পায়রার গ্রাসে দুমকি, ভিটেমাটি হারাচ্ছে শতাধিক পরিবার

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় পায়রা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে নদী তীরবর্তী শতাধিক পরিবার একেবারে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। দিনের পর দিন নদীর গর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি ও গাছপালা। ভাঙন ঠেকাতে দীর্ঘ সময়েও কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষজন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দুমকির আঙ্গারিয়া, বাহেরচর ও পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের আলগী গ্রাম এলাকায় ভাঙন সবচেয়ে তীব্র আকার ধারণ করেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, লেবুখালী থেকে আলগী গ্রাম পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় ওয়াপদা বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। এতে শতাধিক ঘরবাড়ি একের পর এক নদীতে চলে গেছে। অনেক পরিবার ঘর হারিয়ে বাধ্য হয়ে সরকারি সড়কের পাশে খোলা আকাশের নিচে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র নিয়ে আশ্রয় নিচ্ছে।

ভাঙনকবলিত এলাকার নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি। প্রতিদিনই নতুন করে ভাঙনের শঙ্কায় তারা রাত কাটাচ্ছেন। আলগী গ্রামের ইউপি সদস্য সরোয়ার শিকদার বলেন, এখন মানুষের মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকুও নিরাপদ নেই। ভাঙনের কারণে শুধু বসতবাড়ি নয়, জীবন-জীবিকা সবকিছুই ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।

ভুক্তভোগী সাইফুল ইসলাম জানান, গত পাঁচ থেকে ছয় বছরে নদী ভাঙনে গ্রামের শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও বাগান নদীগর্ভে চলে গেছে। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণ বা পুনর্বাসনের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা এখনো চোখে পড়ছে না। অনেক পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

এ বিষয়ে দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদা সুলতানা বলেন, পায়রা নদীর ভাঙনের বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিব জানান, নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে একটি প্রকল্প প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন মিললে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পায়রা নদীর ভাঙন আরও বিস্তৃত হবে। এতে শুধু কয়েকটি গ্রাম নয়, পুরো এলাকার মানুষের জীবন ও ভবিষ্যৎ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে। ভাঙনরোধে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আবু সাঈদ হত্যা মামলায় কড়া অবস্থান, ভিসিসহ আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি চায় রাষ্ট্র

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) তৎকালীন উপাচার্য হাসিবুর রশীদসহ মোট ৩০ জন আসামির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে টানা শুনানি ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পর প্রসিকিউশন এই অবস্থান স্পষ্ট করে।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ মামলার তৃতীয় দিনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন ট্রাইব্যুনালের সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের প্যানেল। প্যানেলের অপর সদস্য ছিলেন জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম আদালতে মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ উপস্থাপন করেন। যুক্তিতর্কের একপর্যায়ে তিনি ২০২৪ সালের ১৬ জুলাইয়ের ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ট্রাইব্যুনালে প্রদর্শন করেন। ওই ফুটেজে আবু সাঈদ হত্যার সময় বেরোবি ক্যাম্পাসের মূল ফটক এলাকায় সংশ্লিষ্ট আসামিদের অবস্থান ও গতিবিধি তুলে ধরা হয়।

প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ভিডিওচিত্র বিশ্লেষণ করে দেখান, ঘটনার মুহূর্তে কে কোথায় ছিলেন এবং কার কী ভূমিকা ছিল। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, এই ফুটেজ মামলার অন্যতম শক্তিশালী প্রমাণ, যা আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগকে আরও দৃঢ় করে।

যুক্তিতর্ক শেষ করে ট্রাইব্যুনালের উদ্দেশে প্রসিকিউটর বলেন, এই পর্যায়ে রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য উপস্থাপন শেষ হয়েছে এবং তারা অভিযুক্ত সকল আসামির জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করছেন।

রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি শেষ হওয়ার পর আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শুরু হয়। আসামিদের পক্ষে আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো আদালতে বক্তব্য দেন। তিনি বেরোবির তৎকালীন প্রক্টর শরিফুল ইসলামসহ তিনজন আসামির পক্ষে আইনি লড়াই করছেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, এ মামলায় অভিযুক্ত ৩০ জনের মধ্যে বর্তমানে ছয়জন কারাগারে রয়েছেন। রোববার সকালে তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। কারাবন্দি আসামিরা হলেন—এএসআই আমির হোসেন, বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল এবং আনোয়ার পারভেজ।

অন্যদিকে, মামলার প্রধান অভিযুক্ত বেরোবির তৎকালীন উপাচার্য হাসিবুর রশীদসহ আরও ২৪ জন আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, এই হত্যা শুধু একজন শিক্ষার্থীর প্রাণহানি নয়, বরং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ওপর সরাসরি আঘাত। তাই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমেই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




নিরাপত্তা শঙ্কায় থানায় জিডি, আতঙ্কে হাদির পরিবার

নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন শহীদ ওসমান হাদির মেঝো ভাই ওমর বিন হাদি। দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তাহীনতা, হত্যার আশঙ্কা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের শিকার হওয়ায় বাধ্য হয়ে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা চান।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর শাহবাগ থানায় এই জিডি করা হয়। জিডিতে ওমর বিন হাদি উল্লেখ করেন, ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই তিনি এবং হাদির সন্তান চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এখনো হত্যাকাণ্ডে জড়িত মূল অপরাধী চক্র গ্রেপ্তার না হওয়ায় যে কোনো সময় তাদের ওপর হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

জিডির বিবরণে বলা হয়, হত্যার ঘটনার পর থেকে পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একাধিক গ্রুপ ও ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে পরিবারের সুনাম নষ্ট করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে ওমর বিন হাদিকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়।

ওমর বিন হাদি জিডিতে আরও জানান, এসব হুমকি ও অপপ্রচারের কারণে তিনি এবং হাদির সন্তান মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। স্বাভাবিক জীবনযাপন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কায় তারা সার্বক্ষণিক আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

এ বিষয়ে রমনা জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম বলেন, ওসমান হাদির পরিবারের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা শঙ্কার কথা উল্লেখ করে শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ সূত্র জানায়, জিডির ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। হুমকি ও অপপ্রচারের পেছনে কারা জড়িত, তা শনাক্ত করতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তাও নেওয়া হতে পারে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




প্যারোলে মুক্তির খবর ভুয়া, জানাল জেলা প্রশাসন

বাগেরহাট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামের স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে প্যারোলে মুক্তি নিয়ে যে তথ্য বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, তা সঠিক নয় বলে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যশোর জেলা প্রশাসন।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মিডিয়া সেলের সহকারী কমিশনার আশীষ কুমার দাস বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বন্দি জুয়েল হাসান সাদ্দামের পক্ষ থেকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, যশোর কিংবা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষের কাছে প্যারোলে মুক্তির জন্য কোনো ধরনের লিখিত বা আনুষ্ঠানিক আবেদন করা হয়নি।

জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, জুয়েল হাসান সাদ্দাম গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর বাগেরহাট জেলা কারাগার থেকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তরিত হন। তার স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াতে শুরু হয়, যার মধ্যে প্যারোলে মুক্তির আবেদন প্রত্যাখ্যানের দাবিও ছিল।

তবে জেলা প্রশাসন জানায়, সময়ের স্বল্পতা ও পারিবারিক বাস্তবতার কারণে জুয়েলের পরিবার প্যারোলে মুক্তির আবেদন না করে মরদেহ কারা ফটকে দেখানোর সিদ্ধান্ত নেয়। পরিবারের মৌখিক অনুরোধের প্রেক্ষিতে কারা কর্তৃপক্ষ ঊর্ধ্বতন মহলের সঙ্গে যোগাযোগ করে মানবিক বিবেচনায় কারাগারের ফটকে মরদেহ দেখানোর ব্যবস্থা করে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বন্দির স্ত্রীর নামে লেখা একটি চিঠি ও বন্দি অবস্থায় তোলা কয়েকটি ছবি নিয়েও বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে বলে জানায় জেলা প্রশাসন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব চিঠি ও ছবির সঙ্গে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

জেলা প্রশাসন আরও জানায়, ‘আবেদন করা হলেও প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়নি’—এমন দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। কারণ, প্যারোলে মুক্তি সংক্রান্ত কোনো আবেদনই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা পড়েনি।

বিষয়টি পরিষ্কার করার পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোকে দায়িত্বশীলতা ও তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে না পড়ে এবং জনমনে ভুল বার্তা না যায়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




স্কুলে শিশু নির্যাতনের ঘটনায়‘শারমিন একাডেমি’ ব্যবস্থাপক গ্রেফতার

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ:একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনার ঝড় তুলেছে সেখানে দেখা যাচ্ছে একটি স্কুলে চার বছরের কম বয়সী  একটি বাচ্চাকে নির্যাতনের করা হচ্ছে । এই ঘটনা ঘটেছে রাজধানীর নয়াপল্টন এলাকায়, “শারমিন একাডেমি” নামক একটি প্রতিষ্ঠানে ।

উক্ত ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার মামলা করলে স্কুলের ব্যবস্থাপক পবিত্র কুমার কুমার বড়ুয়াকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার ভোরে মিরপুর এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গত ১৮ জানুয়ারি নয়াপল্টনের ‘শারমিন একাডেমি’ নামের ওই স্কুলে প্রি-প্লে শ্রেণির এক শিশুকে নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, শারমিন একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও স্কুলের প্রধান শিক্ষকের স্বামী পবিত্র কুমার।

বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ বলেন, আজ ভোরে মিরপুর এলাকার একটি বাসা থেকে পল্টন থানার পুলিশ পবিত্র কুমার কুমার বড়ুয়াকে গ্রেফতার করে। এছাড়া পুলিশের আরেকটি দল আরেক আসামি স্কুলের প্রধান শিক্ষক শারমিন জাহানকে গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে। তাকেও গ্রেফতার করা হবে দ্রুত। পবিত্র কুমার কুমার বড়ুয়া এখন পল্টন থানায় আছেন।




সব ধর্মের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: আজ শুক্রবার ভোর চারটায় নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের পাঁচরুখী বেগম আনোয়ারা ডিগ্রি কলেজ মাঠে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ ‍নির্বাচনে নির্বাচনী জনসভায় তারেক রহমান বলেন –

রাষ্ট্রকে পুনর্গঠন ও মেরামত করতে হলে সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে এগোতে হবে। মুসলমান, হিন্দু, খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধ—সবাই হাজার বছর ধরে এ দেশে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত রাখতে হবে।

আড়াইহাজারের এই মাঠে সিলেট জেলা থেকে শুরু করা নির্বাচনী সমাবেশের শেষ ছিল এটি।

তারেক রহমান বলেছেন, দেশের মানুষ ভালো একটি পরিবর্তন চায়, একটি নিরাপদ রাষ্ট্র চায়, যেখানে সবাই নিরাপদে বসবাস, ব্যবসা-বাণিজ্য ও চলাচল করতে পারবে।
আসন্ন নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, বিগত ১৫ বছরে জনগণ ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি। আন্দোলন-সংগ্রাম ও শহীদদের ত্যাগের মাধ্যমে ফিরে পাওয়া ভোটাধিকার আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে।

জনসভায় তারেক রহমান বলেন, ভোটের আগে একটি বাহিনী, একটি গোষ্ঠী ষড়যন্ত্র করছে। নিরীহ মা-বোনদের কাছ থেকে এনআইডি ও মুঠোফোন নম্বর সংগ্রহ করে নিয়ে যাচ্ছে। প্রবাসীদের ব্যালট দখল করে নিয়েছে।বিএনপি চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘তাদের সঙ্গে গত ১৫ বছরের নিশিরাতের নির্বাচন ও ভোট ডাকাতির নির্বাচনের কোনো পার্থক্য আছে? তাদের সঙ্গে ওদের কোনো পার্থক্য নেই। দুজন একই গ্রুপের। একজন ষড়যন্ত্র করে ভোট নিতে চায় এবং আরেকজন ডাকাতি করে ভোট নিয়ে গেছে। তাদের ব্যাপারে সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। মা-বোনদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা, এটার ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে।’

বিএনপি ক্ষমতায় এলে লাখ লাখ বেকার তরুণ ও যুবকের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘শুধু গার্মেন্টসশিল্প দিয়ে হবে? নতুন নতুন শিল্প স্থাপন করতে হবে। দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি বিদেশগামী কর্মীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উচ্চ আয়ের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে।’

 




আগামী নির্বাচনে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে: মেজর হাফিজ

আওয়ামী লীগের টানা ১৬ বছরে দেশের মানুষ নির্বাচনের নামে প্রহসনের শিকার হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ভোলা-৩ আসনের দলীয় মনোনীত প্রার্থী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে প্রকৃত অর্থে গণতন্ত্র ফেরানোর একটি বড় সুযোগ।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে ভোলার লালমোহন পৌরশহরের শ্রী শ্রী মদন মোহন জিউ মন্দির প্রাঙ্গণে উপজেলার হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

মেজর হাফিজ বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনের মাধ্যমেই বাংলাদেশের মাটিতে গণতন্ত্র দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে। দীর্ঘদিন ধরে মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। এবার জনগণ অবাধ ও নিরাপদ পরিবেশে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবে।

তিনি আরও বলেন, সবাইকে ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে। যারা বাংলাদেশকে সুখী ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করতে পারবে, সেই দলের যোগ্য প্রার্থীকে প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করতে হবে। আগামীর বাংলাদেশ হবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ—যেখানে সবাই শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাস করবে।

মেজর হাফিজ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়েই দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে।

শ্রী শ্রী মদন মোহন জিউ মন্দির কমিটির সভাপতি নীরব কুমার দে’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন লালমোহন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জাফর ইকবাল, সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম বাবুল, পৌর বিএনপির সভাপতি মো. ছাদেক মিয়া জান্টু, সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান বাবুল পাটোয়ারীসহ উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




অপরাধ না করা আ.লীগ নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা সরকারের দায়িত্ব: ফয়জুল করীম

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির ও বরিশাল সদর-বাকেরগঞ্জ আসনে দলটির মনোনীত প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মোহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেছেন, আওয়ামী লীগের যেসব নেতাকর্মী কোনো অপরাধে জড়িত নন, তাদের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের। তারা যাকে ইচ্ছা তাকেই ভোট দেওয়ার অধিকার রাখেন।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে নির্বাচনী প্রতীক গ্রহণের পর দুপুরে বরিশাল প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ফয়জুল করীম অভিযোগ করে বলেন, অনেক ক্ষেত্রে আসামি না হলেও যাকে-তাকে পুলিশ ধরে নিয়ে যাচ্ছে। বিগত সময়ে মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি যেন মানুষ নিরাপত্তার সঙ্গে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সে পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচনে প্রশাসন যেন একদিকে ঝুঁকে না পড়ে। কালো টাকা ও দখলদারিত্বের ব্যবহার যাতে না হয়, সেদিকেও নজর দিতে হবে।

তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কাউকে হয়রানি করা যাবে না। হয়রানি চলতে থাকলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকবে না।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ফয়জুল করীম বলেন, বর্তমানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নতুন করে কোনো জোটে যাওয়ার সুযোগ দেখছে না। তবে যদি শরিয়াভিত্তিক কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে আইন প্রণয়নের সুযোগ তৈরি হয়, তখন পরিস্থিতি বিবেচনা করা হবে।

তিনি বলেন, “আমাদের এক সময়ের জোটের মূল থিম ছিল ইসলামের পক্ষে একটি বাক্স। কিন্তু পরে দেখা গেল তারা ইসলামের নীতি থেকে সরে গেছে। তাই ইসলামী আন্দোলন জোট ছেড়েছে। এখন ইসলামের পক্ষে হাতপাখার একটি বাক্স রয়েছে।”

জামায়াতের সঙ্গে জোটগতভাবে ভোট না করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এককভাবেই মাঠে থাকবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। ইনসাফের বাংলাদেশ গড়তে গণমাধ্যমকে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করতে হবে। নির্বাচিত হলে তিনি দুর্নীতিমুক্ত বরিশাল গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

মতবিনিময় সভায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব ও বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) আসনের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি সৈয়দ এছহাক মোহাম্মাদ আবুল খায়েরসহ দলটির জেলা ও মহানগরের সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




উন্নয়ন কাজ দেখতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ইউপি সদস্যের মৃত্যু

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় উন্নয়ন কাজ পরিদর্শনে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মো. মোহসিন নামে এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার বয়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মোহসিন বলদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য ছিলেন। তিনি বয়া গ্রামের মো. শাহবুদ্দিন মিয়ার ছেলে।

নিহতের বড় ভাই মো. মহিউদ্দিন আহম্মদ জানান, সকালে মোহসিন নিজ ওয়ার্ডের একটি লোহার সেতু (লোহারপুল) মেরামতের কাজ পরিদর্শনে যান। এ সময় অসাবধানতাবশত ওয়েলডিং মেশিনের বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে পড়েন তিনি। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো. শাহিন হোসাইন বলেন, “হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।”

এদিকে মোহসিনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইদুল ইসলাম সাঈদ। তিনি বলেন, “মোহসিন একজন সৎ, পরিশ্রমী ও জনবান্ধব জনপ্রতিনিধি ছিলেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। বলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ একজন দক্ষ ও দায়িত্বশীল সদস্যকে হারাল।”

একজন জনপ্রতিনিধির এভাবে কর্মস্থলে প্রাণ হারানোতে এলাকায় ব্যাপক শোক ও আলোড়নের সৃষ্টি হয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




গণভোটের আইনি ভিত্তি নেই: মেজর (অব.) হাফিজ

গণভোটের কোনো আইনগত ভিত্তি নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, একটি বিশেষ গোষ্ঠী জনগণের ওপর এই সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়েছে এবং যেভাবে গণভোটের প্রচার চালানো হচ্ছে, তাতে নানা ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে ভোলার লালমোহন উপজেলার উত্তর বাজার এলাকায় মদন মোহন মন্দির প্রাঙ্গণে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

মেজর (অব.) হাফিজ বলেন, গণভোটের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের কথা বলা হচ্ছে। অথচ সংবিধান সংশোধনের এখতিয়ার একমাত্র জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের। এখানে ঢাকার একটি এলিট গোষ্ঠী জনগণের ওপর বিষয়টি চাপিয়ে দিয়েছে। আমাদের দেশ এখনো এ ধরনের ব্যবস্থার জন্য প্রস্তুত নয়। শুরুতে বিএনপি এতে রাজি ছিল না। কিন্তু বিএনপি রাজি না হলে নির্বাচনই হবে না—এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়। তাই বাস্তবতার প্রেক্ষিতে বিএনপি জুলাই সনদে সই করেছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা কিছুটা বাধ্য হয়েই ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছি। এরপর নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সংসদে গিয়ে সংবিধানকে একটি পূর্ণাঙ্গ রূপ দেবে। পৃথিবীর কিছু দেশে নির্দিষ্ট কিছু বিষয় পরিবর্তনের জন্য গণভোটের বিধান রয়েছে, তবে সেসব ক্ষেত্রেও তা আসে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমেই।

হাফিজ উদ্দিন বলেন, রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নয়—এমন একটি গোষ্ঠী হঠাৎ ক্ষমতার কেন্দ্রে বসে গণভোটের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়েছে। এই গণভোটের আইনগত ভিত্তি নেই, তবে একটি নৈতিক ভিত্তি রয়েছে। যেহেতু আমরা জুলাই অভ্যুত্থানকে সমর্থন করি, সে কারণে জনগণকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাবো।

অনুষ্ঠানে লালমোহন মদন মোহন মন্দির কমিটির সভাপতি নিরব কুমার দে’র সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন লালমোহন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ জাফর ইকবাল, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুলসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫