দপদপিয়ায় পুলিশের তৎপরতায় চো’রাই মালসহ বাবু-রায়হান আটক

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় থানা পুলিশের তৎপরতায় অভিযান চালিয়ে চোরাই মালামালসহ দুই সহোদরকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (২২ নভেম্বর) দিবগত রাতে উপজেলার দপদপিয়ায় ফেরিঘাট সংলগ্ন এলাকা থেকে তাদেরকে আটক করা হয়। আটককৃত বাবু ও রায়হান ৯নং দপদপিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো: সোলেমানের ছেলে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে নলছিটি থানার ওসি আব্দুস সালাম জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে এস আই মিজান এর নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাদের কাছ থেকে চোরাই মালামাল উদ্ধার করা হয়। নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, চোরাই মালামাল উদ্ধারের ঘটনায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি দেখা গেছে।

তারা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ের ছোটখাটো চুরির ঘটনার কারণে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। অভিযানের ফলে চক্রটি চিহ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।




ভূমিকম্পসহ বড়ধরণের দুর্যোগ মোকাবিলায় দেশ কি প্রস্তুত?

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :  দেশ আজ এক মহা বিপর্যায়ের দ্বার প্রান্তে। জনজীবনে এক আতংক বিরাজ করছে না জানি কখন কি হয়। যদি কোন রকমের বিপর্যায় নেমে আসে তাহলে কি হবে ?

ভূমিকম্পসহ বড় কোনো দুর্যোগে উদ্ধার তৎপরতা চালানোর জন্য পর্যাপ্ত সরঞ্জাম দেশে নেই। গত ১৯ বছরে কেনা সরঞ্জামগুলোর অর্ধেকই মেয়াদোত্তীর্ণ বা  যথাযথ

রক্ষনাবেক্ষনের অভাবে অচল হয়ে পড়ে   আছে কিন্তু যখন কোন বড় ধরনের দূ্র্ঘটনা ঘটে তখন প্রশাসন নড়েচড়ে বসে ।

সর্বশেষ তৃতীয় ধাপে সরঞ্জাম সংগ্রহের যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল, ৪ বছরে তার মাত্র ২০ শতাংশ কিনতে পেরেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর।

প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহে অধিদপ্তর ১ হাজার ৮৫১ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে ২০২১ সালে। এর আগে ২০০৬ সাল থেকে দুই ধাপে ২১২ কোটি টাকার সরঞ্জাম কেনা হয়েছে। সংগৃহীত সরঞ্জামগুলো সশস্ত্র বাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

কিন্তু   দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, সশস্ত্র বাহিনীকে দেওয়া ২০ শ্রেণির ৮০৭টি সরঞ্জাম অচল হয়ে পড়েছে।

৩৩ শ্রেণির ১৯১টি সরঞ্জাম মেরামতের প্রয়োজন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অচল হয়ে পড়া গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে স্প্রেডার, র‍্যাম জ্যাক, ব্রিদিং অ্যাপারেটাস, ক্রেন, এক্সকাভেটর, কংক্রিট কাটার, পাওয়ার চেইন স, ম্যানুয়াল ড্রিল মেশিন, হাইড্রোলিক এক্সকাভেটর ও হুইল ডোজার।

জমে থাকা কংক্রিটের স্তূপ সরানো, ভেঙে পড়া দেয়াল অপসারণ, সামনের বাধা অপসারণ করা, দেয়াল বা লোহার রড কাটা, আটকে পড়া মানুষের অক্সিজেনের সংকট হলে অক্সিজেন পৌঁছানোর কাজে এসব সরঞ্জাম প্রয়োজন হয়।

ফায়ার সার্ভিসের মতে, ভূমিকম্পের সময় উদ্ধার তৎপরতা চালাতে গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জামগুলোর মধ্যে আছে গ্যাস ডিটেকটর, আটকে পড়া মানুষ শনাক্ত করতে লাইভ ডিটেক্টর, কংক্রিট কাটার, ক্রেন, ফর্কলিফ্টার, রোটারি হ্যামার ড্রিল, ব্রিদিং অ্যাপারেটাস, র‍্যাম জ্যাক, লক কাটার, সার্চ ভিশন ক্যামেরা, হাইড্রোলিক কাটার, রোটারি হ্যামার ড্রিল, চিপিং হ্যামার, হাইড্রোলিক এক্সকাভেটর।

ফায়ার সার্ভিস সূত্র থেকে জানা গেছে, ৭ শ্রেণিতে ৩৫ ধরনের যন্ত্রপাতি তাদের প্রয়োজন। এসব যন্ত্রপাতির মধ্যে রয়েছে ফায়ার ফাইটার স্যুট, কেমিক্যাল স্যুট, হিট প্রোটেকটিভ স্যুট, রেসকিউ স্যুট, কনফাইনড প্রোটেকটিভ স্যুট। এ ছাড়া ব্রিদিং অ্যাপারেটাস, কেমিক্যাল প্রোটেকশন ডিভাইস, ফায়ার ফাইটিং ড্রোন, রিফ্লেক্টিং হোস, মনিটর নোজল, পোর্টেবল গ্রাউন্ড মনিটর, হাই প্রেশার হোস, পোর্টেবল পেনিট্রেটর।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আলী আহমদ খান বলেন, ‘২০১২ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত আমি মহাপরিচালক থাকাকালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অধীনে আমরা কিছু সরঞ্জাম পেয়েছিলাম। এগুলোর অধিকাংশ এখন পুরোনো বা মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে।’ তিনি জানান, শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে এসব সরঞ্জাম রাখা দরকার। এক জায়গায় থাকলে সেটা বড় দুর্যোগের সময় কোনো কাজে আসবে না।

আলী আহমদ খান আরও বলেন, সরঞ্জাম কেনা হলেও এগুলো চালানোর মতো প্রশিক্ষিত জনবল নেই। ফায়ার সার্ভিসের কোনো প্রশিক্ষণ একাডেমি নেই। বড় কোনো দুর্যোগ হলে বিদেশি অনেক উদ্ধারকারী দল আসবে। তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে হলে ইন্টারন্যাশনাল অপারেশন অ্যান্ড রেসকিউ ট্রেনিংয়ে অংশ নিতে হয়। সে ধরনের প্রশিক্ষণেও কেউ অংশ নেয় না। প্রশিক্ষিত জনবলের অভাব পূরণ করতে কমিউনিটি পর্যায়ে স্বেচ্ছাসেবক তৈরির পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, এই স্বেচ্ছাসেবকদের অবশ্যই প্রশিক্ষণ থাকতে হবে।

২০০৬ সালে ‘ভূমিকম্প ও অন্যান্য দুর্যোগকালে অনুসন্ধান, উদ্ধার, অভিযান পরিচালনা এবং জরুরি যোগাযোগের জন্য যন্ত্রপাতি সংগ্রহ প্রকল্প’ নেয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ অধিদপ্তর। ২০০৬ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ছিল প্রকল্পের প্রথম ধাপ। তখন ব্যয় ধরা হয়েছিল ৬৯ কোটি টাকা। পরের ধাপে (২০১৩-২০১৭) ১৪৩ কোটি টাকা। প্রকল্পের তৃতীয় ধাপের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২১ থেকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত। ১ হাজার ৮৫১ কোটি টাকার এ প্রকল্পের অধীনে গত ৪ বছরে লক্ষ্যমাত্রার ২০ শতাংশ সরঞ্জাম কেনা হয়েছে।

সরঞ্জাম সংগ্রহে ধীরগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক কাজী শফিকুল আলম বলেন, বর্তমান প্রকল্পের শুরুতে সরাসরি ক্রয়ের সুযোগ রাখা হয়েছিল। পরে তা পরিবর্তন করে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে সরঞ্জাম কেনার সিদ্ধান্ত হয়। পুরো প্রক্রিয়া পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন হয়ে আসতে সময় লেগেছে। তিনি জানান, এ পর্যন্ত ২০ শতাংশ সরঞ্জাম সংগ্রহ করা হয়েছে।




বানারীপাড়ায় আওয়ামী লীগ থেকে ফিরে বিএনপির সভাপতি হলেন জাকির

ক্ষমতার আমলে আওয়ামী ভিড়েছিলেন আমিনুল ইসলাম জাকির মোল্লা। এখন বিএনপির সুসময়ে তিনি আওয়ামী লীগ ছেড়ে ফের পুরানো দলে ফিরেছেন। দলে ভিড়েইে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির পদে পুরস্কৃত হন। এ নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিযেছে বিএনপির তৃনমুল নেতাকর্মীদের মধ্যে। তারা ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে নানা নেতিবাচক মন্তব্য করছেন। ঘটনাটি বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার উদয়কাঠী ইউনিয়নে।

জানা গেছে, উপজেলার বাইশারী সৈয়দ বজলূল হক কলেজের সহকারী অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জাকির উদয়কাঠী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ছিলেন। ২০২৩ সালের ২৯ অক্টোবর তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেন। ১৩ ডিসেম্বর বিএনপি তাকে বহিস্কার করে। তখন ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হন জেষ্ঠ সহ সভপতি আলমগীর হোসেন। ২০২৪ এর নির্বাচনে জাকির নৌকা প্রতীকের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তার ভাই বাদল মোল্লা বিভিন্ন সময় জাতীয় সংসদ ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকার পক্ষে উদয়কাঠি ইউনিয়নের করমজা কেন্দ্রের দায়িত্বে ছিলেন বলে স্থানীয়রা জানান।

বিএনপির ক্ষুদ্ধ নেতাকর্মীদের অভিযোগ, গত বছর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জাকির ফের বিএনপিতে ফিরতে নানা কৌশল করে। গত জুলাইতে অনুষ্ঠিত কাউন্সিলে তাকে উপজেলা বিএনপির সদস্য পদ দেয়া হয়। গত ১৯ নভেম্বর পত্রের মাধ্যমে আমিনুল ইসলাম জাকিরকে সভাপতি করে উপজেলার উদয়কাঠী ইউনিয়ন বিএনপির ১০১ সদস্যের কমিটি দেয়া হয়েছে। উপজেলা বিএনপির সহ -সভাপতি মঞ্জুর খান ও সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ মৃধা ওই পত্রে স্বাক্ষর করেন। উদয়কাঠী ইউনিয়নের বাসিন্দা উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহ আলম মিঞা উপস্থিত থাকার পরেও অদৃশ্য কারনে তার স্বাক্ষর না নিয়ে জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি মঞ্জুর খানের স্বাক্ষর নেওয়া নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

উদয়কাঠী ইউনিয়ন বিএনপির সদ্য সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলমগীর হোসেন বলেন, দলের চরম দুঃসময়ে জাকির আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছে। তাকে ফের দলে এনে পদ দিয়ে পুরস্কৃত করা হলো। আর আমরা যারা দল আকরে থেকে হামলা-মামলার শিকার হয়েছি তারা হলাম তিরস্কৃত। ঘোষিত কমিটি গঠনতন্ত্র মেনে হয়নি। কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের দাবী জানান আলমগীর। এ প্রসঙ্গে বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ মৃধা বলেন, জাকির মোল্লাকে আওয়ামী লীগে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়েছিলো। মুঠোফোনে সাড়া না দেওয়ায় এ প্রসঙ্গে উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহ আলম মিঞার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

জাকির মোল্লা বলেন. উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক আমার কলেজ গর্ভনিংবডির সভাপতি ছিলেন। কলেজ অধ্যক্ষ ও আামিসহ আরও কয়েকজন শিক্ষককে আওয়ামী লীগে যোগ দিতে বাধ্য করেছে। অভিযোগ রযেছে নবগঠিত ইউনিয়ন বিএনপির কমিটির পদ পাওয়াদের মধ্যে জামায়াতে যোগদান করা দুজন নেতাও রয়েছেন।

এদিকে পূর্বের ইউনিয়ন কমিটি বিলুপ্ত না করে এবং কোন কাউন্সিল ছাড়াই গঠিত পকেট কমিটিতে আওয়ামী লীগে যোগদান করে বহিস্কৃত হওয়া নেতাকে পুনরায় শীর্ষ পদ দিয়ে পুরস্কৃত করা,জামায়াতে যোগদান করাদের অন্তর্ভূক্তি এবং দলের দুঃসময়ের নির্যাতিত ত্যাগী ও পরীক্ষিত নিবেদিতপ্রাণ নেতা-কর্মীদের কমিটিতে অবমূল্যায়ন করায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়ে সাধারণ নেতা-কর্মী সমর্থকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ নানা ভাবে তারা এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে আমিনুল ইসলাম জাকির মোল্লার ফুল দেওয়া ও আওয়ামী লীগে যোগদানের ছবি এবং এ সংক্রান্ত নিউজ পোষ্ট করে নেতিবাচক মন্তব্য করছেন।

তারা অগঠনতান্ত্রিকভাবে গঠিত এ কমিটি অনতিবিলম্বে বাতিল করে কাউন্সিলের মাধ্যমে দলের দুঃসময়ের ত্যাগী,নির্যাতিত ও পরীক্ষিত নেতা-কর্মীদের সমন্বয়ে কমিটি গঠনের জোর দাবি জানিয়েছেন।




ঝাঁঝে-ঘ্রানে অনন্য আটঘর-কুড়িয়ানার বোম্বাই মরিচ, রপ্তানি হচ্ছে বিদেশেও

বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলা, ঝালকাঠি সদর ও পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার বেশ কিছু অঞ্চলে বছরের পর বছর বোম্বাই মরিচের চাষ হয়ে আসছে। জনপ্রিয়তা দিনে দিনে বৃদ্ধি পাওয়ায় বছরে শতকোটি টাকা আয় করছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। স্থানীয় চাষীরা জানান, একসময় এই মরিচ ঘরোয়া চাহিদা পূরণের জন্য বাড়ির বাগান কিংবা আঙিনায় লাগানো হতো। তখন কেউই ভাবতো না এর বৃহত্তর চাষের কথা।

কিন্তু গত কয়েক দশক ধরে বরিশালের বানারীপাড়া, ঝালকাঠি সদর ও পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার বিভিন্ন এলাকাজুড়ে বড় পরিসরে বোম্বাই মরিচের চাষ হচ্ছে। কৃষি বিভাগের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, দিনে দিনে বোম্বাই মরিচের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় চাষির পাশাপাশি আবাদের পরিমাণও বাড়ছে। কৃষকরাও ভালো দর পাচ্ছেন বোম্বাই মরিচ বিক্রি করে।

বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা এসব বোম্বাই মরিচ বিক্রির জন্য হাটে উঠানো হয়েছে। বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার বাসিন্দা ও চাষি মানিক মিস্ত্রী জানান, গত ৫ বছর ধরে তিনি বোম্বাই মরিচের আবাদ করছেন। বর্তমানে ১৫ কাঠার জমিতে বিভিন্ন ফসলের পাশাপাশি ৯শ’র মতো বোম্বাই মরিচ গাছ রয়েছে। গেলো শীতের শেষ দিকে কুয়াশা ও ঠাণ্ডা আবহাওয়ার কারণে ফলন একটু কম হলেও খারাপ ছিলো না উৎপাদন। নেছারাবাদ উপজেলার চাষি রণজিৎ হালদার জানান, মূলত বৈশাখ ও জৈষ্ঠ্য মাস বোম্বাই মরিচের মৌসুম। তবে ভাদ্র মাস পর্যন্ত বাজারে এ মরিচের দেখা মেলে।

তিনি তার চাষের জমিতে পেঁপে, কাঁচাকলা, লেবু গাছ লাগিয়েছেন। যার মধ্যে মরিচের চাষও করছেন। বহুমুখি শস্যের চাষ করে বেশ ভালো অর্থ উপার্জন করছেন। বর্তমানে আটঘর-কুড়িয়ানার জিন্দাকাঠি কালীমন্দির মাঠে সোমবার ও শুক্রবারের হাটে আকার ভেদে ৩০ থেকে ৭০ টাকায় প্রতিশ’ বোম্বাই মরিচ বিক্রি হচ্ছে। যার মধ্যে ভালোমানের কামরাঙা নামের বোম্বাই মরিচ শ’ ৫০ থেকে ৭০ টাকা, ঘৃতকুমারী (ঘেউতা) ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং গুড়া আকারের বোম্বাই মরিচ ভর্তি প্রতি বস্তা ২শ’ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও স্থানীয়ভাবে চেলা নামের একটি বোম্বাই মরিচ ২৫ থেকে ৩০ টাকায় প্রতিশ’ বিক্রি হচ্ছে।

বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা এসব বোম্বাই মরিচ বিক্রির জন্য হাটে উঠানো হয়েছে। হাট ইজারাদাররা জানান, ফাল্গুন থেকে জৈষ্ঠ্য মাস পর্যন্ত বোম্বাই মরিচের আমদানি বেশি হয়। এসময় প্রতি হাটে ভোর ৫টা থেকে সকাল ৭টার মধ্যে কয়েক লাখ টাকার মরিচ বেচাকেনা হয়। আর জিন্দাকাঠি বাজারের পাশে খাল ও সড়কপথ দু’টিই রয়েছে। তাই এ হাটে চাষিরা নৌকায় যেমন আসেন তেমনি সড়কপথেও সহজে পণ্য নিয়ে আসেন। ঝালকাঠি সদরের ভীমরুলি এলাকার চাষী অনিল জানান, গত বছর কয়েক লাখ টাকার মরিচ বিক্রি করেছেন। এ বছরও ২/৩ লাখ টাকার মরিচ বিক্রির আশা করছেন।

তবে বাজারে আমদানি বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে দর অনেক কমেছে। যদিও প্রতিবছরই আমদানি বাড়লে দাম কমে যায়। তিনি বলেন, প্রতি বছর বোম্বাই মরিচের চাষির সংখ্যা বাড়ছে। হালকা যত্ন নিলেও ভালো উৎপাদনের আশা করা যায় বলে এতে আগ্রহ বাড়ছে অন্য ফসল চাষিদের। বেশি ঝালসহ গুণগতমানের দিক থেকে ভালো হওয়ায় বিগত কয়েক বছর ধরে বরিশাল বিভাগের এ অঞ্চলের মরিচ জাপান পাঠানো হচ্ছে। যদিও সরাসরি নেছারাবাদ থেকে মরিচ জাপান যায় না।

তিনি বলেন, এখান থেকে বাছাইকৃত মরিচ নরসিংদীতে পাঠানো হয়। সেখান থেকে এক ব্যবসায়ীর মাধ্যমে জাপানে পাঠানো হয় মরিচ। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ৩ বছর ধরে নেছারাবাদের স্থানীয় বেপারি আ. হক, মনির হোসেনসহ বেশ কয়েকজন মিলে এ অঞ্চলে উৎপাদিত বোম্বাই মরিচ জাপানে রপ্তানির জন্য পাঠান। পিরোজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়, পিরোজপুর জেলা থেকে সরাসরি রপ্তানি হয় না মরিচ। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অন্যত্র থেকে এটি করতে পারেন।

তবে এ অঞ্চলে দিনে দিনে বোম্বাই মরিচের আবাদ বাড়ছে। চাষিরা কোন বছরই লোকসানের মুখে পরেছেন এমন তথ্য নেই। প্রতিবছরই এ অঞ্চলের মরিচের চাহিদা বাড়ছে।




পিরোজপুরে ডাকাতি করতে গিয়ে ধরা, গণপিটুনিতে নিহত ১

ডাকাতির সময় পিরোজপুরে গণপিটুনিতে এক ডাকাত নিহত হয়েছে। এ সময় আহত অবস্থায় আরেক ডাকাতকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয়রা। শনিবার (২২ নভেম্বর) রাতে সদর উপজেলার পশ্চিম দূর্গাপুর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য অনুকূল চন্দ্র রায় ওরফে দুলালের বাড়িতে ডাকাতির এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনায় নিহতের বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়নি। তবে আটককৃত সবুজ হাওলাদার (৫৫) এর বাড়ি বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি গ্রামে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এদিকে স্থানীয়দের ধাওয়ায় অন্য ডাকাত সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তবে ডাকাত দল অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ঘর থেকে স্বর্ণের চেন, কানের বালা ও শাঁখাসহ অন্যান্য স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন দুলালের ভাই অমলেশ চন্দ্র রায়।

পিরোজপুর সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোল্লা রমিজ জাহান জুম্মা জানান, রাত আড়াইটার দিকে খবর পেয়ে পিরোজপুর সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাধা রমনের নেতৃত্বে থাকা পুলিশের একটি টহল টিম পশ্চিম দূর্গাপুর গ্রাম থেকে আহত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক একজনকে মৃত বলে ঘোষণা করে।




বাসার সানশেড ভেঙে পড়ে বাবা-ছেলের মৃত্যু

ছুটির দিন সকালে তিন সন্তানের সঙ্গে বাসাতেই ছিলেন দেলোয়ার হোসেন উজ্জ্বল (৩৮)। হঠাৎ ভূমিকম্পে সব কেঁপে ওঠে। আতঙ্কিত হয়ে নিরাপদ স্থানে যেতে সন্তানদের হাত ধরে দ্রুত বের হওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু তার আগেই বাসার সানশেড ভেঙে তাদের মাথায় পড়ে। এতে প্রাণ হারান উজ্জ্বল ও তার ছোট ছেলে ওমর আলী (১০)। গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি দুই মেয়ে।

শুক্রবার নরসিংদী সদর উপজেলার চিনিশপুর ইউনিয়নের গাবতলি এলাকায় মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটে। উজ্জ্বলের বাড়ি কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তরপাড়া গ্রামে। তিনি নরসিংদীতে জুট করপোরেশনে চাকরি করেন। সেই সুবাদে গাবতলি এলাকায় ভাড়া বাসার নিচতলায় পরিবার নিয়ে থাকতেন। উজ্জ্বলের ছেলে ওমর স্থানীয় মাদ্রাসায় পড়ত। মেয়ে উষা (১৭) ও তবুফা (১৪) নরসিংদী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। উষা এবার এসএসসি পাস করেছে। তবুফা নবম শ্রেণিতে পড়ে। ঘটনার সময় উজ্জ্বলের স্ত্রী গ্রামের বাড়িতে ছিলেন। স্বামী ও ছেলেকে হারিয়ে তিনি পাগলপ্রায়।

স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার সকালে ভূমিকম্পের সময় সন্তানদের নিয়ে বাসা থেকে বের হচ্ছিলেন উজ্জ্বল। ঠিক এই সময় পাশের নির্মাণাধীন ভবনের দেয়াল থেকে ইট ধসে তাদের বসতবাড়ির ছাদের ওপর আছড়ে পড়ে। এতে বাসার সানশেড ভেঙে উজ্জ্বল, তার ছেলে ও দুই মেয়ে আহত হয়। স্থানীয়রা প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় বাবা ও ছেলেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। দুপুরে সেখানে নেওয়ার পর ওমরকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। উজ্জ্বলকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আইসিইউর লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা ৭টার দিকে তিনি মারা যান।

উজ্জ্বলের চাচাতো ভাই জাকির হোসেন ও প্রতিবেশী তারিকুল ইসলাম শাহীন বলেন, উজ্জ্বল প্রায় ১০ বছর ধরে নরসিংদীতে চাকরি করছিলেন। স্ত্রী-সন্তান থাকত গ্রামের বাড়িতে। বছর চারেক আগে তাদের নরসিংদীতে নিয়ে আসেন। স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে ভালোই ছিলেন উজ্জ্বল। শুক্রবার সকালে ভূমিকম্পের সময় তিনি এক ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে বের হয়ে নিরাপদ স্থানে যাচ্ছিলেন। এ সময় বাসার সানশেড ভেঙে তাদের ওপর পড়ে। বাবা-ছেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন। উজ্জ্বলের দুই মেয়ে নরসিংদী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

তারা আরও বলেন, দুই মেয়েকে বাবা ও ভাইয়ের মৃত্যুর খবর জানানো হয়নি। তাদের মা কাঁদতে কাঁদতে মূর্ছা যাচ্ছেন। তাকে সারাজীবন এই ভয়াবহ শোকের বোঝা বয়ে বেড়াতে হবে।

নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ফরিদা গুলশানারা কবির জানান, বাবা-ছেলের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকায় পাঠানো হয়। উজ্জ্বলের দুই মেয়ে সদর হাসপাতালে ভর্তি।

এদিকে ভূমিকম্পের কারণে নরসিংদীতে আরও তিনজন প্রাণ হারিয়েছেন। তাদের মধ্যে মাটির ঘরের দেয়াল ধসে মারা গেছেন পলাশ উপজেলার মালিতা পশ্চিমপাড়া গ্রামের কাজেম আলী ভূঁইয়া (৭৫)। ভূমিকম্পের সময় গাছ থেকে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন শিবপুর উপজেলার আজকীতলা পূর্বপাড়া গ্রামের শরাফত আলীর ছেলে ফোরকান মিয়া (৪৫)। ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৬৫ বছরের নাসির উদ্দিন। তিনি কাজীরচর নয়াপাড়া গ্রামের প্রয়াত সিরাজ উদ্দিনের ছেলে।




পটুয়াখালীসমগ্র বাংলাদেশ গলাচিপায় ৮০০ পিচ ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ

পটুয়াখালীর গলাচিপায় ৮০০ পিছ ইয়াবাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে গলাচিপা থানার পুলিশ। শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে খেয়াঘাট এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত দুজন হলো —নোয়াখালীর মাইজদি থানার পূর্ব মাইজচড়া এলাকার কামাল ব্যাপারির স্ত্রী মোসাঃ সালমা বেগম (৩৫) এবং পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার রনগোপালদি ইউনিয়নের দক্ষিণ রনগোপালদি গ্রামের মো. ফোরকান বয়াতির ছেলে মো. পলাশ বয়াতি (৩০)।

গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসাদুর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে—আটককৃতরা পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, এলাকায় মাদক সংক্রান্ত অপরাধ দমনে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরো বলেন , উদ্ধার করা ইয়াবা ও গ্রেপ্তারকৃতদের থানায় এনে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




পুরান ঢাকায় অপরিকল্পিত ভবন, আতঙ্কে মানুষ

রাজধানীর পুরান ঢাকার বেশির ভাগ ভবন নির্মাণ করা হয়েছে অপরিকল্পিতভাবে। মানা হয়নি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) নির্দেশনা। ভূমিকম্প কিংবা অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটলে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষতির আশঙ্কা করছেন এই এলাকার বাসিন্দারা।

গতকাল শুক্রবার সকালে ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে পুরান ঢাকার সূত্রাপুর, গেন্ডারিয়া, কোতোয়ালি, বংশাল, লালবাগসহ এলাকার অধিকাংশ ভবন। মসজিদে দেওয়া হয় আজান, মন্দিরে বেজে ওঠে ঘণ্টা। এলাকাবাসীর মধ্যে দেখা দেয় আতঙ্ক। পরিবার-স্বজন নিয়ে খোলা স্থানে আশ্রয় নিতে নিচে নেমে আসেন ভবনের বাসিন্দারা।

সূত্রাপুরের চায়ের দোকানি জোনায়েদ ঘরামী বলেন, অন্য দিনের মতো পরিবারের সঙ্গে সকালের নাশতা করতে বসেছিলাম। হঠাৎ জিনিসপত্র এদিক-সেদিক পড়ে যাচ্ছিল। শুরুতে সেভাবে না বুঝলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই বুঝতে পারি ভূমিকম্প শুরু হয়েছে। দ্রুত স্ত্রী-সন্তান নিয়ে নেমে দেখি নিরাপদ স্থানের আশায় হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমেছে। কিন্তু আশপাশে কোনো খালি জায়গা নেই। পুরো এলাকাতেই রয়েছে পুরোনো ও গাদাগাদি ভবন।

ঢাকায় ভূমিকম্পের ঝুঁকি নতুন নয়, তবে সাম্প্রতিক সমীক্ষা আরও আতঙ্ক বাড়িয়েছে বাসিন্দাদের মধ্যে। রাজধানীজুড়ে প্রায় ২১ লাখ ৪৬ হাজার ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে সংস্থাগুলো। এসব ভবনের বেশির ভাগ নির্মাণ করা হয়েছে নিয়ম না মেনে, পুরোনো নকশায় বা দুর্বল ভিত্তির ওপর। বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে রাজধানীতে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে সতর্ক করছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা।

‎ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতায় থাকা ভবনগুলোর ওপর করা জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ ভবন ২০ থেকে ৩০ বছর আগে নির্মিত। অনেক জায়গায় রড-সিমেন্টের মান নিয়ন্ত্রণ হয়নি। আবার কোথাও অতিরিক্ত ভবন তৈরি করা হয়েছে অনুমোদিত নকশার বাইরে। ফলে সামান্য কম্পনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গতকাল সরেজমিন সূত্রাপুর এলাকার পাতলাখান লেনে চোখে পড়ে বেশ কয়েকটি বহুতল ভবন। তবে স্থানীয়রা অনেকেই বলছেন, এমন অনেক বাড়ি রয়েছে, যাদের রাজউকের ছাড়পত্র নেই।
ওই এলাকার ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডে কথা হয় কবি নজরুল কলেজের শিক্ষার্থী পার্থ সাহার সঙ্গে। তিনি জানান, মেসের বাসায় ছিলেন তিনি। ভূমিকম্পের পর তাঁর মেসের দেয়ালে ফাটল ধরায় আতঙ্কিত বাসিন্দারা। শুধু ভূমিকম্প নয়, আগুন ধরলে বা অন্য কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে নেই তেমন নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

এ ছাড়া কাঁচা-পাকা বাড়িতে সয়লাব সূত্রাপুরের অধিকাংশ ভবনের বাসিন্দারা আতঙ্কে দিন পার করছেন। এই এলাকার বাসিন্দা সৈয়দ সালেকুজ্জামান বলেন, কতগুলো রাজউকের নিয়ম মানছে? ছয় তলার অনুমোদন থাকলেও ১০ তলা বাড়ি করছেন মালিকরা। এতে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে ব্যাপক প্রাণহানির শঙ্কা রয়েছে।

এরপর বংশালের আরমানিটোলায় যান এই প্রতিবেদক। যেখানে বাড়ির রেলিং পড়ে মারা গেছেন তিনজন। এরপর বিখ্যাত তারা মসজিদ হয়ে মাহুতটুলী দিয়ে নাজিমুদ্দিন রোডের দিকে গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ বাড়ি খুপরির মতো। গ্যাস ও বিদ্যুতের লাইন বিপজ্জনক অবস্থায়।

এলাকার বাসিন্দারা জানান, প্রায়ই অগ্নিকাণ্ড ঘটলে স্বাভাবিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয় ফায়ার সার্ভিস। শুকলাল সাহা নামে ওই এলাকার একজন জানান, তাঁর ৫৩ বছর বয়সে ভবনে এত বড় ঝাঁকুনি কখনও দেখেননি। তিনি বলেন, ‘আমগো মহল্লার পোলাপাইনডি চিক্কুর মারতাছিল, আমরা বইয়া আছিলাম। বিল্ডিংডি এমুন কইরা লাড়াচাড়া দিল, আমাওরা যে যেইহানে আছিলাম দৌড় দিয়া পালাইছি। তবে একখান খালি মাঠ-মুঠ থাকলে ওইহানে যাইবার পারতাম।’

বিকেলে নবাবপুরে গিয়ে দেখা যায়, শত শত তারের আবরণে বেষ্টিত একেকটি ভবন। কোনোটি দ্বিতল, কোনোটি বহুতল। কোনোটি আবার ভেঙেচুরে পড়ার মতো অবস্থা। ধোলাইখাল, দয়াগঞ্জ ও গেন্ডারিয়ার সাধনা ঔষধালয় থেকে লোহারপুল হয়ে কাঠেরপুল মোড় পর্যন্ত চোখে পড়ে অনেক ভবন। তবে কোনোটির উচ্চতা ১০ তলা আবার কোনোটি ৫-৭ তলা। এসব ভবন একটা থেকে আরেকটার দূরত্ব খুব সামান্য।

কথা বেসরকারি ব্যাংকের চাকরিজীবী রিয়াল ইবনে আরহামের সঙ্গে। তিনি জানান, প্রায় দুই যুগ ধরে বসবাস করছেন পুরান ঢাকায়। তবে গতকালের মতো ভূমিকম্প আগে দেখেননি।




উৎপত্তিস্থলে তীব্রতা ছিল বেশি, ফেটে গেছে মাটি-সড়ক

‘এক ভয়ংকর সময়। এমন ঝাঁকুনি আর দেখিনি। ঘরের দেয়াল কয়েক স্থানে ফেটে গেছে। বাইরে বের হতে গিয়ে স্বামী গুরুতর আহত হয়েছে। এখনও মনে হলে শরীর কাঁপে।’ এসব কথা বলেন নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ওয়াপদা গেট এলাকার গৃহবধূ সামসুন নাহার মলি। গতকাল শুক্রবার সকালে আঘাত হানা ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল এই জেলা।

দেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল নরসিংদীর মাধবদীতে। যুক্তরাষ্ট্রের ইউএসজিএস বলছে, কেন্দ্রস্থল নরসিংদী সদর থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণ পশ্চিমে।

গুগল ম্যাপ অনুযায়ী, কেন্দ্রস্থল পলাশ উপজেলার ডাংগা গ্রাম। স্থানটি শীতলক্ষ্যা নদীর পারে। এটি পলাশ উপজেলার অধীন ঘোড়াশাল পৌর শহরের কাছাকাছি। মাধবদীও পলাশ উপজেলার পাশে।
গতকাল দুপুরে সরেজমিন দেখা গেছে, ভূমিকম্পে পলাশ রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের প্রধান ফটকের সামনের রাস্তায় ফাটল দেখা দিয়েছে। কাছাকাছি একটি গরুর খামারের মাটি ফাঁকা হয়ে গেছে। অনেক ভবনে দেখা দিয়েছে ফাটল। হেলে পড়েছে বহুতল ভবন। ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে কিছু যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়েছে। আগুনও ধরেছিল। শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর পুরোনো রেলসেতুতে ফাটল দেখা দিয়েছে। দুজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ২০ জন।

ডাংগা-কালীগঞ্জ খেয়াঘাটের মাঝি সুবাদ ভৌমিক জানান, ভূমিকম্পের সময় নদীর পানি অনেক ওপরে উঠে প্রচণ্ড ঢেউ তুলেছিল। ভয় পেয়েছিলাম। অনেকক্ষণ পর বুঝতে পেরেছি, ভূমিকম্প হয়েছে। তবে আমার জীবনে এমন কম্পন এটাই প্রথম।

ডাংগা প্রাণ-আরএফএল কারখানার পাশে ইসলামপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী ফয়সাল বলেন, ‘আমরা প্রথমে বুঝতে পারিনি। মনে করেছিলাম, বাইরে কোনো ভারী লরি যাচ্ছে। পরে দেখি পাশের কারখানার সব ভবন কাঁপছে। শ্রমিকরা মুহূর্তে বাইরে বের হয়ে আসেন। তেমন ক্ষয়ক্ষতি না হলেও ভয়ে কয়েকজন জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।’

পলাশ রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের পাশের দোকানদার ফজলু মিয়া বলেন, ভূমিকম্পের সময় হঠাৎ বিকট শব্দে মাটিসহ সব কাঁপতে থাকে। কিছুক্ষণ পরই কলেজের গেটের ভেতর মাটি সরে গিয়ে ফাটল দেখতে পাই। এমন ঘটনা আর কোনোদিন দেখিনি।

ওয়াপদা গেট-সংলগ্ন নূর নবী সানির স্ত্রী তামান্না বলেন– বলে বোঝানো যাবে না, কেমন ছিল ওই সময়টা। বাচ্চাদের নিয়ে নিচে নামার সুযোগ পাইনি। শুধু আল্লাহকে ডেকেছি। এ সময় আমার ঘরে থাকা ফ্রিজ, টিভিসহ ঘরের আসবাব ভেঙে যায়।

শিশু আয়ান জানায়, সে খুব ভয় পেয়েছে। এখনও ভয় পাচ্ছে– যদি আবার এমন হয়!
ঘোড়াশাল মিয়াপাড়া গ্রামের প্লে শ্রেণিপড়ুয়া মুনতাসির আয়াত বলে, আমি ভয়ে কেঁদেছি। ঘরের ভেতর বই-খাতাসহ সবকিছু নিচে পড়ে গিয়েছিল। মা-বাবা আমাকে নিয়ে দৌড়ে বাইরে বের হয়েছিল।
ঘোড়াশাল বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দোকানের তাকে রাখা মালপত্র নিচে পড়ে আছে। সবার চোখেমুখে আতঙ্ক। জুতা দোকানি আলম মিয়া বলেন, আমার দোকানে জুতাসহ বিভিন্ন ধরনের মালপত্র ছিল। ভূমিকম্প শুরু হলে সবকিছু পড়ে গিয়ে আসবাব ভেঙে গেছে।

এই বাজারের মুদি দোকানদার আসলাম মিয়া বলেন, কাচের মালপত্র সব ভেঙে গেছে। প্রথমে মনে হয়েছে, কেউ হামলা করেছে। পরক্ষণে বুঝতে পেরেছি, এটি হামলা নয়; ভূমিকম্প। বেশ ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছি।

বাজার ঈদগাহ সড়কে মারকাসুল সুন্নাহ তাহফিজুল কোরআন সুন্নাহ মাদ্রাসার পরিচালক মুফতি সালাউদ্দিন আনসারী বলেন, আমাদের ছয়তলা ভবনের চার-পাঁচ জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা ভয় পেয়েছে; আতঙ্কিত ছিল।

এ ভবনের মালিক আমানউল্লাহ বলেন, ভূমিকম্পে আমার ভবনে কয়েক জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে। দোকানপাট বন্ধ। কেউ ভয়ে দোকান খুলছে না।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের একজন ঘোড়াশাল বাজারের ছয়তলা ভবনের এসএ প্লাজার নিচতলার মোবাইলের দোকানদার মোবারক হোসেন। তিনি বলেন, হঠাৎ সব কাঁপাকাঁপি শুরু করে। মনে হলো, সব ভেঙে পড়ছে। আমরা সবাই বাইরে বের হয়ে পড়ি। তিনি আরও বলেন, মার্কেটের ওপরতলা থেকে নারী-পুরুষ দৌড়াদৌড়ি করে নিচে নামার সময় অনেকে সিঁড়িতে পড়ে যান। কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা গেছে অনেককে।

বাজারের আল জিলানী মার্কেটের তিনতলার রেলিং ভেঙে পড়ে পাশের মুরগির খাদ্যের দোকানের ওপর। দোকানি তাজুল ইসলাম বলেন, ‘পুরো দেয়ালটা আমার দোকানের ওপর পড়ে। দোকানটা তছনছ হয়ে যায়। আমি কীভাবে বেঁচে গেলাম, এক আল্লাহ জানে। কাঁপুনি ও ঝাঁকুনি ছিল ভয়াবহ।’
আরটিভির জেলা প্রতিনিধি নূরে আলম রনি জানান, তিনি সকালে পলাশের বাসায় ছিলেন। হঠাৎ কাঁপুনি শুরু হলে দোতলা থেকে বাচ্চাকে নিয়ে বের হওয়ার সময় সিঁড়িতে পড়ে মুখে আঘাত পান। পরে তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

পলাশের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু বক্কর সিদ্দিকী বলেন, ভূমিকম্পের পর বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সার কারখানা পরিদর্শন করেছি। সরকারি খাদ্যগুদামের ভেতরে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। দ্রুত চাল স্থানান্তর করতে হবে। ভুক্তভোগীদের সহায়তার জন্য আমরা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খুলেছি। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের চেষ্টা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।




আমচাষীর ৩৫০ আমগাছ কেটে দিল দুর্বৃত্তরা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা নওগাঁর পত্নীতলায় চাঁদা না দেওয়ায় এক আমচাষীর চার বছর ধরে লালন করা আমবাগান রাতের আঁধারে ধ্বংস করে দিয়েছে । ভুক্তভোগী কৃষক হাবিবুল্লাহর দাবি, তার বাগানের ৩৫০টি আমগাছ কেটে ফেলা হয়েছে। হাবিবুল্লাহ জানান, ৯৩ শতক জমিতে তিনি ‘বেনানা ম্যাংগো’ জাতের আমবাগান গড়ে তুলেছিলেন, যা তার জীবনের শেষ অবলম্বন ও ভবিষ্যতের আশার প্রতীক ছিল। গত বছর ভালো ফলন পাওয়ায় তিনি আরও বড় উৎপাদনের স্বপ্ন দেখছিলেন।

হাবিবুল্লাহ অভিযোগ করেন, স্থানীয় ছানাউল, মতিবুল, দেলোয়ারসহ কয়েকজন ব্যক্তি একটি প্রভাবশালী দলের নাম ব্যবহার করে তার কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল।

আগে জমি নিয়ে আজিজুল ও গফফার নামের আরেক পক্ষের সঙ্গে বিরোধ ছিল, তবে আদালতে ব্যর্থ হওয়ায় তারা সরে দাঁড়ায়। এরপরই চাঁদাবাজ চক্র বাগানটিকে টার্গেট করে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, “গত ১০ দিন ধরে ছানাউল ও তার সহযোগীরা চাপ দিচ্ছিল চাঁদা দিতে। অস্বীকৃতি জানালে বৃহস্পতিবার রাতে ৬–৭ জনের দল বাগানে ঢুকে ৩৫০টি গাছ কেটে ফেলে।”

শুক্রবার সকালে বাগানে গিয়ে হাবিবুল্লাহ দেখেন সবুজ বাগানটি একেবারে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে—কাটা গাছের গুঁড়ি, ছেঁড়া ডাল ও বিবর্ণ পাতা ছাড়া কিছুই নেই।

হাবিবুল্লাহ ছানাউলসহ পাঁচজনকে আসামি করে পত্নীতলা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নায়েতুর রহমান বলেন, “অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”