দলীয় নিবন্ধন ও প্রতীক ফিরে পেলো জামায়াতে ইসলামী

দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন ও দলীয় প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ পুনর্বহাল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

মঙ্গলবার (২৪ জুন) নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমান মাছউদ এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন ইতোমধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে।

ইসি সচিব আখতার আহমেদের সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০০৮ সালের ৫ নভেম্বর নির্বাচন কমিশনের একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জামায়াতকে নিবন্ধন দেওয়া হয়েছিল (নিবন্ধন নম্বর: ০১৪)। কিন্তু হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী ২০১৮ সালের ২৮ অক্টোবর একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সেই নিবন্ধন বাতিল করা হয়

পরবর্তীতে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের সেই রায় বাতিল করে দেন। ফলে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন জামায়াতের নিবন্ধন পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নেয়। কোরবানির ঈদের আগে ৪ জুন অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী এখন জামায়াতের প্রতিনিধিদল নিবন্ধন ও প্রতীক গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবে। বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের তালিকায় জামায়াতের ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক অন্তর্ভুক্ত নেই, তবে বিধিমালা সংশোধনের মাধ্যমে প্রতীকটি পুনরায় যুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিব।

ইসি সূত্রে আরও জানা গেছে:

  • বর্তমানে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল রয়েছে ৫০টি
  • সংসদ নির্বাচনের জন্য সংরক্ষিত ৬৯টি প্রতীক রয়েছে।
  • আরও ১১৫টি প্রতীকের প্রস্তাবনা কমিশনের বিবেচনায় রয়েছে।
  • এসব প্রতীক নিয়ে কমিশন খুব শিগগির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

উল্লেখ্য, জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিলের পর দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে দলটি ফের বৈধতা পায়। এই সিদ্ধান্ত দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত।




প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত কোচিং সেন্টার বন্ধ

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষাকে ঘিরে প্রশ্নফাঁস ও গুজব রোধে আগামী ১৫ আগস্ট পর্যন্ত দেশের সব কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

মঙ্গলবার (২৪ জুন) বিকেলে মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক তথ্য বিবরণীতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২৫ জুন (বুধবার) মধ্যরাত থেকে এই নির্দেশনা কার্যকর হবে।

সম্প্রতি শিক্ষা উপদেষ্টা ড. চৌধুরী রফিকুল আবরারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় পরীক্ষাকে সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত রাখার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

তথ্য বিবরণীতে আরও বলা হয়:

  • প্রশ্নপত্র ফাঁস বা গুজব ছড়ানোর ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
  • পরীক্ষা কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোনসহ কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
  • পরীক্ষার দিন ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে উপস্থিত হতে হবে।
  • বিলম্বে উপস্থিত হলে রেজিস্টারে নাম, রোল, সময় ও কারণ উল্লেখ করে বোর্ডকে জানাতে হবে।
  • প্রাকৃতিক দুর্যোগে পরীক্ষা বিলম্বিত হলে সময় সমন্বয় করে পূর্ণ সময় পরীক্ষার্থীদের দেওয়া হবে।
  • প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনীও দায়িত্বে থাকবে।

চলতি বছর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১২ লাখ ৫১ হাজার ১১১ জন পরীক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। তাদের মধ্যে ছাত্র ৬ লাখ ১৮ হাজার ১৫ জন এবং ছাত্রী ৬ লাখ ৩৩ হাজার ৯৬ জন।




আইজিপির সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল এবং অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশের প্রতিনিধি ম্যাথিউ ক্র্যাফট।

মঙ্গলবার (২৪ জুন) সকালে পুলিশ সদর দফতরে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ পুলিশ ও অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশের মধ্যে **মানবপাচার, অর্থপাচার এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমন** সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়। উভয় পক্ষ পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করে।

আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, **বাংলাদেশ পুলিশ আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতায় কাজ করতে আগ্রহী এবং ইতিমধ্যে এ বিষয়ে বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।**

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত আইজি মো. গোলাম রসুল, অতিরিক্ত আইজি (অপরাধ ও অভিযান) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম, সিআইডির অতিরিক্ত আইজি মো. ছিবগাত উল্লাহসহ পুলিশের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এই সাক্ষাৎ দুই দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করবে বলে আশা প্রকাশ করেন উভয় পক্ষ।




জুলাই থেকে ‘জুলাই যোদ্ধারা’ ভাতা পাবেন

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে আহতদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে আগামী জুলাই মাস থেকে তাদের মাসিক ভাতা ও অন্যান্য সরকারি সুবিধা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। একইসাথে ‘জুলাই শহীদ’ পরিবারের সদস্যদেরও পুনর্বাসন, আর্থিক সহায়তা ও চাকরিতে অগ্রাধিকারসহ নানা সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

সোমবার (২৩ জুন) সচিবালয়ে এক সাক্ষাৎকারে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিন ক্যাটাগরিতে ভাতা

জুলাই যোদ্ধাদের শারীরিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’ এই তিন ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে।

  • ‘এ’ ক্যাটাগরি: যারা গুরুতরভাবে আহত হয়ে এখন অন্যের সহায়তা ছাড়া চলাফেরা করতে অক্ষম। এদের সংখ্যা ৪৯৩ জন। তারা এককালীন ৫ লাখ টাকা এবং প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা ভাতা পাবেন।
  • ‘বি’ ক্যাটাগরি: যাদের আংশিক অঙ্গহানি হয়েছে এবং সীমিত সহায়তায় চলাফেরা করতে পারেন। এদের সংখ্যা ৯০৮ জন। তারা এককালীন ৩ লাখ এবং মাসিক ১৫ হাজার টাকা ভাতা পাবেন।
  • ‘সি’ ক্যাটাগরি: যারা চিকিৎসার পর সুস্থ হয়েছেন। এ ক্যাটাগরিতে আছেন ১০ হাজার ৬৪২ জন। তারা এককালীন ১ লাখ এবং প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন।

জুলাই শহীদদের জন্য সহায়তা

সরকার ঘোষিত তালিকায় বর্তমানে ৮৩৪ জনকে ‘জুলাই শহীদ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তাদের পরিবার এককালীন ৩০ লাখ টাকা করে পাবেন। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ১০ লাখ টাকা প্রদান করা হয়েছে এবং আগামী মাসে বাকি ২০ লাখ টাকা জাতীয় সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে দেওয়া হবে। পাশাপাশি, পরিবারগুলোকে মাসে ২০ হাজার টাকা ভাতা এবং চাকরিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

চিকিৎসা ও পুনর্বাসন

সব ক্যাটাগরির আহত যোদ্ধারা সরকারি হাসপাতালে আজীবন চিকিৎসা সুবিধা পাবেন। গুরুতর আহতদের জন্য বিদেশে চিকিৎসা, পুনর্বাসন, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান কর্মসূচিও চালু করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৭ জনকে তুরস্কে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।

জুলাই যোদ্ধা অধিদপ্তর গঠন

জুলাই যোদ্ধাদের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে নতুন একটি অধিদপ্তর গঠন করা হয়েছে। একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে ২০ জন কর্মকর্তা নিয়ে এ অধিদপ্তর পরিচালিত হচ্ছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ঘোষণা

উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম জানান, প্রতি বছর ৫ আগস্ট “জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস” হিসেবে জাতীয়ভাবে উদযাপন করা হবে। এটি অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে ইতিহাস স্মরণে নেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

ভবিষ্যৎ উদ্যোগ

উপদেষ্টা জানান, শহীদদের পরিবার এবং আহতদের যেসব ক্ষেত্রে ওয়ারিশ বা তালিকা সংশোধনজনিত সমস্যা রয়েছে, তা দ্রুত সমাধান করা হবে। কেউ নিখোঁজ থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করারও আশ্বাস দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, “জুলাই যোদ্ধারা গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রের জন্য নিজেদের রক্ত দিয়েছেন। জাতি তাদের ত্যাগ কখনো ভুলবে না।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫

 

 

 




জুলাই বিপ্লবের সমর্থকদের নিয়ে উপদেষ্টা পরিষদ গড়বে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন তাদের কেন্দ্রীয় কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে একটি ‘উপদেষ্টা পরিষদ’ গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সোমবার (২৩ জুন) রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মুঈনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বার্তায় এই তথ্য জানানো হয়।

বার্তায় জানানো হয়, প্রস্তাবিত উপদেষ্টা পরিষদে অন্তর্ভুক্ত থাকবেন জুলাই বিপ্লবে নেতৃত্বদানকারী সম্মুখ সারির সমন্বয়ক, বিপ্লবের প্রতি সহানুভূতিশীল শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক কর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ব্যক্তিরা। উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের মাধ্যমে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যক্রম আরও সুসংহত ও দিকনির্দেশনামূলক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এছাড়া সংগঠনের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রথম কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্বাচিত নেতৃত্ব তাদের কার্যদিবসের প্রথম দিনেই এই তদন্ত কমিটি গঠন করবে। উক্ত কমিটিকে সর্বোচ্চ ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে আর্থিক সংশ্লিষ্ট বিষয়ে একটি শ্বেতপত্র (হোয়াইট পেপার) উপস্থাপন করতে হবে।

সংগঠনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রথম কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের তারিখ একদিন পিছিয়ে আগামী বুধবার (২৫ জুন) নির্ধারণ করা হয়েছে।




আওয়ামী-বিএনপি একই চরিত্রের —মুফতি ফয়জুল করীমের অভিযোগ

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেছেন,

“আওয়ামী লীগ আর বিএনপি একই চরিত্রের। কেবল শাসক বদলেছে, কিন্তু জুলুম রয়ে গেছে আগের মতোই।”

রোববার (২২ জুন) বিকেলে লালমনিরহাট কালেক্টর মাঠে এক গণসমাবেশে তিনি এসব মন্তব্য করেন। তার ভাষায়,

“শপথ ছাড়াই ক্ষমতা দখল, বিচার বিভাগে হস্তক্ষেপ—এই অপসংস্কৃতি দুই দলই বহন করে। যে অপরাধে আওয়ামী লীগ দোষী, সেই একই অপরাধে বিএনপিও দায়মুক্ত নয়।”

🔍 ইসলাম ও অর্থনীতি প্রসঙ্গে

তিনি বলেন,

“ইসলামের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অপপ্রচার চালিয়ে সাধারণ মানুষের মনে ভয় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। অথচ ইসলাম হলো মেহনতি, দরিদ্র, বিধবা ও নিপীড়িতদের মুক্তির পথ।”

পুঁজিবাদী ব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি যোগ করেন,

“পুঁজিবাদ ধনীকে ধনী করে, গরিবকে আরও গরিব বানায়। অথচ ইসলাম ধনীদের দায়িত্ব বাড়িয়ে গরিবকে ধনী করে। এদেশে গত ১৬ বছরে ২৮ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে, অথচ দেশের মানুষ খাদ্যের অভাবে আত্মহত্যা করছে।”

তিনি অভিযোগ করেন,

“আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ জনশক্তিকে কাজে লাগানো হয়নি। বরং মাদক, হিংসা ও বিদ্বেষের বীজ বপন করা হয়েছে। একজন ওয়ার্ড নেতার আয় একজন প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তার চেয়ে বেশি—এটাই প্রমাণ করে কতটা দুর্নীতিগ্রস্ত এই ব্যবস্থা।”

🗳️ হাতপাখা ও নির্বাচনী বার্তা

তিনি বলেন,

“ইসলামী আন্দোলন ইসলামী হুকুমত চায়, যেখানে মানুষের অন্তর থেকে অপরাধ প্রবণতা দূর হবে। ইসলাম কাউকে জোর করে না, বরং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের পরিবেশ তৈরি করে।”

তিনি সবাইকে হাতপাখা প্রতীকের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান এবং আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লালমনিরহাটের তিনটি আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন:

  • লালমনিরহাট-১: মুফতি ফজলুল করীম শাহরিয়ার
  • লালমনিরহাট-২: মুফতি মাহমুদুর রহমান
  • লালমনিরহাট-৩: আলহাজ্ব মোকসেদুল ইসলাম

🤝 বিশেষ অতিথিরা

গণসমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন—

  • ইসলামী আন্দোলনের রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট হাসিবুল ইসলাম,
  • ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইউসুফ আহমেদ মানসুর প্রমুখ।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




স্কাউটিংয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে ভবিষ্যতের পৃথিবী রচনায় এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

স্কাউটিংয়ের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতের পৃথিবী রচনায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস

তিনি বলেন, ‘এ এক মস্ত বড় সুযোগ; পৃথিবীকে আবিষ্কার করার, তার চাইতে বড় নিজেকে আবিষ্কার করার। নাহলে গৎবাঁধা জীবনে নিজের সঙ্গে পরিচয় হওয়ার আর কোনো সুযোগ নাই। তোমরা যাতে স্কাউটিংয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে ভবিষ্যতের পৃথিবী রচনা করতে পারো সে কথাটা মনে রাখতে হবে।’

সোমবার (২৩ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ স্কাউটস আয়োজিত দেশব্যাপী কাব কার্নিভাল ও শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড বিতরণ অনুষ্ঠান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

তিনি বলেন,

“আজকের দিনটি স্কাউটিং ইতিহাসে গৌরবের। আটজন স্কাউট দেশের জন্য আত্মাহুতি দিয়ে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন, যা পৃথিবীর আর কোনো দেশে নেই।”

তিনি আরও বলেন,

“দরজা বন্ধ থাকলে বসে থাকা চলবে না। তুমিই সেই ব্যক্তি, যার হাত ধরে অন্যরা সামনে এগিয়ে যাবে। তোমাদের সাহসিকতা ভবিষ্যতের পৃথিবী গঠনে পথ দেখাবে।”

অনুষ্ঠানে প্রফেসর ইউনূস তাঁর নিজস্ব স্কাউট জীবনের স্মৃতিচারণ করে জানান, তিনি ১৯৫৫ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে কানাডায় অনুষ্ঠিত দশম বিশ্ব বয় স্কাউট জাম্বুরিতে অংশ নিয়েছিলেন এবং ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকা সফর করেন। তিনি বলেন,

“স্কাউটিং আমাকে শুধু বিশ্ব নয়, নিজেকেও চেনার সুযোগ দিয়েছে।”

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে এবং বাংলাদেশ স্কাউটস প্রোগ্রাম বিভাগের পরিচালনায় দেশব্যাপী ৫২৭টি স্থানে একযোগে কাব কার্নিভাল এবং শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড বিতরণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা “শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড” বিজয়ীদের সম্মানিত করার পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনে শহীদ আট স্কাউটের পরিবারের হাতে “গ্যালান্ট্রি অ্যাওয়ার্ড” তুলে দেন।

পুরস্কার গ্রহণ করেন:

  • মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ
  • রোহান আহমেদ খান
  • তাঞ্জির খান মুন্না
  • শরিফ উদ্দিন আহমেদ আহনাফ
  • মাহবুব আলম
  • গোলাম নাফিজ
  • তাহির জামান প্রিয়
  • আরিফুল ইসলাম সাদ

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




গৌরনদীতে দুই ব্যবসায়ীকে মারধর, বিক্ষোভে উত্তাল সরিকল বাজার

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সরিকল বন্দরে দুই ব্যবসায়ীকে মারধরের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে ওঠে স্থানীয় বাজার। আজ সোমবার সকালে হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে ব্যবসায়ীরা তাদের প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রবিবার (২২ জুন) দিবাগত রাতে ফুটপাতে দোকান বসানোকে কেন্দ্র করে সরিকল বন্দরের ফল ব্যবসায়ী পিয়াল হোসেনকে মারধর করে সরিকল ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর হোসেন মৃধার ছেলে যুবদল কর্মী পলাশ মৃধা ও তার সহযোগীরা।

এই ঘটনার প্রতিবাদ করলে ফাহিম হার্ডওয়ার স্টোরের মালিক মো. মান্নাকেও মারধর করে তারা। মান্নার অভিযোগ, হামলার সময় তার দোকানের ক্যাশ থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা লুট করে নেয় দুর্বৃত্তরা। হামলার সময় বাজারের অন্যান্য ব্যবসায়ীরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়।

আহত ব্যবসায়ী মান্না বলেন, “হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা না থাকলে বাজারে বেচাকেনা করা কঠিন হয়ে পড়বে।”

হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে পলাশ মৃধা বলেন, “আমরা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার। একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।”

এ বিষয়ে গৌরনদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইউনুস মিয়া জানান, “রাতে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। এখন পর্যন্ত কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫


 


 




বরগুনায় ৬ কোটির সেতু এক বছরের বেশি সময় ধরে অকেজো, ঝুঁকিতে ২০ গ্রামের মানুষ

বরগুনার আমতলী উপজেলার আমড়াগাছিয়া বাজার সংলগ্ন গুলিশাখালী খালের ওপর নির্মিত ৬ কোটি ২২ লাখ টাকার গার্ডার সেতুটি আজও জনসাধারণের কাজে আসছে না। নির্মাণ শেষ হয়েছে প্রায় ১১ মাস আগে, কিন্তু সংযোগ সড়ক না থাকায় এই সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল সম্ভব হচ্ছে না।

ফলে পাশের তিনটি ইউনিয়নের অন্তত ২০টি গ্রামের প্রায় ৪০ হাজার মানুষ প্রতিদিন বাঁশ ও কাঠের অস্থায়ী মই বেয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে পারাপার করছে—যা প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের মে মাসে বরিশালের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স কহিনুর এন্টারপ্রাইজ ও ত্রিপুরা জেভিকে সেতুর নির্মাণকাজ দেওয়া হয়। তারা মূল কাঠামোর কাজ নির্ধারিত সময়ের আগেই সম্পন্ন করে। কিন্তু সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়কের কোনো কাজ না হওয়ায় এটি এখন কার্যত অচল পড়ে রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুর পশ্চিম পাশে পূর্ব খেকুয়ানী গ্রামের একটি অভ্যন্তরীণ সড়ক রয়েছে, যা সেতুর উচ্চতার কারণে সংযোগ তৈরি করতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এ কারণে আন্ডারপাস নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে এখনও প্রকল্প অনুমোদন ও দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু হয়নি।

এই সেতু ব্যবহার করে প্রতিদিন গুলিশাখালী, কুকুয়া ও চাওড়া ইউনিয়নের হাজারো মানুষ চলাচল করেন—যাদের মধ্যে রয়েছেন শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও রোগীরা। কিন্তু সেতু কার্যকর না হওয়ায় পণ্য পরিবহন ব্যয় দ্বিগুণ, রোগীবাহী যানবাহন পারাপার সম্ভব নয়, এমনকি মরদেহ পরিবহনেও সৃষ্টি হচ্ছে জটিলতা।

অস্থায়ী কাঠের মই দিয়ে পারাপারের সময় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে, অনেকে রাতের বেলায় চলাচল করতে ভয় পান। এ অবস্থায় শিক্ষার্থী ও শ্রমজীবী মানুষের দৈনন্দিন জীবন প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।

পক্ষঠিকাদার মো. কাওছার মিয়া বলেন, “আমরা মূল সেতুর কাজ ঠিকঠাকভাবে সময়মতো শেষ করেছি। সংযোগ সড়ক আলাদা প্রকল্পের আওতায় পড়ে।”

এদিকে আমতলী উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. ইদ্রিস মিয়া জানান, “সেতুর উচ্চতা বেশি হওয়ায় সরাসরি সংযোগ দেওয়া গেলে পাশের রাস্তা বন্ধ হয়ে যাবে। এজন্য আন্ডারপাসের পরিকল্পনা করা হয়েছে। নকশা ও বাজেট অনুমোদনের জন্য প্রকল্প পরিচালক বরাবর পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন মিললেই কাজ শুরু হবে।”

স্থানীয়রা বলছেন, ৬ কোটির বেশি টাকা খরচ করে নির্মিত সেতুটি যেন জনকল্যাণে কাজে আসে—এটাই তাদের প্রত্যাশা। তারা চান, অবিলম্বে সংযোগ সড়ক বা আন্ডারপাস নির্মাণের মাধ্যমে এই অব্যবস্থাপনার অবসান হোক।

এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বছরের পর বছর পড়ে থাকলে শুধু অর্থের অপচয় নয়, জনদুর্ভোগও বাড়বে বলে তারা সতর্ক করছেন।


“এমএ/চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম/”




ভোলা হাসপাতাল যেন পোকামাকড়ের আক্রমণে বন্দি

ভোলা জেলার একমাত্র প্রধান চিকিৎসা কেন্দ্র ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল বর্তমানে যেন পোকামাকড় ও ময়লার দখলে চলে গেছে। প্রায় ২২ লাখ মানুষের এই স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে, হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে তেলাপোকা ও ছারপোকার উপদ্রবে রীতিমতো অতিষ্ঠ রোগী ও স্বজনরা।

বিশেষ করে নারী ও শিশু ওয়ার্ডে পোকামাকড়ের উপদ্রব ভয়াবহ। রোগীদের শয্যার নিচে, দেয়ালের ফাঁকে ও মেঝেতে ঘুরে বেড়ানো পোকামাকড় রোগীদের কামড়াচ্ছে, খাবারে উঠে আসছে—আর রাতে এই উপদ্রব বেড়ে যাচ্ছে কয়েকগুণ।

ভোলার দৌলতখান উপজেলার বাসিন্দা আব্দুল মমিন বলেন, “চিকিৎসা নিতে এসে পোকামাকড়ের সঙ্গে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকতে হচ্ছে। ছারপোকার কামড়ে শুয়েও থাকা যায় না। রোগী হয়ে এসেছি, এখন আরও অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি।”

সদর উপজেলার ফাতেমা বেগম জানান, “রাতে ঘুমানোর সময় তেলাপোকা মুখে উঠে, কামড় দেয় ছারপোকা। খাবারেও পোকা উঠে যায়—তবুও সেই খাবার খেতে বাধ্য হচ্ছি।”

রোগীর স্বজন নারগিছ বেগম ও সুরমা আক্তার জানান, টয়লেটগুলো দুর্গন্ধময় ও ব্যবহারের অযোগ্য। দরজা নেই, পানি নেই, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দেখা যায় না। একজন টয়লেট ব্যবহার করলে অন্যজনকে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় নিরাপত্তার জন্য।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন গড়ে ১,০০০ থেকে ১,২০০ জন রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসে, আর ভর্তি থাকে ধারণক্ষমতার চেয়ে দুই-তিন গুণ বেশি রোগী। অথচ হাসপাতালের ১৫ জন সরকারি ও ২৫ জন আউটসোর্সিং পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ নিয়ে রয়েছে ব্যাপক অভিযোগ।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. তায়েবুর রহমান বলেন, “পোকামাকড় মারতে স্প্রে প্রয়োগ শুরু হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে ধাপে ধাপে ওষুধ প্রয়োগ করা হচ্ছে। আশা করি দুই সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।”

তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবু সুফিয়ান রুস্তম বলেন, “পরিচ্ছন্নতাকর্মী রয়েছে, কিন্তু আউটসোর্সিং কর্মীদের নিয়ে কিছু সমস্যা আছে। আমরা স্প্রে ছিটানো শুরু করেছি এবং এতে কিছুটা উন্নতিও এসেছে।”

তবে স্থানীয়দের দাবি, বছরের পর বছর ধরে এমন দুরবস্থার কথা জেনে-শুনেও স্থায়ী কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।


“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /”