শনিবার থেকে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা প্রাথমিক শিক্ষকদের

দশম গ্রেডে বেতনসহ তিন দফা দাবিতে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। শনিবার (৮ নভেম্বর) থেকে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ কর্মসূচি পালন করবে চারটি শিক্ষক সংগঠনের মোর্চা ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’। নবীন শিক্ষকরাও এতে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

সহকারী শিক্ষকদের ৩ দফা দাবি হলো- ১০ম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ, ১০ বছর ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড সমস্যার সমাধান ও শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি।

দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের এই আন্দোলনে আছে- বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি (কাশেম-শাহিন), বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতি, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি (শাহিন-লিপি), সহকারী শিক্ষক ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন পরিষদসহ অনেকগুলো প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠন।

শুক্রবার দুপুরে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির (শাহিন-লিপি) সাধারণ সম্পাদক খায়রুন নাহার লিপি বলেন, শনিবার শহীদ মিনারে ২০ হাজার শিক্ষক দশম গ্রেডে বেতন, উচ্চতর গ্রেড ও পদোন্নতির অধিকার আদায়ে অবস্থান নেবেন, যা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত চলবে।

তিনি বলেন, আমাদের সঙ্গে কর্মকর্তারা আলোচনা করতে চাচ্ছেন, বিভিন্ন দিক বোঝাচ্ছেন; কিন্তু আমরা চাই না। আমাদের কথা তো বহুবার তাদের বলেছি, কাজ তো হয়নি। এবার রাজপথেই দাবি আদায় করে আমরা ফিরবো।

খায়রুন নাহার লিপি বলেন, দেশে ৬৫ হাজার ৫৬৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে ৩ লাখ ৮৪ হাজার শিক্ষক কর্মরত আছেন। গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় গত ২৪ এপ্রিল এক আদেশে ১১তম গ্রেডে বেতন পাওয়া প্রধান শিক্ষকদের বেতন ১০ম গ্রেডে এবং ১৩তম গ্রেডে বেতন পাওয়া শিক্ষকদের বেতন ১২তম গ্রেডে উন্নীত করার কথা জানায়। তবে তাতে সন্তুষ্ট নন সহকারী শিক্ষকরা।

তিনি বলেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা স্নাতক ও সমমান ডিগ্রি নিয়ে দশম গ্রেড পান। নার্সরা এইচএসসি ও নার্সিং ডিপ্লোমা ডিগ্রি নিয়ে দশম গ্রেড পাচ্ছেন। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা এসএসসি ও কৃষি ডিপ্লোমা ডিগ্রি নিয়ে দশম গ্রেড পাচ্ছেন। পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর ও সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষকরাও স্নাতক ও সমমান ডিগ্রি নিয়ে দশম গ্রেড পান।

তিনি আরও বলেন, আর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা স্নাতক ও সমমান ডিগ্রি এবং সিএনএড বিপিএড বা বিটিপিটি কোর্স করে ১৩তম গ্রেড পান। পিটিআই সংলগ্ন পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও দশম গ্রেডে বেতন পান। তাই আমরা দশম গ্রেডে বেতন দেওয়ার দাবি আদায়ে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করছি।

এ বিষয়ে নবীন শিক্ষকদের নেতা তালুকদার পিয়াস বলেন, প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকরা দীর্ঘদিন যাবৎ তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। শিক্ষার মূলভিত্তি প্রাথমিক স্তর। প্রাথমিক শিক্ষকরা দেশের ভবিষ্যৎ নাগরিক গঠনের প্রথম স্তরে কাজ করেন।

তিনি বলেন, এই স্তরে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত না হলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার মানও দুর্বল হয়। তাই শিক্ষার মূলভিত্তি যারা গড়ে দিচ্ছেন, তাদের প্রাপ্য মর্যাদা ও বেতন কাঠামো পাওয়া উচিত। সময়ের প্রেক্ষাপটে সহকারী শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড যৌক্তিক ও ন্যায্য দাবি।

এদিকে প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের আরেকাংশ ‘প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদের’ ব্যানারে একাদশ গ্রেডে বেতন, উচ্চতর গ্রেড নিয়ে জটিলতা নিরসন ও শতভাগ পদোন্নতি নিশ্চিত করতে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত সরকারকে সময় বেঁধে দিয়েছেন৷

দাবি মানা না হলে ২৩ ও ২৪ নভেম্বর অর্ধদিবস কর্মবিরতি, ২৫ ও ২৬ নভেম্বর পূর্ণদিবস কর্মবিরতি এবং ২৭ নভেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

এ সময়ের মধ্যে দাবি আদায়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে পরীক্ষা বর্জনের পাশাপাশি ১১ ডিসেম্বর থেকে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন তারা।




বরিশাল বিভাগে ২১ আসনে ভোটগ্রহণে প্রস্তুত ২৮১৮ কেন্দ্র

বরিশাল বিভাগে ৬ জেলা ও ৪২টি উপজেলা মিলিয়ে ২১টি আসনে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এখন শুধু অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে ভোটগ্রহণের অপেক্ষায় আছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরিশালের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দীন। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রিসাইডিং কর্মকর্তাসহ ভোটগ্রহণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। বিভাগে ২ হাজার ৮১৮টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৫০ কেন্দ্রে (দুর্গম হিসেবে চিহ্নিত) ব্যালট আগে সরবরাহ করা হবে। বাকিগুলোতে নির্দেশনা অনুযায়ী ভোটের দিন অর্থাৎ ৭ জানুয়ারি সকালে পাঠানো হবে।

আলাউদ্দীন বলেন, আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন জনগণকে উপহার দিতে বদ্ধ পরিকর। সে লক্ষ্যে ভোটের দিন পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ঘিরে ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের কার্যক্রমও চলমান রেখেছে। আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল বিভাগে ২১টি আসনে ভোটার সংখ্যা ৭৪ লাখ ২৩ হাজার ৫২২।

যার মধ্যে ৩৭ লাখ ৭৪ হাজার ১৪৮ জন পুরুষ ও ৩৬ লাখ ৪৯ হাজার ৩১৭ নারী। হিজড়া ভোটার রয়েছে ৫৭ জন। আর এ ভোটারদের জন্য ২ হাজার ৮১৮টি ভোটকেন্দ্রে পুরুষদের জন্য ৮ হাজার ১১৬ ও নারীদের জন্য ৯ হাজার ১৮০টিসহ ১৭ হাজার ২৯৬টি কক্ষ প্রস্তুত করা হয়েছে। এ ছাড়া অস্থায়ী ভোট কক্ষের সংখ্যা রয়েছে ১ হাজার ৩২০টি।

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই ৬ জেলার ৬ জন জেলা প্রশাসককে রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় অতিরিক্ত ৩ জনসহ ৪৫ জন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে বরিশাল জেলায় ১৬ জনসহ গোটা বিভাগে ৬১ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্বাচনী এলাকায় আসনভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়।

পাশাপাশি ২১ জন বিভিন্ন পদমর্যাদার বিচারকের সমন্বয়ে ইলেক্টোরাল ইনকুয়ারি কমিটি গঠন করা হয়। উল্লেখ্য, গোটা বিভাগে ২১টি বিভিন্ন দলের ৯৫ প্রার্থী ও স্বতন্ত্র ২৫ জন প্রার্থীসহ ১২০ জন প্রার্থী নির্বাচনের ভোটের মাঠে রয়েছেন। তবে মৌখিকভাবে জাতীয় পার্টির দুজন ও স্বতন্ত্র একজন প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।




পেঁয়াজের উত্তাপে পুড়ছে বাজার!

বাজারে ফের চোখ রাঙাচ্ছে দেশী পেঁয়াজ। পেঁয়াজের উত্তাপে পুড়ছে গোটা খুলনার বাজার। হঠাৎ করে পেঁয়াজের দাম এক লাফে অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে পেঁয়াজ কিনতে হোঁচট খাচ্ছে সাধারন ক্রেতারা।

যার প্রভাব ইতোমধ্যে খুলনার বাজারে পড়তে শুরু করেছে, মাত্র ৩/৪ দিনের ব্যবধানে খুলনার পাইকারি বাজারে ৭০ টাকার পেঁয়াজ এখন বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। বাছাইকৃত পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়। খুচরা বাজারে দাম আরো বেশি প্রতিকেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১১০/১২০ টাকা দরে। হঠাৎ করে পেঁয়াজের এমন অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির পেছনের কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, কৃষকরা যে পেঁয়াজ মজুত করে রেখে ছিল, তা প্রায় শেষের দিকে। ইতোমধ্যে মজুতের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ক্রমশই কৃষকদের কাছে মজুত করা পেঁয়াজ কমে আসছে।

তাছাড়া কয়েক দিন আগে, সমুদ্রে সৃষ্ট ঘূর্নিঝড় ‘মোন্থা’র প্রভাবে লঘুচাপের দরুন অতিবৃষ্টিপাতের কারণে নতুন কালী পেয়াজের আবাদ ব্যাপক আকারে ক্ষতি হয়েছে। এতে পেঁয়াজ চাষিরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তাদের ফসলের ক্ষেত নষ্ট হওয়ার দরুন পেঁয়াজ চাষের উৎপাদন একমাস পিছিয়ে পড়েছে। তারই প্রভাব পড়ছে পাইকারি ও খুচরা বাজারে। তারা আরো জানিয়েছেন, সামনে বাজারে নতুন কালি পেয়াজ আসলে বাজার নিয়ন্ত্রন ও দাম কমে আসবে। এছাড়া ব্যবসায়ীরা ধারনা করছেন, হঠাৎ বাজারে পেঁয়াজের দামের যে ছন্দপতন ঘটেছে, এমতাবস্থায় যদি সরকার পেয়াজ এল.সি করে তবে সাময়িক পেঁয়াজের বাজারে যে অস্থিরতা বিরাজ করে, তা নিয়ন্ত্রনে চলে আসবে।

খুলনা বাজারে পেঁয়াজের হঠাৎ উর্ধ্বগতির বিষয়ে সাধারন ভোক্তারা বলছেন, প্রতি বছর পেঁয়াজ নিয়ে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে থাকেন। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। গত কয়েক বছর ধরে পেঁয়াজ নিয়ে কারসাজি চলছে। হঠাৎ হঠাৎ করে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে রাতারাতি কোনো না কোনো অজুহাতে পেঁয়াজের দাম হুড়হুড় করে বাড়িয়ে দেয়।

আর বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের একটা ট্রেডিশন চালু হয়ে গেছে, কোনো প্রাকৃতিক দূর্যোগ দেখা দিলে, ওই সুযোগে ডাকাতি শুরু করে। বাজারে পর্যাপ্ত পেঁয়াজের সরবরাহ রয়েছে। কালো বাজারিরা মজুতের ঘাটতি, অতিবৃষ্টিতে পেঁয়াজের ক্ষেত নষ্ট ইত্যাদি অজুহাতে দাম বৃদ্ধি করেছে। খুলনার বাজারে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধিতে দিশেহারা এবং ক্ষোভ ফেটে পড়ছেন সাধারণ ক্রেতারা।

তারা সামনে আরো দাম বৃদ্ধির ব্যাপারেও শঙ্কিত। এমতাবস্থায় বাজার নিয়ন্ত্রনে আনতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি হস্তক্ষেপ কামনাসহ নিয়মিত বাজার মনিটরিং করে ব্যবস্থা গ্রহনের জোরদার দাবি তুলেছেন।

নাগরিক নেতা বলছেন- সিন্ডিকেটের শিকড় অনেক গভীরে। প্রশাসনের যে শাখাগুলো বা বাজার মনিটরিংয়ের দায়িত্বে যারা আছেন তারাও এদের দ্বারা কোনো কোনো ভাবে প্রভাবিত। এছাড়া প্রশাসনেরও গাফালতি আছে। এই সিন্ডিকেট বা কালো বাজারিরা জনগণকে জিম্মি করে তারা নিজেরা একটা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে।

সিন্ডিকেটের মাধ্যেমে তারা একটা দর ঠিক করে ফেলে, সবখানে ওই দামেই বিক্রি হয়। এই সিন্ডিকেট ভাঙার জন্য জেলা প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দরকার। পাশাপাশি আইন-শৃঙখলা বাহিনীর সহযোগীতায় এটি মনিটরিং করা দরকার। বিশেষ করে জেলা প্রশাসনের উচিৎ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে দোষীদের যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা বা জরিমানা করা গেলে কলোবাজারি পুরাপুরি বন্ধ না হলেও কিছুটা নিয়ন্ত্রনে আসবে, সাধারন ভোক্তারা স্বস্তি পাবে।

এদিকে, বুধবার (৫ নভেম্বর) খুলনা নগরীর পাইকারী পেঁয়াজ ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে খুলনায় কুষ্টিয়ার- শ্মশান, বাঁশগ্রাম, পান্টি, মাগুরার- বুনোগাতি, আড়পাড়া, ঝিনাইদহের- শৈলকূপা, লাঙ্গলবাঁধ, ফরিদপুরের নগরকান্দা, ঝাটুরদিয়া, চারহাট, মকসুদপুর, পোড়াপাড়া, কালিনগর, ময়েনদিয়া, ধানগাসহ বিভিন্ন হাট ও মোকাম হতে খুলনার বাজারে পেঁয়াজ সরবরাহ হচ্ছে। কৃষককের কাছে যে পেঁয়াজ মজুত ছিল, তা প্রায় শেষের দিকে। ইতোমধ্যে মজুতের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। যে কারণে, এসব মোকাম বা হাটে বর্তমানে পেঁয়াজ বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে।যার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে খুলনা পাইকারি ও খুচরা বাজারে।

অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, যখন পেঁয়াজের দাম কমছিল, ওই সময় অনেক ব্যবসায়ী বাজারে সরবরাহের জন্য কৃষকের কাছ থেকে যারা সরাসরি পেঁয়াজ কিনেন, তারা সেই পেঁয়াজ বাজারে না ছেড়ে মজুত করে রেখে ছিল। কৃষকদের কাছে মজুত করা পেঁয়াজ কমে আসার খবরে ওই অসাধু ব্যবসায়ীরা তাদের পূর্বের মজুত রাখা পেঁয়াজ এখন বেশি দরে বিক্রি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পাইকারি ব্যবসায়ীদের বিপরীতে খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমরা নগরীর পাইকারি বাজার হতে পেঁয়াজ কিনে খুচরা বাজারে বিক্রি করি। যে সময় যে দামে কিনি, সেই সময় সেই দামে বিক্রি করি, সামান্য লাভে বিক্রি করি।

দৌলতপুর পাইকারী কাঁচা বাজারে আসা ক্রেতা জাহিদ জানান, বাজারে ফের পেঁয়াজ নিয়ে কারসাজি ও অস্থিরতা শুরু হয়েছে। কোনো ভাবেই ৩ দিনের আগের ৭০ টাকার পেঁয়াজ ১১০ টাকা মেনে নেওয়া যায় না। আমরা কোন দেশে বাস করি, যে ব্যবসায়ীদের কাছে সাধারন ক্রেতারা জিম্মি। তারা সিন্ডিকেট করে রাতারাতি পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৩০ টাকা বৃদ্ধি করবে। এটা কোনো ভাবেই মেনে নেওয়ার মতো নয়, এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা উচিত। বাজার নিয়ন্ত্রনে আসলে সাধারন ভোক্তারা একটু হলেও স্বস্তিতে থাকবে।

বাজারে আসা ক্রেতা তানিয়া রহমান জানান, পেঁয়াজ রান্নার গুরুত্বপূর্ন একটি মসলা। তরকারি রান্না করতে পেয়াজের বিকল্প নাই। কিন্তু, যে অবস্থা পেঁয়াজের দাম যে হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, উপায় কি? মনে হচ্ছে পেঁয়াজ ছাড়াই রান্না-বান্না শুরু করতে হবে। ৭০ টাকার পেঁয়াজ ১১০/১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ফারুক হোসেন নামের আরেক ক্রেতা জানান, এদেশের উন্নয়ণ চাইলে, আগে আমাদের নীতি- নৈতিকতা ও মানসিকতা বদলাতে হবে। আমরা কোন দেশে বাস করি, যে ২/৩ দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৩০/৪০ টাকা বেড়ে যায়। গত, কয়েক বছর ধরে পেঁয়াজ নিয়ে ব্যবসায়ীরা কারসাজি করছে। এসব অসাধু ব্যবসায়ীদের আইনের মুখোমুখি করলে আমাদের মতো সাধারন জনগন উপকৃত হবো, আর কিছুই বলার নেই।

কেসিসির সোনাডাঙ্গা পাইকারী বাজারে ব্যবসায়ী মো. জলিল জানান, মৌসুমের শুরুতে কৃষক ও গৃহস্থরা পর্যাপ্ত পেঁয়াজ মজুত করেন। ওই সময় পেঁয়াজ কম দামেও বিক্রি করেছেন। ওই সময় আমরাও কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করেছি। ওই অল্প দামে পেয়াজ বিক্রি করতে করতে কৃষকের মজুতকৃত পেঁয়াজ প্রায় শেষের দিকে। মজুত সংকটের কারণে পেঁয়াজের দাম হঠাৎ বৃদ্ধি পেয়েছে। কিছুদিন হয়তো বেশি দামে পেঁয়াজ খাওয়া লাগবে, সামনে নতুন পেয়াজ ওঠলে দাম কমে যাবে।

তাছাড়া, বর্তমানে সার-বীজ প্রভৃতির যে দাম বাড়তি, তাতে যদি কৃষক পেঁয়াজ বিক্রিতে দাম বেশি না পায়, তবে চাষাবাদে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। মেসার্স জোনাকী ভান্ডারের সত্বাধিকারী আবু সুফিয়ান জানান, কৃষকরা যে পেঁয়াজ মজুত করে রেখে ছিল, তা প্রায় শেষের দিকে। ক্রমশই কৃষকদের কাছে মজুত করা পেঁয়াজ কমে আসছে। তাছাড়া কয়েক দিন আগে, সমুদ্রে সৃষ্ট ঘূর্নিঝড় ‘মোন্থা’র প্রভাবে লঘুচাপের দরুন অতিবৃষ্টিপাতের কারণে নতুন কালী পেঁয়াজের আবাদ ব্যাপক আকারে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। চাষিরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তাদের ফসলের ক্ষেত নষ্ট হওয়ার দরুন পেঁয়াজ চাষের উৎপাদন একমাস পিছিয়ে পড়েছে। তারই প্রভাব পড়ছে পাইকারি ও খুচরা বাজারে। সামনে বাজারে নতুন কালি পেয়াজ আসলে বাজার নিয়ন্ত্রন ও দাম কমে আসবে।

নগরীর চিত্রালী বাজারের খুচরা বিক্রেতা পিন্টু জানান, কি কারণে হঠাৎ পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে জানিনা। পাইকারি বাজার থেকে ১০০ টাকা দরে পেঁয়াজ কিনেছি, বিক্রি করছি ১১০ টাকা করে। খুলনা নিউ মার্কেটের খুচরা ব্যবসায়ী কালু জানান, দাম তো আর আমাদের হাতে নেই। পাইকারি বাজার হতে যে দামে কিনি, সামান্য লাভে বিক্রি করি। গতকাল সোনাডাঙ্গা পাইকারি বাজার হতে ১০৫ টাকা দরে প্রতি কেজি পেয়াজ কিনেছি। খরচ-খরচা বাদে কয় টাকা দরে বিক্রি করবো বলেন। প্রতি কেজি পেঁয়াজ ১১৫/১২০ টাকা দরে বিক্রি করছি। যখন দাম কমবে,তখন কম দামে বিক্রি করবো।

নগরীর ময়লাপোতা বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী কাওসার জানান, সোনাডাঙ্গা পাইকারি বাজার হতে বাছাই করা পেঁয়াজ ১০৯ টাকা কেজি দরে কেনা লাগছে। এরপর খরচ আছে, খুচরা ১১৫টাকা দরে বিক্রি করছি। যে সময় যেমন কেনা, সেই সময় সময় তেমন দামে বিক্রি করি। রাখি বা মজুতের কারণে বর্তমানে পেয়াজের দাম বেড়েছে।
এ বিষয়ে নাগরিক সমাজ খুলনার সাঃ সম্পাদক এড. মো. বাবুল হাওলাদার জানান, আমাদের কাছে মনে হয় এই সিন্ডিকেটের শিকড় অনেক গভীরে। প্রশাসনের যে শাখাগুলো বা বাজার মনিটরিংয়ের দায়িত্বে যারা আছেন তারাও এদের দ্বারা কোনো কোনো ভাবে প্রভাবিত। এছাড়া প্রশাসনেরও গাফিলতি আছে।

এই সিন্ডিকেট বা কালো বাজারিরা জনগণকে জিম্মি করে তারা নিজেরা একটা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে। সিন্ডিকেটের মাধ্যেমে তারা একটা দর ঠিক করে ফেলে, সবখানে ওই দামেই বিক্রি হয়। এই সিন্ডিকেট ভাঙার জন্য জেলা প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দরকার। খুলনা জেলা প্রশাসনের একটা টাস্কফোর্স আছে, এটা দীর্ঘদিন অকার্যকর। তাদের কোনো কার্যকারিতা নাই। এটা চালু করা দরকার, বাজার কর্মকর্তা যিনি আছেন তার এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া দরকার।

আইন-শৃঙখলা বাহিনীর সহযোগীতায় এটি মনিটরিং করা দরকার। বিশেষ করে জেলা প্রশাসনের উচিৎ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে দোষীদের যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা বা জরিমানা করা। এটা করা গেলে কলোবাজারি পুরাপুরি বন্ধ না হলেও কিছুটা নিয়ন্ত্রনে আসবে, সাধারন ভোক্তারা স্বস্তি পাবে।

এ ব্যাপারে সু-শাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) খুলনা মহানগর শাখার সাঃ সম্পাদক এড. কুদরত-ই খুদা জানান, একজন ভোক্তা হিসাবে আমরা চাই বাজার স্বাভাবিক থাকুক। সিন্ডিকেটদের যদি নিয়ন্ত্রন না করা যায়, যদি বাজার মনিটরিং জোরদার না করা যায় তবে নিয়ন্ত্রনহীন হয়ে পড়বে এটা স্বাভাবিক। পেঁয়াজের সিন্ডিকেট ভাঙতে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে। এই সিন্ডিকেট ভাঙতে ভোক্তা অধিকার ও সংরক্ষন অধিদপ্তরের কঠোর ভূমিকায় থাকতে হবে।

এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার ও সংরক্ষন খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মাদ সেলিম জানান, খুলনার নিত্যপণ্যের বাজারে আমরা নিয়মিত তদারকিসহ অভিযান অব্যহত রেখেছি। ভোক্তার অধিকার লঙ্ঘিত করলে ওই ব্যবসায়ী বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা হিসাবে জরিমানা আরোপসহ আদায় করা হচ্ছে।

যেহেতু পেঁয়াজের মজুত সংকটকে কেন্দ্র করে দাম বৃদ্ধির বিষয়ে অবগত করা হয়েছে, এ ব্যাপারে বাজার মনিটরিং করে ব্যবস্থা গ্রহন করবো। কোনো ব্যবসায়ী বা প্রতিষ্ঠান সরকার প্রদত্ত নিয়মনীতির বাইরে ব্যবসা পরিচালনা করলে তাদের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দপ্তর হতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।




হাসান মামুনকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি সারা দেশে প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে এখন উত্তেজনা, কৌতূহল আর জল্পনা বিরাজ করছে। বিএনপি এখনো এই আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেনি, আর তাতেই রাজনীতির মাঠে নতুন সমীকরণ তৈরি হলো বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

তবে কেন্দ্রের এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আন্দোলনে নেমেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। কেন্দ্রীয় বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও মনোনয়নপ্রত্যাশী হাসান মামুনের সমর্থকরা বুধবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় গলাচিপায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন।

সন্ধ্যায় উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার অফিস সংলগ্ন এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে এসে সমাবেশে মিলিত হয়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, গলাচিপা-দশমিনার গণমানুষের নেতা হাসান মামুনের নাম বিএনপির প্রার্থী হিসেবে অবিলম্বে ঘোষণা করতে হবে। দল যদি তার নাম ঘোষণা না করে, তাহলে আন্দোলন আরও তীব্র করা হবে।

তারা আরও বলেন, হাসান মামুন দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থেকে দলকে সংগঠিত করেছেন। তার জনপ্রিয়তা, ত্যাগ ও গ্রহণযোগ্যতার কারণে পটুয়াখালী-৩ আসনে তিনিই সর্বাধিক যোগ্য প্রার্থী। দলীয় সিদ্ধান্তে বিলম্ব করে নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

বিক্ষোভ ও সমাবেশের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বক্তারা আরও বলেন, গলাচিপা-দশমিনার জনগণ হাসান মামুনকেই তাদের প্রার্থী হিসাবে দেখতে চায়। বিএনপির ভবিষ্যৎ রাজনীতির স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সমাবেশসহ আরো কঠোর কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন গলাচিপা উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার হাওলাদার, সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম মৃধা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম তালুকদার, মাসুম বিল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার মশিউর রহমান শাহিন, দপ্তর সম্পাদক প্রভাষক ফজলুর রহমান, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক সাগর খান, সহ-তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মুনতাসীর মামুন, পৌর বিএনপি সভাপতি মিজানুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন খান, সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়াসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।

উল্লেখ্য যে, রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন চলছে- এই আসনটি নাকি রাখা হয়েছে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের জন্য। এমন সম্ভাবনা ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন, সর্বত্রই শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা।




শেয়ারবাজারে পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের লেনদেন স্থগিত

একীভূতের প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন স্থগিত করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)।

বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) নোটিশ দিয়ে ডিএসই ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক (এসআইবিএল), এক্সিম ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন স্থগিত করে। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর শেয়ার লেনদেন স্থগিত থাকবে।

লেনদেন স্থগিত করার কারণ হিসেবে ডিএসই থেকে জানানো হয়েছে, ব্যাংক রেজোলিউশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর ধারা ১৫ অনুসারে ৫ নভেম্বর থেকে ব্যাংকগুলোকে অ-কার্যকর হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে।

ডিএসই আরও জানিয়েছে, ব্যাংকগুলো জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক ৫ নভেম্বর চিঠির মাধ্যমে নির্দেশ দিয়েছে ব্যাংকগুলো এখন থেকে ব্যাংক রেজোলিউশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ অনুসারে পরিচালিত হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক আরেকটি চিঠির মাধ্যমে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদও ভেঙে দিয়েছে।

এদিকে গতকাল বুধবার এক সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, পাঁচ ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডারদের ইকুইটির মূল্য এখন শূন্যের নিচে। ফলে শেয়ারগুলোর ভ্যালু জিরো হিসেবে বিবেচিত হবে। কাউকে কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না।




চট্টগ্রামে বিএনপির প্রার্থী গণসংযোগে গুলি ‘সন্ত্রাসী’সরোয়ার বাবলা নিহত

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :   বুধবার বিকেলে নগরের বায়েজিদ এলাকায় চট্টগ্রাম–৮ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহর নির্বাচনি প্রচারনা গুলিবিদ্ধ হন  সরোয়ার , এতে এরশাদ উল্লাহ, সরোয়ার ও শান্ত নামের তিনজন গুলিতে আহত হন। তাদের মধ্যে সরোয়ারের মৃত্যু হয়।

সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

সরোয়ার বাবলা নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চাঁদগাও থানার ওসি জাহেদুল কবির।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পর্ক নেই। বিএনপির প্রার্থী গণসংযোগ করার সময় সেখানে শত শত লোক অংশ নেন। সরোয়ার সেখানে অংশ নিলে সন্ত্রাসী দুটি দলের মধ্যে পূর্ববিরোধের জেরে তাকে গুলি করা হয়।

এদিকে পুলিশ জানায়, সরোয়ারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অস্ত্র, হত্যাসহ ১৫টি মামলা রয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ৩০ মার্চ নগরের বাকলিয়া অ্যাকসেস রোড এলাকায় একটি প্রাইভেট কারে গুলি চালিয়ে সরোয়ারকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। ওই সময় প্রাইভেট কারে থাকা দুজন ঘটনাস্থলে মারা যান। সেদিন ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান সরোয়ার। পরে এই মামলায় গ্রেপ্তার আসামিরা জবানবন্দিতে ও পুলিশকে জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ‘সন্ত্রাসী’ সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদের নির্দেশে সরোয়ারকে গুলি করা হয়।




বরিশালের পাঁচ আসনে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরিশাল জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটি আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। সোমবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য হলে) দলের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করা হয় বলে জানা গেছে।

ঘোষিত প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন.

  • বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য এম জহির উদ্দিন স্বপন,
  • বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনে দলের নেতা এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু,
  • বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ) আসনে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান,
  • বরিশাল-৫ (মহানগর ও সদর উপজেলা) আসনে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক হুইপ অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার,
  • বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খান

তবে বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে দুইজন হেভিওয়েট প্রার্থী থাকায় ঐ আসনে চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম এখনো ঘোষণা করা হয়নি। বিএনপির মহাসচিব জানিয়েছেন, আলোচনার মাধ্যমে শিগগিরই ওই আসনের প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল অঞ্চলের প্রার্থীরা ইতিমধ্যে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করেছেন এবং নির্বাচনী প্রস্তুতিও শুরু করেছেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




একশো আসনে পিআর হলে ভালো হবে: ব্যারিস্টার ফুয়াদ

এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেছেন, শতভাগ প্রতিনিধিত্বমূলক (পি আর) নির্বাচনের পক্ষপাতী নন, তবে একশো আসনে পিআর ব্যবস্থা থাকলে ভালো হবে। দুই কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ নিয়ে তিনি দ্বিমত প্রকাশ করে বলেন, দল একটি কক্ষের পক্ষেই। প্রয়োজনে সংরক্ষিত আসন ৫০ থেকে ১০০ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা যেতে পারে, যাতে মহিলা ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার পিছিয়ে পড়া মানুষদের অন্তর্ভুক্ত করা যায়।

রোববার বিকেলে ঝালকাঠি প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, উচ্চ কক্ষে পিআর হলে এমপিদের বেচাকেনার ঝুঁকি থাকবে। নির্বাচনের পর গণভোট হলে জটিলতা বাড়বে। এছাড়া, নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা প্রমাণের জন্য জাতীয় নির্বাচনের আগে অন্তত একটি স্থানীয় নির্বাচন করা উচিত ছিল।

অন্তর্বর্তী সরকার নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পরে ইউনুস সরকারকে সফল মনে করেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির ঝালকাঠি-০২ আসনের এমপি প্রার্থী শেখ জামাল হোসেন, জেলা আহ্বায়ক মো. জামাল হাওলাদার, সদস্য সচিব জাহিদ হোসেন বশির ও অন্যান্য দলীয় নেতাকর্মীরা। বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




মঠবাড়িয়ার ডিজিটাল একচেঞ্জ পরিত্যক্ত, ময়লার ভাগাড়ে পরিণত

মঠবাড়িয়া উপজেলার প্রাচীন টিএন্ডটি ভবনটি এখন পরিত্যক্ত হয়ে ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। ছাদ ও দেয়ালের ফলেস্টারা খসে পড়ছে, অফিস এলাকা লতাপাতা কচু গাছে ঘেরা, আর সেবার কোনো কার্যক্রম নেই। স্থানটি স্থানীয়দের মতে এমনভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে যেন এটি ভুতুড়ে ভবনে পরিণত হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রাস্তার পাশে বিটিসিএলের সাইনবোর্ডে লেখা “ডিজিটাল টেলিফোন এক্সচেঞ্জ, মঠবাড়িয়া, পিরোজপুর”। তবে বাস্তবে ডিজিটালের কোনো ছোঁয়া নেই, বরং আবর্জনায় এলাকা ভরপুর। একজন জেলা থেকে আসা কর্মচারী মাঝে মাঝে এখানে কাজ করেন।

বিটিসিএল অফিস সূত্রে জানা গেছে, স্বাধীনতার পর থেকে ভবনটি টিএন্ডটি কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। ২০০২ সালে এটি ডিজিটাল হয়েছে। বর্তমানে এখানে টেলিফোন ও এল এল আই সেবা দেওয়া হয়। এছাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার কার্যালয়, সরকারি হাসপাতাল, নির্বাচন কমিশন অফিসসহ ৩০টি সংযোগ রয়েছে।

বিটিসিএলের পিরোজপুর জেলার জুনিয়র সহকারী ব্যবস্থাপক মো. শহীদুল ইসলাম জানান, আবর্জনার বিষয়টি নজরে এসেছে। বিভিন্ন সময়ে পৌরসভার সহযোগিতায় পরিষ্কার করা হয়েছে। মেন সড়কে কালভার্টের কাজের কারণে লাইনের ক্ষতি হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, অতি দ্রুত অফিসের পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ চলবে।

সেবা গ্রহণকারী জামান আবির বলেন, ২০০২ সালের ডিজিটাল রূপান্তরের পরও সেবা পাননি, ফলে এক সময়ে লাইনটি কেটে দিতে বাধ্য হয়েছেন।

মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অবদুল কাইয়ূম জানিয়েছেন, অফিস সচল ও পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবেন। তিনি ভিজিট করে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ইন্দুরকানীতে সরকারি পুলের বিম বিক্রির সময় দুইজন আটক

ইন্দুরকানী উপজেলার পত্তাশী ইউনিয়নের বাগোলেরহাট বাজারে সরকারি পুলের বিম বিক্রি করার সময় দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। রবিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২ নং পত্তাশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা জাতীয় পার্টি (জেপি) আহ্বায়ক মো. শাহীন হাওলাদারের বাড়ি থেকে ভ্যানযোগে দুটি বিম মোড়েলগঞ্জের উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল। ভ্যানটি বাজারে পৌঁছালে স্থানীয়রা সন্দেহ করে পুলিশে খবর দেয়।

ইন্দুরকানী থানার এসআই শাহিনের নেতৃত্বে পুলিশ এসে ভ্যানসহ দুইজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। আটক ব্যক্তিরা হলেন-

  • আতিয়ার শেখ, মৃত মোন্তাজ উদ্দিন শেখের ছেলে, ভাঙারি ব্যবসায়ী, মিত্রডাঙ্গা, মোড়েলগঞ্জ
  • সাজু, আতিয়ারের নির্দেশে ভ্যান চালানো ব্যক্তি

আটক আতিয়ার শেখ দাবি করেছেন, পত্তাশী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. শাহিন হাওলাদারের চাচাতো ভাই সোহেল হাওলাদারের কাছ থেকে বিম ক্রয় করেছেন। বিমের ক্রয়মূল্য প্রতি কেজি ৩৬ টাকা, যার জন্য তিনি বিকাশের মাধ্যমে ২ হাজার টাকা পাঠান। অপরদিকে সোহেল হাওলাদার এই বিষয়ে অজানা থাকার কথা জানিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বাজারে ভ্যান পৌঁছালে তাদের সন্দেহ হলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। ইন্দুরকানী থানার ওসি (তদন্ত) মোস্তফা জাফর জানিয়েছেন, সরকারি সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগে দুইজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আটক আতিয়ার শেখের বিরুদ্ধে মোড়েলগঞ্জ থানায় ইতিমধ্যেই তিনটি মামলা, যার মধ্যে একটি হত্যা মামলাও রয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫