আগামী ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ

চন্দ্রদ্বীপ ডেক্স : এমিরেটস অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ঈদুল ফিতর আগামী ২০ মার্চ হতে পারে। সংস্থার চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আল জারওয়ান বলেছেন, আরব আমিরাতে ১৪৪৭ হিজরির রমজান মাসের চাঁদ ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সেদিন চাঁদ খালি চোখে দেখা কঠিন হতে পারে। খবর গালফ নিউজের।

জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী, আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি রমজান শুরু হতে পারে। এ বছর রমজান ৩০ দিন পূর্ণ হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে।

আনুষ্ঠানিকভাবে ঈদের তারিখ নিশ্চিত করবে ইউএই মুন-সাইটিং কমিটি। তবে পূর্বাভাস অনুযায়ী ২০ মার্চই শাওয়াল মাসের প্রথম দিন হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।




ভারতের দালালি করে আর ক্ষমতার মসনদে বসা যাবেনা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :   শনিবার বিকালে যশোর জেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘জুলাই বিপ্লবোত্তর পরিস্থিতি ও আমাদের করণীয়’- শীর্ষক এ আলোচনা সভার মুখ্য আলোচকের বক্তৃতায় দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান বলেছেন, ভারতের দালালি করে কেউ আর ক্ষমতায় যেতে পারবে না, থাকতেও পারবে না। তিনি বলেন, ভারতের প্রশ্নে কোনো ছাড় নেই। যারা বা যে দল ভারতের দালালি করবে, তাদের প্রতিহত করতে হবে।

‘জুলাই বিপ্লবোত্তর পরিস্থিতি ও আমাদের করণীয়’- শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করে জ্ঞানচর্চাভিত্তিক সংগঠন প্রাচ্যসংঘ যশোর।

সংগঠনটির সুপ্রিম কাউন্সিল সদস্য আখতার ইকবাল টিয়ার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তৃতা করেন গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সদস্য ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হামিদ ও প্রাচ্যসংঘ যশোরের প্রতিষ্ঠাতা লেখক-গবেষক বেনজীন খান।

মুখ্য আলোচকের বক্তৃতায় ড. মাহমুদুর রহমান রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শুধু সরকারই নির্বাচনে কারচুপি করে না, রাজনৈতিক দলও করে। আপনারা জনগণের কাছে ওয়াদা করেন যে আপনারা কারচুপি করবেন না।

একটি সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে দেশ গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় ফিরে যেতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দিল্লি থেকে দেশকে বিপর্যস্ত করার চেষ্টা চলছে। শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়ে গেলে তারা আর ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার সুযোগ পাবে না।

এজন্য সরকারের পাশাপাশি নাগরিক সমাজ, রাজনৈতিক দলসহ সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

মাহমুদুর রহমান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের তরুণরা নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে জেগে উঠেছে। যারা জুলাই যুদ্ধে অংশ নিয়েছে, তারা প্রত্যেকেই এই পলিটিক্যাল পাওয়ারের অংশ। এদেরকে কেউ ইগনোর করতে পারবে না।

‘জুলাই জেনারেশনে’র উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, কোন পলিটিক্যাল স্ট্রাগল বিজয়ী হবে না, যদি না কালচারাল স্ট্রাগলে বিজয়ী হতে পারি। হিন্দুত্ববাদী সিস্টেম আমাদের বাঙালি মুসলমানের ইতিহাস ও ঐতিহ্য শিখতে দেয়নি। ভারতীয়দের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে আমরা বই-পুস্তক লিখেছি। সেইসব বই-পুস্তকে বাঙালি মুসলমানের ইতিহাস-ঐতিহ্য স্থান পায়নি।

লেখাপড়ার মাধ্যমে বাঙালি মুসলমানের ইতিহাস-ঐতিহ্য তুলে আনতে পারলে ব্রাম্মন্যবাদী সাংস্কৃতিক আধিপত্য পরাজিত করা সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন।

ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মাহমুদুর রহমান বলেন, কোনো ভারতীয় দালালকে ভোট দেবেন না। আমরা দল বুঝি না। আমরা শুধু বুঝি ভারতীয় কোনো দালাল যেন সংসদে যেতে না পারে।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ১৮ কোটির বাংলাদেশে দিল্লি আর কোনদিন আধিপত্য বিস্তার করতে পারবে না।




দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়নদের মানুষ আর ভোট দেবে না: নায়েবে আমীর জামায়েত ইসলামী

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: শনিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার গুণবতী ইউনিয়ন জামায়াতের উদ্যোগে গুণবতী উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন দুর্নীতিতে তিনবার চ্যাম্পিয়নদের দেশের মানুষ আর ভোট দেবে না, ।

দেশের মানুষ জামায়াতকে ক্ষমতায় দেখতে চায় উল্লেখ করে আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো মেধাবীদের জায়গা। মেধাবীরা কখনো ভুল সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। ডাকসু, জাকসু, রাকসু, চাকসুসহ সব ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ফলাফল দেখলেই বোঝা যায়, দেশের মানুষের চিন্তার পরিবর্তন হয়েছে। দেশের মানুষের সিদ্ধান্তের পরিবর্তন হয়েছে, রুচির পরিবর্তন হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ আর কোনো মাস্তানকে ভোট দেবে না, চাঁদাবাজকে ভোট দেবে না, দখলবাজদের ভোট দেবে না। মানুষ এখন জামায়াতকে ক্ষমতায় দেখতে চায়।

বাংলার মানুষ আর স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদে ফিরে যাওয়ার সুযোগ দেবে না উল্লেখ করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘জুলাই সনদ স্বাক্ষরের সময় আমার পাশের চেয়ারটিতে ছিলেন বিএনপির মহাসচিব। তাঁরা জুলাই সনদে স্বাক্ষর করে হঠাৎ করে বলছেন, যে সনদে স্বাক্ষর করেছেন, সেটা তাঁরা মানেন না। তাঁরা সংস্কার চান না। সংস্কার না চাওয়ার মানে হচ্ছে আবার অন্যায়ভাবে ভোট ডাকাতি করে এবং ভোটবিহীন নির্বাচন করে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের একটা পথ এবং জানালা খোলা রাখা। এটা জুলাই শহীদদের প্রতি বেইমানি। আমরা বলছি, বাংলাদেশকে আর পেছনে নিয়ে যাওয়া যাবে না। প্রয়োজন হলে আবার জুলাই যোদ্ধাদের ডাক দেওয়া হবে, আবার ৫ আগস্টের আবির্ভাব হবে।’




‘গণভোটে চারটির কোনো একটি প্রশ্নে দ্বিমত থাকলে ‘না’ বলার সুযোগ কই’, প্রশ্ন রিজভীর

গণভোটে অংশ নিতে ইচ্ছুক সাধারণ মানুষের মতামত জানানোর সুযোগ কোথায়—এই প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব  তিনি বলেন, গণভোটের চারটি প্রশ্নের কোনো একটির সঙ্গে দ্বিমত থাকলে ‘না’ বলার সুযোগই নেই। এতে নাগরিকদের প্রকৃত মতামত জানানোর পথ রুদ্ধ হচ্ছে।

শনিবার (১৫ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর শ্যামলীতে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব মন্তব্য করেন। রিজভী বলেন, ‘গণভোটে যে চারটা প্রশ্ন রাখা হয়েছে, সেখানে অসম্মতির সুযোগ নেই। মানুষ যদি একমত না হয়, সেই মতামত কীভাবে দেবে—সেটা গণভোটে উল্লেখ নেই।’ তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষ যাতে সহজে বুঝতে পারে, সেইভাবে প্রশ্নগুলো সাজানো উচিত ছিল।

রিজভী অভিযোগ করেন, সারাদেশে মানুষ নানা দুর্ভোগে থাকলেও তা লাঘবে রাষ্ট্রের কোনো কার্যকর ভূমিকা নেই। স্বাধীনতার পর থেকেই জনসেবামূলক কাজে রাষ্ট্রের নজর কম ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, গণভোট বা পিআর-ব্যবস্থা নিয়ে ব্যস্ত না থেকে জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করাই এখন জরুরি।

বিএনপির সমর্থিত জুলাই সনদ প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, সনদটি জাতির সামনে যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। আরও স্পষ্ট করে তুলে ধরা প্রয়োজন ছিল।

ভারত থেকে বিপুল অর্থ এনে দেশে নাশকতার চেষ্টা হচ্ছে—এমন অভিযোগও তুলে ধরেন তিনি। রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগ দেশে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করতে চায়। শেখ হাসিনার বিচার আদালতের বিষয়, মানুষ শুধু ন্যায়বিচারই চায়।

তিনি আরও বলেন, দেশের পরিস্থিতি ইচ্ছাকৃতভাবে ঘোলাটে করে তোলা হচ্ছে। ‘পতিত স্বৈরাচার’ প্রতিবেশী দেশে বসে নানা ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেন রিজভী। ঢাকা, গাজীপুরসহ বিভিন্ন স্থানে গাড়ি পোড়ানো ও সহিংসতার ঘটনাকে আওয়ামী লীগের ‘পুরোনো সংস্কৃতি’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার শুরু থেকেই ফ্যাসিবাদের বিষদাঁত ভেঙে ফেলতে পারলে এসব ঘটনা ঘটত না।

অনুষ্ঠানে আমরা বিএনপি পরিবারের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমনসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।




‘পাঁচ নয় আট, তুমি বলবার কে’

দেশে নারীদের আবারও অন্ধকারে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। একটি দল ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানিয়ে ব্যবসা করছে। তারা চায়, নারীরা যেন অন্দরমহলে বন্দি থাকে। সে জন্য তারা বলছে, কর্মঘণ্টা কমিয়ে দিতে হবে। নারী কর্মস্থলে কাজ করবে না ঘরে থাকবে– এটা একান্তই তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর শাহবাগে নারী ও শিশু অধিকার ফোরাম আয়োজিত সমাবেশে এসব কথা বলেন বক্তারা। ‘নারীর ওপর ক্রমবর্ধমান সহিংসতা ও অসম্মান: প্রতিরোধে প্রস্তুত সচেতন নারী সমাজ’ লেখা ব্যানার নিয়ে মৌন মিছিল ও সমাবেশ হয়। এ সময় নারীরা স্লোগান দেন– ‘পাঁচ নয় আট, তুমি বলবার কে?’

সমাবেশে নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের আহ্বায়ক এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম, গত ১৭ বছর নারীরা যেভাবে খুন-ধর্ষণের শিকার হতেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটবে। নারীরা মর্যাদা ফিরে পাবেন। কিন্তু দুঃখের বিষয়, দেশে আজ আবার নারীরা অন্ধকারে ফিরে যাচ্ছেন। নারীদের ঘরে ফিরিয়ে দিতে কর্মঘণ্টা কমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। কাজেই অধিকার আদায়ে নারীদের লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। মর্যাদা ফিরে পেতে নারীদের সমস্বরে আওয়াজ দিতে হবে।’

সমাবেশে নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের সদস্যসচিব নিপুণ রায় চৌধুরী বলেন, ‘আজ আমরা এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সংকেত দিয়ে গেলাম যে নারীর অধিকার নিয়ে কোনো সংকট তৈরি করা হলে দেশের নারী সমাজ জেগে উঠবে।’ বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সদস্য চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস বলেন, নারী অধিকার হলো মানুষের অধিকার। নারীর কোনো দান, দয়া বা দাক্ষিণ্যের প্রয়োজন হয় না। নারীরা ঘর সামলাবেন না বাইরে থাকবেন, সেটা একান্তই ব্যক্তিগত স্বাধীনতার বিষয়। নারীদের সিদ্ধান্ত তাদেরই নিতে দিন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাহরীন ইসলাম খান বলেন, ‘পুরুষ আমাদের সহযোদ্ধা, শত্রু নয়। তাই নারীর পাশাপাশি যে পুরুষকে সাইবার বুলিংয়ের শিকার হতে হয়, আমি তার পক্ষে দাঁড়াই।’

মায়ের ডাকের সমন্বয়কারী সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, ‘আমরা পরিবর্তন দেখেছি গণঅভ্যুত্থানে; কিন্তু পরবর্তী সময়ে এসে আমাদের এমন এমন সব সামাজিক অবস্থায় পড়তে হচ্ছে, যেখানে শুনতে হয়, আমাদের কর্মঘণ্টা পাঁচ ঘণ্টায় নিয়ে আসা হবে।’
সমাবেশে ডাকসুর গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক সানজিদা আহমেদ বলেন, রাজনৈতিক, পারিবারিক বা যে কোনো ক্ষেত্রে হোক, কথা বলতে গেলে, বিভিন্নভাবে নারীদের হেনস্তা করা হয়েছে। নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে নারীকে কথা বলতে হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সাবেক এমপি বিলকিস ইসলাম, নিলুফা চৌধুরী, শিরিন সুলতানা, ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মানসুরা আলম, সহসভাপতি রেহানা আক্তার প্রমুখ।




একদিনে হিলিতে পেঁয়াজের দাম কেজিতে কমেছে ২০ টাকা

আমদানির অনুমতির খবরে সরবরাহ বাড়ায় দিনাজপুরের হাকিমপুরের হিলিতে একদিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কমেছে কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা। সরবরাহের এমন ধারা অব্যাহত থাকলে ও ভারত থেকে আমদানি শুরু হলে দাম আরও কমতে পারে বলে জানাচ্ছেন বিক্রেতারা।

শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) সরেজমিন হিলি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে প্রতিটি দোকানেই আগের তুলনায় দেশীয় পেঁয়াজের ভালো সরববাহ লক্ষ্য করা গেছে। এতে পণ্যটির দাম কমতির দিকে। একদিন আগেও যেখানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ১০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল সেই পেঁয়াজ বর্তমানে কমে ৮০ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

হিলি বাজারে পেঁয়াজ কিনতে আসা আব্দুল লতিফ বলেন, পেঁয়াজের দাম গত কয়েকদিন ধরেই ওঠানামা করছে। কখনও বাড়ছে তো আবার কমছে। আমরা যে পেঁয়াজ গত সপ্তাহে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা কেজি দরে কিনেছিলাম সেটি হঠাৎ দাম বাড়তে বাড়তে ১০০ টাকা ছাড়িয়েছিল। সরকার যেই আমদানির অনুমতির কথা বলেছে, তখন আবারও কেজিতে ১০ টাকার মতো কমেছিল। কিন্তু দাম কমার দুই দিন পরই আবারও দাম বেড়ে ১০০ টাকায় উঠে যায়। এই যে পেঁয়াজের দাম ওঠানামা করছে, এগুলো ব্যবসায়ীদের কারসাজি। বাজারে তো পেঁয়াজ আছেই, তারপরও কেন বাড়ছে। আমরা চাই পেঁয়াজের দাম যেন ৫০ টাকায় নেমে আসে।

হিলি বাজারের পেঁয়াজ বিক্রেতা আবুল হাসনাত বলেন, দেশীয় পেঁয়াজের মৌসুম শেষের দিকে হওয়ায় হঠাৎ সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণে দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছিল। মোকামে প্রতিদিন পেঁয়াজের দাম কেজি প্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা করে বাড়ছিল। কিছু দিন আগে যে পেঁয়াজ আমরা ৬০-৬৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছিলাম সেটি বাড়তে বাড়তে ১০০ টাকায় গিয়ে ঠেকে। সম্প্রতি সরকার পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে আমদানির অনুমতি দেওয়ার কথা ভাবছেন। এতে কৃষকরা কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করায় মোকামে পেঁয়াজের সরবরাহ কিছুটা বাড়ায় দাম কমতির দিকে আসছিল। কিন্তু কয়েকদিন অতিবাহিত হওয়ার পরও আমদানির অনুমতি না দেওয়ায় আবারও দাম বাড়তে শুরু করে। সম্প্রতি আবারও দাম বাড়লে আমদানির অনুমতি দেওয়ার হবে হবে জানান বাণিজ্য উপদেষ্টা। এতে আবারও ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হবে- এরপর দাম কিছুটা কমে।




ভোরের আলো ফোটার আগেই ফ্ল্যাটে মিললো স্ত্রীর লাশ, গুরুতর আহত স্বামী

গাজীপুরের কোনাবাড়িতে শনিবার ভোরের আলো ফোটার আগেই ফ্ল্যাটে মিলেছে স্ত্রীর লাশ। এ সময় গুরুতর আহত স্বামীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শনিবার ভোরে বাইশমাইল এলাকার নওয়াব আলী মার্কেট এলাকার স্থানীয় একতা টাওয়ারে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রহিমা খাতুন ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট থানার আমতৈল গ্রামের কসাই এমরান হোসেনের স্ত্রী । তিনি একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, ইমরান কসাই এর কাজ করেন। তার স্ত্রী রহিমা খাতুন ও মেয়ে শারমিনকে নিয়ে বাইমাইল এলাকায় একতা টাওয়ারের ৫ম তলার ফ্ল্যাটে ভাড়ায় বসবাস করতেন। শুক্রবার দিবাগত রাতে অজ্ঞাত পরিচয় দুর্বৃত্তরা ওই বাসায় প্রবেশ করে ইমরান ও তার স্ত্রীকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই রহিমা খাতুনের মৃত্যু হয়। শনিবার ভোরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ইমরানকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ও স্ত্রীর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), সিআইডিসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

কোনাবাড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন আহম্মেদ বলেন, লাশ উদ্ধারের কিছুক্ষণ পর তল্লাশি চালালে স্বামী এমরান হোসেনের পালস পাওয়া যায়। তাই তাকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তার স্ত্রী রহিমার লাশ শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে নিহতের মেয়ে শারমিনকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।




আশরাফুল হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য, নেপথ্যে পরকীয়া

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :  পরকীয়া একটি সামাজিক ব্যধি । এটি ভয়াবহ ভাবে আমাদের সমাজে ছড়িয়ে পড়েছে । যাতে ভেংগে যাচেছ আমাদের পারিবারিক ও সামাজিক জিবন ।কয়েক দিন আগে   রাজধানীতে দুটি নীল রঙের ড্রামে কাঁচামাল ব্যবসায়ী আশরাফুল হকের ২৬ খণ্ড লাশ উদ্ধারের পর দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এমন নৃশংস হত্যার ঘটনায় আসামি করা হয় তার বন্ধু জরেজুল ইসলামকে।

জানা গেছে, শামীমা আক্তার নামে বিবাহিত এক নারীর সঙ্গে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন আশরাফুল ও জরেজ। এ নারীর সঙ্গে দুজনের ছিল ত্রিভুজ প্রেম। কিন্তু এই প্রেম তাদের বন্ধুত্বে ফাটল তৈরি করেছিল। যার জেরে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় আশরাফুলকে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) স্বল্প সময়ের মধ্যে ভয়াবহ এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে। ডিবি সূত্রে জানা গেছে, আশরাফুলকে প্রথমে বালিশ চাপা দিয়ে মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। ‌মৃত্যুর দুই দিন পর তার লাশ কেটে ২৬ টুকরো করা হয়। হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন জরেজ ও পরকীয়া প্রেমিকা শামীমা আক্তার।

এ ঘটনায় আশরাফুলের বন্ধু এবং হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি জরেজুলকে গ্রেফতার করেছে ডিবি। গতকাল শুক্রবার রাত ১০ টার দিকে কুমিল্লা থেকে গ্রেফতার করা হয় তাকে। ‌অন্যদিকে র‍্যাব-৩ এর  একটি দল লাকসাম থেকে হত্যাকাণ্ডের আরেক আসামি পরকীয়া প্রেমিকা শামীমাকে গ্রেফতার করেছে।

জানা গেছে, আশরাফুল একটি মামলার বাদী ছিলেন। সে কারণে তার ডাটাবেজ পুলিশের কাছে ছিল। পরে সিআইডি এসে তার ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিলে তার পরিচয় শনাক্ত হয়। পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই ডিবি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শুরু করে।

এ ব্যাপারে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ডিবি-দক্ষিণ) মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ত্রিভুজ পরকীয়া প্রেমের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। আশরাফুল ও জরেজুল ইসলাম একে অপরের বন্ধু হলেও শামীমা নামে এক নারীর সঙ্গে তাদের দুজনেরই পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে উঠে। ‌ এই সম্পর্ককে কেন্দ্র করে আশরাফুল তার বন্ধু ও তার প্রেমিকার হাতে খুন হয়। লাশ উদ্ধারের পর থেকে এ বিষয়ে ডিবি তদন্ত শুরু করে। পরে তথ্যপ্রযুক্তি সহযোগিতায় শুক্রবার রাত ১০ টায় কুমিল্লা থেকে জরেজুল ইসলামকে গ্রেফতার করে ডিবি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।




মোটরসাইকেলে ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্রকরে অটোচালককে পিটিয়ে হত্যা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : রক্তাক্ত ও আতংকের জনপদের নাম ব্রাক্ষনবাড়িয়া ,যেখানে তুচ্চ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হরহামেশাই রক্তাক্তসংঘর্স ঘটে। এবার শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে মোটরসাইকেলে ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করে মোহাম্মদ দোলোয়ার হোসেন ওরফে দিলু মিয়া (৪৫) নামে এক অটোচালককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছেউপজেলার আউলিয়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে। নিহত  দিলু মিয়া উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের চানপুর গ্রামের গ্রাম পুলিশ তোতা মিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আউলিয়া বাজারে মোহাম্মদ বিল্লাল মিয়ার কনফেকশনারীর সামনে পার্কিং করা তার মোটরসাইকেলের সঙ্গে একটি অটোরিকশার ধাক্কা লাগে। এতে বিল্লাল মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে অটোচালক মোহাম্মদ দোলোয়ার হোসেন ওরুফে দিলু মিয়াকে পিটিয়ে মারাত্মক আহত করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে বিজয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দিলু মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।

অভিযুক্ত বিল্লাল মিয়া উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের শান্তামোড়া গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে। ঘটনার পর পরই বিল্লাল পালিয়ে যায়।

বিজয়নগর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিক ফোর্স পাঠানো হয়েছে। নিহতে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।




আবারও নির্বাচন করতে পারবো তা কখনো স্বপ্নেও ভাবিনি: লুৎফুজ্জামান বাবর

 চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : দীর্ঘ ১৭ বছর পর  জালিমের কারাগারের বন্দিদশা থেকে কারামুক্ত হয়ে আমি আবারও নির্বাচন করতে পারবো কখন স্বপ্নেও ভাবিনি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি নেতা ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর।

তিনি বলেন, এজন্য মহান আল্লাহর কাছে পাশাপাশি আমার দল, আমার নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও নেতা তারেক রহমানের কাছে  শুকরিয়া আদায় করছি। আবারও তারা আমাকে এই ভাটি বাংলার মানুষের সেবা করার সুযোগ দিয়েছেন।

বিএনপির মনোনয়নপত্র ঘোষণার পর শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) প্রথমবারের মতো নিজ এলাকায় ফেরার পথে নেত্রকোণা সদরের চল্লিশায় নেতাকর্মীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

তিনি  বলেন, আমার নির্বাচনি এলাকা (নেত্রকোণা-৪) মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরির ভাটি বাংলার মানুষের ঋণ আমি কখনোই ভুলতে পারবো না। আমি আমার পুরো জীবন তাদের জন্য যতটুকু পারি করে যাবো। আপনারা সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।

নেত্রকোনার পাঁচটি আসনের মধ্যে হাওর বিস্তৃত তিন উপজেলা মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরি নিয়ে নেত্রকোণার ৪ আসন গঠিত। এ আসনেই দীর্ঘ ১৭ বছর পর লুৎফুজ্জামান বাবর কে ধানের শীষের  মনোনীত প্রার্থী করেছে বিএনপি।