ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) নিয়ে বিটিআরসির নির্দেশনা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ:মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) তাদের নিজেদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক বিজ্ঞপ্তিতে,  মোবাইল ফোনের ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) সেবা নিয়ে সবাইকে বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়েছে।

এতে বলা হয়, এনইআইআরসংক্রান্ত সকল সেবা গ্রহণের জন্য শুধুমাত্র বিটিআরসির নির্ধারিত ওয়েবসাইট neir.btrc.gov.bd ব্যবহার করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। অননুমোদিত কোনো ওয়েবসাইট বা লিংকের মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করবেন না।

বিভ্রান্তিকর কোনো লিংকের মাধ্যমে এনইআইআর সেবা গ্রহণে কোনো রকম ফি প্রদান করবেন না। বিনামূল্যে এনইআইআর সংক্রান্ত সেবা দেওয়া হচ্ছে।
এর আগে গত ১ জানুয়ারি টেলিযোগাযোগ খাতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশে অবৈধ মোবাইল হ্যান্ডসেটের ব্যবহার রোধে চালু করা হয়েছে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) সিস্টেম।

এর ফলে দেশের নেটওয়ার্কে নিবন্ধনহীন বা আনঅফিসিয়াল মোবাইল হ্যান্ডসেটের ব্যবহার বন্ধ হবে।




সাগরে নিখোঁজ ১৭ জেলে, দুই বছর পর ফেরার আশায় পরিবার

বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার দুই বছর পার হলেও এখনো বাড়ি ফেরেননি বরগুনার ১৭ জেলে। দীর্ঘ অপেক্ষা আর অনিশ্চয়তার মধ্যেই দিন কাটাচ্ছেন তাঁদের পরিবারগুলো। তবে সম্প্রতি নিখোঁজ জেলেদের ভারতের একটি কারাগারে আটক থাকার তথ্য পাওয়ায় নতুন করে আশার আলো দেখছেন স্বজনেরা।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে ঘূর্ণিঝড় ‘মিধিলি’র কবলে পড়ে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী এলাকা থেকে সাগরে যাওয়া ‘এফবি এলাহী ভরসা’ নামের একটি মাছধরা ট্রলার নিখোঁজ হয়। ওই ট্রলারে থাকা ১৭ জন জেলের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। দীর্ঘ দুই বছর পর সম্প্রতি জানা গেছে, তারা ভারতের গুজরাট রাজ্যের একটি কারাগারে আটক রয়েছেন।

বরগুনা পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) জেলা গোয়েন্দা কর্মকর্তা (ডিআইও-১) কামরুজ্জামান জানান, নিখোঁজ জেলেদের পরিবার থেকে ছবি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে রাজধানীর এসবি কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জেলেরা ঘূর্ণিঝড়ের সময় দিকভ্রান্ত হয়ে আন্তর্জাতিক জলসীমা অতিক্রম করায় ভারতীয় কর্তৃপক্ষের হাতে আটক হন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিখোঁজ ১৭ জেলের মধ্যে ১৬ জন বরগুনা সদর উপজেলার বাসিন্দা। নলটোনা ইউনিয়নের গাজী মাহমুদ গ্রামের সাতজন এবং ঢলুয়া ইউনিয়নের নয়জন জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। অপর একজন পাথরঘাটা উপজেলার ছোট টেংরা এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

নিখোঁজ জেলেদের পরিবারের জীবন কাটছে চরম দুর্ভোগে। ঢলুয়া ইউনিয়নের মরখালী এলাকার বাসিন্দা ইউনুস সরদারের মা তারাবানু (৭০) ছেলের ছবি বুকে জড়িয়ে প্রতিদিন অপেক্ষা করেন। চোখের জল ধরে রাখতে না পেরে তিনি বলেন, দুই বছর ধরে ছেলের ফেরার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন। সম্প্রতি ছেলেকে ভারতের কারাগারে থাকার খবর পেয়ে আবার নতুন করে বেঁচে থাকার শক্তি পেয়েছেন। তিনি শুধু চান, জীবিত অবস্থায় ছেলেকে একবার বুকে জড়িয়ে ধরতে।

একই গ্রামের আরেক নিখোঁজ জেলে আল আমিনের স্ত্রী সালমা আক্তার জানান, দীর্ঘ সময় কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবারটি চরম দুশ্চিন্তায় ছিল। সম্প্রতি স্বামী জীবিত আছেন—এই খবর পাওয়ায় তারা সরকারের সহযোগিতার দিকে তাকিয়ে আছেন।

বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা বলেন, নিখোঁজ জেলেদের ভারতের গুজরাটের একটি কারাগারে আটক থাকার বিষয়টি তারা নিশ্চিত হয়েছেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে দ্রুত তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।

ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মোল্লা এমদাদুল্লাহ জানান, নিখোঁজ জেলেদের স্বজনদের আবেদন পাওয়ার পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হয়েছে। কূটনৈতিক প্রক্রিয়া চলমান থাকায় কিছুটা সময় লাগলেও জেলেদের দেশে ফেরানো সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

দুই বছর ধরে অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলোর একটাই চাওয়া—রাষ্ট্রের কার্যকর উদ্যোগে প্রিয়জনদের দ্রুত নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




টাঙ্গাইল-৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী আযম খানকে শোকজ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :  আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হাওয়া বইছে সারা দেশে । চলছে ভোটারদের মন জয়ের জন্য নানান প্রতিশ্রুতির ফুলঝুড়ি ।

এবার টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনে বিএনপি প্রার্থী আহমেদ আযম খানের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে।একইভাবে সখীপুর সরকারি কলেজের প্রভাষক মো. শরিফুল ইসলাম খানকেও কারণ দর্শনোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) টাঙ্গাইলের নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির সিভিল জজ আশরাফুল আলম তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন।জানা যায়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৮ সংসদীয় আসনের বিএনপির প্রার্থী আহমেদ আযম খান নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে ভোট প্রার্থনা ও অনুদান ঘোষণা করছিলেন।

অভিযোগ পেয়ে ওই আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের স্মারক নম্বর ০৫.৪১. ৯৩৮৫.০০০.০৪.০০৩.২৫.১১৬৪ মূলে গত ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির কাছে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠান।

নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির সিভিল জজ আশরাফুল আলম লিখিত অভিযোগের সঙ্গে সংযুক্ত ভিডিও ও ছবি পর্যালোচনা করে দেখতে পান, একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে আপনি অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান বক্তব্যে বলেছেন, ‘১২ বার তো ভোট দিয়েছেন এবার ১৩ বারের নির্বাচনে হিসেব করে ভোট দেন। আমি ধানের শীষের প্রার্থী হয়েছি। আমার দল বিএনপি ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছে আগামী নির্বাচনে বিএনপি পাস করলে দুই কোটি ফ্যামিলি কার্ড দেবে।’

এ ছাড়া তিনি নির্বাচনের প্রথম বছরে দুটি রাস্তা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। অভিযোগের সঙ্গে সংযুক্ত ভিডিও যাচাই করে সত্যতা পাওয়ায় আহমেদ আযম খানের রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা-২০২৫ এর বিধান লঙ্ঘনের বিষয়টি স্পষ্ট হয়।

অপরদিকে, একই সংসদীয় আসনে সখীপুর সরকারি কলেজের প্রভাষক মো. শরিফুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে একজন প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের লিখিত অভিযোগের সাথে সংযুক্ত ছবিসমূহ পর্যালোচনায় অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়।

ফলে তাদের দুজনকে টাঙ্গাইলের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনে স্থাপিত নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির সিভিল জজ আদালতের কাছে কারণ দর্শাতে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।




ডুবোচর ও নাব্য সংকটে ঝুঁকিপূর্ণ ঢাকা–বরিশাল নৌরুট

ঘন কুয়াশা, ডুবোচর ও তীব্র নাব্য সংকটের কারণে দেশের অন্যতম ব্যস্ত ঢাকা–বরিশাল নৌরুট চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। শীত মৌসুমে দক্ষিণাঞ্চলের ৩১টি নৌপথের মধ্যে অন্তত ২২টিতে পানির গভীরতা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দীর্ঘ নৌপথজুড়ে সংকেতবাতি, ভাসমান বয়া ও মার্কারের অভাব। ফলে কুয়াশাচ্ছন্ন রাতে যাত্রী ও পণ্যবাহী নৌযান চালাতে গিয়ে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছেন চালকরা, বাড়ছে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চলতি শীত মৌসুমেই ঘন কুয়াশার মধ্যে মেঘনা নদীতে একাধিক লঞ্চ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে গত ২৫ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে চাঁদপুরের হাইমচর সংলগ্ন নীলকমল বাংলাবাজার এলাকায় ঢাকাগামী এমভি জাকির সম্রাট-৩ লঞ্চের সঙ্গে ঝালকাঠিগামী অ্যাডভেঞ্চার-৯ লঞ্চের সংঘর্ষে চারজন নিহত এবং ১৫ জন আহত হন।

একই রাতে সদরঘাট থেকে চাঁদপুরগামী ইমাম হাসান-৫ লঞ্চটি প্রায় ৫০০ যাত্রী নিয়ে যাত্রা করে। রাত আনুমানিক ১২টার দিকে মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর এলাকায় মেঘনা নদীতে নোঙর করা একটি বালুবাহী বাল্কহেডের সঙ্গে লঞ্চটির সজোরে সংঘর্ষ হয়। পরদিন ডুবুরিরা ডুবে যাওয়া বাল্কহেড থেকে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করেন।

সদরঘাট নৌ-পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ওইদিন ছোট-বড় মিলিয়ে ১৪টি নৌযানের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর কিছুদিন আগেও একই নৌপথে ঘন কুয়াশার কারণে বরিশালগামী এম খান-৭ঈগল-৪ লঞ্চের সংঘর্ষ হয়, যদিও এতে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণাঞ্চলের নদীপথে কুয়াশাজনিত সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে ২০২২ সালের ২৩ ডিসেম্বর, ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে। সেদিন ঢাকা থেকে বরগুনাগামী অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডে ৪৭ জনের মৃত্যু এবং ৩১ জন নিখোঁজ হন। ঘন কুয়াশার কারণে লঞ্চটি তীরে ভেড়াতে না পেরে মাঝনদীতে ভাসছিল বলে তদন্তে উঠে আসে।

লঞ্চযাত্রীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন বরিশাল নৌযাত্রী ঐক্য পরিষদ–এর আহ্বায়ক দেওয়ান আবদুর রশিদ বলেন, রাতের বেলায় নদীপথে চলাচলের জন্য বাঁক, চর ও ডুবোচর এলাকায় বয়া, সংকেতবাতি ও মার্কার থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই এসব অবহেলিত। নিয়মিত সংরক্ষণ ও নজরদারি থাকলে অনেক দুর্ঘটনা এড়ানো যেত।

ঢাকা–বরিশাল নৌপথে চলাচলকারী লঞ্চ ও কার্গো জাহাজের চালকরাও অভিযোগ করে বলেন, শীত এলেই নাব্য সংকট ও ঘন কুয়াশা এই নৌপথকে আরও বিপজ্জনক করে তোলে। বিশেষ করে ডুবে থাকা বা অর্ধডুবন্ত বাল্কহেড বড় ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। কুয়াশার মধ্যে বয়া ও বিকন বাতির অভাবে নৌযান প্রায়ই চরে আটকে যাচ্ছে।

চালকরা জানান, ঢাকা থেকে বরিশাল, ভোলা, ঝালকাঠি, বরগুনা, পটুয়াখালী, মেহেন্দীগঞ্জ, গলাচিপা, রাঙ্গাবালী, চরফ্যাশন, বাউফল, হিজলা ও মুলাদীসহ বহু নৌপথে বর্তমানে তীব্র নাব্য সংকট ও ডুবোচর সৃষ্টি হয়েছে। অনেক স্থানে বয়া থাকলেও তাতে সংকেতবাতি জ্বলে না।

এমন পরিস্থিতিতে গত ১ নভেম্বর রাতে চাঁদপুর থেকে ছেড়ে আসা বোগদাদিয়া-৭ লঞ্চটি মেঘনা নদীর একটি ডুবোচরে আটকা পড়ে। এর আগে ২০২৩ সালের ৮ জানুয়ারি ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় এমভি অথৈ-১ লঞ্চ এক সপ্তাহ ধরে ডুবোচরে আটকে ছিল।

ঢাকা–বরিশাল রুটে চলাচলকারী এমভি মানামী লঞ্চের পরিদর্শক বেলাল হোসেন বলেন, শীতকালে পানি কমা স্বাভাবিক হলেও এবার শীত শুরুর আগেই পানি নেমে গেছে। আগে নভেম্বর মাসে লঞ্চ ডুবোচরে আটকাত, এবার অক্টোবর থেকেই সেই পরিস্থিতি শুরু হয়েছে।

নাব্য সংকটের প্রভাব পড়েছে ফেরি চলাচলেও। বরিশালের মীরগঞ্জ–মুলাদী ফেরি রুটে নির্ধারিত চ্যানেল ব্যবহার করা না যাওয়ায় বিকল্প ও দীর্ঘ পথ ঘুরে ফেরি চলাচল করতে হচ্ছে, এতে জ্বালানি খরচ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র ড্রেজিং বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী নবনীতা বিশ্বাস জানান, হিজলা এলাকায় নাব্য সংকট নিরসনে কাজ চলমান রয়েছে। হাইড্রোলজি বিভাগের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অন্যদিকে বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ-সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক (নৌপথ) আব্দুস সালাম বলেন, চাঁদপুর ও বরিশাল বিভাগের প্রয়োজনীয় স্থানে বয়া, মার্কার ও সংকেতবাতি স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং দ্রুতই এসব সমস্যার সমাধান হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




তীব্র শীতে নিউমোনিয়ায় প্রাণ গেল ঠিকাদারের

বরিশালে তীব্র শীতের মধ্যে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে এক ঠিকাদারের মৃত্যু হয়েছে। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে রাশেদুল শেখ (৫৫) নামের ওই ব্যক্তি মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ভোর সাড়ে চারটার দিকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

নিহত রাশেদুল শেখ বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের ঠাকুরমল্লিক এলাকার বারোকানি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই এলাকার আব্দুস সালাম শেখের ছেলে এবং পেশায় একজন ঠিকাদার ছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দিবাগত রাতে প্রচণ্ড ঠান্ডার মধ্যে তিনি বাসায় অবস্থানকালে হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। শ্বাসকষ্টসহ শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোরে তার মৃত্যু হয়।

তার মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। মঙ্গলবার বাদ আসর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

এদিকে চলমান তীব্র শীত ও উত্তর দিকের হিমেল বাতাসে বরিশালের জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। কনকনে ঠান্ডায় স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্নআয়ের মানুষ, রিকশাচালক, অটোরিকশাচালক, দিনমজুর ও হকাররা। জীবিকার তাগিদে শীত উপেক্ষা করে অনেককেই রাস্তায় নামতে হচ্ছে।

শীত থেকে বাঁচতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মানুষ খড়কুটো ও কাঠ জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে। যদিও কুয়াশার প্রভাব কিছুটা কমেছে, তবে উত্তরের হাওয়ার কারণে শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে। দিনের বড় অংশে সূর্যের দেখা না মেলায় ঠান্ডার অনুভূতি বেড়েই চলেছে।

বরিশাল আবহাওয়া অফিস জানায়, মঙ্গলবার জেলায় দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে আসে ১২.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। আগের দিন সোমবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৪.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত বছরের একই দিনে বরিশালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৬ ডিগ্রি, অর্থাৎ চলতি বছর তাপমাত্রা প্রায় ৪ ডিগ্রি কম।

শীতের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বরিশালের হাসপাতালগুলোতে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যাও দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়ায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। শয্যা সংকটের কারণে অনেক ক্ষেত্রে এক বেডে একাধিক রোগী কিংবা মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।

চিকিৎসকরা জানান, শীতের এই সময়ে শিশু ও বয়স্কদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে। উষ্ণ পোশাক ব্যবহার, ঠান্ডা এড়িয়ে চলা, বিশুদ্ধ পানি পান এবং অপ্রয়োজনে ভোর বা গভীর রাতে বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা কিছুটা স্থিতিশীল থাকতে পারে। তবে শীতের মৌসুম শেষ না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি নিম্নআয়ের মানুষের জন্য শীতবস্ত্র বিতরণসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ঘন কুয়াশায় আড়াল সূর্য, কনকনে শীতে বিপর্যস্ত বরিশাল

মেঘনা অববাহিকাসহ বরিশাল ও সমগ্র দক্ষিণাঞ্চল মঙ্গলবারও (৬ জানুয়ারি) ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা ছিল। উত্তর-পূর্ব দিক থেকে বয়ে আসা হিমেল হাওয়ার সঙ্গে কুয়াশার প্রভাব বাড়ায় জনজীবনে নেমে এসেছে চরম ভোগান্তি। সূর্যের দেখা মিলেছে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে, তাও কুয়াশার আবরণ ভেদ করে। কর্মদিবস হলেও জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অনেক মানুষ ঘরের বাইরে বের হননি।

আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, এদিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় মাত্র ০.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি থাকলেও দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল স্বাভাবিকের প্রায় ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস নিচে। ফলে কুয়াশা ও ঠান্ডার মিলিত প্রভাবে জনজীবনে অস্বস্তি আরও তীব্র আকার ধারণ করে।

গত প্রায় ১০ দিন ধরে দক্ষিণাঞ্চলে ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। এই বিরূপ আবহাওয়ার প্রভাব পড়ছে জনস্বাস্থ্য ও কৃষিখাত—উভয় ক্ষেত্রেই। নিউমোনিয়াসহ ঠান্ডাজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে ইতোমধ্যে ১০ হাজারের বেশি নারী, পুরুষ ও শিশু শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ অঞ্চলের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। রোগীর অতিরিক্ত চাপ সামলাতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেক হাসপাতালে ঠান্ডাজনিত রোগীদের জন্য মেঝেতেও ঠাঁই দিতে হচ্ছে।

কৃষিখাতেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। বরিশাল কৃষি অঞ্চলে প্রায় ৩.৮৫ লাখ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর জন্য ২০ হাজার ৩১৭ হেক্টরে বোরো বীজতলা তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে থাকলেও ঘন কুয়াশা ও তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় ‘কোল্ড ইনজুরি’র ঝুঁকি বাড়ছে। কৃষিবিদরা বোরো বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।

এছাড়া গোল আলুতে ‘লেট ব্লাইট’ রোগ প্রতিরোধে ছত্রাকনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হলেও, কুয়াশা ও ঠান্ডার কারণে ফুলকপি, বাঁধাকপি ও অন্যান্য শীতকালীন সবজির গুণগতমান নষ্ট হচ্ছে। চলতি রবি মৌসুমে দক্ষিণাঞ্চলে প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে গোল আলু ও ৬৮ হাজার হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজির আবাদ হলেও বৈরী আবহাওয়ায় কৃষি উৎপাদন ও কৃষকের আয় মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে।

কনকনে ঠান্ডায় অনেক কৃষক ও কৃষিশ্রমিক সকালবেলা মাঠে নামতে পারছেন না। একই কারণে জেলেরা নদ-নদীতে মাছ ধরতে না পারায় বাজারে মাছের সংকটও দেখা দিচ্ছে।

এদিকে আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন নিরক্ষীয় ভারত মহাসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে, যা সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হতে পারে। এর একটি বর্ধিতাংশ বরিশাল উপকূলসংলগ্ন উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। বুধবার পর্যন্ত দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও বৃহস্পতিবার থেকে আবার তাপমাত্রা কমতে পারে। পরবর্তী পাঁচ দিনেও আবহাওয়ার বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, মেঘনা অববাহিকায় ঘন কুয়াশা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা বেশি এবং কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে ঠান্ডার অনুভূতি আরও বাড়তে পারে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




সাদিক আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল না করায় বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের উপপরিচালক এস এম রাশেদুর রেজা মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) মামলাটি দায়ের করেন বলে সংস্থাটি নিশ্চিত করেছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৬(১) ধারা অনুযায়ী সাদিক আবদুল্লাহকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের জন্য নোটিস দেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তিনি সম্পদ বিবরণী জমা না দেওয়ায় একই আইনের ২৬(২) ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ সংঘটিত হয়েছে মর্মে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।

দুদক সূত্র জানায়, অভিযোগের ভিত্তিতে সাদিক আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করা হয়। অনুসন্ধানকালে প্রাথমিকভাবে তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ভোগ-দখলের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় গত ১৬ অক্টোবর সম্পদ বিবরণী দাখিলের জন্য নোটিস জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পরবর্তীতে ২৬ অক্টোবর দুদকের এক কনস্টেবল ঢাকার কলাবাগান এলাকায় তার ঠিকানায় গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। এরপর ৪ নভেম্বর বরিশাল শহরের ঠিকানায় গিয়েও তাকে না পাওয়ায় একই দিন আগৈলঝাড়া উপজেলার সেরাল এলাকার ঠিকানায় বাড়ির দরজায় সম্পদ বিবরণীর ফরমের মূল কপি টাঙিয়ে নোটিস জারি করা হয়। নোটিস জারির পর নির্ধারিত ২১ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল না করায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।

সাদিক আবদুল্লাহ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর ছেলে। তিনি ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানের মতো বরিশালেও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ও স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ওই সময় বরিশাল মহানগরীর কালীবাড়ী সড়কে সাদিক আবদুল্লাহর পৈতৃক বাড়িতেও হামলা ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। হামলার কিছুক্ষণ আগে তিনি বাড়িটি ছেড়ে যেতে সক্ষম হলেও তার তালাবদ্ধ শয়নকক্ষে আটকা পড়ে সিটি করপোরেশনের এক সাবেক প্যানেল মেয়রসহ তিনজনের মৃত্যু হয়।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




কুয়াকাটায় ভাড়া বাসায় গৃহবধূর গলাকাটা মরদেহ, স্বামী আটক

পটুয়াখালীর পর্যটন শহর কুয়াকাটায় ভাড়া বাসা থেকে এক কিশোরী গৃহবধূর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নিহত গৃহবধূর নাম আরিফা আক্তার (১৭)। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার স্বামী রিফাত (২১)-কে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে কুয়াকাটা পৌর এলাকার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কুয়াকাটা গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত আরিফা আক্তার বরিশাল জেলার বায়োরগাতি এলাকার আ. খালেক হাওলাদারের মেয়ে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত প্রায় চার মাস ধরে স্বামী-স্ত্রী ওই এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। রিফাত স্থানীয় একটি রেস্তোরাঁয় কর্মরত ছিলেন। প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের সংসারে প্রায়ই পারিবারিক কলহ ও ঝগড়াঝাঁটি লেগে থাকত, যা নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা ছিল।

ঘটনার রাতে হঠাৎ করে ওই বাসা থেকে কান্নাকাটির শব্দ শুনতে পান আশপাশের লোকজন। পরে প্রতিবেশীরা ঘরের ভেতরে ঢুকে আরিফা আক্তারকে রক্তাক্ত ও নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তার গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। বিষয়টি দেখে সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে মহিপুর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে। ওই সময় স্বামী রিফাতকে ঘরের কাছেই পাওয়া যায়। পরিস্থিতি সন্দেহজনক হওয়ায় তাকে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা আক্কাস বলেন, রাতের নিরবতা ভেঙে হঠাৎ কান্নার শব্দ শুনে সবাই ছুটে আসে। ঘরের ভেতরের দৃশ্য ছিল ভয়াবহ। আরিফা নিথর হয়ে পড়ে ছিল। আরেক বাসিন্দা শহিদ জানান, তিনি ঘুমের মধ্যেই কান্নার শব্দে জেগে ওঠেন। বাইরে এসে দেখেন এলাকায় মানুষের ভিড়, পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।

এ বিষয়ে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহব্বত খান জানান, ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি অত্যন্ত সন্দেহজনক মনে হচ্ছে। সঠিক রহস্য উদঘাটনে সিআইডির একটি টিমকে অবহিত করা হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন সম্পন্ন করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো কুয়াকাটা এলাকায় শোকের পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




হাড় কাঁপানো শীতে স্তব্ধ দেশ

বাংলা পৌষ মাসের মাঝামাঝিতে এসে শীত যেন তার চরম রূপ দেখাতে শুরু করেছে। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলসহ দেশের প্রায় সব এলাকায় হিমেল হাওয়া ও ঘন কুয়াশায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত সূর্যের দেখা মিলছে না অনেক জায়গায়। কনকনে ঠান্ডায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে, সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন খেটে খাওয়া ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাজশাহীতে চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। ভোর ৬টার দিকে এই তাপমাত্রা রেকর্ড হলে অঞ্চলটির ওপর দিয়ে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। একদিনের ব্যবধানে সেখানে তাপমাত্রা প্রায় ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে গেছে। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল প্রায় ১০০ শতাংশ, আর ঘন কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা নেমে আসে মাত্র ৬০০ মিটারে।

এর আগে সোমবার রাজশাহীতে দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ ডিগ্রি এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছিল ১৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। একই সময়ে পাবনার ঈশ্বরদীতে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চলতি মাসের শুরুতে রাজশাহী, নওগাঁর বদলগাছী ও পাবনার ঈশ্বরদীতে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছিল।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসজুড়ে দেশে একাধিক শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে তাপমাত্রা আরও কমে কোথাও কোথাও ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নামার আশঙ্কাও রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা ও গ্রামীণ এলাকায় সকাল-বিকাল ঘন কুয়াশা আর ঠান্ডা বাতাসে মানুষের চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে।

শহর ও গ্রামাঞ্চলে মানুষ যে যেভাবে পারছে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে। কোথাও খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা যাচ্ছে, আবার কেউ কেউ শীতবস্ত্রের অভাবে চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। বিশেষ করে দিনমজুর, কৃষিশ্রমিক ও খোলা আকাশের নিচে থাকা মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েকগুণ।

তীব্র শীতের প্রভাবে বেড়েছে শীতজনিত রোগের প্রকোপও। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের বড় একটি অংশ শিশু ও বয়স্ক মানুষ। রাজধানীর শিশু হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এই সময়ে নিউমোনিয়া ও ব্রঙ্কিওলাইটিসে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, এই ঠান্ডার সময়ে শিশু ও বয়স্কদের বাড়তি যত্ন নেওয়া জরুরি। গরম কাপড় ব্যবহার, ঠান্ডা বাতাস এড়িয়ে চলা এবং প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে শীতের তীব্রতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় দেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল। একই সময়ে রংপুরের সৈয়দপুরেও তাপমাত্রা নেমেছিল ২ দশমিক ৯ ডিগ্রিতে, যা ছিল একটি বিরল নজির।

বর্তমান পরিস্থিতিতে আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর নজর রাখার পাশাপাশি শীত মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার তাগিদ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




রুমিন ফারহানার নির্বাচনী মঞ্চ ভাঙচুর

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের দুই ইউনিয়ন) আসনে রুমিন ফারহানা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে  লড়ছেন।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) বিকেলে সরাইল উপজেলার অরুয়াইল বাজারে আয়োজিত এক পথসভায় রুমিন ফারহানা বলেন, অরুয়াইলে আজ আমার নির্ধারিত সভা ছিল। কিন্তু প্রতিপক্ষ প্রার্থীর লোকজন আমার মঞ্চ ভেঙে দিয়েছে। বাধ্য হয়ে আমি আজ দরজায় দরজায় গিয়েছি এবং শেষমেশ গাড়ির ওপর দাঁড়িয়ে কথা বলছি।

যদিও মঞ্চ ভাঙচুরের ঘটনায় তিনি কোনো নির্দিষ্ট দল বা প্রার্থীর নাম উল্লেখ করেন নি।

একই আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব নির্বাচন করছেন।

তবে নির্বাচনী অসৌজন্যমূলক আচরণের প্রতিবাদে ভোটারদের ব্যালটের মাধ্যমে জবাব দেওয়ার আহ্বান জানান এ নেত্রী।

সভায় তিনি অরুয়াইল চিত্রা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ এবং রাস্তা সংস্কারের ব্যাপক পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন।

রুমিন ফারহানা বলেন, আমি এমপি থাকাকালীন এই সেতুর জন্য আবেদন করেছিলাম। নির্বাচিত হলে এই সড়ক, সেতু ও কালভার্টের কাজ সম্পন্ন করব। নতুন বাংলাদেশে আমরা কোনো দুর্নীতি, চাঁদাবাজি বা বালু ব্যবসা প্রশ্রয় দেব না। নিরীহ মানুষকে টাকা দিয়ে মিথ্যা মামলায় জড়ানো বন্ধ করা হবে।

তিনি আরও যোগ করেন, নির্বাচিত হলে সরাইল-আশুগঞ্জকে নতুন রূপে সাজাব। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যুব উন্নয়নে বিশেষ প্রকল্প হাতে নেব।