ঢাবিতে জুলাই বিপ্লব দিবস পালিত: শেখ হাসিনার বিচারের দাবি, প্রতীকীভাবে ছবিতে আগুন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জুলাই বিপ্লব দিবস’ উপলক্ষে শেখ হাসিনার বিচারের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ করেছে বিপ্লবী ছাত্র পরিষদ। সোমবার (১৪ জুলাই) রাজু ভাস্কর্যের সামনে আয়োজিত সমাবেশে তারা শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ এনে তার ফাঁসির দাবি জানায়। সমাবেশ শেষে প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে তার একটি ছবিতে আগুন লাগিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।

“শেখ হাসিনার বিচার ও ফাঁসি চাই”—বিপ্লবী ছাত্র পরিষদ

বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের আহ্বায়ক আবদুল ওয়াহেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে বক্তারা দাবি করেন, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই শেখ হাসিনা ছাত্র আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকারের নাতিপুতি’ বলে অবমাননা করেন, যার মধ্য দিয়ে তাদের দমন-পীড়নের পথ তৈরি হয়। ওই ঘটনার প্রতিবাদেই ঐতিহাসিক ‘জুলাই বিপ্লব’ সূচিত হয়েছিল বলে দাবি করেন নেতারা।

আবদুল ওয়াহেদ বলেন, “১৯৪৭ সালের উপনিবেশ বিরোধী আন্দোলন ও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মতোই ২০২৪ সালের বৈষম্য ও ফ্যাসিবাদ বিরোধী এই নাগরিক আন্দোলন দেশের ইতিহাসে গুরুত্ব বহন করে।”

শেখ হাসিনাকে ফেরত এনে বিচার কার্যকর করার আহ্বান

বক্তারা অভিযোগ করেন, গণহত্যার এক বছর পরেও শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার কূটনৈতিক উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। ফজলুর রহমান বলেন, “মুজিববাদী সন্ত্রাসী আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিচারে সরকারের কোনো আন্তরিকতা নেই। বরং কিছু রাজনৈতিক দল আজ আবার শেখ হাসিনার মতোই শিক্ষার্থীদের গালি দিচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “ছাত্র-জনতা আর কাউকে শেখ হাসিনা হতে দেবে না।”

অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার ফাহাদ বলেন, “ফ্যাসিবাদের পতনের ১১ মাস ৯ দিন অতিবাহিত হলেও এখনও ফ্যাসিস্টদের বিচার হয়নি। আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা এখনো ঘুরে বেড়াচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকার তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।”

তিনি আরও বলেন, “শেখ হাসিনার বিচার না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে।”

উপস্থিত নেতৃবৃন্দ

সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের সদস্য সচিব ফজলুর রহমান, সহকারী সদস্য সচিব জিহাদী ইহসান, যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম নূর শাফায়েতুল্লাহ, সদস্য মো. ইব্রাহিমসহ বিভিন্ন শাখার নেতাকর্মীরা।

বক্তারা সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলেন, ছাত্র সমাজ কোনো আপস করবে না। দ্রুত বিচার না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।




নারায়ণগঞ্জে ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধন: মেঝেতে উপদেষ্টা, চেয়ারে শহীদ পরিবার—শ্রদ্ধার ব্যতিক্রমী নজির

নারায়ণগঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়েছে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে নির্মিত দেশের প্রথম ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ’-এর উদ্বোধন। তবে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল—মঞ্চে শহীদদের মা-বাবা ও স্বজনেরা বসেছিলেন চেয়ারে, আর মেঝেতে বসেছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পাঁচ উপদেষ্টা, রাজনৈতিক নেতা এবং প্রশাসনের কর্মকর্তারা। শহীদ পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের এই অনন্য উদ্যোগ অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবার মাঝে দাগ কেটে যায়।

সোমবার (১৪ জুলাই) বিকেলে নগরীর হাজীগঞ্জ এলাকায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ করতে নানা আয়োজনের পাশাপাশি ছিল বক্তব্যপর্ব। বক্তব্যে বিভিন্ন উপদেষ্টা ও বক্তারা শহীদদের আত্মত্যাগকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং বিচার নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বিচার হবে এই সরকারের আমলেই: আসিফ নজরুল

স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনের পর বক্তব্য রাখেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, “জুলাই আন্দোলনের গণহত্যার বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পূর্ণ গতিতে চলছে। এই সরকারের শাসনামলেই সেই বিচার সম্পন্ন হবে—এ বিষয়ে আমি দৃঢ়ভাবে আশাবাদী।”

শহীদ পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনাদের চোখের সামনে আপনাদের ভাইদের চোখ তুলে নেওয়া হয়েছে, অঙ্গহানি করা হয়েছে। এই নির্মম, জঘন্য গণহত্যার বিচার হবেই।”

ফ্যাসিবাদবিরোধী জাদুঘর করার উদ্যোগ: আদিলুর রহমান খান

শিল্প এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান জানান, দেশের বিভিন্ন জেলায় ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ’ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গণভবনকে একটি ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী জাদুঘর’ হিসেবে গড়ে তোলার কাজও এগিয়ে চলছে। তিনি বলেন, “৫ আগস্টের আগেই এটির উদ্বোধন করা হবে। এটা স্বৈরাচারের ঠিকানা ছিল—এখন আমরা সেটিকে ইতিহাসের সাক্ষী হিসেবে রূপান্তর করতে চাই।”

তিনি আরও জানান, শহীদদের কবরগুলো সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। “সংগ্রামের ধারা আমরা শেষ করতে পারব না, সেটা আপনাদের হাতে তুলে দিচ্ছি,”—বলেন তিনি।

“৫৬ জন শহীদের মধ্যে ২১ জন ছিলেন নারায়ণগঞ্জের”: রিজওয়ানা হাসান

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “আমাদের ছাত্র-জনতা এ দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করেছে। ৫৬ জন শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা এই অর্জন পেয়েছি, যার ২১ জনই ছিলেন নারায়ণগঞ্জের সন্তান।”

তিনি বলেন, “এই আত্মত্যাগ আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা। জুলাই যেন কখনো ভুলে না যাই।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শহীদ পরিবারের সদস্যরা, নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা, পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।




এদেশে ভারত-পাকিস্তানপন্থি নয় বাংলাদেশপন্থি রাজনীতি হতে হবে: নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশে ভারত কিংবা পাকিস্তানপন্থি কোনো রাজনীতি চলবে না। বাংলাদেশপন্থাই হবে একমাত্র রাজনীতির পথ। তিনি বলেন, “এক সময় পাকিস্তানপন্থিদের পুনর্বাসন করা হয়েছিল, এখন আবার মুজিববাদ ও চাঁদাবাজদের পুনর্বাসন চলছে। তবে বাংলাদেশে মুজিববাদ ও চাঁদাবাজদের রাজনীতি চলতে দেওয়া হবে না।”

সোমবার (১৪ জুলাই) বরগুনা সদর রোডে প্রেসক্লাব-সংলগ্ন এলাকায় ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এক পথসভায় এসব কথা বলেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরাই সেই তরুণ যারা জুলাই আন্দোলনে অংশ নিয়ে শেখ হাসিনাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করেছিলাম। বিগত ১৬ বছর ধরে দেশে এক ফ্যাসিস্ট সরকার ক্ষমতায় ছিল, যারা গুম, দুর্নীতি, মানবাধিকার লঙ্ঘনসহ সব অপকর্ম করেছে। সেই স্বৈরাচারী সরকার থেকে দেশকে মুক্ত করতে ছাত্র-তরুণরা রাজপথে নেমেছিল।”

তিনি অভিযোগ করেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের পর চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজরা আবারও ক্ষমতা দখল করেছে। আমরা যে ব্যবস্থার পতন চেয়েছিলাম, সেই ব্যবস্থাকেই আবার টিকিয়ে রাখা হচ্ছে।”

গণতন্ত্র ও সুশাসনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা সংস্কার চাই, গণহত্যার বিচার চাই, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন চাই এবং প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ন্ত্রিত ক্ষমতার আওতায় আনতে চাই। বাংলাদেশে আর কোনো স্বৈরাচার ফিরে আসবে না।”

সোহাগ হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, “বরগুনার সন্তান সোহাগকে ঢাকায় নির্মমভাবে পাথর মেরে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যার পেছনে রয়েছে সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যর্থতা ও একটি দলের চাঁদাবাজদের প্রশ্রয়। দেশের প্রতিটি নাগরিককে এই ঘটনার প্রতিবাদ করতে হবে।”

বরগুনার অবহেলিত উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বরগুনাবাসী দুর্যোগ, নদীভাঙন ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করে প্রতিনিয়ত টিকে থাকছে। কিন্তু উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবে বরগুনায় তেমন কিছুই হয়নি। লবণাক্ততা কৃষিকে ধ্বংস করছে, সুপেয় পানির সংকট বাড়ছে।”

তিনি আরও বলেন, “বঙ্গোপসাগর আমাদের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার জায়গা। বরগুনাকে পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের ঘাঁটি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। উপকূল সুরক্ষা, নদী রক্ষা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নয়নে এনসিপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

পথসভায় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ, যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. তাসনীম জারা, দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা।




সংরক্ষিত নারী আসন দ্বিগুণ ও বিদ্যমান পদ্ধতিতে ভোট চায় বিএনপি: সালাহউদ্দিন

সংরক্ষিত নারী আসন দ্বিগুণ করে ১০০টি করার প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি। একই সঙ্গে দলটি সংবিধানে বিদ্যমান পদ্ধতিতেই এসব আসনে ভোটের পক্ষে অবস্থান জানিয়েছে।

সোমবার (১৪ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের বৈঠক শেষে এক ব্রিফিংয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, “নারীর ক্ষমতায়ন ও সংসদে প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর লক্ষ্যে আমরা সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা ৫০ থেকে ১০০-তে উন্নীত করার প্রস্তাব দিয়েছি। তবে আমরা চাই এসব আসনে নির্বাচন হোক বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী বিদ্যমান পদ্ধতিতে।”

বিএনপি নেতা জানান, সরাসরি নারী আসনের জন্য নতুন করে ১০০টি আসন নির্ধারণ বাস্তবসম্মত নয়। একই সঙ্গে রোটেশন পদ্ধতি ও আসনের সীমারেখা নিয়ে এখনও অস্পষ্টতা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নারী প্রার্থীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়ে সালাহউদ্দিন বলেন, “আমরা এখনও দলের কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য রাখতে পারিনি। আমাদের সমাজে ধর্মীয় ও সামাজিক কারণে নারীরা সরাসরি রাজনীতিতে অংশ নিতে দ্বিধা বোধ করেন। তাই ধাপে ধাপে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে চাই।”

দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠনের বিষয়ে বিএনপি তাদের পূর্বঘোষিত ৩১ দফা প্রস্তাবের উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আমরা উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছি, যাতে সমাজের মেধাবী ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা রাষ্ট্র পরিচালনায় ভূমিকা রাখতে পারেন।”

তবে ৬৪ জেলা ও ১২ সিটি করপোরেশন থেকে সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাবকে ‘জেলা পরিষদ বা প্রাদেশিক ব্যবস্থার মতো’ উল্লেখ করে বিএনপি নেতা বলেন, “বাংলাদেশ একটি ইউনিটারি সরকার কাঠামো অনুসরণ করে। তাই এ ধরনের নির্বাচন সঠিক নয়।”

বৈঠকে উচ্চকক্ষের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আংশিক ঐকমত্য থাকলেও নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিন বাম দলের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যাচারের’ অভিযোগ আনা হয়। তবে বিএনপি এ অভিযোগের সঙ্গে একমত নয় বলে জানান সালাহউদ্দিন।




জিয়াউর রহমানের আদর্শ দল থেকে হারিয়ে গেছে: হেফাজতের কড়া সমালোচনা বিএনপিকে

রাজধানীর মিটফোর্ড এলাকায় ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। একইসঙ্গে, সংগঠনটি বিএনপিকে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজির রাজনীতি থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছে।

শনিবার হেফাজতে ইসলামের আমির মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব সাজেদুর রহমান এক বিবৃতিতে বলেন, “বিএনপির অঙ্গসংগঠনগুলোর লাগাম টেনে না ধরলে চাঁদাবাজি ও খুনোখুনি রাজনীতি বন্ধ হবে না। জিয়াউর রহমানের যে আদর্শ ও নীতিবোধ, তা বিএনপির বর্তমান নেতৃত্বের মধ্যে অনুপস্থিত।”

নেতারা আরো বলেন, “চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস এবং রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন এখন ভয়াবহ মাত্রায় পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতিতে সরকারকেও পুলিশ বাহিনীতে মৌলিক সংস্কার আনতে হবে। ফ্যাসিবাদী ও দুর্নীতিবাজ সদস্যদের বরখাস্ত করে পুলিশের মধ্যে নতুন নিয়োগ দিতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির দায় সরকার এড়াতে পারে না।”

তারা বলেন, “সরকার ও প্রশাসন যেখানে ব্যর্থ, সেখানে দেশপ্রেমিক জনগণ এবং ‘জুলাই বিপ্লবের’ ছাত্র-জনতা আবারও রুখে দাঁড়াবে। গত বছরের জুলাই মাসে ইতিহাসের নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে দেশ। সেই বিপ্লব নতুন বাংলাদেশ গঠনের স্বপ্ন নিয়ে এসেছে। সেই নতুন প্রজন্মকে অবজ্ঞা করা হলে পরিণাম ভালো হবে না।”

মঙ্গলবার রাতে মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে সোহাগ (৩৯) নামের ভাঙারি ব্যবসায়ীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, হত্যার আগে তাকে পিটিয়ে, ইট-পাথর ছুড়ে ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। এক পর্যায়ে তাকে বিবস্ত্রও করা হয়। হত্যাকাণ্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দেয়।

ঘটনার পর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ও আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল জানান, এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের একাধিক নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল হত্যায় জড়িতদের বহিষ্কার করেছে।

হেফাজতের বিবৃতিতে বলা হয়, “যারা চাঁদাবাজি ও হত্যার মাধ্যমে ক্ষমতায় যেতে চায়, তারা জিয়াউর রহমানের আদর্শের প্রতি অবিচার করছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে নতুন প্রজন্ম আবারও রাজপথে নামবে।”

বিবৃতিতে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক পরিবেশ রক্ষায় সকল পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।




ব্যবসায়ী হত্যায় জড়িত দুই নেতাকে যুবদল থেকে আজীবন বহিষ্কার

রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের মূল ফটকের সামনে ভাঙরি ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সোহাগকে (৩৯) নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও পাথর ছুড়ে হত্যার ঘটনায় দুই নেতাকে আজীবন বহিষ্কার করেছে জাতীয়তাবাদী যুবদল।

শুক্রবার (১১ জুলাই) রাতে যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

বহিষ্কৃত দুই নেতা হলেন—যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সহ-জলবায়ু বিষয়ক সম্পাদক রজ্জব আলী পিন্টু এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাবাহ করিম লাকি। তারা এই হত্যাকাণ্ডে নিহতের পরিবারের দায়ের করা মামলার আসামি।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগে তাদের প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে বলেও জানানো হয়।

যুবদলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে জানানো হয়, বহিষ্কৃতদের কোনো অপকর্মের দায় দল নেবে না। একইসঙ্গে সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তাদের সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এ ঘটনায় কোনো শৈথিল্য না দেখিয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে যুবদল।




পুরান ঢাকায় ব্যবসায়ীকে পাথর মেরে হত্যা: দুই আসামির রিমান্ড মঞ্জুর

রাজধানীর পুরান ঢাকায় মো. সোহাগ (৪৩) নামে এক ভাঙারি ব্যবসায়ীকে পাথর মেরে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা দুটি পৃথক মামলায় গ্রেফতার দুই আসামির রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

শুক্রবার (১১ জুলাই) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা এ রিমান্ড আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালি থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) তানভীর।

তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে—একটি হত্যা মামলা এবং অপরটি অস্ত্র আইনে। এর মধ্যে হত্যা মামলায় গ্রেফতার মাহমুদুল হাসান মহিনকে পাঁচদিনের এবং অস্ত্র মামলায় তারেক রহমান রবিনকে দুইদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত বুধবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর গেটসংলগ্ন রজনী ঘোষ লেনে প্রকাশ্যে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। চাঁদা না দেওয়ায় সোহাগকে উলঙ্গ করে, পাথর মেরে হত্যা করা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ। ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে মহিন ও রবিনকে গ্রেফতার করে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে চরম ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে। ফেসবুকে বহু মানুষ প্রকাশ্যে হত্যার এই দৃশ্যকে “বর্বরতা” হিসেবে আখ্যা দিয়ে বিচার দাবি করেছেন।

নিহত মো. সোহাগ কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পূর্ব নামাবাড়ি গ্রামের ইউসুফ আলী হাওলাদারের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মিটফোর্ড এলাকার রজনী ঘোষ লেনে ভাঙারির ব্যবসা করতেন।

এদিকে, ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইতোমধ্যে যুবদল থেকে দুই নেতাকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।




ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সময় পার করছি: জামায়াত সেক্রেটারি গোলাম পরওয়ার

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, “আমরা ইতিহাসের একটি বিশেষ সময় অতিবাহিত করছি। ইসলামী আন্দোলনকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে জাতীয় সমাবেশ হবে আমাদের জন্য একটি ট্রেনিং পয়েন্ট।”

শুক্রবার (১১ জুলাই) দুপুর ১২টায় রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ সদস্য (রুকন) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, “আমার জীবন, চিন্তা-চেতনা ও অনুভূতি সবই আল্লাহর জন্য। আল্লাহর নির্দেশই সর্বোচ্চ, তার বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”

ঢাকা মহানগরী উত্তরের সব জনশক্তিকে জাতীয় সমাবেশে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, “ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জনে এ সমাবেশ গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হবে। শহীদের রক্তস্নাত বাংলায় ইসলামী পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠাই আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য।”

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। সঞ্চালনায় ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও মহানগর সেক্রেটারি ডা. রেজাউল করিম।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন—কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও মহানগর উত্তরের নায়েবে আমির আ. রহমান মুসা, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, নাজিমুদ্দিন মোল্লা, ডা. ফখরুদ্দিন মানিক ও ইয়াসিন আরাফাত। দারসুল কোরআন পেশ করেন ড. মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বাশার।

আয়োজক সূত্র জানিয়েছে, রুকন সম্মেলনে নারী ও পুরুষ মিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার সদস্য অংশগ্রহণ করেন।




সাফ অনূর্ধ্ব-২০ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে শ্রীলঙ্কাকে ৯-১ গোলে উড়িয়ে দিলো বাংলাদেশ




“নিজ দলের দুর্নীতিবাজরাও রেহাই পাবে না” — যশোরে হুঁশিয়ারি নাহিদ ইসলামের

দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম শুক্রবার যশোরে এক পথসভায় বলেন, “যারা দুর্নীতি করবে, এনসিপি তাদের ছাড় দেবে না। এমনকি দলের কেউ দুর্নীতিতে জড়িত থাকলেও তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

যশোর জজকোর্ট মোড়ে অনুষ্ঠিত ওই পথসভায় তিনি বলেন, এনসিপি কারও ‘কোটি কোটি লোক’ থাকার ভয় পায় না। “এনসিপি এমন নেতৃত্ব চায় যারা জনগণের সঙ্গে ইনসাফ করবে,” বলেন তিনি।

জুলাই মাসব্যাপী পদযাত্রার ১১তম দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে আরও বক্তব্য রাখেন এনসিপির সদস্যসচিব আক্তার হোসেন। তিনি বলেন, “সংস্কারের আলাপ যদি টেবিলে না থাকে, তবে রাজপথেই আন্দোলন হবে। বাংলাদেশের মানুষ ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক চায়, কিন্তু তাদের আধিপত্য মেনে নেবে না।”

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, “আমরা বিচার, সংস্কার ও অবাধ নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছি। বিচার ও সংস্কার ছাড়া জনগণ কোনো নির্বাচন মেনে নেবে না। যারা এই বিষয়গুলো ছাড়া নির্বাচন চায়, তারা গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে চায়।”

তিনি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দলীয়করণের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, “৫৪ বছরেও দেশে স্বাধীন, নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি। আমরা চাই পুলিশ, প্রশাসন ও আমলাতন্ত্র কোনো দলের অনুসারী না হয়ে জনস্বার্থে কাজ করুক। সেনাবাহিনীর উদ্দেশে বলতে চাই, গণপ্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করুন, গুমের রাজনীতি থেকে দূরে থাকুন।”

যশোরের স্থানীয় সমস্যা নিয়ে তিনি বলেন, “যশোর জেনারেল হাসপাতালের করোনা কেয়ার ইউনিট এখনও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি, আইসিইউও চালু হয়নি। এখানকার মানুষকে চিকিৎসার জন্য খুলনায় যেতে হয়। আমরা চাই যশোরের মানুষ যশোরেই চিকিৎসা এবং শিক্ষা পাক।”

তিনি ভবদহ এলাকার জলাবদ্ধতা, বেনাপোলের দুর্নীতি ও মাদক সমস্যার কথাও তুলে ধরেন এবং এসব সমস্যা সমাধানে ছাত্র ও তরুণ সমাজকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।

পথসভাটি পরিচালনা করেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সার্জিস আলম। আরও উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ, কেন্দ্রীয় নেতা খালেদ সাইফুল্লাহ জুয়েলসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

এর আগে, সকাল ১২টায় শহরের রেলরোড এলাকায় চার খাম্বার মোড়ের একটি হোটেলে জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত ও আহত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এনসিপি নেতারা। জুমার নামাজ আদায়ের পর তারা পদযাত্রায় অংশ নেন, যা মুজিব সড়ক হয়ে পথসভাস্থলে এসে শেষ হয়। পরে তারা খুলনার উদ্দেশে যাত্রা করেন।

পদযাত্রায় স্থানীয় নেতাকর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন এবং পুরো সময়জুড়ে কর্মসূচিতে প্রাণচাঞ্চল্য লক্ষ্য করা যায়।