চলছে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২’ আটক ১হাজার ৪৩জন, বিদেশী পিস্তল উদ্ধার

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : আসন্ন ত্রয়োদশ  জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঢাকা ৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র জুলাই বিপ্লবের কন্ঠস্বর – শরিফ ওসমান বিন হাদি ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গত শনিবার আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোর কমিটির সভায় জাতীয় নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করাসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং ‘ফ্যাসিস্টদের’ দমনে শনিবার সন্ধ্যা থেকে দেশজুড়ে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২’ নামে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে যৌথ বাহিনী। গত দুই দিন এ অভিযানে ১ হাজার ৪৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় ছয়টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, গত শনিবার রাত থেকে শুরু হয়ে গতকাল রোববার পর্যন্ত চলা এই অভিযানে ১ হাজার ৪৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় একটি করে বিদেশি পিস্তল, রামদা, তলোয়ার, চাকু ও রিচার্জেবল ‘স্টানগান’ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় ৯০৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, জাতীয় নিবার্চন সামনে রেখে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করাসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও যারা নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে এই বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সারা দেশে যৌথ বাহিনীর ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২’ চলবে।

১০ মাস আগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ শুরু করা হয়েছিল। গাজীপুরে ছাত্র-জনতার ওপর সন্ত্রাসী আক্রমণের ঘটনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত সভায় এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে ও সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনতে গাজীপুরসহ সারা দেশে যৌথ বাহিনীর সমন্বয়ে অপারেশন ডেভিল হান্ট পরিচালনা করা হয়।




বরিশালে বিএনপির দুই শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে স্মৃতিবেদিতে ফুল দেওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট হাতাহাতির ঘটনায় বরিশালে বিএনপির দুই শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাসরিন রোববার (১৪ ডিসেম্বর) রাতে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় এ অভিযোগ দায়ের করেন।

থানা সূত্রে জানা যায়, অভিযোগপত্রে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও প্রায় ২০০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা রয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন উল ইসলাম জানান, মহানগর বিএনপির একজন নেত্রী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

অভিযোগকারী আফরোজা খানম নাসরিন বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে শ্রদ্ধা জানাতে ফুল দেওয়ার সময় তার ওপর হামলা চালানো হয়। তিনি দাবি করেন, হামলাকারীরা বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও বরিশাল সদর আসনের মনোনীত প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ারের অনুসারী

তিনি আরও বলেন, হামলায় জড়িতদের নাম উল্লেখ করে আইনগত প্রতিকার চেয়ে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় দলের অভ্যন্তরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে বলে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




গভীর নিরাপত্তার সংকটে দেশের রাজনীতি

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : ঐতিহাসিক চব্বিশের গণ অভ্যুত্থানের পর আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যখন দেশের দ্বার প্রান্তে তখনই দেশে ঘটে গেল এক পৈশাচিক ঘটনা।

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদিকে প্রকাশ্যে গুলি করা হলো। এর আগে গত ৭ নভেম্বর বিএনপিঘোষিত চট্টগ্রাম-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী এরশাদউল্লাহকে প্রকাশ্যে গুলি করা হয়।এখন তাহলে প্রশ্ন জাগতেই পারে দেশের রাজনীতি কি নিরাপত্তার সংকটে পড়েছে?

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিনই রাজধানীতে ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় সামগ্রিক নিরাপত্তাকে অবিশ্বাস্য রকমের নাড়া দিয়েছে। এ ঘটনায় রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, সমর্থক থেকে সর্বস্তরের মানুষ রীতিমতো হতভম্ব।

তাহলে রাজনীতিতে নিরাপত্তাটা কোথায়? এই পরিস্থিতিতে প্রার্থীরা কীভাবে নির্বাচন করবেন, কী করে নির্বাচনে অংশ নেবেন? আর দেশের নিরাপত্তাব্যবস্থাই বা কোন দিকে যাচ্ছে? এ প্রশ্ন এখন বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবীসহ সর্বস্তরের মানুষের। বিশেষ করে রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের মাঝে আরও জোরালো হয়ে উঠেছে। বাড়ছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। কী হতে যাচ্ছে সামনের দিনগুলোতে?

এ প্রসঙ্গে বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ  বলেন, সব রাজনৈতিক নেতারা যাতে নিরাপদে থাকে, সে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছি।

বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘কোনো আশঙ্কাকেই আমরা উড়িয়ে দিচ্ছি না। এখানে সরকারের দায়িত্ব আছে, রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব আছে। জনগণের সচেতনতা জরুরি।’ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, যৌথ বাহিনী, সরকার, জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি ।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিনই একজন অন্যতম জুলাই যোদ্ধা এবং এমপি প্রার্থীর ওপর প্রকাশ্যে গুলি চালানোর ঘটনা নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

এ ধরনের বর্বর হামলা দেশের শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বিপর্যস্ত করে। তিনি বলেন, ওসমান হাদি গত ১৩ নভেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক স্ট্যাটাসে জানান ৩০টি বিদেশি নম্বর থেকে কল ও টেক্সট করে তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং তাঁর মা, বোন ও স্ত্রীকে ধর্ষণের হুমকিও দেওয়া হয়েছে।

ফলে দেশবাসীর কাছে এটা পরিষ্কার যে প্রশাসন তাঁর নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। হামলাকারীদের অবিলম্বে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে হবে এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সব প্রার্থী, দলীয় কর্মী ও সাধারণ নাগরিকের নিরাপত্তায় কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

শরিফ ওসমান হাদির ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনাকে গণতন্ত্র, আইনশৃঙ্খলা ও নাগরিক নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত এবং নির্বাচন বানচালের সুস্পষ্ট অপচেষ্টা বলে অখ্যায়িত করেছেন করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ।

রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম এবং আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। তাঁরা বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরপরই ‘ফ্যাসিবাদের দোসররা’ সন্ত্রাসের মাধ্যমে নির্বাচনি পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা শুরু করেছে। রাজনৈতিক ভিন্নমত দমনে গুলি ও হামলার মতো আচরণ কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। আসন্ন নির্বাচনে সব প্রার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নেতারা বলেন, নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে যে কোনো সহিংসতা ‘চরম অগ্রহণযোগ্য’। জনগণের নিরাপত্তা এবং প্রার্থীদের অবাধ চলাচল নিশ্চিতে সরকারকেই দায়িত্ব নিতে হবে।

জানা গেছে, ‘জুলাই গণ অভ্যুত্থানের অন্যতম নায়ক এই ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনা’কে অন্তর্বর্তী সরকার থেকে শুরু করে রাজনীতিক, বুদ্ধিজীবী, নিরাপত্তা বাহিনী ও বিশ্লেষকরা কেউ-ই বিচ্ছিন্ন কিংবা স্বাভাবিক কোনো ঘটনা হিসেবে দেখছেন না। তাঁরা সবাই অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ঘটনাটিকে সিরিয়াসলি নিয়েছেন এবং ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তিনি বড় রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তাঁর উপস্থিতিতে শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় সম্মিলিতভাবে প্রতিবাদ সভা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি। আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই এই সভার আয়োজন করা হবে।

অন্যদিকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণকারীদের ধরিয়ে দিতে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছেন। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সক্রিয়ভাবে কাজ শুরু করেছে।

পতিত আওয়ামী লীগ ও ভারত বিরোধিতায় সরব ওসমান হাদির ওপর হামলার নিন্দা জানাচ্ছেন গণ অভ্যুত্থানে সক্রিয় তরুণ নেতারা। তাঁরা বলছেন, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ জুলাই আন্দোলনের নেতাদের হত্যার মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছে। এই মিশন যে কোনো মূল্যে বন্ধ করতে হবে।

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেন, শরিফ ওসমান হাদির ওপর আঘাত মানে জুলাইয়ের ওপর আঘাত।। তিনি বলেন, ওসমান হাদি জুলাইয়ের একটা চরিত্র। ওসমান হাদির ওপর গুলির ঘটনায় ২৪ ঘণ্টা পার হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাউকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, হাদির ওপর আঘাত মানে জুলাইয়ের ওপরে আঘাত।

ওসমান হাদির মর্মান্তিক ও নৃশংস ঘটনায় রাজনীতিবিদদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের (এনডিএফ) সভাপতি ও জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। এই পরিস্থিতিতে প্রার্থীরা কীভাবে নির্বাচন করবেন, কী করে নির্বাচনে অংশ নেবেন? সামগ্রিক পরিস্থিতিতে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, মব, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস চলছে। জুলাই আন্দোলনের পরও আগের মতো নির্বাচন হলে অভ্যুত্থানের মর্মটাই নষ্ট হয়ে যাবে।




গুলিবিদ্ধ ওসমান হাদি, বাবুগঞ্জে শ্বশুরবাড়িতে শোকের মাতম

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবরে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নের প্রতাবপুর গ্রামে তার শ্বশুরবাড়িতে নেমে এসেছে গভীর শোক ও উৎকণ্ঠা। অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সুবেদার সুলতান আহমেদের বাড়িতে চলছে কান্নার রোল।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শরিফ ওসমান হাদি ২০২০ সালে সুলতান আহমেদের কন্যা রাবেয়া শম্পাকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে ২০২৪ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি এক পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। হঠাৎ এই গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় পুরো পরিবার মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে।

ওসমান হাদির শ্বশুর সুলতান আহমেদ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তার জামাই ছিলেন সৎ ও প্রতিবাদী মানুষ। অন্যায়ের সঙ্গে কখনো আপস করতেন না। তিনি অভিযোগ করে বলেন, পরিকল্পিতভাবেই সন্ত্রাসীরা তার জামাইয়ের ওপর গুলি চালিয়েছে। তার দাবি, ওসমান হাদি যদি ঢাকা-৮ আসন থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করতেন, তাহলে হয়তো এমন ঘটনা ঘটত না।

খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওসমান হাদির শাশুড়ি শাহানাজ বেগম ও শালা কাইয়ুম হোসেন ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। এদিকে প্রতিবেশী ও স্বজনরা শ্বশুরবাড়িতে ছুটে এসে পরিবারটিকে সান্ত্বনা দেন।

সুলতান আহমেদ দেশবাসীর কাছে তার জামাইয়ের দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করেন এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

উল্লেখ্য, শরিফ ওসমান হাদি বর্তমানে ঢাকার রামপুরা এলাকায় বসবাস করেন। তার বৃদ্ধ মা সেখানেই অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল অর্ধশতাধিকের

বরিশাল বিভাগে চলতি বছরে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা অর্ধশত ছাড়িয়েছে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে। তারা সবাই বিভিন্ন সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, এ সময়ের মধ্যে বরিশাল বিভাগের দুইটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে মোট ২১ হাজার ৫৩১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হন। এর মধ্যে ২১ হাজার ৩১৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে অল্পসংখ্যক রোগী এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মৃতদের মধ্যে সর্বাধিক ৩২ জন মারা গেছেন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এছাড়া বরগুনার বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৫ জন, পটুয়াখালীতে ৩ জন এবং ভোলায় ১ জন ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছেন।

স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টদের মতে, বরগুনা জেলা ও বরিশাল বিভাগের উপকূলীয় এলাকাগুলোতে এ বছর ডেঙ্গু ভয়াবহ আকার ধারণ করে। শুধু সরকারি হাসপাতালগুলোতেই বরগুনা জেলায় ৯ হাজার ৫৮৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। তবে প্রকৃত আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কারণ হিসেবে জানানো হয়, বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ব্যক্তিগত চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের তথ্য সরকারি স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত নয়। ফলে ডেঙ্গুর প্রকৃত পরিস্থিতি পুরোপুরি প্রতিফলিত হচ্ছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ধর্ষণ মামলার বাদীকে খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ, হয়রানির বিচার চেয়ে আসামির সংবাদ সম্মেলন

বরিশাল  অফিস ::  বরিশালের বানারীপাড়ায় দায়ের হওয়া একটি ধর্ষণ মামলার বাদীকে গত এক মাসের অধিক সময় ধরে খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ। এতে মামলার তদন্ত কার্যক্রমেও অগ্রগতি আসেনি। ফলে ভুক্তভোগী ও অভিযুক্ত উভয় পক্ষই যথাযথ আইনি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এদিকে- হয়রানি করতেই একজন ইউপি সদস্য ষড়যন্ত্র করে মিথ্যা ধর্ষণের মামলায় ফাঁসিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন মামলায় অভিযুক্ত মামুন ফরাজি। এমনকি সত্য সামনে আসার ভয়ে বাদীকেও পুলিশের সামনে আসতে দেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ তার।
রোববার বেলা সাড়ে ১২টায় বরিশাল প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন মামলায় অভিযুক্ত মামুন ফরাজি। তিনি বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের বচুয়া গ্রামের বাসিন্দা মাহবুব ফরাজির ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২৭ অক্টোবর ভুক্তভোগী নারী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালে একটি নালিশি অভিযোগ দায়ের করেন। আদালত নালিশি অভিযোগটি গ্রহণ করে তা এফআইআর করতে বানারীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ দেন।

আদালতে দাখিল করা নালিশি দরখাস্তে ওই নারী উল্লেখ করেন, তিনি একজন অসহায়। পিতার মৃত্যুর পর মা অন্যত্র বিবাহ করায় চার বোন মানবেতর জীবনযাপন করছেন। জীবিকার তাগিদে তিনি বরিশাল শহরে ছোটখাটো কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

নালিশে বলা হয়, ২১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাতটার দিকে তিনি দাদা বাড়ি বানারীপাড়া থেকে পায়ে হেঁটে বরিশাল শহরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। পথিমধ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তি হঠাৎ এসে তাকে জোরপূর্বক নিকটস্থ একটি নির্মাণাধীন ভবনের ভেতরে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ধর্ষণ করে। কিন্তু ভয়ে তিনি চিৎকার করতে পারেননি। একপর্যায়ে দু’জন পথচারীর কণ্ঠস্বর শুনে অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে ওই দুই পথচারীর সহায়তায় অভিযুক্তের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, পরে তিনি বরিশালে এসে বোন ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে পরামর্শ করে থানায় মামলা করতে গেলে নানা ব্যস্ততার কথা বলে মামলা গ্রহণ করা হয়নি। এ কারণে বাধ্য হয়ে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন।

তবে ধর্ষণের এই ঘটনাটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত মামুন ফরাজি। রোববার (১৪ ডিসেম্বর) বরিশাল প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক সবুর খান ওরফে সবুর মেম্বার ও তার সহযোগিরা ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তাকে ধর্ষণ মামলায় ফাঁসিয়েছেন।

লিখিত বক্তব্যে মামুন ফরাজির বাবা মাহাবুব ফরাজি বলেন, গত ৫ আগস্টের পর থেকে সবুর খানের নেতৃত্বে চাঁদাবাজি, নারী নির্যাতন, ২০০ বছরের পুরোনো হিন্দু বাড়ি দখল, সরকারি ৯ একর জমির গাছ বিক্রির অর্থ আত্মসাৎ, খেয়াঘাট দখল, ট্রলার লুট, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি, থানায় পুলিশের সামনে ছাত্রপ্রতিনিধিদের ওপর হামলা, গরিবদের সরকারি সহায়তা আত্মসাৎ, স্কুল কমিটি দখল, প্রবাসীদের অর্থ আত্মসাৎ ও অটোরিকশা দিয়ে চাঁদা উত্তোলনসহ নানা অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট সবুর মেম্বারের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী ভুক্তভোগী মাহাবুব ফরাজির কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এরপর তার মালিকানাধীন দুটি ট্রলার ছিনতাইয়ের পর বিক্রি করে দেয়া হয়। এ ঘটনায় তার ছেলে মামুন ফরাজি বাদী হয়ে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।

তিনি জানান, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে সবুর মেম্বার ডিগ্রি পাসের ভুয়া সনদ ব্যবহার করে বাইশারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতির পদ দখল করেন। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগের পর তদন্ত করে বরিশাল শিক্ষা বোর্ড ভুয়া সনদের সত্যতা পায় এবং তাকে সভাপতির পদ থেকে অপসারণ করে।

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সবুর মেম্বার ও তার সহযোগীরা গত ২৭ অক্টোবর একজন নারীকে ব্যবহার করে মামুন ফরাজির বিরুদ্ধে মিথ্যা ধর্ষণ মামলা দায়ের করায়। আদালতের নির্দেশে ১ নভেম্বর মামলাটি থানায় এজাহার হিসেবে রেকর্ড করা হয়। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান ভুক্তভোগী মাহাবুব ও মামুন ফরাজি।

ধর্ষণ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বানারীপাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাহিদ হোসেন বলেন, “মামলার বাদীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারায় তদন্তে জটিলতা তৈরি হয়েছে। বাদীর দেয়া মোবাইল নম্বরও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে এবং যে ঠিকানা দেয়া হয়েছে, সেখানে গিয়েও তাঁকে পাওয়া যায়নি। স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। বাদীকে পাওয়া গেলে তদন্ত এগিয়ে নেয়া সহজ হবে।”

এদিকে অভিযুক্ত মামুনের বাবা অভিযোগ করেন, তাঁর ছেলের সঙ্গে স্থানীয় বিএনপি নেতা সবুর খানের দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ রয়েছে। তাঁর দাবি, ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাঁদের পরিবারকে হয়রানি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “সবুর খান ভুয়া সনদ দিয়ে একটি বিদ্যালয়ের সভাপতির পদে ছিলেন। এ বিষয়ে আমার ছেলে শিক্ষা বোর্ডে অভিযোগ করলে তাঁকে পদ থেকে অপসারণ করা হয়। এরপরই পরিকল্পিতভাবে এই ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়েছে। এখন বাদীকে পাওয়া না যাওয়ায় আমরাও সঠিক আইনি সহায়তা পাচ্ছি না।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বানারীপাড়ার দুই শহীদ বুদ্ধিজীবীর স্মরণ

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে দেশের জন্য আত্মত্যাগকারী বানারীপাড়ার দুই সন্তান—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের অধ্যাপক সুখরঞ্জন সমদ্দার—আজও এলাকার মানুষের মনে অমর। তারা দেশের স্বাধীনতার জন্য বীরত্বপূর্ণ জীবন উৎসর্গ করেছেন এবং বুদ্ধিজীবী সমাজে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।

ড. জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতার পরিবার ২৫ মার্চ ১৯৭১-এর রাতে স্বাভাবিকভাবে দিনের কাজ শেষ করে ঘরে ছিলেন। হঠাৎ রাস্তায় জনতার ভিড় ও লাইট বোমার শব্দ শুনে পরিবারের সদস্যরা নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন। পাক সেনারা তাদের ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে ড. গুহঠাকুরতাকে হত্যা করে। আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলেও সঠিক চিকিৎসা সম্ভব হয়নি এবং ৩০ মার্চ ১৯৭১ তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

ড. গুহঠাকুরতার জন্ম ময়মনসিংহে হলেও পৈত্রিক নিবাস বরিশালের বানারীপাড়ায়। শিক্ষাজীবন শুরু হয় ময়মনসিংহের জিলা স্কুল থেকে, এরপর কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ ও আনন্দমোহন কলেজে পড়াশোনা করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে এম.এ. ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পরে লন্ডনের কিংস কলেজ থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি শিক্ষকতা, সাহিত্য, রাজনীতি ও সমাজচিন্তায় অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন। বানারীপাড়া পৌর শহরে তার নামানুসারে স্কুল প্রতিষ্ঠা ও রাস্তার নামকরণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, সুখরঞ্জন সমদ্দার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের প্রভাষক ছিলেন। মুক্তচিন্তা ও অসাম্প্রদায়িকতার দিক থেকে পরিচিত ছিলেন। ১৪ এপ্রিল ১৯৭১ পাক সেনারা তাকে তার বাসা থেকে ধরে নিয়ে যায় এবং বিনোদপুরে হত্যা করে ফেলে। তার পরিবার তখন ভারতেই ছিলেন। স্বাধীনতার পর দেহাবশেষ উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরির সামনে পুনঃসমাহিত করা হয়।

সুখরঞ্জন সমদ্দারের জন্ম ১৫ জানুয়ারি ১৯৩৮ সালে বানারীপাড়ার ইলুহার গ্রামে। তিনি বরিশালের স্থানীয় স্কুল ও কলেজ থেকে শিক্ষাজীবন শুরু করেন, পরে কলকাতা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংস্কৃত বিষয়ে শিক্ষা অর্জন করেন।

বানারীপাড়ার মানুষরা দুই শহীদ বুদ্ধিজীবীর স্মৃতি রক্ষার্থে তাদের ভাস্কর্য নির্মাণসহ প্রজন্মকে জানাতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২5




আগৈলঝাড়ায় হস্তশিল্প প্রতিষ্ঠান প্রকৃতির রজতজয়ন্তী উদযাপন

বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলায় হস্তশিল্প প্রতিষ্ঠান প্রকৃতি পরিচালিত পাঁচটি প্রোডাকশন ইউনিট — বিবর্তন হ্যান্ডমেইড পেপার প্রজেক্ট, কেয়াপাম হ্যান্ডিক্রাফটস, তরুলতা ক্রাফটস, জোবারপাড় এন্টারপ্রাইজ এবং বাগধা এন্টারপ্রাইজ — এর রজতজয়ন্তী ও বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

১৩ ডিসেম্বর, শনিবার, গৈলা ইউনিয়নের কালুরপাড় এলাকায় প্রতিষ্ঠানটির মাঠে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। রজতজয়ন্তীর আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রকৃতির নির্বাহী পরিচালক স্বপন কুমার দাস

সভায় স্বপন কুমার দাস বলেন, “লতাপাতা দিয়ে আমরা বিশ্বজয় করেছি। বাড়ির চারপাশে লতাপাতা ও জলাশয়ের কচুরিপানা ব্যবহার করে হাতে বানানো তৈজসপত্র এখন বিশ্বের ৪২টি দেশে পৌঁছেছে। এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে ৬ হাজার নারী। বিদেশীরা আমাদের নারীদের হাতে তৈরি নিখুঁত জিনিস দেখে বিস্মিত হয়। তারা প্রশ্ন করেন, এগুলো কি মেশিনে তৈরি করা হয়। আমি জানাই, এটা সম্পূর্ণ হাতে তৈরি। আমাদের দেশের নারীরা এই সব পণ্য তৈরি করে।”

তিনি আরও বলেন, “২০০১ সালে প্রকৃতি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। মেনোনাইট সেন্ট্রাল কমিটি (এমসিসি) কর্তৃক শুরু করা আটটি কর্মসংস্থান প্রকল্পের দায়িত্ব আমরা গ্রহণ করি। প্রাথমিক সময়ে এমসিসি’র পরিচালকরা শাসন ব্যবস্থা, আর্থিক কাঠামো ও আন্তর্জাতিক ন্যায্য বানিজ্যের মানদণ্ড স্থাপন করতে আমাদের সহায়তা করেন। আমরা হস্তনির্মিত কাগজ, পাট, সিল্ক ও প্রাকৃতিক তন্তু উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করি এবং নারী করিগরদের ন্যায্য মজুরি ও মর্যাদা নিশ্চিত করি। ধীরে ধীরে প্রকৃতি একটি স্বনির্ভর প্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রতিষ্ঠিত হয়।”

প্রকৃতির বোর্ড অব ডিরেক্টর সুфিয়া আক্তার রহমান, আবজালুল নেছা চৌধুরী, হাসিনা আক্তার বলেন, “আমরা ব্র্যান্ডিং শক্তিশালী করি, নিজস্ব পরিচিতি ও প্যাকেজিং তৈরি করি এবং ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও এশিয়ার ক্রেতাদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্ক গড়ে তুলি। রিসাইকেল করা শাড়ি, বর্জ, পাট ও কচুরিপানা দিয়ে তৈরি পরিবেশবান্ধব পণ্য আমাদের স্বাক্ষর হয়ে ওঠে। ২০১৫ সালে কচুরিপানা দিয়ে তৈরি একটি অলঙ্কারের জন্য আমরা গর্বের সঙ্গে (ডব্লিউএফটিও) মোহাম্মদ ইসলাম ডিজাইন পুরস্কার অর্জন করি। রপ্তানি বৃদ্ধি পায়, কারিগরদের আয় বাড়ে এবং পরিবারগুলো তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে সক্ষম হয়। ব্লক প্রিন্টিং, বাঁশের কারুশিল্প ও ক্রোশে খেলনা তৈরির প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আমাদের পণ্যে বৈচিত্র্য আনে। আমরা টেরাকোটা, ফ্যাশন ডিজাইন ও আধুনিক পরিবেশবান্ধব কারুশিল্পেও নতুনত্ব এনেছি। ভবিষ্যতে প্রকৃতি আরও গভীর ক্ষমতায়ন, নবপ্রবর্তন এবং টেকসই উন্নয়নের পথে এগোবে। আমরা চাই নতুন প্রজন্মের নারী নেতৃত্ব গড়ে উঠুক।”

তারা আরও বলেন, “২০৫০ সালের মধ্যে হস্তশিল্প প্রতিষ্ঠান প্রকৃতি ন্যায্য বানিজ্যের আলোকবর্তিকা হিসেবে বিশ্বকে দেখাবে যে নৈতিক ব্যবসা সফল হতে পারে এবং গ্রামীণ বাংলাদেশে জীবন পরিবর্তন করতে পারে। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট: ‘প্রকৃতি ২০৫০, নারী ক্ষমতায়ন, পৃথিবীর টেকসই উন্নয়ন।’”

আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিখন বণিক বলেন, “প্রকৃতি আমাদের জেলার গর্ব। রজতজয়ন্তীতে মঞ্চের নির্মাণ ও পরিবেশের সৌন্দর্য আমাকে মুগ্ধ করেছে। লতাপাতা, বন, তালপাতা, কচুরিপানা ও ফুলের সংমিশ্রণে তৈরি মঞ্চ আমি আগে কোথাও দেখিনি। আমি এর ছবি তুলে রাখেছি, যেখানে কাজ করব সেখানে দেখাবো।”

রজতজয়ন্তীতে আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা সমাজসেবা অফিসার তপন বিশ্বাস, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোসাম্মৎ দৌলাতুন নেছা নাজমা, থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান, পল্লীবিদ্যুৎ বরিশাল-২ সমিতির জিএম বিপুল কৃষ্ণ, আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাব সভাপতি ডা. মো. মাহাবুবুল ইসলাম, সাংবাদিক এসএম ওমর আলী সানি, প্রকৃতি ডেপুটি ডিরেক্টর সজল কৃষ্ণ দত্ত, মো. সাজ্জাদ হোসেন, ম্যানেজার জগন্নাথ দত্ত, কালিপদ অধিকারী, অঞ্জন কুমার, মিজানুর রহমান, এমসিসি ফেরদৌসি হাওলাদার। সভা পরিচালনা করেন ম্যানেজার পাপড়ি মন্ডল


 




বরগুনায় ফেসবুকে প্রচার চালিয়ে মহাবিপন্ন বাঘা আইর মাছ বিক্রি

বরগুনায় ফেসবুকে প্রচারণা চালিয়ে ঢাকঢোল পিটিয়ে মহাবিপন্ন ও বিরল প্রজাতির বাঘা আইর মাছ কেটে রান্না করে বিক্রি করা হয়েছে। মাছটির ওজন ছিল ৭০ কেজি।

শনিবার দুপুরে বরগুনা পৌরশহরের জেলা বিএনপির অফিস সংলগ্ন মজিবর হোটেলে মাছটি রান্না করে বিক্রি করা হয়। এর আগে সকাল ১০টায় হোটেলের সামনে মাছটি প্রদর্শন করা হয় এবং স্থানীয় কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের মাধ্যমে ফেসবুকে প্রচারণাও চালানো হয়।

হোটেল মালিক মজিবর জানান, মাছটি ঢাকার তেজগাঁও বাজার থেকে ৮২ হাজার টাকায় বরগুনার স্থানীয় আড়তদার মোস্তফার মাধ্যমে ক্রয় করা হয়েছে। তিনি বলেন, “শখের বশে আমি এই মাছ এনেছি। এর আগে হোটেলে বড় বড় মাছ বিক্রি করেছি, তবে বাঘা আইর এবারই প্রথম।”

পরিবেশকর্মী ও পরিবেশ প্রেমী আরিফ রহমান অভিযোগ করেছেন, “বাঘা আইর মাছ শিকার ও বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, এটি মহাবিপন্ন একটি জলজ প্রাণি। হোটেলে রান্না বা বিক্রি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। বন্যপ্রাণি (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন ২০১২ অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, তবে প্রশাসন ও বন বিভাগ এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়নি।”

বরগুনা বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আক্তারুজ্জামান মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি। বরগুনা সদর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক জানান, “ঘটনা সম্পর্কে আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখছি, সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরগুনার বেতাগী-বামনা রুহিতা চরের সীমানা নিয়ে ভূমিহীনদের অবস্থান কর্মসূচি

বরগুনায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন বেতাগী উপজেলার পাঁচশতাধিক ভূমিহীন কৃষক। বিষ খালি নদীর মধ্যে গড়ে ওঠা রুহিতা চরের মালিকানা ও সীমানা নিয়ে বামনা ও বেতাগী দুই উপজেলার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিবাদ চলছিল।

বেতাগীর তিনটি ইউনিয়নের নারী ও পুরুষেরা জানান, তাদের রেকর্ডকৃত সম্পত্তি নদী ভাঙনে বিষ খালির প্রবাহে চলে যায়। পরবর্তীতে নদীর মাঝে গড়ে ওঠা রুহিতা চর দীর্ঘদিন ধরে তারা চাষাবাদ করে আসলেও ২০২৪ সালে বামনা উপজেলার চর সংলগ্ন স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের বাধা দেয়। চলতি বছরের মার্চে প্রশাসনের মাধ্যমে দুই উপজেলার সীমানা নির্ধারণ করা হয়। এরপর চাষাবাদ করলে তাদের ধান কেটে নেওয়া ও একাধিক মামলার অভিযোগ আসে।

সীমানা নির্ধারণ ও মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে আজ বেলা ১১টায় বরগুনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে ঘণ্টাব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন বেতাগী উপজেলার তিন ইউনিয়নের ভূমিহীনরা।

অবস্থান কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেওয়া পাঁচজনকে পরে জেলা প্রশাসকের কক্ষে ডেকে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়। সেই আশ্বাস পেয়ে কর্মসূচি শেষে শেষ হয়।

তবে বেতাগীর ভূমিহীনরা অভিযোগ করেছেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অবস্থানকালে বামনা উপজেলার একটি গোষ্ঠী রুহিতার চরে থাকা তিনটি ঘরে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫