গোপালগঞ্জে আবারও কর্মসূচি দেওয়ার ঘোষণা এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদের

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, “আমরা আবার গোপালগঞ্জে যাব।” তিনি জানিয়েছেন, জীবিত থাকলে গোপালগঞ্জের প্রতিটি গ্রাম ও উপজেলায় কর্মসূচি পালন করবেন এবং সেখানকার ঘরে ঘরে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পতাকা’ উড়ানো হবে।

বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ লেখেন, “গোপালগঞ্জ নিয়ে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার। বাংলাদেশে আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, গোপালগঞ্জও তার ব্যতিক্রম নয়। আমরা গোপালগঞ্জে রাজনৈতিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে, মুজিববাদী সন্ত্রাস ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছি।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ যুগের পর যুগ ধরে গোপালগঞ্জের মানুষের জীবনকে বিপন্ন করেছে, মুক্তিযুদ্ধকে কলুষিত করেছে এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতি বৈষম্য করেছে।

আক্রমণের অভিযোগ ও প্রশাসনের ভূমিকা
নাহিদ দাবি করেন, “আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি নিয়ে গিয়েছিলাম, কিন্তু মুজিববাদী সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে আমাদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালায়।” তিনি আরও বলেন, “গোপালগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলা থেকে আমাদের নেতাকর্মীদের আসতে দেওয়া হয়নি, বিভিন্ন স্থানে বাস আটকে দেওয়া হয়। এরপরেও আমরা শান্তিপূর্ণভাবে পথসভা শেষ করেছি।”

তিনি জানান, চারজন কর্মী নিহত হয়েছেন বলে তারা জানতে পেরেছেন এবং কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড তারা সমর্থন করেন না।

বিচারের দাবি ও হুঁশিয়ারি
নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা জুলাই গণহত্যার বিচার চাই। ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের অনেককে এখনও গ্রেপ্তার করা হয়নি। যারা গ্রেপ্তার হয়েছে, তারা জামিন পেয়ে যাচ্ছে বা পালিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা অবস্থান করছে।”

তিনি সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে সারাদেশে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার অভিযান চালানোর দাবি জানান।

গোপালগঞ্জ পুনরুদ্ধারের প্রত্যয়
নাহিদ বলেন, “শহীদ বাবু মোল্লা ও রথীন বিশ্বাসের গোপালগঞ্জকে আমরা পুনরুদ্ধার করব। মকসুদপুর ও কোটালীপাড়ায় আমাদের শহীদদের কবর রয়েছে। সেই মাটি মুজিববাদীদের হতে দেব না।”

পোস্টের শেষাংশে তিনি ফ্যাসিবাদবিরোধী প্রতিবাদে যারা অংশ নিয়েছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং ফরিদপুরে পদযাত্রার ঘোষণা দেন।




আদর্শ ভিন্ন হতে পারে; কিন্তু জুলাই সহযোদ্ধাদের সাথে আছি : শিবির সভাপতি

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেছেন, “ছাত্রশিবিরের আদর্শিক ভিন্নতা থাকতে পারে, তবে জুলাই বিপ্লবের সহযোদ্ধাদের ওপর কোনো হুমকি এলে ছাত্রশিবির বসে থাকবে না।”

বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের মাঠে নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

জাহিদুল ইসলাম বলেন, “গতকালের গোপালগঞ্জের ঘটনা প্রমাণ করেছে, বাংলাদেশ থেকে এখনো ফ্যাসিবাদ নির্মূল হয়নি।” তিনি আরও বলেন, “আমরা জাতিগতভাবে এখনো আদর্শ নির্ধারণে দ্বিধায় আছি। সংবিধানে গণতন্ত্র বললেও, সমাজতন্ত্রের কথাও বলি—যা একে অপরের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।”

নবীনদের উদ্দেশ্যে অনুপ্রেরণা

নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে ছাত্রশিবির সভাপতি বলেন, “পৃথিবীতে কোনো অর্জনই চূড়ান্ত নয়। প্রতিটি অর্জন আরও বড় সম্ভাবনার দরজা খুলে দেয়।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম। তিনি বলেন, “২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের কার্যক্রম আমরা দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের আগেই শুরু করেছি। আমরা চাই, শিক্ষার্থীরাও যেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে তা শেষ করতে পারে। রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনের লক্ষ্যে অন্যান্য ছাত্র সংগঠনকেও এমন আয়োজনের আহ্বান জানাই।”

শিক্ষার প্রতি মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান

অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক, যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মির্জা গালিব বলেন, “জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে তরুণদের সাহসিকতা অভূতপূর্ব। তবে সমাজ বদলাতে হলে শিক্ষার্থীদের রাজনীতি ছাড়াও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দক্ষ হতে হবে।”

তিনি বলেন, “গঠন কঠিন, ভাঙা সহজ। সমাজ পরিবর্তন রাতারাতি সম্ভব নয়। তাই শিক্ষার্থীদের আগে পড়াশোনায় মনোযোগী হতে হবে।”

ইতিহাস ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ আব্দুল মান্নান বলেন, “ছাত্ররাজনীতি মানেই চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি নয়। ছাত্রশিবির তার ব্যতিক্রম হিসেবে আদর্শের কথা বলছে।” তিনি গোপালগঞ্জে ছাত্রলীগের হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, “তাদের রাজনীতি করার নৈতিক অধিকার নেই।”

শিবিরের সাবেক সভাপতি মাসুদুর রহমান বলেন, “যেমন ১৯৭১ ছিল পাকিস্তানি দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে, তেমনি জুলাই বিপ্লব ছিল ১৫ বছরের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে। ২৪ সালের আন্দোলন বাদ দিয়ে বাংলাদেশ কল্পনা করা যায় না।”

শিক্ষার্থীদের অনুভূতি

অনুষ্ঠানে বাংলা বিভাগের ২০২৩-২৪ সেশনের এক শিক্ষার্থী বলেন, “সামাজিক মাধ্যমে শিবিরের ভালো কাজ দেখেছি। আজ তা চোখে দেখলাম। আশা করি, শিবির সামনে আরও ভালো আয়োজন করবে।”

নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী জয়নব হাসান বলেন, “আমি রাজনৈতিক নই, তবে সচেতন। এমন সুন্দর আয়োজনের জন্য শিবিরকে ধন্যবাদ জানাই।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলোয়ার হোসেন, জবি শিবিরের সদ্য সাবেক সভাপতি আসাদুল ইসলামসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।




গোপালগঞ্জের মানুষকে মুজিববাদ থেকে মুক্ত করার ঘোষণা নাহিদ ইসলামের

গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পূর্বঘোষিত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলার নিন্দা জানিয়ে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, “আমরা গোপালগঞ্জের সাধারণ মানুষকে মুজিববাদ থেকে মুক্ত করব।” বৃহস্পতিবার ফরিদপুর শহরের জনতা ব্যাংকের মোড়ে অনুষ্ঠিত পদযাত্রা-পরবর্তী এক পথসভায় তিনি এ কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “ফ্যাসিস্টরা গোপালগঞ্জকে তাদের আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত করেছে। আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই, গোপালগঞ্জের সাধারণ কোনো মানুষ যেন হেনস্তার শিকার না হন, তবে যারা সন্ত্রাসে জড়িত, তাদের অবশ্যই গ্রেপ্তার করতে হবে।”

তিনি আরও জানান, দেশের জনগণ গোপালগঞ্জ অভিমুখে পদযাত্রার জন্য প্রস্তুত ছিল। “আমরা অবশ্যই গোপালগঞ্জে যাব, এবং সেটা খুব শিগগিরই,” যোগ করেন তিনি।

আলোচনায় নাহিদ ইসলাম প্রশাসনের দুর্নীতিগ্রস্ত ও স্বৈরাচারপন্থী কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, “বিচার না পাওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ব না। আমরা শান্তিপূর্ণ পথ মেনে চললেও ফ্যাসিস্ট হামলা হলে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। প্রয়োজনে লাঠি হাতে তুলব, যেমন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অস্ত্র হাতে নিতে প্রস্তুত ছিলাম।”

তিনি অভিযোগ করেন, “গতকাল দেশবাসী রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ ও মুজিববাদীদের সন্ত্রাসী রূপ দেখেছে। আমরা এখনও শান্তিপূর্ণ সমাধানের সুযোগ দিচ্ছি। তবে যদি ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে আবারও গোপালগঞ্জে মার্চ করব। এবার ফিরে আসার জন্য নয়, বরং গোপালগঞ্জের জনগণকে মুক্ত করেই ফিরব।”

তিনি জানান, ৬৪ জেলায় পদযাত্রা সম্পন্ন করে আগামী ৩ আগস্ট শহীদ মিনারে ‘জুলাই সনদ’ ও ইশতেহার ঘোষণা করা হবে।

পথসভা সঞ্চালনা করেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ। এ সময় আরও বক্তব্য দেন দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেনসহ স্থানীয় নেতারা।




“আমাদেরকে মেরে ফেলাই ওদের উদ্দেশ্য” — গোপালগঞ্জ হামলায় ক্ষোভ জানালেন আখতার হোসেন

গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশে হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দলটির সদস্যসচিব আখতার হোসেন। তিনি হামলাকারীদের বিচার দাবি করে বলেছেন, “আমাদেরকে মেরে ফেলাই ওদের উদ্দেশ্য।”

বুধবার (১৬ জুলাই) রাতে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে আখতার হোসেন লিখেছেন, “আমাদের নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে গাড়িতে হামলা চালায় সন্ত্রাসী লীগ বাহিনী। বাংলাদেশ বিরোধী লীগ এবং তাদের দোসরদের প্রতিহত করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “ওদের বিচার করতে হবে।”

এর আগে বিকেলেও দেওয়া এক পোস্টে আখতার হোসেন অভিযোগ করেন, “গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগের জঙ্গিরা আমাদের ওপর হামলা করছে। গুলি ছুড়ছে, বিস্ফোরণ ঘটাচ্ছে। সারা দেশে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন।”

প্রসঙ্গত, বুধবার দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে গোপালগঞ্জ শহরের লঞ্চঘাট এলাকায় এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে সড়ক অবরোধ করে হামলা চালায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ঘটনাস্থলে পুলিশ বাধা দিতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।

সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল ছুড়তে দেখা যায়। আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা গাড়িবহর লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে ও একাধিক গাড়ি ভাঙচুর করে। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে এনসিপি নেতাদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে দেখা যায়।

এই ঘটনায় ইতোমধ্যে গোপালগঞ্জে কারফিউ জারি করেছে প্রশাসন এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এনসিপি বলছে, তারা হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার দাবি করছে, অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিচ্ছে।




গোপালগঞ্জে হামলার প্রতিবাদে ঢাকায় এনসিপির মশাল মিছিল, ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রায় সশস্ত্র হামলার প্রতিবাদে ঢাকায় মশাল মিছিল করেছে দলটির নেতাকর্মীরা। বুধবার (১৬ জুলাই) রাতে বাংলামোটর মোড় থেকে শুরু হয়ে কারওয়ান বাজার সার্ক ফোয়ারার সামনে গিয়ে শেষ হয় এই বিক্ষোভ কর্মসূচি।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ও ঢাকা মহানগর উত্তরের প্রধান সমন্বয়কারী আকরাম হোসাইন। তিনি বলেন, “জুলাই পদযাত্রা উপলক্ষে গোপালগঞ্জে আয়োজিত সমাবেশকে ঘিরে নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন আওয়ামী লীগ বহুমুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। সারাদেশ থেকে লুকিয়ে থাকা সন্ত্রাসীদের গোপালগঞ্জে জড়ো করে তারা সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে।”

তিনি আরও জানান, সমাবেশ শেষে গাড়িবহর লক্ষ্য করে চালানো হামলায় এনসিপির দুই কেন্দ্রীয় সংগঠক গুরুতর আহত হয়েছেন। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে আকরাম হোসাইন বলেন, “৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করতে হবে। না হলে জুলাই অভ্যুত্থানের বিপ্লবীরা আবারও রাজপথে নামবে।”

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের প্রধান সমন্বয়কারী নিজাম উদ্দিন। তিনি বলেন, “আজকের হামলা মুজিবাবাদী চেতনার নগ্ন প্রকাশ। নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ কীভাবে সশস্ত্র ক্যাডার দিয়ে এ হামলা চালালো, সেটিই বড় প্রশ্ন। অন্তর্বর্তী সরকার এ দায় এড়াতে পারে না।”

এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক এস এম শাহরিয়ার বলেন, “জুলাই গণহত্যার বিচার আজও শুরু হয়নি। নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ ইন্টেরিম সরকার নির্বাচনের নিরাপত্তাও দিতে পারবে না।”

মশাল মিছিল শেষে আকরাম হোসাইন আগামীকাল (১৭ জুলাই) মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের প্রতিটি থানার সামনে বিকেল ৪টায় প্রতিবাদী মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

এনসিপি নেতারা বলেন, সন্ত্রাস ও হামলার বিরুদ্ধে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে এবং জনগণকে সাথে নিয়ে ফ্যাসিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে দুর্বার প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।




সংঘর্ষের পর স্থবির গোপালগঞ্জ শহর, টহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

 জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গাড়িবহরে হামলাকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জে ব্যাপক সংঘর্ষের পর শহরে নেমে এসেছে সুনসান নীরবতা। বুধবার (১৬ জুলাই) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ৪ ঘণ্টাব্যাপী স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় গোটা শহর।

রাত ৮টার পর শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তাঘাট প্রায় জনশূন্য। সাধারণ মানুষের চলাচল নেই বললেই চলে। তবে শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে টহল দিচ্ছে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী।

সংঘর্ষের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে শহর ও শহরতলীর বাসিন্দাদের মাঝে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় অনেক পুরুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছেন বলেও জানা গেছে।

গোপালগঞ্জের এলাকার বাসিন্দা বলেন, “সারাদিন যা ঘটেছে, তাতে খুবই আতঙ্কে আছি। গোলাগুলি হয়েছে। কখন পুলিশ এসে আমাদের ধরে নিয়ে যায় কে জানে।”

এর আগে দুপুরে গোপালগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রা শেষে মাদারীপুর ফেরার পথে তাদের গাড়িবহরে হামলা চালায় ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। হামলায় শহরের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সন্ধ্যায় গোপালগঞ্জ জেলায় ২২ ঘণ্টার জন্য কারফিউ জারি করে প্রশাসন।

গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক জীবিতেষ বিশ্বাস জানিয়েছেন, সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় চারজন নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে পুলিশ ও সাংবাদিকও রয়েছেন।

নিহতরা হলেন—উদয়ন রোডের দীপ্ত সাহা (২৫), কোটালীপাড়ার রমজান কাজী (১৮), টুঙ্গীপাড়ার সোহেল রানা (৩০) ও গোপালগঞ্জ সদরের ইমন (২৪)।

গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার জানান “নিহতদের সংখ্যা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না, তবে চারজন নিহত হয়েছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। শহরে অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ, সেনাবাহিনী ও অন্যান্য বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।”

বর্তমানে গোপালগঞ্জ শহরজুড়ে আতঙ্ক, শূন্যতা ও অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।




ব্লকেড সরানোর আহ্বান নাহিদের, রাজপথে শান্তিপূর্ণ অবস্থানের নির্দেশ

গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনায় উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে সারাদেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিকেল থেকে ব্লকেড কর্মসূচির ঘোষণা দেয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। তবে এই কর্মসূচি থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন এনসিপির শীর্ষ নেতা নাহিদ ইসলাম।

বুধবার (১৬ জুলাই) বিকেলে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম তার ফেসবুক পোস্টে নাহিদের আহ্বানটি তুলে ধরেন। সেখানে নাহিদ বলেন, ‘ব্লকেড সরিয়ে নিন। রাজপথের একপাশে অবস্থান করুন। লড়াই চলবে।’

এর আগে গোপালগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রা ও সমাবেশ শেষে ফেরার পথে দলটির গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জড়িত বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সূত্র। হামলার ফলে গোপালগঞ্জ শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলার বিভিন্ন স্থানে ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন।

হামলা থেকে বাঁচতে এনসিপি নেতারা গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আশ্রয় নেন। এর আগের ঘটনার পরপরই দেশব্যাপী প্রতিবাদ জানিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে ব্লকেড কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তবে এখন এনসিপি শীর্ষ নেতৃত্ব শান্তিপূর্ণ ও কৌশলগত অবস্থানের দিকেই গুরুত্ব দিতে দলের কর্মীদের আহ্বান জানাচ্ছেন।

এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা চলছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং রাজপথে নতুন কর্মসূচি ঘোষণার আগ পর্যন্ত এনসিপির কর্মীরা সুশৃঙ্খলভাবে রাজপথে অবস্থান অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা।




গোপালগঞ্জে ছাত্রলীগ-আওয়ামী লীগের হামলায় রণক্ষেত্র, কারফিউ জারি

গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রা কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সহিংসতা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৬ জুলাই) বিকেলে শহরের পৌরপার্ক এলাকায় এই সহিংসতার ফলে চারজন নিহত হয়েছেন এবং পুলিশ ও সাংবাদিকসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।

গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক জ্বীবিতেশ বিশ্বাস জানান, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় একাধিক ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা হয়, যাদের মধ্যে চারজন মারা গেছেন। আহতদের মধ্যে পুলিশের সদস্য ও একজন সাংবাদিকও রয়েছেন।

ঘটনার সূত্রপাত হয় সকালে, যখন গোপালগঞ্জ সদরে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়ি বহরেও হামলার ঘটনা ঘটে। গোপালগঞ্জ পুলিশ জানিয়েছে, এসব ঘটনায় স্থানীয় ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জড়িত ছিলেন।

দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে শহরের পৌরপার্কে এনসিপির সমাবেশ মঞ্চে হামলা চালানো হয়। স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মঞ্চে ভাঙচুর চালান এবং এনসিপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করেন। পরে পুলিশি সহায়তায় এনসিপির কর্মীরা নিরাপদে সরে যান। হামলার আধা ঘণ্টা পর পুলিশের নিরাপত্তায় এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা সমাবেশ সম্পন্ন করেন। এতে নাহিদ ইসলাম, সারজিস আলম ও আখতার হোসেন বক্তব্য দেন।

সমাবেশ শেষ করে এনসিপির নেতারা মাদারীপুরের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার প্রস্তুতি নিলে আবারও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এসময় পুলিশ পিছু হটে, আর এনসিপির নেতাকর্মীরা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আশ্রয় নেন। হামলাকারীরা মঞ্চসহ আশপাশের বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায়, ফলে শহরে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পরবর্তীতে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিকেলের দিকে গোপালগঞ্জ জেলা কারাগারেও হামলা ও ভাঙচুরের খবর পাওয়া যায়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গোপালগঞ্জ জেলায় বুধবার রাত ৮টা থেকে পরদিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ২২ ঘণ্টার জন্য কারফিউ জারি করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।

উল্লেখ্য, এনসিপির ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ শিরোনামে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।




শাহবাগ মোড়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ, রাজধানীতে তীব্র যানজট

সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযোগ তুলে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল। মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে সংগঠনটির কয়েক হাজার নেতা-কর্মী শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করলে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

এসময় ধানমন্ডি, টিএসসি, কারওয়ান বাজার, বাংলামোটর ও নিউমার্কেট এলাকায় যান চলাচলে চরম বিঘ্ন ঘটে। বিক্ষোভের নেতৃত্বে ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী এবং সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান।

মিছিল শেষে এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে নেতারা বলেন, সরকার পরিকল্পিতভাবে দেশকে অরাজক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। প্রশাসনের নির্লিপ্ত ভূমিকা ও জনগণের নিরাপত্তার অভাব তুলে ধরে তারা বলেন, দেশের মানুষ খুন, গুম, চাঁদাবাজি ও গায়েবি মামলার শিকার হচ্ছে। এসবের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।

এর আগে বিকেল ৪টার দিকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক প্রতিবাদ সমাবেশ করে স্বেচ্ছাসেবক দল। সেখান থেকে বিকেল ৫টায় সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়, যা কাকরাইল, শাহবাগ হয়ে টিএসসি অভিমুখে অগ্রসর হয়। পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে মিছিলকারীরা শেষ পর্যন্ত শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেন।




বরগুনায় এনসিপির পথসভায় দুই জামাই এক মঞ্চে, উচ্ছ্বসিত জনতা

বরগুনায় ‘জুলাই পদযাত্রা’র অংশ হিসেবে আয়োজিত পথসভায় ভিন্নরকম উচ্ছ্বাসে মুখরিত হয় ছাত্র-জনতা। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম মঞ্চে উঠলে উপস্থিত ছাত্র-জনতা তাকে উদ্দেশ করে স্লোগান দেন—“দুলাভাই দুলাভাই”। একই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বরগুনার আরেক জামাই, এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক খান তালাত মাহমুদ রাফিও।

সোমবার (১৪ জুলাই) বিকেলে বরগুনা প্রেসক্লাব সংলগ্ন সদর রোডে আয়োজিত পথসভায় এই ঘটনা ঘটে। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এতে উপস্থিত ছিলেন।

ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও রাজনৈতিক বার্তা

জুলাই আন্দোলনের পর সারজিস আলম বিয়ে করেন বরগুনা সদর উপজেলার গৌরীচন্না ইউনিয়নের বাসিন্দা ও সুপ্রিম কোর্টের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল লুৎফর রহমানের মেয়ে রাইতা রহমানকে। অন্যদিকে, খান তালাত মাহমুদ রাফি বিয়ে করেন সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের স্কুলশিক্ষক মো. জাকির হোসেনের মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসী মিতুকে। এ কারণে তাদেরকে একসঙ্গে দেখে বরগুনার ছাত্র-জনতা ব্যতিক্রমীভাবে ‘দুলাভাই’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন।

বরিশাল-বরগুনা সড়ক নিয়ে সমালোচনা

বক্তব্যের শুরুতেই সারজিস আলম বলেন, “বরিশাল থেকে বরগুনা আসার সড়কে মনে হয়েছে শতাধিক মরণফাঁদ আছে। বরগুনার মানুষকে এই ভোগান্তি থেকে মুক্ত করতে হবে।” তিনি বলেন, “আগামী বাংলাদেশে যারা রাজনীতি করবে, তাদের এই মরণফাঁদ সরিয়ে উন্নয়ন নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করতে হবে।”

উন্নয়ন ও স্বাস্থ্যখাত নিয়ে তীব্র সমালোচনা

সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের কথিত উন্নয়ন নিয়েও সমালোচনা করে সারজিস বলেন, “হাসিনা বলেছিলেন দক্ষিণাঞ্চল উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে। অথচ বরগুনার রাস্তাঘাট গর্ত আর পানিতে ডুবে আছে, হাসপাতালগুলো লুটপাটের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। ডাক্তার নেই, কর্মচারীরা নবাব হয়ে উঠেছে। শুধু ডেঙ্গুতে এ বছর বরগুনায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে।”

বরগুনার পুলিশ প্রশাসনের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি

জুলাই অভ্যুত্থানকালীন সময়ের প্রসঙ্গ টেনে সারজিস আলম বলেন, “বরগুনার পুলিশ ওসি তখন আন্দোলনে লাঠিচার্জ করেছেন। এসপি থেকে শুরু করে সবাইকে বলছি—আপনারা বরগুনার জনগণের পুলিশ হোন, কোনো দলের নয়। নইলে আগামী বাংলাদেশে আপনাদের জায়গা হবে না।”

পথসভায় আরও বক্তব্য দেন এনসিপির অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, যারা বরগুনার অবকাঠামো, স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক অবস্থার উন্নয়নে পরিকল্পনা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন।