বরিশালে রাজনৈতিক সম্প্রীতি স্মারক: শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের অঙ্গীকার

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষিতে বরিশালে রাজনৈতিক দলগুলো শান্তিপূর্ণ, সহিংসতাবিহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ নিশ্চিতের অঙ্গীকার করেছেন। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সকালে বরিশাল নগরের একটি কনভেনশন হলে মাল্টিপার্টি অ্যাডভোকেসি ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত রাজনৈতিক সম্প্রীতি স্মারক অনুষ্ঠানে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, গণঅধিকার পরিষদ, জাতীয় নাগরিক পার্টি ও বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের প্রতিনিধিরা সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর করেন।

স্মারকে তারা অঙ্গীকার করেন, রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে ব্যক্তিগতভাবে সচেষ্ট থাকবেন এবং নির্বাচনসংক্রান্ত কোনো সহিংসতায় জড়াবেন না। দলের সকল স্তরের নেতা-কর্মীদেরও শান্তি বজায় রাখার আহবান জানানো হবে।

বক্তারা আরও বলেন, সহিংসতার পূর্বাভাস থাকলে তা প্রতিরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন এবং ভিন্ন দল থেকে সহিংসতার সূত্রপাত হলে আক্রমণাত্মক না হয়ে শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করবেন। ভিন্ন পক্ষের প্রার্থী বা নেতা-কর্মীদের প্রতি বিদ্বেষমূলক বক্তব্য কোনো মাধ্যমে প্রচার করা বা অন্যকে উসকানি দেওয়া থেকে বিরত থাকার প্রতিও অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।

এছাড়া তারা নির্বাচনী আইন মেনে চলা এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবেন। এভাবে বরিশালে রাজনৈতিক সম্প্রীতি ও সহাবস্থান নিশ্চিত করতে এবং জন আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে দল-মত নির্বিশেষে একযোগে ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল-এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম বরিশালের সদস্য সচিব আবুল কালাম ইমন, জামায়াতে ইসলামীর বরিশাল মহানগরের সেক্রেটারি মো. মতিউর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবু সাইদ মুসা, গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম রোসেল, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ফাতেমাতুজ জোহরা নদী, বরিশাল নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব ডা. মিজানুর রহমান ও অন্যান্যরা। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল-এর উপ-পরিচালক দিপু হাফিজুর রহমান।

অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমকর্মী, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। শেষে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদীর সুস্থতা কামনা করে বিশেষ দোয়া-মোনাজাত করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ ওসমান হাদীকে গুলি করার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও তৎপর হওয়ার আহবান জানান।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




পিরোজপুরে নদী ভাঙনে বিলীন হচ্ছে বাজার, সড়ক ও মসজিদ

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার আমড়াজুড়ি ইউনিয়নের সন্ধ্যা, গাবখান ও কচা নদীর মোহনায় নদী ভাঙনের কারণে স্বরূপকাঠি ও কাউখালী সংযোগস্থল আমড়াজুড়ি ফেরিঘাট এলাকা বিপন্ন হয়ে পড়েছে। এতে দুই পাড়ের প্রায় দুই শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও মসজিদ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া বাজার, সড়ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য স্থাপনা এখনও হুমকির মুখে রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বাজারের পশ্চিম দিকে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা নদী ভাঙনের কবলে পড়েছে। নদী ভাঙনের কারণে অনেক দোকান বারবার সরানো হয়েছে। বাজারের মসজিদের একাংশও নদীতে বিলীন হয়েছে। এছাড়া কাউখালী-শেখেরহাট সড়কের এক কিলোমিটারের বেশি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড অস্থায়ী ভিক্তিতে ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে জিও ব্যাগ ফেলে বাঁধ নির্মাণ করছেন, তবে তা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, নদীভাঙন রোধে এখনও কোনো টেকসই পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। প্রতিবছর নদী ভাঙনের কারণে আমড়াজুড়ি ফেরিঘাট বাজার ও সংলগ্ন সড়ক বিপন্ন হয়। ব্যবসায়ী মো. শাহিন জানান, তার দোকান গত এক বছরে তিনবার সরিয়ে নিতে হয়েছে।

মসজিদের ইমাম গাজী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, মসজিদের একাংশ নদীতে বিলীন হওয়ায় নামাজ পড়ার স্থান কমে গেছে। তিনি কর্তৃপক্ষকে টেকসই নদী রক্ষা বাঁধ নির্মাণের জন্য অনুরোধ করেন।

পিরোজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-প্রকৌশলী আবু জাফর মো. রাশেদ খান জানান, ফেরিঘাটের দুই প্রান্তে প্রায় ১৫০০ মিটার স্থায়ী বাঁধের জন্য স্টাডি চলছে। বর্তমানে অস্থায়ী ভিক্তিতে ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁধের কাজ চলমান রয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




বঙ্গোপাধ্যায়: জামায়াতকে সতর্ক করলেন বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম মোল্লা

বরগুনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও বরগুনা-১ আসনের দলীয় প্রার্থী নজরুল ইসলাম মোল্লা বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পথে যারা দেশে অশান্তি সৃষ্টি করতে চায়, তাদের জন্য চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি জামায়াতকে সরাসরি সতর্ক করে বলেন, ‘আপনারা যদি চরিত্র পরিবর্তন না করেন, তাহলে বাংলাদেশের মাটিতে চিরদিনের জন্য আপনারা কবর পাবেন।’

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় বরগুনা জেলা বিএনপির কার্যালয় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে প্রেসক্লাব সংলগ্ন সদর রোডে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে নজরুল ইসলাম মোল্লা এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় ছাত্রলীগের কিছু নেতৃস্থানীয় শিক্ষার্থী নিরীহ ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এ দায়ের কোনো উত্তরণ না হওয়ায় তারা আবার শিবির রূপে দেশে ফিরে এসেছে। এছাড়া কিছু ইসলামী মৌলবাদী দলও নির্বাচনের পথ বন্ধের চেষ্টা করছে। বর্তমানে জামায়াত-শিবির ভারতের ‘র’ এবং আওয়ামী লীগের সঙ্গে একত্রিত হয়ে জাতীয় নির্বাচনকে ব্যাহত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।

নজরুল ইসলাম মোল্লা আরও বলেন, বিএনপি হিংসায় বিশ্বাস করে না। আমরা শুধু চাই দেশে গণতন্ত্র অক্ষুণ্ণ থাকুক এবং নির্বাচন সুষ্ঠু হোক। তবে যারা বিএনপির সঙ্গে সংঘাত তৈরি করতে আসবে, তাদের পরিণতি ভয়াবহ হবে। তিনি বিএনপির সকল নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ থেকে ষড়যন্ত্র মোকাবিলার আহ্বান জানান।

বিক্ষোভ সমাবেশে জেলা বিএনপির সিনিয়র ও যুগ্ম আহ্বায়করা, জেলা যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরগুনার পুরাকাটা ফেরিঘাটে কথা-কাটাকাটির জেরে ছুরিকাঘাতে খেয়ামাঝি নিহত

বরগুনার পুরাকাটা ফেরিঘাট এলাকায় কথা-কাটাকাটির জেরে ছুরিকাঘাতে মো. আনসার হাওলাদার (৩৫) নামে এক খেয়ামাঝি নিহত হয়েছেন। ঘটনার পর অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে পুরাকাটা–আমতলী খেয়াঘাটে যাত্রী ওঠানামা নিয়ে খেয়ামাঝি আনসার হাওলাদারের সঙ্গে একই এলাকার মো. শাহীন নামের এক ব্যক্তির কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শাহীন ক্ষিপ্ত হয়ে আনসারের বুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করে।

স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে আহত আনসারকে উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। অবস্থার অবনতি হলে পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে পোস্তগোলা ব্রিজ এলাকায় তিনি মারা যান।

নিহত আনসার হাওলাদার বরগুনা সদর উপজেলার ৬ নম্বর বুড়িরচর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হাওলাদার বাড়ির বাসিন্দা ও মো. আব্দুল মজিদ হাওলাদারের ছেলে। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে (৭) ও এক মেয়ে (১০) রেখে গেছেন। অভিযুক্ত শাহীনও একই এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

পুরাকাটা খেয়াঘাটের স্থানীয়রা জানান, খেয়াঘাটে শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য আনসার শাহীনকে পাশে সরে দাঁড়াতে বললে তিনি অশালীন ভাষায় কথা বলেন। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ছুরিকাঘাত করে পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাকে ধরে ফেলে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।

এ বিষয়ে বরগুনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল আলিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় ব্যবহৃত আলামত জব্দ করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




নদীভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে মানবেতর জীবন, গরিবের খোঁজ নেই

নদীভাঙনে সব হারিয়ে আজ মানবেতর জীবনযাপন করছেন ভোলার লালমোহন উপজেলার এক অসহায় পরিবারপ্রধান। ৫৫ বছর বয়সী মো. সিরাজ একসময় স্বচ্ছল জীবনযাপন করলেও রাক্ষুসে মেঘনা নদীর ভাঙনে তার ঘরবাড়ি ও জমিজমা বিলীন হয়ে যায়। সব হারিয়ে প্রায় ২০ বছর আগে তিনি আশ্রয় নেন শ্বশুরবাড়ির জমিতে।

বর্তমানে লালমোহন উপজেলার কালমা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চরছকিনা এলাকায় শাশুড়ির জমিতে টিনের একটি ঘরে বৃদ্ধা মা, স্ত্রী, চার মেয়ে ও এক প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে বসবাস করছেন সিরাজ। তবে সেই ঘরটিও জরাজীর্ণ। বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতরে পানি পড়ে, তাই বাধ্য হয়ে টিনের ছাউনির ওপর ত্রিপল টানিয়ে রেখেছেন তিনি। নিজের নামে কোনো জমি বা ঘর না থাকায় ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে তার।

জীবিকার তাগিদে সিরাজ একটি অটোরিকশা ভাড়ায় চালান। দৈনিক আয় হয় আনুমানিক ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা। এর মধ্যে প্রতিদিন ৩০০ টাকা অটোরিকশার ভাড়া পরিশোধ করতে হয়। অবশিষ্ট অর্থ দিয়েই পরিবারের খাওয়া-পরা ও চিকিৎসার খরচ চালাতে হয়। ফলে সংসারে অভাব-অনটন লেগেই থাকে।

সিরাজ জানান, তার চার মেয়ের মধ্যে দুই মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। তবে তাদের স্বামীরা আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল হওয়ায় বিয়ের পরও মেয়েরা বাবার বাড়িতেই থাকছেন। এতে পরিবারের সদস্যসংখ্যা আরও বেড়েছে। এর পাশাপাশি তিনি নিজেও নানা রোগে ভুগছেন, তার বৃদ্ধা মা-ও অসুস্থ।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “আমার নিজের কোনো সম্পদ নেই। অথচ অনেক মানুষ সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পেয়েছে। এত অসহায় হয়েও আমি এখনো একটি সরকারি ঘর পাইনি। সরকারি চালসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা থেকেও আমি বঞ্চিত। সত্যিই গরিবের খোঁজ কেউ রাখে না।”

সরকারের প্রতি আকুতি জানিয়ে তিনি বলেন, “জমিসহ একটি আশ্রয়ণের ঘর ও সরকারি চাল বরাদ্দ পেলে পরিবার নিয়ে একটু ভালোভাবে বাঁচতে পারতাম। পাশাপাশি আমার বৃদ্ধা মায়ের জন্য একটি বয়স্ক বা বিধবা ভাতা খুব প্রয়োজন।”

এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহ আজিজ বলেন, “ভুক্তভোগী ব্যক্তি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে বিধি অনুযায়ী তাকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




উপকূলীয় বাঁধের খামখেয়ালিতে তজুমদ্দিনে খোলা আকাশের নিচে ১০২ পরিবার

ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অপরিকল্পিত উপকূলীয় বেড়িবাঁধ নির্মাণের কারণে গৃহহীন হয়ে পড়েছে ১০২টি ভূমিহীন পরিবার। মেঘনা নদীর তীরবর্তী চাঁদপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দালালকান্দি ও মাওলানাকান্দি গ্রামের এসব পরিবার এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, উপকূলীয় বাঁধ নির্মাণের সময় সামান্য দূরত্ব পরিবর্তন করলেই তাদের বসতভিটা রক্ষা করা যেত। কিন্তু সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের খামখেয়ালিপনায় গ্রামের একেবারে ঘেঁষে মাটি কাটায় বসতঘর ভেঙে পড়েছে, অনেক পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে পথে বসেছে।

এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সকালে বাঁধ নির্মাণের কাজে বাধা দিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাটি কাটা বন্ধ করে দেন। পরে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

দালালকান্দি গ্রামের বাসিন্দা মো. আ. রহিম বলেন, “ঠিকাদার ও স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার মাধ্যমে আমাদের ১৫ হাজার টাকা করে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এই টাকা নিয়ে ভিটেবাড়ি ছাড়লে নতুন করে থাকার জায়গা কেনা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।”

মাওলানাকান্দি গ্রামের সালেহা বেগম ও নুর জাহান বেগমসহ একাধিক নারী অভিযোগ করে বলেন, “এই বাঁধটি যদি মাত্র ছয় ফুট দূরে বা একটু পূর্ব দিকে নির্মাণ করা হতো, তাহলে আমাদের ঘরবাড়ি রক্ষা পেত। আমরা শুধু আমাদের মাথার ছাদটুকু বাঁচাতে চাই।”

স্থানীয়দের আশঙ্কা, বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী বাঁধ নির্মাণ চললে আরও পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়বে। কান্না আর আহাজারিতে মেঘনাপাড়ের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে বলে জানান এলাকাবাসী।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে ‘উপকূলীয় বাঁধ পুনর্বাসন ও নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় তজুমদ্দিনে প্রায় দুই কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গোলাম রাব্বানী কনস্ট্রাকশন। স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো সামাজিক বা পরিবেশগত বিবেচনা না করেই কাজ শুরু করায় এ বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে তজুমদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাম বলেন, “আমি একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এসডি আহসানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে গোলাম রাব্বানী কনস্ট্রাকশনের এক দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করছি। স্থানীয়রা বাধা দেওয়ায় আপাতত কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




কনসার্ট বন্ধের দাবিতে ববিতে গভীর রাতে ছাত্রদলের মিছিল

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) গভীর রাতে চলমান একটি সাংস্কৃতিক কনসার্টকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। কনসার্টে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) রাত ১২টার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে চারুকলা সংসদের আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ১২টার পরেও উচ্চস্বরে গান-বাজনা চলতে থাকায় শেরে বাংলা হল ও বিজয়-২৪ হলের প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ জন আবাসিক শিক্ষার্থী অনুষ্ঠান বন্ধের দাবিতে মুক্তমঞ্চের দিকে যান। এ সময় মুক্তমঞ্চ এলাকায় পৌঁছালে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের মধ্যে বাক্‌বিতণ্ডা শুরু হয়।

বিতণ্ডার একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নবনির্বাচিত সভাপতি মোশাররফ হোসেন মঞ্চে উঠে মাইকে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, কিছু শিক্ষার্থী আবাসিক শিক্ষার্থীর পরিচয় দিয়ে অনুষ্ঠানে বাধা দিতে এসেছে এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্ত সাংস্কৃতিক চর্চা চলবে, এতে কোনো বাধা মেনে নেওয়া হবে না। তার এই বক্তব্যের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

এরপর ছাত্রদল ও চারুকলা সংসদের পক্ষ থেকে ‘মবের বিরুদ্ধে’ স্লোগান দেওয়া হয়। পরে ছাত্রদল সভাপতি মোশাররফ হোসেন ও সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে ক্যাম্পাসে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি মুক্তমঞ্চ থেকে শুরু হয়ে টিএসসি চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তারা আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। কিছু শিক্ষার্থী হল থেকে এসে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করে। তবে তারা কারা, সেটি ক্যাম্পাসের সবাই জানে বলেও দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল জানান, ঘটনার খবর পেয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলেন। তার নির্দেশের আধাঘণ্টার মধ্যেই কনসার্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, “এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা কাম্য নয়। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




অগ্নিনিরাপত্তাহীন ভবনের ঝুঁকিতে বরিশাল নগর

বরিশাল সিটি করপোরেশনের যাত্রা শুরু হয় ২০০২ সালে। বর্তমানে ৫৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই নগরে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের বসবাস। আবাসিক ও বাণিজ্যিক মিলিয়ে শহরে ভবনের সংখ্যা প্রায় ৬৩ হাজার হলেও এর বেশির ভাগ ভবনেই নেই আধুনিক অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা। অগ্নিনিরাপত্তার এই ঘাটতি নগরবাসীর জন্য ক্রমেই বড় ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠছে।

অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্র বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও কার্যকর অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা চোখে পড়ে না। গত বছর হাসপাতালটির ডায়ালাইসিস ইউনিটের ভাণ্ডার কক্ষে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। যদিও এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি, তবে মুহূর্তেই রোগী ও স্বজনদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

হাসপাতালে মায়ের চিকিৎসার জন্য কয়েকদিন ধরে অবস্থান করা সায়েম নামের এক স্বজন জানান, তিনি বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরেও কোথাও দৃশ্যমান অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র দেখতে পাননি।

তবে হাসপাতালের সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম মশিউল মুনীর বলেন, শিগগিরই অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

অগ্নিনিরাপত্তার দুর্বল চিত্র দেখা গেছে শিল্প এলাকাতেও। গত ৫ ডিসেম্বর বরিশাল বিসিক শিল্প নগরীর খান সন্স টেক্সটাইল মিলের একটি সুতা উৎপাদন কারখানায় অগ্নিকাণ্ড ঘটে। কারখানার শ্রমিকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সেখানে থাকা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রটি অচল ছিল। ফলে আগুন নেভাতে শুরুতেই বেগ পেতে হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

নগরের আদালতপাড়া, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এলাকা, ভেনাস শপিং মল, মোহসীন মার্কেট ও সিটি মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও কার্যকর অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা নেই। কোনো কোনো স্থানে থাকলেও তা কেবল নামমাত্র এবং ব্যবহার অনুপযোগী।

এ বিষয়ে বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মো. ফারুক হোসেন সিকদার বলেন, “প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের বসবাস এই শহরে। কিন্তু অধিকাংশ ভবনেই আধুনিক অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”

নগর বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত অগ্নিনিরাপত্তা বিধিমালা বাস্তবায়ন ও নিয়মিত তদারকি না করা হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যাবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




কিস্তির টাকার বদলে নেওয়া হাঁস ফেরত, এনজিওকর্মী বরখাস্ত

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ঋণের কিস্তির টাকা আদায়ের নামে এক গৃহবধূর বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া চীনা হাঁসটি চার দিন পর ফেরত দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হলে শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুরে এনজিও কর্তৃপক্ষ হাঁসটি গৃহবধূর হাতে তুলে দেয়। একই সঙ্গে অভিযুক্ত এনজিওকর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

শনিবার দুপুরে টিএমএসএস এনজিওর গৌরনদী শাখার ম্যানেজার মো. রাজেক ইসলাম, ফিল্ড সুপারভাইজার মো. আরাফাত ও মো. সুজন মিয়া আগৈলঝাড়া উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের ফুল্লশ্রী গ্রামে গিয়ে ভুক্তভোগী গৃহবধূ হাফিজা খানমের হাতে হাঁসটি তুলে দেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঋণের কিস্তির টাকা না পেয়ে হাঁস ধরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হলে টিএমএসএস এনজিওর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেয়। শনিবার সকালে বরিশাল বিভাগীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মফিউর রহমান, মাদারীপুর জোনাল কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান এবং বরিশাল জোনাল কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে একটি তদন্ত দল ঘটনাস্থলে গিয়ে সরেজমিন তদন্ত করে। তারা ভুক্তভোগী হাফিজা খানম, তার স্বামী মুরাদ হোসেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন।

তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্ত মাঠকর্মী ফিরোজ খানকে সাময়িক বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এনজিও সূত্র জানায়, তাকে গত ১১ ডিসেম্বর থেকেই সাময়িক বরখাস্ত দেখানো হয়েছে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, আগৈলঝাড়া উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের ফুল্লশ্রী গ্রামের মো. মুরাদ হোসেনের স্ত্রী হাফিজা খানম টিএমএসএস এনজিও থেকে ৬০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। গত ৯ ডিসেম্বর ওই ঋণের শেষ কিস্তির ১ হাজার ৩২০ টাকা আদায়ের জন্য তার বাড়িতে যান মাঠকর্মী ফিরোজ খান। কিস্তির টাকা দিতে অক্ষমতা জানিয়ে হাফিজা খানম পাশের বাড়িতে গেলে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠান থেকে তার একটি চীনা হাঁস ধরে নিয়ে যান ওই মাঠকর্মী।

পরে ১১ ডিসেম্বর হাঁসটি ফেরত পাওয়ার দাবিতে আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিখন বণিকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ।

চার দিন পর হাঁসটি ফেরত পেয়ে হাফিজা খানম বলেন, “আমার স্কুলপড়ুয়া মেয়ের শখের হাঁসটি ফিরে পেয়ে আমরা সবাই খুব খুশি। সংবাদ প্রকাশ না হলে হয়তো হাঁসটি আর ফেরত পেতাম না।”

এ বিষয়ে টিএমএসএস এনজিওর গৌরনদী শাখার ম্যানেজার মো. রাজেক ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি তদন্ত করে অভিযুক্ত মাঠকর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আজ আমরা নিজ উদ্যোগে গৃহবধূর বাড়িতে গিয়ে হাঁসটি ফেরত দিয়েছি।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ দিয়ে ইসির প্রজ্ঞাপন

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের  তফসিল ঘোষণা করার পর সকল সংসদীয় আসনে রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

বৃহস্পতিবার রাতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ  স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ৭ এর দফা (১) ও (২) অনুসারে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর ধারা ৫ অনুযায়ী গণভোট অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্যে  নির্বাচনি এলাকাসমূহের জন্য বর্ণিত কর্মকর্তাগণকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটের জন্য রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ করিতেছে।’

প্রজ্ঞাপনে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ও ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং তিনজন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে কর্মকর্তাসহ (আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা) মোট ৬৯ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।