মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার গঠনমূলক ফোনালাপ

বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। সোমবার (৩০ জুন) সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত এই ফোনালাপে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, প্রায় ১৫ মিনিটব্যাপী ফোনালাপটি ছিল উষ্ণ, সৌহার্দ্যপূর্ণ ও গঠনমূলক। তিনি বলেন, এই আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ইতিবাচক প্রতিফলন ঘটেছে।

যদিও আলোচনার বিস্তারিত বিষয়বস্তু এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবে কূটনৈতিক সূত্রে ধারণা করা হচ্ছে, এই ফোনালাপে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা, অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

উল্লেখ্য, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনীতিকের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন।

এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ দুই দেশের সম্পর্ককে আরও মজবুত করার পথ প্রশস্ত করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




মুরাদনগরে উপদেষ্টার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ফখরুলের

কুমিল্লার মুরাদনগরে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং এক নারীকে শ্লীলতাহানির ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার (২৯ জুন) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “একজন উপদেষ্টা নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য মুরাদনগরে ক্রমাগত ক্ষমতার অপব্যবহার করে যাচ্ছেন।”

মির্জা ফখরুল জানান, কুমিল্লার মুরাদনগরের রামচন্দ্রপুর দক্ষিণ ইউনিয়নে হিন্দু ধর্মাবলম্বী এক প্রবাসীর স্ত্রীর ওপর শ্লীলতাহানি ও নির্যাতন চালিয়েছে এক দুর্বৃত্তচক্র। তিনি এ ঘটনাকে “নির্মম, কলঙ্কজনক ও ঘৃণ্য” আখ্যা দিয়ে বলেন, “এই বর্বরোচিত ঘটনায় দেশের মানুষ ব্যথিত ও মর্মাহত। অথচ একটি কুচক্রী মহল ঘটনাটিকে রাজনৈতিকভাবে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার গভীর চক্রান্তে লিপ্ত।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “ফ্যাসিবাদী শাসনের মতোই এখনো সংখ্যালঘুদের ঘরবাড়ি দখল ও নির্যাতন করে দায় অন্যের ঘাড়ে চাপানোর প্রবণতা চলছে। মুরাদনগরের একজন উপদেষ্টা ব্যক্তি–নিজের পদ ব্যবহার করে এলাকায় ক্রমাগতভাবে প্রভাব বিস্তার ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে যাচ্ছেন।”

বিএনপি মহাসচিব দাবি করেন, এই উপদেষ্টা আওয়ামী লীগ এমপিদের মতো এলাকায় আধিপত্য বিস্তারে ব্যস্ত রয়েছেন এবং তার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে সমাজবিরোধী অপকর্ম বাড়ছে। “এরা দেশ-বিদেশ থেকে মদত পাচ্ছে, যার ফলে এলাকায় শান্তি ও সম্প্রীতি বিঘ্নিত হচ্ছে,” বলেন তিনি।

ঘটনার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে তিনি বলেন, “হিন্দু নারীর ওপর পাশবিক নির্যাতন একটি মনুষ্যত্বহীন ও অমানবিক আচরণ, যার পেছনে রয়েছে একটি মহলের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য। এটি আওয়ামী লীগের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার নোংরা কৌশলের পুনরাবৃত্তি।”

নারী নির্যাতনকারীদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এরা মানবসভ্যতার শত্রু। আমি অবিলম্বে দুষ্কৃতিকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”

মুরাদনগরের সাম্প্রতিক এই ঘটনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক মহল থেকে নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত ঘটনার তদন্ত বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।




সমালোচনার মুখে বাতিল, পালিত হচ্ছে না ‘নতুন বাংলাদেশ দিবস’

৮ আগস্টকে ‘নতুন বাংলাদেশ দিবস’ হিসেবে পালনের ঘোষণা দিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে অবশেষে সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে অন্তর্বর্তী সরকার।

রোববার (২৯ জুন) উপদেষ্টা পরিষদের এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এক ফেসবুক পোস্টে জানান,

“উপদেষ্টা পরিষদ ১৬ জুলাই শহীদ দিবস এবং ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থান দিবস হিসেবে উদযাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে ৮ আগস্টের জন্য কোনো বিশেষ উদযাপন হবে না।”

এর আগে ৮ আগস্টকে ‘নতুন বাংলাদেশ দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেছিল সরকার। কারণ, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার শপথ নেয়। সেই দিনকে ‘নতুন বাংলাদেশের যাত্রা’ হিসেবে চিহ্নিত করে দিবস পালনের জন্য ‘খ’ শ্রেণিভুক্ত জাতীয় দিবস হিসেবে পরিপত্রও জারি করা হয়েছিল।

এই সিদ্ধান্তের পরপরই ছাত্র সংগঠনসহ বিভিন্ন মহল থেকে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী ছাত্ররা জানান,

“নতুন বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়েছিল ৫ আগস্ট, ৮ আগস্ট নয়। তাই এই দিনকে ‘নতুন বাংলাদেশ দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা বাস্তবতা ও ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।”

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে উপদেষ্টা পরিষদ অবশেষে বিতর্কিত ঘোষণা থেকে সরে এসে ৮ আগস্ট দিবস হিসেবে না পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। এতে সাময়িকভাবে ক্ষোভ প্রশমিত হলেও বিতর্কের রেশ সমাজ-রাজনীতিতে কিছুদিন থাকতে পারে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




কার্যকর ঐক্য গড়লে রাষ্ট্রক্ষমতা ইসলামপন্থীদের হাতেই আসবে: চরমোনাই পীর

দেশের ইসলামপন্থী ও দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে কার্যকর ঐক্য গড়ে উঠলে রাষ্ট্রক্ষমতা তাদের হাতেই আসবে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাইর পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম।

শনিবার (২৮ জুন) বিকেলে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ইসলামী আন্দোলন আয়োজিত মহাসমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, “আমরা বহুবার রক্ত দিয়েছি, ত্যাগ স্বীকার করেছি, কিন্তু সফল হইনি। কারণ, আমরা বারবার ভুল নেতৃত্ব ও নীতির পেছনে ছুটেছি। এবার জনগণের মধ্যে ইসলামপন্থীদের ঐক্য নিয়ে নতুন আশাবাদ তৈরি হয়েছে। যদি এই ঐক্য গঠন করা যায়, তাহলে ইনশাআল্লাহ, ইসলামপন্থীরাই হবে দেশের প্রধান রাজনৈতিক শক্তি এবং রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বও আমাদের হাতেই আসবে।”

চরমোনাই পীর আরও বলেন, “আমি বহু আগেই বলেছিলাম ইসলামি সব দলের ভোট এক বাক্সে আনতে হবে। শুধু ইসলামপন্থী নয়, বরং দেশপ্রেমিক অন্যান্য দলও আমাদের সঙ্গে নির্বাচনী ঐক্যে আসতে পারে। সুষ্ঠু ও প্রতিনিধিত্বশীল নির্বাচনের জন্য পিআর (প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) পদ্ধতির নির্বাচন এখন সময়ের দাবি। এই দাবি শুধু আমাদের না, বরং বহু রাজনৈতিক দলের।”

তিনি বিএনপিকেও পিআর পদ্ধতির নির্বাচনে অংশগ্রহণের পরামর্শ দেন।

‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’-এর পর গঠিত সংস্কার কমিশনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দ্বিতীয় দফা আলোচনায় দেখা যাচ্ছে কেউ কেউ মৌলিক সংস্কারের বিষয়ে আপত্তি জানাচ্ছে। এটা দ্বিমুখী আচরণ। যদি সংস্কার না হয়, তবে গণভোট আয়োজন করতে হবে।”

চরমোনাইর পীর আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “তারা দেশকে একটি জুলুমের রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। গুম, খুন, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব—সবই তাদের অপরাধের অংশ। এসব অপরাধের বিচার অবশ্যই করতে হবে। কোনো ক্ষমা নেই।”

তিনি বলেন, “ইসলামী দল ক্ষমতায় গেলে কেউ গুম হবে না, খুন হবে না, চাঁদা দিতে হবে না। বাংলাদেশে থাকবে শান্তি, থাকবে ধর্মীয় সহনশীলতা। মসজিদও থাকবে, মন্দিরও থাকবে।”

শেষে মুফতি রেজাউল করীম বলেন, “যারা দাড়ি-টুপি নিয়ে কটাক্ষ করে, মোল্লাদের অবমাননা করে, তাদের আমরা রাষ্ট্রক্ষমতায় যেতে দেব না। বাংলাদেশের মানুষ কারো গোলামি করার জন্য জীবন দেয়নি। আমরা মাথা নত করব না। যদি এই মঞ্চে থাকা দলগুলো এক থাকেন, এক নীতিতে থাকেন, তাহলে ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতে ইসলামপন্থীরাই দেশের নেতৃত্ব দেবে।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫

 




ইসলামী আন্দোলনের সমাবেশে সারজিসের হুংকার: “খুনি হাসিনা আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না”

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসমাবেশে যোগ দিয়ে সরব হুংকার দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। শনিবার (২৮ জুন) বিকেলে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ইসলামী আন্দোলনের মহাসমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “দেশ ও জনগণের জন্য প্রয়োজন হলে আবারও আমরা রাস্তায় নামব।”

জুলাই বিপ্লবের অন্যতম এই সংগঠক আরও বলেন, “সংস্কার ও খুনিদের বিচারের প্রশ্নে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকব। আমরা যতদিন এক থাকব, ততদিন খুনি হাসিনা আর কখনো ক্ষমতায় ফিরতে পারবে না। যত নেতা উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করুক, কেউ পারবে না।”

সারজিস দাবি করেন, “আওয়ামী লীগের লোকজন বিদেশে বসে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে। কিন্তু তাদের এসব অপপ্রচারে আমাদের কিছু আসে যায় না। বাংলাদেশ তার কাঙ্ক্ষিত পথে এগিয়ে যাবে।”

আগামী নির্বাচন যেন সংসদের উভয় কক্ষে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (PR) পদ্ধতিতে হয়—এ দাবি তুলে ধরে তিনি বলেন, “এই প্রশ্নে সবাইকে জাগতে হবে। নতুন বাংলাদেশে আর কাউকে যেন টার্গেট কিলিংয়ের শিকার হতে না হয়।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা রাজনৈতিক সমাবেশ করব, কিন্তু সাধারণ মানুষের ভোগান্তি যেন না হয়, সেটা মনে রাখতে হবে। আগেও এই মাঠে অনেক সমাবেশ হয়েছে, কিন্তু সেসবের শেষে মাঠ পরিষ্কার করা হয়েছে। এই দৃষ্টান্তই আমাদের পথ দেখায়—এই বাংলাদেশই আমরা চেয়েছিলাম।”

এ সময় সারজিস জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, “২৪-পরবর্তী বাংলাদেশে যারা সামনে ছিল, তাদের নেতৃত্বেই পথ গড়তে হবে। কোনো ব্যক্তি বা দলের মুখ দেখে নয়, বরং জনগণের সামনে আমাদের বাস্তব দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে।”

তার এই বক্তব্যে সমাবেশে উপস্থিত হাজারো কর্মী ও নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়ে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




ইসলামী আন্দোলনের মহাসমাবেশে ১৬ দফা দাবি ঘোষণা

রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শনিবার আয়োজিত মহাসমাবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১৬ দফা দাবি উত্থাপন করেছে। দলটির মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান এই ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। মহাসমাবেশকে “জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ধিত অংশ” এবং “আগামী বাংলাদেশের বিনির্মাণে একটি গৌরবময় মাইলফলক” হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়, “জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা বাস্তবায়ন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং স্বৈরতন্ত্র রোধে এই সংস্কার প্রস্তাবনাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিতে হবে।”

ঘোষিত ১৬ দফা দাবিসমূহ:
১. সংবিধানে “আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস” রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে পুনঃস্থাপন।
২. সংসদের উভয় কক্ষে সংখ্যানুপাতিক পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন চালু করা।
৩. ‘জুলাই সনদ’ ঘোষণার মাধ্যমে শোষণমুক্ত রাষ্ট্র গঠনে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা।
৪. ভবিষ্যৎ স্বৈরাচার প্রতিরোধে মৌলিক রাষ্ট্রীয় সংস্কার বাস্তবায়ন।
৫. নির্বাচনে প্রশাসনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রেখে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা।
৬. পতিত ফ্যাসিবাদের বিচার এবং বিদেশে পালিয়ে থাকা অপরাধীদের ফিরিয়ে আনার কূটনৈতিক উদ্যোগ।
৭. পাচারকৃত অর্থ উদ্ধার ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ।
৮. সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, খুন-খারাবি দমনে প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করা।
৯. ভারতের সঙ্গে করা সব চুক্তি প্রকাশ এবং দেশবিরোধী চুক্তি বাতিল।
১০. জাতীয় নির্বাচনের আগে সব স্থানীয় নির্বাচন সম্পন্ন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিধান প্রণয়ন।
১১. দুর্নীতিবাজ, ঋণখেলাপি ও সন্ত্রাসীদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা।
১২. তফসিল ঘোষণার আগেই গ্রহণযোগ্য নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করা।
১৩. রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা ও ঘুষ-দুর্নীতি বন্ধ করে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার।
১৪. ইসলাম ও দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ববিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা।
১৫. জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে দুর্নীতিবাজ ও চাঁদাবাজদের প্রতিহত করা।
১৬. রাষ্ট্রের সর্বস্তরে ইসলামী মূল্যবোধ ও আদর্শ বাস্তবায়নের আহ্বান।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং ইসলামবিরোধী চক্রান্ত প্রতিহত করতে এই ঘোষণাপত্র বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।

উল্লেখ্য, শনিবার দুপুর ২টায় অনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হলেও সকাল থেকেই দেশব্যাপী থেকে আগত হাজারো নেতা-কর্মীতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




‘নতুন বাংলাদেশ দিবস’ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনায় সরকার: আসিফ মাহমুদ

আন্তর্জাতিক ও রাজনৈতিক মহলে বিতর্কিত হয়ে ওঠা ‘নতুন বাংলাদেশ দিবস’ ঘোষণার বিষয়ে পুনর্বিবেচনার প্রক্রিয়ায় রয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। শুক্রবার (২৭ জুন) রাতে গণমাধ্যমকে এমন তথ্য দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

আসিফ মাহমুদ জানান, “দেশের বিভিন্ন মহল থেকে আপত্তি আসার প্রেক্ষিতে সরকার জাতীয় দিবস ঘোষণার সিদ্ধান্তগুলো নতুন করে পর্যালোচনার উদ্যোগ নিচ্ছে।”

এর আগে গত বুধবার (২৫ জুন) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এক পরিপত্রে ৫ আগস্টকে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’, ৮ আগস্টকে ‘নতুন বাংলাদেশ দিবস’ এবং ১৬ জুলাইকে ‘শহীদ আবু সাঈদ দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এ-সংক্রান্ত পৃথক তিনটি পরিপত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোকে এসব দিবস প্রতি বছর যথাযথ মর্যাদায় পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়।

তবে ‘নতুন বাংলাদেশ দিবস’ হিসেবে ৮ আগস্ট নির্ধারণ করাকে ঘিরে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র শীর্ষ নেতারা এর তীব্র বিরোধিতা করছেন। এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “নতুন বাংলাদেশের জন্ম ৫ আগস্ট, ৮ আগস্ট নয়। এই অর্জন সাধারণ ছাত্র-জনতার, সরকার এটিকে কুক্ষিগত করতে চাইছে—এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যাবে না।”

এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, “৮ আগস্ট কোনো বিপ্লব হয়নি, বরং সেদিন থেকেই বিপ্লব নষ্ট হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ৫ আগস্টই প্রকৃত ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃত হওয়া উচিত।”

পরবর্তীতে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের মতামত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “নতুন বাংলাদেশ দিবস তখনই হবে, যেদিন জুলাই ঘোষণাপত্র প্রকাশিত হবে এবং মৌলিক সংস্কারের ভিত্তিতে ‘জুলাই সনদ’ গৃহীত হবে।”

সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে এই বিতর্ক বাড়তে থাকায় সরকার এখন ‘নতুন বাংলাদেশ দিবস’-সহ অন্যান্য দিবসের ঘোষণার বিষয়ে নতুন করে ভাবছে বলে আভাস মিলেছে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বক্তব্যে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




প্রধান উপদেষ্টা নোবেলজয়ী ড. ইউনূসের জন্মদিন আজ

আজ শনিবার (২৮ জুন) বাংলাদেশের নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জন্মদিন। ১৯৪০ সালের এই দিনে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার বাথুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।

তার পিতা ছিলেন দুলা মিঞা সওদাগর এবং মাতা সুফিয়া খাতুন। স্ত্রী অধ্যাপক দিনা আফরোজ এবং তিনি দুই কন্যা সন্তানের জনক।

ছাত্রজীবন থেকেই মেধাবী হিসেবে পরিচিত ড. ইউনূস চট্টগ্রাম কলিজিয়েট স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং চট্টগ্রাম কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৬৫ সালে ফুলব্রাইট স্কলারশিপে যুক্তরাষ্ট্রে যান এবং ১৯৭১ সালে ভান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে থেকে বাংলাদেশের জন্য জনমত গঠনে ভূমিকা রাখেন এবং ‘বাংলাদেশ ইনফরমেশন সেন্টার’ পরিচালনা করেন।

স্বাধীনতার পর ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষে মানুষের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে তার মাথায় আসে মাইক্রোক্রেডিট ধারণা। ১৯৭৬ সালে চট্টগ্রামের জোবরা গ্রামে শুরু হয় পরীক্ষামূলক ‘গ্রামীণ ব্যাংক প্রকল্প’। এটি ১৯৮৩ সালে পূর্ণাঙ্গ গ্রামীণ ব্যাংক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়, যা বাংলাদেশের দারিদ্র্য বিমোচনে এক নতুন পথ দেখায়।

২০০৬ সালে ড. ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংক যৌথভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কার অর্জন করেন। এ ছাড়াও তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম, কংগ্রেশনাল গোল্ড মেডেল, বিশ্ব খাদ্য পুরস্কারসহ অগণিত আন্তর্জাতিক সম্মাননায় ভূষিত হন।

সাম্প্রতিক সময়ের একটি বড় মাইলফলক হলো—২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের পর দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব পান তিনি। ৮ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি এই পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

ড. ইউনূসের জন্মদিন উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রাজনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষাবিদ, তরুণ সমাজসহ নানা মহল থেকে শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




দেশের সকল ইসলামি দলগুলোর মধ্যে ঐক্য অনিবার্য : গোলাম পরওয়ার

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, দেশের সব ইসলামী শক্তির মধ্যে শিগগিরই সমঝোতা হতে যাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, ইসলামী চিন্তাবিদ ও আলেমসমাজ বুঝতে পেরেছেন যে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ইসলামী দলগুলোর মধ্যে ঐক্য অপরিহার্য।

শুক্রবার (২৭ জুন) মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে উপজেলা ও থানা পর্যায়ের আমিরদের নিয়ে আয়োজিত জামায়াতে ইসলামীর দুই দিনব্যাপী শিক্ষাশিবিরের দ্বিতীয় দিনে এ মন্তব্য করেন তিনি।

গোলাম পরওয়ার বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, অচিরেই দেশের সব ইসলামী শক্তির মধ্যে একটি নির্বাচনী সমঝোতা হবে। ইসলামী মূল্যবোধ, শহীদদের স্বপ্ন ও দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য আমাদের এই ঐক্য জরুরি।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের নেতারা শহীদের মৃত্যু বরণ করেছেন, দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে জীবন দিয়েছেন। এখন আমাদের দায়িত্ব সেই ত্যাগের প্রতিদান দেওয়া— আসন্ন নির্বাচনে বিজয় অর্জনের মাধ্যমে। আমাদের তৃণমূল সংগঠনকে শক্তিশালী করে আদর্শিক কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।”

শিক্ষাশিবিরে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য আবদুর রব এবং সঞ্চালনা করেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম। বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নেতারা— এটিএম আজহারুল ইসলাম, সাইফুল আলম খান মিলন, মোবারক হোসাইন, ড. খলিলুর রহমান মাদানী এবং অধ্যাপক ড. আবদুস সামাদ।

গোলাম পরওয়ার বলেন, “জামায়াতে ইসলামী জনমতকে ইসলামের পক্ষে আনতে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য— দেশ পরিচালনার জন্য যোগ্য ও আদর্শবান নেতৃত্ব তৈরি করা। আমরা বিশ্বাস করি, এই পথেই দ্বীনের বিজয় সম্ভব হবে, মহান আল্লাহ সন্তুষ্ট হবেন।”

তিনি দাবি করেন, দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নতুন এক মানবিক বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং সেই লক্ষ্য পূরণে জামায়াতে ইসলামী প্রস্তুত। এ সময় তিনি দলীয় আমির ডা. শফিকুর রহমানের জাতীয় ঐক্যের আহ্বান তুলে ধরেন, যেখানে বলা হয়েছে— “আসুন আমরা সবাই মিলে একটি বৈষম্যহীন, শান্তিপূর্ণ এবং মানবিক বাংলাদেশ গড়ি।”

সাবেক সংসদ সদস্য পরওয়ার বলেন, “স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সংস্কার এবং পূর্বের অন্যায়ের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।”

তিনি বলেন, “এই নির্বাচন কোনো দলীয় লড়াই নয়, বরং দেশি-বিদেশি চক্রান্ত ও আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে একটি ঐতিহাসিক প্রতিরোধ। যারা এদেশে ইসলামী শক্তিকে নিশ্চিহ্ন করতে চায়, এই নির্বাচন তাদের বিরুদ্ধেও স্পষ্ট জবাব হবে।”




মানবিক বিবেচনায় আনিসার এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনাধীন: শিক্ষা উপদেষ্টা

স্ট্রোক আক্রান্ত মাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কারণে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থী আনিসা আহমেদের বিষয়ে মানবিক বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক চৌধুরী রফিকুল আবরার (সি আর আবরার)।

শুক্রবার সকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় অংশগ্রহণের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) থেকে শুরু হওয়া এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রথম দিন রাজধানীর সরকারি মিরপুর বাংলা কলেজ কেন্দ্রের পরীক্ষার্থী আনিসা আহমেদ তার অসুস্থ মাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কারণে কেন্দ্রে দেরিতে পৌঁছান এবং পরীক্ষা দিতে পারেননি। এই ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে সিআর আবরার বলেন, “মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এইচএসসি পরীক্ষার্থী আনিসার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে পাবলিক পরীক্ষা গ্রহণ সংক্রান্ত আইন ও বিধিমালার আলোকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা এই শিক্ষার্থীর দুঃসময়ে তার পাশে আছি এবং তাকে উদ্বিগ্ন না হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি।”