনি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। মামলায় তিনি পুরো ঘটনা উল্লেখ করলেও পুলিশ লাশ উদ্ধারের আগ পর্যন্ত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেনি।

মামলার বাদী শাহীন আহমেদ পেশায় আইনজীবীর সহকারী (মুহুরি)। তিনি অভিযোগ করেন, আমি বারবার বলার পরও পুলিশ ওই ফ্ল্যাট সার্চ করতে যায়নি। এমনকি সিসিটিভি ফুটেজ ও মোবাইল কললিস্ট বিশ্লেষণ করেনি। এগুলো করলে হয়তো ওদের জীবিত পেতাম না। কিন্তু লাশটা অনেক আগেই পেতাম। ওরা যখন পঁচে-গলে গেছে তারপর আমরা ওদের হত্যা ও গুমের বিষয়টি জানতে পারি। তিনি ঘাতকদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।

ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, গ্রেফতার দুজনই হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছে। শুক্রবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। আসামি নুসরাতের বয়স ১৫ বছর (নাবালিকা)। তাকে গাজীপুরের কোনাবাড়িতে ‘শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে’ পাঠানো হবে।




কুয়াকাটার সৈকতে ফের ভেসে এলো মৃত ডলফিন

পর্যটন নগরী কুয়াকাটার সমুদ্রসৈকতে আবারও একটি মৃত ডলফিন ভেসে আসার ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শুক্রবার সকালে সৈকতের পশ্চিম পাশের স্বপ্নরাজ্য পার্ক সংলগ্ন এলাকায় ডলফিনটির মরদেহ দেখতে পান কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটির এক সদস্য।

খবর পেয়ে বন বিভাগের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃত ডলফিনটি উদ্ধার করেন। পরে পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন উপকূল, কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটি এবং কুয়াকাটা পৌরসভার সমন্বয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় ডলফিনটিকে মাটিচাপা দেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ডলফিনটির শরীরের বিভিন্ন অংশের চামড়া উঠে গিয়েছিল এবং তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। তাদের ধারণা, ডলফিনটি অন্তত একদিন আগেই মারা গেছে এবং সমুদ্রের ঢেউয়ের সঙ্গে ভেসে তীরে এসেছে।

পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন উপকূলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন রাজু বলেন, ডলফিনটির অবস্থা ছিল অত্যন্ত শোচনীয়। শরীরের অধিকাংশ চামড়া উঠে যাওয়ায় কাছে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। এ ধরনের ঘটনা উপকূলের পরিবেশ ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য অশনিসংকেত।

ডলফিন সংরক্ষণে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটির টিম লিডার রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, উপকূলজুড়ে ডলফিন রক্ষায় তারা সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। চলতি বছরে কুয়াকাটায় এটি প্রথম মৃত ডলফিন ভেসে আসার ঘটনা হলেও অতীতের পরিসংখ্যান উদ্বেগজনক। তিনি বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আহ্বান জানিয়ে বলেন, ডলফিন মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান জরুরি।

এ বিষয়ে বন বিভাগের মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা একেএম মনিরুজ্জামান জানান, দুর্গন্ধ ও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়ানোর জন্য দ্রুত ডলফিনটির মরদেহ মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও কুয়াকাটা উপকূলে একাধিকবার মৃত ডলফিন ভেসে এসেছে। ২০২৩ সালে ১৫টি, ২০২৪ সালে ১০টি এবং ২০২৫ সালে ১১টি মৃত ডলফিন উপকূলে পাওয়া যায়। গত বছর সেপ্টেম্বর মাসেও চর-গঙ্গামতি এলাকার বিভিন্ন স্থানে পরপর দুটি মৃত ডলফিন উদ্ধার করা হয়েছিল।

পরিবেশবিদদের মতে, জাল পেঁচানো, নৌযান চলাচল, শব্দদূষণ কিংবা সমুদ্রের পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণেও ডলফিনের মৃত্যু হতে পারে। তবে নিয়মিত ময়নাতদন্ত বা বৈজ্ঞানিক গবেষণা না হওয়ায় এখনো এসব মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বারবার এমন ঘটনা ঘটলেও কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় উদ্বেগ বাড়ছে উপকূলবাসীর মধ্যে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে তরুণরা পাবে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ: অধ্যাপক আলী রীয়াজ

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ও গণভোট সংক্রান্ত জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, নতুনভাবে দেশ গড়ে তুলতে হলে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আজ বিকেলে রংপুরের আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে আয়োজিত বিভাগীয় পর্যায়ের ইমাম সম্মেলনে তিনি বলেন, “আগামী দিনে তরুণদের হাতে কেমন বাংলাদেশ তুলে দেওয়া হবে, তা নির্ভর করবে এই হ্যাঁ বা না ভোটের উপর। ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে তরুণরা পাবেন একটি নতুন, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “জুলাই সনদ যদিও কালো কালিতে লেখা হলেও এটি মূলত জুলাই আন্দোলনে শহীদদের রক্ত দিয়ে লেখা হয়েছে। গণভোটে হ্যাঁ বলার মাধ্যমে এই সনদ বাস্তবায়ন সম্ভব।”

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, “গণভোটে কোনো ব্যক্তিকে ভোট দেওয়া হচ্ছে না। জনগণ যদি হ্যাঁ বলেন, তবে কোনো রাজনৈতিক দলেরই ক্ষমতা থাকবে না সংস্কার আটকে রাখার। দীর্ঘ ষোলো বছর ধরে জনগণের টাকা লুটপাট হয়েছে। হ্যাঁ ভোট দিলে অনেক ক্ষেত্রে এই লুটপাট ও দুর্নীতি বন্ধ হবে।”

তিনি সতর্ক করে আরও বলেন, “বাংলাদেশে যাতে আবার কোনো ফ্যাসিবাদ তৈরি না হয়, তার জন্য আমাদের সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। গণভোট সেই সজাগ থাকার অন্যতম হাতিয়ার।”

সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২




বরগুনায় সরিষার বেশি ফলনে কৃষক খুশি, লাভে মুখরোচক দৃশ্য

বরগুনা জেলায় সরিষার অধিক ফলনে কৃষকেরা খুশি। কুয়াশাছন্ন শীতের সকালে বরগুনার শিশিরে ভেজা হলুদ সরিষা ক্ষেত এক অপরূপ দৃশ্য উপস্থাপন করছে। বরগুনা সদর, পাথরঘাটা, আমতলী, তালতলী ও বেতাগীর বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা এখন সোনালি সরিষার মধ্যে সোনালি স্বপ্ন বুনছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আমন ধান কেটে পতিত ও একফসলি জমিতে সরিষা চাষ বেড়েছে। কম খরচে স্বল্প সময়ে বেশি ফলন পাওয়ায় এটি কৃষকদের কাছে লাভজনক ফসল হিসেবে জনপ্রিয় হয়েছে। এ বছর জেলায় বারি-১৪, ১৭, ১৮, ১৯ এবং টরি-৭সহ উচ্চফলনশীল জাতের সরিষা চাষ হচ্ছে।

সরিষা তোলার পর একই জমিতে বোরো ধান চাষ করা সম্ভব, যা কৃষককে এক জমিতে দুই ফসলের সুফল দেয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বরগুনা সদর উপজেলায় ১৪৫ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৫ হেক্টর বেশি। বিশেষ করে নলটোনা ও বুড়িরচর ইউনিয়নে সরিষার আবাদ সবচেয়ে বেশি হয়েছে। উল্লেখযোগ্য জাতগুলো হলো বারি সরিষা-১৭, বিনা সরিষা-৯ এবং বিনা সরিষা-১১।

সরেজমিনে দেখা যায়, বুড়িরচর ইউনিয়নের কৃষক হামেদ মৃধা (৬০) খরচ কম হওয়ায় ৪০ কড়া জমিতে সরিষার আবাদ করে মাত্র ১৪,০০০ টাকা খরচে ৪২,০০০ টাকা আয় করেছেন। ঢলুয়া নলটোনা ইউনিয়নের কৃষক রবিউল (৫৫) ২০ কড়া জমিতে ৭,০০০ টাকা খরচ করে তিন গুণ লাভ করেছেন। বেতাগীর গেন্দু মিয়া (৬২) জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সরিষার ফলন আরও বাড়বে।

বরগুনা শহরের ভ্রাম্যমাণ সরিষা তেল ব্যবসায়ী কাইয়ুম হোসেন (৫২) বলেন, গত তিন বছর ধরে তিনি সরিষার তেলের ব্যবসা করছেন। বরগুনায় সরিষার পর্যাপ্ত চাষ না হওয়ায় উত্তরাঞ্চলের পাবনা জেলা থেকে সরিষা কিনে এখানে মেশিনে ভেঙে বিক্রি করেন। প্রতি লিটার সরিষার তেল বিক্রি করেন ২৪০ টাকায়, প্রতিমণ সরিষা ক্রয় করে ৫,০০০ টাকায় বিক্রি করেন। প্রতিদিন ৭–৮ হাজার টাকার তেল বিক্রি হয়।

সদর উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, এ বছর কৃষকদের প্রণোদনা ও বীজ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। নলটোনা ইউনিয়নে গাজীমাহমুদ গ্রামের সরিষার ফলন ভালো হয়েছে। সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সরিষা একটি লাভজনক ফসল। প্রদর্শনী ও উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে কৃষকদের সরিষা চাষে আগ্রহী করা হয়েছে। বিনা চাষেও সরিষার আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বরগুনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রথীন্দ্রনাথ বিশ্বাস জানান, কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এ বছর জেলায় সরিষার ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। হলুদ ফুলে ভরা সরিষা ক্ষেত শুধু সৌন্দর্য নয়, বরং কৃষকের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার প্রতীক। সচেতন মহল মনে করছেন, বরগুনার কৃষি বিভাগ উদ্যোগ নিলে জেলায় ১২ মাস সরিষার আবাদ সম্ভব, যা মানুষের ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




কুয়াকাটা-কলাপাড়া-পটুয়াখালী সড়ক: ৭০ কিলোমিটারে ১৫ বিপজ্জনক বাঁক, বাড়ছে দুর্ঘটনা

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা-কলাপাড়া-পটুয়াখালী ৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ মহাসড়কে অন্তত ১৫টি বিপজ্জনক বাঁক রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এই বাঁক পেরিয়ে বাস ও ট্রাক চলাচলে ক্রমশ দুর্ঘটনা বাড়ছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন কুয়াকাটা পর্যটন এলাকায় আসা পর্যটকবাহী বাসের চালকরা।

বাসচালকরা জানাচ্ছেন, কুয়াকাটা থেকে কলাপাড়ায় যাত্রাপথে বিপজ্জনক বাঁকগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কচ্ছপখালী লেক, হলদিবাড়িয়া খালের কালভার্ট, পাখিমারা স্কুল, মাস্টার বাড়ি ইত্যাদি। কলাপাড়া থেকে পটুয়াখালী পর্যন্ত রয়েছে সেকান্দর খালী, বান্দ্রা, কলঙ্ক, খুড়িয়ার খেয়াঘাটের আগে, আমতলী বন্দরের আগে, আমতলী ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন, ঘটখালী, আমরাগাছিয়া, মহিষকাটা, ইটভাটা, শাখারিয়া স্কুলসহ আরও কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ স্পট।

দ্রুতগতির বাস-ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন বাঁকগুলো ঘুরতে গিয়ে অহরহ দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। যদিও সড়ক ও জনপথ বিভাগের সতর্কতা সংবলিত নির্দেশনা স্থাপন করা রয়েছে, তারপরও দ্রুতগতিতে আসা যানবাহন নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছে না।

বাসচালক আল আমিন জানান, “পটুয়াখালী-কলাপাড়া-কুয়াকাটা সড়কটির চওড়া কম। ঝুঁকিপূর্ণ মোড় ২০টির মতো। নিয়মিত চলাচল করলেও দুর্ঘটনা ঘটছে। অপরিচিত চালকরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন।”

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টোয়াক) সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, “এই বাঁকগুলো চলাচলের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। দ্রুতগতিতে যানবাহন চালকরা অসতর্ক হলে দুর্ঘটনা ঘটতেই পারে। সড়কটি প্রশস্তকরণের সময় বাঁকগুলো ঠিক করা যেতে পারে।”

সড়ক ও জনপথ বিভাগের পটুয়াখালী নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

স্থানীয়রা আশা করছেন, দ্রুত এই ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলো ঠিক করে সড়কটি নিরাপদ করা হবে, যাতে দুর্ঘটনা ও হতাহতের ঘটনা কমানো যায়।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




পিরোজপুরে শীতার্তদের মাঝে জেলা প্রশাসনের কম্বল বিতরণ অব্যাহত

পিরোজপুরে শীতার্তদের পাশে দাঁড়াতে জেলা প্রশাসনের শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে চলেছে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে সদর উপজেলার কদমতলা বাজার ও নূরানী গেট এলাকায় অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়।

উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের শিক্ষা ও আইসিটি শাখার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) মাহমুদুর রহমান মামুন, বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিস তানজিলা কবির ত্রপা, পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মামুনুর রশীদ এবং সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসিল্যান্ড আল আমিন

সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মামুনুর রশীদ বলেন, “জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশনায় আমরা সমাজের অবহেলিত ও শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। তীব্র শীতে কোনো মানুষ যেন কষ্ট না পায়, সেজন্য প্রশাসনের এই তদারকি ও সহায়তা অব্যাহত থাকবে।”

তিনি আরও জানান, আজকের কম্বল বিতরণে প্রায় দুই শতাধিক মানুষ সুবিধা পেয়েছেন। এর আগে শীত শুরু হওয়ার সময় থেকে ইয়াতিমখানা, ছিন্নমূল, আবাসন, হাসপাতালসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রায় দেড় হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগ শীতার্তদের মাঝে উষ্ণতা ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্ববোধক উদাহরণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ঝালকাঠির ভাসমান পেয়ারা হাটে জমেছে প্রাণ, পর্যটক ও বেচাকেনা উভয়েই রঙিন

ঝালকাঠির ভিমরুলী ভাসমান পেয়ারা হাট বর্ষার শুরুতেই হয়ে ওঠে দক্ষিণাঞ্চলের প্রাণকেন্দ্র। দেশ-বিদেশের হাজারো পর্যটক আকৃষ্ট হচ্ছেন এখানকার অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং ভাসমান বাজারের প্রাণবন্ত দৃশ্য দেখতে।

ঝালকাঠিতে ৫৬২ হেক্টর জমিতে চাষ করা পেয়ারা বিক্রি হবে ন্যূনতম ১০-১২ কোটি টাকায়, যা স্থানীয় ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। জেলার সদর উপজেলার কীর্ত্তিপাশা, ভিমরুলী, শতদাসকাঠি, খাজুরা, মিরাকাঠি, ডুমুরিয়া, জগদিশপুর, হিমানন্দকাঠি, কাপড়কাঠিসহ ২০টি গ্রামে প্রায় দুই শতাব্দী ধরে এই ফল চাষ হয়ে আসছে। চাষিরা প্রথাগত সর্জন পদ্ধতিতে কান্দি কেটে পেয়ারা চাষ করে আসছেন, যা মানুষের জীবন ও জীবিকার প্রধান উৎস।

এ বছর সময়মতো বৃষ্টিপাত না হওয়ায় কিছুটা ফলন কম এবং আকার ছোট হলেও, পেয়ারা দাম বেশি হওয়ায় চাষিরা লাভবান হচ্ছেন। বর্তমানে প্রতিমণ পেয়ারা বিক্রি হচ্ছে ১,০০০–১,১০০ টাকায়, আর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পাওয়া যাচ্ছে ৪০–৫০ টাকায়।

ভাসমান হাটে প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত জমে ওঠে চমৎকার বেচাকেনার দৃশ্য। পাইকাররা ছোট-বড় নৌকায় এসে সরাসরি টাটকা পেয়ারা কিনে নিয়ে যান। খালজুড়ে শত শত ডিঙ্গি নৌকা যেন ভ্রাম্যমাণ দোকান, যা এই হাটকে করে তুলেছে দক্ষিণাঞ্চলের এক জীবন্ত পর্যটন কেন্দ্র।

এই হাট কেবল ফল বিক্রির স্থান নয়, বরং এটি এক ধরনের জীবনের উৎসব। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, আধুনিক পদ্ধতিতে উৎপাদন বাড়াতে চাষিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে এবং পেয়ারা থেকে জেলি, জ্যাম উৎপাদনে সহায়তা করা হচ্ছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আবদুল্লা আল মামুন বলেন, উন্নত জাতের পেয়ারা চাষে চাষিদের সহযোগিতা করা হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




বরিশালে চোরকে শাস্তি, শীতের রাতে পুকুরে ২০ বার ডুব

বরিশালে নগরীর সদর রোডের বিবির পুকুরে চোরকে শাস্তি হিসেবে টানা ২০ বার ডুব দেওয়া হয়েছে। ঘটনা একটি অভিনব ও নজিরবিহীন পদ্ধতিতে ঘটেছে, যেখানে কোন মারধর ছাড়াই অপরাধীর শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নগরীর সদর রোড এলাকায় গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পার্কিং করা মোটরসাইকেলের হেলমেট চুরির ঘটনা এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি করেছিল। ক্ষুব্ধ মোটরসাইকেল চালকরা অবশেষে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে ওই চোরকে হাতেনাতে ধরেন।

আটক ব্যক্তি ইউসুফ হোসেন, নিজেকে উজিরপুর উপজেলার মশাং গ্রামের বাসিন্দা বলে পরিচয় দেন। তিনি বর্তমানে নগরীর সাগরদী এলাকায় বসবাস করেন। শাস্তি দেওয়ার আগে তিনি সবার সামনে নিজের ভুল স্বীকার করে অনুরোধ জানান যেন তাকে মারধর না করা হয়।

এরপর স্থানীয়রা একটি ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নেন। ইউসুফ নিজে পুকুরে নেমে কান ধরে একের পর এক ২০ বার ডুব দিতে রাজি হন। প্রতিটি ডুবের সময় তিনি নিজের অপরাধের জন্য ক্ষমা চাইতে থাকেন।

শেষে স্থানীয় কয়েকজন তাকে কাছের দোকান থেকে নতুন প্যান্ট ও টি-শার্ট কিনে দিয়ে ছেড়ে দেন। এভাবে নগরবাসীর উদ্যোগে চোরকে শাস্তি দেওয়ার এই ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।