বরগুনায় জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ

বরগুনায় জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ফেসবুকে পোস্ট করে ভিডিওটি বরগুনার বলে দাবি করেছেন নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা রেজাউল কবির রেজা।

বুধবার রাত ১টার দিকে ভিডিওটি নিজের ফেসবুকে পোস্ট করেন নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের বরগুনা জেলা শাখার সভাপতি রেজাউল কবির রেজা। ভিডিওতে দেখা যায়, বরগুনা সার্কিট হাউস মাঠে স্থাপিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের বহিরাংশে ভিডিও ধারণকারীর নির্দেশে এক যুবক কাঠি জ্বালিয়ে নিক্ষেপ করার সঙ্গে সঙ্গে জ্বলে ওঠে।

ধারণা করা হচ্ছে, স্মৃতি স্তম্ভটির চারদিকে আগেই কোনো দাহ্য কোনো পদার্থ আগেই ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। অন্ধকার থাকায় ভিডিওতে থাকা যুবককে দেখা যায়নি। এ বিষয়ে বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইয়াকুব হোসেন মুঠোফোনে বলেন, বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখছি।




পিরোজপুরে বাবা-মায়ের সাথে অভিমানে;মাদ্রাসাছাত্রীর আত্মহত্যা

পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে বাবা-মায়ের সাথে অভিমানে বর্ণা আক্তার (১৫) নামের এক মাদ্রাসাছাত্রী আত্মহত্যা করেছে। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) সকালে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পিরোজপুর মর্গে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার রাত আনুমানিক ১২টার দিকে উপজেলার পাড়েরহাট ইউনিয়নের চর-গাজীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বর্ণা আক্তার চর-গাজীপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামের মেয়ে। তিনি সদর উপজেলার নামাজপুর সাকিনা হামিদ মহিলা মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। স্থানীয় ও স্বজনেরা জানায়, বুধবার সন্ধ্যায় বর্ণার বাবা রফিকুল ইসলাম বাজার থেকে মাছ কিনে আনেন।

কিন্তু স্ত্রী চিনু বেগম ও মেয়ে বর্ণা মাছ কাটতে অস্বীকার করলে রফিকুল ইসলাম ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের গালিগালাজ করেন। পরে মা চিনু বেগমও মেয়েকে বকাঝকা করেন। এ সময় অভিমান করে বর্ণা নিজের ঘরে গিয়ে ঘাস মারার কীটনাশক পান করে। বিষয়টি পরিবারের লোকজন টের পেয়ে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে ইন্দুরকানী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) পলাশ সাহা জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।




ব্যস্ত সড়কের ফুটপাত থেকে ড্রাম ভর্তি খণ্ড-বিখণ্ড লাশ উদ্ধার

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :    রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় ঈদগাহ মাঠের পাশের পানির পাম্প সংলগ্ন ফুটপাতে পড়ে থাকা একটি ড্রামের ভেতর থেকে এক ব্যক্তির খণ্ড-বিখণ্ড লাশ উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদ মনসুর ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘হাইকোর্ট মাজারের মাঠের কোণে পানির পাম্পের সামনে ফুটপাতে কে বা কার ফেলে রেখে যাওয়া একটি নীল রঙের ছোট ড্রামের ভেতর থেকে এক ব্যক্তির খণ্ড-বিখণ্ড লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটির বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।’

ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মো: মাসুদ আলম বলেন, ‘জাতীয় ঈদগাহ মাঠের পাশের পানির পাম্প সংলগ্ন ফুটপাতে পাওয়া দুটি ড্রামের একটিতে লাশ, অন্যটিতে চাল পাওয়া গেছে। আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে ঘটনাটি জানার চেষ্টা চলছে।’




ইন্দুরকানীতে রাজমিস্ত্রীর লাশ উদ্ধার

পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে পাওনাদারের বাড়ি থেকে এক রাজমিস্ত্রীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নের সাঈদখালী গ্রামে। বুধবার সন্ধ্যায় সাঈদখালী গ্রামের খালেক শেখের বাড়ি থেকে মিজান হোসেন (৪০) এর মরদেহ উদ্ধার করে ইন্দুরকানী থানা পুলিশ। জানা যায়, নিহত মিজান হোসেন দীর্ঘদিন যাবৎ রাজমিস্ত্রীর কাজ করতেন।

অবসর সময়ে স্থানীয় জেলেদের সাথে গভীর সমুদ্রে ধাছ ধরতে যেতেন। সেই সুবাদে ট্রলারের মালিক আঃ খালেক শেখের ছেলে মহারাজের নিকট থেকে অগ্রিম বাবদ প্রায় চারমাস আগে পাঁচ হাজার টাকা নেন।

টাকা নেওয়ার পর থেকে তিনি বাড়ি থেকে লাপাত্তা। মঙ্গলবার শাশুড়ির মৃত্যুর সংবাদ শুনে মিজান হোসেন বাড়িতে আসলে ট্রলারের মালিক মহারাজ কালাইয়া আবাসন এর নিজ ঘর থেকে মিজানকে মহারাজ ও শাহীনের নেতৃত্বে ৪/৫ জন লোক মোটরসাইকেল নিয়ে মহারাজের বাড়িতে আটকে রাখে। মহারাজের মা নেহেরুন বেগম জানান, আমি বাড়িতে ছিলাম না। বুধবার বিকেলে বাড়িতে ফিরে এসে ঘটনাটি শুনতে পেরে ঘরের দোতলায় তাকে দেখতে গেলে অচেতন অবস্থায় দেখতে পাই।

পরে স্থানীয় ফরিদ, জামালসহ কয়েকজনকে ডাকলে তারা এসে তাকে মৃত্যু অবস্থায় পায়। পরে আমরা ইন্দুরকানী থানায় সংবাদ দিলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে। বাড়িতে থাকা মহারাজের স্ত্রী জানান, আমি ছাড়া বাড়িতে অন্য কেউই ছিলো না। মিজান হোসেন আমাদের বাড়িতে আসার পরে কয়েকবার বমি করেছেন। তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় তাকে বিশ্রামের জন্য দোতলায় থাকতে দেওয়া হয়।

ইন্দুরকানী থানার এসআই প্রশান্ত বালা জানান, খবর পেয়ে আমরা ঘটনা স্থলে গিয়ে মিজান হোসেন নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছি। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে তিনি জানান।




ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় আরও ৬ যানবাহনে আগুন

বুধবার রাতে রাজধানীর কমলাপুরে, পল্লবীতে ট্রাস্ট ট্রান্সপোর্ট সার্ভিসের একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। এছাড়া ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও গোপালগঞ্জে বুধবার (১২ নভেম্বর) দিনগত রাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত অন্তত ছয়টি যানবাহনে আগুন দেওয়া হয়েছে। তবে এতে হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্তব্যরত কর্মকর্তা রোজিনা আক্তার এ তথ্য জানিয়েছেন।

ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের তথ্য অনুসারে, বুধবার দিনগত রাত ১২টা ১০ মিনিটের দিকে রাজধানীর পল্লবীর সাগুপ্তা সড়কে পার্কিং করা অবস্থায় ট্রাস্ট ট্রান্সপোর্ট সার্ভিস নামের একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ২০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিভিয়ে ফেলে। তবে তার আগেই বাসটি পুড়ে যায়।

রাত পৌনে ৩টার দিকে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনের সামনে থেমে থাকা একটি হিউম্যান হলার বা লেগুনায় আগুন দেওয়া হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট আগুন নেভায়।

রাত আড়াইটার দিকে টাঙ্গাইলের রাওয়াইলে থেমে থাকা একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। বাসটিতে কেউ ছিলেন না। ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট আগুন নেভায়।

রাত সাড়ে ৩টার পর মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় একটি পেপার মিলের সামনে থেমে থাকা ট্রাকে আগুন দেওয়া হয়। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

বৃহস্পতিবার ভোর পৌনে ৫টার দিকে গোপালগঞ্জে গণপূর্ত কার্যালয়ের সামনে থেমে থাকা একটি পিকআপভ্যানে আগুন দেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই ভ্যানটি পুড়ে যায়।




গাবতলী বাস টার্মিনাল প্রায় ফাঁকা নেই যাত্রীদের কোলাহল

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) সকালে গাবতলী বাস টার্মিনাল প্রায় ফাঁকা দেখা গেছে, যাত্রীদের সংখ্যাও ছিল কম।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগ ঘোষিত ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচির প্রভাব পড়েছে রাজধানী দূরপাল্লার বাস টার্মিনাল গুলোতে ।

জানা যায়, যাত্রী কম থাকায় নির্ধারিত সময়ে অনেক বাস ছাড়তে পারছে না। বাস কোম্পানিগুলো ট্রিপ সংখ্যা কমিয়ে সীমিত ট্রিপে যাত্রী পরিবহন করছে।

হানিফ এন্টারপ্রাইজের কাউন্টারে দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তা  বলেন, ‘আজ যাত্রী কম। গতকাল রাত থেকেই কম পাচ্ছি। আজকের ভোরের একটি গাড়ি বন্ধ রেখেছি।’

শ্যামলী পরিবহনের কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা এক কর্মচারী  বলেন, ‘আমাদের যশোরের সকাল সাড়ে ৯টার গাড়ি বন্ধ রেখেছি, যাত্রী কম। সকালের দুইটি গাড়ি ছাড়লেও যাত্রী ছিল মাত্র চার–পাঁচজন।’

রাজশাহীগামী যাত্রী  মো.সুলায়মান জানান, ‘যাত্রী কম থাকায় সকালের গাড়ি ছাড়েনি, ৯টায় ছাড়বে। দুই ঘণ্টা ধরে টার্মিনালে বসে আছি। ৯টার বাস ঠিক সময়ে ছাড়বে কি–না, তা নিয়েও সন্দেহ আছে।’

যাত্রী আব্দুল হান্নান বলেন, ‘গাড়ি ৮টায় ছাড়ার কথা, কিন্তু এখনও আসেনি। যাত্রী কম বলে সময় লাগছে হয়তো।’

তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ আতঙ্ক ছড়িয়েছে, তাই হয়তো যাত্রী কম। কিছুটা ভয় লাগছে, কিন্তু জরুরি কারণে যেতে হচ্ছে। বেড়াতে এসেছিলাম, এখন বাড়ি ফিরছি।’




হাসপাতালে নারী রোগীর ওপর হামলার অভিযোগ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে

বরিশালের গৌরনদীতে চিকিৎসাধীন এক নারী রোগী ও তার স্বজনদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে বার্থী ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক কাইয়ূম খানের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

হামলায় নারী রোগীসহ ৫ জন আহত হয়েছেন। এ সময় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৩টি জানালার ৩টি গ্লাস ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, জমির সীমানা নিয়ে বিরোধের জের ধরে মঙ্গলবার বিকালে গৌরনদী পৌরসভার সুন্দরদী এলাকায় কালাম ফকির ও লুৎফর শিকদারের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে কালাম ফকিরের স্ত্রী নাসিমা বেগম ও লুৎফর শিকদার আহত হন। আহত ওই ২ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন নাসিমা বেগমের ছেলে আরাফাত ফকির অভিযোগ করে বলেন, প্রতিপক্ষ লুৎফর শিকদারের শ্যালক বার্থী ইউনিয়ন যুবদলের নেতা কাইয়ূম খানের নেতৃত্বে ১০-১২ যুবক মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে হাসপাতালে ঢুকে আমাদের ওপর হামলা চালায়। এ হামলায় আমিসহ আমার বাবা কালাম ফকির, মা নাসিমা বেগম ও দুই বোন আহত হই।

চিকিৎসাধীন নাসিমার মেয়ে তানিয়া বেগম অভিযোগ করে বলেন, হামলার সময় প্রাণ বাঁচতে আমরা দৌড়ে হাসপাতালের বাথরুমে আশ্রয় নেই। তখন কাইয়ুম খান ও তার সহযোগীরা দরজা ভেঙে বাথরুমে ঢুকে আমাদের টেনে-হিঁচড়ে বের করে পুনরায় মারধর করে। এ সময় হামলাকারীরা হাসপাতালের ৩টি জানালার গ্লাস ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে গৌরনদী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

অভিযুক্ত বার্থী ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. কাইয়ুম খান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, হাসপাতালে ভর্তি আমার ভগিনীপতি লুৎফর শিকদার। তাকে দেখতে হাসপাতালে গিয়ে দেখি, আমার ভাগ্নের সঙ্গে ২ যুবকের হাতাহাতি হচ্ছে। এ সময় আমি উভয়পক্ষকে দুই দিকে সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করি।

গৌরনদী থানার পবিদর্শক (তদন্ত) মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, হাসপাতালের ঘটনায় এখনো কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তবে বিকালের ঘটনায় উভয়পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। তদন্তসাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. তৌকির আহম্মেদ বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরে মারামারির ভিডিও ফুটেজ দেখে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হবে।




ঢাকা-গোপালগঞ্জ-মুন্সিগঞ্জ-টাঙ্গাইলে যানবাহনে আগুন

রাজধানীসহ চার জেলায় গতকাল বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) ভোর পর্যন্ত পাঁচটি যানবাহনে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণকক্ষের কর্মকর্তা রোজিনা আক্তার সকালে জানান, আগুন লাগার ঘটনাগুলো ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও গোপালগঞ্জে ঘটে।

তথ্য অনুযায়ী, রাত সোয়া ১২টার দিকে মিরপুর ১২ নম্বর ডিওএইচএসের সামনে থেমে থাকা একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ২০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে, তবে বাসটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।

এরপর রাত পৌনে ৩টার দিকে কমলাপুর রেলস্টেশনের সামনে একটি হিউম্যান হলারে আগুন দেওয়া হয়। একই সময়ের কাছাকাছি টাঙ্গাইলের রাওয়াইলে থেমে থাকা আরেকটি বাসেও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। উভয় ক্ষেত্রেই ফায়ার সার্ভিস দ্রুত পৌঁছে আগুন নেভায়।

রাত সাড়ে ৩টার দিকে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় একটি পেপার মিলের সামনে ট্রাকে আগুন দেওয়া হয়, আর ভোর পৌনে ৫টার দিকে গোপালগঞ্জের গণপূর্ত কার্যালয়ের সামনে একটি পিকআপে আগুন দেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই পিকআপটি পুড়ে যায়।

ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঘোষিত ১৩ নভেম্বরের ‘লকডাউন’ কর্মসূচিকে ঘিরে গত কয়েক দিনে দেশে যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা বেড়েছে।




পদ্মা সেতুর সামনে এক্সপ্রেসওয়ে অবরোধ করে ট্রাকে আগুন, ককটেল বিস্ফোরণ

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অনলাইনে ঘোষিত ‘লকডাউন’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শরীয়তপুরের জাজিরায় পদ্মা সেতুর সামনে ঢাকা-ভাঙা এক্সপ্রেসওয়ে অবরোধ করা হয়েছে। এতে সকাল থেকে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) সকাল ৬টার দিকে জাজিরার নাওডোবা এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন। একপর্যায়ে তস্তারকান্দি এলাকায় একটি ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

অবরোধকারীরা সড়কে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে মিছিল করেন এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ সময় দুটি যাত্রীবাহী বাস ভাঙচুর করা হয়।

অবরোধের কারণে সকাল ছয়টা থেকে পদ্মা সেতু দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে সাড়ে ৮টার পর কিছু যানবাহন পারাপার শুরু হলেও এক্সপ্রেসওয়েতে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে জাজিরার জমাদ্দার মোড় এলাকায় আধা কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রসুল বলেন, ‘সকাল থেকে সড়কের এক কিলোমিটার পশ্চিমে আন্দোলনকারীরা অবস্থান নিয়েছিলেন। পুলিশ সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে তারা ট্রাকে আগুন দেয়।’ তিনি জানান, আটকে পড়া যানবাহনগুলোকে নিরাপত্তা দিয়ে পদ্মা সেতু পারাপারে সহায়তা করা হচ্ছে।

শরীয়তপুর বাস মালিক সমিতির সভাপতি ফারুক আহম্মেদ তালুকদার বলেন, ‘গতকাল ঢাকায় শরীয়তপুরের দুটি বাসে আগুন দেওয়া হয়েছিল। আজ পদ্মা সেতু এলাকায় অবরোধ চলছে। তাই আতঙ্কে সড়কে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছি।’

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে যান চলাচল আবার শুরু হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।




ঢাকাসহ আশপাশের জেলায় ১৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের জেলাগুলোয় ১৪ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে বিজিবির গণসংযোগ কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের জেলাগুলোয় ১৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে বুধবার থেকেই দায়িত্ব পালন করছেন তারা।

এদিকে বৃহস্পতিবার ভোর থেকে রাজধানীর মোড়ে মোড়ে অবস্থান নিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। সন্দেহভাজন কাউকে দেখলে তল্লাশি করা হচ্ছে। বুধবার রাত থেকে এ পর্যন্ত নাশকতার চেষ্টাকালে কয়েকজনকে আটকও করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ১৩ নভেম্বর ঘিরে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে বিমানবন্দর, রেলস্টেশন, মেট্রোরেল স্টেশন, নৌ ও বাস টার্মিনালসহ সব ধরনের গণপরিবহন কেন্দ্র বর্তমানে কড়া নজরদারিতে রয়েছে।

বিশেষ করে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, কমলাপুর রেলস্টেশন ও উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল রুটে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে।