“রাজনীতিকে আমরা কঠিন করে তুলব এবং জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসবো” — হুঁশিয়ারি হাসনাত আবদুল্লাহর

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, “আমরা রাজনীতির নিয়মই শুধু পাল্টাবো না, রাজনীতির খেলাও পাল্টে দেব। রাজনীতি রাজনীতিবিদদের জন্য কঠিন করে দেব, এবং সবাইকে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য করব।”

বৃহস্পতিবার বিকেলে নড়াইল শহরের পুরাতন বাস টার্মিনালে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত পথসভায় এসব কথা বলেন তিনি।

নির্বাচন কমিশন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে হাসনাত বলেন, “যারা গলফ খেলিয়ে, হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করতে চান, তারা ফাউল করছেন। তারা শিগগিরই ‘রেডকার্ড’ দেখে মাঠ ছাড়বেন।” তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে হুদা ও রকিব কমিশন রাতের আঁধারে ভোট ‘কেটে নিয়েছে’, এমনকি মৃত ব্যক্তিকেও ভোট দিতে দেখা গেছে বলে মন্তব্য করেন।

শাপলা প্রতীক না দেওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে এনসিপির এই নেতা বলেন, “আমাদের নির্বাচন কমিশন এখন মিটিংয়ের আগেই ফলাফল জানিয়ে দেয়। গতকালই তারা বলে দিয়েছে আমাদের শাপলা মার্কা দেওয়া হবে না, অথচ মিটিং হয়েছে আজ। এর চেয়ে বড় প্রহসন আর কী হতে পারে?”

হাসনাত আরও বলেন, “আমাদের কাছে খবর আছে—কোন নির্বাচন কমিশনার কোথায় হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন, ক্যান্টনমেন্টে কারা গিয়েছেন, কে গলফ খেলেছেন। রিমোট কন্ট্রোল কোথায় আছে, তাও আমরা জানি।”

তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে এরশাদ ও জিএম কাদেরের মতো অনেক রাজনীতিক নির্বাচনের আগে ক্যান্টনমেন্ট বা বিদেশে গিয়ে ‘পরামর্শ নিয়ে’ সিদ্ধান্ত নিতেন—সরকারে থাকবেন না বিরোধী দলে।

পথসভায় আরও বক্তব্য রাখেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ অন্যান্য নেতারা। বক্তারা নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও জনগণের অধিকার আদায়ে চলমান আন্দোলন অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।




ঝালকাঠির এনএস কামিল মাদরাসা দাখিল পরীক্ষায় দেশসেরা

দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে দেশের শীর্ষস্থান অধিকার করেছে ঝালকাঠির এনএস কামিল মাদরাসা। প্রতিষ্ঠানটি থেকে এবছর ৪২৭ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে, যার মধ্যে ২২৭ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে এবং মাত্র একজন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে।

মাদরাসাটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা গাজী শহিদুল ইসলাম জানান, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ হযরত আযীযুর রহমান কায়েদ প্রতিষ্ঠিত এই মাদরাসায় এবার পাসের হার ৯৯.৭৭ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হার প্রায় ৫৪ শতাংশ। ফলাফলের দিক থেকে ঢাকার দারুন্নাজাত আলিয়া মাদরাসায় পাসের হার ছিল ৯৬ শতাংশ এবং তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসায় ৯৭ শতাংশ। গড় ফলাফলে এনএস কামিল মাদরাসা সবার শীর্ষে উঠে এসেছে।

অন্যদিকে, এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলেও জেলার বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখা গেছে।

  • ঝালকাঠি সরকারি হরচন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২২২ জন অংশগ্রহণ করে ২১২ জন উত্তীর্ণ হয়, যার মধ্যে ৫৪ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।
  • সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২১৫ জনের মধ্যে ২১২ জন পাস করে, তাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৮ জন।
  • ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসা থেকে ৩৮ জন অংশগ্রহণকারীর মধ্যে ৩২ জন পাস করে এবং ২ জন জিপিএ-৫ পায়।
  • কুতুবনগর আলিম মাদরাসা থেকে ৩৮ জনের মধ্যে পাস করেছে ৩৪ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন।
  • উদ্বোধন মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ১২৪ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে উত্তীর্ণ হয় ৮১ জন, তবে কেউ জিপিএ-৫ পায়নি।

ঝালকাঠি জেলা শিক্ষা অফিসের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসার বলেন, “জেলার সম্পূর্ণ ফলাফল এখনো আমার হাতে পৌঁছায়নি। আমি ব্যক্তিগতভাবে ফলাফলে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নই। আজকেও একটি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছি। সকল প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা এই পরিস্থিতির উন্নয়নে কাজ করছি।”

উল্লেখযোগ্য ফলাফল ও উদ্যোগে ঝালকাঠি জেলার শিক্ষা অগ্রগতির ইতিবাচক বার্তা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে।




এসএসসি ফল: পাসের হারে শীর্ষে রাজশাহী, সবচেয়ে কম বরিশাল

২০২৫ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় প্রকাশিত হয়েছে। এবারের ফলাফলে পাসের হার সামগ্রিকভাবে কমে দাঁড়িয়েছে ৬৮.৪৫ শতাংশে, যা ২০২৪ সালের ৮৩.০৪ শতাংশের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

পাসের হার বিবেচনায় শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড, যেখানে ৭৭.৬৩ শতাংশ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। অন্যদিকে সবচেয়ে কম পাসের হার পাওয়া গেছে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে, যা মাত্র ৫৬.৩৮ শতাংশ।

পাশাপাশি অন্যান্য বোর্ডের পাসের হার ছিল:

  • যশোর: ৭৩.৬৯%
  • চট্টগ্রাম: ৭২.০৭%
  • সিলেট: ৬৮.৫৭%
  • ঢাকা: ৬৭.৫১%
  • দিনাজপুর: ৬৭.০৩%
  • কুমিল্লা: ৬৩.৬০%
  • ময়মনসিংহ: ৫৮.২২%

এসএসসি ও সমমানের এই পরীক্ষায় নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১৯ লাখ ২৮ হাজার ৯৭০ জন। পরীক্ষা শুরু হয় ১০ এপ্রিল থেকে ১৩ মে পর্যন্ত চলে।

পর্যালোচকরা বলছেন, ফলাফলের এই পতন বিভিন্ন কারণে হতে পারে, যার মধ্যে শিক্ষাব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ, কোভিড পরবর্তী শিক্ষার প্রভাব এবং শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির ঘাটতি অন্যতম। তবে শিক্ষাবোর্ডগুলো ফল উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের চেষ্টা করছে।

এসএসসি ফলাফল নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষাবিদদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষজ্ঞরা ফলাফল বিশ্লেষণ করে শিক্ষাব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন।

এম এম এ / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




জুলাই গণহত্যা: শেখ হাসিনাসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরু করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার কার্যক্রম শুরুর আদেশ দেন।

এই মামলায় কারাগারে থাকা আসামি সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন নিজের দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হিসেবে আদালতে উপস্থিত হন। অপর দুই আসামি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল পলাতক থাকায় রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন তাদের পক্ষে অব্যাহতির আবেদন করেন। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি উপস্থাপন করেন।

গত ১ জুলাই এ মামলার শুনানি সম্পন্ন হয় এবং ৭ জুলাই আদেশ ঘোষণার জন্য ১০ জুলাই তারিখ ধার্য করা হয়। আদেশে ট্রাইব্যুনাল জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ যথেষ্ট সুস্পষ্ট ও প্রমাণযোগ্য হওয়ায় আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে চলমান গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত সহিংসতায় বহু নাগরিক হতাহত হন। অভিযোগ রয়েছে, রাষ্ট্রীয় বাহিনী দ্বারা পরিকল্পিত ও নির্মম দমন-পীড়নের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ওপর হত্যাকাণ্ড চালানো হয়, যা আন্তর্জাতিক আইনে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য।

এই মামলাকে ঘিরে দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ গঠন বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এম এম এ / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫

 




এসএসসিতে ১৩৪ প্রতিষ্ঠান থেকে কেউই পাস করেনি

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১৩৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি—যা শিক্ষাব্যবস্থার জন্য এক বড় অশনিসঙ্কেত। গত বছর শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৫১টি। এ বছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৪টিতে, অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ৮৩টি প্রতিষ্ঠান যুক্ত হয়েছে এই তালিকায়।

বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ, মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ড একযোগে এসএসসি ও সমমানের ফলাফল প্রকাশ করে।

এ বছর ৩ হাজার ৭১৪টি কেন্দ্রে মোট ৩০ হাজার ৮৮টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে শতভাগ পাস করেছে মাত্র ৯৮৪টি প্রতিষ্ঠান। যেখানে গত বছর শতভাগ পাসের কৃতিত্ব দেখিয়েছিল ২ হাজার ৯৬৮টি প্রতিষ্ঠান। এই হিসাবেও দেখা যাচ্ছে, শতভাগ সফলতার হারেও বড় ধস নেমেছে।

বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খন্দোকার এহসানুল কবির বলেন, “বাস্তব মূল্যায়নের ভিত্তিতে ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এজন্য ফলাফলে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়েছে।”

এ বছর নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৯ লাখ ২৮ হাজার ৯৭০ জন, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় এক লাখ কম। পরীক্ষা শুরু হয় ১০ এপ্রিল এবং শেষ হয় ১৩ মে।

শিক্ষাবিদরা বলছেন, ফলাফলে এমন নেতিবাচক চিত্র শিক্ষার মান, প্রস্তুতি, শিক্ষক স্বল্পতা এবং অবকাঠামোগত দুর্বলতার প্রতিফলন। তাই এসব শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পর্যালোচনা ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহলে।

এম এম এ / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




এসএসসি পরীক্ষায় মেয়েদের দাপট, ছেলেদের ছাড়িয়ে এগিয়ে জয়জয়কার

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় আবারও ছেলেদের ছাড়িয়ে গেছে মেয়েরা। পাসের হার থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জনের দিক—সবক্ষেত্রেই ছাত্রীদের আধিপত্য স্পষ্ট। শিক্ষা ব্যবস্থায় নারীর অংশগ্রহণ ও অগ্রগতির আরেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত গড়েছে এই সাফল্য।

বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, ছাত্রীদের পাসের হার ৭১.০৩ শতাংশ, যেখানে ছাত্রদের পাসের হার ৬৫.৮৮ শতাংশ। ফলে পাসের হারে ছাত্রীদের অগ্রগতি প্রায় ৬ শতাংশ।

জিপিএ–৫ অর্জনের ক্ষেত্রেও মেয়েরা ছেলেদের তুলনায় এগিয়ে। এবার জিপিএ–৫ পেয়েছে ৭৩ হাজার ৬১৬ জন ছাত্রী, যেখানে ছেলেদের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ জিপিএ–৫ পেয়েছে ৬৫ হাজার ৪১৬ জন। অর্থাৎ, ছাত্রীদের সংখ্যা ছেলেদের চেয়ে ৮ হাজার ২০০ জন বেশি।

এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৯ লাখ ৪ হাজার ৮৬ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্রী ছিল ৯ লাখ ৫২ হাজার ৩৮৯ জন এবং ছাত্র ছিল ৯ লাখ ৫১ হাজার ৬৯৭ জন। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে ৬ লাখ ৭৬ হাজার ৪৪৫ জন ছাত্রী এবং ৬ লাখ ২৬ হাজার ৯৮১ জন ছাত্র।

গত কয়েক বছর ধরেই বোর্ড পরীক্ষাগুলোতে মেয়েদের ধারাবাহিক সাফল্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শিক্ষাবিদদের মতে, পরিবার ও সমাজের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি, সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ এবং নারী শিক্ষায় বিশেষ মনোযোগ—এইসব কিছুর সম্মিলিত ফলেই মেয়েরা এ সফলতা অর্জন করছে।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত, শিক্ষায় মেয়েদের এই অগ্রগতি দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন, বিশেষ করে নারী ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




দাখিলে পাসের হার ৬৮.০৯%, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯,০৬৬ শিক্ষার্থী

চলতি বছরের দাখিল পরীক্ষায় (এসএসসি সমমান) পাশ করেছেন ৬৮ দশমিক ০৯ শতাংশ পরীক্ষার্থী। আর জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯ হাজার ৬৬ জন। বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) দুপুর ২টায় বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এই ফলাফল প্রকাশ করে।

এ বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ, যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। ২০২৪ সালে গড় পাসের হার ছিল ৮৩ দশমিক ০৪ শতাংশ।

এবারও মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে ভালো করেছে। ছাত্রীদের পাসের হার ৭১.০৩ শতাংশ এবং ছাত্রদের ৬৫.৮৮ শতাংশ। টানা ১০ বছর ধরে মেয়েরা ছেলেদের তুলনায় বেশি হারে পাস করছে।

জিপিএ-৫ এর চিত্র:

  • মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে: ১,৩৯,০৩২ জন
  • দাখিল বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে: ৯,০৬৬ জন
  • গত বছর (২০২৪) মোট জিপিএ-৫ ছিল: ১,৮২,১২৯ জন

এবার জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যাও গত বছরের তুলনায় অনেকটাই কমেছে। ফলে ফলাফলের এই নিম্নগামী প্রবণতা শিক্ষকদের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও ভাবিয়ে তুলেছে।

শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, দাখিল পরীক্ষায় ফলাফল আরও উন্নত করতে পাঠদানের মান উন্নয়ন, পর্যালোচনা ও নিরবচ্ছিন্ন প্রস্তুতির ওপর জোর দিতে হবে।

এস এম এ / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




বাংলাদেশ সফর স্থগিত, আগস্টে শ্রীলঙ্কা সফরে যেতে পারে ভারত

আগামী আগস্টে বাংলাদেশ সফরে আসার কথা ছিল ভারতীয় ক্রিকেট দলের। কিন্তু হঠাৎ করেই সফরটি ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পিছিয়ে দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। যদিও বাংলাদেশ সফর পিছিয়ে গেছে, তবুও আগস্ট মাসে খেলার বাইরে থাকতে চায় না রোহিত শর্মা-বিরাট কোহলিরা। এ জন্য বিকল্প হিসেবে শ্রীলঙ্কা সফরের আলোচনা চলছে বিসিসিআই ও শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি)-এর মধ্যে।

শ্রীলঙ্কার সংবাদমাধ্যম ‘নিউজওয়্যার’ জানিয়েছে, ভারতীয় দল তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি–টোয়েন্টি খেলতে আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে শ্রীলঙ্কা সফরে যেতে পারে। এই সময়েই লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ (এলপিএল) হওয়ার কথা থাকলেও সেটি স্থগিত হওয়ায় ভারত ও শ্রীলঙ্কা—উভয় দলেরই সূচি এখন ফাঁকা রয়েছে। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই স্বল্প পরিসরের দ্বিপক্ষীয় সিরিজ আয়োজনের আলোচনা চলছে।

এর আগে গত ৫ জুলাই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বাংলাদেশ সফর স্থগিত করে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে সিরিজটি আয়োজন করতে সম্মত হয়েছে দুই বোর্ড। তবে সফর স্থগিতের কোনো নির্দিষ্ট কারণ তখন জানানো হয়নি।

তবে বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার এই মুহূর্তে বাংলাদেশ সফরে যেতে দলের প্রতি সায় দেয়নি। কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়—ভারত-বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের বর্তমান শীতল অবস্থা এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের উদ্বেগ। দিল্লির ধারণা, এই সময়ে বাংলাদেশ সফর কোনো ইতিবাচক বার্তা দেবে না।

উল্লেখ্য, আগস্টেই ভারতের বাংলাদেশের বিপক্ষে তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি–টোয়েন্টি খেলার কথা ছিল। কিন্তু সেই সূচি পরিবর্তিত হওয়ায় শ্রীলঙ্কার সঙ্গে নতুন সিরিজ আয়োজন এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




ট্রাম্পের নতুন শুল্ক, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আয় ৩০ হাজার কোটি ডলারে উঠতে পারে

চলতি বছর এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ১০০ বিলিয়ন বা ১০ হাজার কোটি ডলার শুল্ক আয় করেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্কের কারণে ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ এই আয় ৩০০ বিলিয়ন বা ৩০ হাজার কোটি ডলারে উঠতে পারে।

হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বক্তব্য দিতে গিয়ে স্কট বেসেন্ট বলেন, ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতির কল্যাণে মূল আয় শুরু হয়েছে বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে। অর্থাৎ গত ২ এপ্রিল পাল্টা শুল্ক আরোপের পর ৯ এপ্রিল তা স্থগিত করে যখন ১০ শতাংশ অতিরিক্ত ন্যূনতম শুল্ক আরোপ করেন, তার পর থেকে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও গাড়িতেও শুল্ক আরোপ করেন তিনি।

স্কট বেসেন্ট বলেন, তাই ধারণা করা যায়, বছরের শেষে শুল্ক আয়ের পরিমাণ ৩০০ বিলিয়ন বা ৩০ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। দেশটির অর্থ বিভাগের একজন মুখপাত্র বলেন, এই ৩০ হাজার কোটি ডলারের লক্ষ্যমাত্রা ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়া পঞ্জিকা বছরের জন্য ধরা হয়েছে, সরকারের অর্থবছরের (যা শেষ হয় ৩০ সেপ্টেম্বর) জন্য নয়।

সংবাদে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালেই যদি ৩০০ বিলিয়ন বা ৩০ হাজার কোটি ডলারে উঠে যায়, তাহলে বোঝা যাবে আগামী দিনগুলোতে শুল্ক আদায়ের গতি অনেক বেড়ে যাবে। অর্থাৎ এখনকার তুলনায় শুল্ক আদায় অনেকটা বেড়ে যাবে।

বেসেন্ট আরও বলেন, কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের অনুমান, আগামী ১০ বছরে শুল্ক থেকে আয় হবে প্রায় ২ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন বা ২ লাখ ৮০ হাজার কোটি ডলার। কিন্তু তাঁর অনুমান, এই হিসাব বাস্তবতার তুলনায় অনেক কম, অর্থাৎ রক্ষণশীল হিসাব

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বিভাগ জানায়, মে মাসে রেকর্ড পরিমাণ শুল্ক আদায় হয়েছে। এই সময় মোট ২২ দশমিক ৮ বিলিয়ন বা ২ হাজার ২৮০ কোটি ডলার আয় হয়েছে। এই অঙ্ক আগের বছরের মে মাসের তুলনায় প্রায় চার গুণ। সেবার শুল্ক আদায় হয়েছিল ৬২০ কোটি ডলার।

২০২৫ অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসে মোট শুল্ক আদায় হয়েছে ৮৬ দশমিক ১ বিলিয়ন বা ৮ হাজার ৬১০ কোটি ডলার। আর ২০২৫ পঞ্জিকা বর্ষের প্রথম ৫ মাসে আদায় হয়েছে ৬৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন বা ৬ হাজার ৩৪০ কোটি ডলার।

আগামী শুক্রবার জুন মাসের বাজেট দেবে দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়। ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে শুল্ক আদায়ে বড় প্রবৃদ্ধির তথ্য উঠে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ৩০ জুন পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী, অর্থবছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত শুল্ক ও আবগারি শুল্ক মিলিয়ে মোট আদায় হয়েছে ১২২ বিলিয়ন বা ১২ হাজার ২০০ কোটি ডলার।

মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, তামার ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে—আবাসন, ইলেকট্রনিকস, যানবাহন, বিদ্যুৎব্যবস্থা ও সামরিক সরঞ্জামে এই ধাতু বহুল ব্যবহৃত। ট্রাম্প আরও জানান, সেমিকন্ডাক্টর ও ওষুধের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আসছে।




সাবেক মন্ত্রীদের বন্দিজীবন: পৃথক ওয়াশরুম চেয়েছেন সালমান, চুপচাপ আমু ও আনিসুল

কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশেই নির্মিত নতুন বিশেষ কেন্দ্রীয় কারাগার এখন পরিণত হয়েছে একঝাঁক ভিআইপি বন্দির আবাসে। সাবেক মন্ত্রী, এমপি, উপদেষ্টা, আমলা ও রাজনীতিকদের এই কারাগারে রাখা হচ্ছে ‘বিশেষ বন্দি’ মর্যাদায়। এদের বেশিরভাগই আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক উচ্চপর্যায়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তি, যাঁরা বর্তমানে মামলার কারণে কারাবন্দি।

জানা গেছে, কারাগারের পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে এসব ভিআইপি বন্দিদের মধ্যে কেউ কেউ সন্তুষ্ট হলেও, অনেকে আলাদা সুবিধার আবেদন করছেন। এর মধ্যে অন্যতম হলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। কারা সূত্র জানায়, তিনি ধর্মীয় বই পড়েই দিনের বড় সময় কাটান। নিয়মিত আদালতে যাওয়া লাগে তার। একান্ত জীবনধারা বজায় রাখতে তিনি কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পৃথক ওয়াশরুম, ওজুখানা এবং গোসলখানা চেয়েছেন। এমনকি নিজের রুমের জানালার জন্য নতুন পর্দাও চান তিনি। তবে কারাবিধির সীমাবদ্ধতার কারণে এসব দাবি মঞ্জুর হয়নি।

এই কারাগারে বন্দি আরও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন- আমির হোসেন আমু, আনিসুল হক, শাজাহান খান, কামরুল ইসলাম, শাহজাহান ওমর, জুনাইদ আহমেদ পলক, আতিকুল ইসলাম, ডা. এনামুর রহমান, ফরহাদ হোসেন, আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব, বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক প্রমুখ।

কারা সূত্রে জানা গেছে, ভিআইপি বন্দিরা প্রত্যেকে একটি করে চেয়ারে বসেন, টেবিলে পড়েন, বিছানায় শুয়ে থাকেন এবং পত্রিকা পড়েন। তবে বিশেষ এই কারাগারে টেলিভিশন নেই, যা অন্য কারাগারে সাধারণত থাকে। ফলে তারা টিভি দেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত।

প্রতিটি ওয়ার্ডে চারজন করে ভিআইপি বন্দি থাকলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে তারা বাইরে বের হতে পারেন না। হাঁটাচলার সুযোগ সীমিত। শাজাহান খান পুরো কম্পাউন্ডে হাঁটার আবেদন করলেও অনুমতি পাননি। তবে যে ভবনে তিনি থাকেন, সেখানকার ওয়াকওয়েতে তাকে হাঁটার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

আতিকুল ইসলাম ও জ্যাকব একই রুমে থাকেন। তারা ব্যায়াম ও হাঁটাহাঁটি করে সময় কাটান। পলক উপন্যাসপ্রিয়, তাই কিছু প্রিয় বই চেয়ে রেখেছেন। শরীরিক সমস্যায় ভুগছেন অনেকে—কামরুল ইসলাম দুর্বল, ডা. এনামুর বিশ্রামে, ফরহাদ হোসেন পছন্দ করেন বিদেশি বইয়ের অনুবাদ।

আইন বিষয়ে আগ্রহী ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর ও বিচারপতি মানিক; দু’জনেই বেশি সময় বই পড়ে কাটান। মানিক অসুস্থ থাকায় তার চিকিৎসাও চলছে। আমু একেবারেই চুপচাপ সময় কাটান। কারো সঙ্গেও তিনি বিশেষ যোগাযোগ করেন না।

কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে ৯৫ জন বন্দি এই বিশেষ কারাগারে আছেন। ধারণক্ষমতা ৩০০ হলেও ভিআইপি বন্দিদের নিরাপত্তা ও প্রয়োজন বিবেচনায় সংখ্যাটি নিয়ন্ত্রণে রাখা হচ্ছে। কারা সূত্র আরও জানায়, ভিআইপি বন্দিদের সেবায় সাধারণ বন্দিরাও নিয়োজিত আছেন।

কারা বিভাগের অতিরিক্ত আইজি (প্রিজন্স) জাহাঙ্গীর কবির জানান, “কারাবিধি অনুযায়ী যা যা সুবিধা পাওয়ার কথা, তা তাদের দেওয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত কিছু দাবি আপাতত মানা সম্ভব নয়।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম