ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস

বাংলাদেশে ভুয়া তথ্য এবং গুজব মোকাবিলায় জাতিসংঘের কার্যকর সহায়তা কামনা করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, মিথ্যা তথ্য দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য একটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাই হতে পারে একটি কার্যকর উপায়।

মঙ্গলবার (২ জুলাই) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইউনেস্কোর হেড অব অফিস ও প্রতিনিধির দায়িত্বে থাকা সুসান ভিজ এবং ইউনেস্কোর ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশন অ্যান্ড সেফটি অব জার্নালিস্টস সেকশনের সিনিয়র প্রকল্প কর্মকর্তা মেহেদী বেনচেলাহ’র সঙ্গে বৈঠকে এ আহ্বান জানান তিনি।

এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয় “অ্যান অ্যাসেসমেন্ট অব বাংলাদেশের মিডিয়া ল্যান্ডস্কেপ: ফোকাসিং অন ফ্রি, ইন্ডিপেনডেন্ট অ্যান্ড প্লুরালিস্টিক মিডিয়া” শীর্ষক একটি নতুন গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশের প্রাক্কালে। এই প্রতিবেদনটি ইউনেস্কো এবং ইউএনডিপি যৌথভাবে প্রস্তুত করেছে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আমরা এই প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করছি। আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ হলো মিথ্যা তথ্য ও গুজব। এসব অনেক সময় প্রবাসী নাগরিক এবং স্থানীয় গোষ্ঠী দ্বারা ছড়ানো হয়, যা একটি অব্যাহত তথ্য-বোমার মতো কাজ করছে।”

তিনি আরও বলেন, “জাতিসংঘ কেবল সরকার নয়, মিডিয়ার সঙ্গেও কথা বলুক। স্বাধীন নীতিমালা থাকা দরকার যাতে কোনো মিডিয়া যদি বারবার ভুয়া তথ্য প্রচার করে, তাহলে তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায়। আপনাদের কথা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আমরা জাতিসংঘের সক্রিয় সমর্থন চাই।”

এ সময় ইউনেস্কোর প্রতিনিধি সুসান ভিজ জানান, বৃহস্পতিবার যে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে তাতে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, তথ্য যাচাইয়ের বাধা, এবং ‘স্ব-নিয়ন্ত্রণ’ ব্যবস্থার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে প্রস্তুত একটি গবেষণা।

ইউনেস্কোর জ্যেষ্ঠ প্রকল্প কর্মকর্তা মেহেদী বেনচেলাহ বলেন, “প্রতিবেদনে সাংবাদিকদের কাজের পরিবেশ, নারী সাংবাদিকদের নিরাপত্তা এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলোর প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সুপারিশ রয়েছে। এই বিষয়গুলোতে সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।”

প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে ইউএনডিপির এসআইপিএস প্রকল্পের কাঠামোর আওতায় এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের মানোন্নয়নে ইউনেস্কোর ম্যান্ডেটের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




আরও কমলো এলপিজির দাম, ১২ কেজি সিলিন্ডার এখন ১৩৬৪ টাকা

তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম ভোক্তা পর্যায়ে আরও এক দফা কমিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। জুলাই মাসের জন্য ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৩৯ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৩৬৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বুধবার বিকেলে বিইআরসির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ নতুন দাম ঘোষণা করেন। ঘোষণার পর আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকেই নতুন দর কার্যকর হয়েছে।

এলপিজির মূল্য নির্ধারণে বিইআরসি সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান আরামকোর ঘোষিত সৌদি কার্গো মূল্য (সৌদি সিপি) অনুসরণ করে। জুলাই মাসের জন্য আরামকো প্রোপেনের দাম নির্ধারণ করেছে ৬০০ ডলার ও বিউটেনের দাম ৫৭০ ডলার প্রতি মেট্রিক টনে। বিইআরসি প্রোপেন ও বিউটেনের অনুপাত ৩৫:৬৫ ধরে গড় মূল্য নির্ধারণ করেছে ৫৮০.৫০ ডলার প্রতি মেট্রিক টন, যা ভিত্তি করে চলতি মাসের দাম সমন্বয় করা হয়েছে।

১২ কেজির সিলিন্ডার সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় গৃহস্থালির কাজে। তবে অনেক সময় বাজারে নির্ধারিত দামে এলপিজি না বিক্রির অভিযোগও পাওয়া যায়।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে দেশে ভোক্তা পর্যায়ে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে আসছে বিইআরসি। প্রোপেন ও বিউটেন আমদানি, ডলারের বিনিময় হার এবং অন্যান্য খরচ বিবেচনায় নিয়ে মাসিক ভিত্তিতে দাম হালনাগাদ করা হয়।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




জুলাই জাগরণের দিনলিপি ২

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন দিনের পূর্বঘোষিত কর্মসূচির প্রথম দিনেই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে বিক্ষোভ, গণসমাবেশ ও অবরোধ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এদিন রাজধানীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি নীলক্ষেত থেকে শুরু হয়ে সায়েন্স ল্যাব, বাটা সিগন্যাল হয়ে আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গিয়ে শেষ হয়।

এদিকে আন্দোলনের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে ঢাকার বাইরেও। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কর্মসূচির প্রতি সংহতি প্রকাশ করে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন প্রায় ২০ মিনিট।

গত দেড় দশকে দেশের রাজনৈতিক পরিসরে প্রথাগত স্বৈরতন্ত্র থেকে একটি ভিন্ন ধরনের শাসনব্যবস্থা গড়ে উঠে। যেখানে নির্বাচন থাকলেও ভোটাধিকার অনুপস্থিত ছিল। সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের কথা বলা হলেও তার প্রয়োগ হয়নি। উন্নয়নের নামে তৈরি হয় মুনাফাভিত্তিক একটি লুটপাটতন্ত্র। এই তন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন রাজনীতিক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, নিরাপত্তা বাহিনী, পৃষ্ঠপোষক সাংবাদিক ও কিছু সুবিধাভোগী বুদ্ধিজীবী।

ফলে সাধারণ মানুষের ঘামে অর্জিত রেমিটেন্স এবং করের টাকা শুধু লুটই হয়নি, তাদের উপর চাপানো হয়েছে বৈদেশিক ঋণের বিশাল বোঝাও। মানুষের এই বঞ্চনা থেকেই জন্ম নেয় দীর্ঘদিনের ক্ষোভ, যার বিস্ফোরণ ঘটায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

সরকার একদিকে এই গণআন্দোলন দমন করতে চেয়েছে, অন্যদিকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ নানা কালো আইন প্রয়োগ করে তৈরি করেছে ভয়ভীতির এক সামাজিক বলয়, যাতে কেউ প্রশ্ন তুলতে না পারে। কিন্তু বাস্তবতায় সেই ভীতি আর ধরে রাখা যায়নি।

২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের পথ ধরেই শুরু হয় এই নতুনধারার ছাত্র বিক্ষোভের রাজনীতি। ডাকসু নির্বাচনে ভিপি নুরুল হক নুরের সঙ্গী ছিলেন মো. নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া।  যারা পরে গণতান্ত্রিক ছাত্র শক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক হয়ে উঠেন।

২০২৩ সালের ৪ অক্টোবর আত্মপ্রকাশ ঘটে ‘গণতান্ত্রিক ছাত্র শক্তি’র। এই প্ল্যাটফর্ম থেকেই উঠে আসে ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। যার মূল কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠেন সেই প্রজন্মের চেতনাসম্পন্ন ছাত্রনেতারা। সাহিত্যে, সমাজসেবায় ও চিন্তাশীল পাঠচক্রের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা এই নেতৃত্ব বৃহত্তর গণমানুষের আকাঙ্ক্ষা ও মুক্তির প্রতীক হয়ে উঠেছে।

এস এল টি তুহিন / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম।




স্বর্ণের বাজারে উর্ধ্বগতি, বেড়েছে ভরিপ্রতি দাম

 

দেশের স্বর্ণ বাজারে কয়েক দফা দরপতনের পর অবশেষে আবারও দাম বাড়ানো হয়েছে। নতুন দামে ২২ ক্যারেট মানের স্বর্ণের প্রতি ভরি এখন বিক্রি হবে ১ লাখ ৭২ হাজার ১২৬ টাকায়— যা আগের চেয়ে ১ হাজার ৮৯০ টাকা বেশি।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) মঙ্গলবার (১ জুলাই) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন এই দাম নির্ধারণের কথা জানায়। আগামীকাল বুধবার (২ জুলাই) থেকে নতুন মূল্য কার্যকর হবে বলে নিশ্চিত করেছে বাজুস কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, বিশ্ববাজারে কিছুটা মূল্য হ্রাস পেলেও দেশের বাজারে চাহিদা ও পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নতুন মূল্য অনুযায়ী:
🔸 ২২ ক্যারেট: প্রতি ভরি ১,৭২,১২৬ টাকা
🔸 ২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি ১,৬৪,২৯৯ টাকা
🔸 ১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি ১,৪০,৮৩১ টাকা
🔸 সনাতন পদ্ধতি: প্রতি ভরি ১,১৬,৪৮৮ টাকা

এর আগে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৭০ হাজার ২৩৬ টাকা।

অন্যদিকে, রুপার দামে কোনো পরিবর্তন হয়নি। আগের মতোই রুপার দাম রয়েছে অপরিবর্তিত—

রুপার বর্তমান দাম:
🔹 ২২ ক্যারেট: ২,৫৭৮ টাকা
🔹 ২১ ক্যারেট: ২,৪৪৯ টাকা
🔹 ১৮ ক্যারেট: ২,১১১ টাকা
🔹 সনাতন পদ্ধতি: ১,৫৮৬ টাকা

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারে চাহিদা ও আন্তর্জাতিক মূল্যের ওঠানামার প্রভাবেই এই সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /

 




গাইবান্ধা থেকে ‘নতুন দেশ গড়ার’ আন্দোলন শুরু করল এনসিপি

গাইবান্ধা থেকে ‘নতুন দেশ গড়ার’ আন্দোলনের ঘোষণা দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জুলাই পথযাত্রা’ কর্মসূচি শুরু করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। মঙ্গলবার (১ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টায় গাইবান্ধা পৌরপার্কে আয়োজিত এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “২০২৪ সালে আমরা শেখ হাসিনার সরকার উৎখাতের আন্দোলনে রাজপথে নেমেছিলাম। সরকার পতন হয়েছে, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত নতুন রাষ্ট্র এখনও গড়া হয়নি। এবার সেই নতুন দেশ গড়ার আন্দোলন শুরু করেছি গাইবান্ধা থেকে।”

তিনি জানান, গাইবান্ধার মানুষ বহুদিন ধরে বৈষম্যের শিকার। জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানে গাইবান্ধার ছয়জন শহীদ হয়েছেন—তাদের আত্মত্যাগ নতুন স্বাধীনতার ভিত্তি রচনা করেছে। “এই আত্মত্যাগ এনসিপি ও দেশের মানুষ চিরকাল স্মরণ রাখবে,” বলেন তিনি।

নাহিদ আরও বলেন, “২০২৪ সালেই আমরা ভয়ভীতির সংস্কৃতি ভেঙে দিয়েছি। এবার কথা বলার স্বাধীনতা নিশ্চিত করতেই আমরা রাস্তায় নেমেছি। বাংলাদেশে আর কোনোদিন ভয়ভিত্তিক শাসনের সুযোগ দেওয়া হবে না।”

জনগণকে সাহসের সঙ্গে নিজেদের দাবি ও সমস্যার কথা প্রকাশ করতে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনারা নির্ভয়ে মতপ্রকাশ করুন, এনসিপি আপনাদের পাশে আছে।”

এর আগে সকালে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা রংপুরে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেন। পরে সাদুল্লাপুরে সংক্ষিপ্ত পথসভা এবং গাইবান্ধা শহরে জনসংযোগ কর্মসূচি পালন করেন তারা। শহরের শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানান নেতৃবৃন্দ।

এবারের ‘জুলাই পথযাত্রা’ কর্মসূচির মূল দাবি হচ্ছে—জনতার অধিকার প্রতিষ্ঠা, রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কার এবং নতুন সংবিধান প্রণয়ন। এটি এনসিপির সারাদেশব্যাপী আন্দোলনের অংশ হিসেবে শুরু হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, সাইফুল্লাহ হায়দার, আসাদুল্লাহ আল গালিব, আবু সাঈদ লিয়ন, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, ডা. মাহমুদা আলম মিতু, মোহাম্মদ আতাউল্লাহ, মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী এবং সদস্য ফিহাদুর রহমান দিবস।

এ ছাড়া গাইবান্ধার সাত উপজেলার এনসিপির স্থানীয় নেতৃবৃন্দও কর্মসূচিতে অংশ নেন।




স্বৈরাচারের আর কোনো ঠাঁই হবে না: প্রধান উপদেষ্টা

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধনী আয়োজনে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, “স্বৈরাচার যেন আর কখনো মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, এজন্য প্রতিবছর জুলাই-আগস্ট মাসজুড়ে গণজাগরণমূলক এই কর্মসূচি পালন করা হবে।”

মঙ্গলবার (১ জুলাই) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পুনরুত্থান কর্মসূচি’র উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “যে লক্ষ্য নিয়ে তরুণ ছাত্র, রিকশাচালক, শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষ শহীদ হয়েছেন— সেই লক্ষ্যকে বাস্তবায়ন করতে নতুন করে শপথ নেব। আমরা আর কোনো স্বৈরশাসকের উত্থানের সুযোগ দেব না।”

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “গত বছরের জুলাই আমাদের স্বাধীনতার পর সবচেয়ে বড় গণজাগরণ ছিল। এটি ছিল গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, ন্যায়ের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পুনর্গঠন এবং ফ্যাসিবাদের অবসানের শপথ।”

তিনি বলেন, “অভ্যুত্থানের তাৎক্ষণিক লক্ষ্য পূরণ হয়েছে ঠিকই, কিন্তু তার গভীরে ছিল নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থার স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চলবে।”

তিনি আরও বলেন, “১৬ বছর পর যে বিদ্রোহ সম্ভব হয়েছিল, তা যেন আমাদের আবার অপেক্ষা করতে না হয়— এজন্য আমরা প্রতিবছর এই সময়টিকে গণচেতনার উৎসবে রূপ দেব। স্বৈরাচারের ছায়া দেখলেই তাকে প্রতিরোধ করবো। আর এক মুহূর্ত দেরি নয়।”

ড. ইউনূস বলেন, “আমরা এই মাসকে শুধু স্মরণ নয়, বরং নতুন শপথের মাস হিসেবে দেখছি। সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের ঐক্যের মাধ্যমে আমরা এই যাত্রাকে শক্তিশালী করতে চাই।”

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া সকল শহীদ, আহত ও সংগ্রামীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আমি শ্রদ্ধা জানাই সেই সাহসী তরুণ-তরুণী, নারী-পুরুষ, শিক্ষক-শ্রমিক-রিকশাচালককে, যারা রাস্তায় নেমে গণতন্ত্রের পতাকা উঁচিয়ে ধরেছিলেন।”

তিনি বলেন, “জুলাই মাস হোক জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। চলুন, এই মাসকে পরিণত করি গণজাগরণের ও নতুন বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতির মাসে।”

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী এবং শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরার। বক্তারা বলেন, এই কর্মসূচি যেন গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার আন্দোলনে পরিণত হয়।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




রংপুরে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে ‘জুলাই পদযাত্রা’ শুরু করলো এনসিপি

শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। মঙ্গলবার (১ জুলাই) দুপুরে কেন্দ্রীয় নেতারা রংপুরে শহীদ আবু সাঈদের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন এবং মোনাজাতে অংশ নেন।

এ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান শুধু স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন নয়, এটি ছিল ন্যায়বিচার ও নতুন সমাজ বিনির্মাণের ছাত্র-জনতার স্বপ্ন। সেই চেতনার ধারাবাহিকতায় আমরা তিন দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকবো।”

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, “জুলাই সনদ নিয়ে কোনো গড়িমসি বরদাশত করা হবে না। প্রয়োজন হলে আবারও রাজপথে নামবো। প্রয়োজনীয় সংস্কার ছাড়া নির্বাচনের আয়োজন হলেও তা মানা হবে না।”

এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, “ন্যায়ভিত্তিক সংস্কার ও মানুষের অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত এনসিপি এক পা-ও পিছিয়ে আসবে না।”

নেতারা জানান, জুলাই পদযাত্রার লক্ষ্য সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ও মতামত সরাসরি জানার সুযোগ তৈরি করা। জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংলাপের মাধ্যমে তারা গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্রের রূপরেখা গড়ে তুলতে চায়।

বিকেলে শহীদ আবু সাঈদ হত্যার ঘটনাস্থল ও রংপুর শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পরিদর্শনের কথা রয়েছে দলের নেতাদের। কর্মসূচির অংশ হিসেবে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর শহীদ মিনার থেকে জুলাই পদযাত্রা শুরু হবে। বিকেল ৩টায় রংপুর শহরের পার্কের মোড় থেকে পদযাত্রা শুরু হয়ে লালবাগ, শাপলা, জাহাজ কোম্পানি মোড়, টাউন হল মাঠ হয়ে ডিসির মোড়, ধাপ, মেডিকেল মোড় হয়ে চেকপোস্টে গিয়ে শেষ হবে।

গত বছর ১৬ জুলাই রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ চলাকালে আবু সাঈদ পুলিশের ছররা গুলিতে নিহত হন। আন্দোলনরত ছাত্ররা সরে গেলেও আবু সাঈদ লাঠি হাতে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। পুলিশের ছররা গুলিতে তিনি ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

কবর জিয়ারতে অংশ নেন এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, উত্তর অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা সহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতা।

এই পদযাত্রা চলবে ১ জুলাই থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ১,২৯০

সারাদেশে পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ১,২৯০ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ৮১১ জন বিভিন্ন মামলা ও ওয়ারেন্টভুক্ত, আর বাকি ৪৭৯ জন অন্যান্য অপরাধে জড়িত ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ সদর দফতর।

মঙ্গলবার (১ জুলাই) দুপুরে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পুলিশ সদর দফতরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি), মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস ইনামুল হক সাগর।

তিনি জানান, “বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে সারা দেশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ধারাবাহিকভাবে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এতে ১,২৯০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় একটি চাপাতি ও তিনটি দা উদ্ধার করা হয়েছে।”

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। সমাজে অপরাধ প্রবণতা কমাতে এই ধরনের অভিযান কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলেও আশা করা হচ্ছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




৩৬ জুলাই: দ্বিতীয় মুক্তির সূর্যোদয়

৫ আগস্ট ২০২৪— বাংলাদেশের ইতিহাসে আরেকটি লাল অক্ষরে লেখা দিন।
এই দিনেই দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসন, শোষণ ও নির্যাতনের অবসান ঘটে। অবসান ঘটে একটি একনায়কতান্ত্রিক সরকারের। জন্ম হয় এক নতুন বাংলাদেশের— যা অনেকেই বলছেন, “দ্বিতীয় স্বাধীনতা”, কেউ বলছেন “পুনর্জন্ম”।

আন্দোলনের সূচনা হয় শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার নিয়ে বিক্ষোভের মাধ্যমে। কিন্তু দিন গড়াতে গড়াতে তা রূপ নেয় একদফা দাবিতে— “শেখ হাসিনার পদত্যাগ চাই”।
যেখানে ছাত্রদের মুখে একটাই স্লোগান ধ্বনিত হচ্ছিল—

> “দফা এক, দাবি এক— শেখ হাসিনার পদত্যাগ”।

শুধু শিক্ষার্থী নয়, একে একে সর্বস্তরের মানুষ এই আন্দোলনে যুক্ত হন। স্বৈরাচারী দমননীতি, সীমাহীন দুর্নীতি, মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব আর ভারতীয় হস্তক্ষেপ— সব কিছুর বিরুদ্ধে যেন একসাথে বিস্ফোরণ ঘটে।

এই আন্দোলনকে কবি সুকান্তের ভাষায় তুলনা করা যায় “একটি দেশলাই কাঠির” সাথে, যার আগুনে পুড়ে যায় পুরো শাসনব্যবস্থা।

রাষ্ট্র যখন গণতন্ত্রহীন একনায়কতন্ত্রে রূপ নেয়, তখন এই আন্দোলন হয়ে ওঠে সাধারণ মানুষের মুক্তির আশা।
গুম, খুন, নির্যাতন— কিছুই এই তরুণদের থামাতে পারেনি। বরং তারা এগিয়ে গেছে দেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে।

এই দিনটির তাৎপর্য আরও গভীরভাবে অনুধাবন করতে হলে ফিরে তাকাতে হয় ২০১৮ সালের দিকে, যখন “নিরাপদ সড়ক আন্দোলন” শুরু হয় রাজধানীর শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর।

তারপর আসে ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন।
দুইটি আন্দোলনের ভিন্ন লক্ষ্য থাকলেও, পদ্ধতি ও প্রভাব ছিল অভিন্ন—
ছাত্ররা নিজেদের অধিকার আদায়ে রাজপথে নেমে আসে, রাজনীতির বাইরে গিয়েও তাদের কণ্ঠ হয়ে ওঠে জাতির চেতনার প্রতীক।

২০১৮ সালে শেখ হাসিনা সরকার বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ প্রশমনের নামে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর চাকরিতে কোটা পুরোপুরি বাতিল করে। যদিও এতে সমাধান আসেনি বরং তৈরি হয় নতুন বৈষম্য।

এ সিদ্ধান্ত আদালতে চ্যালেঞ্জ হলে ২০২৪ সালের ৫ জুন উচ্চ আদালত পূর্ববর্তী আদেশকে ‘সংবিধান পরিপন্থি’ ঘোষণা করে।
ফলে সরকারি চাকরিতে কোটা পুনর্বহাল হয়। আর এখানেই যেন আগুনে ঘি পড়ে।

৬ জুন থেকেই শুরু হয় প্রতিবাদ। ছড়িয়ে পড়ে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে।
ঈদের বিরতির পর, ১ জুলাই থেকে শুরু হয় পূর্ণাঙ্গ “বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন”।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় সমাবেশ, বিক্ষোভ ও দাবিনামা পেশ করা হয়।
তাদের আল্টিমেটাম ছিল— ৪ জুলাইয়ের মধ্যে দাবি না মানলে দেশজুড়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

দাবি না মানায় ৫ আগস্ট পরিস্থিতি চূড়ান্ত রূপ নেয়। জনগণের চাপ আর ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ অবস্থান—
সবকিছুর সামনে ভেঙে পড়ে একনায়কতান্ত্রিক আওয়ামী রেজিম।
ছাত্র-জনতার ৩৬ দিনের দীর্ঘ লড়াইয়ে অর্জিত এই মুক্তির দিন ইতিহাসে জায়গা করে নেয় “৩৬ জুলাই” নামে।

এটি শুধু একটি আন্দোলনের দিন নয়—
এটি একটি জাতির ঘুরে দাঁড়ানোর ঘোষণা, একটি নতুন ভোরের সূচনা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /

 




মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ে চালককে হত্যা, যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

নেত্রকোনায় মোটরসাইকেল ছিনতাই করতে গিয়ে চালককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করার ঘটনায় মো. সাদেকুল ইসলাম (২৩) নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

সোমবার (৩০ জুন) বিকেলে নেত্রকোনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। তবে রায় ঘোষণার সময় আসামি পলাতক থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত সাদেকুল ইসলাম নেত্রকোনা পৌর শহরের পূর্ব কাটলী এলাকার মো. আব্দুস সাত্তারের ছেলে। নিহত মোটরসাইকেল চালক ঝিনুক মিয়া (২৩) সদর উপজেলার পশ্চিম মেদনী গ্রামের বাসিন্দা ও সোহরাব হোসেনের ছেলে।

মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি সাদেকুল মোটরসাইকেল ভাড়া করে মদন উপজেলায় ষাঁড়ের লড়াই দেখতে যান। ফেরার পথে নানা জায়গায় ঘুরিয়ে সে ঝিনুক মিয়াকে পূর্বধলার শ্যামগঞ্জ এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে বাজারসংলগ্ন স্থানে গিয়ে সাদেকুল পেছন থেকে ছুরিকাঘাত করে মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।

স্থানীয় লোকজন আহত ঝিনুককে উদ্ধার করে নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার সময় শ্যামগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির চেকপোস্টের নিকটবর্তী এলাকায় হওয়ায় সাদেকুল পালিয়ে যেতে বাধ্য হয় এবং মোটরসাইকেলটি ফেলে রেখে যায়।

নিহতের ভাই মো. টিটু মিয়া পূর্বধলা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করলে পুলিশ তদন্ত শেষে আসামি সাদেকুলকে গ্রেফতার করে। তবে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর থেকে সে পলাতক।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আবুল হাসেম। তিনি রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “এই রায়ের মাধ্যমে বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতি মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় হবে।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫