বরিশালে বাড়ছে হাম আতঙ্ক, আরও দুই শিশুর মৃত্যু

বরিশাল বিভাগে হামের প্রকোপ উদ্বেগজনকভাবে বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ। নতুন এই মৃত্যুর ঘটনায় বিভাগজুড়ে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮ জনে। এর মধ্যে শুধু শেবাচিম হাসপাতালেই প্রাণ হারিয়েছে ১৮ শিশু।

শনিবার সকালে হাসপাতাল পরিচালকের কার্যালয় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

মৃত শিশুদের মধ্যে রয়েছে পটুয়াখালী সদরের বাদরা এলাকার আব্বাসের ১০ মাস বয়সী ছেলে মোহাম্মদউল্লাহ এবং পাগলা এলাকার ইলিয়াসের সাত মাস বয়সী কন্যা আয়শা। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয় বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে শনিবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪৩ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছে ১১ জন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ১৭০ জন রোগী।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত এই হাসপাতালে হাম ও উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে মোট এক হাজার ৭৬৯ জন রোগী। অন্যদিকে বিভাগজুড়ে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা চার হাজার ৩৬৩ জনে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগ।

হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে বেড সংকট। শিশু ওয়ার্ডের কয়েকটি কক্ষে গাদাগাদি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে একটি বেডে দুই থেকে তিনজন শিশুকে চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে, যা অভিভাবকদের মধ্যে বাড়তি উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এ বিষয়ে ডা. মো. লোকমান হাকিম, বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক, জানান যে সাম্প্রতিক সময়ে হাম সংক্রমণ কিছুটা বেড়েছে। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং স্বাস্থ্য বিভাগ সার্বক্ষণিক কাজ করছে।

তিনি বলেন, শিশুদের নিয়মিত টিকা নিশ্চিত করা গেলে সংক্রমণ অনেকাংশে কমে আসবে। পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতন হওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদানে অনীহা ও সচেতনতার অভাবের কারণে অনেক এলাকায় হাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। তাই শিশুদের সময়মতো টিকা দেওয়া এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”




৯ দিন পর ঢাকায় মিলল নিখোঁজ স্কুলছাত্রীর খোঁজ

বরিশাল নগরী থেকে নিখোঁজ হওয়ার নয় দিন পর অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর সন্ধান পাওয়া গেছে ঢাকায়। পরিবারের দাবি, অভিমান করে বাসা ছেড়ে চলে গিয়েছিল সে। বর্তমানে মেয়েটি তার এক আত্মীয়ের বাসায় অবস্থান করছে।

নিখোঁজ ওই শিক্ষার্থীর নাম মুনিয়া আক্তার। সে বরিশাল নগরীর সাগরদী ধান গবেষণা সড়ক এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় এ আর এস খান স্কুল-এর অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১ মে নিজ বাসা থেকে বের হওয়ার পর থেকেই মুনিয়ার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়স্বজনের বাসাসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরে বিষয়টি নিয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা হয়।

শনিবার সকালে মুনিয়ার মামা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানান, মেয়েটি বর্তমানে ঢাকায় তাদের বাসায় রয়েছে। এরপর পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত হন যে সে নিরাপদে আছে।

মুনিয়ার বাবা মনির হাওলাদার জানান, মেয়েটি মায়ের কাছে স্বীকার করেছে যে অভিমান থেকেই সে বাসা থেকে বের হয়ে গিয়েছিল। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ থাকার সময় কয়েকদিন বরিশালেই এক বান্ধবীর বাসায় অবস্থান করেছিল সে। পরে শনিবার সকালে ঢাকায় তার মামার বাসায় যায়।

মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে মা সুফিয়া খাতুন বলেন, পরিবারের সবাই তাকে অনেক স্নেহ করেন। পড়াশোনার বিষয়ে মাঝে মধ্যে বাবা শাসন করতেন, আর সেই অভিমান থেকেই হয়তো সে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এ বিষয়ে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানা-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আল মামুন উল ইসলাম জানান, মেয়েটির নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছিল। বর্তমানে সে ঢাকায় আত্মীয়ের বাসায় রয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে।

তিনি আরও জানান, আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মেয়েটিকে ঢাকায় থেকে বরিশালে আনা হবে। পাশাপাশি সে কোথায় ছিল, কার সঙ্গে অবস্থান করেছে এবং কী কারণে বাসা ছেড়ে গিয়েছিল—এসব বিষয় তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। পরিবারের সদস্যরা মেয়েটির নিরাপদে ফিরে আসায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”




ইশতেহার বাস্তবায়নে নতুন লড়াই শুরু: তারেক রহমান

রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, নির্বাচনী লড়াই শেষ হলেও এখন শুরু হয়েছে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বড় চ্যালেঞ্জ।

শনিবার সকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। “সবার আগে বাংলাদেশ” স্লোগানে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের সময় দলের নেতাকর্মীরা কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে কাজ করেছেন এবং জনগণ বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতি আস্থা রেখে সমর্থন দিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচন শেষ হওয়ার পর দলীয় ইশতেহার এখন দেশের মানুষের প্রত্যাশার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

তিনি আরও বলেন, জনগণের ভোটে সরকার গঠনের সুযোগ পাওয়ার অর্থ হচ্ছে মানুষের দেওয়া দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা। সেই দায়িত্ব পালনে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে সুশাসন, নিরাপদ সমাজ ও উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা গড়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সরকার সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ শুরু করেছে। তিনি এমন একটি বাংলাদেশ গড়ার কথা বলেন যেখানে নারী, পুরুষ ও শিশুরা নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবে এবং শিক্ষার্থীরা উন্নত শিক্ষার পরিবেশ পাবে।

রাজনৈতিক পরিবেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক চর্চা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ভবিষ্যতে ভিন্নমতের প্রতি সহনশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

এসময় তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি সরকার সফল করতে সকলের সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এটি ছিল মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রথম বড় মতবিনিময় সভা।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”




বরিশালে হাম পরিস্থিতি উদ্বেগজনক, ২৪ ঘণ্টায় ৯৮ সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত

বরিশাল বিভাগে হাম (Measles) রোগের সংক্রমণ আবারও উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৯৮ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। একই সময়ে ৯৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং চিকিৎসা শেষে ৮০ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ সময় একজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

বুধবার (৭ মে) বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) কার্যালয় থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (শেবাচিম)-এ গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৫ জন সন্দেহজনক হাম রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে ২৯ জন রোগী ছাড়পত্র পেয়েছেন। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

মৃত শিশুটির নাম আহাদ (৮ মাস)। তার পিতার নাম ইউসুফ। তিনি বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই এলাকার বাসিন্দা। গত ৫ মে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং ৬ মে সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুটি হাম, নিউমোনিয়া, কনজাংটিভাইটিস এবং সেপটিসেমিয়ায় আক্রান্ত ছিল।

বর্তমানে শেবাচিম হাসপাতালে ১৫৮ জন হাম রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ পর্যন্ত হাসপাতালে মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৯৩ জনে।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগের অন্যান্য জেলাতেও হাম রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল সদর হাসপাতালে ১৩ জন, পটুয়াখালীতে ২৯ জন, বরগুনায় ৯ জন, ঝালকাঠিতে ৪ জন, পিরোজপুরে ৮ জন এবং ভোলায় ১ জন সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হয়েছে।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৭ মে পর্যন্ত বরিশাল বিভাগে মোট ৪ হাজার ২৪৭ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১২০ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত করা হয়েছে। একই সময়ে ২৫ জন সন্দেহজনক এবং ৩ জন নিশ্চিত রোগীর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।

এ পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ৮৫২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং ৩ হাজার ৩৭৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মোহাম্মদ লোকমান হাকিম বলেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। শিশুদের নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও জানান, হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিভাগজুড়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো টিকাদান ও সচেতনতা বৃদ্ধি না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ঝুঁকিতে বরিশাল নগর ভবন, আতঙ্কে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

বরিশাল সিটি করপোরেশনের পুরোনো নগর ভবন এখন যেন নিজেই বড় ধরনের ঝুঁকির প্রতীক হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিনের অবহেলা ও সংস্কারের অভাবে ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল, ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়া এবং কাঠামোগত দুর্বলতা দেখা দেওয়ায় আতঙ্কের মধ্যে দায়িত্ব পালন করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

নগরীর ফজলুল হক অ্যাভিনিউ এলাকায় ১৯৮০-এর দশকে নির্মাণ শুরু হওয়া এ ভবনটি ১৯৯০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়। পরে ২০০২ সালে বরিশাল পৌরসভা সিটি করপোরেশনে উন্নীত হলে এখান থেকেই নগরবাসীর প্রশাসনিক সেবা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।

বর্তমানে ভবনের বিভিন্ন তলায় ভয়াবহ জরাজীর্ণ অবস্থা দৃশ্যমান। মেঝেতে কংক্রিটের বড় বড় অংশ খসে পড়েছে, ভেঙে গেছে দরজার গ্লাস, দেয়াল ও ছাদের বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে বড় ফাটল। বিশেষ করে বিম ও কলামগুলোতেও দুর্বলতার চিহ্ন দেখা যাওয়ায় যে কোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জানান, প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে অফিস করতে হয়। হঠাৎ করেই ছাদ থেকে পলেস্তারা পড়ে যাওয়ার ঘটনা প্রায় নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারপরও নগরবাসীর সেবা কার্যক্রম বন্ধ না রেখে ঝুঁকি নিয়েই দায়িত্ব পালন করছেন তারা।

প্রতিদিন প্রায় সাড়ে চার হাজার মানুষ বিভিন্ন সেবার জন্য এই নগর ভবনে আসেন। ফলে শুধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই নন, সাধারণ সেবাগ্রহীতারাও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী বলেন, বর্তমান ভবনের অবস্থা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ঝুঁকির বিষয়টি মাথায় রেখে নতুন স্থানে কার্যালয় স্থানান্তরের বিষয়ে আলোচনা চলছে।

তিনি জানান, ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল ও পলেস্তারা খসে পড়ার কারণে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। দ্রুত নিরাপদ স্থানে অফিস স্থানান্তর করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, ভবনের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার বিষয়টি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। নতুন নগর ভবনের পরিকল্পনা ও নকশা অনুমোদনের প্রক্রিয়াও চলছে।

জানা গেছে, নগরীর নথুল্লাবাদ এলাকায় নতুন নগর ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নকশা অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে স্থায়ী সমাধানের পথ তৈরি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বর্তমানে বরিশাল মহানগরীর ৩০টি ওয়ার্ডের প্রায় আট লাখ মানুষের নাগরিক সেবা প্রদান করছে সিটি করপোরেশন। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে নিরাপদ স্থানে কার্যক্রম স্থানান্তর না করা হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না নগরবাসীও।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




হাদির হত্যার বিচার দাবিতে উত্তাল ববি ক্যাম্পাস

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী নেতা ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ নম্বর ফটকের সামনে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থী, বিভিন্ন সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ অংশ নেন।

কর্মসূচির শুরুতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে অংশগ্রহণকারীরা ক্যাম্পাসজুড়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। পুরো কর্মসূচিতে বিচার দাবির বিভিন্ন স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা।

মানববন্ধন পরিচালনা করেন মো. ফরহাদ হোসাইন। এতে বক্তব্য দেন নিহত হাদির বোন মাসুমা হাদি, মো. বেলাল, আল ইমরান এবং ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব ইফতেখার সায়েমসহ আরও অনেকে।

বক্তারা অভিযোগ করেন, হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। প্রকৃত হত্যাকারীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না বলেও তারা দাবি করেন। এতে সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে বলে উল্লেখ করেন বক্তারা।

ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব ইফতেখার সায়েম বলেন, প্রকাশ্যে গুলি করে ওসমান হাদিকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু এত সময় পার হলেও বিচার প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় বিচারহীনতার সংস্কৃতি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন আলোচিত হত্যাকাণ্ডের বিচার ঝুলে থাকায় জনগণের আস্থা কমে যাচ্ছে।

তিনি অভিযোগ করেন, ওসমান হাদির মামলার তদন্ত প্রতিবেদন একাধিকবার পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

এসময় নিহতের বোন মাসুমা হাদি আবেগঘন বক্তব্যে বলেন, “আমরা কান্না করতে আসিনি, আমরা বিচার চাইতে এসেছি। প্রকাশ্যে হত্যার পরও খুনিরা কীভাবে পালিয়ে গেল, তার জবাব রাষ্ট্রকে দিতে হবে।”

তিনি দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হলে আন্দোলন আরও কঠোর কর্মসূচির দিকে যাবে। শিক্ষার্থীদের দাবি, বিচার প্রক্রিয়ায় গতি এনে দোষীদের আইনের আওতায় আনতে হবে, অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বেলপার্কে ফিরছে প্রাণ, তবু চিন্তার কারণ অবৈধ ফেরিওয়ালা

বরিশাল নগরীর ঐতিহ্যবাহী বেলপার্ক আবারও ফিরে পাচ্ছে তার হারানো সৌন্দর্য ও প্রাণচাঞ্চল্য। দীর্ঘদিন পর অবৈধ দখল ও দোকানপাট উচ্ছেদের উদ্যোগে নগরবাসীর অন্যতম বিনোদন কেন্দ্রটি এখন নতুন রূপে সেজে উঠছে। নগর ভবনের ধারাবাহিক তৎপরতায় পার্কজুড়ে ফিরছে পরিচ্ছন্ন ও মনোরম পরিবেশ, যা সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ও আশাবাদ তৈরি করেছে।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক দায়িত্ব গ্রহণের পর নগরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে বেলপার্ক থেকে শতাধিক অবৈধ দোকান ও স্থাপনা অপসারণ করা হয়। এরপর থেকেই প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন বয়সী মানুষ পার্কটিতে হাঁটতে ও সময় কাটাতে আসছেন। বিশেষ করে নারী, শিশু ও কর্মজীবী মানুষের উপস্থিতি দিন দিন বাড়ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পার্কের ওয়াকওয়ে এখন হাঁটাচলার জন্য অনেকটাই স্বস্তিদায়ক হয়ে উঠেছে। রাত ১১টা পর্যন্তও অনেকে স্বাস্থ্যচর্চা ও অবসরের সময় কাটাতে সেখানে ভিড় করছেন। এতে করে নগরবাসীর কাছে বেলপার্ক আবারও প্রাণের জায়গায় পরিণত হচ্ছে।

নগর প্রশাসন পার্কটির সৌন্দর্য আরও বাড়াতে বিভিন্ন ধরনের শোভাবর্ধনকারী গাছের পরিচর্যা শুরু করেছে। গাছের ডালপালা ছাঁটাই, পরিচ্ছন্নতা রক্ষা এবং সবুজ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে নগর ভবনের কর্মীরা নিয়মিত কাজ করছেন। পুরো পার্ক এলাকাকে আরও দৃষ্টিনন্দন করতে আলোকসজ্জা ও পরিবেশ উন্নয়ন কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে।

তবে সৌন্দর্য বৃদ্ধির এই উদ্যোগের মাঝেও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে সন্ধ্যার পর পার্কের ভেতরে ফেরিওয়ালাদের উপস্থিতি। প্রতিদিন রাত পর্যন্ত বিভিন্ন পসরা সাজিয়ে বসছেন ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতারা। এতে করে পার্কে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা ধীরে ধীরে বিড়ম্বনার মুখে পড়ছেন বলে অভিযোগ উঠছে।

অনেকের আশঙ্কা, এভাবে চলতে থাকলে আবারও পার্কে অবৈধ দখল ও বিশৃঙ্খলার পরিবেশ তৈরি হতে পারে। যদিও পার্কের শৃঙ্খলা ও পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় সিটি করপোরেশনের একাধিক কর্মী দায়িত্ব পালন করছেন, তারপরও ফেরিওয়ালাদের নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।

এ বিষয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী জানান, পার্কে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অব্যবস্থা বরদাস্ত করা হবে না। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহনকারী বেলপার্ক ব্রিটিশ আমলে তৎকালীন জেলা প্রশাসক বেলের উদ্যোগে প্রায় পৌনে ৯ একর সরকারি জমির ওপর গড়ে ওঠে। তার নাম অনুসারেই পার্কটির নামকরণ করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে এটি বরিশালের অন্যতম প্রধান উন্মুক্ত বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

এ পার্কে অতীতে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতা বক্তব্য দিয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনমূলক কাজের মাধ্যমে পার্কটি নগরবাসীর কাছে আরও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বর্তমানে নতুন উদ্যোগে সেই ঐতিহ্য ও সৌন্দর্য আবারও ফিরে আসছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




নলছিটির দপদপিয়ায় জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কমিটি গঠন

নিজস্ব প্রতিবেদক :: ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার ৯নং দপদপিয়া ইউনিয়নে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৫ মে) উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি মো. মিজানুর রহমান মিজান ও সাধারণ সম্পাদক মো. মশিউর রহমান শিমুল স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

নতুন কমিটিতে মো. ইউনুছ হাওলাদারকে সভাপতি এবং মো. হাছান হাওলাদারকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়েছে।

নতুন এ কমিটিকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন নলছিটি উপজেলা বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ। একই সঙ্গে দলীয় কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করতে নতুন কমিটির নেতাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

সদ্য ঘোষিত কমিটির নেতৃবৃন্দ বলেন, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলকে আরও সুসংগঠিত করতে ইউনিয়ন পর্যায়ে আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করবেন তারা। পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা শ্রমিক দলের নেতৃবৃন্দের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তারা।




৭ বছরেও চালু হয়নি শিশু হাসপাতাল, সংকটে বরিশালের চিকিৎসা সেবা

বরিশালে বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল নির্মাণের কাজ শেষ হলেও দীর্ঘ সাত বছরেও তা চালু না হওয়ায় চরম সংকটে পড়েছে শিশু চিকিৎসা সেবা। শয্যা সংকট, অতিরিক্ত রোগীর চাপ এবং সীমিত সুবিধার কারণে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে প্রতিদিনই বাড়ছে দুর্ভোগ।

বর্তমানে এসব হাসপাতালে এক বিছানায় একাধিক শিশুকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে জায়গা না পেয়ে মেঝেতেই চিকিৎসা নিচ্ছে অসুস্থ শিশুরা। এতে চিকিৎসক ও নার্সদেরও অতিরিক্ত চাপের মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে।

জানা গেছে, বরিশাল মহানগরীর আমানতগঞ্জ এলাকায় ২০০ শয্যার একটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল নির্মাণ করা হলেও সেটি এখনো চালু হয়নি। গণপূর্ত বিভাগ ও স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বয়হীনতার কারণে হাসপাতালটি দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় পড়ে আছে।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ১০ তলা ভিত্তির ওপর চারতলা ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। প্রায় সাড়ে ১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই হাসপাতালটির কাজ ২০১৯ সালের মধ্যেই শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে সাত বছর পার হলেও হাসপাতালটি এখনো চালু হয়নি।

গণপূর্ত বিভাগ বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফয়সাল আলম জানান, হাসপাতাল ভবনের অবকাঠামোগত কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশনও স্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে ভবনটি স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

অন্যদিকে বরিশালের সিভিল সার্জন এস এম মঞ্জুর-ই-এলাহী বলেন, হাসপাতালটি চালু করতে প্রয়োজনীয় জনবল ও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। তার মতে, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নার্স ও টেকনোলজিস্টসহ প্রায় ৩০০ জন জনবল প্রয়োজন। পাশাপাশি ইনকিউবেটর, লাইফ সাপোর্টসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতির চাহিদা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এসব ব্যবস্থা না হলে সেবা কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব নয়।

এই দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশাল শাখার সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, জনবল ও সরঞ্জামের অজুহাতে দুই বিভাগের মধ্যে সমন্বয়হীনতা অত্যন্ত দুঃখজনক। এতে বিভাগের লাখো শিশুর স্বাস্থ্যসেবা ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে গত ৩০ এপ্রিল হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন বিভাগীয় কমিশনার খলিলুর রহমান। তিনি দ্রুত হাসপাতালটি চালুর আশ্বাস দিয়ে বলেন, দীর্ঘদিনেও হাসপাতাল চালু না হওয়া দুঃখজনক। সকল জটিলতা দূর করে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত হাম উপসর্গ নিয়ে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে ৩ হাজার ৬৫০ জন শিশু, যার মধ্যে মারা গেছে ২৪ জন। সংশ্লিষ্টদের মতে, বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালটি চালু না থাকায় এই বিপুল সংখ্যক শিশুর যথাযথ চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”




১০ সেকেন্ডে ১০ মাস্ক, গিনেসে মঠবাড়িয়ার সিফাত

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার এক তরুণ চোখ বাঁধা অবস্থায় দ্রুততম সময়ে ১০টি সার্জিক্যাল মাস্ক পরে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লিখিয়েছেন। এই কৃতিত্ব অর্জন করেছেন ধনীসাফা ইউনিয়নের ফুলজুড়ী গ্রামের সিফাত আকন (১৮)।

জানা গেছে, চোখ বাঁধা অবস্থায় ১০টি মাস্ক পরতে তার সময় লেগেছে মাত্র ১০ দশমিক ৩২ সেকেন্ড, যা তাকে বিশ্বরেকর্ডের স্বীকৃতি এনে দিয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে তিনি এ রেকর্ডের জন্য আবেদন করেন এবং গত ২৮ এপ্রিল গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষ তার সাফল্য আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়।

সিফাত আকন জানান, প্রায় চার বছর আগে একটি পত্রিকায় গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড সংক্রান্ত প্রতিবেদন দেখে তার আগ্রহ তৈরি হয়। এরপর ধীরে ধীরে বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নিতে শুরু করেন। করোনাকালীন সময়ে মাস্ক ব্যবহারের বিষয়টি মাথায় রেখে তিনি মাস্ক-সম্পর্কিত একটি রেকর্ড গড়ার পরিকল্পনা করেন।

তিনি বলেন, “প্রথমে একজন ভারতীয় ১১ দশমিক ৫৪ সেকেন্ডে এই রেকর্ড করেছিলেন। তখনই আমি সেটি ভাঙার কথা ভাবি। তবে শুরুতে প্রয়োজনীয় গাইডলাইন পাওয়া কঠিন ছিল। অনেক চেষ্টা করেও সঠিক দিকনির্দেশনা পাইনি।”

সিফাত আরও জানান, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের নিয়ম-কানুন জানতে তিনি ফেসবুক ও ইউটিউবে খোঁজাখুঁজি করেন এবং আগের রেকর্ডধারীদের ই-মেইলেও যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু পর্যাপ্ত তথ্য না পাওয়ায় পুরো প্রক্রিয়াটি তার জন্য বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার পর দীর্ঘ ছুটিতে তিনি নিয়মিত অনুশীলন শুরু করেন। শুরুতে ২৫ থেকে ২৬ সেকেন্ড সময় লাগলেও ধীরে ধীরে অনুশীলনের মাধ্যমে সময় কমিয়ে আনতে সক্ষম হন। চোখ বাঁধা অবস্থায় মাস্ক খুঁজে নেওয়া এবং সঠিকভাবে পরা—এই দুটি বিষয়ই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

তিনি জানান, তার মা, ছোট ভাই এবং বন্ধু ইমন অনুশীলনের সময় তাকে নিয়মিত উৎসাহ দিয়েছেন। গত ১৮ জানুয়ারি প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ আবেদন করার পর প্রায় তিন মাস অপেক্ষার পর ২৮ এপ্রিল রাতে ই-মেইলের মাধ্যমে তিনি স্বীকৃতির খবর পান।

সিফাতের বাবা আবদুল জলিল বনরক্ষী হিসেবে কর্মরত এবং মা বেগম সুরমা একজন গৃহিণী। ছেলের এই অর্জনে তারা গর্বিত ও আনন্দিত।

মা বেগম সুরমা বলেন, “সিফাত সামনে আরও নতুন রেকর্ড গড়তে চায়। এক মিনিটে সবচেয়ে বেশি মানুষকে আলিঙ্গন করা এবং সর্বোচ্চ সংখ্যক হ্যান্ডশেক করার মতো রেকর্ড নিয়েও সে ভাবছে।”

বাবা আবদুল জলিল বলেন, “আমার ছেলে খুব পরিশ্রম করেছে। অল্প সময়ে ১০টি মাস্ক পরে বিশ্ব রেকর্ড গড়া আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। ভবিষ্যতে সে আরও ভালো কিছু করবে বলে আশা করি।”

সিফাতের বন্ধুরা জানান, প্রায় নয় মাস ধরে সে নিরলস পরিশ্রম করেছে। অনেকেই শুরুতে তাকে নিয়ে হাসাহাসি করলেও এখন তারাই প্রশংসা করছেন। শুরু থেকেই তারা সিফাতকে সাহস ও সহযোগিতা করেছেন।

২৪ নম্বর ফুলজুড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মামুন হোসেন বলেন, “সিফাত আমাদের এলাকার গর্ব। কঠোর অনুশীলন ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে সে এই সাফল্য অর্জন করেছে। ভবিষ্যতে সে আরও বড় কিছু করবে বলে আমরা আশাবাদী।”

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”