তেরো বছরের শিশুকে ধর্ষণ, মোটরসাইকেলচালক পলাতক

পটুয়াখালীর গলাচিপায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া তেরো বছরের এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে বাহাদুর হাওলাদার (২৯) নামে এক মোটরসাইকেলচালকের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত পলাতক রয়েছেন। সোমবার (১৬ জুন) রাত আনুমানিক ৩টার দিকে গলাচিপা সদর ইউনিয়নের বোয়ালিয়া এলাকার সোমবাড়িয়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে বুধবার (১৮ জুন) ভুক্তভোগী ছাত্রীর মামা গলাচিপা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলার বিবরণ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গলাচিপা সদর ইউনিয়নের পক্ষিয়া গ্রামের ওই শিক্ষার্থীর জন্মের পরপরই তার বাবা নিরুদ্দেশ হন। এরপর থেকে মেয়েটি মামাবাড়িতে বসবাস করছে। বাবা না থাকায় সে সমাজে অসহায় অবস্থানে ছিল। এই সুযোগে একই এলাকার অভিযুক্ত বাহাদুর হাওলাদার দীর্ঘদিন ধরে ওই ছাত্রীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে নানা প্রলোভন দেখাতে থাকেন। এক পর্যায়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

স্বজন ও ভুক্তভোগীর দাবি, বিয়ের মিথ্যা আশ্বাসে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কে জড়ায় বাহাদুর। সর্বশেষ, সোমবার রাতে ছাত্রীটি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘর থেকে বের হলে, আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা বাহাদুর তাকে জোর করে পাশের সোমবাড়িয়া বাজার একটি টেইলারিং দোকানের পেছনের কক্ষে নিয়ে ধর্ষণ করে। ওই দোকানটি বাহাদুরের বড় ভাই বাদশার বলে জানা গেছে। এক পর্যায়ে ধস্তাধস্তি ও মেয়েটির চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে গেলে অভিযুক্ত দ্রুত পালিয়ে যায়।

ঘটনার বিষয়ে গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আশাদুর রহমান বলেন, ভুক্তভোগীর মামা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন। আমরা আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছি। পাশাপাশি, শিক্ষার্থীকে চিকিৎসা ও মেডিকেল পরীক্ষার জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে ঘটনার পর এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। দ্রুত দোষীকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।




করোনায় স্বস্তির দিন: নতুন রোগী ৬, কেউ মারা যায়নি

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে আরও ৬ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। তবে এই সময়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যু হয়নি, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য স্বস্তির খবর বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

শুক্রবার (২০ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনা বিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত এক দিনে মোট ১০৬টি নমুনা পরীক্ষা করে ৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এতে শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

নতুন রোগীসহ দেশে মোট শনাক্ত করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ৫১ হাজার ৯৩৮ জনে। তবে মৃত্যুর সংখ্যা অপরিবর্তিত থেকে ২৯ হাজার ৫০৬ জনেই রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, দেশে করোনার শুরু থেকে এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ০৫ শতাংশ।

উল্লেখ্য, দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় ২০২০ সালের ৮ মার্চ এবং প্রথম মৃত্যু ঘটে ১৮ মার্চ। এরপর ২০২১ সালের ৫ ও ১০ আগস্ট করোনায় একদিনে সর্বোচ্চ ২৬৪ জন করে মারা যান, যা এখন পর্যন্ত মৃত্যুর দিক থেকে সবচেয়ে ভয়াবহ দিন হিসেবে বিবেচিত।

স্বাস্থ্যবিষয়ক কর্তৃপক্ষ জনসাধারণকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি নিয়মিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।




বরিশাল সদর গণঅধিকার পরিষদের সভাপতিকে অব্যাহতি

গণঅধিকার পরিষদের বরিশাল সদর উপজেলা শাখার সভাপতিকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার এ বিষয়ে তাকে চিঠি দেওয়া হয় বলে গণঅধিকার পরিষদের বরিশাল জেলা শাখার জ্যেষ্ঠ সহ সভাপতি শফিকুল ইসলাম সাগর জানান।

দলের জেলা শাখার দপ্তর সম্পাদক মো. কামরুল ইসলামের সই করা চিঠিতে বলা হয়েছে, বরিশাল সদর উপজেলার সভাপতি মো. সবুজ হাওলাদারকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে তার পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। দলের সদস্য পদ থেকেও অব্যাহতি দেওয়ার কথা চিঠিতে বলা হয়েছে।

এতে আরো বলা হয়, দলের বরিশাল জেলা শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সিদ্ধান্তে তার বিরুদ্ধে এ পদক্ষেপ নেওয়া হল।




ফেসবুকে বিএনপির প্রার্থী তালিকা প্রচার

গত কয়েকদিন থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিএনপির একটি প্রেসবিজ্ঞপ্তি নিয়ে বরিশাল জেলার তৃণমূল পর্যায়ের দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিজ্ঞপ্তিতে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষর রয়েছে।

ওই বিজ্ঞপ্তিতে “যে কয়টি আসনে বিএনপির প্রার্থী তালিকা প্রায় চূড়ান্ত” হিসেবে দেশের ৩৯টি সংসদীয় আসনের কথা উল্লেখ করে প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। যেখানে বরিশালের ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটি আসনের প্রার্থীদের নামোল্লেখ রয়েছে।

বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতাদের নজরে আসার পর শুক্রবার (২০ জুন) দুপুরে দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, রুহুল কবির রিজভীর হুবহুব ওই স্বাক্ষরটি কম্পিউটারের মাধ্যমে স্ক্যান করে একটি ভূয়া প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে বসানো হয়েছে। পরবর্তীতে দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টির জন্য কয়েকজন বির্তকিত নেতার সমর্থকরা তা ফেসবুকে প্রকাশ করেছে। যার প্রতিবাদ হিসেবে দলীয় পেইজ থেকে ইতোমধ্যে রুহুল কবির রিজভী একটি প্রেসবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছেন।

যেখানে তিনি (রিজভী) “যে কয়টি আসনে বিএনপির প্রার্থী তালিকা প্রায় চূড়ান্ত” শিরোনামে প্রচার করা বিজ্ঞপ্তিটি সম্পূর্ণরুপে মিথ্যা, বানোয়াট ও অসৎ উদ্দেশ্য প্রণোদিত এবং ভুয়া প্রেসবিজ্ঞপ্তি হিসেবে উল্লেখ করে এ বিষয়ে দলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীকে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন।

কেন্দ্রীয় বিএনপির ওই নেতা আরও বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিদ্ধান্তের বাহিরে গিয়ে মনোনয়ন নিয়ে কারো কোন কথা বলার এখতিয়ার নেই। তারেক রহমান যে পর্যন্ত নিজ মুখে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা না করবেন, সেই পর্যন্ত দলীয় নেতাকর্মীদের বিভ্রান্তি না হওয়ার জন্য তিনি আহবান করেছেন।

তিনি আরও বলেন, বিগত ওয়ান ইলেভেন থেকে শুরু করে ফ্যাসিস্টের ১৭ বছরে যেসব সাবেক এমপি কিংবা মনোনয়ন প্রত্যাশীরা রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামে ছিলেন না। যারা দলের দুর্দীনে তৃণমূল পর্যায়ে হামলা-মামলার স্বীকার নেতাকর্মীদের পাশে না দাঁড়িয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিলেন, তারাই মূলত ফ্যাসিস্টের দোসরদের সমন্ময়ে নিজেদের পক্ষে নির্বাচনী এলাকায় জনসমর্থন তৈরি করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। ফলশ্রুতিতে এধরনের মিথ্যে বিজ্ঞপ্তি প্রচারের মাধ্যমে অপপ্রচার করানো হচ্ছে।

বিষয়টি তারেক রহমানকে অবহিত করা হয়েছে দাবি করে কেন্দ্রীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত ওই নেতা আরও বলেছেন, বিগত ওয়ান ইলেভেনের সময় কোন কোন নেতা ও সাবেক এমপির কারণে শারিরিক অমানুষিক নির্যাতনের পর অদ্যবর্ধি তারেক রহমানকে প্রবাসে থাকতে হচ্ছে তা তিনি (তারেক রহমান) ভুলে যাননি। যাদের কারণে ২০০১ সালের নির্বাচন পরবর্তী দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন আসনে সংখ্যালঘু নির্যাতন হয়েছিলো, যাদের কারণে তৎকালীন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীকে সরেজমিনে আসতে হয়েছিলো তা জনগন ও দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দরা ভুলে যায়নি। মূলত সেইসব বির্তকিত ব্যক্তিদের দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা অনেক আগেই প্রত্যাখান করেছেন। তারা এখন পালিয়ে যাওয়া হাসিনার দলের বিচ্ছিন্ন নেতাকর্মীদের পূনবার্সন করে জনসমর্থন দেখাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভুয়া প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে বরিশালের ছয়টি নির্বাচনী আসনের মধ্যে পাঁচটি আসনে প্রার্থীদের নামোল্লেখ করা হয়েছে। যাদের নামোল্লেখ রয়েছে তাদের মধ্যে দক্ষিণাঞ্চলের মর্যাদার আসন হিসেবে পরিচিত বিভাগীয় শহর বরিশাল-৫ (সদর) আসনে অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার। তবে ওই আসনে বিএনপির সম্ভ্রাব্য প্রার্থী হিসেবে দলের দুঃসময় থেকে অদ্যবর্ধি মাঠে কাজ করে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ। এছাড়াও সম্ভ্রাব্য প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় কমিটির (পদ স্থগিত) সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবায়েদুল হক চাঁন ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবুল কালাম শাহীন।

দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশদ্বার বরিশাল-১ (আগৈলঝাড়া-গৌরনদী) আসনে ভুয়া প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে প্রার্থী হিসেবে সাবেক সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপনের নাম এসেছে। তবে ওই আসনে কঠিন শক্ত অবস্থান করে নিয়েছেন বিগত ওয়ান ইলেভেন থেকে শুরু করে বিএনপির কঠিন দুর্দীনে হামলা ও একাধিক মামলায় কারাভোগ করেও প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে মাঠে থেকে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের আগলে রাখা দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান। এছাড়াও সম্ভ্রাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বরিশাল বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান এবং কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল।

ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে নেতাকর্মীদের নিয়ে মাঠে ছিলাম। যেকারণে একাধিকবার হামলা ও মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগ করতে হয়েছে। তারপরেও কখনও দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ছেড়ে যাইনি। তিনি আরও বলেন, দলের দুর্দীনে গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করে নেতাকর্মীদের সংঘঠিত করে রেখেছি। আগৈলঝাড়া উপজেলার শতকরা প্রায় ৬০ পাসেন্ট ভোটার হিন্দু সম্প্রদায়। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর এ আসনে যে সংখ্যালঘু নির্যাতন হয়েছে তারা আর সেই পুরনো রূপে ফিরে যেতে চাননা। তাই তারা (হিন্দু সম্প্রদায়) সমাবেশ করে আমাকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন। তাই দল আমার ত্যাগের মূল্যায়ন করবে বলে আমি শতভাগ বিশ্বাস করছি।

বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনে কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা এস শরফুদ্দিন আহম্মেদ সান্টুর নাম এসেছে ওই ভুয়া প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে। তবে এ আসনে বিএনপির সম্ভ্রাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ বিষয়ক সহসম্পাদক কাজী রওনাকুল ইসলাম টিপু, সদস্য দুলাল হোসেন, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইদ মাহমুদ জুয়েল, কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা কর্নেল (অব.) আনোয়ার হোসেন, কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক লায়ন আক্তার সেন্টু এবং জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান।

ভুয়া প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীনের নাম আসলেও এখান থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে মাঠে রয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, মুলাদী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুস সত্তার খান ও ব্যারিস্টার মনিরুজ্জামান আসাদ।

বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) সংসদীয় আসনের প্রায় চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকার ভুয়া প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসানের নাম এসেছে। তবে দীর্ঘদিন থেকে ওই আসনে বেশ শক্ত অবস্থানে রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজবাহ উদ্দীন ফরহাদ। এছাড়াও ওই আসনে সম্ভ্রাব্য প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন জেলা উত্তর বিএনপির সদস্য অ্যাডভোকেট এম হেলাল উদ্দীন, সাবেক ছাত্রনেতা আবদুল খালেক হাওলাদার ও জেলা উত্তর বিএনপির আহবায়ক দেওয়ান মো. শহিদুল্লাহ।

ভুয়া প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসন থেকে কোন প্রার্থীর নাম না থাকলেও ওই আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে মাঠে রয়েছেন সাবেক এমপি ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবুল হোসেন খান, কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা এবং জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম খান রাজন, কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান মাসুদ এবং যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতা সোলায়মান সেরনিয়াবাত।

বরিশালের প্রায় প্রতিটি আসনের বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা জানিয়েছেন, বিগত ওয়ান ইলেভেন থেকে বিএনপির অনেক শীর্ষ নেতা ও সাবেক সাংসদগণ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পরিবার তথা দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে পুরো দেশ এবং দলের কাছে তাদের গ্রহণযোগ্যতা হারিয়ে ফেলেছে। পাশাপাশি অতীতে ফ্যাসিস্ট সরকারের দমন-পীড়ন সহ্য করে যারা এলাকায় থেকে দলের হয়ে কাজ করেছেন আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাদের সঠিক মূল্যায়ন করা না হলে এবার ভোট পাওয়া কষ্টকর হবে।




একদিনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১৫১ জন হাসপাতালে ভর্তি, তবে মৃত্যু শূন্য

গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সারা দেশে ১৫১ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে এই সময়ের মধ্যে কারও মৃত্যু হয়নি বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

শুক্রবার (২০ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন বরিশাল বিভাগে, যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ৮৬ জন।
অন্যান্য বিভাগের মধ্যে চট্টগ্রামে ১৫ জন, ঢাকা বিভাগের সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকায় ১৭ জন, ঢাকা উত্তর সিটিতে ১৮ জন, দক্ষিণ সিটিতে ১০ জন, রাজশাহীতে ২ জন ও খুলনায় ৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

এদিকে গত একদিনে সারাদেশে ১১১ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। চলতি বছর এ পর্যন্ত ৬ হাজার ২১৪ জন রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০ জুন পর্যন্ত মোট ৭ হাজার ৭৭ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে ডেঙ্গুতে মোট ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে।




দেশ পুনর্গঠনে ঐক্যের ডাক দিলেন ফখরুল ইসলাম আলমগীর

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গত ১৫ বছরে দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করা হয়েছে। এখন সময় এসেছে সবকিছু নতুন করে গড়ে তোলার। দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে দেশকে আবার গড়তে হবে।

শুক্রবার (২০ জুন) বিকেলে ঠাকুরগাঁও শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে ‘মির্জা রুহুল আমিন স্মৃতি টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট’-এর ফাইনাল ও সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণে তরুণদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, “ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে অনেক প্রাণ গেছে, অনেক ছাত্র জীবন দিয়েছে। তাদের আত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। এই আন্দোলনের মাধ্যমে আমাদের জন্য একটি নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে—গণতান্ত্রিক পরিবেশ গঠনের, রাষ্ট্রকে নতুনভাবে গড়ে তোলার। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই।”

তিনি আরও বলেন, “অন্যান্য ক্ষেত্রের মতো ক্রীড়া অঙ্গনও আজ ধ্বংসের মুখে। এটি রাজনীতি মুক্ত রাখা উচিত। ক্রীড়া খাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে ইন্টারন্যাশনাল টিমের খেলা ঠাকুরগাঁওয়ে আনার উদ্যোগ নিতে হবে। এতে খেলোয়াড়দের দক্ষতা ও মান উন্নত হবে।”

এ সময় তিনি সবাইকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আসুন আমরা সবাই মিলে দেশ গড়ার শপথ নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনকেও নতুনভাবে গড়ে তুলি।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সল আমিন, পৌর বিএনপির সভাপতি শরিফুল ইসলাম শরিফ, জেলা মহিলা দলের সভাপতি ফোরাতুন নাহার প্যারিস, ছাত্রদলের সভাপতি মো. কায়েস প্রমুখ।




৫ আগস্ট ‘ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান দিবস’ ঘোষণা, থাকবে সাধারণ ছুটি

৫ আগস্টকে ‘ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার, যেদিন সারা দেশে সাধারণ ছুটি থাকবে। সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী এই ঘোষণা দেন বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে। দিনটিকে জাতীয় স্বীকৃতি দিয়ে এখন থেকে প্রতিবছরই এই তারিখে ছুটি পালিত হবে বলে তিনি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। ফারুকী বলেন, “এই ঐতিহাসিক দিনটির মর্যাদা রক্ষায় ও জনগণের আত্মত্যাগকে স্মরণে রাখতে আমরা এটিকে সাধারণ ছুটি হিসেবে ঘোষণা করেছি।”

তিনি আরও জানান, আগামী ২২ জুন উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে ১ জুলাই থেকে জুলাই অভ্যুত্থানের প্রাথমিক কর্মসূচি শুরু হবে এবং ১৪ জুলাই থেকে ১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে চূড়ান্ত কর্মসূচি।

আগামী ২৩ জুন সাংবাদিকদের সামনে পুরো কর্মসূচির কাঠামো ও পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন উপদেষ্টা ফারুকী।

৫ আগস্টকে ঘিরে এই সিদ্ধান্ত সরকারের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক নতুন মোড় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই দিনে যারা গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ে জীবন দিয়েছেন বা আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই সরকারের এই সিদ্ধান্ত। দেশের বিভিন্ন সংগঠন ও শ্রেণিপেশার মানুষ এ ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



মেয়েকে নিয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন অসহায় হেলাল

শৈশবে মা–বাবা হারানোর পর ভাই–বোনের নির্যাতনে ভিটেমাটি হারিয়েছেন মো. হেলাল। এরপর ঠাঁই হয় বরিশাল নগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কেডিসি বালুরমাঠ বস্তিতে। সেখানেই শুরু করেন সংসার। কিন্তু ভাগ্য যেন কখনোই পাশে ছিল না তার।

কয়েক বছর আগে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান হেলালের স্ত্রী বিউটি বেগম। দুই মেয়ের মধ্যে বড়টির বিয়ে হয়েছে, আর ছোট মেয়েকে নিয়ে এখন বেঁচে থাকার সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

৪৫ বছর বয়সী এই মানুষটি শরীরে শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগ ও হাড়ের ব্যথা নিয়ে এখন কোনো ভারী কাজ করতে পারেন না। রোগের কারণে কোনো স্থায়ী কাজও জোটে না। তার সামান্য ভরসা—a ছোট্ট টিনের বক্স নিয়ে রাস্তার পাশে পান-বিক্রির ভাসমান দোকান।

গত ১৭ জুন, বর্ষার ভেতর কেডিসি সড়কে পান বিক্রি করতে দেখা যায় তাকে। গলায় ঝুলানো টিনের বাক্সে বৃষ্টিভেজা পান–সিগারেটের কিছু জিনিস। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকায় তার পণ্যও পচে যাচ্ছে, তাও বিক্রি হচ্ছে না ঠিকমতো।

হেলাল বলেন, “ভিক্ষা না করে ছোট ব্যবসা করে মেয়েটাকে নিয়ে বাঁচতে চাই। কিন্তু দোকানে তেমন পুঁজি নেই। কেউ যদি একটু সাহায্য করতেন, তাহলে হয়তো একটু স্বস্তিতে বাঁচতে পারতাম।”

হেলালের অসহায় জীবন দেখে কেউ কেউ একবার এক হাজার টাকার পণ্য দিয়েছিলেন, কিন্তু এখন তা-ও নেই। তার মতো একজন লড়াকু মানুষ সমাজের সহানুভূতি ও সহযোগিতা পাওয়ার দাবি রাখেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ডেঙ্গু তথ্য ঘাটতিতে বিপাকে বরিশাল স্বাস্থ্য বিভাগ

বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলে ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যুর প্রকৃত তথ্য না থাকায় উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সরকারি হাসপাতালের সীমিত তথ্যের বাইরে বেসরকারি পর্যায়ে চিকিৎসাধীন রোগীদের হিসাব না থাকায় স্বাস্থ্য বিভাগের চিত্র ও বাস্তবতার মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে।

গত রোববার বরিশালের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গুতে মারা যান পটুয়াখালীর গলাচিপার এক এসএসসি পরীক্ষার্থী। একই দিন ঢাকা নেওয়ার পথে বরগুনার এক শিশু মারা যায়। কিন্তু বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রতিবেদনে ওই মৃত্যুর কোনো উল্লেখ নেই।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, ২০২৫ সালের শুরু থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সরকারি হিসেবে ৮ জন মারা গেছে। অথচ স্থানীয়দের দাবি, শুধু বরগুনা জেলাতেই মৃতের সংখ্যা ১৩ জন।

বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. মো. আবুল ফাত্তাহ বলেন, “সরকারি হাসপাতালে ভর্তি রোগীর চেয়ে অন্তত দুই থেকে তিনগুণ রোগী বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। কিন্তু সেই তথ্য আমাদের কাছে নেই। সঠিক তথ্যের চেয়ে প্রতিরোধই এখন সবচেয়ে জরুরি।”

ডেঙ্গু আক্রান্তদের সঠিক সংখ্যা জানাতে না পারার কথা স্বীকার করেছেন বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল। তিনি বলেন, “প্রত্যেক জেলার সিভিল সার্জনদের মাধ্যমে বেসরকারি হাসপাতালের তথ্য চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কেউই তা পাঠায়নি।”

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, বরিশাল বিভাগের সরকারি হাসপাতালগুলোতে এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৭৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২ হাজার ৬৬০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন, চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৪০৭ জন। সর্বাধিক আক্রান্ত বরগুনা জেলায় এখন চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২৩৩ জন।

তবে ডেঙ্গু পরিস্থিতি সম্পর্কে স্থানীয়রা বলছেন, বাস্তব অবস্থা আরও ভয়াবহ। বরগুনার পরিবেশ কর্মী আরিফুর রহমান বলেন, “ডেঙ্গুর প্রকোপ এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, অনেক পরিবারেই আক্রান্ত রয়েছে। কিন্তু অনেকেই আর্থিক কারণে হাসপাতালে যায় না, কেউ কেউ ঢাকায় চলে যায় চিকিৎসার জন্য।”

বেসরকারি হাসপাতালগুলো সঠিক তথ্য না দিলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তথ্য সংগ্রহে নতুন করে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




থেমে থেমে বৃষ্টিতে দুর্ভোগে বরিশালবাসী

বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের ছয় জেলায় সক্রিয় রয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু। এর প্রভাবে বরিশালে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে, যা কখনো গুঁড়ি গুঁড়ি, কখনো বা মাঝারি মাত্রায় অব্যাহত রয়েছে। এই বৃষ্টিপাতের ফলে কমেছে তাপমাত্রা, তবে সঙ্গে বেড়েছে নগরবাসীর দুর্ভোগ।

গতকাল রাত থেকেই বরিশালের আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন। কখনো হালকা, আবার কখনো ভারি বৃষ্টি নগরবাসীর স্বাভাবিক চলাফেরায় বিঘ্ন ঘটায়। কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও যানবাহন চলাচলে সমস্যা দেখা দিয়েছে।

আবহাওয়া অফিস জানায়, বরিশালে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৭ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগামী কয়েক দিন এই আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে তারা।

এদিকে, সাগর উত্তাল থাকায় সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত এবং নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত বরিশাল নগরীতে কোথাও জলাবদ্ধতার খবর পাওয়া যায়নি।

বর্ষা মৌসুমের এমন আবহাওয়ায় ভোগান্তি থাকলেও অনেকেই স্বস্তি পাচ্ছেন গরম কমে আসায়।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /