বরিশাল জেলায় ৫৭৭ ও মহানগরে ২৩টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন

বরিশাল জেলায় ৫৭৭ ও মহানগরে ২৩টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। রোববার সকালে বরিশালের জেলা প্রশাসক এর সম্মেলন কক্ষে বরিশাল জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এ তথ্য জানানো হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন। বক্তব্য রাখেন অতিরক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার বেল্লাল হোসাইন, পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দিন।

সভায় জানানো হয় বরিশালে অক্টোবর মাসে মোট ৪৩২টি অপরাধ সংগঠিত হয়েছে। এরমধ্যে বরিশাল মেট্রোপলিটন এলাকায় ১৪৭ টি ও জেলায় ২৮৫ টি। অক্টোবর মাসে মেট্রোপলিটন এলাকায় পাঁচটি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। সেপ্টেম্বর মাসে একটি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। এ থেকে বোঝা যায় বরিশাল মেট্রোপলিটন এলাকায় অপহরণের সংখ্যা বেড়েছে।

অপরদিকে মেট্রোপলিটন এলাকায় ১৩টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে সেপ্টেম্বর মাসে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ১৫টি। অপরদিকে জেলায় ২৮৫ টি অপরাধ সংগঠিত হয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে জেলায় ১৮৬ টি অপরাধ সংগঠিত হয়েছে। এ থেকে বোঝা যায় অক্টোবর মাসে বরিশাল জেলায় অপরাধের সংখ্যা বেড়ে গেছে।

আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় জেলা প্রশাসক বলেন-নির্বাচনকে সামনে রেখে যাতে কোন অপরাধ না ঘাটে সেদিকে সবাইকে লক্ষ্য রাখতে হবে। শহরে কিশোর গ্যাং এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসক বলেন-কোন রাস্তা বন্ধ করে জনগণের ভোগান্তি সৃষ্টি করে আন্দোলন করা যাবে না।




বরিশালে জামায়াত নেতার বাড়িতে আগুন

বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে এক জামায়াত নেতার বাড়িতে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় ককটেল ফাটিয়ে পালিয়ে যায় তারা। শনিবার (০৮ নভেম্বর) রাত আড়াইটার দিকে ভাষানচর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।

আগুনে ওই ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুর রহমান ফারুকের ঘরসহ দুটি ঘর পুড়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত জামায়াতের আমির স্থানীয় মাদবরায় মোহাম্মদ রেজাউল করিম মহিলা দাখিল মাদ্রাসার সহকারী সুপার পদে কর্মরত রয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী প্রতিবেশী মিজানুর রহমান ফকিরের স্ত্রী তহমিনা বেগম বলেন, ‘রাত আড়াইটার সময় তিনি বাথরুম ব্যবহার করার জন্য বাইরে বের হয়ে দেখি জামায়াত নেতার ঘরে আগুন জ্বলছে। এক পর্যায়ে ৩টি ককটেল ফুটানোর শব্দ শুনতে পাই। পরে রাস্তার দিকে তাকিয়ে দেখি দুটি মোটরসাইকেল যোগে মুখোশ পরা চারজন পালিয়ে যাচ্ছেন।’

ক্ষতিগ্রস্ত জামায়াত নেতা মাওলানা আব্দুর রহমান বলেন, ‘ঘটনার দিন রাতে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে আমি প্রতিদিনের মতো রাত ১০টার সময় ঘুমিয়ে ছিলাম। রাত আড়াইটার দিকে আগুনের লেলিহান শিখা দেখে আমার ঘুম ভাঙে। তাৎক্ষণিক ডাক-চিৎকার করলে প্রতিবেশীরা দৌড়ে এসে পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। ততক্ষণে আমার এবং চাচাতো ভাই সিরাজুল হকের দুটি ঘর পুড়ে যায়।’

তিনি বলেন, ‘দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে চাচাতো ভাইয়ের ঘরটি সম্পূর্ণ পুড়লেও আমার ঘরের চালা পুড়ে গেছে। আমি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছি। আগের দিন আমাদের দলের দাঁড়িপাল্লার মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল জব্বারের পোস্টার ও ফেস্টুন আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। সে ঘটনায় রোববার (০৯ নভেম্বর) আমরা এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভার আয়োজন করার দিনক্ষণ ঠিক করি। এর জের ধরেই আমার বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।’

তিনি দাবি করেন, ফেস্টুন আর পোস্টার পোড়ার প্রতিবাদ যেন না করতে পারি সেজন্যই আমার বাড়িতে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। নির্বাচনে আমাদের ভয় দেখাতেই আগুন আর ককটেল ফাটানো হয়েছে।

এ ঘটনায় মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মো. শহীদুল ইসলাম এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রশাসনকে বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।

মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক গিয়াস উদ্দিন দিপেন বলেন, এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা যে বা যারা ঘটিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। এসব অপরাধকে প্রশ্রয় দেওয়া যায় না। আমি ঘটনার নিন্দা জানাই।

মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার কাজীরহাট থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান বলেন, সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




প্রাথমিক শিক্ষকদের কর্মবিরতি শুরু, ৬৫ হাজার স্কুলে ক্লাস বন্ধ

দশম গ্রেডে বেতনসহ তিন দফা দাবি এবং শাহবাগে পুলিশি হামলার প্রতিবাদে রোববার (৯ নভেম্বর) থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেছেন দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। ফলে সারাদেশের প্রায় ৬৫ হাজারের বেশি বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।

এর আগে, শনিবার সকাল থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান নেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। সেখান থেকে পদযাত্রার মাধ্যমে কলম বিসজর্ন কর্মসূচির ঘোষণা দেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলেও জানান তারা।

বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শাহবাগের উদ্দেশে পদযাত্রা শুরু করেন শিক্ষকরা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রাথমিক শিক্ষকরা এ পদযাত্রায় যোগ দেন। তবে পুলিশি বাধায় পণ্ড হয়ে যায় তাদের পদযাত্রা।

দশম গ্রেডে বেতনসহ তিন দফা দাবিতে ‘কলম বিসর্জন কর্মসূচি’ পালনের অংশ হিসেবে শিক্ষকরা শাহবাগে অবস্থান নিতে গেলে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে। এতে তাদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় এবং শিক্ষকরা বিভিন্ন দিকে ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন।

শিক্ষকদের তিন দফা দাবি হলো- সহকারী শিক্ষকদের দশম গ্রেড দেয়া, ১০ বছর ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড দেয়া সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান ও শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির নিশ্চয়তা।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের তথ্যমতে, দেশে বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫৬৭টি এবং শিক্ষক সংখ্যা প্রায় তিন লাখ ৮৪ হাজার। গত ২৪ এপ্রিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রধান শিক্ষকদের বেতন একাদশ থেকে দশম এবং ত্রয়োদশ থেকে দ্বাদশ গ্রেডে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন সহকারী শিক্ষকরা।

এদিকে, সহকারী শিক্ষকদের আরেকটি অংশ ‘প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত দাবি আদায়ের সময়সীমা দিয়েছে। দাবি পূরণ না হলে তারা ২৩ ও ২৪ নভেম্বর অর্ধদিবস কর্মবিরতি, ২৫ ও ২৬ নভেম্বর পূর্ণদিবস কর্মবিরতি এবং ২৭ নভেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের সামনে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন।

এছাড়া ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নে অগ্রগতি না হলে পরীক্ষা বর্জন ও আমরণ অনশন কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা।




তিন দিন ধরে বঙ্গোপসাগরে ভাসতে থাকা ১৩ জেলে উদ্ধার

কক্সবাজারের কুতুবদিয়ার অদূরে বঙ্গোপসাগরে ভাসমান অবস্থায় ইঞ্জিন বিকল একটি মাছধরা ট্রলারসহ ১৩ জেলেকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী।

শনিবার (৮ নভেম্বর) দুপুরে টহল অভিযানের সময় নৌবাহিনীর জাহাজ ‘বানৌজা শহীদ মহিবুল্লাহ’ সাগরে ভাসমান ওই ট্রলারটি শনাক্ত করে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে।

নৌবাহিনী জানায়, কুতুবদিয়া লাইটহাউজ থেকে প্রায় ২০ মাইল দূরে ট্রলারটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে তিন দিন ধরে জেলেরা সাগরে ভাসমান ছিলেন। বিপদগ্রস্ত জেলেরা নৌবাহিনীর জাহাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে অংশ নেওয়া নৌ সদস্যরা দ্রুত ট্রলারসহ জেলেদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা, খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করেন। পরবর্তীতে উদ্ধারকৃত জেলেদের ও ট্রলারটিকে নিরাপদে তীরে এনে পরিবার ও মালিক পক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

উদ্ধার হওয়া জেলেরা জানায়, গত ৬ নভেম্বর থেকে ইঞ্জিন বিকল অবস্থায় তারা গভীর সমুদ্রে তিন দিন ধরে আটকা পড়ে ছিলেন।




দুর্নীতি-দুঃশাসনের বিরুদ্ধে আমরা যুদ্ধ ঘোষণা করেছি: জামায়াত আমির

দুর্নীতি-দুঃশাসনের বিরুদ্ধে আমরা যুদ্ধ ঘোষণা করেছি বলে মন্তব্য করেছেন, জামায়াতে ইসলামীর আমির ও ঢাকা-১৫ সংসদীয় আসনে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, ন্যায়-ইনসাফের সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং দেশকে দুর্নীতি-দুঃশাসন মুক্ত করার ক্ষেত্রে জামায়াত কারও সাথে আপস করবে না।

শুক্রবার( ৭ নভেম্বর) রাতে রাজধানীর মিরপুর পীরেরবাগ ঝিলপাড়ে ঢাকা-১৫ সংসদীয় আসনে ডা. শফিকুর রহমান সমর্থক গোষ্ঠী আয়োজিত প্রীতি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত প্রতিশ্রুতি নয়, কথা ও কাজে মিল রাখতে অঙ্গীকারাবদ্ধ, দেশ ও জাতিকে এক নতুন বাংলাদেশ উপহার দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি বলেন, জামায়াত শুধুই প্রতিশ্রুতির রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না বরং কথা ও কাজের মধ্যে মিল রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নির্বাচনের আগে কিছু মানুষ বা দল বাংলাদেশকে আমেরিকা-কানাডা বানানোর স্বপ্ন দেখায়। কিন্তু নির্বাচনের পরে তারা সে ওয়াদা আর রাখে না। তাই বিগত ৫৪ বছরে দেশের মানুষ বহু ধোকা খেয়েছে।

এবার এসব ধোকাবাজকে না বলুন। অতীত-বর্তমানের আমলনামা দেখে আগামীতে তাদের আমলনামা কী হবে তা বুঝতে হবে। তাই শুধু কথামালার ফুলঝুড়িতে বিভ্রান্ত হলে চলবে না বরং ভোটারকে অবশ্যই বাস্তবতা উপলব্ধি করতে হবে। তিনি দেশকে কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করতে সকলকে ময়দানে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ। তাই এদেশ কারো নির্দেশনা অনুযায়ী চলবে না। কাউকে দাদা বা বড় ভাই আমরা মানবো না। নিজেরা নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে আত্মসম্মানের সাথে মাথা উঁচু করে চলবো। কারো সাথে বৈরিতা নয় বরং সকলের সাথে বন্ধুত্ব ও সমতার ভিত্তি হবে আমাদের পররাষ্ট্রনীতির মূলমন্ত্র।

আমরা কারো কাছে নতজানু হবো না। পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে আমরা কারো রক্ত-চক্ষুকে পরোয়া করবো না। জনগণ আমাদেরকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিলে আমরা নতুন প্রজন্ম ও যুব সমাজকে এমনভাবে গড়ে তুলবো, যাতে তাদের সরকারের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে না হয়। আমরা এমন এক প্রত্যয়ী যুব সমাজ গড়ে তুলতে চাই যারা আত্মনির্ভরশীল হয়ে স্বতোঃপ্রণোদিতভাবে নিজেরাই সরকারকে সহযোগিতা করবে।

জামায়াত আমির বলেন, এই সমাজকে দুর্নীতিমুক্ত করার জন্য আমরা যুদ্ধ ঘোষণা করেছি। আমরা এতোদিন অতীত নিয়ে কামড়াকামড়ি করেছি। ফলে আমরা বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়েছি। বিশ্বের অপরাপর জাতি যখন সামনের দিকে এগিয়ে গেছে, তখন আমরা এখনও পশ্চাদপদ। কিন্তু এখন দিন বদলের সময় এসেছে। তাই দেশ ও জাতির ভাগ্য পরিবর্তনে আমাদের ইতিবাচক পরিকল্পনা গ্রহণ ও তা বাস্তবায়নের জন্য এগিয়ে যেতে হবে।

তিনি বলেন, আল্লাহ আমাদের সরকার গঠন করার সুযোগ দিলে নৈতিক ও উন্নত জাগতিক শিক্ষা চালুকরণ, সকলের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করণ এবং সভ্য ও উন্নত দেশগুলোর সাথে শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতির সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা হবে।

কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মূসার সভাপতিত্বে ও মিরপুর পূর্ব থানার কর্মপরিষদ সদস্য সাইফুল ইসলামের সঞ্চালনায় সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা-১৫ আসনের সচিব শাহ আলম তুহিন, ঢাকা মহানগরী উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য মো. শহীদুল্লাহ, কাফরুল জোনের সহকারী পরিচালক জসিম উদ্দিন ও মিরপুর পূর্ব থানার সেক্রেটারী ওয়াহিদুল ইসলাম সাদী।

এর আগে জামায়াত আমির পীরেরবাগ ছাপড়া মসজিদে জু’মা, বাইতুল আরাফা মসজিদে আসর ও বড়বাগ গাউসিয়া মসজিদে মাগরিবের নামাজ আদায় করেন এবং নামাজ শেষে মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন ও কুশল বিনিময় করেন। মাগরিবের নামাজের পর পশ্চিম মনিপুরে জামায়াত আয়োজিত সুধী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।




ডেঙ্গু ভ্যাকসিন কতটা কার্যকর, বাংলাদেশ কেন ব্যবহার করে না

ডেঙ্গুজ্বর দিনে দিনে মানুষের কাছে আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। ডেঙ্গু মোকাবিলার উপায় নিয়ে রয়েছে নানা আলোচনা। ডেঙ্গুর ভ্যাকসিন বা টিকা আছে, বাংলাদেশ এই টিকা কেন ব্যবহার করা হয় না, মানুষের মধ্যে রয়েছে এমন প্রশ্নও। খবর বিবিসি বাংলার।

এক সময় বর্ষাকালে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব নিয়ে চিন্তায় থাকত মানুষ। কিন্তু এখন আর কোনো মৌসুম নেই। বছরের যে কোনো সময়ই হতে পারে ডেঙ্গুজ্বর।

কীটতত্ত্ববিদরা বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং নগরায়নসহ নানা কারণে এডিস মশার প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। আর এ কারণেই ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্তের সংখ্যাও ভবিষ্যতে আরও বাড়বে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় একদিকে যেমন ডেঙ্গুর জীবাণু বহনকারী এডিস মশার বিস্তার ঠেকাতে হবে আবার ভ্যাকসিন বা টিকার ব্যবহারও বাড়ানোর কথা বলছেন তারা।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মোশতাক হোসেন বলছেন, এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুর জন্য দুটি টিকা ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তবে, সেগুলো ব্যবহারেও রয়েছে নানা সীমাবদ্ধতা। আর এ কারণেই বিশ্বের অনেক দেশ ডেঙ্গু টিকা ব্যবহারের অনুমোদন দিলেও বাংলাদেশ এখনো এ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়নি।

এছাড়া টিকা ব্যবহারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে রাজনৈতিক লাভ-ক্ষতির বিষয়টিও জড়িত বলে মনে করেন কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার।

বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, টিকার অনুমোদন দিতে আগে এই রোগকে এপিডেমিক ডিক্লেয়ার করতে হবে। কিন্তু সেটা করলে তো সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে।

এছাড়া এর মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্ক আরও বেড়ে যেতে পারে বলেও মনে করেন তিনি।

ডেঙ্গু মোকাবিলায় টিকার থেকে মানুষের সচেতনতা বেশি জরুরি বলেও মনে করেন অধ্যাপক বাশার।

বিবিসি বাংলার সঙ্গে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

কেবল বাংলাদেশ নয় ডেঙ্গুর প্রভাব রয়েছে বিশ্বজুড়েই। বিশেষ করে আফ্রিকা ও মধ্য আমেরিকার দেশগুলোতে এর ব্যাপ্তি ভয়াবহ। ইউরোপ-আমেরিকার নানা উন্নত দেশও ডেঙ্গুমুক্ত নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন বা সিডিসি’র তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ৪০০ কোটি মানুষ ডেঙ্গুর ঝুঁকিতে বসবাস করছেন।

বিশ্ব বিভিন্ন স্থানে ডেঙ্গুর এমন প্রভাব থাকলেও এর ভ্যাকসিন বা টিকা খুব একটা বিস্তার লাভ করেনি। ডেঙ্গু মোকাবিলায় এখন পর্যন্ত ‘ডেঙ্গাভেক্সিয়া’ এবং ‘কিউডেঙ্গা’ নামে দুই ধরনের টিকা পৌঁছেছে মানুষের হাতে।

ফ্রান্সের বহুজাতিক ফার্মাসিউটিক্যাল প্রতিষ্ঠান সানোফি-এ্যাভেন্টিজের ডেঙ্গু টিকা ‘ডেঙ্গাভেক্সিয়া’র অনুমোদন দিয়েছে বেশ কয়েকটি দেশ।

এছাড়া ২০২৩ সালে জাপানের তাকেদা ফার্মাসিউটিক্যালসের ডেঙ্গু টিকা ‘কিউডেঙ্গা’র অনুমোদন দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। দুই ডোজের এই টিকা শুধুমাত্র ৬ থেকে ১৬ বছর বয়সিদের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়।

তবে এর কোনোটিই ব্যবহারের অনুমোদন দেয়নি বাংলাদেশ সরকার। অর্থাৎ বাংলাদেশে ডেঙ্গু টিকা ব্যবহারের সুযোগ নেই। এর কারণ হিসেবে দুই ধরনের টিকারই নানা সীমাবদ্ধতা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথা বলছেন কীটতত্ত্ববিদ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলছেন, ‘ডেঙ্গুর ভ্যাক্সিনের কিছু লিমিটেশনস আছে, একটা নির্দিষ্ট বয়সের মানুষকে ছাড়া দেওয়া যায় না, ১৬ বছরের নিচে বয়স হতে হয়।’

তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গাভ্যাক্সিয়া দিতে হলে আগে একবার ডেঙ্গু হতে হবে। ডেঙ্গু যার জীবনে কখনো হয়নি তাকে এই ভ্যাকসিন দেওয়া যাবে না।’

বাংলাদেশে ডেঙ্গু টিকার ট্রায়াল

এখনো ডেঙ্গু টিকা ব্যবহারের অনুমোদন দেয়নি বাংলাদেশ। তবে ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠানের আবিষ্কার করা ডেঙ্গু টিকার দ্বিতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল চালিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বা আইসিডিডিআরবি’র গবেষকরা।

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্মন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের লার্নার কলেজ অব মেডিসিন এবং বাংলাদেশের আইসিডিডিআরবি’র গবেষকরা যৌথভাবে এটি পরিচালনা করেছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব হেলথ বা এনআইএই আবিষ্কৃত ওই টিকার নাম দেয়া হয়েছিল টিভি০০৫।

ওই সময় বলা হয়েছিল, ভারতে তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা সফল হলে এর বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হবে। তবে পরবর্তীতে এ নিয়ে আর আলোচনা এগোয়নি বলে জানান জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মোশতাক হোসেন।

বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, ‘ধারাবাহিকভাবে ডেঙ্গু যে পর্যায়ে যাচ্ছে এবং এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে খুব একটা সফলতাও আমরা দেখাতে পারছি না তাতে ভ্যাকসিন আনা যায় কিনা এটা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার সময় এসেছে।’

ডেঙ্গু ভ্যাসকিনের পাশাপাশি কমিউনিটি অ্যাওয়ারনেস বা সাধারণ মানুষের সচেতনতার কথা বলছেন কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার।

তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গুর ভ্যাকসিন ব্যবহার করার বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বাংলাদেশে। এটি নিতেও আমাদের সময় লাগবে কারণ এখানে সরকারি সিদ্ধান্ত, বিশেষজ্ঞ মতামত, ট্রায়ালসহ নানা বিষয় জড়িত।’

তিনি আরও বলেন, ‘তবে মানুষ যদি নিজে থেকেই পরিচ্ছন্ন থাকা, পানি জমতে না দেওয়া, মশারি টাঙানো এমন পদক্ষেপগুলো নেয় তাহলে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমিয়ে আনা সম্ভব।’




সমগ্র বাংলাদেশ গরিবের ল্যাট্রিনের টাকাও নিরাপদ না এ দেশে

পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় গরিবের জন্য নির্মিত ল্যাট্রিন, গ্রামীণ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্প দুর্নীতির বলয় হয়ে উঠেছে। ডিসেম্বরে প্রকল্পের পাঁচ বছর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কাজের অগ্রগতি মাত্র ৪৭ শতাংশ।

প্রকল্পের অধিকাংশ কাজ দুর্নীতির কারণে ব্যর্থ হয়েছে। ভৌত ও আর্থিক কাজের অগ্রগতি যথাক্রমে ৪৭% ও ৪৬.৬৭%। নির্মিত পাবলিক টয়লেটের ৮০ শতাংশ ব্যবহারযোগ্য নয়। এছাড়া টুইন পিট ল্যাট্রিন, পানির বড় ও ছোট স্কিমের কাজেও স্পেসিফিকেশন মানা হয়নি।

প্রকল্প পরিচালকের (পিডি) দায়িত্বে থাকা তবিবুর রহমান তালুকদারের বিরুদ্ধে প্রকল্পের তহবিল লোপাটের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশে তিনি দেশের-বিদেশে অঢেল সম্পদ গড়ে তুলেছেন। এ প্রেক্ষিতে নবায়ন হওয়া ১৮৮৯ কোটি টাকার নতুন স্যানিটেশন প্রকল্পেও তবিবুরকে পিডি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

আইএমইডির নিবিড় পরিবীক্ষণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৮ বিভাগের ৩০ জেলার ১৮ উপজেলায় ৫৪টি বড় স্কিম, ৩ হাজার ২৭৮টি ছোট স্কিম ও ২ লাখ ২০ হাজার ৮৭৪টি ল্যাট্রিন স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী কাজ হয়নি। ল্যান্ডিং স্টেশন ভেঙে গেছে, কলাম বাঁকা হয়েছে, টয়লেট ও হাত ধোয়ার স্টেশনগুলো অধিকাংশ ব্যবহৃত হচ্ছে না। কমিউনিটি ক্লিনিকের ১৭টি টয়লেট ব্যবহারের অনুপযোগী।

প্রতিবেদনটি অনুসারে প্রকল্পে দুর্বলতা রয়েছে—নিবিড় পর্যবেক্ষণ নেই, নিয়মিত সভা হয় না, স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী কাজ হচ্ছে না। প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে—উচ্চ পর্যায়ের পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন, স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী কাজ নিশ্চিত করা, নিয়মিত পিআইসি ও পিএসসি সভা আয়োজন, পুনর্নির্মাণ ও সরকারি অর্থ আদায়ের ব্যবস্থা গ্রহণ।

এদিকে অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই প্রকল্পের অর্থ লোপাটের একচ্ছত্র ‘সম্রাট’ প্রকল্প পরিচালক তবিবুর রহমান তালুকদার। প্রকল্পের বিল ও ঠিকারদারকে দেওয়া চেক তার একক সইতে পাশ হয়ে যায়। এতে নির্বাহী প্রকৌশলী, জেলা প্রকৌশলী ও উপজেলা সহকারী প্রকৌশলীদের কোনো করণীয় নেই। এই সুযোগে তিনি পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ দিয়ে নজিরবিহীন লুটপাট করেছেন বলে অভিযোগ আছে।

পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর, বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের সদস্য তবিবুর অবৈধ টাকায় সিরাজগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্রে মায়ের নামে ছয়তলা আলিশান বাড়ি করেছেন। ধানমন্ডি ২৭-এ কিনেছেন ৫ হাজার স্কয়ার ফুটের বাণিজ্যিক ফ্লোর। এছাড়া ধানমন্ডিতে দুটি ও ব্যাংককে একটি ফ্ল্যাট কিনেছেন। দেশে রয়েছে একাধিক গাড়ি। অঢেল সম্পদের অনুষঙ্গ হিসাবে ব্যক্তি জীবনে নারী কেলেঙ্কারিসহ নানা অপকর্মেও জড়িয়েছেন। বিয়ে করেছেন ছয়টি। একাধিক স্ত্রীকে আলাদা বাড়িও করে দিয়েছেন।

স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব রেজাউল মাকসুদ জাহেদী জানিয়েছেন, আইএমইডির প্রতিবেদন তার নজরে আসেনি। এটি দেখেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে, তবিবুর রহমান তালুকদার জানান, তিনি সরাসরি সাক্ষাতের মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে কথা বলবেন।

প্রকল্পের লুটপাট ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে দুদকও অনুসন্ধান করছে। তবে প্রভাব খাটিয়ে তা ম্যানেজ করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।




স্বামী-স্ত্রীকে পিটিয়ে জখম : থানায় অভিযোগ

ব্যুরো চীফ, বরিশাল : ধানের ক্ষেতে হাঁস গিয়ে পাকা আমন ধান বিনষ্ট করার প্রতিবাদ করায় হাঁসের মালিক কামাল সরদার ধান ক্ষেতের মালিক ও তার স্ত্রীকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে। গুরুত্বর অবস্থায় আহত একজনকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। হামলার ঘটনাটি ঘটেছে ওইদিন সকালে গৌরনদী উপজেলার দক্ষিণ সাকোকাঠী গ্রামে।

ওই গ্রামের বাসিন্দা মৃত লতিফ সরদারের ছেলে গাছ ব্যবসায়ী নাসির সরদারের (৫০) স্ত্রী বেবী বেগম বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে অভিযোগ করে বলেন-প্রতিবেশী আনিসুর রহমানের ছেলে কামাল সরদারের কয়েকটি হাঁস তাদের জমিতে এসে পাকা আমন ধান বিনষ্ট করছিলো। তিনি কামালের স্ত্রীকে কয়েকটি দিন হাঁস বেঁধে রাখার অনুরোধ করায় তারা ক্ষিপ্ত হয়। এনিয়ে উভয়ের মধ্যে বাগবিতন্ডা হয়।

তিনি আরও বলেন-এ ঘটনার জেরধরে কামাল সরদার তাকে অশ্লীলভাষায় গালিগালাজ করে। এসময় তার স্বামী নাসির সরদার প্রতিবাদ করায় তাকে কামাল সরদার লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে।

এসময় স্বামী নাসির সরদারকে রক্ষায় এগিয়ে আসলে তাকেও (বেবী বেগম) পিটিয়ে আহত করা হয়। পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাদের স্বামী-স্ত্রীকে উদ্ধার করে প্রথমে গৌরনদী উপজেলা হাসপাতালে ও পরে মুমূর্ষ অবস্থায় নাসির সরদারকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত কামাল সরদারের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিফ না করায় কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে গৌরনদী মডেল থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম জানিয়েছেন-বেবী বেগমের লিখিত অভিযোগের তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




শিক্ষা পদ্ধতিকে আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর করা হবে : জহির উদ্দি স্বপন

ব্যুরো চীফ, বরিশাল : বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য এম জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, আগামী নির্বাচনের পরে আমাদের নেতা তারেক রহমান ও আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সমস্ত গণতান্ত্রিক দলকে সাথে নিয়ে দেশের সকল সৃজনশীল চিন্তাবিদ এবং তরুন প্রজন্মের সৃজনশীলতাকে কাজে লাগাতে চাই। তাদের ভাষাকে বুঝে তাদের জন্য নতুন কারিকুলাম তৈরি করতে চাই।

বরিশালের উত্তর জনপদের গৌরনদী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মাহিলাড়া ডিগ্রি কলেজের নবীনবরন ও কলেজের ৪০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেছেন, শিক্ষা বিনিময়ের পদ্ধতিকে একটা আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর করতে চাই। ডিজিটাল সাইকোলজি যদি শিক্ষকদের মধ্যে কাজ না করে তাহলে ডিজিটালাইজড সাইকোলজিকে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে কানেক্ট করা যাবেনা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-১ আসন থেকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেছেন, পুরনো চিন্তা, দৃষ্টি ভঙ্গি এগুলো মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে আমাদের চিন্তার জগতকে মেরামত করতে হবে। আমাদেরকে তরুন প্রজন্মকে বুঝতে হবে।

পতিত সরকারের মতো কেউ বিএনপির নাম ভাঙিয়ে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, দখলবাজি করলে তা কঠোর হস্তে দমন করা হবে।

কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি সরদার লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে ভার্চুয়ালে অনুষ্ঠানের উদ্বোধণ করেছেন বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল ওয়াহেদ।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্ঠার একান্ত সচিব আয়মান হাসান রাহাত, বরিশাল শিক্ষাবোর্ডের কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর ড. জসিম উদ্দিন, মাধ্যমিক পরিদর্শক অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম হেলাল, বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম।

উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাফর ইকবাল ও কলেজের সহকারী অধ্যাপক হুমায়ুন কবিরের সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কলেজের অধ্যক্ষ কেএম সরিফুল কামাল, কলেজ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল আলম মাহী, একাদশ শ্রেনীর ছাত্রী হুমায়রা তাহসিন প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরনের পর শিক্ষার্থীরা অতিথিদের ফুল ও ক্রেস্ট দিয়ে বরণ করেন। সবশেষে কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের সম্মাননা ক্রেষ্ট প্রদান করা হয়েছে।




নির্বাচিত হতে পারলে সর্বপ্রথম নদী ভাঙনরোধে কাজ শুরু করবো : আব্দুল জব্বার

ব্যুরো চীফ, বরিশাল: জামায়াতে ইসলামীর বরিশাল জেলা শাখার আমীর ও বরিশাল-৪ আসন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যাপক মাওলানা মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার বলেছেন-হিজলা, মেহেন্দিগঞ্জ ও কাজিরহাট থানা এলাকা একটি নদী বেষ্টিত প্রত্যন্ত অঞ্চল। প্রতিবছর এখানে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম, নষ্ট হচ্ছে ফসলি জমি।

তাছাড়া এসব এলাকার বেশিরভাগ মানুষ মৎস্যজীবী। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মূল্যবান ভোটের মাধ্যমে আমাকে এমপি নির্বাচিত করা হলে, তথা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে বিজয়ী করা হলে সর্বপ্রথম আমি নদী ভাঙনরোধে কাজ শুরু করবো। পাশাপাশি অবহেলিত ও নদীবেষ্টিত বরিশাল-৪ আসনের মানুষের জীবন ও মানোন্নয়নে শরীরের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে কাজ করে যাবো। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতী, বাজার মনিটরিংসহ সকল অন্যায় অনিয়মের বিরুদ্ধে নিরলসভাবে কাজ করে যাবো।

বরিশালের হিজলা উপজেলার সাংবাদিকদের সাথে বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) সকাল সাড়ে দশটার দিকে উপজেলা জামায়াতের নিজস্ব কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেছেন-বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাধারণ মানুষের পাশে আছে এবং থাকবে।

হিজলা উপজেলা জামায়াতের আয়োজনে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় সংগঠনের উপজেলা শাখার আমীর অধ্যাপক নুরুল আমিনের সভাপতিত্বে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম খসরু, বরিশাল জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. আযাদ আলাউদ্দিন, হিজলা উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারী মো. গুলজার, বড়জালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাহানশাহ সামু চৌধুরী প্রমুখ।

মতবিনিময় সভায় হিজলা উপজেলার সাংবাদিকবৃন্দসহ উপজেলা জামায়াতে ইসলামী ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।