সরকারি ভবনে বাধ্যতামূলক সোলার প্যানেল বসানোর নির্দেশ

দেশব্যাপী সকল সরকারি ভবনের ছাদে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে সোলার প্যানেল স্থাপন বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত ‘জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি’ শীর্ষক বৈঠকে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।

বৈঠকে জানানো হয়, ইন্টারন্যাশনাল রিনিউএবল এনার্জি এজেন্সি (IRENA)–এর ২০২৪ সালের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে বাংলাদেশ এখনও প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় পিছিয়ে। ভারতে যেখানে মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২৪ শতাংশ, পাকিস্তানে ১৭.১৬ শতাংশ এবং শ্রীলঙ্কায় ৩৯.৭ শতাংশ বিদ্যুৎ সৌর শক্তি থেকে আসে, সেখানে বাংলাদেশে এ হার মাত্র ৫.৬ শতাংশ।

বর্তমান নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে পূরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৫২৩৮ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৫৫টি সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পের টেন্ডার কার্যক্রম শুরু হলেও, তা বাস্তবায়নে ২০২৮ সাল পর্যন্ত সময় লাগবে বলে জানা গেছে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “সব সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও হাসপাতালের ছাদে দ্রুত সোলার প্যানেল বসাতে হবে। বিষয়টি বেসরকারি অংশীদারিত্বে করা যেতে পারে। সরকার ছাদ দেবে, আর কোম্পানিগুলো স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নেবে।”

তিনি আরও বলেন, “যেসব প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে রুফটপ সোলার স্থাপন করেছে, তাদের অভিজ্ঞতা থেকে শেখা উচিত। কী ধরনের সমস্যায় পড়েছে, তা জেনে সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে হবে।”

এই কর্মসূচির আওতায় সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য বিল দিতে হবে না। পাশাপাশি সৌর প্যানেল স্থাপনে ব্যবহৃত ছাদের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ভাড়াও পাবে।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় সাবেক সিইসি হাবিবুল আউয়াল ৩ দিনের রিমান্ডে

রাষ্ট্রদ্রোহ ও প্রহসনের নির্বাচনে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সাবেক) কাজী হাবিবুল আউয়ালকে ৩ দিনের রিমান্ডে দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। শেরে বাংলা নগর থানার দায়ের করা মামলায় রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ।

বেলা ১২টা ৫০ মিনিটে হাবিবুল আউয়ালকে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। এরপর তাকে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও শেরে বাংলা নগর থানার উপ-পরিদর্শক শামসুজ্জোহা সরকার তদন্তের স্বার্থে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (ডিএমপি পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। অন্যদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গত বুধবার সকালে রাজধানীর মগবাজার এলাকা থেকে হাবিবুল আউয়ালকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্বে থাকাকালে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে থেকে অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে পরিকল্পিতভাবে একটি পক্ষীয় নির্বাচন আয়োজন করেন, যা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের শামিল।

এ বিষয়ে পুলিশের ভাষ্য, তদন্তে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতেই রিমান্ড প্রয়োজন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ইনসাফভিত্তিক কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ার অঙ্গীকার জামায়াত আমিরের

ইনসাফ, সাম্য ও বৈষম্যহীন মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্রে রূপান্তরের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “মানুষের রচিত বিধানের পরিবর্তে আল্লাহর বিধানই শান্তি ও কল্যাণের একমাত্র পথ।”

বুধবার (২৫ জুন) বিকেলে রাজধানীর কাফরুলে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনি পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কাফরুল থানা জামায়াত আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন থানা আমির অধ্যাপক আনোয়ারুল করিম।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “জুলাই বিপ্লব একটি ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহ, যেখানে ছাত্র-জনতার ঐক্য দুঃশাসনের বিরুদ্ধে বিজয় ছিনিয়ে এনেছে। এই বিপ্লবে ২ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ দিয়েছেন, বহু মানুষ আজ পঙ্গু। তাদের আত্মত্যাগ জাতির কাছে গৌরব ও অনুপ্রেরণার উৎস। শহীদদের জাতীয় বীরের মর্যাদা দেওয়া উচিত।”

তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে রাষ্ট্রব্যবস্থা হবে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শভিত্তিক। থাকবে না কোনো শ্রেণি বৈষম্য, থাকবে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার এবং প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা ও মর্যাদা।”

তিনি আরও বলেন, “ইসলাম কেবল একটি ধর্ম নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে পরিচালিত রাষ্ট্রই পারে সত্যিকারের শান্তি ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে। দ্বীন কায়েমের সংগ্রাম কোনো ঐচ্ছিক কাজ নয়, বরং এটি প্রত্যেক মুসলমানের ওপর ফরজ দায়িত্ব।”

পথসভায় আরও বক্তব্য রাখেন মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য শাহ আলম তুহিন, মো. শহীদুল্লাহ, আলাউদ্দিন ও তুহিন রেজা তুহিন প্রমুখ।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




সরকারে থেকেও ‘অবরুদ্ধ ও দুর্বল’ মনে করছেন আসিফ নজরুল

আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, অর্ন্তবর্তী সরকারে দায়িত্ব পালনকালে তিনি নিজেকে “শক্তিহীন, দুর্বল ও অবরুদ্ধ” মনে করছেন। তিনি বলেন, জনগণের সেবক হয়েও তিনি স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন না, বরং বারবার কুৎসা, গুজব ও অপপ্রচারের শিকার হচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের আয়োজিত বিশেষ সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।

আসিফ নজরুল বলেন, “আমার কাছে প্রতিদিন অন্যায় তদবির আসে। তদবির না মানলেই আমাকে ভারতের দালাল বলা হয়। ভিডিও বানিয়ে সামাজিক মাধ্যমে মিথ্যাচার চালানো হয়। আমি কিছু বলি না, কোনো মামলা করি না—দায়িত্বে আছি বলে সব মেনে নিচ্ছি।”

তিনি বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়ায় যা খুশি তা বলা হচ্ছে। মনে হচ্ছে আমি কখনও এতটা দুর্বল, অসহায় আর অবরুদ্ধ ছিলাম না, যতটা এখন সরকারের অংশ হয়ে অনুভব করছি।”

আইন উপদেষ্টা বলেন, “সংস্কার একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। আজ যারা দুর্বল অবস্থানে আছেন, তাদের হুট করে উন্নত পর্যায়ে তোলা যায় না। আমাদের প্রয়োজন ইনক্রিমেন্টাল রিফর্ম—ধাপে ধাপে সংস্কার। আপনাদের পক্ষ থেকে প্রস্তাব এলে আমরা সেটি বাস্তবায়নে কাজ করব।”

প্রথম আলোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, “জাফরুল্লাহ চৌধুরীর নামের পাশে বিএনপিপন্থী লেখা হয়, কিন্তু আনিসুজ্জামান বা জাফর ইকবালের নামের পাশে আওয়ামী লীগপন্থী লেখা হয় না। এটা দ্বিচারিতা।”

আসিফ নজরুল বলেন, “দেশে বিচার বিভাগ ও পুলিশের মধ্যে সংস্কার সবচেয়ে জরুরি। আমরা ডিজিটাল কোর্ট চালু করেছি ঢাকা ও চট্টগ্রামে। ধাপে ধাপে আরও আদালতকে ডিজিটাল করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “অনেক মিথ্যা মামলা হয়, অনেকেই হয়রানির শিকার হন। এগুলোর তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে মামলা পুলিশ করে, সরকার নয়।”

২৬৬ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা হলেও মাত্র ১৫ জন গ্রেফতার হয়েছেন জানিয়ে আইন উপদেষ্টা বলেন, “মামলা হলে জামিন পাবে কিনা, সেটা একান্তভাবে বিচারকের এখতিয়ার। বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করে; আইন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেয় না।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




মাদক আগ্রাসনে অর্থনীতিও ঝুঁকিতে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

মাদকের বিস্তার শুধু জনস্বাস্থ্য বা আইনশৃঙ্খলাই নয়, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিও মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস-২০২৫’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, “মাদক যুবসমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। অথচ এই কর্মক্ষম ও প্রযুক্তিনির্ভর যুবশক্তিই একটি জাতির মূল চালিকাশক্তি। যদি তরুণ সমাজ মাদকে আক্রান্ত হয়, তাহলে উন্নয়নের যে স্বপ্ন আমরা দেখি, তা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।”

উপদেষ্টা জানান, “মাদক চোরাচালানে নারী, শিশু ও কিশোরদের ব্যবহার একটি ভয়াবহ সামাজিক সংকেত। এতে কিশোর অপরাধ ও মাদকাসক্তি একসাথে বাড়ছে। এই সমস্যা নিরসনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সমাজকল্যাণ ও মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ে কাজ করছে।”

তিনি আরও জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে গঠন করা হচ্ছে মাদকবিরোধী কমিটি; পরিচালিত হচ্ছে সভা, সেমিনার ও সচেতনতা কার্যক্রম।

সিনথেটিক ও সেমি-সিনথেটিক ড্রাগসের নতুন ঢেউকে ‘মাদকযুদ্ধে নতুন চ্যালেঞ্জ’ উল্লেখ করে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “প্রযুক্তির অপব্যবহারে নতুন নতুন মাদক বাজারে আসছে। আমাদের আইনে এসবকে অন্তর্ভুক্ত করে কৌশলগত নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। গোয়েন্দা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।”

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জনবল সংকট নিয়েও উদ্বেগ জানান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “১৮ কোটি জনসংখ্যার দেশে অধিদপ্তরের জনবল মাত্র ২ হাজার ৯৪৩ জন। এর মধ্যে অভিযান চালান মাত্র ১ হাজার ৬২২ জন। তবুও ৬৪টি জেলা, ৮টি বিভাগীয় ও বিশেষ জোন মিলিয়ে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।”

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মো. খোদা বখস চৌধুরী বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ কমে গেছে। সবাইকে এগিয়ে এসে এই প্রতিরোধ আবার জোরদার করতে হবে।”

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি বলেন, “বাংলাদেশে মাদক উৎপাদিত হয় না। বাইরের দেশ থেকে আসা মাদক আমরা অর্থ দিয়ে কিনে নিজেরাই ক্ষতির মুখে পড়ছি। ৩২টি সীমান্ত জেলা মাদক প্রবেশের মূল পথ, তাই সেখানে স্থানীয় জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে।”

তিনি জানান, প্রতিটি বিভাগে ২০০ শয্যার সরকারি মাদক নিরাময় কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /


 




“রাজনৈতিক সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন অসম্ভব”: দাবি সাবেক সিইসি হাবিবুল আউয়ালের

সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, কেয়ারটেকার সরকার ছাড়া রাজনৈতিক সরকারের অধীনে কখনোই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়—even আগামী এক হাজার বছরেও নয়।

বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। শেরে বাংলা নগর থানার একটি মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা তার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

সিএমএম মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান রিমান্ড শুনানির সময় হাবিবুল আউয়ালকে বক্তব্য দেওয়ার অনুমতি দিলে তিনি বলেন, “আমার জীবনে কখনও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠেনি। আমি কোনো সময় প্রহসনের নির্বাচনের সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। আমাকে কেউ টাকা দেয়নি, আমি কারও কাছ থেকে নিইওনি।”

এসময় বিচারক বলেন, “আপনার সময় রিটার্নিং কর্মকর্তারা অতীতে যেখানে ২৫-৩০ হাজার টাকা পেতেন, সেখানে তারা ৫ লাখ টাকা পেয়েছেন। এতে আপনার কোনো দায় ছিল কি না?”

উত্তরে হাবিবুল আউয়াল বলেন, “৮ লাখ কর্মী একটি নির্বাচনে যুক্ত থাকে, তাদের অনেককেই আমি চিনি না। এত টাকা বিলের বিষয়টি আমার জানা ছিল না।”

বিচারক আরও বলেন, “আপনি তো সময়ের সেরা অফিসার ছিলেন, নির্বাচনের অনৈতিকতার দায় নিয়ে পদত্যাগ করলেন না কেন?”

এ প্রশ্নে তিনি বলেন, “পদত্যাগ করলে ভালো হতো। কিন্তু অতীতে রাজনৈতিক সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনই সুষ্ঠু হয়নি। তখনকার নির্বাচন কমিশনাররাও কি পদত্যাগ করেছিলেন?”

আলোচনার এক পর্যায়ে সরকারি পক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী তাকে থামানোর চেষ্টা করলে হাবিবুল আউয়াল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাকে যদি কথা বলতে না দেন, তাহলে একটা রিভলভার দিয়ে গুলি করে মেরে ফেলেন।”

অবশেষে উভয়পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারক মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




জিরো সয়েল বাস্তবায়নে চাই সম্মিলিত উদ্যোগ: পরিবেশ উপদেষ্টা

ঢাকার ধুলাবালি ও পরিবেশ দূষণ রোধে ‘জিরো সয়েল’ কর্মসূচির বাস্তবায়নে সবার সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, নগরীর খোলা জায়গা মাটি দিয়ে না রেখে ঘাস বা লতাগুল্ম দিয়ে ঢেকে দিতে হবে, বাড়ির ছাদে লাগাতে হবে গাছ।

বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) রাজধানীর পূর্বাচলে বন অধিদপ্তর ও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক বনায়ন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় পূর্বাচলের হারার বাড়ি চত্বরে। এসময় সড়ক বিভাজক, ফুটপাত, খালপাড় এবং অন্যান্য জায়গায় গাছের চারা রোপণ করা হয়।

পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, “জিরো সয়েল শুধু সরকারের একক দায়িত্ব নয়—সিটি করপোরেশন, বন বিভাগ ও সাধারণ মানুষ সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। যাঁর যতটুকু সামর্থ্য, ততটুকু গাছ লাগাতে হবে। ঢাকাকে সবুজায়নের মাধ্যমে একটি নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবে গড়ে তুলতে চাই সেপ্টেম্বরের মধ্যেই।”

তিনি আরও বলেন, “বনভিত্তিক পরিবেশ সৃষ্টি না করলে শুধু আবাসনই টিকবে না। আমাদের ইকোসিস্টেম রক্ষা করতে হবে। বন তৈরি করা যায় না, এটা প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠে।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম, বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী এবং ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ।

ডিএনসিসির সূত্র মতে, ভবিষ্যতে ১২০ কিমি মিডিয়ান এবং ১০৮ কিমি খালপাড় সবুজায়ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উত্তরা ও পূর্বাচল এলাকায় যৌথভাবে বনায়ন কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে, যেখানে স্থানীয় জনগণ ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠান শেষে পরিবেশ উপদেষ্টা বনানী কবরস্থানের পাশের রাস্তায় ঘাস রোপণ করে ‘জিরো সয়েল’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




প্রবাসে বসে এনআইডি পেতে ৪৭ হাজার বাংলাদেশির আবেদন

বিদেশে অবস্থান করেও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পেতে আগ্রহ দেখিয়েছেন প্রায় ৪৭ হাজার বাংলাদেশি প্রবাসী। নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, বিশ্বের ৯টি দেশে শুরু হওয়া ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রমে ইতোমধ্যে এই বিপুল সংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে।

নির্বাচন কমিশনের প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন বিষয়ক একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৯টি দেশের ১৬টি স্টেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তায় প্রবাসীদের এনআইডি প্রদানের কাজ চলছে। এ পর্যন্ত ৪৬ হাজার ৯৮২টি আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে ২০ হাজার ২৬৬ জনের আবেদন তদন্ত শেষে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ২২ হাজার ৫৭৫টি আবেদন এখনো তদন্তাধীন, এবং ৪৯৫টি আবেদন অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত আঙ্গুলের ছাপ ও ছবি নেওয়া হয়েছে ২৫ হাজার ৫৫০ জন প্রবাসীর। আবেদন বাতিল হয়েছে ৩ হাজার ৬৪৬টি। সবচেয়ে বেশি আবেদন এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে—মোট ১৯ হাজার ৫৬২টি। সবচেয়ে কম আবেদন জমা পড়েছে অস্ট্রেলিয়া থেকে, মাত্র ১৫৩টি।

জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক এ এস এম হুমায়ূন কবীর জানান, আগামী ১৫ জুলাই থেকে জাপানেও ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হবে। পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকা ও যুক্তরাষ্ট্রেও কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি চলছে।

বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, ইতালি, কুয়েত, কাতার, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় এই কার্যক্রম চালু রয়েছে। লক্ষ্য হচ্ছে, বিশ্বের প্রায় ৪০টি দেশে অবস্থানরত প্রায় দেড় কোটির বেশি বাংলাদেশিকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়া।

এদিকে, দেশের অভ্যন্তরে হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৩৭ লাখ ৩২ হাজার ২৭৪ জন। চলতি বছর নতুনভাবে ৬০ লাখের বেশি ভোটারকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, যা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




মাদক প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলনের আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার রোধে জনসচেতনতা বাড়িয়ে সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

বুধবার (২৫ জুন) ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস ২০২৫’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ আহ্বান জানান।

বাণীতে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও আন্তর্জাতিকভাবে মাদকবিরোধী দিবস পালিত হচ্ছে—এটি অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। তবে শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, আমাদের এই দিবসকে কার্যকর করতে হবে সার্বিক প্রয়াসের মাধ্যমে।”

তিনি বলেন, “মাদক পাচার ও এর অপব্যবহার একটি জটিল ও বহুমাত্রিক সমস্যা। এর কবলে পড়ে দেশের বহু তরুণ-তরুণী মেধা ও সৃজনশীলতা হারাচ্ছে। এর ফলে জনস্বাস্থ্য, পরিবার, অর্থনীতি, আইন-শৃঙ্খলা, এমনকি জাতীয় নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়ছে।”

মাদক নিয়ন্ত্রণে সরকারের নানা উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “মাদক নির্মূলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর, পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ডসহ সব আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং মাঠ প্রশাসনকে সম্মিলিতভাবে পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করে যেতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “শুধু আইন প্রয়োগ নয়, মাদকবিরোধী সচেতনতা বাড়াতে হবে ঘরে ঘরে, সমাজে সমাজে। এজন্য বেসরকারি সংগঠন, শিক্ষক, অভিভাবক, ধর্মীয় নেতা, চিকিৎসক, সমাজকর্মী, শিক্ষার্থী, গণমাধ্যমসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”

দিবসটি উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সফলতা কামনা করে তিনি বলেন, “সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমেই আমরা গড়তে পারি একটি নিরাপদ, সুন্দর, মাদকমুক্ত বাংলাদেশ।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




খাদ্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে মূল্যস্ফীতি হ্রাস

খাদ্যদ্রব্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণের কারণে দেশে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি ধীরে ধীরে কমছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ‘ইকোনমিক আপডেট অ্যান্ড আউটলুক (জুন-২০২৫)’ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালের মে মাসে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৯.০৫ শতাংশে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চাল, মাছ ও ফলমূলের দাম বেড়ে গেলেও সামগ্রিকভাবে খাদ্যদ্রব্যের দাম কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ায় মূল্যস্ফীতি কমেছে। রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি ও বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকায় দেশের বৈদেশিক খাতও মজবুত হয়েছে, যদিও এপ্রিল মাসে রপ্তানিতে কিছুটা ধীরগতি দেখা গেছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার বাজেটকে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার বাজেট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বাজেট ঘোষণার পর পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, “এই বাজেটের মূল লক্ষ্য অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং ঋণের দুষ্টচক্র ভাঙা।”

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৩ সালের মাঝামাঝি থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত দুই অঙ্কে থাকা মূল্যস্ফীতি ছিল উদ্বেগের কারণ। তবে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি কমতে থাকায় সামগ্রিক পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে।

খাদ্যপণ্যের মধ্যে মূল্যস্ফীতিতে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে চাল (৪০%), এরপর রয়েছে মাছ (২৮%) ও ফলমূল (১২%)। মাঝারি চালের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে, যেখানে আলু ও মুরগির মাংসের দাম কমে মূল্যস্ফীতি কমাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

এছাড়া আবাসন, তৈরি পোশাক ও পরিবহন খাতেও মূল্যস্ফীতির গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে।