ঢাবিতে জুলাই বিপ্লব দিবস পালিত: শেখ হাসিনার বিচারের দাবি, প্রতীকীভাবে ছবিতে আগুন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জুলাই বিপ্লব দিবস’ উপলক্ষে শেখ হাসিনার বিচারের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ করেছে বিপ্লবী ছাত্র পরিষদ। সোমবার (১৪ জুলাই) রাজু ভাস্কর্যের সামনে আয়োজিত সমাবেশে তারা শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ এনে তার ফাঁসির দাবি জানায়। সমাবেশ শেষে প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে তার একটি ছবিতে আগুন লাগিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।
“শেখ হাসিনার বিচার ও ফাঁসি চাই”—বিপ্লবী ছাত্র পরিষদ
বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের আহ্বায়ক আবদুল ওয়াহেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে বক্তারা দাবি করেন, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই শেখ হাসিনা ছাত্র আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকারের নাতিপুতি’ বলে অবমাননা করেন, যার মধ্য দিয়ে তাদের দমন-পীড়নের পথ তৈরি হয়। ওই ঘটনার প্রতিবাদেই ঐতিহাসিক ‘জুলাই বিপ্লব’ সূচিত হয়েছিল বলে দাবি করেন নেতারা।
আবদুল ওয়াহেদ বলেন, “১৯৪৭ সালের উপনিবেশ বিরোধী আন্দোলন ও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মতোই ২০২৪ সালের বৈষম্য ও ফ্যাসিবাদ বিরোধী এই নাগরিক আন্দোলন দেশের ইতিহাসে গুরুত্ব বহন করে।”
শেখ হাসিনাকে ফেরত এনে বিচার কার্যকর করার আহ্বান
বক্তারা অভিযোগ করেন, গণহত্যার এক বছর পরেও শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার কূটনৈতিক উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। ফজলুর রহমান বলেন, “মুজিববাদী সন্ত্রাসী আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিচারে সরকারের কোনো আন্তরিকতা নেই। বরং কিছু রাজনৈতিক দল আজ আবার শেখ হাসিনার মতোই শিক্ষার্থীদের গালি দিচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “ছাত্র-জনতা আর কাউকে শেখ হাসিনা হতে দেবে না।”
অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার ফাহাদ বলেন, “ফ্যাসিবাদের পতনের ১১ মাস ৯ দিন অতিবাহিত হলেও এখনও ফ্যাসিস্টদের বিচার হয়নি। আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা এখনো ঘুরে বেড়াচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকার তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।”
তিনি আরও বলেন, “শেখ হাসিনার বিচার না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে।”
উপস্থিত নেতৃবৃন্দ
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের সদস্য সচিব ফজলুর রহমান, সহকারী সদস্য সচিব জিহাদী ইহসান, যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম নূর শাফায়েতুল্লাহ, সদস্য মো. ইব্রাহিমসহ বিভিন্ন শাখার নেতাকর্মীরা।
বক্তারা সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলেন, ছাত্র সমাজ কোনো আপস করবে না। দ্রুত বিচার না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।








