মঙ্গলবার থেকে, তাপমাত্রা নামতে পারে ৪ ডিগ্রিতে

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ:পৌষের হাড় কাঁপানো শীতে কাঁপছে জনজীবন। কুয়াশায় আচ্ছন্ন দেশে কোথাও সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। শীতল হয়ে আছে মাটি। উত্তরের হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত জনজীবন। গত তিন দিন ধরেই চলছে শৈত্যপ্রবাহ। গতকালও সাতটি জেলায় শৈত্যপ্রবাহ ঘিরে নেয়। বৈরী আবহাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষ। এর মাঝেই শীত নিয়ে আবারও দুঃসংবাদ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আগামী ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও ৬ জানুয়ারি সকাল থেকে দেশে শীতের তীব্রতা বাড়তে পারে এবং কোথাও কোথাও তীব্র শৈত্যপ্রবাহও দেখা দিতে পারে।

বিশেষ করে আজ শনিবার রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের জেলাগুলোর ওপরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যাওয়ার আশঙ্কা করা যাচ্ছে। জানুয়ারি মাসে দেশের তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নামতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলতি মৌসুমে মোট পাঁচটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে দুই-তিনটি শৈত্যপ্রবাহ হবে মৃদু থেকে মাঝারি তাপমাত্রার (৮-১০ ডিগ্রি থেকে ৬-৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) এবং এক-দুইটি শৈত্য প্রবাহ হবে মাঝারি থেকে তীব্র (৬-৮ ডিগ্রি থেকে ৪-৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস)। যশোরে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার যশোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃহস্পতিবারও যশোরে দেশের সর্বনিম্ন ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। সব মিলিয়ে এই মৌসুমে চার দিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা এই জেলায় রেকর্ড করা হয়েছে। এদিকে টানা এই শীতের দাপটে শহর-গ্রামে জীবন যাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ছিন্নমূল ও প্রান্তিক মানুষ দুর্বিষহ অবস্থায় জীবন যাপন করছেন। ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে পথঘাট, যার প্রভাব পড়ছে বিমান থেকে শুরু করে সড়ক ও নৌ-যোগাযোগেও। গতকাল সকালে ঘন কুয়াশার কারণে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৯টি ফ্লাইট ডাইভার্ট করা হয়েছে। ঢাকার ৯ ফ্লাইট চলে যায় চট্টগ্রাম-কলকাতা-ব্যাংককে। সড়কে বহু যান বাহন দুর্ঘটনাকবলিত হয়।

 




শীতের তীব্রতা কমলে ও ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে রাজধানী

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ:রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকাগুলো ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে।  কুয়াশার  চাদর গায়ে মেখে সকাল হয়েছে আজ (২ জানুয়ারি) ,কুয়াশার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে সামান্য দূরত্বেও দৃশ্যমানতা অনেকটা কমে যায়।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যমতে, আজ সকালে ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা গতকালের তুলনায় সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার যেখানে ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আজ শুক্রবার তা কিছুটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।আবহাওয়ার প্রতিবেদনে এই পরিস্থিতির বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আজ সকাল ৭টার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে যে, সকাল ৬টায় রাজধানী ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ১৩.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ।

আবহাওয়া অফিস আরও জানিয়েছে যে, ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় দুপুর পর্যন্ত আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। তবে এই সময়ে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ার ফলে যান চলাচলেও কিছুটা ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ উত্তর অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার বেগে হিমেল বাতাস বয়ে যেতে পারে। তবে কুয়াশা থাকলেও আজ দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৫টা ২৩ মিনিটে এবং আগামীকাল শনিবার সূর্যোদয় হবে ভোর ৬টা ৪২ মিনিটে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের এই তথ্যাবলি থেকে বোঝা যাচ্ছে যে, কনকনে শীতের মাঝে কুয়াশার দাপট থাকলেও তাপমাত্রার পারদ সামান্য ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার আভাস রয়েছে।




রাজধানীতে আইনজীবীকে পিটিয়ে হত্যা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: আমাদের রাজধানী শহর ঢাকা ।

অথচ এখান কার আইনশৃংখলার অবস্থা  ঠিক এরকম –এখানে অবলীলায় একটা মানুষ কে মেরে ফেলা যায়,খুনি পালিয়ে যায় ,কেউ ধরা পরে না।

আর কতো লাশ পরবে ঢাকার বুকে?

নিত্য নতুন নাম যোগ হচ্ছে তালিকায় বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ভাটারা নামক জায়গায়  নাঈম কিবরিয়া (৩৫) নামক  এক আইনজীবীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

নিহত নাঈম পাবনা সদর উপজেলার চক জয়েনপুর গ্রামের গোলাম কিবরিয়ার ছেলে। পেশায় তিনি পাবনা জজ কোর্টের আইনজীবী ছিলেন।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) এ তথ্য নিশ্চিত করেন ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আরিফুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) রাত দশটার দিকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় প্রাইভেট কার চালাচ্ছিলেন নাঈম কিবরিয়া। সেখানে অজ্ঞাতনামা মোটরসাইকেল সঙ্গে  তার গাড়ির ধাক্কা লাগায় মোটরসাইকেলের চালকসহ অজ্ঞাতনামা যুবকেরা নাঈমকে প্রাইভেট কার থেকে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে উপর্যুপরি মারপিট করে রাস্তায় ফেলে রেখে যান।

খবর পেয়ে সেখান থেকে তার খালাতো ভাই রফিকুল ইসলাম তাকে উদ্ধার করে রাত ১১টার দিকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

এসআই আরও বলেন, ‘খবর পেয়ে দিবাগত রাত সাড়ে বারোটার দিকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠিয়েছেন।’

নিহতের খালাতো ভাই রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নাঈম কিবরিয়া পাবনা জজ কোর্টের আইনজীবী ১০ দিন আগে পূর্বাচল আমার বাসায় আসে ,তিনি আরও বলেন, ‘গতকাল তার এক বন্ধুর প্রাইভেট কার নিয়ে সে বের হয়েছিল। রাতে তার নাম্বারে ফোন করলে ওই এলাকার সিকিউরিটি গার্ডের মাধ্যমে খবর পাই, তাকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় মারপিট করে ফেলে রেখে গিয়েছে। পরে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে দিবাগত রাতে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

 




নতুন বছরের প্রথম সূর্যোদয় হোক আলোর পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : আজকের সূর্যোদয় নিয়ে এসেছে নতুন বারতা, নতুন স্বপ্ন এবং নতুন চ্যালেঞ্জ।

২০২৫ সালের যত না পাওয়া, যত ভুল, হতাশা, দুঃখ, গ্লানি মুছে দিয়ে শুরু হয়েছে নতুন যাত্রা। ২০২৬ সালের এই প্রথম সূর্যোদয়ে আছে অন্ধকার কেটে আলোর পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়। একটি গণতান্ত্রিক দেশ গড়ার আশা এবং শক্তিশালী অর্থনৈতিক উন্নয়নের আকাঙ্ক্ষা।

সকালে খ্রিষ্টীয় নতুন বছরের সূর্যোদয় হলেও বুধবার রাত ১২টায় ঘড়ির কাঁটা শূন্যের ঘর অতিক্রমের সঙ্গে সঙ্গেই গণনা শুরু হয়েছে নতুন বছরের। নতুন বছর মানেই নতুন প্রত্যাশা। উদ্যম আর সাহস নিয়ে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আবারও পথচলা শুরুর দৃঢ় প্রত্যয়। খ্রিষ্টীয় নতুন বছর-২০২৬ উপলক্ষ্যে দেশবাসী এবং প্রবাসী বাঙালিসহ বিশ্ববাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

 

নতুন বছর উপলক্ষ্যে দেওয়া প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নববর্ষ মানেই নতুন স্বপ্ন, নতুন আশা ও নতুন সম্ভাবনার সূচনা। নতুনের এ আগমনী বার্তা আমাদের উদ্বেলিত করে। সব গ্লানি ভুলে সুন্দর আগামীর পথচলার জন্য জোগায় নবোদ্যম ও অনুপ্রেরণা। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে নতুন বছর আমাদের জাতীয় জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ত্রুটিপূর্ণ রাষ্ট্রব্যবস্থাকে মেরামত করে গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে যে যাত্রা আমরা শুরু করেছি, নতুন বছরে একটি জাতীয় নির্বাচন ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের ওপর গণভোট আয়োজনের মধ্য দিয়ে তা পূর্ণতা পাবে বলে আমরা আশা করছি। নতুন বছরে সব চ্যালেঞ্জ একসঙ্গে মোকাবিলা করে একটি সাম্য ও ন্যায়ভিত্তিক বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলব।

তারেক রহমান তার বাণীতে বলেছেন, ইংরেজি নববর্ষ উপলক্ষ্যে আমি কামনা করি দেশ-বিদেশের সবার অনাবিল আনন্দ, শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি। নতুন বছরে আমরা নতুন করে স্বপ্ন দেখি একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে। আমরা এমন একটি জাতি নির্মাণের প্রত্যাশা করছি, যেখানে প্রত্যেকটি নাগরিকই গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রত্যেকের কণ্ঠ স্বাধীন থাকবে।

পৃথক বাণী দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শুভেচ্ছা বার্তায় গোলাম পরওয়ার বলেছেন, পুরোনো বছরের সব দুঃখ-কষ্ট ও হতাশা পেছনে ফেলে নতুন বছর আমাদের জীবনে শান্তি, ন্যায়বিচার, মানবিকতা ও কল্যাণ বয়ে আনুক-এটাই আমাদের কামনা। একটি বছর আমাদের জীবনের নানা অভিজ্ঞতা, সাফল্য ও ব্যর্থতার স্মৃতি বহন করে। নতুন বছর সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তনের সুযোগ সৃষ্টি করে। এদিকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, কূটনীতিসহ নানা কারণে ২০২৬ সালটি গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতিসহ সব ক্ষেত্রে দেশ আরও এগিয়ে যাবে-এমন প্রত্যাশা সবার। গত বছর যে আশা নিয়ে পথচলা শুরু হয়েছিল তার অনেকখানি হয়তো পূরণ হয়নি। কিন্তু তাতে কি, নতুন উদ্যম নিয়ে এগিয়ে গেলে সাফল্য আসবেই। আজকের দিনে দেশবাসীর এ প্রত্যয়। ২০২৪-এ গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের একচ্ছত্র শাসন ব্যবস্থার বিলুপ্তির মধ্য দিয়ে দেশকে পুনরায় গঠনের এক মহান সুযোগ এসেছিল জাতির জন্য। মানুষের কথা বলার অধিকার ফিরে এসেছে।

ভোটের অধিকার নিশ্চিত হওয়ার মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ নতুন এক সুশাসনের অপেক্ষা করছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যেই জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। সে মোতাবেক ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনকে নিখুঁত করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দেশের সাধারণ মানুষ সব মিলিয়ে এক সুদিনের অপেক্ষায় আছে। যেখানে বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি দুর্নীতি কমবে, মানুষের সব অধিকার সংরক্ষিত হবে। সর্বোপরি মানুষের উন্নতি হবে, দেশ এগিয়ে যাবে।

দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক সরকারের মাধ্যমে দেশ পরিচালনার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করছে। এক্ষেত্রে সাধারণ মানুষও চান ভোটের অধিকার ফিরে আসুক। সব দলের অংশগ্রহণে অবাধ, সুষ্ঠু ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। যার মধ্য দিয়ে অতীতের সব ভুলভ্রান্তি মুছে দিয়ে নতুনভাবে এগিয়ে চলবে বাংলাদেশ। ২০২৫ সালটি দেশের অর্থনীতি নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে গেছে। ব্যাংক খাতে ছিল নানা সংকট। দেশের মানুষের প্রত্যাশা ২০২৬ সাল অর্থনৈতিক খাতের সব সূচক লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করবে। স্থায়ীভাবে ফিরে আসবে সব শ্রেণির মানুষের সচ্ছলতা। উন্নতি হবে জীবনমানের। মূল্যস্ফীতির হার সহনীয় মাত্রায় নেমে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের দাম হাতের নাগালে আসবে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের আরেকটি বড় নিয়ামক বিনিয়োগ। দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ। যার সঙ্গে অর্থনীতির চাকা আরও সচল হওয়ার পাশাপাশি নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয় জড়িত। ২০২৬ সালে বিনিয়োগ বেড়ে নতুন নতুন আরও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে-এমন আশাবাদ দেশের মানুষের।

২০২৬ সালে প্রতিবেশী ভারতসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও বৃদ্ধি এবং প্রবাসীদের আয় বাড়ানো, আরও রেমিট্যান্স আনার বিষয়ে নানা উদ্যোগ প্রত্যাশা করে মানুষ। রাজনৈতিক হানাহানি, সংঘাত, লড়াই, সহিংসতা চান কেউই। সবার প্রত্যাশা-স্থিতিশীল রাজনৈতিক, সামাজিক অবস্থার মধ্য দিয়ে দেশের মানুষের অর্থনৈতিক অগ্রগতি আরও সুদৃঢ় এবং ত্বরান্বিত হবে। সে সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য, আবাসনসহ মৌলিক চাহিদা পূরণের নানা জায়গায় দেশে আজও অরাজকতা বিরাজমান। দেশবাসী চান এসব অরাজকতা বন্ধ হয়ে প্রকৃতপক্ষেই দেশে শান্তি, স্বস্তি ফিরবে।

 




বছরের শুরুতে নতুন বই পাচ্ছে না মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীরা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :  বছরের প্রথম দিন শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়ার প্রচলন দীর্ঘদিনের।

তবে আজ বৃহস্পতিবার নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হলেও মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের হাতে শতভাগ বই তুলে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

মাধ্যমিকে এ পর্যন্ত ৭০ শতাংশ বইয়ের কাজ শেষ হয়েছে। ছয় কোটি বইয়ের কাজ এখনো বাকি।

তবে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ির সব বই পৌঁছে গেছে। তাদের সবাই বছরের প্রথম দিনই বই পাবে।

২০২৫ শিক্ষাবর্ষেও বছরের প্রথম দিন সব নতুন বই দেওয়ার রীতিতে ছেদ পড়ে। সব শিক্ষার্থীর বই পেতে মার্চ মাস পর্যন্ত সময় লেগে যায়।

তবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার আজ রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন আবুল বাশার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও নালন্দা ছায়ানট স্কুলে বই বিতরণ কার্যক্রম পরিদর্শন করবেন।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্র জানায়, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিকে প্রায় ৯ কোটি এবং মাধ্যমিক ও ইবতেদায়িতে প্রায় ২১ কোটি বই ছাপা হচ্ছে। এরই মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক ও ইবতেদায়ির শতভাগ বই ছাপা শেষ হয়েছে এবং স্কুলগুলোতে তা পৌঁছে গেছে। তবে মাধ্যমিকে এখন পর্যন্ত ৭০ শতাংশ বইয়ের কাজ শেষ হয়েছে। ফলে এখনো ছয় কোটি বইয়ের কাজ বাকি।

এনসিটিবির কর্মকর্তারা বলেছেন, এ বছর বইয়ের মানের ক্ষেত্রে আমরা সর্বোচ্চ নজর দিয়েছি। ফলে অনেক বই ছাপা হওয়ার পরও সেগুলো কেটে দেওয়া হয়েছে। আবার অনেক প্রেসকে আমরা নতুন করে ভালো মানের কাগজ কিনতে বাধ্য করেছি। শতভাগ মান নিয়ন্ত্রণ সম্ভব না হলেও অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার ভালো মানের বই পাবে শিক্ষার্থীরা। মান যাচাইয়ে কঠোর হওয়ার কারণেও বই ছাপার কাজ শেষ হতে কিছুটা সময় বেশি লাগছে। নয়তো এত দিনে আরো বইয়ের কাজ শেষ হয়ে যেত।

সূত্র জানায়, মাধ্যমিকের ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বইয়ের পুনঃদরপত্র আহবান করা হয়। ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য পুনঃদরপত্র আহবান করা হয় ২ সেপ্টেম্বর, সপ্তম শ্রেণির জন্য ৩ সেপ্টেম্বর এবং অষ্টম শ্রেণির জন্য পুনঃদরপত্র আহবান করা হয় ৪ সেপ্টেম্বর। সব প্রক্রিয়া শেষে কার্যাদেশ পাওয়া প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এনসিটিবির চুক্তিপত্রের শেষ সময় ছিল ৪ ডিসেম্বর। তবে মানসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান এর আগেই চুক্তিপত্র শেষ করে। ফলে তারা এরই মধ্যে তাদের শতভাগ বই সরবরাহ করেছে। তবে সক্ষমতার অতিরিক্ত কাজ নেওয়া কিছু প্রতিষ্ঠান একেবারে শেষ সময়ে চুক্তি করে। তারা এখনো তাদের সব বইয়ের কাজ শেষ করতে পারেনি।




খালেদা জিয়াকে শেষ বিদায় জানাতে সারাদেশ থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে বিএনপির নেতাকর্মীর ঢল

চন্দ্রদ্বীপ ‍নিউজ : সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে শেষ বিদায় জানাতে  ও তার জানাজায় অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকার আসছেন বিএনপির শোকার্ত  নেতাকর্মীরা।

অনেক নেতাকর্মী মঙ্গলবার (৩০ডিসেম্বর) দুপুরের পর থেকেই রওনা দিতে শুরু করেন ।শেষবারের মতো খালেদা জিয়াকে একনজর দেখার আশায় নেতাকর্মীরা যে যার মতো গণপরিবহন, ট্রেন, লঞ্চ ও ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছেন।

জানা গেছে, খালেদা জিয়ার মৃত্যুর সংবাদ পাওয়ার পর থেকেই নেতাকর্মীরা ঢাকায় আসতে শুরু করেন।ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো থেকে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সকালে নেতাকর্মীরা মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের পথে রওনা দেবেন বলে জানা গেছে। সরজমিনে দেখা গেছে, খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবরে সবার মুখে মলিনতার ছাপ। তাছাড়া, দলীয় কার্যালয়গুলোতে শোক আর শূন্যতা বিরাজ করছে। কার্যালয়গুলোতে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

আজ বুধবার দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবন মাঠ ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব জানাজার নামাজ পড়াবেন। এরপর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হবে।




রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সংসদ ভবনে নেওয়া হবে বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে জাতীয় সংসদ ভবনে নেওয়া হবে। এ উপলক্ষে যাত্রাপথজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজা জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে। এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে মরদেহ সংসদ ভবনে নেওয়ার পর জানাজা ও দাফনসহ সব আনুষ্ঠানিকতা রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন করা হবে।

প্রেস সচিব আরও জানান, জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে সর্বোচ্চ মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রায় ১০ হাজার সদস্য মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন। বিএনপিকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রশাসনিক সহযোগিতা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, জানাজা অনুষ্ঠান বেসরকারি গণমাধ্যমগুলো সরাসরি সম্প্রচার করতে পারবে। তবে দাফন কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচারের দায়িত্ব থাকবে কেবল বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) ওপর।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর মৃত্যুতে দেশজুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বেগম খালেদা জিয়া ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী সরকারপ্রধান হিসেবে ইতিহাসে বিশেষ স্থান অধিকার করে আছেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জাতি হারাল এক মহান অভিভাবক: প্রধান উপদেষ্টা

দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির শীর্ষ নেত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জাতি এক মহান অভিভাবককে হারিয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টায় দেওয়া ভাষণের শুরুতে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে সমগ্র জাতি গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত। দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির এই অগ্রগণ্য নেত্রী আর আমাদের মাঝে নেই—এটি জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।

ভাষণে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক পরম মহিমান্বিত ব্যক্তিত্ব। গণতন্ত্র, বহুদলীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তাঁর ভূমিকা ইতিহাসে অম্লান হয়ে থাকবে। স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তাঁর আপসহীন নেতৃত্ব বারবার জাতিকে গণতন্ত্রহীন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ দেখিয়েছে এবং মুক্তির প্রেরণা জুগিয়েছে।

এই শোকাবহ সময়ে মরহুমার পরিবার-পরিজন, রাজনৈতিক সহকর্মী এবং অগণিত কর্মী-সমর্থকের প্রতি সমগ্র জাতির পক্ষ থেকে আন্তরিক সমবেদনা জানান প্রধান উপদেষ্টা। একই সঙ্গে তিনি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন, যেন সবাই এই শোক কাটিয়ে ওঠার শক্তি ও ধৈর্য লাভ করেন।

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, দেশ ও জাতির প্রতি খালেদা জিয়ার অবদান চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হবে। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, গণমুখী নেতৃত্ব এবং স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অবিচল অবস্থান অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে। এমন একজন দূরদর্শী ও নিখাদ দেশপ্রেমিক নেত্রীর শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।

দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই কঠিন সময়ে সবাই যেন ঐক্যবদ্ধ থাকে এবং মহান আল্লাহর দরবারে বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে। একই সঙ্গে শোকের সুযোগ নিয়ে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা বা নাশকতার অপচেষ্টা যেন না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার অনুরোধ জানান তিনি।

ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেন। পাশাপাশি তাঁর নামাজে জানাজার দিন বুধবার এক দিনের সাধারণ ছুটিও ঘোষণা করা হয়। জানাজাসহ সব শোকানুষ্ঠান শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে পালনের জন্য দেশবাসীর প্রতি বিনীত আহ্বান জানান তিনি।

শেষে প্রধান উপদেষ্টা মহান আল্লাহর কাছে দেশবাসীর জন্য ধৈর্য, শক্তি ও ঐক্য কামনা করেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় খালেদা জিয়ার ভূমিকা অনস্বীকার্য: শেখ হাসিনা

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়ার অবদান ছিল অপরিসীম।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে পাঠানো এক শোকবার্তায় এসব কথা বলা হয়। নিষিদ্ধ রাজনৈতিক কার্যক্রমের প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ওই বার্তায় শেখ হাসিনা বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর দুঃখ ও শোক প্রকাশ করেন।

শোকবার্তায় শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তাঁর অবদান ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও জাতীয় জীবনে খালেদা জিয়ার ভূমিকা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তাঁর মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এবং বিএনপির নেতৃত্বে এক বড় শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে।

শেখ হাসিনা মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বলেন, আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন বেগম খালেদা জিয়াকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন।

এছাড়া শোকবার্তায় তিনি খালেদা জিয়ার পরিবার-পরিজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। বিশেষ করে তাঁর ছেলে তারেক রহমান ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের এই কঠিন সময়ে ধৈর্য ধারণের শক্তি দান করার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করেন।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর মঙ্গলবার ভোর ৬টায় ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




খালেদা জিয়া ছিলেন দেশের রাজনীতির এক মহিমান্বিত ব্যক্তিত্ব: প্রধান উপদেষ্টা

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, খালেদা জিয়া ছিলেন দেশের রাজনীতিতে এক পরম মহিমান্বিত ব্যক্তিত্ব, যিনি গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক শোকবার্তায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে তিনি গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত। এই দুঃখজনক সময়ে তিনি মরহুমার পরিবার, রাজনৈতিক সহকর্মী এবং অসংখ্য কর্মী-সমর্থকের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।

শোকবার্তায় উল্লেখ করা হয়, বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির এক অনন্য ও শক্তিশালী নেতৃত্বের প্রতীক ছিলেন। বহুদলীয় গণতন্ত্র, রাজনৈতিক সহনশীলতা এবং জনগণের অধিকার রক্ষার আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তাঁর আপসহীন অবস্থান বারবার জাতিকে গণতন্ত্রের পথে ফেরার প্রেরণা জুগিয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, দেশ ও জাতির প্রতি বেগম খালেদা জিয়ার অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হবে। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, গণমুখী নেতৃত্ব এবং স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অবিচল অবস্থান ছিল অনন্য। এমন একজন দূরদর্শী ও দেশপ্রেমিক নেত্রীর শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।

তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই শোকাবহ সময়ে সবাই যেন মহান আল্লাহর দরবারে বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং ধৈর্য ও সংযমের পরিচয় দেন। একই সঙ্গে শোকের সুযোগে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা রুখে দিতে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

শোকবার্তায় আরও জানানো হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হবে। পাশাপাশি তাঁর জানাজার নামাজের দিনে এক দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। জানাজাসহ সব শোকানুষ্ঠান শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে পালনের জন্য দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।

শেষে প্রধান উপদেষ্টা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন, যেন তিনি জাতিকে এই গভীর শোক কাটিয়ে ওঠার শক্তি, ধৈর্য ও ঐক্য দান করেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫