পর্যটকদের কাছে পার্বত্য চট্টগ্রাম এখন প্রথম পছন্দ: সুপ্রদীপ চাকমা

পার্বত্য চট্টগ্রাম বর্তমানে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও জনপ্রিয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে বলে জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাষ্ট্রদূত (অব.) সুপ্রদীপ চাকমা।

তিনি জানান, সদ্যসমাপ্ত ঈদুল ফিতর ছুটিতে এত বিপুলসংখ্যক পর্যটক বান্দরবানে ভিড় জমিয়েছিলেন যে, তাদের আবাসন নিশ্চিতে জেলা প্রশাসনকে স্টেডিয়াম পর্যন্ত খালি করে দিতে হয়।

রোববার (৬ এপ্রিল) বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের এখন পর্যটকদের সেবাদানে মনোনিবেশ করতে হবে। এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং সংস্কৃতি পর্যটকদের আকৃষ্ট করছে। এখন প্রয়োজন টেকসই ও পর্যটকবান্ধব সেবা অবকাঠামো গড়ে তোলা।”

তিনি নতুন উদ্যোক্তা তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, “পরনির্ভরশীলতা ত্যাগ করে আত্মনির্ভর হয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার এখনই সময়। শিক্ষিত ও দক্ষ প্রজন্ম গড়ে তুলতে হবে, যারা হবে ভবিষ্যতের আদর্শ ও উন্নত পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থপতি।”

মতবিনিময় সভায় উদ্যোক্তারা স্থানীয় যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ পাওয়ার বিষয়গুলো তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানজামা লুসাই, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব কংকন চাকমা, বান্দরবান জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি, পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ কাওছার, জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলামসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও উদ্যোক্তারা।




পাহাড়ি ফল মেলার মাধ্যমে ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সংযোগ গড়ে তোলা হয়েছে: উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা

পাহাড়ি অর্গানিক ফল মেলা শুধু একটি বাণিজ্যিক আয়োজন নয়, বরং এটি পাহাড়ি জীবনধারা ও ঐতিহ্যের সঙ্গে নগরবাসীর আত্মিক সম্পর্ক গড়ে তোলার একটি প্ল্যাটফর্ম বলে মন্তব্য করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা।

শনিবার (৫ জুলাই) রাজধানীর বেইলি রোডে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী পাহাড়ি ফল মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষ প্রাকৃতিক খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত। অর্গানিক ফল আমাদের জীবনের অংশ এবং এই মেলার মাধ্যমে আমরা সেই ঐতিহ্যকে তুলে ধরেছি।”

উপদেষ্টা আরও বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে গ্রামীণ অর্থনীতি ও নারীর ক্ষমতায়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। “বিশেষ করে পাহাড়ি নারীরা অর্গানিক ফল চাষে যে নিষ্ঠা ও শ্রম দিয়ে ভূমিকা রাখছেন, তা সত্যিই অনুকরণীয়। সরকার তাদের প্রশিক্ষণ, প্রণোদনা ও বাজার সংযোগে সর্বাত্মক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।”

শিক্ষা খাতের প্রসঙ্গ টেনে সুপ্রদীপ চাকমা জানান, চলতি বছরের মধ্যেই পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্তত ১০০টি স্কুলে স্টারলিংক ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে ই-লার্নিং চালু করা হবে। “এটি শুধু শিক্ষার মানোন্নয়ন নয়, বরং প্রযুক্তিগত অন্তর্ভুক্তি ও সামাজিক ন্যায়বিচারের পথও উন্মুক্ত করবে।”

তিনি বলেন, “এই ফল মেলা শুধু কৃষক ও ভোক্তার সংযোগ নয়, বরং শিক্ষা, পরিবেশ এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের একটি মঞ্চ। আমরা চাই, রাজধানীবাসী পাহাড়ি সংস্কৃতিকে শুধু দেখবে না, অনুভবও করবে।”

আয়োজক কর্তৃপক্ষ জানায়, মেলার প্রতিটি স্টল যেন ছিল একটি গল্পের জানালা—যেখানে শুধুমাত্র ফলের স্বাদ নয়, বরং পাহাড়ি জীবনের রঙ, ঘ্রাণ ও অনুভূতির প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে। এ আয়োজন স্থানীয় কৃষকের পণ্যের প্রচার এবং বাজার সম্প্রসারণেও ভূমিকা রাখবে।

সমাপনী সন্ধ্যায় খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের শিল্পীদের পরিবেশনায় অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যেখানে পরিবেশিত হয় ঐতিহ্যবাহী পাহাড়ি সংগীত ও নৃত্য।




“পশ্চিমা সংস্কৃতির আগ্রাসনের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি হেফাজতের”

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ্ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী বলেছেন, বাংলাদেশে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তিনি বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ দেশের ইসলামি মূল্যবোধ, পারিবারিক কাঠামো এবং জাতীয় সংস্কৃতির ওপর হস্তক্ষেপের সামিল।

শনিবার (৫ জুলাই) ঢাকার বারিধারার জামিয়া মাদানিয়া মিলনায়তনে হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগর আয়োজিত এক দোয়া ও আলোচনা মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ মাহফিলটি শাপলা ও চব্বিশের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে ও আহতদের সুস্থতা কামনায় আয়োজিত হয়।

আল্লামা বাবুনগরী বলেন, “বাংলাদেশ একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ, যার ধর্মীয় ও সামাজিক কাঠামো ইসলামী মূল্যবোধে গঠিত। অতীতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা মানবাধিকারের নামে ইসলামী শরিয়া, পারিবারিক আইন ও ধর্মীয় রীতিতে হস্তক্ষেপ করেছে। তাই দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় বাংলাদেশে খুলতে দেওয়া হবে না।”

তিনি আরও বলেন, “সমকামিতা ও বিকৃত পশ্চিমা ধারণা সমাজে নৈতিক অবক্ষয় ঘটায়। ইসলাম এ ধরনের সম্পর্ককে স্বীকৃতি দেয় না এবং এ বিষয়গুলোকে উৎসাহিত করা ঈমানদার জনগণের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।”

মাহফিলে বক্তব্য রাখেন হেফাজতের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান, নায়েবে আমির মাওলানা আবদুল হামিদ, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, মাওলানা মামুনুল হকসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা।

মাওলানা সাজিদুর রহমান বলেন, “মানবাধিকার মানে ধর্মীয় পরিচয় ও সমাজের প্রকৃতি অনুযায়ী মানুষকে সম্মান দেওয়া। ধর্মীয় ও পারিবারিক মূল্যবোধে হস্তক্ষেপ করে কোনো বিদেশি সংস্কৃতি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হলে ঈমানদার জনতা তা প্রতিহত করবে।”

সভায় মাওলানা মামুনুল হক সরকারের প্রতি চুক্তি বাতিলের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “ঈমানদার জনতা ইসলামী মূল্যবোধ ও জাতীয় স্বার্থে যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রস্তুত। প্রয়োজনে রাজপথে কঠোর কর্মসূচি দিতে আমরা বাধ্য হব।”

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল একটি বৈষম্যহীন, স্বাধীন ও আধিপত্যমুক্ত বাংলাদেশ গঠন। যারা এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে ব্যর্থ হবেন, তারা ইতিহাস ও জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে বাধ্য হবেন।”

সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা মহানগর সভাপতি মাওলানা জুনাইদ আল হাবিব বলেন, “দেশের অভ্যন্তর ও বাইরের ইসলামবিরোধী গোষ্ঠীগুলো নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এই ষড়যন্ত্র রুখতে ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় করতে হবে।”

তিনি জনগণের প্রতি আহ্বান জানান, দেশের স্বাধীনতা ও ইসলামী আদর্শ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার।




গুরুতর অসুস্থ শাশুড়ির জন্য দোয়া চাইলেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান তার গুরুতর অসুস্থ শাশুড়ির জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন জামায়াত আমির নিজেই।

শনিবার (৫ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই দোয়া প্রার্থনা করেন।

এছাড়া জামায়াতের প্রবীণ নেতা ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সাবেক সদস্য মাওলানা রাফি উদ্দিন আহমদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তার জন্যও সবার কাছে দোয়া কামনা করেন তিনি।

পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান লিখেছেন, “আমার শ্রদ্ধেয়া শাশুড়ি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় আইসিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন। জীবনের এই সন্ধিক্ষণে সকলের কাছে একান্ত দোয়া প্রার্থী। সুস্থতা-অসুস্থতা এবং হায়াত-মউতের মালিক আল্লাহ তায়ালা যেন তার এই বান্দির প্রতি রহমত বর্ষণ করেন।”

তিনি আরও লেখেন, “একইভাবে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রবীণ দায়িত্বশীল ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সাবেক সদস্য মাওলানা রাফি উদ্দিন আহমদ সাহেবও বর্তমানে আইসিইউতে আছেন। তার জন্যও আমি সকলের কাছে দোয়া কামনা করছি।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




ইমন-হৃদয়ের ফিফটি, তবু ২৪৮ রানেই গুটিয়ে গেল বাংলাদেশ

 

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচেও ব্যাটিং ধস কাটাতে পারেনি বাংলাদেশ। কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে শনিবার টসে জিতে ব্যাটিং নিয়েছিলেন টাইগার অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। কিন্তু শুরুতেই ধাক্কা খায় দল। অভিষেকে ফিফটি পেলেও ইমন এবং দায়িত্বশীল ফিফটি করেও হৃদয় শেষ রক্ষা করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ২৪৮ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ।

ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই ফিরে যান প্রথম ম্যাচের সর্বোচ্চ স্কোরার তামিম ইকবাল (৭)। এরপর ইমন ও শান্ত মিলে গড়েন ৬৩ রানের জুটি। শান্ত করেন ১৯ বলে ১৪ রান। আর অভিষিক্ত পারভেজ হোসেন ইমন ৬৯ বলে খেলেন ৬৭ রানের ঝকঝকে ইনিংস। তবে অর্ধশতকের পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি তিনিও।

ইমনের বিদায়ের পর দ্রুতই ফেরেন অধিনায়ক মিরাজ (৯)। এরপর তাওহিদ হৃদয় ও শামিম হোসেন ৩৭ রানের জুটি গড়লেও শামিম আউট হন ২৩ বলে ২২ রান করে। জাকের আলিকে সঙ্গে নিয়ে হৃদয় আবারও লড়াই চালিয়ে যান। জাকের করেন ২৪ রান, হৃদয় ৬৯ বলে ৫১।

তবে দলীয় ২০৪ রানে জাকেরের বিদায়ের পর হৃদয়ও রানআউটে কাটা পড়েন। শেষদিকে তানজিম সাকিবের ২১ বলে ৩৩ রানে কোনো রকমে স্কোরবোর্ডে ২৪৮ রান তুলতে পারে বাংলাদেশ।

লঙ্কানদের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নিয়েছেন আসিথা ফার্নান্দো। ব্যাটিং ব্যর্থতায় দ্বিতীয় ম্যাচেও চাপে থেকেই ফিল্ডিংয়ে নামবে বাংলাদেশ।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




আহবায়ক কমিটির মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করলো সাংস্কৃতিক সংগঠন “আরোহন”

‘নতুন দিনের প্রত্যাশায়’ স্লোগানে বরিশালে আত্মপ্রকাশ করলো অরাজনৈতিক ও প্রতিশ্রুতিশীল সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘আরোহন’। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে এ সংগঠনটি যাত্রা শুরু করেছে।

শুক্রবার (৪ জুলাই) বিকেল ৫টায় বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমির মহড়া কক্ষে সদস্যদের কণ্ঠভোটে ২৮ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এতে আহ্বায়ক নির্বাচিত হন শফিকুল ইসলাম সাগর এবং সদস্য সচিব হন লাবণ্য রহমান। যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পান সাব্বির হোসেন সোহাগ, মোহন হোসেন, মাহমুদ-উন নবী ও সুমি হক। যুগ্ম সদস্য সচিব নির্বাচিত হয়েছেন রাকিবুল ইসলাম নোমান, চন্দ্রিমা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সাব্বির হোসেন।

কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন: মেহেদী হাসান জাহিদ, জান্নাতুল প্রতিভা, আবদুর রহমান, সানভীর মাহমুদ, সফিকুর রহমান সুমন, হাসিবুল ইসলাম ইরান, জাহিদ আকন, সাইফুল ইসলাম অলী, নাহিদ ইসলাম, রোহান মোহাম্মদ অয়ন, কিশোর কুমার বালা, তানজিল আহমেদ, মাহফুজ নুসরাত মোনা, সজল হালদার, ইমাম হোসেন, ওবায়দুর রহমান বায়েজিদ, রোকনুজ্জামান রোকন, সানজিনা হোসাইন মিম ও আল আয়মান প্রমুখ।

আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম সাগর বলেন, “জুলাই বিপ্লবের এক বছর পেরিয়ে গেলেও বরিশালের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন আসেনি। শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানিয়ে আমরা একটি নতুন, পরিচ্ছন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন গড়েছি।”

সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাব্বির হোসেন সোহাগ বলেন, “আগামীর সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের দেশপ্রেমিকদের সংগঠিত হওয়া জরুরি।”

সদস্য সচিব লাবণ্য রহমান বলেন, “বরিশালের সাংস্কৃতিক অঙ্গন কিছু ভণ্ড ও দালালের দখলে। আমরা তাদের ভাঙন ঠেলে নতুন দিনের সূচনা করতে চাই।”

সদস্যদের আলোচনায় উঠে আসে—সংগীত, নৃত্য কিংবা আবৃত্তির বাইরে গিয়ে আরোহন সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে সামাজিক সাংস্কৃতিক আন্দোলনে ভূমিকা রাখবে। বরিশাল থেকেই ছড়িয়ে পড়বে সাংস্কৃতিক বিপ্লবের ঢেউ—এমন প্রত্যাশায় পথচলা শুরু করলো ‘আরোহন’।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




পবিত্র আশুরা জুলুমের বিরুদ্ধে ন্যায়ের পক্ষে সাহসের প্রতীক: ড. ইউনূস

 

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে এক বাণীতে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আশুরা শুধু শোকের দিন নয়—এটি জুলুম ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য মানবজাতিকে শক্তি ও সাহস জোগায়।

শনিবার (৫ জুলাই) দেওয়া এ বাণীতে ড. ইউনূস বলেন, “আমি সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও রাসুল হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর প্রিয় দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসেন (রা.) এবং কারবালার প্রান্তরে শাহাদতবরণকারী সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।”

তিনি বলেন, ইসলাম শান্তি, সত্য ও ন্যায়ের ধর্ম। এই মহৎ আদর্শ রক্ষায় হিজরি ৬১ সনের ১০ মহররম কারবালায় ইমাম হোসেন (রা.) ও তাঁর পরিবার এবং সাহচর্যরত সাহাবিদের আত্মত্যাগ মানব ইতিহাসে চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁদের দাঁড়িয়ে যাওয়ার সাহসিকতা আজও পৃথিবীর সব স্বাধীনতাকামী মানুষকে অনুপ্রাণিত করে।

ড. ইউনূস বলেন, “কারবালার এই বিয়োগান্ত ঘটনা ছাড়াও আশুরা ইসলামের ইতিহাসে ফজিলতপূর্ণ একটি দিন। কোরআন-হাদিসে উল্লেখ আছে—এই দিনে নূহ (আ.)-এর কিশতিকে নিরাপদে তীরে ভিড়ানো, মুসা (আ.)-এর ফেরাউনের জুলুম থেকে মুক্তি লাভ, পৃথিবী সৃষ্টি সহ বিভিন্ন তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। নবী করিম (সা.) আশুরার দিনে দুটি রোজা রাখার উপর গুরুত্ব দিয়েছেন।”

তিনি মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, সংহতি ও শান্তিপূর্ণ অগ্রগতি কামনার পাশাপাশি আশুরার শিক্ষা ধারণ করে সামাজিক সাম্য, ন্যায় এবং মানবিকতা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার ডাক জামায়াতের, রংপুরে বিশাল জনসমুদ্র

দীর্ঘ ১৭ বছর পর রংপুরে বিভাগীয় জনসভা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শুক্রবার (৪ জুলাই) রংপুর জিলা স্কুল মাঠে আয়োজিত এ জনসভায় সকাল থেকেই নেতাকর্মীদের ঢল নামে। বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার নেতাকর্মীরা রিকশা, অটোরিকশা, ট্রাক, কাভার্ডভ্যানসহ নানা যানবাহনে করে সভাস্থলে পৌঁছান।

জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের খুনিদের বিচার, প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সংস্কার এবং নির্বাচনের পূর্বশর্তসহ চার দফা দাবি জানিয়ে আয়োজিত এ জনসভা ঘিরে রংপুর জুড়ে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, রংপুর বিভাগের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সমাগমে এই জনসভায় প্রায় দুই লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতি ঘটে।

জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। প্রধান বক্তা ছিলেন সদ্য কারামুক্ত কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম। এছাড়া বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, মাওলানা আব্দুল হালিম, ঢাকা দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি জাহিদুল ইসলামসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।

জনসভা উপলক্ষে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে নির্মাণ করা হয় বিশাল মঞ্চ। নারী দর্শনার্থীদের জন্য পর্দাসহ পৃথক জায়গায় বক্তব্য শোনার ব্যবস্থা করা হয়। সভাস্থলে প্রবেশের জন্য তৈরি করা হয় অতিরিক্ত দুটি গেট। সভাকে কেন্দ্র করে পুরো রংপুর নগরে তোরণ, পোস্টার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড ও ব্যানারে সাজানো হয়। মাইকিং, গণসংযোগ ও বিশাল মোটরসাইকেল র‌্যালির মাধ্যমে জনসভা সফল করতে নেওয়া হয় ব্যাপক প্রস্তুতি। মাঠ পর্যায়ে কাজ করে ১৩টি উপ-কমিটি, প্রস্তুত রাখা হয় মেডিকেল টিম ও স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী।

সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, “এই জনসভাকে কেন্দ্র করে রংপুর বিভাগের জামায়াত নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। এ স্পিরিটকে কাজে লাগিয়ে আমরা আগামী নির্বাচনে ফলাফল ঘরে তুলতে চাই। এই জনসভা হবে নির্বাচনের টার্নিং পয়েন্ট।”

সভায় অংশগ্রহণকারীদের হাতে দেখা যায় বিভিন্ন ব্যানার ও পোস্টার—যেখানে “১৮ বছর ধরে ফ্যাসিস্ট শাসনে হাজার হাজার মানুষ গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার”—এমন দাবিও উঠে আসে। জনসভা থেকে রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘নতুন বার্তা’ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে অন্যান্য রাজনৈতিক দলকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়।

জামায়াত নেতারা জানান, জনগণের মধ্যে একটি বৃহত্তর আন্দোলনের বার্তা পৌঁছে দিতেই এই আয়োজন। তাদের দাবি, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় দেশ গঠনের পথে এই জনসভা একটি বড় সূচনা।” জনসভা থেকেই রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনে দলীয় প্রার্থীদের ঘোষণাও দেওয়া হয়।




এক দিনে ২০৪ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত, অর্ধেকই বরিশাল বিভাগে

দেশজুড়ে ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নতুন করে ২০৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে বরিশাল বিভাগেই আক্রান্ত হয়েছেন অর্ধেক রোগী—১০১ জন।

শুক্রবার (৪ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নতুন শনাক্ত রোগীদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১০১ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৩৮ জন, ঢাকা উত্তর সিটিতে ১৯ জন, ঢাকার বাইরে ঢাকা বিভাগে ২২ জন, চট্টগ্রামে ৯ জন, রাজশাহীতে ১০ জন এবং ময়মনসিংহে ৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে একই সময়ে ডেঙ্গুতে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

এদিকে, গত এক দিনে ২৫৪ জন রোগী চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। চলতি বছর জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট ১১ হাজার ৬৬০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১০ হাজার ৩৩৬ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট ৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, ডেঙ্গুর প্রকোপ যদি এভাবে বাড়তে থাকে, তবে নিয়ন্ত্রণে আনতে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।




রংপুরে জনসভায় এটিএম আজহার: “আমার মুক্তি আবু সাঈদদের রক্তের বিনিময়ে”

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, তার মুক্তির সূচনা হয়েছে শহীদ আবু সাঈদের রক্তদানের মাধ্যমে। শুক্রবার (৪ জুলাই) বিকেলে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে আয়োজিত বিভাগীয় জনসভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

জনসভায় উপস্থিত জনতার উদ্দেশে আজহার বলেন, “রংপুরের জনগণ বলতে পারবে না আমি কোনো অপরাধ করেছি। অথচ জোর করে সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। যারা সাক্ষ্য দিয়েছেন, পরবর্তীতে স্বীকার করেছেন—তাদের জোর করে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা হয়েছিল।”

তিনি আরও বলেন, “আমি ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলাম। কিন্তু আল্লাহর রহমতে আজ লক্ষ জনতার মঞ্চে এসেছি। যে গলায় রশি পড়ার কথা ছিল, সে গলায় আজ ফুলের মালা পড়েছে। আমাকে যাদের মাধ্যমে ফাঁসি দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল, আজ তারাই সাক্ষ্য দিয়েছেন আমার নির্দোষিতার পক্ষে।”

নিজের মুক্তিকে ‘আল্লাহর মেহেরবানি’ উল্লেখ করে আজহার বলেন, “আমার মুক্তির প্রথম সোপান আবু সাঈদ, যার বুকের তাজা রক্ত দিয়ে গণঅভ্যুত্থান শুরু হয়েছিল, যার চূড়ান্ত রূপ নেয় ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে। ওই বিপ্লব না ঘটলে আপনারা আমার জানাজা পড়তেন।”

সাবেক ও বর্তমান সরকারের আমলে জামায়াত নেতাদের ফাঁসির বিষয়ে তিনি বলেন, “মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, কামরুজ্জামান, আব্দুল কাদের মোল্লা, মীর কাশেমসহ অনেককে মিথ্যা মামলায় হত্যা করা হয়েছে। অধ্যাপক গোলাম আযমসহ আরও কয়েকজন নেতাকে হত্যা করা হয়েছে বিনা চিকিৎসায়। এসব হত্যার বিচার চাই।”

বর্তমান ও অতীত রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আজহার বলেন, “যারা মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত, তারা কি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে পারে? এই আজব বাংলাদেশে তাই হয়েছে। আমাদের বিরুদ্ধে যে আইন প্রয়োগ করা হয়েছিল, সেই আইনই এখন বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছে। সুতরাং আজ আমার রায়ের মাধ্যমে শুধু আমি নয়, জামায়াত ইসলামীও মিথ্যা অপবাদ থেকে মুক্তি পেয়েছে।”

তিনি আরও দাবি করেন, “৫ আগস্ট আমাদের কারাগারে রেখে যে পরিবর্তন এসেছে, তা সরাসরি আল্লাহর কুদরত। আমরা কল্পনাও করিনি শেখ হাসিনা পালিয়ে যাবে।”

দীর্ঘ ১৭ বছর পর রংপুরে জামায়াতের এ জনসভা বিকেল ৩টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও জুমার নামাজের পর থেকেই শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতা। রংপুর মহানগর ও জেলা জামায়াত আয়োজিত এ জনসভায় দলের হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতিতে জিলা স্কুল মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। অতিরিক্ত জনসমাগম মাঠ ছাড়িয়ে সড়কেও ছড়িয়ে পড়ে।

এ জনসভা থেকেই রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।