জুলাই অভ্যুত্থান সংক্রান্ত মামলায় এসআই সুকান্তকে আবারও জেল হাজতে প্রেরণ

জুলাই অভ্যুত্থানের সময় বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) সুকান্ত কুমার দাশকে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) বিকেল ৫টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের অধীন বর্তমানে কর্মরত এসআই সুকান্ত কুমার দাশের বিরুদ্ধে খুলনায় সংঘটিত ‘জুলাই অভ্যুত্থান’-পরবর্তী সময়ে ছাত্র-জনতার ওপর দমন-পীড়ন ও গণগ্রেপ্তারের অভিযোগ রয়েছে। এই অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয়।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার এসআই মো. মিজানুর রহমান ঢাকা পোস্টকে জানান, “খুলনা সদর থানার পাঠানো মামলার অধিযাচনপত্র পাওয়ার পর আমরা সুকান্তকে বিষয়টি জানাই। তিনি স্বেচ্ছায় থানায় উপস্থিত হলে তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। আদালত জামিন না মঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে পাঠান।”
এর আগে গত মঙ্গলবার খুলনার ইস্টার্ন গেট এলাকায় এসআই সুকান্তকে স্থানীয় জনতা মারধর করে খানজাহান আলী থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। কিন্তু সেদিন রাতেই তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে বুধবার দুপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) সদর দপ্তর ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন।
বিক্ষোভকারীরা এক পর্যায়ে কেএমপি সদর দপ্তরের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে আন্দোলনকারীরা সরে গেলে তালা ভেঙে বের হন পুলিশ কর্মকর্তারা। তবে আন্দোলন থামেনি; বুধবার বিকেলে ফের কেএমপি ঘেরাও করে পুলিশ কমিশনার মো. জুলফিকার আলী হায়দারের পদত্যাগের দাবি জানায় বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) বিকেল ৪টা থেকে, যখন আন্দোলনকারীরা কেএমপি কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। তারা খানজাহান আলী সড়কে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান। এসআই সুকান্তকে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
বর্তমানে পরিস্থিতি থমথমে, তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।








