দখল ও দূষণে অস্তিত্ব সংকটে বরগুনার খাকদোন নদ

এক সময়ের খরস্রোতা বরগুনা জেলা শহরের খাকদোন নদ এখন নাব্য সংকট, দখলদারত্ব ও অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণের চাপে অস্তিত্ব হারানোর পথে। পশ্চিমে বিষখালী নদী ও পূর্বে পায়রা নদীকে সংযুক্ত করা প্রায় ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নদটির অন্তত আট কিলোমিটার অংশ ইতোমধ্যে পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে। নদের দুই পাড় দখল করে বসতবাড়ি নির্মাণ, নির্বিচারে বর্জ্য ফেলা এবং একের পর এক নিচু সেতু নির্মাণে নদটি ক্রমেই মরা খালে পরিণত হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, খাকদোন নদে নির্মিত ২১টি নিচু সেতুর কারণে জোয়ারের সময়ও নৌযান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এসব সেতুর নিচ দিয়ে বড় নৌকা, ট্রলার কিংবা ইঞ্জিনচালিত লঞ্চ চলাচল করতে পারছে না। ফলে নদীপথে যোগাযোগ কার্যত বন্ধের পথে। পাশাপাশি নদীর তীরজুড়ে প্রভাবশালীদের অবৈধ দখল এবং শহরের আবর্জনা ফেলার কারণে নদীর স্বাভাবিক স্রোতধারা নষ্ট হয়ে গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিআইডব্লিউটিএর মাধ্যমে একাধিকবার ড্রেজিং করা হলেও উত্তোলিত বালু যথাযথভাবে অপসারণ করা হয়নি। বর্ষা মৌসুমে সেই বালুই আবার নদীতে ফিরে এসে নাব্য সংকট আরও বাড়িয়ে তুলছে। তাদের ভাষ্য, ‘ড্রেজিংয়ের নামে কোটি কোটি টাকা ব্যয় হলেও নদীর প্রকৃত কোনো উন্নয়ন হয়নি।’

বরগুনা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মোস্তফা কাদের বলেন, খাকদোন নদের প্রাণ ফেরাতে হলে বিষখালী থেকে পায়রা নদী পর্যন্ত পুরোনো নকশা অনুযায়ী পুনঃখনন জরুরি। একই সঙ্গে নদীর স্বাভাবিক স্রোতধারা নিশ্চিত করতে হবে এবং নিচু সেতুগুলোর পরিবর্তে পরিকল্পিত উচ্চ সেতু নির্মাণ করতে হবে।

বরগুনা জেলা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন কামাল বলেন, খাকদোন নদ দখলমুক্ত করতে বিভিন্ন সময় উদ্যোগের কথা শোনা গেলেও বাস্তবে তার কোনো ফল পাওয়া যায়নি। বছরের পর বছর ধরে প্রকল্পের কথা বলা হলেও কার্যকর কোনো কাজ দৃশ্যমান হয়নি। নদীর নাব্য ফেরাতে এখনো দৃঢ় ও কার্যকর পদক্ষেপের অভাব রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, খাকদোন নদের নাব্য পুনরুদ্ধারে একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল হান্নান প্রধান জানান, কেওড়াবুনিয়া থেকে পায়রা নদীর সংযোগস্থল হয়ে পশ্চিমে বিষখালী নদী পর্যন্ত প্রায় ২২ কিলোমিটার নদীপথ আগের নকশা অনুযায়ী প্রশস্ত করে পুনঃখননের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, বরগুনা জেলায় বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় অর্ধশতাধিক খাল খনন করা হয়েছে। পাশাপাশি কচুরিপানা অপসারণ ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। নদী ও খাল দখলমুক্ত করা একটি চলমান প্রক্রিয়া বলেও জানান তিনি। খাকদোন নদের দখলদারদের উচ্ছেদে সংশ্লিষ্ট সব বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে স্থানীয়রা মনে করছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে এক সময়ের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে যাবে। খাকদোন নদ বাঁচানো এখন বরগুনাবাসীর জন্য সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




নানা সংকটে বরগুনার শুঁটকিশিল্প, হুমকিতে উপকূলের ঐতিহ্য

প্রায় আট মাসের নীরবতা কাটিয়ে আবারও কর্মচাঞ্চল্য ফিরেছে বরগুনার উপকূলীয় শুঁটকিপল্লীগুলোতে। তালতলী উপজেলার আশারচর, নিদ্রারচর, সোনাকাটাসহ বিভিন্ন এলাকায় হাজারো জেলে, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীর পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে শুঁটকিপল্লী। মহাজনের কাছ থেকে দাদন নিয়ে পুরোদমে কাজে নেমেছেন জেলেরা। রোদে মাছ শুকাতে ব্যস্ত নারী-পুরুষ ও শিশু শ্রমিকরা। তবে প্রাণচাঞ্চল্যের আড়ালেই জমে উঠেছে নানা সংকট, যা ধীরে ধীরে হুমকির মুখে ফেলছে এই সম্ভাবনাময় শিল্পকে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রাকৃতিক ও বিষমুক্ত উপায়ে উৎপাদিত বরগুনার শুঁটকির চাহিদা দেশজুড়ে রয়েছে। সরকারি সহায়তা ও পরিকল্পিত উদ্যোগ পেলে এ শিল্প আরও বিকশিত হতে পারত। কিন্তু যোগাযোগব্যবস্থা, অবকাঠামোর অভাব, স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন সংকটসহ একাধিক সমস্যায় ঐতিহ্যবাহী শুঁটকিশিল্প আজ ধুঁকছে।

প্রতি বছর নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলে শুঁটকির মূল মৌসুম। তবে প্রস্তুতি শুরু হয় অক্টোবর থেকেই। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে জেলে ও শ্রমিকরা তালতলীর আশারচর, নিদ্রারচরসহ উপকূলীয় শুঁটকিপল্লীগুলোতে এসে কাজ শুরু করেন। পুরো মৌসুমজুড়ে দিন-রাত শুঁটকি উৎপাদনেই কাটে তাদের সময়।

এ বছর রাসায়নিক ও অতিরিক্ত লবণ ছাড়াই স্বাস্থ্যসম্মত শুঁটকি উৎপাদনের চেষ্টা করছেন ব্যবসায়ীরা। এতে শুঁটকির মান ভালো হচ্ছে বলে জানান তারা। মিঠা পানির দেশি মাছের শুঁটকির জন্য বিশেষভাবে পরিচিত আশারচর ও নিদ্রারচর। এ মৌসুমে এসব পল্লীতে সহস্রাধিক জেলে ও শ্রমিক কাজ করছেন।

ব্যবসায়ীরা জানান, আশারচর ও নিদ্রারচর থেকে প্রতি সপ্তাহে গড়ে প্রায় ১০০ মণ শুঁটকি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়। চট্টগ্রাম, খুলনা, জামালপুর, সৈয়দপুরসহ বিভিন্ন বাজারে এসব শুঁটকির চাহিদা রয়েছে। কিছু শুঁটকি বিদেশেও রপ্তানি হয়। তবে সরকারিভাবে রপ্তানির সুযোগ পেলে আরও বেশি লাভবান হওয়া সম্ভব বলে দাবি তাদের।

সরেজমিনে দেখা যায়, শুঁটকিপল্লীতে প্রায় ৫০টির মতো অস্থায়ী ঘরে জেলে ও শ্রমিকরা বসবাস করছেন। কেউ মাছ পরিষ্কার করছেন, কেউ মাচায় ছড়িয়ে দিচ্ছেন, আবার কেউ শুকনো মাছ সংগ্রহ করে গুদামজাত করছেন। নদী থেকে আনা মাছ নারী ও শিশু শ্রমিকরা পরিষ্কার করে ধুয়ে রোদে শুকান। তিন থেকে চার দিনের রোদে মাছ শক্ত হয়ে শুঁটকিতে পরিণত হয়।

এখানে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ প্রজাতির সামুদ্রিক ও মিঠা পানির মাছের শুঁটকি তৈরি হয়। এর মধ্যে রূপচাঁদা, ছুরি, লইট্টা, তপসে, কোরাল, চিংড়ি, ভোল, মেদসহ নানা জাতের মাছ রয়েছে। বর্তমানে ছুরি মাছের শুঁটকি কেজিপ্রতি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, রূপচাঁদা এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা এবং লইট্টা ৬০০ থেকে এক হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তবে লাভের আশার মধ্যেও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। ব্যবসায়ীরা জানান, প্রধান সড়ক থেকে শুঁটকিপল্লী পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা অত্যন্ত বেহাল। ট্রাক ঢুকতে না পারায় পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। ফলে লাভ কমে যাচ্ছে।

শুঁটকিপল্লীতে দীর্ঘদিন কাজ করা নারী শ্রমিক কুলসুম বেগম বলেন, “আমরা নারী-পুরুষ সবাই সমানভাবে কাজ করি, কিন্তু এখানে নারীদের জন্য কোনো টয়লেট ব্যবস্থা নেই। এতে আমাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। স্থায়ী টয়লেট ও টিউবওয়েলের ব্যবস্থা করা হলে অনেক উপকার হতো।”

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও শুঁটকিশিল্পের সংকটের কথা তুলে ধরছেন। সোনাকাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফরাজি মো. ইউনুছ বলেন, এক সময় এখানকার শুঁটকিশিল্পের সঙ্গে প্রায় তিন থেকে চার লাখ মানুষের জীবিকা জড়িত ছিল। কিন্তু বর্তমানে অবকাঠামো, যোগাযোগ, শিক্ষা ও চিকিৎসা সংকটের কারণে শিল্পটি পিছিয়ে পড়ছে। তিনি আরও বলেন, পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের অপরিশোধিত বর্জ্যে সাগরের পানি দূষিত হচ্ছে, এতে মাছের উৎপাদন কমে যাচ্ছে—যা শুঁটকিশিল্পের জন্য বড় হুমকি।

বরগুনার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন জানান, শুঁটকিশিল্প একটি সম্ভাবনাময় খাত। এখানে কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে। সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এদিকে তালতলীর ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেবক মণ্ডল জানান, শুঁটকিশিল্পকে এগিয়ে নিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে বরগুনার উপকূলীয় শুঁটকিপল্লী এখন সম্ভাবনা ও সংকট—দুটোরই মুখোমুখি। সময়মতো কার্যকর উদ্যোগ না নিলে দেশের এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পটি হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




‘রাজাকার’ বলাকে কেন্দ্র করে ভোলায় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ১৫

ভোলার সদর উপজেলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নে বিজয় দিবসের শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ‘রাজাকার’ বলাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এ সহিংসতায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। এ সময় কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগও উঠেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জেলা জামায়াতের উদ্যোগে ভোলা সদরে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। এতে সদর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের জামায়াত নেতাকর্মীরা অংশ নেন। বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে শোভাযাত্রাটি ভেলুমিয়া বাজার এলাকায় পৌঁছালে জামায়াত কর্মী আবুল বাশারকে ‘রাজাকার’ বলে মন্তব্য করেন বিএনপি কর্মী রিয়াজ। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি ও পরে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

একপর্যায়ে রিয়াজ চোখে আঘাত পান এবং উত্তেজনার মধ্যে বিএনপির কয়েকজন কর্মী আবুল বাশারকে মারধর করেন। পরে আহত দুজনকে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনার জেরে সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এশার নামাজের আগে বিএনপির নেতাকর্মীরা ভেলুমিয়া বাজারে বিজয় দিবস উপলক্ষে একটি মিছিল বের করেন। মিছিলটি চরন্দ্রপ্রসাদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছালে জামায়াত কর্মীদের সঙ্গে উভয় পক্ষের মধ্যে ফের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষ বেধে যায়।

সংঘর্ষ চলাকালে ইটপাটকেল নিক্ষেপ, হামলা ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে ভেলুমিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি আবদুল হান্নানসহ অন্তত ১৩ জন আহত হন। আহতদের কেউ স্থানীয়ভাবে, কেউ ভোলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। সংঘর্ষের সময় বাজারের পাঁচ থেকে ছয়টি দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনার পর রাত ৯টার দিকে ভোলা সদর উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে দলটি। সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা জামায়াতের আমির কামাল হোসেন দাবি করেন, বিএনপি নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে দুই দফা হামলা চালিয়ে জামায়াতের অন্তত ১০ জন নেতাকর্মীকে আহত করেছেন, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিজয় দিবসে জামায়াতের মিছিল মেনে নিতে না পেরে এই সহিংসতা চালানো হয়েছে।

অন্যদিকে ভেলুমিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম বলেন, দুপুরের ঘটনাটি নিয়ে রাতে আলোচনায় বসার কথা ছিল। কিন্তু রাতে বিএনপির বিজয় মিছিল চলাকালে কিছু জামায়াত-শিবির কর্মী উসকানিমূলক আচরণ করলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। তার দাবি, ইটপাটকেল নিক্ষেপের ফলে বিএনপিরও কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন।

এ বিষয়ে ভোলা সদর উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব হেলাল উদ্দিন বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক ভালো থাকলেও কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের কারণে জামায়াত সংঘাতমুখী অবস্থান নিয়েছে। নির্বাচন বানচাল করতেই তারা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও নৌবাহিনী মোতায়েন রয়েছে। উভয় পক্ষকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশালে নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ‘বানৌজা অদম্য’ প্রদর্শন

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বরিশালে সর্বসাধারণের জন্য বাংলাদেশ নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ‘বানৌজা অদম্য’ প্রদর্শন করা হয়েছে। এ প্রদর্শনী ঘিরে নগরবাসীর মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নগরীর কীর্তনখোলা নদীর তীরে মুক্তিযোদ্ধা পার্ক সংলগ্ন বিআইডব্লিউটিএ ঘাটে যুদ্ধজাহাজটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সাধারণ মানুষ চার ঘণ্টা ধরে জাহাজে প্রবেশ করে পরিদর্শনের সুযোগ পান।

দুপুরের পর থেকেই যুদ্ধজাহাজটি দেখতে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ ও শিশুদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে অনেকেই জাহাজ পরিদর্শনে আসেন। কাছ থেকে নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ দেখার সুযোগ পেয়ে দর্শনার্থীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

নতুন বাজার এলাকার বাসিন্দা বিধান মণ্ডল বলেন, “যুদ্ধজাহাজ সাধারণ মানুষের দেখার সুযোগ খুব একটা পাওয়া যায় না। বিজয় দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনে এমন আয়োজন আমাদের জন্য গর্বের।”

রূপাতলী এলাকার এক অভিভাবক বলেন, “শিশুদের নৌবাহিনী সম্পর্কে ধারণা দেওয়া এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করার জন্যই এখানে নিয়ে এসেছি। জাহাজটি ঘুরে দেখতে পেরে আমরা সবাই খুব আনন্দিত।”

যুদ্ধজাহাজটির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আরিফ হোসেন বলেন, “বানৌজা অদম্য সমুদ্রে আন্তঃ ও বহিঃশত্রু মোকাবিলায় সক্ষম একটি আধুনিক যুদ্ধজাহাজ। দেশের সামুদ্রিক সম্পদ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এটি নিয়মিত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, সাধারণ জনগণকে নৌবাহিনীর সক্ষমতা ও কার্যক্রম সম্পর্কে জানাতেই বিজয় দিবসে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।

প্রদর্শনী চলাকালে জাহাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত নৌসদস্যরা দর্শনার্থীদের জাহাজের বিভিন্ন অংশ, সরঞ্জাম ও কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে বেড়েছে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ

শয্যা সংকটে এক বেডে চিকিৎসা নিচ্ছে তিন শিশু

বরিশালে হঠাৎ করে ঠান্ডা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে শিশুরা। রোগীর চাপ সামলাতে না পেরে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে তীব্র শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একটি বেডে তিনজন শিশুকে একসঙ্গে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি হওয়া অধিকাংশ শিশুই নিউমোনিয়া, জ্বর, ঠান্ডা, কাশি ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় আক্রান্ত। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিনই রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অন্তত তিনগুণ বেশি শিশু রোগী ভর্তি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি বেডেই অতিরিক্ত রোগী। মেঝেতেও অনেক শিশুকে শুইয়ে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। মেহেন্দীগঞ্জ থেকে আসা আরজু বেগম বলেন, “আমার ছেলেটা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। অনেক কষ্টে একটা বেড পেলেও সেখানে আরও দুইজন রোগী আছে। ঠিকমতো বসা বা শোয়ার জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না।”

একাধিক রোগীর স্বজন জানান, একই বেডে তিনজন শিশুকে রেখে চিকিৎসা দিতে হওয়ায় শিশু ও অভিভাবক—উভয়েই চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। প্রয়োজনীয় বিশ্রাম ও স্বাচ্ছন্দ্য না থাকায় রোগীদের কষ্ট আরও বেড়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মো. নুরুল আলম বলেন, “শীতকালে শিশুদের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে। শিশুদের গরম কাপড় পরানো, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, গরম পানি পান করানো ও প্রয়োজনে গরম পানি দিয়ে গোসল করানো জরুরি। এতে অনেক ক্ষেত্রে বাসাতেই প্রাথমিক চিকিৎসা সম্ভব।”

তিনি আরও বলেন, রোগীর চাপ অনেক বেড়েছে। কিছুটা চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হলেও চিকিৎসাসেবায় কোনো ঘাটতি রাখা হচ্ছে না।

হাসপাতালের উপ-পরিচালক একেএম নাজমুল আহসান বলেন, “রোগীর সংখ্যা বেশি হলেও সবাইকে চিকিৎসার আওতায় আনা হচ্ছে। যেসব শিশু বেশি সংকটাপন্ন, তাদের বিশেষভাবে নজরদারিতে রাখা হচ্ছে।”

হাসপাতাল সূত্র জানায়, শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে অনুমোদিত শয্যা রয়েছে মাত্র ৪১টি। অথচ প্রতিদিন শতাধিক শিশু সেখানে ভর্তি থাকছে। এ ছাড়া বহির্বিভাগে প্রতিদিন চিকিৎসা নিচ্ছে প্রায় পাঁচ শতাধিক শিশু, যাদের অধিকাংশই ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত।

চিকিৎসকরা বলছেন, শীতের এই সময়টায় শিশুদের প্রতি বাড়তি যত্ন ও সতর্কতা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালের একদিন, মুক্তিযুদ্ধের বহুদিন

মঙ্গলবারের সকালটা শুরু হয়েছিল নীরব শ্রদ্ধা আর গভীর আবেগে। ঘড়ির কাঁটা তখন সকাল ৯টা পেরিয়েছে। বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সংলগ্ন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির সদস্যরা। লাল-সবুজের আবরণে মাথা নত করে তাঁরা যেন ফিরে তাকাচ্ছিলেন ১৯৭১ সালের রক্তাক্ত অথচ গৌরবময় দিনগুলোর দিকে।

এরপর ইতিহাসের পথে হাঁটা শুরু হয় নতুনভাবে। সদর রোডে বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির নিজস্ব কার্যালয়ে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধের তথ্য, চিত্র ও দলিলপত্রের ২১তম প্রদর্শনী। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে দিনব্যাপী এ আয়োজন যেন পরিণত হয় একটি জীবন্ত আর্কাইভে—যেখানে অতীত কথা বলে, স্মৃতি জেগে ওঠে।

প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মজিবর রহমান সরোয়ার। তিনি বলেন, “মুক্তিযুদ্ধ শুধু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। এ দেশের মানুষের স্মৃতিতে, চেতনায় তা বাঁচিয়ে রাখতে হবে। নতুন প্রজন্মকে সেই ইতিহাসের কাছে পৌঁছে দিতেই এমন আয়োজন জরুরি।”

প্রদর্শনী কক্ষে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে সারি সারি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গ্রন্থ—তিন শতাধিক বই আর তিন শতাধিক দুর্লভ আলোকচিত্র। কোথাও যুদ্ধের অভিযানের দৃশ্য, কোথাও প্রশিক্ষণের মুহূর্ত, কোথাও শহীদদের মুখ। ইতিহাসের নীরব ভাষা যেন ছবিতে ছবিতে কথা বলে।

এক কোণে রাখা গানবোটের কামানের গোলা আর শত্রুপক্ষের নৌযান ধ্বংসে ব্যবহৃত মাইনের খণ্ডাংশ দর্শনার্থীদের কৌতূহল বাড়িয়ে তোলে। স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীরা থমকে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করে—এগুলো কি সত্যিই যুদ্ধে ব্যবহার হয়েছিল? উত্তরে ভেসে আসে ইতিহাসের নিরব সাক্ষ্য।

সম্মেলন কক্ষের পথে এগোলে দেখা মেলে রেডিও, সাইক্লোস্টাইল মেশিন, বরিশাল সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে স্থাপিত দক্ষিণাঞ্চলীয় সচিবালয়ের মুক্তিযুদ্ধকালীন নথিপত্র। আলাদা করে দৃষ্টি কাড়ে হাতে লেখা বাংলাদেশের প্রথম সংবিধান—কালির রেখায় রেখায় স্বাধীনতার শপথ।

প্রদর্শনীতে আরও রয়েছে চারটি বন্দুক, নৌ-কমান্ডোদের ব্যবহৃত পোশাক, মুক্তিযুদ্ধের পর বরিশালে নির্মিত প্রথম ভাস্কর্য ‘বিজয় বিহঙ্গ’-এর নকশা। পাশাপাশি রাখা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধকালীন বরিশাল থেকে প্রকাশিত পত্রিকা বিপ্লবী বাংলাদেশ এবং শান্তি কমিটির একটি চিঠি—ইতিহাসের দুই বিপরীত মুখ যেন পাশাপাশি দাঁড়িয়ে।

মুক্তিযুদ্ধের স্থিরচিত্রের সামনে ভিড় করে দাঁড়ায় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। কেউ মোবাইলে ছবি তোলে, কেউ নীরবে দেখে, কেউ প্রশ্ন করে শেখে। ইতিহাস যেন পাঠ্যবইয়ের পাতা ছেড়ে নেমে আসে চোখের সামনে।

এ আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আনিচুর রহমান খান স্বপন, সাধারণ সম্পাদক খালিদ সাইফুল্লাহ, বিজয় দিবস উদযাপন পর্ষদের আহ্বায়ক সুশান্ত ঘোষ, সদস্যসচিব রবিউল ইসলামসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

দিন শেষে স্পষ্ট হয়ে ওঠে—এটি শুধু একটি প্রদর্শনী নয়, এটি প্রজন্মের সঙ্গে প্রজন্মের সেতুবন্ধন। বরিশালের এই একদিনে মুক্তিযুদ্ধ যেন আবার হেঁটে গেছে সদর রোডের বুক চিরে, ইতিহাস হয়ে উঠেছে জীবন্ত।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বিজয় দিবসে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সাদামাটা আয়োজন, ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) অত্যন্ত সাদামাটা আয়োজনে দিনটি উদযাপন করায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন আয়োজনকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন তারা।

দিবসটি উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় একটি সংক্ষিপ্ত বিজয় র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। এরপর দুপুর আড়াইটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক কমিটির আয়োজনে মুক্তমঞ্চে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হলেও সেখানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। অনুষ্ঠানস্থলে ছিল না উল্লেখযোগ্য কোনো সাজসজ্জা বা উৎসবের আমেজ।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় দিবসের এমন নীরব ও অনাড়ম্বর আয়োজন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং শহিদদের আত্মত্যাগের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের পরিপন্থী।

এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিজয় দিবস উপলক্ষে ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের আলোকসজ্জা কিংবা দৃশ্যমান আনুষ্ঠানিকতার চিহ্ন দেখা যায়নি। প্রশাসনের এমন উদাসীনতা গভীর উদ্বেগজনক। মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস বা শিথিলতার সুযোগ নেই বলেও উল্লেখ করা হয়।

ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুম বিল্লাহ বলেন, “আগে বিজয় দিবস উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কারের আয়োজন করা হতো। এবার তা দেখা যায়নি। শিক্ষার্থীদের সমালোচনার মুখে পড়ে পরে আলোকসজ্জা দেওয়া হচ্ছে।”

বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম বলেন, “একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজয় দিবসের এমন সাদামাটা আয়োজন কোনোভাবেই কাম্য নয়। এটি হতাশাজনক। অনেক কলেজেও এর চেয়ে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন দেখা যায়।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, “বিজয় দিবসের আয়োজন কিভাবে করা হবে, সে বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৬ ও ১৭ ডিসেম্বর ক্যাম্পাসে আলোকসজ্জার আয়োজন করার কথা ছিল।”




পাবনায় জমি বিরোধে চাচাতো ভাইয়ের গুলিতে বিএনপি নেতা নিহত

পাবনার ঈশ্বরদীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে চাচাতো ভাইয়ের গুলিতে এক ইউনিয়ন বিএনপি নেতা নিহত হয়েছেন। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলার লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তির নাম বীরু মোল্লা (৪৮)। তিনি কামালপুর গ্রামের আবুল মোল্লার ছেলে এবং লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ছিলেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বীরু মোল্লার চাচাতো ভাই জহুরুল মোল্লা পারিবারিকভাবে বিরোধপূর্ণ একটি জমি থেকে মাটি কাটতে শুরু করেন। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও আপত্তি জানাতে বুধবার সকালে বীরু মোল্লা কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে জহুরুল মোল্লার বাড়িতে যান।

এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে জহুরুল মোল্লা ও তার ছেলে ফাঁকা গুলি ছুড়ে বীরু মোল্লা ও তার সঙ্গে থাকা লোকজনকে চলে যেতে বলেন। তবে তারা সেখান থেকে না গেলে পুনরায় তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। এতে বীরু মোল্লা মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠায়। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিনুজ্জামান বলেন,
“পারিবারিক জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে কথা বলতে গিয়েছিলেন নিহত ব্যক্তি। বাড়ির ভেতর থেকে গুলি চালানো হয়। মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।”

এই হত্যাকাণ্ডে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।




আজ ১৬ ই ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন ভূখণ্ডের আত্মপ্রকাশের দিন আজ ১৬ ডিসেম্বর। মহান বিজয় দিবস।

ইতিহাসে সবচেয়ে অহংকার ও বীরত্বের গৌরবময় দিন। বিভীষিকাময় দীর্ঘ নয় মাসের পরিসমাপ্তির দিন। পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন ভূখণ্ডের আত্মপ্রকাশের দিন।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতের পর মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণার মধ্য দিয়ে শুরু হয় রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ । আর লাখো শহিদের রক্তের বিনিময়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় আমাদের মহান বিজয়। পাকিস্তানি বাহিনীর কমান্ডিং অফিসার জেনারেল নিয়াজি তার বাহিনীর ৯৩ হাজার সদস্য নিয়ে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী (রেসকোর্স) উদ্যানে যৌথ বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেন এদিন।

মহান বিজয় দিবস উদ্‌যাপনে জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। আজ প্রত্যুষে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির সূচনা হবে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস সাভার জাতীয় স্মৃতি সৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।

এরপর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টার নেতৃত্বে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।

বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশি কূটনীতিক, মুক্তিযুদ্ধে মিত্রবাহিনীর সদস্য হিসেবে অংশগ্রহণকারী আমন্ত্রিত ভারতীয় সেনাবাহিনীর সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন।

বিজয় দিবস উপলক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনাগুলো আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে। দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আজ সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করছে।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বাংলাদেশ শিশু একাডেমিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আলোচনা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, শিশুদের চিত্রাঙ্কন, রচনা প্রতিযোগিতা ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করবে আজ।

মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। এতিমখানা, বৃদ্ধাশ্রম, হাসপাতাল, জেলখানা, সরকারি শিশু সদনসহ অনুরূপ প্রতিষ্ঠানগুলোয় উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। বিদেশে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনগুলোও দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে অনুরূপ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে।

আজ তেজগাঁও পুরানা বিমানবন্দরে সর্বোচ্চসংখ্যক জাতীয় পতাকা নিয়ে প্যারাশুট জাম্পিং অনুষ্ঠানের কারণে মেট্রোরেল ৪০ মিনিট বন্ধ থাকবে। বিকালে রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা জানাবেন।




ট্রাক নিয়ে এসে স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : রোববার (১৫ ডিসেম্বর)দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে বরিশালের আগৈলঝাড়ায় একটি স্বর্ণের দোকানে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। দোকান থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকার স্বর্ণ ও রৌপ্য লুট করা হয়।

পরে দিন  সোমবার সকালে ডাকাতির বিষয়টি জানাজানি হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সংঘবদ্ধ একটি ডাকাত চক্র‍ রাত আড়াইটার দিকে একটি ট্রাক নিয়ে এসে আগৈলঝাড়ার বাশাইল বাজারের ‘বিশ্বজিৎজুয়েলার্সের’ তালা ভেঙে দোকানে প্রবেশ করে। এ সময় দোকানে থাকা প্রায় দুই ভরি স্বর্ণ ও রৌপ্য লুটে নেয়। পরে সোমবার সকালে দোকান মালিক বিল্পব মল্লিক দোকান খুলে জিনিসপত্র এলোমেলো দেখে চুরির বিষয়টি বুঝতে পারেন।

আগৈলঝাড়া থানার ওসি মো. মাসুদ খান জানান, সিসি টিভি ক্যামেরা বিশ্লেষণ করে চোরচক্রের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।