দক্ষিণাঞ্চলের নদনদীতে নাব্য সংকট চরমে, বাড়ছে ঝুঁকি ও ভোগান্তি

শীতের শুরুতেই দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান নদনদীগুলোতে নাব্য সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। পানি কমে যাওয়ায় একের পর এক জেগে উঠছে ডুবোচর, ব্যাহত হচ্ছে ঢাকা-বরিশালসহ অভ্যন্তরীণ নৌরুটের স্বাভাবিক চলাচল। এর ফলে বড় যাত্রীবাহী লঞ্চ থেকে শুরু করে ছোট নৌযান পর্যন্ত পড়ছে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে, বাড়ছে ভোগান্তি ও দুর্ঘটনার আশঙ্কা।

ঢাকা-বরিশাল রুটের লঞ্চ মাস্টাররা জানান, স্বাভাবিকভাবে একটি বড় লঞ্চ চলাচলের জন্য নদীতে অন্তত ৩ মিটার গভীরতা প্রয়োজন। কিন্তু বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ, হিজলা, কালীগঞ্জ থেকে শুরু করে চাঁদপুর-পটুয়াখালী রুটের বহু স্থানে ভাটার সময় পানি নেমে আসছে মাত্র দেড় মিটার বা তারও কমে। এতে প্রায় প্রতিদিনই লঞ্চসহ যাত্রীবাহী নৌযান নদীর তলদেশে আটকে যাচ্ছে।

এমভি শুভরাজের মাস্টার বেলাল জানান, “গত রাতেও বামনীর চর এলাকায় লঞ্চ ডুবোচরে আটকে গিয়েছিল। যাত্রী নিয়ে চলাচল করাটাই এখন চরম ঝুঁকির।”

বরিশালের অভ্যন্তরীণ নৌরুটেও নাব্য সংকট দিন দিন প্রকট হচ্ছে। বাহেরচর ও ভাসানচর রুট এ বছরই বন্ধ হয়েছে। এর আগে নাব্য সংকট ও নৌপথের অবনতি কারণে গলাচিপা, বরগুনা, পাথরঘাটা, লালমোহন, চরদুয়ানী, বোরহানউদ্দিনসহ অন্তত ১২টির বেশি রুট থেকে এমএল সাইজের লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে হাতে গোনা কয়েকটি রুটেই ছোট লঞ্চ চলাচল অব্যাহত আছে, তবে তাও ঝুঁকিপূর্ণ।

অভিজ্ঞ যাত্রী আবদুল জব্বার জানান, “আগে বরিশাল থেকে দুই শতাধিক লঞ্চ চলত। এখন মাত্র ৩০-৩৫টা দেখা যায়। নদী শুকিয়ে যাচ্ছে, আর নৌভ্রমণও দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে।”

রাতের লঞ্চযাত্রায় ধাক্কা, থেমে যাওয়া এবং অনিশ্চয়তার ভোগান্তি এখন নিয়মিত অভিযোগ। ঢাকাগামী যাত্রী সুমন হাওলাদার বলেন, “ঘুমের মধ্যে ধাক্কা লেগে জেগে উঠলাম। দেখি লঞ্চ চরে আটকে আছে। আধা ঘণ্টা আটকে থেকে আবার চলতে পারি। প্রতিদিনই এমন হয়।”

পরিবেশ ও জনসুরক্ষা ফোরামের আহ্বায়ক শুভংকর চক্রবর্তী বলেন, “নদীর তলদেশে অনিয়ন্ত্রিত বালি জমা, অস্বাভাবিক ড্রেজিং এবং সঠিক নৌপথ ব্যবস্থাপনা না থাকায় এমন সংকট তৈরি হয়েছে। দ্রুত ও পরিকল্পিত ড্রেজিং না করলে দক্ষিণাঞ্চলের নৌপথ অচল হয়ে যাবে।”

বিআইডব্লিউটিএ বরিশাল অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মামুন উর রশিদ জানান, “ঢাকা-বরিশালসহ পটুয়াখালী রুটের বেশকিছু পয়েন্টে নাব্য সংকট দেখা দিয়েছে। এসব স্থানে জরুরি ড্রেজিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে আরও ড্রেজিং করা হবে।”

স্থানীয়রা আশা করছেন, পরিকল্পিত নদী ব্যবস্থাপনা না হলে প্রতি বছরই এ সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।




বরিশালে সেতুর নামকরণ নিয়ে উত্তেজনা, ভাঙচুরে পণ্ড উদ্বোধনী অনুষ্ঠান

বরিশালের গৌরনদী-মুলাদী উপজেলার সংযোগস্থলে আড়িয়াল খাঁ নদীর ওপর নির্মিত নতুন সেতুর নাম পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া উত্তেজনায় পণ্ড হয়ে গেছে নির্ধারিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। নামসংক্রান্ত বিরোধ ও স্থানীয়দের ক্ষোভের জেরে অনুষ্ঠানস্থলে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।

শনিবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুরে মুলাদী উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের কাচিরচর এলাকায় স্থাপিত উদ্বোধনী প্যান্ডেলে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। নির্ধারিত ঘোষণায় সেতুটি অনলাইনে উদ্বোধন করার কথা ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা যুক্ত হওয়ার আগেই উত্তেজিত জনতা প্যান্ডেলে প্রবেশ করে ভাঙচুর শুরু করে। স্থানীয়দের দাবি, এলজিইডির অধীনে নির্মিত ৬১৯ মিটার দীর্ঘ সেতুটির নাম আগে ‘সৌহার্দ্য সেতু’ হিসেবে প্রচারিত ছিল। তবে স্থানীয়দের না জানিয়ে তা পরিবর্তন করে ‘৩৬ জুলাই সেতু’ নামকরণ করা হয়।

নাম পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্তে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকে। এ ছাড়া সেতুর নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব এমদাদুল হক মজনুকে অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে অন্তর্ভুক্ত না করাও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার কারণ হয়েছে বলে জানান এলাকাবাসী।

মুলাদী থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, উত্তেজিত জনতার হামলার কারণে আয়োজকদের অনুষ্ঠান বন্ধ করতে হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. গোলাম সরওয়ার জানান, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় নাম পরিবর্তন করা হলেও স্থানীয়দের আপত্তির কথা আগেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল। এর আগেই হামলার ঘটনা ঘটে যাওয়ায় উদ্বোধন আর সম্ভব হয়নি।

এলাকাবাসীর দাবি, সেতুর নামকরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে স্থানীয়দের মতামত নেওয়া উচিত ছিল। বিষয়টি সমাধানের জন্য প্রশাসনিকভাবে সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি উঠেছে।




গুরুত্বপূর্ণ দুটি আসনে কারা হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে  চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১৪টিতে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। তবে এখন পর্যন্ত দুটি আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে পারেনি দলটি। এই দুটি আসন হলো বন্দর-পতেঙ্গা ও চন্দনাইশ

২০০৮ সালের নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনটি গঠিত হয়েছে। এর আগে এলাকাটি অন্য আসনের সঙ্গে যুক্ত ছিল। আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী কে হচ্ছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে ব্যবসায়ীদেরও। কারণ, দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর, চট্টগ্রাম কাস্টমস, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, পেট্রোলিয়াম করপোরেশনসহ আমদানি-রপ্তানিসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এলাকাটিতে অবস্থিত।

ফাঁকা এই দুই আসনে কারা প্রার্থী হতে পারেন, তা নিয়ে দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে চলছে নানামুখী আলাপ-আলোচনা।

চট্টগ্রাম১১ (বন্দরপতেঙ্গা)

বিএনপি প্রার্থী ঘোষণা না করলেও এই আসনে জনসংযোগ করছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ছেলে ও বিএনপির আন্তর্জাতিক–বিষয়ক উপকমিটির সদস্য ইসরাফিল খসরু চৌধুরী। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ‘এক পরিবার থেকে এক প্রার্থী’ ঘোষণা দেওয়ায় ইসরাফিল খসরুর ভাগ্যে দলীয় মনোনয়ন জুটবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে।

১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত পরপর চারবার এই এলাকা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বাবার গোছানো আসনে দলীয় প্রতীক নিয়ে তাই প্রার্থী হতে ইচ্ছুক ইসরাফিল খসরু। জানতে চাইলে ইসরাফিল খসরু প্রথম আলোকে বলেন, ‘১২ বছর ধরে এলাকায় কাজ করছি। বাকিটা দলের নীতিনির্ধারকদের বিষয়।’

চট্টগ্রাম১৪ (চন্দনাইশ সাতকানিয়া আংশিক)

এই আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টায় রয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন, ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক বিচারপতি আবদুস সালাম মামুন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনাবিষয়ক সম্পাদক মহসিন জিল্লুর করিম, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মিজানুল হক চৌধুরী ও চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি নাজিম উদ্দিন চৌধুরী। তাঁরা সবাই এলাকায় নিয়মিত জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীদের দাবি, আসনটি দলের কাউকে দেওয়া হোক। কিন্তু জোটের জন্য দলের নীতিনির্ধারকেরা আসনটি ফাঁকা রেখেছেন বলে জানা গেছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির সঙ্গে জোট হলে চট্টগ্রাম-১৪ আসনটি এলডিপির জন্য ছেড়ে দেওয়া হতে পারে। সে ক্ষেত্রে এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ অথবা তাঁর ছেলে ওমর ফারুক নির্বাচন করবেন। ওমর ফারুক এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এলডিপির সঙ্গে বিএনপির কথাবার্তা চলছে। শেষ পর্যন্ত কী হয়, দেখা যাক।’ এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘বাবা (অলি আহমদ) আর নির্বাচন করবেন না ঠিক করেছেন, তবে এলাকার লোকজন চাইছেন তিনি নির্বাচন করুক। এ অবস্থায় কী হয়, সেটি এখনো ঠিক বলা যাচ্ছে না।’

দুটি আসন ফাঁকা রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান বলেন, ‘জোটের কারণে দলের নীতিনির্ধারকেরা একটু সময় নিচ্ছেন।’

 




নোয়াখালীতে দুর্বৃত্তদের আগুনে পুড়লো বিআরটিসির দুইবাস

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : নোয়াখালীর সোনাপুরে বিআরটিসি ডিপোতে রাখা দুটি বিআরটিসি যাত্রীবাহী বাস গভীর রাতে দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) রাত আড়াইটার দিকে ডিপোর ভেতরে এ অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা মতে রাত প্রায় ২টা ৩০ মিনিটে ডিপো এলাকায় আগুনের শিখা দেখতে পেয়ে তারা ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। খবর পেয়ে মাইজদী ফায়ার স্টেশনের দুইটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ১০ মিনিটের মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে বাসগুলোর বডিতে ফোম থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রুটে চলাচলকারী ‘গুলবাহার’ ও ‘মালতি’ নামের দুটি বাস পুরোপুরি ভস্মীভূত হয়। আরেকটি বাস আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিআরটিসি সোনাপুর ডিপোর ম্যানেজার মো. আরিফুর রহমান তুষার জানান, খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তার দাবি, এটি স্পষ্ট নাশকতার ঘটনা।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সহকর্মী ও এলাকাবাসীরা সবসময় সহযোগিতাপূর্ণ ছিলেন। রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ও কোনো সমস্যা হয়নি। তাই এটি সাধারণ মানুষের কাজ নয় পরিকল্পিত অপকর্ম।




আবারো রাজধানীতে ভূমিকম্পের আঘাত উৎপত্তি স্থল নরসিংদী

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :  ভুমিকম্প আতংক যেন কাটছেনা । দেশে একের পর এক আঘাত হানছে ভুমিকম্প ।রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায় আবারও ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা ১৪ মিনিটে এ কম্পন অনুভূত হয়।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর বলেছে, ভূমিকম্পটি হালকা মাত্রার ছিল। সকাল ৬টা ১৪ মিনিট ৪৫ সেকেন্ডে ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। এর উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর শিবপুরে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ১।

রাজধানী ঢাকার আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র থেকে ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থলের দূরত্ব ছিল ৩৮ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে।

ইউরো-মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল গাজীপুরের টঙ্গী থেকে ৩৩ কিলোমিটার পূর্ব-উত্তরপূর্বে আর নরসিংদী থেকে ৩ কিলোমিটার উত্তরে। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল ৩০ কিলোমিটার।

এর আগে সর্বশেষ সোমবার (১ ডিসেম্বর) মধ্যরাত ১২টা ৫৫ মিনিট ১৬ সেকেন্ডে ভূমিকম্প হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৯। মিয়ানমারের মিনজিনে ছিল এর কেন্দ্রস্থল। চট্টগ্রামসহ দেশের কিছু অংশে এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

তার আগে গত বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) রাজধানী ঢাকায় ভূমিকম্প হয়। ওই দিন বিকেল ৪টা ১৫ মিনিট ২০ সেকেন্ডে এ ভূমিকম্প হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৬। এর উৎপত্তিস্থল নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশালে। ওই দিন ভোরের দিকে সিলেটে এবং কক্সবাজারের টেকনাফে দুই দফা ভূকম্পন অনুভূত হয়।

তবে এর আগে ২১ নভেম্বর, শুক্রবার এবং পরদিন শনিবার প্রায় ৩১ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা ও এর আশপাশে চারবার ভূমিকম্প হয়। এর মধ্যে শুক্রবার সকালে ঢাকা থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পটির উৎস ছিল নরসিংদীর মাধবদী। উৎপত্তিস্থলের গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে। ২১ নভেম্বরের ভূমিকম্পে দেশে ১০ জন নিহত হন। আহত হন ছয় শতাধিক মানুষ।

বেশির ভাগ ভূমিকম্পেরই উৎপত্তিস্থল নরসিংদী।

 




বরিশালে প্রেমিক যুগলকে জিম্মি করে চাঁদা আদায়, পুলিশ দুইকে আটক

বরিশালে ঘুরতে আসা এক প্রেমিক যুগলকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে জিম্মি করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ মঙ্গলবার রাতে দুই যুবককে আটক করেছে। ঘটনা ঘটেছে বরিশাল নগরীর নবগ্রাম রোড চৌমাথা লেকের পাড় এলাকায়।

আটককৃতরা হলেন, বরিশাল নগরীর আমানতগঞ্জ এলাকার মো. হাসিবুর রহমান (২৭) এবং পার্শ্ববর্তী বেলতলা এলাকার সায়েম সিকদার (২৬)।

ভুক্তভোগী যুগল জানান, বিকেলে তারা চৌমাথা লেকের পাড়ে খাবার খাচ্ছিলেন। তখন কয়েকজন সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে তাদের ছবি তোলে। পরে নিউজ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে ১১ হাজার টাকা আদায় করা হয়। অতিরিক্ত টাকা দাবি করলে তারা থানায় অভিযোগ করেন। পুলিশ এসে দুজনকে আটক করলেও বাকি তিনজন পালিয়ে যায়।

বরিশাল মেট্রোপলিটনের কোতয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “চাঁদাবাজির ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৩ জনকে নামধারী এবং ৩ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে ভুক্তভোগীরা লিখিত এজাহার দিয়েছেন। বাকি অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




বরগুনায় যত্রতত্র পেট্রোল বিক্রি, জননিরাপত্তা ঝুঁকিতে

বরগুনা জেলায় রাস্তার পাশে অবাধে পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি সাধারণ মানুষের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। চলতি মাসের ১১ নভেম্বর সরকার পেট্রোল বিক্রির উপর প্রজ্ঞাপন জারি করলেও জেলা সদর ও উপজেলাগুলোর প্রায় ৪ শতাধিক দোকানে তা কার্যকর হচ্ছে না।

স্থানীয়রা জানান, রাস্তার ধারে, বাসস্ট্যান্ড, ফেরিঘাট ও জনবহুল বাজারে পানির বোতল, ভোজ্যতেলের বোতল, প্লাস্টিকের গ্যালন বা রাসায়নিক পাত্রে দাহ্য জ্বালানি রাখা হয়। ফায়ার সার্ভিসের নিরাপত্তা নির্দেশনা স্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করা হচ্ছে।

সদর উপজেলার বিপুল চন্দ্র, আমতলী উপজেলার পারভেজ হোসেন ও তালতলী উপজেলার শাহীন সাইরাজ জানান, প্রশাসনের কর্মকর্তারা প্রতিদিন এসব দোকানের পাশ দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু প্রজ্ঞাপন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

স্থানীয়রা আরও জানান, জুলাই মাসে স্মৃতি স্তম্ভে অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন সড়ক ও ফেরিঘাটে দাহ্য জ্বালানি ব্যবহার করে নাশকতার ঘটনা ঘটেছে। এতে জেলার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে বিপন্ন।

রাস্তার পাশে থাকা একাধিক পেট্রোল বিক্রেতা স্বীকার করেছেন, তারা প্রজ্ঞাপনের বিষয়ে জানেন, কিন্তু ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে বিক্রি বন্ধ করতে পারছেন না। তালতলী উপজেলার ব্রিজঘাট এলাকার হারুন ফরাজি জানান, মাঝে মাঝে প্রশাসন কিছুটা তৎপর হলেও কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেই।

বরগুনার শিক্ষক, আইনজীবী ও সচেতন নাগরিকরা বলেন, প্রশাসনের কার্যক্রমের অভাবের কারণে অনুমোদনবিহীন দোকানগুলোতে পেট্রোল বিক্রি চলতে থাকলে বড় ধরনের অগ্নি দুর্ঘটনা বা নাশকতা ঘটতে পারে।

বরগুনার নবাগত জেলা প্রশাসক তাছলিমা আক্তার জানিয়েছেন, প্রজ্ঞাপন বাস্তবায়নের বিষয়ে শনিবার সন্ধ্যা ও রোববার সমন্বয় সভায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে। পাশাপাশি রাস্তার পাশে পেট্রোল ও অকটেন বিক্রেতাদের নিরুৎসাহিত করার কার্যক্রম শুরু হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




কুয়াকাটায় অবৈধ হাঙর শিকারের অদৃশ্য অর্থনীতি

পটুয়াখালীর কুয়াকাটার লেম্বুর চরে অবৈধ হাঙর শিকার ও শুঁটকি তৈরির চিত্র নজরে এসেছে। স্থানীয়রা জানান, ভোরের আলো ফোটার আগেই ছোট ট্রলারে ধরা হাঙরগুলো লেম্বুরচরের বাঁশের মাচায় শুকানো হয়। নিষিদ্ধ হাঙরগুলোকে ‘গোছা’ নামে পরিচিত করে চট্টগ্রামে পাইকারদের কাছে পাঠানো হয়।

জেলেরা শিকারকৃত হাঙর ধরার বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলেন না। একজন জেলে বলেন, “সাগর যা দেয়, তাই তো আনতে হয়। না আনলে পরিবার চলবে কেমনে।” ধরা হাঙরের পাখনা, পেট ইত্যাদি ছুরি দিয়ে আলাদা করে মাচায় রাখা হয়, শুঁটকি প্রস্তুতির জন্য।

স্থানীয় শুঁটকি ব্যবসায়ীরা জানান, লেম্বুরচরের বিভিন্ন মাচায় দিনে হাজারের বেশি হাঙর শুকানো হয়। চারজন শ্রমিক পলিথিনে ভরে পাইকারদের কাছে পাঠান। এছাড়া ‘কালো হাঙর’ নামের হাঙরও রাখা হয় চট্টগ্রামে বিক্রির জন্য।

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী হাঙর ধরা নিষিদ্ধ। ২০১২ সালে ১৮ প্রজাতি, পরে ২০২১ সালে আরও ১০ প্রজাতি এই তালিকাভুক্ত হয়েছে। তবে উচ্চ চাহিদার কারণে অবৈধ বাণিজ্য চলমান। বড় বাজার চট্টগ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চল, পাশাপাশি বিদেশেও এর চাহিদা রয়েছে।

গবেষকরা সতর্ক করেছেন, কিছু হাঙর প্রজাতি বছরে ৭-১৫টি বাচ্চা দেয় এবং প্রাপ্তবয়স্ক হতে ৩-৪ বছর লাগে। অতিরিক্ত শিকারে প্রজাতি টিকে থাকা কঠিন। আন্তর্জাতিক সংস্থা আইইউসিএন অনুযায়ী, বাংলাদেশের উপকূলে হাঙরের সংখ্যা দ্রুত কমছে।

বরিশাল বিভাগীয় বন্যপ্রাণী কর্মকর্তা মিহির কুমার দো জানান, জেলেদের সচেতন করা হচ্ছে। তবে বাণিজ্যিক চাহিদা থাকায় শিকার ঠেকানো কঠিন। বনবিভাগ, কোস্টগার্ড, কাস্টমস ও মৎস্য বিভাগ মিলিয়ে ‘ইন্টিগ্রেটেড মেরিন ওয়াইল্ড লাইফ ক্রাইম টাস্কফোর্স’ গঠন এবং বিকল্প জীবিকা—যেমন কাঁকড়া চাষ ও ইকো ট্যুরিজম—প্রয়োজন।

কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসীন সাদেক জানিয়েছেন, তিনি নিজে লেম্বুরচরে গিয়ে হাঙর শিকারের বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




বিলীন হবার পথে বরগুনার টেংরাগিরি বন

বরগুনার টেংরাগিরি সংরক্ষিত বন উপকূলীয় ভাঙন ও উত্তাল ঢেউয়ের কারণে বিলুপ্তির পথে। কয়েক বছরের ধারাবাহিক ক্ষয়ে বঙ্গোপসাগরে প্রায় দুই হাজার একর বনভূমি নষ্ট হয়ে গেছে। পাশাপাশি, শত শত কোটি টাকার বনসম্পদও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, কার্যকর ভাঙনরোধের পদক্ষেপ না নিলে বনের অস্তিত্ব হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। পাকিস্তান সরকারের ১৯৬০ সালের ঘোষণায় টেংরাগিরি বন সংরক্ষিত বন হিসেবে ঘোষণা করা হয়। স্থানীয়ভাবে ‘ফাতরার বন’ নামে পরিচিত এই বনটির আয়তন ১৩,৬৪৭ একর।

বনের পূর্বদিকে কুয়াকাটা, মহিপুর ও আন্দারমানিক নদী; পশ্চিমে লালদিয়া, কুমিরমারাচর, পায়রা ও বিষখালী নদীর মোহনা; উত্তরে সোনাকাটা, নিশানবাড়িয়া ও সখিনা খাল; এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর অবস্থিত। স্বাসমূলীয় গাছের আধিক্যের কারণে এটি পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢেউয়ের তীব্র আঘাতে গাছ উপড়ে পড়ে গেছে। বনের ভিতরে প্রায় ৫০০ মিটার এলাকায় গাছের গোড়ার মাটি সরে গেছে। স্থানীয়দের দাবি, বছরজুড়ে কোটি টাকার বনসম্পদ সাগরে ভেসে যাচ্ছে। বনদস্যুদের অবৈধ চক্রও গাছ কেটে পাচার করছে।

২০০৭ সালের সিডর এবং ২০০৯ সালের আইলার ঘূর্ণিঝড়ে বন ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ধুন্দল, কেওড়া, গেওয়া, হেতাল ও রেন্ট্রি প্রজাতির গাছ নষ্ট হয়েছে। পটুয়াখালী বিভাগীয় সহকারী বন সংরক্ষক মো. আমির হোসেন জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত গাছগুলো বনের ভিতরে রাখা হচ্ছে। তবে অসাধু ব্যক্তিদের বন উজাড়ের বিষয়ে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বনের পুনর্গঠনের জন্য ঝাউসহ অন্যান্য প্রজাতির গাছ লাগানোর পরিকল্পনা চলছে। তবে পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনীতির উপর ইতিমধ্যে বিরূপ প্রভাব পড়েছে।

পরিবেশকর্মীরা সতর্ক করে বলেন, বনের বিলীন হওয়া উপকূলীয় এলাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। বিশেষজ্ঞরা টেংরাগিরি বনকে রক্ষা করতে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের জরুরি প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেছেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




“দেশের মানুষ নতুন শাড়িতে পুরোনো বউ দেখতে চায় না”: চরমোনাই পীর

বরিশালের চরমোনাই মসজিদে অনুষ্ঠিত মাহফিলের দ্বিতীয় দিনে ইসলামী আন্দোলনের আমির চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, দেশ পরিচালনার দায়িত্বে যারা অতীতে দুর্নীতির রেকর্ড রেখেছে, তারা আবারও ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করছে। তবে বাংলাদেশের মানুষ “নতুন শাড়িতে পুরোনো বউ” দেখতে চায় না। তাই আগামী নির্বাচনে পরিবর্তন আসা অনিবার্য।

তিনি আরও বলেন, “আমি কোনো নির্বাচনে প্রার্থী হইনি, মন্ত্রী হওয়ার সুযোগও নেই। তারপরও আমাদের লক্ষ্য দেশকে উন্নতির পথে নিয়ে যাওয়া। ৫৪ বছর পর সুযোগ এসেছে, যদি আমরা তা কাজে লাগাতে না পারি, আগামী প্রজন্ম আমাদের ধিক্কার দেবে।”

মাহফিলে ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আ. ফ. ম. খালিদ হোসাইন বলেন, চরমোনাই পীরের আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ঐকান্তিক উদ্যোগে উপদেষ্টা পরিষদের দায়িত্ব পালন সম্ভব হয়েছে। তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “বাংলাদেশে কেউ ইসলাম অবমাননা করলে আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ ব্যক্তিগতভাবে আইন হাতে তুলে নেবেন না। আমাদের দেশে ধর্মের প্রতি অবমাননা কেউ করতে পারবে না।”

সমাবেশে ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানি, মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদ, যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, অধ্যক্ষ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, মাওলানা ইমতেয়াজ আলম, সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমদ আব্দুল কাইয়ুম ও কেএম আতিকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫