হিজলায় জাটকা বিরোধী অভিযানে ১১ জনকে জরিমানা, আদায় ৬২ হাজার টাকা

বরিশালের হিজলা উপজেলায় জাটকা বিক্রি ও ধরার অপরাধে পৃথক অভিযান চালিয়ে ১১ জনকে মোট ৬২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জনস্বার্থে পরিচালিত এই অভিযানে জাটকা সংরক্ষণে কঠোর বার্তা দিয়েছে প্রশাসন।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) উপজেলার কাউরিয়া বাজারে অভিযান চালিয়ে পাঁচজন জাটকা বিক্রেতাকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁদের প্রত্যেককে বিভিন্ন অঙ্কের জরিমানা করে মোট ৫০ হাজার টাকা আদায় করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন বরিশাল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ শাফিনুর রহমান আকন্দ।

জরিমানা পাওয়া জাটকা বিক্রেতারা হলেন,মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার জয়নগর এলাকার মো. হাবীব, আন্ধারমানিক এলাকার মো. শাহে আলম, হিজলার শ্রীপুর এলাকার মো. মনির হোসেন বেপারী, একই এলাকার শাহে আলম দেওয়ান এবং আলীগঞ্জ এলাকার মো. রিপন।

এদিকে একই দিনে আরেক অভিযানে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল দিয়ে জাটকা ধরার সময় নদী থেকে ছয়জন জেলেকে আটক করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁদের প্রত্যেককে দুই হাজার টাকা করে মোট ১২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এই আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট অভ্র জ্যোতি বড়াল।

মঙ্গলবার রাতে অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করে হিজলা উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম জানান, জাটকা রক্ষায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে মোট ১১ জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁদের প্রাথমিকভাবে সতর্কও করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “ইলিশের ভবিষ্যৎ রক্ষায় জাটকা সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত ও ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




দেশের ভবিষ্যৎ বদলের নির্বাচন: প্রধান উপদেষ্টা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে দেশের ভাগ্য নির্ধারণের নির্বাচন হিসেবে অভিহিত করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, “এই নির্বাচন শুধু সরকার পরিবর্তনের নয়, এই নির্বাচন দেশ পাল্টে দেওয়ার নির্বাচন। এটি সুষ্ঠু হতেই হবে।”

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা। বৈঠকে এনসিপির পক্ষ থেকে নির্বাচন ঘিরে নানা পর্যবেক্ষণ, উদ্বেগ ও প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।

এদিন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া, সেক্রেটারি মনিরা শারমিন এবং আইনি সহায়তাবিষয়ক উপকমিটির প্রধান জহিরুল ইসলাম মূসা। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।

বৈঠকে এনসিপি নেতারা বলেন, গণভোটে “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে তাঁদের দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা মাঠে কাজ করছেন। তবে নির্বাচনী পরিবেশ, সমান সুযোগ নিশ্চিতকরণ এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তাঁরা কিছু উদ্বেগের কথা প্রধান উপদেষ্টার নজরে আনেন। একই সঙ্গে নির্বাচনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করতে সরকারের আরও সক্রিয় ভূমিকার আহ্বান জানান।

প্রধান উপদেষ্টা এনসিপি নেতাদের উদ্দেশে বলেন, “নির্বাচন সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ বা পরামর্শ তাৎক্ষণিকভাবে সরকারকে জানাবেন। সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে, যাতে কেউ আইন অমান্য করতে না পারে।”

তিনি আরও জানান, নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতেই লটারির মাধ্যমে মাঠ প্রশাসনে রদবদল করা হয়েছে। “এ নির্বাচনে কোনো পক্ষপাতিত্বের সুযোগ নেই,” উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।”

নির্বাচনের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা বাড়াতে বড় ধরনের প্রযুক্তিগত প্রস্তুতির কথাও জানান প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, অধিকাংশ ভোটকেন্দ্র জানুয়ারির মধ্যেই সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জন্য থাকবে বডি ক্যামেরা, যা কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিক মনিটর করা হবে।

গণভোটে “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে সরকারের প্রচারণা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আইনসম্মতভাবেই সরকার জনগণকে বোঝানোর চেষ্টা করছে—‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে কী হবে এবং কেন তা প্রয়োজন। এ বিষয়ে সব রাজনৈতিক দলকেও আহ্বান জানিয়েছি।”

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “এবারের নির্বাচন যেন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়—এই দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়; নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দলসহ আমাদের সবার। দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের এই নির্বাচনে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশাল হারালো প্রবীণ সাংবাদিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম চুন্নুকে

বরিশাল প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রবীণ সাংবাদিক এ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম চুন্নু আর নেই। রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিকেল ৪টায় রাজধানীর ধানমন্ডি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার ছেলে অয়ন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় বরিশাল খেয়ালী গ্রুপ থিয়েটারে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। এরপর সকাল সোয়া ১০টায় বরিশাল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের নাগরিকরা শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। সকাল ১১টায় মরহুমকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হবে।

বেলা সোয়া ১১টায় মৃতদেহ বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতিতে নিয়ে যাওয়া হবে, যেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে দুপুর ১২টায় তাকে প্রিয় সংগঠন বরিশাল প্রেসক্লাবে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হবে।

সবশেষ দুপুর ২টায় নগরীর সদর রোডে অশ্বিনী কুমার হলের সামনে জানাজার নামাজ শেষে বগুড়া রোড মুসলিম গোরস্তানে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ সাংবাদিক নজরুল ইসলাম চুন্নুর দাফন সম্পন্ন হবে।

নিহতের মৃত্যুতে বরিশাল মিডিয়া, আইনজীবী ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ সাংবাদিক নূরুল আলম ফরিদ বলেন, “বরিশালের সাংবাদিক অঙ্গন আরও একজন অভিভাবক হারালো। নজরুল ইসলাম চুন্নুর প্রয়াণ অপুরনীয় ক্ষতি। তিনি সততার সঙ্গে সাংবাদিকতা করেছেন এবং তরুণ সাংবাদিকদেরও আন্তরিকভাবে সহায়তা করেছেন।”

নজরুল ইসলাম চুন্নু বরিশালে স্থানীয় দৈনিক বিপ্লবী বাংলাদেশ পত্রিকা থেকে সাংবাদিকতা শুরু করেন। পরে তিনি বাংলাদেশ বেতার বরিশাল শাখা এবং ঢাকার বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় কাজ করেছেন। এছাড়াও তিনি বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এবং সাংস্কৃতিক সংগঠন খেয়ালী গ্রুপ থিয়েটার এর সভাপতি ছিলেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




কাফনের কাপড় নিয়ে পার্কে বিষপান, পাঁচদিনের লড়াই শেষে ঝরে গেল তরুণীর প্রাণ

বরিশালে কাফনের কাপড় সঙ্গে নিয়ে পার্কে প্রকাশ্যে বিষপান করা জান্নাত আক্তার (২২) আর বাঁচলেন না। পাঁচদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই শেষে রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। হৃদয়বিদারক এই ঘটনায় নগরজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

নিহত জান্নাত আক্তার বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নের বুখাইনগর এলাকার বাসিন্দা। হাসপাতাল ও স্বজন সূত্রে জানা যায়, একই উপজেলার সাহেবের হাট এলাকার প্রকৌশলী সিদ্দিকুর রহমান সাগরের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে বিয়ে হয় জান্নাতের। তবে বিয়ের মাত্র চার মাসের মাথায় দাম্পত্য জীবনের ইতি ঘটে।

এই বিচ্ছেদের মানসিক যন্ত্রণা সইতে না পেরে গত ১২ জানুয়ারি বরিশাল নগরীর একটি পার্কে কাফনের কাপড় সঙ্গে নিয়ে প্রকাশ্যে আগাছানাশক প্যারাকোয়াট বিষপান করেন তিনি। বিষপানের পর পার্কের একটি গাছের নিচে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকেন জান্নাত। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

চিকিৎসকরা জানান, প্যারাকোয়াট অত্যন্ত মারাত্মক ধরনের বিষ। এ ধরনের বিষপানে আক্রান্ত অধিকাংশ রোগীরই বাঁচার সম্ভাবনা থাকে না। সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়া হলেও জান্নাতকে রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম বলেন, প্রেম করে বিয়ের পর স্বামীর তালাক দেওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে জান্নাত। সেই কষ্ট থেকেই তিনি প্রকাশ্যে বিষপান করেন। মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলেছে—মানসিক বিপর্যয় ও সম্পর্কের ভাঙনে তরুণ-তরুণীদের জীবন কেন এমন করুণ পরিণতির দিকে ধাবিত হচ্ছে? সচেতন মহলের মতে, সম্পর্কের সংকটে মানসিক সহায়তা ও সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো না গেলে এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা আরও বাড়তে পারে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




অবৈধ ইটভাটার আগ্রাসনে ঝালকাঠিতে ধ্বংস হচ্ছে ফসলি জমি, বিপন্ন পরিবেশ

ঝালকাঠি জুড়ে অবাধে গড়ে ওঠা অবৈধ ইটভাটার ছোবলে দিন দিন নষ্ট হচ্ছে ফসলি জমি ও প্রাকৃতিক পরিবেশ। প্রশাসনের দুর্বল নজরদারির সুযোগে খাল ভরাট, রাস্তা ভাঙন, জমির উর্বরতা হ্রাস এবং কালো ধোঁয়ায় ফসলের উৎপাদন কমে যাওয়ার মতো গুরুতর সংকটে পড়েছে জনপদ। নীতিমালা থাকলেও কার্যকর তদারকি না থাকায় থামছে না এই ক্ষতি।

নীতিমালা অনুযায়ী, লোকালয়ের তিন কিলোমিটারের মধ্যে কৃষিজমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার ও বসতবাড়ির আশপাশে ইটভাটা স্থাপন নিষিদ্ধ। বাস্তবে ঝালকাঠির বিভিন্ন এলাকায় এসব নিয়ম উপেক্ষা করেই বেনামি ইটভাটা গড়ে উঠেছে। ফলে ইটভাটার কালো ধোঁয়া ফসলি জমির ওপর পড়ে ধানসহ নানা ফসলের ফলন কমে যাচ্ছে, বাতাস ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, ফসলি জমির গভীর থেকে মাটি কাটায় জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে। আবার ভাঙা ইট খালে ফেলে অনেক জায়গায় খাল দখল করা হচ্ছে, এতে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে এবং খালপাড়ের সড়কে ভাঙন দেখা দিচ্ছে।

পৌর এলাকার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সুতালড়ি এলাকার বাসিন্দা আব্দুল রাজ্জাক রনি বলেন, পাশের উপজেলায় অবস্থিত একটি ইটভাটা থেকে দীর্ঘদিন ধরে ভাঙা ইট খালে ফেলা হচ্ছে। এতে খাল ভরাট হয়ে রাস্তা ভেঙে যাচ্ছে। এখন সড়কের অস্তিত্বই হুমকির মুখে।

সদর উপজেলার বিকনা এলাকার কৃষক আব্দুর রহিম জানান, ফসলি জমির মাঝেই এক প্রভাবশালী ব্যক্তি ইটভাটা স্থাপন করেছেন। প্রতিবাদ করার সাহস কেউ পায় না। ভাটার ধোঁয়া ও ধুলো ধানের ক্ষেতে কুয়াশার মতো জমে যাচ্ছে, ধান চিটা হয়ে যাচ্ছে। নারকেল ও সুপারির ফলনও কমছে।

পরিবেশকর্মী মাহাবুব সৈকত বলেন, ইটভাটার মাটির জোগান আসে ফসলি জমি ও নদীর চর থেকে। প্রতিবছর টপ সয়েল কেটে নেওয়ায় ধান উৎপাদন কমছে। এভাবে চলতে থাকলে কৃষিজমির ওপর দীর্ঘমেয়াদি ভয়াবহ প্রভাব পড়বে।

এদিকে পরিবেশ অধিদফতর জানিয়েছে, অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। ঝালকাঠি পরিবেশ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক আনজুমান নেছা বলেন, গত বছর ২৫টি ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে ৩২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মালিকদের সতর্ক করা হয়েছে এবং চলতি বছরও একাধিক অভিযান হয়েছে। অভিযোগ পেলেই ক্ষতিকর ইটভাটা বন্ধ করা হবে।

পরিবেশ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় মোট ৪১টি ইটভাটার মধ্যে মাত্র ১৯টি বৈধ। বাকি ২২টি কোনো অনুমোদন ছাড়াই চলছে—যা পরিবেশ ও কৃষির জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশালে শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক বেতাগীর সৈয়দা জুয়েলী

জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ–২০২৬ উপলক্ষে বরিশাল বিভাগীয় পর্যায়ে ‘শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক’ ক্যাটাগরিতে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন বরগুনার বেতাগী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক সৈয়দা জুয়েলী আকতার মনিকা।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) তিনি ঢাকার সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজে (টিটিসি) অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন। সেখানে দেশের বিভিন্ন বিভাগের সেরা শ্রেণি শিক্ষকদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তিনি।

সৈয়দা জুয়েলী আকতার ইডেন মহিলা কলেজ থেকে গণিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০১৩ সালে তিনি বরগুনার বেতাগী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও দক্ষতার সঙ্গে শিক্ষাদানে নিয়োজিত রয়েছেন।

গত বুধবার বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে বরিশাল বিভাগের সব জেলার বিজয়ী শ্রেণি শিক্ষকেরা অংশ নেন।

প্রতিযোগিতায় বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান, শিক্ষাগত ও একাডেমিক অর্জন, প্রাতিষ্ঠানিক মনোভাব, পাঠদান কৌশল, মূল্যায়নে পারদর্শিতা ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ দক্ষতাসহ মোট ১২টি গুণাবলি বিবেচনায় নিয়ে সৈয়দা জুয়েলী আকতারকে বরিশাল বিভাগের শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।

তার এই অর্জনে সহকর্মী শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহল তাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন। অনেকেই মনে করছেন, তার এই সাফল্য নতুন প্রজন্মের শিক্ষকদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

এ প্রসঙ্গে সৈয়দা জুয়েলী আকতার বলেন, “একজন শিক্ষকের সাফল্যের স্বীকৃতি তার কাজের প্রতি আরও দায়বদ্ধ করে তোলে। এর সুফল শুধু প্রতিষ্ঠানে নয়, দেশ ও জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহের মতো উদ্যোগ শিক্ষকদের জন্য অত্যন্ত প্রেরণাদায়ক।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




বরিশালে শতবর্ষী দীঘি ভরাট, পরিবেশ বিপর্যয়ের শঙ্কা

বরিশাল নগরীতে একটি শতবর্ষী দীঘি অবৈধভাবে ভরাট করার অভিযোগ উঠেছে। বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন ১ নম্বর ওয়ার্ডের সরদার সড়কের ভেতরে ড্রেজারের পাইপ ব্যবহার করে ঐতিহ্যবাহী দীঘিটি বালু দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এলাকার প্রবীণ ব্যক্তিরা জানান, দীঘিটি প্রায় একশ বছরের পুরোনো। অতীতেও এটি ভরাটের চেষ্টা হয়েছিল, তবে তখন এলাকাবাসীর বাধায় তা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে আবারও নতুন করে দীঘিটি ভরাটের কাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়ছে।

দীঘিটির পাশের এক দোকানি জানান, ভরাটকৃত জমির মালিক বাবুগঞ্জ এলাকায় বসবাস করেন বলে তিনি শুনেছেন। তবে তার বিস্তারিত পরিচয় জানা না গেলেও, জমিতে টানানো একটি সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে—ক্রয় সূত্রে জমিটির মালিক শহিদুল ইসলাম।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ড্রেজারের মাধ্যমে বালু সরবরাহ করছেন মো. কোটন নামের এক ব্যক্তি, যিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে পরিচিত। এর আগেও একই এলাকার বেঙ্গল বিস্কুট কারখানা সংলগ্ন একটি পুকুর ভরাটের ঘটনায় তার নাম উঠে এসেছিল।

এ বিষয়ে বালু সরবরাহকারী মো. কোটনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সালিশে আছেন বলে জানিয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন এবং পরে ফোন বন্ধ রাখেন।

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী বলেন, “স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। সরেজমিনে লোক পাঠিয়ে পরিস্থিতি যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

পরিবেশ অধিদপ্তরের বরিশাল জেলার সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুদ্দীন বলেন, “বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এটি একটি ঘনবসতিপূর্ণ শিল্প এলাকা। এখানে জলাশয় ভরাট হলে ভয়াবহ জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হতে পারে। দীঘিটি ভরাট হলে স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যাহত হবে, যার ফলে জলাবদ্ধতা ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ এবং জলাশয় সংরক্ষণ আইন ২০০০ অনুযায়ী কোনো প্রকার জলাশয় ভরাট বা শ্রেণি পরিবর্তন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমোদন ছাড়া জলাশয় ভরাট করলে জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

সচেতন নগরবাসীর দাবি, অবিলম্বে দীঘি ভরাট কার্যক্রম বন্ধ করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তা না হলে নগরীর পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




বরিশালে স্বস্তি, কমেছে কাঁচামরিচ ও পেঁয়াজের দাম

বরিশালে নিত্যপণ্যের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। বেশিরভাগ সবজির দাম স্থিতিশীল থাকলেও কাঁচামরিচ ও পেঁয়াজের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গত সপ্তাহের তুলনায় পাইকারি বাজারে কাঁচামরিচের দাম কেজিতে ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং পেঁয়াজের দাম কমেছে প্রায় ১৫ টাকা।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে নগরীর বহুমুখী সিটি মার্কেটসহ বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। ব্যবসায়ীরা জানান, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় বাজারে এই স্বস্তি এসেছে। তবে পাইকারি বাজারের তুলনায় খুচরা বাজারে সব ধরনের সবজি কেজিপ্রতি ১০ থেকে ৩৫ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

পাইকারি বাজারে দেখা গেছে, গত সপ্তাহে কাঁচামরিচ যেখানে ১১০ থেকে ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতো, সেখানে এখন বিক্রি হচ্ছে ৮৫ টাকায়। পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজি ৫০ টাকায়, যা আগে ছিল ৬৫ টাকা। এছাড়া শিম (কালো) ৩০ টাকা, শিম (সাদা) ১০-১২ টাকা, ফুলকপি ৩০ টাকা, বাঁধাকপি ১০ টাকা, শসা ৫০ টাকা, বেগুন ৩০ টাকা, করলা ৪০ টাকা, পেঁপে ১৫-২০ টাকা, লাউ ২০-২৫ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ২৫ টাকা, টমেটো ৩০-৩৫ টাকা, গাজর ২৫ টাকা, কাঁচকলা ২০ টাকা এবং লেবু হালি ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

খুচরা বাজারগুলোতে একই সবজি তুলনামূলক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। পোর্ট রোড, বাংলাবাজার ও সাগরদী বাজারে ফুলকপি ৪০-৪৫ টাকা, বাঁধাকপি ২০ টাকা, শিম ৪০-৪৫ টাকা, কাঁচামরিচ ১১০-১২০ টাকা, শসা ৭০ টাকা, বেগুন ৪০-৫০ টাকা, করলা ৫০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, লাউ ৩০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৩০ টাকা, টমেটো ৫০-৫৫ টাকা, গাজর ৪০ টাকা, কাঁচকলা ২৫ টাকা এবং লেবু হালি ২০-২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাংসের বাজারে ব্রয়লার মুরগি কেজি ১৫০-১৬০ টাকা, সোনালি মুরগি ২৬০-২৭০ টাকা, লেয়ার মুরগি ২৫০-২৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস কেজি ৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারে দাম মোটামুটি অপরিবর্তিত রয়েছে। রুই মাছ ৩০০-৪৫০ টাকা, টেংরা ৫০০-৬০০ টাকা, ঘেরের তেলাপিয়া ১২০-১৪০ টাকা, পাঙাশ ১৮০-২২০ টাকা, চিংড়ি ৫৫০-৮৫০ টাকা, পাবদা ২৫০-৪০০ টাকা এবং মাঝারি ভেটকি ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নগরীর বাংলাবাজারের খুচরা সবজি বিক্রেতা তৌহিদ বলেন, “এখন সবজির সরবরাহ ভালো থাকায় দাম স্থিতিশীল রয়েছে। তবে পাইকারি বাজার থেকে সবজি এনে ভ্যান ভাড়া, শ্রমিক খরচ, দোকান ভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল দিতে হয়। এসব কারণে খুচরা বাজারে দাম কিছুটা বেশি থাকে।”

সব মিলিয়ে, বাজারে কাঁচামরিচ ও পেঁয়াজের দাম কমায় স্বস্তি ফিরলেও খুচরা পর্যায়ে দামের ব্যবধান নিয়ে এখনও ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়ে গেছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশালে স্বস্তি, কমেছে কাঁচামরিচ ও পেঁয়াজের দাম

বরিশালে নিত্যপণ্যের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। বেশিরভাগ সবজির দাম স্থিতিশীল থাকলেও কাঁচামরিচ ও পেঁয়াজের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গত সপ্তাহের তুলনায় পাইকারি বাজারে কাঁচামরিচের দাম কেজিতে ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং পেঁয়াজের দাম কমেছে প্রায় ১৫ টাকা।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে নগরীর বহুমুখী সিটি মার্কেটসহ বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। ব্যবসায়ীরা জানান, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় বাজারে এই স্বস্তি এসেছে। তবে পাইকারি বাজারের তুলনায় খুচরা বাজারে সব ধরনের সবজি কেজিপ্রতি ১০ থেকে ৩৫ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

পাইকারি বাজারে দেখা গেছে, গত সপ্তাহে কাঁচামরিচ যেখানে ১১০ থেকে ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতো, সেখানে এখন বিক্রি হচ্ছে ৮৫ টাকায়। পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজি ৫০ টাকায়, যা আগে ছিল ৬৫ টাকা। এছাড়া শিম (কালো) ৩০ টাকা, শিম (সাদা) ১০-১২ টাকা, ফুলকপি ৩০ টাকা, বাঁধাকপি ১০ টাকা, শসা ৫০ টাকা, বেগুন ৩০ টাকা, করলা ৪০ টাকা, পেঁপে ১৫-২০ টাকা, লাউ ২০-২৫ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ২৫ টাকা, টমেটো ৩০-৩৫ টাকা, গাজর ২৫ টাকা, কাঁচকলা ২০ টাকা এবং লেবু হালি ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

খুচরা বাজারগুলোতে একই সবজি তুলনামূলক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। পোর্ট রোড, বাংলাবাজার ও সাগরদী বাজারে ফুলকপি ৪০-৪৫ টাকা, বাঁধাকপি ২০ টাকা, শিম ৪০-৪৫ টাকা, কাঁচামরিচ ১১০-১২০ টাকা, শসা ৭০ টাকা, বেগুন ৪০-৫০ টাকা, করলা ৫০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, লাউ ৩০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৩০ টাকা, টমেটো ৫০-৫৫ টাকা, গাজর ৪০ টাকা, কাঁচকলা ২৫ টাকা এবং লেবু হালি ২০-২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাংসের বাজারে ব্রয়লার মুরগি কেজি ১৫০-১৬০ টাকা, সোনালি মুরগি ২৬০-২৭০ টাকা, লেয়ার মুরগি ২৫০-২৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস কেজি ৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারে দাম মোটামুটি অপরিবর্তিত রয়েছে। রুই মাছ ৩০০-৪৫০ টাকা, টেংরা ৫০০-৬০০ টাকা, ঘেরের তেলাপিয়া ১২০-১৪০ টাকা, পাঙাশ ১৮০-২২০ টাকা, চিংড়ি ৫৫০-৮৫০ টাকা, পাবদা ২৫০-৪০০ টাকা এবং মাঝারি ভেটকি ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নগরীর বাংলাবাজারের খুচরা সবজি বিক্রেতা তৌহিদ বলেন, “এখন সবজির সরবরাহ ভালো থাকায় দাম স্থিতিশীল রয়েছে। তবে পাইকারি বাজার থেকে সবজি এনে ভ্যান ভাড়া, শ্রমিক খরচ, দোকান ভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল দিতে হয়। এসব কারণে খুচরা বাজারে দাম কিছুটা বেশি থাকে।”

সব মিলিয়ে, বাজারে কাঁচামরিচ ও পেঁয়াজের দাম কমায় স্বস্তি ফিরলেও খুচরা পর্যায়ে দামের ব্যবধান নিয়ে এখনও ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়ে গেছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ঢাকা-বরিশাল আকাশপথে সংকট, সপ্তাহে মাত্র দুই দিনের ফ্লাইটে যাত্রীদের ভোগান্তি

যাত্রী চাহিদা থাকা সত্ত্বেও ঢাকা-বরিশাল রুটে পর্যাপ্ত ফ্লাইট না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নিয়মিত যাত্রীরা। একসময় যেখানে প্রতিদিন অন্তত আটটি ফ্লাইট চলাচল করত, সেখানে বর্তমানে সপ্তাহে মাত্র দুই দিন শুক্রবার ও রোববার—দুটি করে ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। এতে স্বল্প সময়ে রাজধানীতে যাতায়াতের সুযোগ হারিয়ে অনেককেই বাধ্য হয়ে দীর্ঘ ও কষ্টসাধ্য সড়কপথ বেছে নিতে হচ্ছে।

বর্তমানে এই রুটে বেসরকারি বাংলাদেশ এয়ারলাইনস সপ্তাহে দুই দিন ফ্লাইট চালু রেখেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যাত্রী চাহিদার তুলনায় এই সংখ্যা একেবারেই অপ্রতুল। এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগে বৃহস্পতিবার একটি অতিরিক্ত ফ্লাইট থাকলেও উড়োজাহাজ সংকটের কারণে তা বন্ধ রাখা হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি হলে ফেব্রুয়ারি থেকে বৃহস্পতিবারের ফ্লাইটটি পুনরায় চালুর সম্ভাবনা রয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ঢাকা-বরিশাল রুটে যাত্রী চাপ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা। তারা দ্রুত এই রুটে ফ্লাইট সংখ্যা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন।

বরিশাল বিমানবন্দর সূত্র জানায়, পদ্মা সেতু চালুর আগে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস প্রতিদিন চারটি, বাংলাদেশ বিমান ও নভোএয়ার দুটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করত। পরবর্তীতে নানা অজুহাতে প্রথমে নভোএয়ার ফ্লাইট বন্ধ করে দেয়। এরপর ইউএস-বাংলা ধাপে ধাপে ফ্লাইট কমিয়ে একপর্যায়ে পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। বাংলাদেশ বিমানও একসময় যাত্রী সংকটের কথা বলে সপ্তাহে সীমিত দিনে ফ্লাইট চালু রাখে।

গত বছরের ২৫ জুলাই থেকে সাময়িকভাবে এই রুটে ফ্লাইট পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে বরিশালসহ পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটার সঙ্গে আকাশপথে যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পরে ৮ আগস্ট থেকে সপ্তাহে দুই দিন ৭৪ আসনের ‘ড্যাশ ৮-কিউ৪০০’ উড়োজাহাজ দিয়ে আবার ফ্লাইট চালু করা হয়।

নিয়মিত যাত্রী শফিকুল ইসলাম বলেন, “চাহিদা থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত ফ্লাইট না থাকায় আমাদের সড়কপথে যেতে হচ্ছে। এতে সময় নষ্ট হচ্ছে, কর্মঘণ্টাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”

ব্যবসায়ী আরিফুল ইসলাম বলেন, “ঢাকা-বরিশাল রুটে অল্প সময়ে যাতায়াত সম্ভব হলেও লোকসানের অজুহাতে ফ্লাইট বন্ধ রাখা হচ্ছে, যা বোধগম্য নয়। দ্রুত প্রতিদিন ফ্লাইট চালু করা জরুরি।”

বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, পদ্মা সেতু চালুর পর যাত্রী কিছুটা কমলেও অনেক সময় ফ্লাইট পুরোপুরি ভর্তি থাকে। ফ্লাইট বাড়ানোর সিদ্ধান্ত মূলত কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের ওপর নির্ভর করছে।

বরিশাল বিমানবন্দরে কর্মরত বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের গ্রাউন্ড সার্ভিস অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রান্ত খান বলেন, “বর্তমানে প্রতিটি ফ্লাইট ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ যাত্রী নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। যাত্রী ধীরে ধীরে বাড়ছে। আরও একটি ফ্লাইট যোগ হলে যাত্রীরা উপকৃত হবেন।”

নিরাপত্তা সহকারী মনমত সরকার বলেন, “ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ালে যাত্রীও বাড়বে। আগে নিয়মিত ফ্লাইট ছিল এবং যাত্রীও ছিল। সুবিধাজনক সিডিউল হলে পরিস্থিতি আরও ভালো হবে।”

এদিকে বরিশালের ট্রাভেলস এজেন্সিগুলো মনে করছে, রোববার সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে এবং বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা থেকে ৬টার মধ্যে ফ্লাইট নির্ধারণ করা হলে যাত্রী সংখ্যা দ্বিগুণ হতে পারে।

বরিশাল বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক সঞ্জয় কুমার জানান, ঢাকা-বরিশাল রুটে যাত্রী সংখ্যা সন্তোষজনক। এ বিষয়ে বিমান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা যেতে পারে। নীতিগত সিদ্ধান্ত উচ্চপর্যায়ের কর্তৃপক্ষই নেবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫