সুষ্ঠু নির্বাচন ছাড়া দেশ শান্তি স্থাপন সম্ভব নয় : ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেছেন, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ছাড়া দেশের স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “দেশে ভোটারবিহীন বা ষড়যন্ত্রমূলক নির্বাচন হলে তার ফলাফল অতীতের মতোই হবে।”

বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে শনিবার (২১ জুন) অনুষ্ঠিত বরিশাল বিভাগের ২১ আসনের দায়িত্বশীল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. তাহের আরও বলেন, “সরকারকে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমেই দেশ এগোবে।”

তিনি ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সংস্কারের প্রস্তাব দিয়ে বলেন, “দেশে দুই কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ গঠন জরুরি, যেখানে আপার হাউস নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা গঠিত হবে এবং কেউ দুইবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না।”

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “আপনার হাতে ইতোমধ্যে অনেক সম্মান রয়েছে, আপনি চাইলে সামনে আরও একটি নোবেল পেতে পারেন। বিচ্যুত বাংলাদেশকে আপনি সঠিক পথে নিয়ে নতুন বাংলাদেশ গঠনে ভূমিকা রাখুন।”

সমাবেশে জামায়াতে ইসলামী বরিশাল ও অন্যান্য জেলার নেতারা বক্তব্য রাখেন এবং বরিশাল অঞ্চলের ২১টি আসনের মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।

সভাপতির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামী সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল বলেন, “বর্তমান বাংলাদেশে বৈষম্য ও বিশেষ দলের প্রতি অনুরাগ জনগণ মেনে নেবে না। জনগণ ইসলামী শাসন চাইছে, তাই জামায়াতকে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সচেষ্ট হতে হবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /

 




এনবিআর চেয়ারম্যান অপসারণের দাবিতে ফের কলমবিরতির ঘোষণা

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানকে অপসারণ এবং এনবিআর বিলুপ্তির বিষয়ে জারি করা অধ্যাদেশ সংশোধনে গঠিত কমিটিকে অগ্রহণযোগ্য দাবি করে ফের কলমবিরতির ঘোষণা দিয়েছে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ

শনিবার (২১ জুন) বিকেলে এনবিআর ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা এই ঘোষণা দেন।

সংগঠনটির দাবি, এনবিআর সংস্কারে বড় বাধা হচ্ছেন বর্তমান চেয়ারম্যান। তাকে অবিলম্বে অপসারণ না করা হলে আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে।

নেতারা জানান, রোববার (২২ জুন) বাজেট পাসের কার্যক্রম থাকায় সোমবার (২৩ জুন) থেকে কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। সে দিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঢাকার সব দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এনবিআর কার্যালয়ে অবস্থান কর্মসূচি ও কলমবিরতিতে অংশ নেবেন। অন্যান্য জেলায় অবস্থিত দফতরগুলোতে কর্মীরা একই সময় নিজ নিজ দফতরে অবস্থান ও কলমবিরতি পালন করবেন।

এর আগে সরকার গত ১২ মে এনবিআর বিলুপ্ত করে দুটি নতুন বিভাগ—রাজস্ব নীতি বিভাগ এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ—গঠনের ঘোষণা দেয়। এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের ব্যানারে এর প্রতিবাদে একাধিক কর্মসূচি পালন করেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

পরে সরকার ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে অধ্যাদেশে প্রয়োজনীয় সংশোধনের আশ্বাস দেয় এবং ১৯ জুন গঠন করে ছয় সদস্যের একটি কমিটি। তবে এই কমিটিকেও প্রত্যাখ্যান করেছে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ। তারা বলছে, এই কমিটির সদস্যরা সরকারের অনুগত এবং প্রয়োজনীয় কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে সক্ষম নয়।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




তিন জাতীয় নির্বাচনের সিইসি ও কমিশনারদের বিরুদ্ধে মামলা করবে বিএনপি

বিএনপি ঘোষণা দিয়েছে, বিগত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের বিরুদ্ধে তারা মামলা করবে।

শনিবার (২১ জুন) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান। তিনি জানান, রোববার সকালে রাজধানীর শেরে বাংলা নগর থানায় এ বিষয়ে একটি মামলা দায়ের করতে যাচ্ছেন বিএনপির তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল।

শায়রুল কবির খান বলেন, “দশম, একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে দায়িত্বে থাকা প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনারদের বিরুদ্ধে আমরা মামলা করব। কারণ, এ নির্বাচনগুলো ছিল বিতর্কিত ও অবৈধ।”

এর আগে, গত সোমবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে তিনটি জাতীয় নির্বাচনের আয়োজন ও পরিচালনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিবদের ভূমিকা তদন্তের নির্দেশ দেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, “যারা নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংসে ভূমিকা রেখেছেন, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।”

বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এ মামলার লক্ষ্য হচ্ছে নির্বাচন ব্যবস্থা পুনর্গঠন ও জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




শেখ হাসিনাকে বিচারমুখী দেখতে চাই: বিবিসিকে ড. ইউনূস

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচার একটি চলমান আইনি প্রক্রিয়া এবং তিনি চান, শেখ হাসিনা যেন বিচারকের সামনে হাজির হন।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূস বলেন, “আমরা চাই তিনি বিচারের মুখোমুখি হোন। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য আন্তর্জাতিক পদ্ধতি ব্যবহার করব।”

তিনি আরও জানান, শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন এবং সেখান থেকে নিয়মিতভাবে ভাষণ দিয়ে যাচ্ছেন। এ বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন ড. ইউনূস।

গত ১২ জুন যুক্তরাজ্য সফরে গিয়ে ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছ থেকে ‘হারমনি অ্যাওয়ার্ড’ গ্রহণের আগে বিবিসি সাংবাদিক রাজিনি বৈদ্যনাথনের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে এসব মন্তব্য করেন তিনি।

সাক্ষাৎকারে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা তাকে (শেখ হাসিনা) ফিরিয়ে আনার জন্য আন্তর্জাতিক আইন অনুসরণ করব। যেভাবে একজন অভিযুক্তকে ফিরিয়ে আনা হয়, আমরা সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করব। আমাদের কোনো ব্যক্তিগত ক্ষমতা নেই কাউকে ধরে আনার।”

আওয়ামী লীগের সমর্থকদের গ্রেপ্তার সংক্রান্ত প্রশ্নে ড. ইউনূস বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকার ও অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যে তুলনা করাটা লজ্জাজনক। যারা এই তুলনা করে, তারা বাংলাদেশের বাস্তবতা বোঝে না।”

তিনি দাবি করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ন্যায়বিচারের পথে চলছে এবং আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নিচ্ছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ঢাকা মেডিকেল শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগে অনীহা, চলবে অবস্থান ও কর্মসূচি

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) বন্ধের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে হল না ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। একইসঙ্গে তাদের পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়নে চলমান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

শনিবার (২১ জুন) সন্ধ্যায় এক ঘোষণায় শিক্ষার্থীরা জানান, কলেজ প্রশাসনের একতরফা সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। আলোচনা ছাড়াই হঠাৎ করে একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়ে হল ছাড়ার নির্দেশ অযৌক্তিক এবং অনৈতিক বলে দাবি করেন তারা।

শিক্ষার্থী তৌহিদুল আবেদীন তানভীর বলেন, “পরিত্যক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে আমাদের রাখা হয়েছে। এসব ভবনে বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না করেই এখন আমাদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা অমানবিক।” তিনি আরও বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে হলে অবস্থান করব এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাব।”

এর আগে, শনিবার সকাল থেকে পাঁচ দফা দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি ও মিছিল করেন ঢামেক শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবির মুখে বিকেলে কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে ঘোষণা দেওয়া হয়, একাডেমিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে এবং আগামীকাল ২২ জুন দুপুর ১২টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগ করতে হবে।

ঢামেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. কামরুল আলম স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, “কলেজের চলমান অচলাবস্থা নিরসনের লক্ষ্যে একাডেমিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হলো। সব শিক্ষার্থীকে ২২ জুন দুপুর ১২টার মধ্যে হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হলো।” তবে পেশাগত পরীক্ষার্থীদের ও বিদেশি শিক্ষার্থীদের এই বন্ধের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, হঠাৎ করে হল ত্যাগের নির্দেশে বিপাকে পড়েছেন দূরের শিক্ষার্থীরা। ঈদের ছুটি শেষে appena ক্যাম্পাসে ফিরে আসা অনেক শিক্ষার্থীর এখন নতুন করে বাসস্থানের চিন্তায় উদ্বেগ বেড়েছে।

এক নারী শিক্ষার্থী বলেন, “বিকল্প ব্যবস্থা না করে হলে তালা দেওয়ার নির্দেশ মানে আমাদের নিরাপত্তা ও শিক্ষাজীবন দুটোই হুমকির মুখে ঠেলে দেওয়া। আমরা আন্দোলনে আছি এবং থাকব।”

শিক্ষার্থীদের পাঁচ দফা দাবি
১. দ্রুত নতুন ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাসের জন্য বাজেট অনুমোদন।
২. নতুন ভবন চালু না হওয়া পর্যন্ত বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা।
৩. নতুন একাডেমিক ভবনের বাজেট অনুমোদন।
৪. পৃথক বাজেট ও তার দ্রুত বাস্তবায়নের পরিকল্পনা।
৫. সব সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা।

শিক্ষার্থীরা জানান, শুধু আবাসন নয়, নিরাপদ ও টেকসই শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হতে পারে না। এজন্য আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।




বাচ্চাদের যেভাবে বড় করছেন জানালেন পরীমণি

ঢালিউডের আলোচিত-সমালোচিত নায়িকা পরীমণি। তার অভিনয় ক্যারিয়ার থেকে ব্যক্তিজীবন- সব ক্ষেত্রেই তুমুল বিতর্ক থাকলেও বেশিরভাগ মানুষ এটা স্বীকার করেন যে, মা হিসেবে পরীমণি অতুলনীয়। দুটি সন্তানকে কিভাবে একা হাতে সামলাচ্ছেন তা দেখার মতো। সন্তানরাই যেন এখন তার প্রথম পৃথিবী হয়ে উঠেছে।

তাই অনেকেরই জানার আগ্রহ রয়েছে, পরী কিভাবে তার সন্তানদের বড় করছেন? ছোট বয়স থেকেই কোন মূল্যবোধের চর্চা করাচ্ছেন? অবশেষে পরী নিজেই এক লম্বা পোস্টের মাধ্যমে নিজের মাতৃত্ব, গুড প্যারেন্টিং এবং সন্তানদের বড় করা নিয়ে নানা দিক তুলে ধরেছেন।

পরীমণি লিখেছেন, ‘একটা এক্সপেরিয়েন্স শেয়ার করি! মনে হলো দরকার আছে। খেয়াল করে দেখবেন, আপনার আশেপাশে কিছু মানুষ থাকবে তারা আপনার প্রতি তাদের কেয়ার বোঝানোর জন্য তাদের জীবনে ঘটে যাওয়া ভালো মন্দ নানান জিনিস উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরবে। যে এটা করবা, এটা করলে এটা ভালো হবে। এটা করবা না, এটা করলে এটা মন্দ হবে।

সেরকম আমার এক পরিচিত মানুষ (মায়ের সমতুল্য) আমাকে নানান রকম বুদ্ধি পরামর্শ দিতেন আর কি! আমার বাচ্চা নিয়ে দিতো। আমার ছেলে তখন একদমই ছোট। দুই/তিন মাসের হবে। আমি তো তখন প্রতিদিন নতুন নতুন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। এখন অব্দি যাচ্ছি…

উনি সেসময়ে আমাকে নানান কিছু শেখাতেন। নতুন মায়েদের অবশ্য সবাই শেখাতে আসে। কিছু আসলে জানুক আর না জানুক। যাইহোক, উনি আমাকে বুঝাতেন- বাচ্চাকে ডিমের কুসুম দিতে ৩ মাস পর থেকেই (যেটা একদমই ঠিক নয়), আরও শেখাতেন- বাচ্চা বসা শিখলেই আমি যেন বাচ্চাকে ওয়াকার দিয়ে দেই! তাহলে নাকি বাচ্চা দ্রুত হাঁটতে শিখবে! আমি দেইনি বলে উনি নিজেই একদিন কিনে নিয়ে এলেন (যেটা এখন সাইন্টিফিক্যালি একদম ব্যান করে দেওয়া হয়েছে। কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা গেছে এতে বাচ্চাদের মেরুদণ্ডের ক্ষতি করে। পঙ্গুত্ব পর্যন্ত হতে পারে!) তবে এ রকম অনেক ভুলভাল পরামর্শের মধ্যে কিছু ভালো জিনিসও উনি আমাকে শিখিয়েছেন। যেমন বাচ্চাকে প্রপার ওয়েতে ব্রেষ্ট ফিড করানো, তেল মালিশ করা, বাচ্চার গ্যাস ফাইন্ডআউট করা। আমি অবশ্যই তার জন্য কৃতজ্ঞ।’

এরপর তিনি এই লেখাটি কেন লিখছেন সে কথা তুলে ধরেন। পরীর ভাষ্য, ‘‘আজকের এই লেখাটার কারণ হচ্ছে অন্য একজন মায়ের জন্য। তার একটা ভিডিও আমি দেখলাম তার তিন বছরের বাচ্চাকে নিয়ে শপিংমলে শপিং করার ফুটেজে ভয়েস ওভারে গুড প্যারেন্টিং নিয়ে কথা বলতে! কথা বলা তো নয় বলা যায় এক রকম জ্ঞান দিচ্ছিলো আর কি। আমি খেয়াল করলাম, এই কথাগুলো আমার পরিচিত! কথাগুলো এমন- ‘বাবা মায়ের সাধ্য থাকলেও তাদের উচিত না বাচ্চাকে সব কিনে দেয়া। ঈদের শপিং এ তার ৩ বছরের বাচ্চাকে অপশন দিয়েছেন হয় জামা নিতে পারবে না হয় খেলনা।’’

এরপর পরী লিখেছেন, ‘এই কথাগুলো আমাকেও বলা হয়েছিলো। ওই যে যিনি আমাকে গুড প্যারেন্টিং নিয়ে উপদেশ দিতেন। উনি আমাকে এটাও বলেছিলেন, যে তার বাচ্চারা ছোটবেলায় বাইরে গেলে চিপস কিনতে চাইলেও নাকি তাদের তখন কিনে দেয়া হতো না। পরের দিন দিত। এতে নাকি বাচ্চার তার বাবা মায়ের সমর্থের উপর আস্থা আসে। বাচ্চা নাকি এতে অভাব বুঝতে শেখে। যাইহোক তারা তাই-ই শিখছে, মানে ওই ‘অভাব’ আর কি।

সরি ভাই! আমার মোটেও এই ধরনের প্যারেন্টিং বোধগম্যে হলো না। এই যে একটা বিষয়, ছোট্ট একটা বাচ্চা ২/৩ বছরের, ওরে তুমি অভাব শেখাও! কেমনে? তুমি তো ওরে মনুষত্ব শেখাবা। তবেই ও অভাব না শিখে অভাববোধ শিখবে। বাবা মায়ের সাধ্য সমর্থ্যের সঠিক মূল্যায়ন করতে শিখবে। না হলে বড় হয়ে তোমার মতোই ধোকাবাজি শিখবে।’ সবশেষে পরী লেখেন, ‘ভাই আমি বুঝিনা কোনও টোকাইও চায় তার বাচ্চাকে অন্তত ঈদের সময় দুনিয়াটা কিনে দিতে। আর আপনার সাধ্য আছে নিউ মার্কেট থেকে কেনাকাটার তাহলে আপনি নিশ্চয়ই বাচ্চাকে নিয়ে দুবাই চলে যাবেন না তাই না। এতে আপনার বাচ্চার কোমল মন ছোট অনুভব করে। অভাববোধ শেখাতে গিয়ে আপনি তাকে কৃপণ্যতা শেখাচ্ছেন।

হ্যাঁ, আমি আমার ছেলেকে একদম ছোট থেকেই খেলনার দোকানে ছেড়ে দিই। আর বলি, ‘আমার বাজান তোমার যা কিছু ভালো লাগে তুমি নিতে পারো।’ ফলে আমি ওর খুশি হওয়া দেখি। আমি দেখি কত লোভনীয় হার্মফুল টয় (পিস্তল, বন্দুক ইত্যাদি) ও ধরে না। ব্যাস, এতটুকুই শিক্ষা এই বয়সের জন্য যথেষ্ট। এক বস্তা খেলনা কিনে যখন সবাইকে ভাগ করে দেয়! ব্যাস, এতটুকু মন উদার হওয়াটাই ওর এই বয়সের জন্য যথেষ্ট। আমি জানি প্রত্যেক মায়ের বা বাচ্চাদের বড় হওয়ার জার্নি এক রকম নয়। শুধু এইটুকু বলার, আপনার সোশ্যাল কোনো কম্পিটিশনের মধ্যে বাচ্চদের ফেলবেন না প্লিজ।’




ঝালকাঠিতে গভীর রাতে বাসা থেকে ছেলে গ্রেপ্তার, ‘আতঙ্কে’ বাবার মৃত্যু

ঝালকাঠির নলছিটিতে গভীর রাতে বাসা থেকে সুমন সরদার (৩৫) নামের এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর বাবা মো. হাবিব সরদার (৫৮) মারা যান।

পরিবারের সদস্যরা বলছেন, ছেলেকে গ্রেপ্তার হতে দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন হাবিব সরদার। এ সময় তিনি বুকে ব্যথা অনুভব করছেন বলে জানান। কিছুক্ষণ পর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার সিদ্ধকাঠি ইউনিয়নের চৌদ্দবুড়িয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। আজ শুক্রবার সকালে গ্রেপ্তার সুমন সরদারকে ঝালকাঠির জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করলে বিচারক তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।

সুমনের পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, ওই রাতে নলছিটি থানা-পুলিশের একটি দল মারামারির একটি মামলায় সুমন সরদারকে গ্রেপ্তার করতে তাঁদের বাড়িতে যায়। পুলিশ সুমনকে গ্রেপ্তারের সময় আতঙ্কিত হয়ে পড়ে যান তাঁর বাবা হাবিব সরদার। এ সময় তিনি বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে দ্রুত তাঁকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

ঝালকাঠির জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) এনামুল হাসান জামিনের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুস ছালাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘সুমন সরদার একটি ফৌজদারি মামলার আসামি। তাঁকে গ্রেপ্তারে আদালতের পরোয়ানা রয়েছে। নিয়মিত আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার সকালে সুমনকে আদালতে হাজির করেন তদন্ত কর্মকর্তা।’

সুমনকে গ্রেপ্তারের পর তাঁর বাবা হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে আবদুস ছালাম বলেন, ‘তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি শুনেছি। আসামির বাবা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন বলে জেনেছি।’




ভোলার মেঘনায় নৌকা থেকে পড়ে জেলে নিখোঁজ, ৬ ঘন্টা পর মরদেহ উদ্ধার!

ভোলার মনপুরার মেঘনায় মাছ শিকার করে ঘাটে এসে নৌকা নোঙ্গর করার পর পড়ে গিয়ে নিখোঁজের ৬ (ছয়) ঘন্টা পর মহিউদ্দিন নামের এক জেলের মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয়রা। পরে পুলিশ আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে তার মরদেহ হস্তান্তর করে।

শুক্রবার (২০ই জুন) দুপুর ২টায় উপজেলার ৪ নং দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের আলমপুর সংলগ্ন মেঘনায় নিখোঁজ জেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এর আগে একইস্থানে সকাল ৮ টায় নোঙ্গর করা অবস্থায় নৌকা থেকে পড়ে নিখোঁজ হন ওই জেলে।

নিহত জেলে মহিউদ্দিন উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত জয়নাল আবেদিনের ছেলে। তিনি ইসমাইল মাঝির নৌকার জেলে ও বাবুর্চির (রান্নার) দায়িত্বে ছিলেন।

নৌকার মাঝি ইসমাইল মাঝি ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সকাল ৮ টায় মাছ শিকার করে আলমপুর সংলগ্ন ঘাটে নৌকা নোঙ্গর করে রাখা হয়। ওই সময় অন্যান্য জেলেরা নামলেও নিহত জেলে মহিউদ্দিন নৌকা থেকে নামার সময় পড়ে গিয়ে নিখোঁজ হন। পরে দুপুর ২ টায় একইস্থানে লাশ ভেসে উঠে। পরে পুলিশ এসে আইনিপ্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করে।

এই ব্যাপারে মনপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আহসান কবির জনকণ্ঠকে জানান, আইনিপ্রক্রিয়া শেষে জেলের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। থানায় একটি ইউডি (অপমৃত্যু) মামলা করা হয়েছে।




বরগুনায় ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে ডেঙ্গু পরিস্থিতি, হাসপাতালগুলো হিমশিম খাচ্ছে রোগী সামলাতে

বরগুনায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। সদর উপজেলা ছাড়িয়ে অন্যান্য উপজেলাতেও ছড়িয়ে পড়ছে এডিস বাহিত এই রোগ। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৮৩ জন। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২,১৮৮ জনে

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের মধ্যে বরগুনা সদরেই ৭৮ জন এবং পাথরঘাটায় ৫ জন শনাক্ত হয়েছেন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ২৪১ জন

এর মধ্যে বরগুনা সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ২০৬ জন, পাথরঘাটায় ১০ জন, তালতলীতে ৯ জন, বামনায় ৮ জন, আমতলীতে ৪ জন ও বেতাগীতে ৪ জন রোগী চিকিৎসাধীন।

বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের পরিস্থিতি সবচেয়ে সংকটাপন্ন। ধারণ ক্ষমতার প্রায় চারগুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স সুপ্রিয়া হাওলাদার বলেন, “এখানে হাঁটারও জায়গা নেই। আমাদের কর্মপরিধি কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। চিকিৎসক-নার্স সংকটে আমরা কঠিন বাস্তবতার মধ্যে রয়েছি।”

হাসপাতালের ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. মাহমুদ মুর্শিদ শুভ বলেন, “রোগীর চাপ প্রতিদিনই বাড়ছে। ছুটির দিনেও নিয়মিত রাউন্ড দিতে হচ্ছে। সচেতনতা না বাড়লে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।”

আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. তাজকিয়া সিদ্দিকাহ জানান, “অনেক রোগী ভর্তি হচ্ছেন যাদের বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা নেওয়া যেত। এতে হাসপাতালের ওপর বাড়তি চাপ পড়ছে।”

ডেঙ্গুতে জেলার হাসপাতালগুলোতে ৫ জন এবং জেলার বাইরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত দুই মাসে ১৫ জন মারা গেছেন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ বলেন, “ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবেলায় অতিরিক্ত ১২ জন চিকিৎসক ও ১০ জন নার্সকে বরগুনায় পদায়ন করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত মাত্র ৫ জন চিকিৎসক ও ৫ জন নার্স যোগদান করেছেন। বাকিরা এখনো কাজে যোগ দেননি। সিভিল সার্জনের ভাষ্য, বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।




এনসিপি’র সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের সর্বোচ্চ মেয়াদ ৬ বছর

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে দুই মেয়াদে সর্বোচ্চ ৬ বছর থাকতে পারবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (২০ জুন) দলের যুগ্ম সদস্য সচিব (দপ্তর) সালেহ আহমেদ সিফাতের পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এছাড়া, দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সারা দেশের কাউন্সিলদের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হবেন। কাউন্সিলর হবেন প্রত্যেকটা জেলা ও উপজেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ।

এছাড়া, পার্টির সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী একই ব্যক্তি হতে পারবে না বলেও এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।