বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ১৫ দিন ধরে নিখোঁজ ভোলার ১৩ জেলে

ভোলার লালমোহন উপজেলায় মাছ ধরতে গিয়ে ১৩ জেলে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ১৫ দিন পার হলেও এখনও তাদের কোনো খোঁজ মেলেনি। নিখোঁজ জেলেদের পরিবারে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।

নিখোঁজ জেলেদের মধ্যে আছেন ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মো. খোকন মাঝি, মো. সাব্বির মাঝি, মো. হেলাল মাঝি, মাকসুদুর রহমান মাঝি, মো. শামিম মাঝি, মো. সজিব মাঝি, নাছির মাঝি, মো. জাহাঙ্গীর মাঝি এবং একই ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মাকসুদ মাঝি, ফারুক মাঝি, আব্দুল মালেক, ফারুক মাঝি ও মো. আলম মাঝি।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ১০ নভেম্বর ফারুক মাঝির নেতৃত্বে তারা চরফ্যাশনের সামরাজ মৎস্যঘাট থেকে ৫ থেকে ৬ দিনের খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে গভীর সাগরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। কথা ছিল কয়েক দিনের মধ্যে তারা ফিরে আসবেন, কিন্তু ১১ নভেম্বরের পর থেকে তাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে।

নিখোঁজ জেলে মো. খোকন মাঝির স্ত্রী রিপা বেগম বলেন, “আমার স্বামী সাগরে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। কিন্তু ১৫ দিন পার হয়ে গেল, এখনও কোনো খবর নেই। আমরা চিন্তায় আছি।” নিখোঁজ জেলে সাব্বির মাঝির স্ত্রী সিমা বেগম জানান, “আমাদের বিয়ে মাত্র ৪ মাস হলো। স্বামী কখনো জেলের কাজ করেননি, হঠাৎ বেশি আয়ের আশায় প্রথমবার সাগরে গিয়েছিলেন। এখন তার কোনো খোঁজ নেই।”

নিখোঁজদের পরিবার আশাবাদী, জেলেরা এখনও বেঁচে আছেন এবং সরকারের সহযোগিতায় তাদের সন্ধান পাওয়া যাবে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, যদি জেলেদের বোট সাগরে নষ্ট হয়ে যায় বা তারা দিক হারিয়ে অন্য কোনো দেশের দিকে চলে যায়, সেটিও সম্ভাব্য। পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে তাদের নিরাপদভাবে উদ্ধার ও পরিবারে ফেরানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।

লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহ আজিজ বলেন, “কোস্টগার্ড নিখোঁজ জেলেদের সন্ধানে কাজ করছে। পরিবারের সদস্যরাও অনুসন্ধান চালাচ্ছেন। আমরা সম্ভাব্য সব দিকে খোঁজ নিচ্ছি, জেলেরা ইঞ্জিন বিকল হয়ে ভাসছে কি না বা অন্য কোনো দেশে চলে গেছে কি না তা দেখছি।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




পিরোজপুরের শতবর্ষী বৈঠাকাটা ভাসমান হাট

পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার বৈঠাকাটার ভাসমান হাট শত বছরের ঐতিহ্য বহন করছে। ভোরের আলো ফুটার আগেই বেলুয়া নদীর মোহনায় শত শত নৌকা জমে ওঠে, যেখানে সবজি, চারা, নাস্তা ও নিত্যপণ্য বেচাকেনা হয়। এই ভাসমান হাট শুধু কৃষিপণ্যের পাইকারি কেন্দ্র নয়, বরং নদীবর্তী মানুষের জীবিকা ও পর্যটনের মিলনমেলা হিসেবে পরিচিত।

স্থানীয় চাষিরা তাদের উৎপাদিত সবজি নৌকায় তুলে হাটে নিয়ে আসে। সকাল ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত নৌকায় বেচাকেনা চলে। দূর থেকে হাটের দৃশ্য মনে করায় থাইল্যান্ডের ভাসমান বাজারের। নাজিরপুরের আশেপাশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নৌকা ও ট্রলারে কৃষিপণ্য এখানে আসে।

ভাসমান হাটকে কেন্দ্র করে এখানকার অর্থনীতি গড়ে উঠেছে। গোপালগঞ্জ, বানারীপাড়া, স্বরূপকাঠি ও ইন্দেরহাটসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ক্রেতা ও বিক্রেতারা হাটে আসেন। ভাসমান হাটে সকালের নাস্তা, চা-বিস্কিট এবং ভাসমান ভাতের হোটেলের সুবিধাও আছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখানে বিদেশি পর্যটকও আসে। তবে পর্যাপ্ত আবাসিক সুবিধার অভাবে তাদের নানা সমস্যা হয়। প্রশাসন পর্যটক বিষয়ক ব্যবস্থা গড়ে তুললে হাটটি আরও পরিচিতি পেতে পারে।

সবজি বিক্রেতা রুস্তম আলী বলেন, “এই বাজার ১০০ বছরেরও বেশি পুরনো। শশা, জিঙ্গা, পটল, মিষ্টি কুমড়া সহ সব ধরনের সবজি এখানে পাইকারি বিক্রি হয়। প্রতি শনিবার ও মঙ্গলবার হাট বসে।”

কাঁচামাল ব্যবসায়ী শাহজাহান শেখ বলেন, “মৌসুমের পণ্যগুলো নৌকায় বিক্রি হয়। ছোটকাল থেকেই আমরা এখানে ব্যবসা করি। সড়ক পথে যাতায়াত কম, তাই সবই নৌকাতে।”
নারিকেল ব্যবসায়ী মেহেদী হাসান জানান, “এখান থেকে নারিকেল কিনে ঢাকা ও চট্টগ্রামে পাঠানো হয়। আশেপাশের গ্রামের ব্যবসায়ীরাও নৌকায় পণ্য নিয়ে আসে।”
সবজি ব্যবসায়ী কায়সার আহমেদ বলেন, “৩০ বছর ধরে এখানে ব্যবসা করছি। যদি সড়ক পথ ভালো থাকতো, আরও বেশি লাভ হতো।”

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সৌমিত্র সরকার বলেন, “ভাসমান হাটে জেলার বাইরে থেকে পাইকাররাও কৃষিপণ্য ক্রয়-বিক্রয় করে নিয়ে যায়। পর্যটকরা ঘুরতে আসে, তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত নয়। নৌকা ও ট্রলারে ক্রয়-বিক্রয় চলে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




বিলুপ্তির পথে পিরোজপুরের দেড়শ বছরের বাজপাই জমিদারবাড়ি

পিরোজপুর শহর থেকে সাত কিলোমিটার দূরে ইন্দুরকানীর পাড়েরহাট বন্দরে কঁচা নদীর তীরঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে প্রায় দেড়শ বছর পুরনো বাজপাই জমিদারবাড়ি। ব্রিটিশ শাসনামলে নির্মিত এই ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাটি স্থানীয়ভাবে ‘লালা বাবুর জমিদারবাড়ি’ নামে পরিচিত। একসময় এখান থেকেই এলাকার বিচার-সালিশ, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং খাজনা আদায় করা হতো। তবে আজ সংরক্ষণের অভাবে এটি ধ্বংসের মুখে।

জমিদার সূর্য প্রসন্ন বাজপাই, যাকে স্থানীয়রা লালা বাবু নামে চেনে, ছিলেন কালী প্রসন্ন পারের ছেলে এবং ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপাইয়ের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হওয়া পর্যন্ত পাড়েরহাট বন্দরের প্রধান প্রশাসনিক কেন্দ্র ছিল এই কাচারিবাড়ি।

প্রায় তিন একর জমির ওপর নির্মিত এই বাড়িতে কাচারি ঘর, সভাকক্ষ, শয়নকক্ষ এবং নাগ মন্দির ছিল। বর্তমানে অনেক ভবন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ছাদ ধসে পড়া, ইটের গাঁথুনি খসে যাওয়া এবং লতাপাতায় ঢেকে থাকা দেওয়ালই কেবল ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

জমিদারবাড়ির সংলগ্ন এলাকা থেকে রাজলক্ষ্মী মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন সূর্য প্রসন্ন বাজপাই। এটি বর্তমানে রাজলক্ষ্মী স্কুল অ্যান্ড কলেজ নামে পরিচিত। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাজনের পর বাজপাই পরিবার ভারত চলে যায় এবং আর ফিরে আসে নি।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, জমিদারবাড়ি সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত হলেও রক্ষণাবেক্ষণের কোনো উদ্যোগ নেই। ব্যক্তিগত দখলের চেষ্টা সম্পর্কেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা আশা করেন, এটি সংস্কার করে নদীবন্দর কেন্দ্রিক একটি পর্যটন স্পট হিসেবে গড়ে তোলা গেলে পাড়েরহাট নতুন পরিচিতি পেতে পারে এবং সরকারও রাজস্ব অর্জন করতে পারবে।

পাড়েরহাট ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আবুল কালাম ফরাজী বলেন, “সরকার যদি রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ নেয়, তাহলে এটি দর্শনীয় স্থান হিসেবে পরিচিতি পেতে পারে।”
স্থানীয় অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রঞ্জিত কুমার সাহা বলেন, “বাড়িটি সংস্কার করা হলে বাড়ির ঐতিহ্য বৃদ্ধি পাবে এবং এলাকার উন্নতিতেও সহায়ক হবে।”

ইন্দুরকানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান-বিন-মোহাম্মদ আলী জানান, “ব্রিটিশ আমলে নির্মিত বাড়িটিতে খাজনা আদায় হতো এবং বিচার-সালিশি অনুষ্ঠিত হতো। বর্তমানে এটি প্রায় ভঙ্গুর হয়ে গেছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পরিচালক বরাবর চিঠি দেওয়া হয়েছে। আশা করি অচিরেই সমাধান হবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




বরিশাল-৬ আসন: বিএনপি মরিয়া, ইসলামি দল ও জাতীয় পার্টি আশাবাদী

বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র। দীর্ঘদিন ধরে এই আসনে বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির রাজত্ব থাকলেও এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন।

বিএনপি এ আসন পুনরুদ্ধারে মরিয়া। দলীয় নেতৃত্বের প্রাথমিক অনুমোদন অনুযায়ী, সাবেক সংসদ সদস্য ও বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হোসেন খান সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি জানান, “বর্তমান সময়ে আমাদের দল মাঠে সক্রিয়, তাই শুধুমাত্র বরিশাল-৬ নয়, দেশের সব আসন থেকেই জয়লাভ হবে। আমি মানুষের সেবা করার সুযোগ আবারও পাবো ইনশাআল্লাহ।”

অপরদিকে, ইসলামি দলগুলোও থেমে নেই। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক মাওলানা মাহমুদুন্নবী তালুকদার শতভাগ আশাবাদী। তিনি বলেন, “এবার ফ্রি ও ফেয়ার নির্বাচন হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ইতিহাসের সবচেয়ে সুন্দর নির্বাচন হবে, জয় আমাদের হবে ইনশাআল্লাহ।”
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী মুহাম্মদ মিজানুর রহমানও এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

জাতীয় পার্টি থেকে এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার ও নাসরিন জাহান রত্না আমিন দম্পতির কেউ প্রার্থী হতে পারেন, যদি কোনো বাধা না থাকে।

এ আসনের তরুণ ভোটাররা নির্বাচনে উৎসাহিত। হাবিবুর রহমান বলেন, “ভোটারদের মন জয় করতে হবে। যিনি এলাকার উন্নয়নে কাজ করবেন, তাকেই বেছে নেবে জনগণ।” প্রিন্স হাওলাদার বলেন, “গত ১৫ বছরে অনেক ভোটার ভোট দিতে পারেননি। এবার ভোট কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি আশানুরূপ হবে।”

বাকেরগঞ্জ আসনের নির্বাচনী ইতিহাস অনুযায়ী, ১৯৭৩ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত ১২টি নির্বাচনে বিএনপি পাঁচবার, জাতীয় পার্টি চারবার এবং আওয়ামী লীগ তিনবার বিজয়ী হয়েছে। বর্তমানে এই আসনের ভোটার সংখ্যা দুই লাখ ৯৫ হাজার ৫০৯। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৪৯ হাজার ৬০০, নারী ভোটার এক লাখ ৪৫ হাজার ৯০৬ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার তিনজন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




ঝালকাঠি সুগন্ধা নদী তীর প্রতিরক্ষা প্রকল্পে ৬৮০ কোটি টাকার অনিয়ম ও দুর্নীতি

ঝালকাঠিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সুগন্ধা নদী তীর প্রতিরক্ষা প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। একনেকের অনুমোদিত ৬৮০ কোটি ৩৬ লাখ টাকার প্রকল্পটি ১৩ দশমিক ২১৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে শুরু হওয়া প্রকল্পটি ২০২৭ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা।

প্রকল্পে ব্যবহৃত বালুর মান কম, ব্লক তৈরিতে কম সিমেন্ট এবং কম ওজনের জিও ব্যাগ ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব অনিয়মের কারণে ইতিমধ্যে প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা একজন এসওকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এমভিবি ও এমটি আই (জয়েন্ট ভেঞ্চার) নির্ধারিত মানের ১ দশমিক ৫০ এফএম বালুর বদলে ১ দশমিক ৩৭ এওএম বালু ব্যবহার করেছে, যা টাক্সফোর্স বাতিল করেছে।

ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি উপজেলায় মোট ৩৪টি প্যাকেজের মধ্যে মাত্র ১৭টির কাজ শুরু হয়েছে। ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় জিও ব্যাগে পর্যাপ্ত বালু না থাকায় নদীর গভীর অংশে কার্যকর প্রতিরক্ষা গড়ে ওঠে না। চর ভাটারাকান্দার বাসিন্দা জামাল হোসেন অভিযোগ করেন, “জিও ব্যাগে বালুর পরিমাণ কম থাকায় পূর্বেও ৪০০ বস্তা বালু বাতিল করা হয়েছে।”

ঝালকাঠি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নিলয় পাশা জানান, “লোকবল সংকটের কারণে সব এলাকায় সময়মতো কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না।”

প্রকল্পের পিডি (প্রোজেক্ট ডিরেক্টর) পার্থ প্রতিম সাহা বলেন, “এই বিষয়ে আমি নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে আলাপ করে সিদ্ধান্ত নেব। বিষয়টি আমি আপনাদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি।”

প্রকল্পে ব্যবহৃত কম মানের সামগ্রী ও ধীরগতির বাস্তবায়নের কারণে স্থানীয় মানুষদের মধ্যে ক্ষোভ এবং উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশালে পানচাষে চাষীদের উদ্বেগ, দরপতনে ক্ষতির শঙ্কা

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় পানচাষে চাষীরা দরপতনের কারণে বড় ধরনের ক্ষতির শঙ্কায় রয়েছেন। উপজেলার বাকাল, বাশাইল, গৈলা ও রাজিহার ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকায় অসংখ্য পান বরজ চাষীরা দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যবসার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তবে বর্তমানে বাজারে হঠাৎ দরপতনের ফলে চাষীরা দিশেহারা।

গৈলা ইউনিয়নের পানচাষী আকবর মৃধা বলেন, “বরজ তৈরির বাঁশ, দড়ি, শ্রমিক মজুরি, সার ও কীটনাশকসহ সব খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে। অথচ প্রতি পোন পানের দাম এখন মাত্র ৩০ থেকে ৪০ টাকা। কয়েক মাস আগে একই পরিমাণ পানের দাম ছিল ১২০-১৫০ টাকা। এতে আমরা শুধু ক্ষতির মধ্যে পড়ছি।”

অন্য চাষীরা জানান, বরজে সারা বছর বিনিয়োগ করতে হয়। এই দর থাকলে ঋণ শোধ করা তো দূরের কথা, জীবনধারণও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

বরিশাল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পীযুষ রায় বলেন, “চাষীদের প্রাপ্য মূল্য নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। বাজার পরিস্থিতি নিয়মিত নজরে রাখা হচ্ছে।”

বরিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বনিক জানান, “চাষীদের সহায়তা এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে কৃষি বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে বিষয়টি দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হবে।”

চাষীরা আশা করছেন, দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে বাজার স্থিতিশীল করা হলে তারা ক্ষতির ঝুঁকি কমাতে পারবেন এবং বরিশালের পানচাষ পুনরায় লাভজনক হয়ে উঠবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশাল-৫ আসনে প্রার্থী ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৫ (সদর) আসনে প্রার্থী হয়েছেন বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) নেত্রী ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী। তিনি বাসদের বরিশাল জেলা কমিটির সদস্য সচিব এবং ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও থ্রি হুইলারের বৈধতা চেয়ে গড়ে ওঠা সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে খ্যাত। স্থানীয়ভাবে তাকে ‘টেসলা নেত্রী’ হিসাবেই বেশি চিনে থাকেন।

২০১৮ সালে বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন ডা. মনীষা। তবে বরিশালে তার আন্দোলনের মূল ক্ষেত্র ছিল ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশা চালকদের অধিকার রক্ষা। সে সময় অবৈধ এসব যানবাহনের বৈধকরণ নিয়ে সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর সঙ্গে তার অবস্থান মুখোমুখি ছিল। পরবর্তীতে তিনি থ্রি হুইলার চালকদের বিভিন্ন আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং বরিশালের সমসাময়িক বিষয়েও সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ছিলেন।

সংসদ-সদস্য প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে আলাপকালে ডা. মনীষা বলেন, “আমি ও আমার পরিবার সবসময় সাধারণ মানুষের কল্যাণে আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছি। নির্বাচিত হলে বরিশালের উন্নয়নের জন্য কাজ করব।”

বরিশাল সদর পাঁচ আসনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিএনপির মজিবর রহমান সরোয়ার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুফতি ফয়জুল করিম, জামায়াতে ইসলামীর মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল এবং এনসিপির লিপু প্রার্থী হয়েছেন। বরিশাল সদর উপজেলার দশটি ইউনিয়ন ও সিটি শহরের মোট ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৬৭৯ জন ভোটার এই আসনে ভোট দেবেন।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, বামধারার ভোটার ও টেসলা চালকদের সমর্থন ডা. মনীষার জন্য উল্লেখযোগ্য সুবিধা হতে পারে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




মেঘনায় জেলের জালে ২ কেজি ৭৫ গ্রামের রাজা ইলিশ, নিলামে বিক্রি

ভোলার মেঘনা নদীতে জেলের জালে ধরা পড়েছে একটি বড় রাজা ইলিশ। মাছটির ওজন ২ কেজি ৭৫ গ্রাম এবং এটি নিলামে ৮ হাজার দুইশত টাকায় বিক্রি হয়েছে।

বুধবার (২৬ নভেম্বর) সকালে তুলাতলি মৎস্যঘাটে আড়তে মাছটি বিক্রি করা হয়। ভোলা সদর উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের জেলে মো. মনিরুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা মেঘনার তুলাতলি ও মদনপুরের মাঝামাঝি নদীতে মাছটি শিকার করেন। স্থানীয় জেলেরা বড় ইলিশকে ‘রাজা ইলিশ’ নামে সম্বোধন করেন।

তুলাতলি ঘাটের আড়তদার ইউনুছ ব্যাপারী জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জেলেরা মাছটি আড়তে নিয়ে আসেন। পরে আড়তদার, মৎস্য ব্যবসায়ী ও খুচরা ক্রেতাদের উপস্থিতিতে নিলামে মাছটি বিক্রি করা হয়। সর্বোচ্চ ৮ হাজার ২০০ টাকায় এটি ক্রয় করেন আড়তদার মো. জসিম উদ্দিন ব্যাপারী।

জসিম ব্যাপারী বলেন, বড় আকারের ইলিশের চাহিদা বরিশাল ও ঢাকার পাইকারি আড়তে অনেক বেশি। তাই তিনি এই মাছটির জন্য বেশি দাম দিয়ে ক্রয় করেছেন। বরিশাল বা ঢাকার পাইকারি বাজারে এটি ৯ থেকে সাড়ে ৯ হাজার টাকায় বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন জানান, প্রতিবছর ইলিশের প্রজনন মৌসুম সফল হওয়ায় নদীতে বড় সাইজের ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। ইলিশ সারাবছর সাগর থেকে নদীতে ডিম ছাড়ার জন্য আসে, তবে সবচেয়ে বেশি ডিম ছাড়ে অক্টোবর থেকে নভেম্বর মাসে। মাছটি সাগর থেকে ডিম ছাড়ার জন্য নদীতে উঠে এসেছে এবং জেলের জালে ধরা পড়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশালে একসঙ্গে জন্ম নেওয়া পাঁচ নবজাতক অসুস্থ, শেবাচিমে ভর্তি

বরিশালে একসঙ্গে জন্ম নেওয়া পাঁচ নবজাতক ঠাণ্ডাজনিত অসুস্থতায় আক্রান্ত হয়ে শেরেবাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

গত কয়েকদিন ধরে শিশুরা ধাপে ধাপে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিবার জানায়, তারা চিকিৎসা খরচ মেটাতে পারছেন না। বাবা মুদি দোকানি সোহেল হাওলাদার ও মা লামিয়া আক্তার পাঁচ বছরের বিবাহিত জীবনে জন্ম নেওয়া এই পাঁচ সন্তানের যত্নে হিমশিম খাচ্ছেন। প্রতিদিন কমপক্ষে ২ হাজার টাকা খরচ হয় শিশুদের খাবার, দুধ ও ডায়াপারের জন্য। শীতকালে পর্যাপ্ত উষ্ণ কাপড়ের অভাবে শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, ৬ অক্টোবর বরিশাল নগরের হেমায়েত উদ্দিন ডায়াবেটিকস হাসপাতালে অস্ত্রোপচার ছাড়াই একসাথে তিন পুত্র ও দুই কন্যা জন্ম দেন লামিয়া আক্তার। তাদের নাম রাখা হয়েছে হাসান, হোসাইন, মোয়াছিন, হাবিবা ও উমামা। জন্মের পর থেকে শিশুরা স্বাভাবিকভাবে সুস্থ ছিল, তবে শীতকালের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে অসুস্থতা দেখা দেয়।

শেবাচিম হাসপাতালের শিশু বিভাগে মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) বরিশাল জেলা সমাজসেবা অফিসের উপ-পরিচালক একেএম আখতারুজ্জামান তালুকদার ও সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ পারভেজ শিশুরা চিকিৎসা পাচ্ছে কি না তা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। তারা হাসপাতালের সহযোগিতায় বিনামূল্যে ওষুধ এবং ১৫ দিনের জন্য দুধের ব্যবস্থা করেন।

উল্লেখ্য, শিশুরা জন্মের সময়ই ইভেন্ট ৮৪-এর উদ্যোগে একটি গাভিসহ অন্যান্য সহায়তা পায়। কিন্তু ক্রমবর্ধমান চিকিৎসা ও দৈনন্দিন খরচ মেটাতে পরিবার আজও সমন্বিত সহায়তার প্রত্যাশী।

একেএম আখতারুজ্জামান তালুকদার বলেন, “শিশুদের চিকিৎসার জন্য আমরা সহায়তা করেছি। তবে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশালে নার্সদের আট দফা দাবিতে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি

বরিশালে আট দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন নার্স ও মিডওয়াইফরা। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) দুপুরে শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনের সামনে বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন (বিএনএ) বরিশাল জেলা শাখার ব্যানারে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

নার্সদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—স্বতন্ত্র নার্সিং অধিদপ্তর বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার, ভিন্ন অধিদপ্তরের অধীনস্থ না রেখে স্বতন্ত্র নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর বজায় রাখা, জাতীয় নার্সিং কমিশন গঠন, পেশাগত মর্যাদা রক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, কাঠামোগত সংস্কার এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নার্সরা কালো ব্যাজ ধারণ করেন এবং ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে হাসপাতাল ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন। বক্তারা বলেন, দেশের স্বাস্থ্যসেবার মূল ভরসা নার্সিং খাত আজ অবহেলিত। স্বতন্ত্র অধিদপ্তর বাতিলের সিদ্ধান্ত নার্সিং পেশার সম্মান, ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই কোনোভাবেই এ সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া হবে না।

বিএনএ বরিশাল জেলা শাখার সভাপতি আলী আজগর, সহ-সভাপতি মো. শাহআলম, সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম তালুকদার, কোষাধ্যক্ষ শামীমা ইয়াসমিন, আনোয়ারা খানম, হাফিজা আক্তারসহ সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন।

বরিশাল নার্সিং কলেজ, শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নার্স ও মিডওয়াইফরা কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫