ডেঙ্গুতে মৃত্যুর তালিকা দিন দিন দীর্ঘ হচেছ

চন্দ্র্রদ্বীপ নিউজ : নীরব এক ঘাতকের নাম ডেঙ্গু প্রতি নিয়ত বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৪৯ জনে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৮৭ হাজার ৭১২ জনে পৌঁছেছে।

সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৬ জন মারা গেছেন। একই সময় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরো ৭৮৮ জন। মারা যাওয়া ছয়জনের মধ্যে তিনজন রাজশাহী বিভাগের বাসিন্দা। পাশাপাশি শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৮৭ হাজার ৭১২ জনে পৌঁছেছে।বুধবার (১৯ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৮৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১০৮ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৩০ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৬৬ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৮৬ জন, খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৬৬ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৫৪ জন, রাজশাহী বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৮৮ জন এবং সিলেট বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) তিনজন।গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৯৭৩ ডেঙ্গুরোগী। এ নিয়ে চলতি বছর আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মোট ছাড়পত্র পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৫৭০ জন। আর চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে ৬২ দশমিক ৪০ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭ দশমিক ৬০ শতাংশ নারী।




বিজয় দিবস নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়কে ঘিরে দেশে কোনো অস্থিরতা নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.)।

তিনি বলেন, বিজয় দিবস উপলক্ষ্যেও কোনো শঙ্কা নেই।

বুধবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত একটি সভা শেষে সাংবাদিকদের সামনে তিনি এমন কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, শেখ হাসিনার রায়কে ঘিরেও কোনো রকম অস্থিরতা সৃষ্টি হয়নি। বিজয় দিবসে কোনো অস্থিরতার সম্ভাবনা নেই।

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিজয় দিবসের কর্মসূচিতে কোনো পরিবর্তন নেই। আগে যেভাবে সব কর্মসূচি হয়েছে, এবারও সেভাবে হবে। বরং আরও বেশি হবে। তবে গতবারের ন্যায় এবারও প্যারেড অনুষ্ঠিত হবে না।

গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়া মঙ্গলবার রাতে ডিবি পরিচয়ে সাংবাদিককে তুলে নিয়ে পরে ফেরত দেওয়া প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, এ বিষয়টা আমি প্রথম শুনলাম। অনুসন্ধান করার পর হয়তো আমি বিষয়টা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবো। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে।

ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মো. খোদা বখস চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।




ঝালকাঠিতে সড়ক অবরোধের অভিযোগে দুই ছাত্রলীগ নেতা আটক

ঝালকাঠি-বরিশাল মহাসড়কের প্রতাপ এলাকায় টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ ও স্লোগান দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগে দুই যুবককে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (১৭ নভেম্বর) সকালে এ ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে সন্ধ্যার দিকে গাবখান ব্রিজের পশ্চিম ঢাল এলাকা থেকে একটি মোটরসাইকেলসহ তাদের গ্রেপ্তার করে।

আটককৃতরা হলেন—ঝালকাঠি সদর উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের টিপু হাওলাদার, যিনি উপজেলা ছাত্রলীগের নির্বাহী সদস্য এবং বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার পারদেশীপুর ইউনিয়নের ওলি যিনি বাকেরগঞ্জ পারদেশীপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক কোষাধ্যক্ষ হিসেবে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে ৪ জন যুবক দুটি মোটরসাইকেলে করে ঝালকাঠি-বরিশাল মহাসড়কের প্রতাপ এলাকায় এসে টায়ারে আগুন ধরিয়ে সড়ক অবরোধ করে। এ সময় তারা সরকারবিরোধী স্লোগান দিয়ে দ্রুতস্থান ত্যাগ করে। কিছুক্ষণের মধ্যে সড়কে আগুন দেওয়ার সেই ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পুলিশ বলছে, আটক টিপু হাওলাদার ও ওলি রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত।

ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাসিব মাহমুদ অপু ও সদস্য দিপুসহ তাদের বিরুদ্ধে ঝালকাঠি, বরিশাল ও পিরোজপুরের বিভিন্ন স্থানে রাস্তায় গাছ কেটে অবরোধ সৃষ্টি, বাড়িতে ভাঙচুরসহ একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। ওলিকে স্থানীয়ভাবে “ভাড়াটিয়া খুনি” হিসেবেও চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানায়, সড়ক অবরোধ, অগ্নিসংযোগ ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।




নতুন বছরের প্রথমেই পাঠ্যবই হাতে পাবে শিক্ষার্থীরা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : বছরের শুরুতে নতুন পাঠ্যবই ছাত্র ছাত্রীদের হাতে তুলে দিতে সরকার বদ্ধ পরিকর  এরই ফলশ্রুতিতে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ কার্যক্রম শুরু করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। এবার শিক্ষার্থীদের হাতে নির্ধারিত সময়মতো বই পৌঁছে দিতে এবং সময় সাশ্রয় করতে অনলাইন পদ্ধতিতে চালান অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

সম্প্রতি এনসিটিবির সচিব প্রফেসর মো. সাহতাব উদ্দিন স্বাক্ষরিত একটি স্মারকে এ বিষয়ে জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। স্মারকে বলা হয়েছে, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ইবতেদায়ি, মাধ্যমিক (বাংলা ও ইংরেজি ভার্সন), দাখিল, এসএসসি, দাখিল ভোকেশনাল এবং কারিগরি স্তরের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ ও সরবরাহ কার্যক্রম ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।

স্মারকে জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের জন্য নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—নির্ধারিত টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান থেকে বই গ্রহণ এবং দ্রুততম সময়ে অনলাইনে চালানের অনুমোদন দেওয়া। এছাড়া, সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতেও পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ ও গ্রহণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।




বদলি ও নিয়োগ নিয়ে অস্থির প্রশাসন

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রশাসনে বিভিন্ন পর্যায়ে শুরু হয়েছে রবদবল এটা রাস্ট্রের নিয়মিত কাজেই অংশ। কোথাও নতুন করে পদায়ন হচ্ছে, কাউকে বর্তমান পদ থেকে অনত্র বদলি করা হচ্ছে। কাউকে নিয়োগ দিয়ে সে নিয়োগ বাতিলও করা হচ্ছে। তবে  নিয়োগ-বদলির নানানরকম কার্যক্রম নিয়ে অস্থিরতা রয়েছে প্রশাসনে। ফলে কাজের ক্ষেত্রে কেউ স্বস্তি পাচ্ছে না। চেয়ারে টিকে থাকা নিয়ে বাড়ছে দুশ্চিন্তা। কার কখন বদলি হয়, আবার বদলি হলে যোগদান করতে পারবেন কি না, সে নিয়ে থাকছেন আতঙ্কে। জনপ্রশাসনসহবিভিন্ন মন্ত্রণালয়সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নিয়োগ-বদলি একটি নিয়মিত কাজের অংশ, তবে দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা এ ক্ষেত্রে দক্ষতার পরিচয় দিতে পারছেন না। কর্মকর্তারাও জনপ্রশাসনের ডেস্ক কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্টদের আস্থায় নিতে পারছেন না। এসব বিভিন্ন কারণে সমালোচনা হচ্ছে।

জাতীয় নির্বাচনের আগে বিভিন্ন স্তরে রদবদল হতে পারে, সে কারণে প্রতিনিয়ত জনপ্রশাসনে ঘুরছেন কর্মকর্তারা। কেউ নিজের বর্তমান অবস্থানে আরও কিছু দিন থাকার জন্য জনপ্রশাসনে

এদিকে সম্প্রতি আবার বিভিন্ন ব্যাচের ‘দলীয় লেবাস’ ধারণ করে কিছু কর্মকর্তার রদবদলে খবরদারি বেড়েছে। যাকে তাকে দোসর তকমা দিয়ে ভালো জায়গায় পোস্টিং দেওয়া থেকে বিরত রাখতে কাজ করছেন বলেজানা গেছে। এতে অনেক মন্ত্রণালয় বা দপ্তরে ভালো কর্মকর্তার চেয়ে সুবিধাভোগী কর্মকর্তাদের আধিপত্য বাড়ছে। আর মন্ত্রণালয়গুলোতে কাজের ক্ষেত্রে বাড়ছে স্থবিরতা। জনপ্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রতিদিন বিভিন্ন ব্যাচের অভিযোগ শুনে বিরক্ত হয়ে যাচ্ছি। সবাই একে অন্যের দোষারোপ করতে আসেন। ব্যাচের কর্মকর্তারা তার ব্যাচমেটদের দমিয়ে রাখতে আসেন। কেউ আসেন বিগত দিনে কার কার সঙ্গে ছবি আছে এসব দেখাতে।’

প্রশাসনের ২৪ ব্যাচের যুগ্মসচিব হতে না পারা কর্মকর্তারা আর ৩০ ব্যাচের উপসচিব হতে না পারা কর্মকর্তারা পদোন্নতির আশায় আছেন। নিয়মিত ব্যাচ ২০-এর কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত সচিব করা হচ্ছে না এখনো, এ নিয়েও অস্বস্তিতে আছেন কর্মকর্তারা। বর্তমানে ৩৪, ৩৫ এবং ৩৬ ব্যাচের কর্মকর্তারা ইউএনও।




দেশে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৬ লাখের বেশি

দেশে এখন মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ১৪ হাজার ৯০৭ জন আর নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৭৯ হাজার ৪২ জন। হিজড়া পরিচয়ে ভোটার আছেন ১ হাজার ২৩৪ জন।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ ভোটার তালিকা হালনাগাদের তথ্য সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন। এই ভোটার তালিকাতেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আখতার আহমেদ জানান, গত ২ মার্চ মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ১২ কোটি ৩৭ লাখ ৩২ হাজর ২৭৪।

২ মার্চ থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে নারী ভোটার বৃদ্ধির হার ৪ দশমিক ১৬ শতাংশ আর পুরুষ ভোটার বৃদ্ধির হার ২ দশমিক ২৯ শতাংশ। আখতার আহমেদ জানান, নির্ধারিত সময়ে কোনো দাবি আপত্তি না আসায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) এ দুটি দলকে নিবন্ধন দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। কিছু আপত্তি আসায় বাংলাদেশ আমজনগণ পার্টিকে এখনো নিবন্ধন দেওয়া হয়নি।

দলটির বিষয়ে আসা আপত্তিগুলো পর্যালোচনা করা হবে। এক প্রশ্নের জবাবে আখতার আহমেদ জানান, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোট আয়োজনের জন্য সরকারের কাছ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো নির্দেশনা পায়নি নির্বাচন কমিশন।




আনসার বাহিনীর জন্য ১৭ হাজার শর্টগান কিনছে সরকার

অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, আনসার বাহিনীর জন্য ১৭ হাজার শর্টগান কেনা হবে।

মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) সচিবালয়ে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে তিনি জানান। বৈঠকের পরে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আনসারদের অস্ত্রগুলো অনেক পুরোনো হয়ে গেছে।’

তিনি আরও জানান, আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তার জন্য ‘৪০ হাজার বডি ওর্ন ক্যামেরা’ কেনা হচ্ছে না। বরং ‘যেসব কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ সেখানে দেওয়া হবে। স্বচ্ছতার সঙ্গে কেনা হবে। ইসি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আলোচনা করে ঠিক করবে।’

অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেন, চাহিদা থাকায় ‘এক কোটি ই-পাসপোর্টের বই’ কেনার জন্য বরাদ্দের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া টিকার সংকটের বিষয়টি বিবেচনা করে ‘ইপিআই টিকা’ কেনা হবে। ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানান, বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য রোজার আগে চাল ও গম আমদানি করা হবে।




জুলাই গণঅভ্যুত্থান মামলা: শেখ হাসিনা ও কামালের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের রায়

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডসহ মানবতাবিরোধী বিভিন্ন অপরাধের দায়ে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের বিরুদ্ধে গুরুতর দণ্ড ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়—মামলার অভিযোগগুলোতে উপস্থাপিত সাক্ষ্য, নথি ও প্রমাণাদি বিবেচনায় এনে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) দুপুরে বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই ঐতিহাসিক মামলার রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অন্যান্য সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। আদালত জানায়—শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগই প্রমাণিত হয়েছে; যার মধ্যে দুটি অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড এবং একটি অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই মামলার একটি অভিযোগে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।

রায় ঘোষণার সময় আদালত অঙ্গন ছিল জনাকীর্ণ। নিহতদের পরিবার, আইনজীবী, সাংবাদিকসহ উপস্থিত ছিলেন জুলাই–অগাস্টের সহিংস ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বহু মানুষ। আদালত বলেন—গণঅভ্যুত্থানের সময় যে হত্যাকাণ্ড, হামলা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল, তা প্রমাণ করতে প্রসিকিউশনের ৫৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এদের মধ্যে ছিলেন চিকিৎসক, প্রত্যক্ষদর্শী, তদন্তকারী কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন পেশার মানুষ। পাশাপাশি নিহত শিক্ষার্থী আবু সাঈদের সহযোদ্ধা, শহীদ আনাসের বাবা পলাস এবং আন্দোলনের অন্যতম নেতা নাহিদ ইসলামের সাক্ষ্যও মামলার ভিত্তি মজবুত করে।

গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগসমূহ

প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিকভাবে পাঁচটি অভিযোগ আদালতে উপস্থাপন করেছিল। সেগুলো হলো—
১) ১৪ জুলাই গণভবনে শেখ হাসিনার দেওয়া উসকানিমূলক বক্তব্য;
২) আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী অস্ত্র, হেলিকপ্টার ও ড্রোন ব্যবহারের নির্দেশ;
৩) রংপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা;
৪) চানখাঁরপুলে ছয় আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যা;
৫) আশুলিয়ায় আগুন দিয়ে ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যা।

অভিযোগ গঠনের পর সাবেক আইজিপি মামুন রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষী হয়ে দাঁড়ানোর আবেদন করেন এবং আদালত তা মঞ্জুর করে। পরে প্রসিকিউশন তার বিরুদ্ধে কোনো সাজা দাবি না করে, শুধুমাত্র শেখ হাসিনা ও কামালের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি জানায়। দীর্ঘ যুক্তিতর্ক শেষে ১২–২৩ অক্টোবর শুনানি শেষ হয় এবং আজ রায় ঘোষণা করা হয়।

ট্রাইব্যুনালের পুনর্গঠন ও মামলার প্রক্রিয়া

৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠিত হয়। পুনর্গঠনের পর প্রথম মামলার শুনানি হিসেবে গত ১৭ অক্টোবর শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক শুনানি শুরু হয় এবং সেদিনই আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। পরে মামলায় সাবেক আইজিপি মামুন ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালকে আসামি করা হয়। এ বছরের ১ জুন তিনজনের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে দাখিল হয়।

পক্ষ–বিপক্ষের সব যুক্তি, সাক্ষ্য এবং নথিপত্র পর্যালোচনার পর আদালত জানায়—উপস্থাপিত প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগগুলো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত। আদালতের রায়ে বলা হয়, “মানবতাবিরোধী অপরাধের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তিই ন্যায়বিচারের স্বার্থ নিশ্চিত করে।”


মো: আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




হাসিনার রায়কে ঘিরে সাভার ও ধামরাইয়ে বাসে আগুন

সাভার ও ধামরাইয়ে রোববার (১৬ নভেম্বর) রাতে ও সোমবার ভোরে দুটি বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

সাভারের বিরুলিয়া পুলিশ ফাঁড়ির এসআই ওহাব জানান, ভোর রাতে সাভারের বিরুলিয়ায় বাসস্ট্যান্ডে একটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। বাসটি পার্কিং করে চালক খাবার খেতে যায়। এরই মধ্যে দুর্বৃত্তরা আগুন লাগিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় আগুন দেখতে পেয়ে পাশের কনস্ট্রাকশন কারখানার সিকিউরিটি গার্ডসহ আশেপাশের লোকজন এসে আগুন নেভায়। আগুনে বাসের ৫০ শতাংশের বেশি পুড়ে গেছে। পরে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

একই সঙ্গে ঢাকার ধামরাইয়ে মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা বাসে শনিবার রাতে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। ধামরাইয়ে ঢুলিভিটা বাসস্ট্যান্ডের উত্তর পাশে পল্লী বিদ্যুতের অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ধামরাই থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলাম। তবে এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। আগুন লাগার খবর পেয়ে দ্রুত ধামরাই ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট গিয়ে প্রায় ১৫ মিনিটের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে বলে জানান ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার মো. সোহেল রানা।

তিনি জানান, আগুনে বাসের পেছনের কয়েকটি সিট পুড়ে গেছে। কেউ হয়তো বাসটিতে আগুন দিয়ে পালিয়ে গেছে। বাসটি রাস্তার পাশে দাঁড় করিয়ে রাখা ছিল। তবে বাসের মধ্যে লোকজন ছিল না।

ধামরাই থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ঢুলিভিটা বাসস্ট্যান্ডের উত্তর পাশে পল্লী বিদ্যুতের অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা পুরাতন একটি বাসে দুর্বৃত্তরা আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়। তবে বাসটির পেছনের কয়েকটি সিট পুড়ে গেছে। বাসে আগুন দেওয়া দুর্বৃত্তদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

এদিকে আজ আওয়ামী লীগের লকডাউন কর্মসূচিকে ঘিরে সাভারে চেকপোস্ট বসিয়েছে পুলিশ। সকাল থেকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভারের আমিনবাজার এলাকায় এ চেকপোস্ট বসান সাভার মডেল থানা পুলিশ।

সাভার মডেল থানার ওসি জুয়েল মিঞা জানান, শেখ হাসিনার রায়কে ঘিরে মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা রক্ষায় আমিনবাজারে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। এ সময় মহাসড়কে চলাচলরত বিভিন্ন যানবাহন তল্লাশির পাশাপাশি যাত্রীদের পরিচয়পত্র চেক করা হয়। এদিকে আজ সকালে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে সাভার মডেল থানা পুলিশ এ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের চার নেতাকর্মীকে সহিংসতায় জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।




আগামী সপ্তাহের মধ্যে ঘোষণা হতে পারে বিএনপির জোট প্রার্থীদের নাম

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :  দেশে  বইছে নির্বাচনী হাওয়া আর এই  আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বড় রাজনৈতিক দলগুলো তাদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে। জামায়াতে ইসলামী ৩০০ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করলেও বিএনপি ২৩৭ আসনে তাদের প্রার্থী ঘোষণা করে থেমে আছে। গুঞ্জন রয়েছে বাকি ৬৩টি আসনে বিএনপির সাথে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সম্পৃক্ত থাকা দলগুলোর সাথে আলোচনা করে প্রার্থী ঘোষণা করা হবে।

নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, বিএনপির সাথে থাকা দলগুলোর সাথে আসন নিয়ে বিএনপির আলোচনা শেষপর্যায়ে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আসনগুলোর বিষয় আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেয়া হবে বিএনপির পক্ষ থেকে। এরপরই চূড়ান্ত করা হবে বিএনপির মোট ৩০০ আসনের প্রার্থী।

সূত্রটি জানায়, বিএনপির সাথে যেসব দল নির্বাচনে যাবে তাদের মধ্যে যাদের নিবন্ধন নেই তারা বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হবেন। যাদের নিবন্ধন আছে তারা নিজ দলের প্রতীক নিয়ে লড়বেন। তবে নিবন্ধন থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর অনেকে আবার বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়তে চান। এ জন্য তারা নির্বাচন কমিশনের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও জানায় সূত্রটি।

বিএনপির কাছে গণতন্ত্র মঞ্চের পক্ষ থেকে ৫০টির মতো আসন চাওয়া হয়েছে আলোচনার পরে সিদ্ধান্ত হবে কয়টি হচ্ছে।

১২দলীয় জোটের সমন্বয়ক সৈয়দ এহসানুল হুদা বলেন, আমাদের ১২ দল থেকে তিনজন প্রার্থীকে চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে সেটা হয়তো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।

এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল অলি আহমেদ বলেন, বিএনপির সাথে আলোচনার কথা রয়েছে। কয়টি আসন নিয়ে আলোচনা হবে সেটা বিএনপিকেই বলব।

গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর  বলেন বিএনপি ও জামায়াত উভয়ের সাথে তাদের আলোচনা হয়েছে। এসব আলোচনায় কোনো সমঝোতা হয়নি। কিন্তু সম্মানজনক আসন বিএনপির পক্ষ থেকে ছাড় দেয়া হলে বিএনপির সাথে জোট হতে পারে। তবে গণমাধ্যমে দু-তিনটি আসন ছাড় দেয়ার যে খবর ছাপা হয় তা অবাস্তব।

তিনি জানান, গতকাল শনিবার আমাদের দলের মিটিং হয়েছে। যেহেতু উচ্চ কক্ষে পিআর পদ্ধতিতে প্রতিনিধি নির্বাচিত হবে। সেহেতু সম্মানজনক আসন ছাড় না পেলে আমরা এককভাবে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের প্রধান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ জানান, গত বুধবার আমাদের সাথে বিএনপির আসন ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা ৯টি আসন চেয়েছি। এখন আল্লাহ ভাগ্যে কী রাখছেন আল্লাহ ভালো জানেন।

এ ছাড়া ঢাকা-১৭ আসনে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, ঢাকা-১৩ আসনে এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে নারায়ণগঞ্জ জেলা জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের সভাপতি মুফতি মনির হোসেন কাসেমীকে গ্রিণ সিগন্যাল দেয়া হয়েছে বলে জানা যায়।

তৃণমূলের নেতাকর্মীরা আরো জানান, মনোনয়ন চূড়ান্ত না হওয়ায় সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় থাকা অনেক ত্যাগী নেতা ষড়যন্ত্রের শিকার হচ্ছেন।

সামগ্রিক বিষয় নিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, দীর্ঘ সময় যেসব দল আমাদের সাথে রাজপথে ছিল তাদের বিষয় আমাদের কমিটমেন্ট রয়েছে। সেই কমিটমেন্ট অনুযায়ী অবশ্যই তাদের আসন ছাড় দেয়া হবে।

নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থীসহ সারা দেশে বিভিন্ন সম্ভব্য প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভুয়া ফোন রেকর্ডসহ নানা অপপ্রচার চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় কোনো প্রভাব ফেলবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে রুহুল কবির রিজভী বলেন, এআইয়ের যুগে নানান পক্ষ থেকে এরকম অপপ্রচার অস্বাভাবিক না। এসব অপপ্রচার চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় কোনো প্রভাব ফেলবে না।