ববি ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে বিতর্ক, ‘ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টদের অন্তর্ভুক্তি’ অভিযোগ

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) শাখা ছাত্রদলের নবঘোষিত পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘিরে সংগঠনটির অভ্যন্তরে তীব্র ক্ষোভ, অসন্তোষ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদে ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ত্যাগী ও দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয় নেতাকর্মীরা।

শুক্রবার কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ১২৭ সদস্যবিশিষ্ট এই পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। কমিটি ঘোষণার পরপরই সহ-সভাপতি, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে বিতর্কিত অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি সামনে আসে। বিষয়টি দ্রুতই সংগঠনের ভেতরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, নতুন এই কমিটিতে অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাদের অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন ছবি, ভিডিও ও তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ে সংগঠনের ভেতরে সমালোচনা আরও জোরালো হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতা জানান, দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে যুক্ত ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না করে অন্য সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের অন্তর্ভুক্তি তাদের জন্য হতাশাজনক। অনেকেই এ ঘটনাকে ‘ছাত্রলীগের পুনর্বাসন’ হিসেবে দেখছেন বলেও মন্তব্য করেন তারা।

অভিযোগে উল্লেখিতদের মধ্যে রয়েছেন সহ-সভাপতি মিঞা বাবুল, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. বিল্লাল হোসেন, মো. জিহাদুল ইসলাম, আরমান হোসেন, মো. ইমরান, আব্দুল্লাহ নুর কাফি, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ তাকভীর সিয়াম, প্রিতম দাস, বর্ণ বরন সরকার এবং গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক রবিন আহমেদ তানভীর।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসাইন শান্ত বলেন, কমিটিতে ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টদের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, কমিটি ঘোষণার ক্ষেত্রে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মতামত যথাযথভাবে নেওয়া হয়নি।

অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম-সম্পাদক তারেক হাসান বলেন, সাম্প্রতিক আন্দোলনে অবদান রাখা এবং বিতর্কমুক্ত এমন ব্যক্তিদেরই কমিটিতে রাখা হয়েছে, তারা আগে অন্য রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে পরামর্শ করেই কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে নতুন করে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই।

এদিকে ত্যাগী নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন না করা, সিনিয়র-জুনিয়র ভারসাম্য রক্ষা না করা এবং কমিটি প্রণয়নে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে—এমন অভিযোগও ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। সব মিলিয়ে ববি ছাত্রদলের এই নতুন কমিটি সংগঠনটির ভেতরে বিভাজন, আস্থার সংকট এবং সাংগঠনিক অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশাল জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা

দীর্ঘদিন পর বরিশাল জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। নতুন কমিটিতে দলের দুঃসময়ে রাজপথে সক্রিয় থাকা এবং জেল-জুলুম ও নির্যাতনের শিকার ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

শনিবার (২ মে) রাতে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাছির পৃথকভাবে এ কমিটির অনুমোদন দেন। কমিটি ঘোষণার পরপরই বরিশাল নগরীতে আনন্দ মিছিল বের করেন নেতাকর্মীরা।

বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন এনামুল হাসান তাসনিম। সদস্য সচিব করা হয়েছে মো. নাভিদ রহমান খান (তুষার)-কে। এছাড়া সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মাহমুদ হাসান তানজিল।

মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক পদে রয়েছেন আহাদ হোসাইন আবির, মাজহারুল ইসলাম মনিস, সজল তালুকদার, মো. খালেদ হোসেন বাবর, মো. হুমায়ুন কবির খান (ফেরদৌস), জহির রায়হান, মো. সাদ্দাম হোসেন, মো. সিহাব (ববি), আল আমিন হাসান ও মো. রাকিব তালুকদার।

অন্যদিকে বরিশাল জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক করা হয়েছে তৌফিকুল ইসলাম ইমরানকে। সদস্য সচিব হয়েছেন মো. আল আমীন মৃধা এবং সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পেয়েছেন আসিফ আল মামুন।

জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আব্দুল কাদের মোল্লা, মো. ইমরান আহমেদ (ইব্রাহিম), মো. জাহিদুল ইসলাম পিন্টু, জাহিদ সাকিন (ববি), মহসিন শিকদার, আরিফ হোসেন (ববি), মো. ইমতিয়াজ চৌধুরী, মো. রফিকুল ইসলাম (রফিক মৃধা) ও সৈয়দ মাহমুদ হাসান।

নবগঠিত মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক এনামুল হাসান তাসনিম বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় ছাত্রদলকে আরও সংগঠিত ও সক্রিয় করা হবে। পাশাপাশি সামাজিক ও শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডেও সংগঠনের সম্পৃক্ততা বাড়ানো হবে।

মহানগর ছাত্রদলের সদস্য সচিব নাভিদ রহমান খান তুষার বলেন, ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের মাধ্যমে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে ছাত্রদল আরও শক্তিশালী ভূমিকা পালন করবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তৌফিকুল ইসলাম ইমরান বলেন, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যে দায়িত্ব দিয়েছেন, তা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করা হবে। তৃণমূল নেতাকর্মীদের নিয়ে সংগঠনকে আরও গতিশীল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আহ্বায়ক, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের যৌথ স্বাক্ষরে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। একই সঙ্গে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, বরিশাল জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের আগের আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়েছিল ২০১১ সালে। পরে ২০১৮ সালে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। দীর্ঘ সময় পর নতুন নেতৃত্ব পাওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”




চার দফা দাবিতে বিক্ষোভে উত্তাল বিএম কলেজ

সেশন ফি কমানো, অতিরিক্ত অর্থ ফেরত ও ফি কাঠামোর স্বচ্ছতার দাবিতে বরিশালের সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। রোববার (৩ মে) বেলা ১১টার দিকে কলেজের প্রশাসনিক ভবনের সামনে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচি পালন করেন।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে নিয়ে প্রতিবাদ জানান। এ সময় তারা কলেজ প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ তুলে ধরেন।

শিক্ষার্থীদের দাবি, তাদের কাছ থেকে সেশন ফি বাবদ ২ হাজার ৬২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এর মধ্যে প্রায় ৭৮০ টাকার খরচের কোনো স্পষ্ট হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না। তারা অভিযোগ করেন, যেসব খাতে টাকা নেওয়া হচ্ছে, বাস্তবে সেসব সুবিধা শিক্ষার্থীরা পাচ্ছেন না।

বিক্ষোভকারীরা বলেন, কলেজ কর্তৃপক্ষকে সকল ফি’র স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশ করতে হবে এবং যেসব খাতে কোনো সেবা প্রদান করা হয়নি, সেসব খাতের অর্থ ফেরত দিতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীবান্ধব ফি কাঠামো প্রণয়ন ও সেশন ফি জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়ানোর দাবিও জানান তারা।

শিক্ষার্থীরা চার দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো—
১. সেশন ফি জমা দেওয়ার সময়সীমা বৃদ্ধি।
২. সেবাবিহীন খাতে আদায়কৃত অর্থ ফেরত।
৩. সকল ফি’র স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশ।
৪. শিক্ষার্থীবান্ধব ফি কাঠামো নিশ্চিত করা।

একই দাবিতে পৃথকভাবে সংহতি প্রকাশ করে সমাবেশ করেছে ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীরাও। তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো দ্রুত মেনে নিয়ে সমস্যার সমাধান করা উচিত।

এ বিষয়ে বিএম কলেজের অধ্যাপক ড. শেখ মো. তাজুল ইসলাম বলেন, কলেজে বছরে একবার সেশন ফি নেওয়া হয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত খাতেই ফি আদায় করা হয়। নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার সুযোগ নেই বলেও তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি পরিষ্কার করা হবে, যাতে তারা পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারে।

এদিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, দ্রুত তাদের দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”




 গৌরনদীতে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস পালিত

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে বরিশালের গৌরনদীতে র‍্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে গৌরনদী প্রেসক্লাব। দিবসটি ঘিরে সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও পেশাগত দায়িত্ব নিয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

রোববার (৩ মে) সকালে গৌরনদী প্রেসক্লাবের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। দিবসটি উপলক্ষে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণ থেকে বের হয়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

গৌরনদী প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সিনিয়র সাংবাদিক জহুরুল ইসলাম জহিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মো. গিয়াস উদ্দিন মিয়া এবং খন্দকার মনিরুজ্জামান মনির।

সভাপতির বক্তব্যে জহুরুল ইসলাম জহির বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা করা শুধু সাংবাদিক সমাজের একার দায়িত্ব নয়, এটি রাষ্ট্র ও সমাজেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তিনি বলেন, সত্য, ন্যায় ও বস্তুনিষ্ঠতার ভিত্তিতে সংবাদ পরিবেশনই একজন পেশাদার সাংবাদিকের প্রধান দায়িত্ব। বর্তমান সময়ে নানা প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জের মধ্যেও সাংবাদিকদের সাহসিকতা ও পেশাগত নৈতিকতা বজায় রেখে কাজ করে যেতে হবে।

সাবেক সভাপতি মো. গিয়াস উদ্দিন মিয়া সাম্প্রতিক সময়ে গৌরনদী প্রেসক্লাবের সভাপতি ও কয়েকজন সাংবাদিক সদস্যকে হত্যার হুমকি দেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, সাংবাদিকদের ভয়ভীতি দেখানো কিংবা হুমকি দেওয়া গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

খন্দকার মনিরুজ্জামান মনির বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় স্বাধীন গণমাধ্যম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাংবাদিকরা সত্য ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সমাজে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক খোকন আহমেদ হীরা, মো. হানিফ সরদার, উত্তম দাস, সহ-সভাপতি এম আলম, সাবেক সহ-সভাপতি এইচ এম নাসির উদ্দিন, কোষাধ্যক্ষ জামিল মাহমুদ, প্রচার সম্পাদক হাসান মাহমুদ, সদস্য মনীশ চন্দ্র বিশ্বাস, এইচ এম মোশাররফ, বদরুজ্জামান খান সবুজ, বিএম বেলাল, সোলায়মান তুহিন, মো. আনিচুর রহমান, আবু সাঈদ, পলাশ তালুকদার ও শামীম মীরসহ আরও অনেকে।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রেসক্লাব সদস্য মো. লিটন খান।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বানারীপাড়ায় জেলেকে হত্যা মামলায় স্ত্রী-ছেলে জেলহাজতে

বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার সৈয়দকাঠী ইউনিয়নের নলশ্রী গ্রামে জেলে হাবিবুর রহমান মোল্লা (৫০) হত্যা মামলায় তার স্ত্রী ও ছেলেকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (২ মে) সকালে গ্রেফতারকৃত স্ত্রী সেলিনা বেগম ও ছেলে সাগরকে বরিশাল আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে শুক্রবার (১ মে) নিহতের বাবা আ. মন্নাত মোল্লা বাদী হয়ে বানারীপাড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহের জেরে পরিকল্পিতভাবে মারধর ও নির্যাতন করে তার ছেলে হাবিবুর রহমানকে হত্যা করা হয়েছে। মামলায় নিহতের স্ত্রী সেলিনা বেগম ও ছেলে সাগরকে আসামি করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাতের কোনো এক সময় হাবিবুর রহমানকে বেদম মারধর ও নির্যাতন করা হয়। শুক্রবার সকালে তার মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে গ্রামজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

গ্রামবাসীদের দাবি, নিহতের নাক, মুখমণ্ডল, ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। খবর পেয়ে বানারীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে এবং নিহতের স্ত্রী ও ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। শুক্রবার দুপুরে বরিশাল জেলা সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) সৌমেন সরকারও থানায় গিয়ে ঘটনাটি পরিদর্শন করেন।

বানারীপাড়া থানার ওসি মজিবুর রহমান বলেন, “হাবিবুর রহমানের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। মামলার আসামি স্ত্রী ও ছেলেকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তাদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া চলছে।”




আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বিরোধপূর্ণ জমির ধান কাটার অভিযোগ

বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার বিশারকান্দি ইউনিয়নের উমারের পাড় গ্রামে আদালতের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিরোধপূর্ণ জমির পাকা ধান কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (২৯ এপ্রিল) ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে অভিযুক্ত মো. শহীদ ও তার সহযোগীরা বিরোধীয় জমিতে প্রবেশ করে পাকা ধান কেটে নিয়ে যান। বিষয়টি টের পেয়ে ভুক্তভোগী মো. ছালাম জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে বানারীপাড়া থানাকে অবহিত করেন।

থানা সূত্রে জানা যায়, অভিযোগ পাওয়ার পর ডিউটি অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শরিফুল ইসলাম লবণসাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) ফয়জুল আলম অভিযুক্তদের একজন মাসুদ রানার সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করে ধান কাটতে নিষেধ করেন।

তবে অভিযোগ রয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্দেশ উপেক্ষা করে অভিযুক্তরা পুনরায় ধান কেটে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যান।

জানা গেছে, বিরোধপূর্ণ ওই জমি নিয়ে বরিশাল বানারীপাড়া সিভিল জজ আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে। মামলার প্রেক্ষিতে বাদীপক্ষ দেওয়ানি কার্যবিধির ৩৯ আদেশের ১/২ বিধি ও ১৫১ ধারায় অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করলে আদালত বিবাদীপক্ষের বিরুদ্ধে শোকজসহ নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

মামলায় মো. ছালাম বাদী হয়ে মো. শহীদসহ মোট ৫৫ জনকে বিবাদী করেছেন। বিরোধীয় জমির পরিমাণ প্রায় ২ একর ৫৫ শতাংশ, যা উমারের পাড় মৌজার বিভিন্ন খতিয়ান ও দাগভুক্ত জমির অংশ বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী মো. ছালাম অভিযোগ করে বলেন, “বিবাদীরা দীর্ঘদিন ধরে আমাকে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে জমি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা করছে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও তারা জোরপূর্বক ধান কেটে নিয়ে গেছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।”

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। যেকোনো সময় অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




গণঅধিকারসহ বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের এনসিপিতে যোগদান

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-তে যোগ দিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রায় অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী। শনিবার (২ মে) দুপুর ১২টায় বরিশাল প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গণঅধিকার পরিষদ, যুব অধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগদান করেন।

অনুষ্ঠানে যোগদানকারী নেতাকর্মীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন এনসিপি বরিশাল জেলার আহ্বায়ক আবু সাঈদ মুসা। তিনি বলেন, “বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে আগ্রহ প্রকাশ করা শতাধিক নেতাকর্মী আজ জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য ফরম পূরণ করে আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। নতুন রাজনৈতিক ধারায় মানুষ আস্থা রাখছে।”

যোগদানকারীদের মধ্যে ছিলেন গণঅধিকার পরিষদের বাবুগঞ্জ উপজেলা সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুম হাওলাদার, উপজেলা যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম রিয়াদ, কেদারপুর ইউনিয়ন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান খান, উজিরপুরের আজমিয়া বিশ্বাস, বশির উদ্দিন ও আবু নোমান, গৌরনদীর তানজিল ইসলাম শুভ ও রবিন, মেহেন্দিগঞ্জের সুমন, মেজবাহ উদ্দিন, সাসুদ রানা, জাকারিয়া, শিফাত ও তারেক, মুলাদী-বাকেরগঞ্জের রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ, ছাত্রশক্তি বরিশাল সদরের তামিম, তাসিন ইসলাম আলভি, রাতুল, মৃদুল, গৌরনদীর জিদান ও শাওন সরদার, উজিরপুরের মিরাজুল ইসলামসহ বিভিন্ন উপজেলার নেতাকর্মীরা।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপি বরিশাল জেলার সদস্য সচিব আবু সাঈদ খান ফেরদৌস, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব আবেদ আহমেদ রনি, জাতীয় নারী শক্তির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক নাফিসা মুসতারি, সাংগঠনিক সম্পাদক আসিফ আলী ও ইমরান হোসেন, দপ্তর সম্পাদক নাজমুল হাসান, যুগ্ম সদস্য সচিব হারুনুর রশিদ সোহাগ, মহানগর সংগঠক মোহন হোসেন, নাদিম মাহমুদ, সবুজ হাওলাদারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, তরুণদের নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে জাতীয় নাগরিক পার্টি কাজ করছে। দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ শক্তিশালী করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




৬ অভয়াশ্রমে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা শেষ, নদীতে ফিরেছেন জেলেরা

বরিশালের ৬টি অভয়াশ্রম এলাকায় ইলিশসহ সব ধরনের মাছ আহরণে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) মধ্যরাতের পর নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় শুক্রবার সকাল থেকেই হাজার হাজার জেলে নৌকা ও ট্রলার নিয়ে নদ-নদীতে মাছ ধরতে নামেন। এতে দক্ষিণাঞ্চলের জেলে পল্লীগুলোতে আবারও কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।

মেঘনা, তেঁতুলিয়া, কালাবদর ও বলেশ্বর নদীসহ বিভিন্ন নদ-নদীতে জেলেদের ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা গেছে। দীর্ঘদিন পর মাছ ধরার সুযোগ পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন জেলেরা।

তবে মৎস্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত সারা দেশে জাটকা আহরণ, পরিবহন ও বিপণনের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি ও প্রজনন নিশ্চিত করতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রেখেছে।

এদিকে সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ রক্ষায় বঙ্গোপসাগরের ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা এখনো চলমান রয়েছে। গত ১৫ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এ নিষেধাজ্ঞা আগামী ১২ জুন পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ইলিশের নিরাপদ প্রজনন ও বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করতে দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর গুরুত্বপূর্ণ অংশকে অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- ষাটনল থেকে চর আলেকজান্ডার, মেঘনার শাহবাজপুর চ্যানেল, তেঁতুলিয়া নদী, নিম্ন পদ্মা ও কালাবদর-গজারিয়া-মেঘনা নদীর বিস্তীর্ণ এলাকা।

সরকারি তথ্যমতে, দেশের মোট ইলিশ উৎপাদনের প্রায় ৬৬ থেকে ৬৮ শতাংশ আসে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের নদ-নদী ও সাগর মোহনা থেকে। গত দুই দশকে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা ও অভিযান পরিচালনার ফলে ইলিশ উৎপাদন প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেলেও সাম্প্রতিক সময়ে উৎপাদনে কিছুটা হ্রাস দেখা গেছে।

নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে মৎস্য অধিদপ্তর, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, র‍্যাব ও পুলিশ যৌথভাবে ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করেছে। এসময় হাজার হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও নিষিদ্ধ জাল জব্দ করা হয়। পাশাপাশি বহু মামলা, জরিমানা ও কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মৎস্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, জাটকা রক্ষায় আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে উপকূলীয় এলাকার ২ লাখ ৩৪ হাজারের বেশি জেলে পরিবারকে খাদ্য সহায়তা হিসেবে প্রতি মাসে ৪০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাটকা ও মা ইলিশ রক্ষা করা গেলে দেশে ইলিশ উৎপাদন আরও বাড়বে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে মৎস্য খাতের অবদান আরও শক্তিশালী হবে।

**এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫**




 এডিসি রিয়াজের অপসারণ দাবিতে ববি শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এডিসি) রিয়াজ হোসেন (পিপিএম)-এর বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

শনিবার (২ মে) সকাল সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিচার ও অপসারণ দাবি জানান।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী সাজ্জাদ হোসেন। তিনি বলেন, “এডিসি রিয়াজ হোসেন জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। আমরা তার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাই, অভিযুক্ত এই কর্মকর্তাকে অবিলম্বে বদলি করা হোক।”

এসময় শিক্ষার্থীরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবিও জানান। বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে তারা এডিসি রিয়াজ হোসেনসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।

মানববন্ধন শেষে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে একটি স্মারকলিপি জমা দেন। স্মারকলিপিতে এডিসি রিয়াজ হোসেনের বিরুদ্ধে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

পরে শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল বরিশাল রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শকের কার্যালয়ে বৈঠক করেন। এসময় স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন ড. মো. সাইফুল্লাহ বিন আনোয়ার, অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক (এডমিন অ্যান্ড ফিন্যান্স)।

শিক্ষার্থীরা জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




 বরিশাল নগরীতে বাড়ছে যানভাড়া, সিটি বাস সার্ভিস চালুর দাবি জোরালো

জ্বালানি, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে বরিশাল নগরীর পরিবহন ব্যবস্থায় দেখা দিয়েছে অস্থিরতা। দীর্ঘদিন ধরে সিটি বাস সার্ভিস বন্ধ থাকায় ছোট যানবাহনের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। আর সেই সুযোগে নগরজুড়ে বাড়ছে যানবাহনের ভাড়া। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। দ্রুত সিটি বাস সার্ভিস চালুর দাবি জানিয়েছেন নগরবাসী।

বর্তমানে বরিশাল নগরীতে প্রধান বাহন হিসেবে চলাচল করছে ব্যাটারিচালিত অটো, রিকশা, গ্যাসচালিত সিএনজি ও তেলচালিত মাহিন্দ্রা। এসব যানবাহন জ্বালানি, গ্যাস ও বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় চলমান সংকটের প্রভাব সরাসরি পড়ছে যাত্রী ভাড়ায়।

চালকদের দাবি, জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাড়তি ভাড়া নেওয়া ছাড়া তাদের কোনো বিকল্প নেই। তবে যাত্রীদের অভিযোগ, নির্ধারিত ভাড়া তালিকা না থাকায় চালকরা ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করছেন।

জানা গেছে, ২০০৩ সালে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র অ্যাডভোকেট মো. মজিবর রহমান সরোয়ার নগরীতে প্রথমবারের মতো সিটি বাস সার্ভিস চালু করেন। নথুল্লাবাদ-রুপাতলী-লঞ্চঘাট রুটে বিআরটিসির দ্বিতল বাস চলাচল শুরু করলে স্বল্প ভাড়ায় নিরাপদ যাতায়াতের সুযোগ পায় নগরবাসী। তবে দেশে জরুরি অবস্থা জারির পর সেই সেবা বন্ধ হয়ে যায়।

পরবর্তীতে ২০০৯ সালে তৎকালীন মেয়র শওকত হোসেন হিরণের উদ্যোগে আবারও সিটি বাস চালু করা হয়। রুপাতলী বাস টার্মিনাল, নথুল্লাবাদ ও নদীবন্দর সংযোগে বাস চলাচল করলেও ২০১৩ সালে অজ্ঞাত কারণে আবারও বন্ধ হয়ে যায় এই গুরুত্বপূর্ণ গণপরিবহন ব্যবস্থা। এরপর এক যুগের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সিটি বাস আর চালু হয়নি।

বর্তমানে নথুল্লাবাদ থেকে লঞ্চঘাটে যেতে যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা। একইভাবে লঞ্চঘাট থেকে রুপাতলী, চৌমাথা কিংবা নথুল্লাবাদ রুটেও আদায় করা হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। যেখানে একসময় একই রুটে ৫ থেকে ১০ টাকায় যাতায়াত করা যেত, এখন সেখানে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। অতিরিক্ত ভাড়াকে কেন্দ্র করে প্রায়ই যাত্রী ও চালকদের মধ্যে বাকবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটছে। অনেক সময় তা সংঘর্ষে রূপ নিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিএম কলেজের শিক্ষার্থী জিহাদুল ইসলাম বলেন, “প্রতিদিন কলেজে যেতে ২৫ টাকা ভাড়া লাগে। সিটি বাস চালু থাকলে অনেক কম খরচে যাতায়াত করা সম্ভব হতো।” প্রাক্তন শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম বলেন, “২০১২ সালে মাত্র পাঁচ টাকায় লঞ্চঘাট থেকে কলেজে যেতাম। এখন একই পথে যেতে ২৫ টাকা দিতে হচ্ছে।”

রুপাতলী এলাকার বাসিন্দা ফারুক হোসেন বলেন, “আগে ৫ টাকায় যাতায়াত করা যেত, এখন ২০-২৫ টাকা লাগে। সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে দ্রুত সিটি সার্ভিস চালু করা প্রয়োজন।” এ বিষয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার শিরীন বলেন, “সিটি বাস সার্ভিস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে নগরীর সড়ক সংকীর্ণ হওয়ায় বাস্তবায়নে কিছু জটিলতা রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “ভাড়া নিয়ন্ত্রণে মালিক-চালক ও বিআরটিএ’র সঙ্গে দ্রুত বৈঠক করা হবে। প্রতিটি যানবাহনে নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা টানানো বাধ্যতামূলক করা হবে।” প্রায় ৫৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের বরিশাল সিটি করপোরেশনে প্রায় ১০ লাখ মানুষের বসবাস। বিভাগীয় শহর হওয়ায় প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই নগরীর পরিবহন ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। নগরবাসীর দাবি, দ্রুত সিটি বাস সার্ভিস চালু করা হলে যানভাড়া নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি অনেকাংশে কমে যাবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫