পুলিশ ফাঁড়িতে তালাবদ্ধ হয়ে থাকছে সদস্যরা: ব্যারিস্টার ফুয়াদ

বরিশাল-৩ আসনে নির্বাচনী পরিবেশ ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ করেছেন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। তিনি দাবি করেন, ভোটারদের মধ্যে ভয়ভীতি সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং নারী কর্মী ও সমর্থকদের নানাভাবে হুমকি ও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রহমতপুর বাজার এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, তিনি এমন সব এলাকায় গণসংযোগ করছেন, যেখানে আগে কোনো প্রার্থী পৌঁছাননি। ভোটারদের কাছ থেকেই তিনি শুনেছেন—তাদের এলাকায় এই প্রথম কোনো প্রার্থী সরাসরি এসেছেন। এভাবেই তিনি জনগণের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন বলে জানান।
তিনি বলেন, ভোটারদের প্রধান উদ্বেগ নিরাপত্তা নিয়ে। তারা জানতে চাইছে—ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবে কি না এবং ভোট দেওয়ার পর এলাকায় নিরাপদে থাকতে পারবে কি না। এই অনিশ্চয়তা গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য বড় হুমকি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ব্যারিস্টার ফুয়াদের অভিযোগ, একটি বড় রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠী এলাকায় সন্ত্রাস ও আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। তারা মূলধারার রাজনৈতিক কর্মী নয়; বরং হাইব্রিড অপরাধী ও গ্যাংস্টার। এরা ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে নিরুৎসাহিত করছে এবং নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দিলে বিপদের হুমকি দিচ্ছে।
তিনি দাবি করেন, মুলাদীর একাধিক এলাকায় তাঁর জোটের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে নারী ভোটার ও নারী কর্মীদের লক্ষ্য করে ভয়াবহ হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ধর্ষণ, শারীরিক নির্যাতন, এলাকা ছাড়া করা ও মিথ্যা মামলা দেওয়ার ভয় দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে সংখ্যালঘু পরিবারগুলোকেও হয়রানি করা হচ্ছে বলে জানান।
ব্যারিস্টার ফুয়াদ আরও বলেন, ভোটকেন্দ্র দখল ও ভোটারদের ভয় দেখানো চক্রের সদস্যদের নাম ও ছবি সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থার কাছে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, ভোটকেন্দ্রের আধা কিলোমিটারের মধ্যে কোনো বেআইনি তৎপরতা দেখা দিলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মুলাদীর বাটামারা ও ছবিপুর এলাকায় বোমা বিস্ফোরণের প্রস্তুতির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এসব এলাকায় সন্ধ্যার পর পুলিশ সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতার কারণে দরজা-জানালা বন্ধ করে ফাঁড়িতে বসে থাকতে বাধ্য হচ্ছে। তাঁর মতে, যৌথ বাহিনীর সমন্বিত অভিযান ছাড়া এসব এলাকায় নির্ভয়ে ভোটগ্রহণ সম্ভব নয়।
ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর বিষয়ে তিনি বলেন, এই আসনের অনেক ভোটকেন্দ্রই অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এমন পরিস্থিতিতে প্রয়োজন হলে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সমন্বিত ব্যবহারের এখতিয়ার সরকারের রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর আহ্বান জানান।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫








