বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর দায় শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের: আইন উপদেষ্টা

বিএনপির চেয়ারপার্সন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগকে দায়ী করেছেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ড. আসিফ নজরুল বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মাধ্যমে দেওয়া রায়ের কারণে দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকতে হয়েছে। তিনি দাবি করেন, প্রহসনমূলক মামলার মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠিয়ে অমানবিক মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার করা হয়েছে।

আইন উপদেষ্টা আরও বলেন, যে মামলাগুলোতে খালেদা জিয়াকে সাজা দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো ছিল সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সাজানো। এসব মামলার পেছনে ন্যায়বিচারের কোনো প্রতিফলন ছিল না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ড. আসিফ নজরুল তার বক্তব্যে বলেন, “ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর জন্য ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ও তার সরকারের পূর্ণ দায় রয়েছে।” তিনি এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ইতিহাসের সামনে সত্য উদঘাটনের দাবি জানান।

এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন এক প্রতীকী নেতৃত্ব, যাকে দমন করতে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ব্যাগভর্তি পাখি শিকার করলেন বরগুনার দুই কারারক্ষী

বরগুনায় প্রকাশ্যে এয়ারগান দিয়ে পাখি শিকারের অভিযোগ উঠেছে জেলা কারাগারে কর্মরত দুই কারারক্ষীর বিরুদ্ধে। স্থানীয় সাংবাদিকরা ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করে বাধা দিলে শিকার করা পাখিভর্তি ব্যাগ ও এয়ারগান নিয়ে মোটরসাইকেলে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন অভিযুক্তরা।

ঘটনাটি ঘটে সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে বরগুনা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুল কাদের সড়কে। অভিযুক্তরা হলেন বরগুনা জেলা কারাগারের কারারক্ষী মো. হাফিজুর রহমান এবং সহকারী প্রধান কারারক্ষী মো. রফিকুল ইসলাম

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বরগুনায় কর্মরত একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের স্টাফ রিপোর্টার ও চিত্র সাংবাদিক পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় ওই সড়কে দুই কারারক্ষীকে পাখি শিকার করতে দেখেন। তারা সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে শিকার বন্ধের অনুরোধ জানালে অভিযুক্তরা সঙ্গে থাকা ব্যাগভর্তি শিকার করা পাখি ও এয়ারগান নিয়ে মোটরসাইকেলে করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে এক কারারক্ষীর হাতে একটি ডাহুক পাখি এবং অপরজনের হাতে একটি এয়ারগান দেখা যায়। মোটরসাইকেলে ঝুলানো ব্যাগে অন্তত ২৫টি শিকার করা পাখি ছিল বলে দাবি করা হয়।

জানা গেছে, অভিযুক্ত সহকারী প্রধান কারারক্ষী মো. রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে এর আগেও পাখি শিকারের অভিযোগ উঠেছিল। সে সময় সাংবাদিকদের সামনে ভবিষ্যতে এমন কর্মকাণ্ডে জড়াবেন না বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

এ বিষয়ে কারারক্ষী মো. হাফিজুর রহমান দাবি করেন, তিনি ছুটিতে ছিলেন এবং নিজের মোটরসাইকেলে বের হলে সহকর্মী মো. রফিকুল ইসলাম তার সঙ্গে ছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানতে পারার পর রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে এবং এয়ারগান জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার কাছ থেকেও লিখিত ব্যাখ্যা নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে অভিযুক্ত সহকারী প্রধান কারারক্ষী মো. রফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

পরিবেশকর্মীরা বলছেন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী এয়ারগান দিয়ে পাখি শিকার শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বরগুনার পরিবেশকর্মী মুশফিক আরিফ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এ বিষয়ে বন বিভাগের বরগুনা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আখতারুজ্জামান বলেন, তিনি বিষয়টি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত নন। খোঁজ নিয়ে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বেগম জিয়ার মৃত্যুতে ৭ দিনের শোক পালনের করবে বিএনপি

চন্দ্রদ্বীপ ‍নিউজ: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম  খালেদা জিয়া মঙ্গল বার সকাল ৬টায় ইন্তেকাল করেছেন।

তার মৃত্যুতে সাত দিন শোক পালন করার ঘোষনা দিয়েছে  বিএনপি।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) পৌনে ৯ টার দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে শোক প্রকাশ করে এ তথ্য জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।

খালেদা জিয়া রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর অসুস্থতার দরুন চিকিৎসাধীন ছিলেন।

তার প্রয়াণে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।




আপসহীনতার বাইরেও খালেদা জিয়া ছিলেন ‘অপরাজেয়’ এক রাজনৈতিক প্রতীক

বাংলাদেশের নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রায় চার দশক ধরে একটি ব্যতিক্রমী ও প্রভাবশালী নাম বেগম খালেদা জিয়া। আপসহীন নেত্রী হিসেবে পরিচিত হলেও, তার রাজনৈতিক জীবনের আরেকটি অনন্য দিক হলো— নির্বাচনী মাঠে তিনি কখনও পরাজিত হননি। এই ধারাবাহিক সাফল্যই তাকে রাজনীতিতে ‘অপরাজেয়’ নেত্রী হিসেবে আলাদা করে চিহ্নিত করেছে।

১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খালেদা জিয়া একাধিক আসনে প্রার্থী হন। ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি প্রতিবারই পাঁচটি করে আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সবগুলোতেই বিজয়ী হন। পরবর্তীতে ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি তিনটি আসনে প্রার্থী হয়ে তিনটিতেই জয় লাভ করেন।

নির্বাচনী সাফল্যের ধারাবাহিকতায় খালেদা জিয়া তিন দফায় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন—১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে। এর মধ্যে ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর গঠিত ষষ্ঠ সংসদে তার দ্বিতীয় দফার সরকার ছিল স্বল্পস্থায়ী, প্রায় এক মাসের। তবে ১৯৯১ সালে পঞ্চম সংসদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তার নেতৃত্বেই সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি শাসন ব্যবস্থা থেকে সংসদীয় গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তন ঘটে, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিজয়ের মাধ্যমে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে এবং গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার বিভিন্ন কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়িত হয়। ১৯৯৬ সালে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার অধীনে অনুষ্ঠিত সপ্তম সংসদ নির্বাচনে বিএনপি পরাজিত হলে খালেদা জিয়া বিরোধী দলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করেন।

পরবর্তীতে চারদলীয় ঐক্যজোট গঠনের মাধ্যমে—জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ঐক্যজোটকে সঙ্গে নিয়ে—২০০১ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে তিনি তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন
২০০৮ সালের নির্বাচনের পর তিনি আবার বিরোধী দলীয় নেতার দায়িত্বে ছিলেন। এরপর ২০১৪ সালের নির্বাচন বিএনপি বয়কট করে। দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় ২০১৮ সালের নির্বাচনেও তিনি অংশ নিতে পারেননি২০২৪ সালের নির্বাচনও বিএনপি বর্জন করায়, ২০১৪ সালের পর থেকে তিনি নির্বাচনী রাজনীতির বাইরে ছিলেন।

রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ছিল, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি একাধিক আসন থেকে অংশ নিতে পারেন—এমন সম্ভাবনার কথা। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার আগেই এই আপসহীন নেত্রীর জীবনাবসান ঘটে, যা দেশের রাজনীতিতে এক শূন্যতার সৃষ্টি করে।

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন, সংসদীয় শাসনব্যবস্থা ও নির্বাচনী ইতিহাসে খালেদা জিয়ার ভূমিকা ও রেকর্ড আজও অনন্য ও আলোচিত

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া আর নেই

বঙ্গবন্ধু-কন্যা ও আওয়ামী লীগ নেত্রী শায়েস্তা ভুলি নয়—এবার সত্য: বিএনপি চেয়ারপারসন ও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মারা গেছেন। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে দীর্ঘ অসুস্থতার কারণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেছেন বলে জানানো হয়েছে।

খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়; তিনি ছিলেন দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং দুই দফায় দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর বয়স ছিল প্রায় ৮০ বছর।

বিএনপি চেয়ারপারসনের এই মৃত্যুর বিষয়টি দলের অফিসিয়াল পক্ষ থেকেও নিশ্চিত করা হয়েছে এবং “ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন” উল্লেখ করে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়েছে। �

জানা গেছে, বেগম খালেদা জিয়া গত বেশ কিছু সময় ধরে নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন এবং নভেম্বরে তিনি চিকিৎসার জন্য ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় লাইফ সাপোর্ট সহ উন্নত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল।

এ উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর রাজনৈতিক জীবন ও বাংলাদেশে সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে অগ্রণী ভূমিকা স্মরণ করা হচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



৩০০ আসনে ২,৫৮২ প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে সারা দেশে ৩০০টি সংসদীয় আসনে মোট ২,৫৮২টি মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়েছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) তথ্য নিশ্চিত করেছে।

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে ঢাকা অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ দেখা গেছে। ৪১টি আসনের বিপরীতে রাজধানীতে ৪৪৪টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জনসংযোগ শাখার পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক জানান, অন্যান্য অঞ্চলের বণ্টন ছিল—

  • ফরিদপুর: ১৫ আসন, ১৪২ মনোনয়ন
  • চট্টগ্রাম: ২৩ আসন, ১৯৪ মনোনয়ন
  • কুমিল্লা: ৩৫ আসন, ৩৬৫ মনোনয়ন
  • রাজশাহী: ৩৯ আসন, ২৬০ মনোনয়ন
  • খুলনা: ৩৬ আসন, ২৭৬ মনোনয়ন
  • বরিশাল: ২১ আসন, ১৬৬ মনোনয়ন
  • ময়মনসিংহ: ৩৮ আসন, ৩১১ মনোনয়ন
  • সিলেট: ১৯ আসন, ১৪৬ মনোনয়ন
  • রংপুর: ৩৩ আসন, ২৭৮ মনোনয়ন

তিনি আরও জানান, মনোনয়নপত্র বাছাই কার্যক্রম ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ৪ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত চলবে। বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি। আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারি। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ এবং প্রতীক বরাদ্দ করা হবে ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি এবং ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি, সকাল ৭:৩০ পর্যন্ত।

এই ধাপে মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রতিযোগিতা আরও স্পষ্ট হবে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অংশগ্রহণ নির্বাচনের প্রতিযোগিতা এবং উত্তেজনা বৃদ্ধি করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




নির্বাচনে না থাকার ঘোষণা আসিফ মাহমুদের

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকেলে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ জানান, তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপির মুখপাত্র হিসেবে যুক্ত হয়েছেন। এ সময় তিনি বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের শহিদদের যে স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা, তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই আমি এনসিপিতে যোগ দিয়েছি। এই নির্বাচনে প্রার্থী না হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, সংসদে একজন ব্যক্তি হিসেবে যাওয়ার চেয়ে জুলাই অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া বহু সহযোদ্ধাকে সংসদে পৌঁছাতে সহায়তা করাই তার কাছে বড় সাফল্য। তার ভাষায়, “আমার একার সংসদে যাওয়ার চেয়ে আন্দোলনের সহযোদ্ধাদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে কাজ করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”

আসিফ মাহমুদ আরও জানান, দল থেকে তাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তা সর্বোচ্চ গুরুত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করবেন। তিনি বলেন, “এনসিপির প্রতিটি প্রার্থীকে বিজয়ী করতে আমি মাঠে কাজ করব। একই সঙ্গে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনমত গড়ে তুলতেও ভূমিকা রাখব।”

উল্লেখ্য, এর আগে ঢাকা-১০ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন আসিফ মাহমুদ। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি মনোনয়নপত্র জমা দেননি। তার এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশালের ৬ আসনে জমা পড়ল ৪৮ মনোনয়ন, শেষ দিনে ছিল উৎসবের আমেজ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বরিশাল জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র দাখিলের কার্যক্রম শেষ হয়েছে। শেষ দিনে জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে মোট ৪৮ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) রাত ৭টায় মনোনয়ন দাখিলের সময়সীমা শেষ হলে বরিশাল জেলা প্রশাসনের সভাকক্ষে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা খাইরুল আলম সুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, দিনভর শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে মনোনয়ন দাখিল কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।

রিটার্নিং অফিসার সূত্রে জানা গেছে,

  • বরিশাল-১ (গৌরনদী–আগৈলঝড়া) আসনে মনোনয়ন জমা পড়েছে ৫টি,
  • বরিশাল-২ (উজিরপুর–বানারীপাড়া) আসনে ১১টি,
  • বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ–মুলাদী) আসনে ১০টি,
  • বরিশাল-৪ (হিজলা–মেহেন্দিগঞ্জ) আসনে ৬টি,
  • বরিশাল-৫ (বরিশাল সদর ও সিটি করপোরেশন) আসনে ১০টি,
  • এবং বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে ৬টি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে বরিশালের ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট ৪৮টি মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, তফসিল ঘোষণার পর প্রার্থীরা মোট ৬২টি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন, যার মধ্যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই ৪৮টি দাখিল করা হয়।

এ বিষয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা খাইরুল আলম সুমন বলেন, সবার সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণভাবে মনোনয়ন দাখিল সম্পন্ন হয়েছে এবং নির্বাচন সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ বা অনিয়মের তথ্য প্রশাসনকে জানাতে সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানান তিনি।

মনোনয়ন যাচাই-বাছাই ও প্রত্যাহার শেষে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। এরপর নির্বাচনী মাঠে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা আরও জোরদার হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ঝালকাঠির দুই আসনে জমা ২৫ মনোনয়ন, প্রার্থিতায় উৎসবের আমেজ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঝালকাঠি জেলার দুইটি সংসদীয় আসনে মনোনয়ন দাখিলের প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। এতে মোট ২৫ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। জেলা প্রশাসন সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার মধ্যে ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মমিন উদ্দিন-এর কাছে প্রার্থীরা নিজ নিজ মনোনয়নপত্র জমা দেন। মনোনয়ন জমাকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসন কার্যালয় এলাকায় দিনভর রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি ও উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।

জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে,

  • ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর–কাঁঠালিয়া) আসনে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ১৫ জন
  • ঝালকাঠি-২ (সদর–নলছিটি) আসনে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ১০ জন প্রার্থী

ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর–কাঁঠালিয়া) আসনের প্রার্থীরা

এই আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন—
বিএনপি মনোনীত রফিকুল ইসলাম জামাল, জামায়াতে ইসলামীর ডা. ফয়জুল হক, ইসলামী আন্দোলনের ইব্রাহীম আল হাদী, এনসিপির ডা. মাহমুদা আলম মিতু, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় পার্টির কামরুজ্জামান খান, জাতীয় পার্টি (জেপি)-এর অ্যাডভোকেট রুবেল হাওলাদারমাহিবুল ইসলাম মাহিম, জাসদ (জেএসডি)-এর সোহরাব হোসেন, জনতা দলের জসিম উদ্দিন তালুকদার, গণ অধিকার পরিষদের শাহাদাত হোসেনসহ একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী।
স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন— গোলাম আজম সৈকত, মঈন আলম ফিরোজী, কর্নেল (অব.) মোস্তাফিজুর রহমান এবং মেজর (অব.) সাব্বির আহমেদ

ঝালকাঠি-২ (সদর–নলছিটি) আসনের প্রার্থীরা

এই আসনে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন— বিএনপি মনোনীত সাবেক সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো, জামায়াতের শেখ নেয়ামুল করিম, ইসলামী আন্দোলনের ডা. সিরাজুল ইসলাম সিরাজী, এবি পার্টির শেখ জামাল হোসেন, জাতীয় পার্টির এম. এ. কুদ্দুস খান, জাসদ (জেএসডি)-এর মাসুদ পারভেজ, গণ অধিকার পরিষদের মাহমুদুল আলম সাগর এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. নুরুদ্দীন সরদারসৈয়দ রাজ্জাক আলী

নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত তফসিল অনুযায়ী মনোনয়ন যাচাই-বাছাই ও প্রত্যাহার শেষে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। এদিকে একাধিক দলের প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর অংশগ্রহণে ঝালকাঠির দুই আসনে এবারও বহুমাত্রিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশালে কনকনে শীতে গৃহবন্দি মানুষ, দিনভর দেখা নেই সূর্যের

বরিশালে তীব্র শীত জেঁকে বসেছে। টানা তিন দিন ধরে সূর্যের দেখা না মেলায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জনজীবন ও কর্মচাঞ্চল্য। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ, যারা জীবিকার তাগিদে শীত উপেক্ষা করেই বাইরে বের হতে বাধ্য হচ্ছেন।

ফুটপাত ও মার্কেটে গরম পোশাকের দোকানে ভিড় বাড়লেও সুযোগ বুঝে দাম বাড়ানোর অভিযোগ উঠেছে।

বরিশাল আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, রোববার সকাল থেকে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৩.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে, যা শনিবার ছিল ১২.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। হিমেল বাতাসে দিনভর শীতের তীব্রতা অনুভূত হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, গত ৩-৪ দিন ধরে শীতের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন কম মানুষ। শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন শিশু ও বয়স্করা, যার ফলে হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়েছে।

বরিশাল আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক প্রণব কুমার রায় বলেন, “চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল। দিনে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৫.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বিকেল পর্যন্ত পুরো জেলা হালকা কুয়াশাচ্ছন্ন ছিল। আরও দু-এক দিন এই পরিস্থিতি বিরাজ করতে পারে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫