তীব্র শীতে বরিশালে ফুটপাতে শীতের পোশাকে উপচেপড়া ভিড়

ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে বরিশালসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলে শীতের তীব্রতা চরম আকার ধারণ করেছে। হাড় কাঁপানো এই শীত থেকে বাঁচতে বরিশালে ফুটপাতে বসা শীতের পোশাকের দোকানগুলোতে বেড়েছে ক্রেতাদের ভিড়। স্বল্প আয়ের মানুষের পাশাপাশি মধ্যবিত্ত শ্রেণির লোকজনও ভিড় করছেন এসব অস্থায়ী দোকানে।
সরজমিনে দেখা গেছে, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের সামনে জেলা পরিষদের পুকুরপাড় ঘিরে গড়ে ওঠা অস্থায়ী শীতের পোশাকের দোকানগুলোতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের ভিড় লেগেই আছে। বিশেষ করে ফুটপাতের দোকানগুলোতে উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
এদিকে তীব্র শীত খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনকে আরও কঠিন করে তুলেছে। শিশু ও বয়স্কদের অবস্থা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। অনেকেই খোলা জায়গায় আগুন জ্বালিয়ে কিংবা অপর্যাপ্ত গরম কাপড় পরিধান করে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। তবে প্রচণ্ড শীতের কারণে এসব উদ্যোগ অনেক ক্ষেত্রেই কার্যকর হচ্ছে না।
দিনমজুর ও ছিন্নমূল মানুষের দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে। ঘরবাড়ি না থাকা অনেক মানুষ লঞ্চঘাট, বাস টার্মিনালসহ খোলা স্থানে রাত কাটাচ্ছেন। শীতবস্ত্রের অভাবে খোলা আকাশের নিচে তাদের মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এ বছর এখনও সংগঠিতভাবে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম চোখে পড়েনি।
শীতের পোশাক বিক্রেতারা জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও কমদামে দেশি ও বিদেশি পুরোনো শীতের পোশাক বিক্রি করছেন তারা। ৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকার মধ্যে শীতের কাপড় পাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের ভিড় বেশি হচ্ছে। বিক্রিও আগের তুলনায় ভালো বলে জানান তারা।
অন্যদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন শীতের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে। যদিও আপাতত শৈত্যপ্রবাহের কোনো আশঙ্কা নেই। বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জ্বর, সর্দি-কাশি, ডায়রিয়া, টাইফয়েড ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে শিশু ও বয়স্ক রোগীর চাপ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫








