কনের বয়স কম, তাই বিয়ে দাওয়াতে না খেয়ে ফিরে গেলেন ইউএনও

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার দৈহারী গ্রামে শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) একটি বিয়ে অনুষ্ঠানে সপরিবারে উপস্থিত হয়ে কনের বয়স কম জানার পর দাওয়াত না খেয়ে ফিরে গেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহিদুল ইসলাম। এ ঘটনায় কাজীও বিয়ে পড়ানো থেকে বিরত থাকেন, ফলে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়নি।

স্থানীয়রা জানায়, কনের বয়স ১৬ বছর, যা বয়সসীমা অনুযায়ী কম। সে গত বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। বিয়ে পড়ানোর জন্য কাজী মো. ইসহাক আলী বলেন,“প্রথমে আমাকে জানানো হয়েছিল মেয়ের বয়স ১৮ বছর। পরে প্রকৃত বয়স ১৬ জানার পর আমি বিয়ে পড়াইনি। ইউএনও সাহেবও বিষয়টি জানার পর দাওয়াতে না খেয়ে চলে যান।”

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের একজন সদস্য জানান, বিয়ে বাড়িতে উৎসবমুখর পরিবেশ ছিল। কিন্তু কনের বয়স কম জানার পর ইউএনও সপরিবারে চলে যাওয়ায় এবং কাজী বিয়ে পড়ানো থেকে বিরত থাকায় বিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়নি।

ইউএনও মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, “আমি ব্যক্তিগত অনুরোধে দাওয়াতে গিয়েছিলাম। কনের বয়স কম জানার পর আইনগত ও নৈতিক দিক বিবেচনায় দাওয়াত না খেয়ে ফিরে এসেছি। পরে জানতে পেরেছি, বিয়েটি আর হয়নি।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




বরগুনা পায়রা নদীতে ৩৫ ট্রলার আটক, জেলেদের দাবি অহেতুক জরিমানা

বরগুনার পায়রা নদী থেকে মহিপুর অভিমুখে যাওয়ার পথে ৩৫টি মাছ ধরার ট্রলার ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আটক ও অর্থদণ্ডের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে। জেলেদের দাবি, তারা ইলিশ শিকারে না গিয়ে খালি ট্রলার নিয়ে যাচ্ছিলেন, অথচ প্রশাসন অহেতুকভাবে ট্রলারগুলো আটক করে জরিমানা করেছে।

তালতলী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সেবক মণ্ডল আটক ও জরিমানার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) রাতে বরগুনার পায়রা নদীতে যৌথ অভিযান চালানো হয় উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ডের মাধ্যমে। মা ইলিশ সংরক্ষণে রাষ্ট্রীয় নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার জেলেরা থেকে আসা ৩৫টি ট্রলার ও প্রায় ১৫০ জেলেকে আটক করা হয়।

পরদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রতিটি ট্রলারকে ১,০০০ টাকা অর্থদণ্ড দেয় এবং নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্থান ত্যাগ না করার নির্দেশ দেয়। আটক ট্রলারগুলো স্থানীয় জনপ্রতিনিধির তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে।

আটক জেলেরা অভিযোগ করেছেন,“আমরা কেউই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করিনি। মাছ ধরার জাল বা সরঞ্জাম আমাদের সঙ্গে ছিল না। শুধু খালি ট্রলার নিয়ে মহিপুর যাচ্ছিলাম খাবার, বরফ ও জাল মেরামতের জন্য। অনেক ট্রলারে চুলা বা গ্যাস ছিল না, রাত থেকে পরদিন দুপুর পর্যন্ত না খেয়ে থাকতে হয়েছে।”

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সেবক মণ্ডল বলেন, “নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে অভিযান চালানো হয়েছে। আটক প্রতিটি ট্রলারে ১,০০০ টাকা করে জরিমানা আরোপ করা হয়েছে এবং নিষেধাজ্ঞা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ট্রলারগুলো স্থান ত্যাগে নিষিদ্ধ।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




তরুণ প্রজন্ম ভোটাধিকার প্রয়োগে উন্মুখ: রহমাতুল্লাহ

বরিশালের চরমোনাইয়ে অনুষ্ঠিত মিনিবার ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ। অনুষ্ঠানে তিনি দেশের তরুণ প্রজন্ম ভোটাধিকার প্রয়োগে উদ্দীপনা ও প্রস্তুতিসূচক মনোভাব দেখাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন।

রহমাতুল্লাহ বলেন,“তরুণ প্রজন্ম জাতীয় নির্বাচনের আগে অন্য কোনো নির্বাচন দেখতে চায় না। তারা দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ঐক্যবদ্ধভাবে অংশ নেবে। যারা জাতীয় নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে, তরুণরা সে ষড়যন্ত্রে অংশ নেবে না।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান প্রজন্ম দেশের রাজনীতি ও রাষ্ট্রব্যবস্থা সম্পর্কে আগের তুলনায় অনেক বেশি সচেতন এবং তারা পরিবর্তন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ চায়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবায়েদুল হক চাঁন বলেন,“আগামীর নতুন বাংলাদেশ গঠনে তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাদের দায়িত্বশীল অংশগ্রহণই নির্ধারণ করবে ভবিষ্যৎ রাজনীতির দিকনির্দেশনা।”

ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড় ও দর্শকরা আনন্দ উদযাপন করেন এবং স্থানীয় পর্যায়ে ক্রীড়া ও সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রমে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




হয়রানির অভিযোগে অভিনব বিক্ষোভ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজঃ বন বিভাগের অব্যাহত হয়রানিরকে কেন্দ্র করে‍ শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার উথুরা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে বন বিভাগের হয়রানি প্রতিরোধ কমিটির ব্যানারে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

বন বিভাগের মামলা-হামলা ও উচ্ছেদ অভিযানের প্রতিবাদে অভিনব কায়দায় বিক্ষোভ করেছেন ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার উথুরা ইউনিয়নের বাসিন্দারা। কাফনের কাপড় পরে তারা বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন।

মানববন্ধনে উপস্থিত বক্তারা বলেন, ১৯৯৩ সাল থেকে বন বিভাগের হয়রানি চলছে। সম্প্রতি কোনো নোটিশ বা পুনর্বাসনের ব্যবস্থা ছাড়া ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়ার ঘটনা জনমনে তীব্র ক্ষোভ আতংকের সৃষ্টি করেছে। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বসবাসরত নাগরিকদের বাপ-দাদার ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে এবং রাষ্ট্রীয় আইন অপপ্রয়োগ করে নিঃস্ব করে দেওয়া হচ্ছে।

বক্তারা আরও বলেন, সংবিধান নাগরিকের জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রকে বাধ্য করে। যেখানে মানুষের স্থায়ী বসতি ও আইনি জটিলতা রয়েছে, সেখানে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া, নোটিশ, বিকল্প পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ ছাড়া উচ্ছেদ সম্পূর্ণ অন্যায়।




বরিশাল মহানগর বিএনপির বিভেদ মেটাতে গুলশানে সমঝোতা বৈঠক

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে বরিশাল মহানগর বিএনপি অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জর্জরিত ও চার ভাগে বিভক্ত। দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করতে কেন্দ্রীয় নেতাদের উদ্যোগে ঢাকার গুলশানে সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. জে এম জাহিদ হোসেন, বরিশাল সদর-৫ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশি অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার, কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান, মাহাবুবুল হক নান্নু, মনিরুজ্জামান ফারুক, সদস্যসচিব জিয়া উদ্দীন সিকদার এবং যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাছরিন

বৈঠকে দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, যাকেই মনোনয়ন দেওয়া হোক, তার পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে। আফরোজা খানম নাছরিন বলেন,“আমরা কেন্দ্রীয় নেতাদেরকে কথা দিয়েছি, দলের যাকেই মনোনয়ন দেওয়া হোক না কেন, তার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করবো। তবে সবাই একই ব্লকে যুক্ত নয়।”

বৈঠকে বরিশাল বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান উল্লেখ করেন, জেলা সদর আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশি নেতারা জনসংযোগ ও সভা-সমাবেশে একে অপরের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যভাবে সমালোচনা করছেন। এতে ব্যক্তির নয়, বরং দলের ক্ষতি হচ্ছে। বৈঠকে এই পরিস্থিতি বন্ধ করার এবং মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে বরিশাল মহানগর বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। প্রধান বিরোধী বলয়গুলো ছিলেন:

  • আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক,
  • সদস্য সচিব জিয়া উদ্দীন সিকদার জিয়া,
  • সাবেক সদস্য সচিব মীর জাহিদুল কবির জাহিদ,
  • যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাসরিন সরোয়ার

এছাড়া সাবেক সংসদ সদস্য বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন সরোয়ার নিজস্ব বলয় গড়ে তোলেন। বর্তমানে বরিশাল মহানগর বিএনপিতে চারটি সক্রিয় গ্রুপ ও একাধিক উপগ্রুপ রয়েছে, যা দলকে অনেকটা বিশৃঙ্খল অবস্থায় রাখছে।

রাজধানীতে এই সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ায় আশা করা হচ্ছে, আগামী নির্বাচনে বরিশাল বিএনপির প্রার্থীকে বিজয়ী করতে দলীয় ঐক্য আরও শক্তিশালী হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বিলুপ্তির পথে দেড়শ বছরের বাজপাই জমিদারবাড়ি, রক্ষণাবেক্ষণের দাবি স্থানীয়দের

পিরোজপুর শহর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে ইন্দুরকানীর পাড়েরহাট বন্দরে দাঁড়িয়ে আছে প্রায় দেড়শ বছর পুরোনো বাজপাই জমিদারবাড়ি, যা স্থানীয়ভাবে ‘লালা বাবুর বাড়ি’ নামে পরিচিত। ব্রিটিশ শাসনামলে নির্মিত এই বাড়ি একসময় এলাকায় বিচার-সালিশ, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং খাজনা আদায়ের কেন্দ্র ছিল। কিন্তু বর্তমানে সংরক্ষণের অভাবে এটি বিলুপ্তির পথে।

স্থাপনার ইতিহাস অনুযায়ী, জমিদার ছিলেন সূর্য প্রসন্ন বাজপাই, যাকে স্থানীয়রা ‘লালা বাবু’ নামে চেনে। তিনি ছিলেন কালীপ্রসন্ন পারের ছেলে এবং ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপাইয়ের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। দেশ বিভাজনের পর ১৯৪৭ সালে বাজপাই পরিবার ভারত চলে যায় এবং আর কখনো ফিরে আসেনি।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় ৩ একর জমির ওপর নির্মিত এই বাড়ি বহু অংশে ভেঙে পড়া, ছাদ ধসে যাওয়া ও লতাপাতায় আচ্ছাদিত। বাড়ির ভেতরের নাগ মন্দির, শয়নকক্ষ, সভাকক্ষ প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত। ব্রিটিশ আমলের কাচারি ঘর, পুকুর এবং অন্যান্য স্থাপনা ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

স্থানীয়রা মনে করেন, যদি সরকার সংরক্ষণ ও সংস্কারের উদ্যোগ নেয়, তাহলে এই জমিদারবাড়ি পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারবে এবং পাড়েরহাট নতুন পরিচিতি পাবে। এতে স্থানীয় অর্থনীতি ও ঐতিহ্য দুইই লাভবান হবে।

পাড়েরহাট ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আবুল কালাম ফরাজী বলেন, “লালা বাবু এখানে বিচার সালিশি করতেন, খাজনা আদায় হতো। বর্তমানে এটি পরিত্যক্ত। সরকার রক্ষণাবেক্ষণ করলে এটি দর্শনীয় স্থান হিসেবে পরিচিতি পাবে।”

স্থানীয় শিক্ষক রঞ্জিত কুমার সাহা জানান,“এখানে বিভিন্ন অনুষ্ঠান হতো, যাত্রাপালা হতো। তবে এখন সব নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সরকার সংস্কার করলে বাড়ির ঐতিহ্য বৃদ্ধি পাবে, এবং এলাকার উন্নয়নও সম্ভব।”

ইন্দুরকানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান-বিন-মোহাম্মদ আলী বলেন, “বাড়িতে কাচারি ঘরসহ বিভিন্ন স্থাপনা আছে। ব্রিটিশ আমলে খাজনা আদায় ও বিচার-সালিশ হতো। অযত্ন-অবহেলায় এটি ভঙ্গুর হয়ে গেছে। আমরা প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পরিচালক বরাবর চিঠি দিয়েছি। আশা করি শিগগিরই সমাধান হবে।”

স্থানীয়রা দাবি করছেন, সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের মাধ্যমে বাজপাই জমিদারবাড়িকে পর্যটন স্পট হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এটি আগামী প্রজন্মের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পদ হয়ে থাকবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ভোলার নদীতে ফের জেলেদের সরব উপস্থিতি, প্রস্তুত তিন লাখ মৎস্যজীবী

২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে আবারও জীবন ফিরে পাচ্ছে ভোলার নদ-নদীগুলো। শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) রাত ১২টার পর থেকেই মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে নামবেন জেলার প্রায় তিন লাখ জেলে। এরইমধ্যে জেলেপল্লিগুলোতে চলছে নৌকা, ট্রলার ও জাল মেরামতের ব্যস্ততা। বহু কষ্টের পর ইলিশ শিকারে নামতে পেরে আনন্দে মুখর তারা।

শুক্রবার দুপুরে ভোলার সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের ভোলার খাল এলাকা ঘুরে দেখা যায়, জেলেরা নদীতে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন পুরোদমে। কেউ নতুন জাল কিনছেন, কেউ ট্রলার মেরামত করছেন, আবার কেউ পুরোনো নৌকায় নতুন করে রঙ করছেন। দীর্ঘ ২২ দিন আয়-রোজগার বন্ধ থাকায় অনেকেই ধারদেনা করে প্রস্তুতির কাজ সম্পন্ন করেছেন।

স্থানীয় জেলে সুমন মাঝিসোহেল মাঝি বলেন, “নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় আমরা আবার নদীতে নামব। ধারদেনা করে নতুন জাল কিনেছি। আশা করছি, এবার পর্যাপ্ত ইলিশ পাব এবং ঋণ শোধ করতে পারব।”

অন্যদিকে খলিল মাঝিজাকির মাঝি জানান, নিষেধাজ্ঞার সময় সরকারিভাবে ২৫ কেজি করে চাল সহায়তা পেয়েছেন, তবে বাকিটা নিজেরাই সামলাতে হয়েছে। তারা বলেন, “এই সময়টা খুব কষ্টে কেটেছে। এখন নদীতে ভালো মাছ পেলে সব দুঃখ কেটে যাবে।”

ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন জানান, “নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেরা যেন নির্বিঘ্নে ইলিশ শিকার করতে পারেন, সে জন্য প্রশাসনের তৎপরতা অব্যাহত আছে। আশা করি, এবার নদীতে পর্যাপ্ত ইলিশ মিলবে, আর জেলেরা ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন।”

তিনি আরও জানান, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে নিয়ম ভঙ্গের দায়ে ভোলার সাত উপজেলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদী থেকে দুই শতাধিক জেলেকে আটক এবং বিপুল পরিমাণ জাল ও ইলিশ জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে শতাধিক জেলেকে আদালতের মাধ্যমে জেল-জরিমানা দেওয়া হয়।

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ভোলার নদ-নদীতে সব ধরনের মাছ শিকার নিষিদ্ধ ছিল। জেলার সাত উপজেলায় প্রায় তিন লাখ জেলে জীবিকা নির্বাহ করেন, যার মধ্যে প্রায় এক লাখ ৭০ হাজার সরকারিভাবে নিবন্ধিত।

জেলেরা এখন আশা করছেন—এই মৌসুমে পর্যাপ্ত ইলিশ ধরা পড়লে সারা বছরের ক্ষতি পুষিয়ে নিয়ে নতুন উদ্যমে জীবনযুদ্ধে নামতে পারবেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে নতুন কমিটি গঠন

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন নিপীড়ন ও হয়রানি প্রতিরোধে নতুন অভিযোগ কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী এই কমিটি গঠিত হয়েছে।

বুধবার (২০ অক্টোবর ২০২৫) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. মুহসিন উদ্দীনের স্বাক্ষরে এক অফিস আদেশে কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।

নতুন কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন প্রাণরসায়ন ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. রেহানা পারভীন। অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন—

  • আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সরদার কায়সার আহমেদ,
  • বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও বরিশাল জেলা জজ আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জাফরুন নেছা রোজী,
  • মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, বরিশালের প্রোগ্রাম অফিসার জাহানারা পারভীন,
  • ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক খাদিজা আক্তার (সদস্য-সচিব)।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, ২০০৯ সালের ১৪ মে হাইকোর্ট কর্তৃক যৌন হয়রানি প্রতিরোধ সংক্রান্ত নির্দেশনার আলোকে এই কমিটি দায়িত্ব পালন করবে। একইসঙ্গে পূর্ববর্তী কমিটিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী কমিটির সদস্যরা বৈঠকি ভাতা প্রাপ্য হবেন এবং আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, ক্যাম্পাসে নিরাপদ ও সহনশীল পরিবেশ নিশ্চিত করতে এই কমিটি সক্রিয়ভাবে কাজ করবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




এবারের বিপিএলে থাকছে না ফরচুন বরিশাল

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) আসন্ন আসরে অংশ নিচ্ছে না আলোচিত ফ্র্যাঞ্চাইজি ফরচুন বরিশাল। টানা দুই আসরে দাপটের সঙ্গে শিরোপা জেতা দক্ষিণাঞ্চলের এই দলটি আর্থিক সংকটের কারণে এবারের আসর থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করেছে।

বিপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর মধ্যে বরিশাল ছিল সবচেয়ে আলোচিত ও জনপ্রিয় দল। সর্বশেষ মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিক মিজানুর রহমান জানিয়েছিলেন, নতুন মৌসুমেও শক্তিশালী দল গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত বাস্তবতা বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য ইফতেখার রহমান মিঠু বলেন, “ফরচুন বরিশালের মালিক মিজান ভাইয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, এত অল্প সময়ে এত বড় আয়োজন করা সম্ভব নয়। আমরা ২৮ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করবো। এরপরও যদি তারা বিড না করেন, তাহলে আর কিছু করার থাকবে না।”

সূত্র জানায়, এবারের বিপিএলে অংশ নিতে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে ১০ কোটি টাকা ব্যাংক গ্যারান্টি দিতে হবে। এখনো পর্যন্ত কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি আনুষ্ঠানিকভাবে ফরম জমা দেয়নি, তবে সাত-আটটি কোম্পানি দল নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

ইফতেখার রহমান আরও বলেন, “যদি কেউ ব্যাংক গ্যারান্টি দিতে না পারে, তাহলে দ্বিতীয় অপশনে যাবে বিসিবি। গ্যারান্টি ছাড়া কাউকে দল দেওয়া হবে না।”

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে প্লেয়ার ড্রাফট, এবং ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে মাঠে গড়াবে দেশের সবচেয়ে বড় ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট—বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)।

ফরচুন বরিশালের অনুপস্থিতিতে এবারের বিপিএলে নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজির আগমন ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বাকেরগঞ্জে দুই সড়ক এখন মরণ ফাঁদ, চরম দুর্ভোগে দুই গ্রামের মানুষ

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরাদি ইউনিয়নের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এখন পরিণত হয়েছে মরণ ফাঁদে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় রাস্তাগুলোর ইটসোলিং উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ। এতে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় দুই গ্রামের হাজারো মানুষকে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চরাদি ইউনিয়নের রানীরহাট বাজার থেকে পশ্চিম চরাদি গ্রামের হয়ে রাজাখালী খেয়াঘাট হয়ে দবদপিয়া-ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক পর্যন্ত একটি সড়ক এবং হলতা বাজার থেকে মধ্য চরাদি হয়ে বরিশাল-দুমকি আঞ্চলিক সড়ক পর্যন্ত অপর সড়কটি বছরের পর বছর সংস্কারবিহীন পড়ে আছে। এর মধ্যে হলতা বাজার সড়কটিতে প্রায় পাঁচ বছর ধরে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

রানীরহাট বাজার সড়কটির করুণ অবস্থার কারণে প্রায়ই মোটরসাইকেল, অটোরিকশা ও সাইকেল দুর্ঘটনা ঘটছে। এতে স্থানীয়রা আতঙ্কে রয়েছেন।

মধ্য চরাদি গ্রামের বাসিন্দা কামরুল ইসলাম বলেন, “এই রাস্তা দিয়ে যানবাহন তো দূরের কথা, হেঁটে চলাও কষ্টকর হয়ে গেছে। স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের পায়ে হেঁটে যাওয়া এখন দুর্ভোগের নামান্তর।”

অন্যদিকে স্থানীয় কৃষক বারেক হাওলাদার জানান, “হলতা বাজার সড়কে এত গর্ত যে আমরা বাশ ও কাঠ দিয়ে নিজেরাই সাঁকো বানিয়ে চলাচল করি। কৃষিপণ্য মাথায় করে বাজারে নিতে হয়। পাঁচ বছর ধরে কোনো উন্নয়ন হয়নি।”

সরেজমিনে দেখা গেছে, হলতা বাজার সড়কটির ইটসোলিং উঠে গিয়ে কাঁচা রাস্তায় পরিণত হয়েছে। রাস্তার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া চরাদি খালের ভাঙনে একাধিক স্থানে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। আর রানীরহাট বাজার সড়কটি প্রায় ৩ কিলোমিটারজুড়ে ভাঙাচোরা ও কাদা-পানিতে ভরা।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, চরাদি ইউনিয়ন পরিষদ ও এলজিইডি কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানো হলেও এখনো কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

চরাদি ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন বলেন, “দুই সড়কের বিষয়ে এলজিইডিকে বারবার অবহিত করা হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”

এ বিষয়ে উপজেলা এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাসনাইন আহমেদ বলেন, “সড়ক দুটির বিষয়টি জানা আছে। পরিদর্শন করে দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত এই দুই সড়ক সংস্কার করে যাতায়াতের উপযোগী করা না হলে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫