টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে মুস্তাফিজ নবম, জাকের-হৃদয়-ইমনের চমক

পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা দুই জয়ে সিরিজ নিশ্চিত করার পর এবার ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের দিক থেকেও সুখবর পেলেন টাইগার ক্রিকেটাররা। আইসিসির হালনাগাদ টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে বাংলাদেশের একাধিক খেলোয়াড়ের।

বিশেষ করে বোলিং বিভাগে দারুণ সাফল্য এসেছে মুস্তাফিজুর রহমানের ঝুলিতে। ১৭ ধাপ এগিয়ে এখন তিনি বোলারদের র‍্যাঙ্কিংয়ে নবম স্থানে। তার রেটিং পয়েন্ট ৬৫৩, যা ভারতের পেসার আর্শদীপ সিংয়ের সমান। ২০২১ সালের অক্টোবরের পর এবারই প্রথম শীর্ষ দশে ফিরলেন বাঁহাতি এই গতি তারকা।

বোলিং র‍্যাঙ্কিংয়ে আরও উন্নতি করেছেন শেখ মেহেদী হাসান, তিনি ৯ ধাপ এগিয়ে উঠে এসেছেন ১৬তম স্থানে। অলরাউন্ডার র‍্যাঙ্কিংয়েও তার অবস্থান এখন ৩৫তম (১৩ ধাপ উন্নতি)। তানজিম হাসান বোলিংয়ে ৯ ধাপ এগিয়ে ৩৮তম এবং অলরাউন্ডার তালিকায় তিন ধাপ এগিয়ে ৮১তম অবস্থানে রয়েছেন।

শরীফুল ইসলাম এগিয়েছেন ১৪ ধাপ, এখন অবস্থান ৪৩তম। যদিও রিশাদ হোসেন তিন ধাপ পিছিয়ে গেছেন, এখন ২০তম, আর অলরাউন্ডার র‍্যাঙ্কিংয়ে এক ধাপ পিছিয়ে ৫৪তম।

ব্যাটিং বিভাগেও উঠেছে নতুন চমক। তরুণ তানজিদ হাসান তামিম ১৮ ধাপ এগিয়ে এখন ৩৭তম, যেটি বাংলাদেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। জয়ের ম্যাচে দুর্দান্ত ইনিংস খেলে ১৭ ধাপ এগিয়ে যৌথভাবে ৫৩তম হয়েছেন জাকের আলী অনিক। তার সঙ্গে আছেন নিউজিল্যান্ডের ডেভন কনওয়ে।

তাওহীদ হৃদয় দুই ধাপ এগিয়ে ৩৯তম স্থানে এবং পারভেজ হোসেন ইমন ২২ ধাপ এগিয়ে পৌঁছেছেন ৬৩তম স্থানে।

অন্যদিকে, টি-টোয়েন্টির বোলারদের শীর্ষে রয়েছেন নিউজিল্যান্ডের জ্যাকব ডাফি। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছেন ইংল্যান্ডের আদিল রশিদ এবং ভারতের বরুণ চক্রবর্তী। ব্যাটিংয়ে শীর্ষে আছেন অস্ট্রেলিয়ার ট্রাভিস হেড এবং অলরাউন্ডার তালিকায় সবার ওপরে ভারতের হার্দিক পান্ডিয়া।

বাংলাদেশ দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স র‍্যাঙ্কিংয়ে এই সাফল্যের প্রতিফলন ঘটিয়েছে বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




উত্তরায় বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো উক্যছাইং, বাবার কাঁধে শেষযাত্রা

ঢাকার উত্তরায় যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তে আহত হয়ে মৃত্যু হলো রাঙামাটির রাজস্থলীর কিশোর শিক্ষার্থী উক্যছাইং মারমার (১৪)। বুধবার (২৩ জুলাই) বিকেলে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী তাকে তার নিজ গ্রামে সমাহিত করা হয়।

মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী উক্যছাইং মারমা মৃত্যুর আগে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন ছিলেন। দুর্ঘটনার দুই দিন পর, ২১ জুলাই বিকেলে সেখানেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

সমাহিত করার আগে তার নিজ ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী পূজা ও আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হয়। এরপর বাবার কাঁধে ভর করে পরপারে যাত্রা করে মেধাবী এই কিশোর।

উক্যছাইংয়ের প্রাক্তন শিক্ষক ও ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষিকা শারমিন আক্তার বলেন, “সে অত্যন্ত বিনয়ী ও মেধাবী ছিল। সৃজনশীল চিন্তা-চেতনা ওর মধ্যে ছোটবেলা থেকেই ছিল।”

বাবা উসাইমং মারমা বলেন, “আমার ছেলে বড় হয়ে ইঞ্জিনিয়ার হতে চেয়েছিল। সেই স্বপ্ন অপূর্ণ রয়ে গেল। দুর্ঘটনার পর ফোনে আমাকে জানানো হয়—ছেলেকে দেখতে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে। আমি রাত ১২টায় পৌঁছে জানতে পারি, তার শরীর প্রায় ১০০ শতাংশ পুড়ে গেছে।”

উক্যছাইংয়ের মৃত্যুতে রাজস্থলীতে শোকের ছায়া নেমে আসে। তার পরিবার, আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব এবং প্রতিবেশীরা সবাই বিমর্ষ। তাঁরা বলেন, “আমরা চাই না আর কোনো শিশু এইভাবে ঝরে যাক। জনবহুল এলাকায় বিমান প্রশিক্ষণের নামে ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। এটা আমাদের যৌক্তিক দাবি।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




সরকার এনসিপিকে বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে: নুরুল হক নুর

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র প্রতি সরকার পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর।

বুধবার (২৩ জুলাই) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে নুর বলেন, “সরকারের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে সকল রাজনৈতিক দল তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। এ ধরনের পক্ষপাত থাকলে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়।”

নুর আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেন, “পতিত আওয়ামী লীগ যেকোনো ইস্যুতে গড়ে ওঠা আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে অরাজকতা সৃষ্টি করতে পারে।”

এ সময় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশের আহ্বান জানান গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি। তিনি বলেন, “বিচার সংস্কার ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দায়িত্ব সরকারের। তাই দ্রুত নির্বাচনের নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করতে হবে, যাতে দেশের মানুষ স্বস্তি পায়।”

নির্বাচন প্রসঙ্গে সাকি আরও বলেন, “সরকারকে নিরপেক্ষতা প্রমাণ করতে হবে। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে সব রাজনৈতিক দলের প্রতি সমান আচরণ জরুরি।”

তিনি অভিযোগ করেন, “সরকারের কিছু আচরণে দেশের রাজনীতিতে অনিশ্চয়তার মেঘ জমেছে। নির্বাচন ও সংস্কার নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। যার ফলে বাড়ছে জনগণের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা।” এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য সরকারেরই দায়িত্ব বেশি বলে মনে করেন তিনি।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




স্বতন্ত্র কাঠামোর দাবিতে বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে স্বতন্ত্র কাঠামোর দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনকারীরা দাবি আদায়ের জন্য কর্তৃপক্ষকে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন।

বুধবার (২৩ জুলাই) দুপুরে নগরীর সদর রোডের অশ্বিনী কুমার হলের সামনে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থীদের এক দফা দাবি—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তি বাতিল করে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (বিআইটি) আদলে একটি স্বতন্ত্র ও টেকসই কাঠামো গঠন।

বিক্ষোভে বক্তৃতা করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী টি এইচ ইরান। তিনি বলেন, ‘গত আড়াই মাস ধরে আমরা লাগাতার কর্মসূচি পালন করে আসছি। আমাদের একমাত্র দাবি—আমরা স্বাধীন কাঠামোর অধীনে পড়াশোনা করতে চাই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে শিক্ষার মান ও প্রশাসনে নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছে, যার কোনো সমাধান মিলছে না।’

তিনি আরও জানান, ‘এর আগে আন্দোলনের সময় পুলিশ ও সেনা সদস্যদের মারধরে অন্তত ২০ শিক্ষার্থী আহত হন। অথচ আমাদের দাবি ছিল সম্পূর্ণ ন্যায্য। এখন আমরা ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিচ্ছি। এরমধ্যে কোনো পদক্ষেপ না এলে আমরা “লংমার্চ টু ঢাকা” কর্মসূচি ঘোষণা করব।’

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, বর্তমানে সরকারি প্রকৌশল কলেজগুলোকে একটি কার্যকর, স্বয়ংসম্পূর্ণ ও টেকসই কাঠামোর আওতায় আনা সময়ের দাবি। শুধু একাডেমিক স্বতন্ত্রতা নয়, প্রশাসনিক সংস্কারও জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয় মডেল নয়, বিআইটি মডেলের মতো স্বাধীন শিক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে তাঁরা।

এর আগে শিক্ষার্থীরা নগরীতে একটি বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিলটি লঞ্চঘাট থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে সদর রোডে এসে শেষ হয়।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫

 




বরিশালে শিশু ধর্ষণে বিএনপি নেতার যাবজ্জীবন

বরিশাল সদর উপজেলায় ১৩ বছর বয়সী এক শিশু কন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগে স্থানীয় বিএনপি নেতা রাসেল শরীফকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (২৩ জুলাই) দুপুরে বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক রকিবুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী আজিবর রহমান।

দণ্ডপ্রাপ্ত রাসেল শরীফ (৩৫) বরিশাল সদর উপজেলার চন্দ্রমোহন ইউনিয়নের বাসিন্দা ও আলী শরীফের ছেলে। তিনি ইউনিয়নের ওয়ার্ড পর্যায়ের বিএনপির সক্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ৭ নভেম্বর সকালে বরিশাল সদর উপজেলার চন্দ্রমোহন ইউনিয়নের একটি গ্রামে ওই শিশুটিকে তার নিজ বসতঘরের পাশের খোলা জায়গায় ধর্ষণ করেন রাসেল শরীফ। ঘটনার সময় ভুক্তভোগীর বয়স ছিল মাত্র ১৩ বছর এবং আসামি রাসেলের বয়স ছিল ২৫।

ঘটনার পর সাহসিকতার সঙ্গে ভুক্তভোগী নিজেই বাদী হয়ে রাসেল শরীফের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেন। মামলা গ্রহণের পর তদন্ত করে বরিশাল বন্দর থানার তৎকালীন সাব-ইন্সপেক্টর ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় মোট ৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত। সকল সাক্ষ্য ও প্রমাণ পর্যালোচনার পর বিচারক রাসেল শরীফের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেন।

এই রায় সমাজে নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে শক্ত বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। এটি বিচার বিভাগের ন্যায়বিচারের প্রতীক এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




চট্টগ্রামে এনসিপির সমাবেশ ঘিরে কড়া নিরাপত্তা, মোতায়েন সোয়াট ও ডগ স্কোয়াড

চট্টগ্রামে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশ ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট সোয়াট এবং ডগ স্কোয়াড।

রোববার (২০ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে নগরীর ষোলশহর ২ নম্বর গেট সংলগ্ন বিপ্লব উদ্যানে সমাবেশস্থলে সোয়াট সদস্যদের অবস্থান লক্ষ্য করা যায়। এর আগে, এনসিপি নেতাদের নিরাপত্তায় ‘মোটেল সৈকত’-এ তল্লাশি চালায় ডগ স্কোয়াড।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) জানিয়েছে, গোপালগঞ্জ ও কক্সবাজারে এনসিপির পূর্ববর্তী কর্মসূচিতে সহিংসতার প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রামে বাড়তি সতর্কতা গ্রহণ করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, বিকেল সাড়ে ৫টায় এনসিপি নেতাকর্মীরা বহদ্দারহাটে জমায়েত হয়ে সেখান থেকে মিছিলসহ বিপ্লব উদ্যানে সমাবেশে যোগ দেন। এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিপ্লব উদ্যান এবং আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

নিরাপত্তার অংশ হিসেবে শনিবার রাতে চট্টগ্রাম নগরীর স্টেশন রোডে অবস্থিত ‘মোটেল সৈকত’-এ অবস্থানরত এনসিপির শীর্ষ নেতাদের ঘিরেও নেওয়া হয় কঠোর ব্যবস্থা। নগর পুলিশের একটি বিশেষ দল সেখানে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে তিনটি ফ্লোরে তল্লাশি চালায়। সংশ্লিষ্ট ফ্লোরগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ছাড়া কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মাহমুদা বেগম জানান, “সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। নেতাদের চলাচলের পথেও কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই রাজনৈতিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হোক। এজন্য পুলিশ সবসময় প্রস্তুত রয়েছে।”




অতীতের শাসকেরা দিল্লি-লন্ডনে পালিয়েছে, বর্তমান প্রজন্ম জাগ্রত: হাসনাত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, অতীতে বাংলাদেশের শাসকেরা দেশ লুটে দিল্লি ও লন্ডনে পালিয়ে গেছে। কিন্তু বর্তমান তরুণ প্রজন্ম জেগে উঠেছে, যাদের টাকা দিয়ে কেনা যায় না।

রোববার (২০ জুলাই) রাতে চট্টগ্রাম নগরের ২ নম্বর গেট এলাকায় আয়োজিত এক রাজনৈতিক সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

হাসনাত বলেন, “কারো সেকেন্ড হোম ছিল দিল্লি, কারো লন্ডন। তারা দেশ শাসনের নামে লুটপাট করেছে। আজকের এই তরুণ প্রজন্ম সেই ইতিহাস জানে। তারা আর বিক্রি হবে না। হাসিনা টাকায় এই প্রজন্মকে কিনতে পারেনি। এই প্রজন্মই বাংলাদেশ গড়বে।”

তিনি আরও বলেন, “১৬ জুলাই ঢাকায় প্রতিরোধ হয়েছিল, তার আগের দিন চট্টগ্রামেই প্রতিরোধ হয়েছে। চট্টগ্রাম লড়াইয়ের শহর, প্রতিরোধের শহর। আমরা স্বৈরাচার হটাতে পেরেছি, কিন্তু এখন সফল রাষ্ট্র গঠনের লড়াই শুরু করতে হবে।”

চট্টগ্রামকে নিজের ‘দ্বিতীয় প্রাণের শহর’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “চট্টগ্রামের প্রতিটি উপজেলায় এনসিপিকে সংগঠিত করতে হবে। গ্রুপিং বাদ দিতে হবে।”

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

দুপুরের পর থেকেই সমাবেশস্থলে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা জড়ো হতে শুরু করেন।

এদিকে গোপালগঞ্জ ও কক্সবাজারে এনসিপির কর্মসূচিতে সহিংস ঘটনার প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রামের সমাবেশে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয় পুলিশ।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মাহমুদা বেগম জানান, “সমাবেশ ঘিরে পুলিশের স্পেশাল ইউনিট সোয়াটসহ অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে, যেন কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়।”




গোপালগঞ্জে কারফিউ ও ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার, অভিযান চলমান থাকবে: জেলা প্রশাসন

গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনার পর জারি করা কারফিউ ও ১৪৪ ধারা তুলে নেওয়া হয়েছে।

রোববার (২০ জুলাই) সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের (ডিসি) মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ওই দিন রাত ৮টা থেকে গোপালগঞ্জ জেলায় আর ১৪৪ ধারা বা কারফিউ বলবৎ থাকবে না।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী নির্দেশনা দেওয়া হবে। পাশাপাশি, ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে।

উল্লেখ্য, গত ১৬ জুলাই এনসিপির পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে কয়েকজনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পরই গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসন পর্যায়ক্রমে একাধিক দফায় কারফিউ ও ১৪৪ ধারা জারি করে।

প্রথম দফায় ১৬ জুলাই রাত ৮টা থেকে ১৭ জুলাই সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়। এরপর দ্বিতীয় দফায় ১৮ জুলাই দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কারফিউ কার্যকর ছিল।

তৃতীয় দফায় ১৮ জুলাই সন্ধ্যা ৬টা থেকে ১৯ জুলাই সকাল ৬টা পর্যন্ত নতুন করে কারফিউ বাড়ানো হয়। পরে শনিবার (১৯ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত কারফিউ শিথিল করা হয়। এরপর রাত ৮টা থেকে রোববার (২০ জুলাই) সকাল ৬টা পর্যন্ত পুনরায় কারফিউ জারি করা হয়।

সর্বশেষ, রোববার সকাল ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা কার্যকর ছিল, যা সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং প্রয়োজনে নতুন করে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।




জুলাই শহিদ পরিবারগুলোই এখন আমাদের অগ্রাধিকার : নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, শহীদ পরিবারের সম্মান প্রতিষ্ঠাই এখন তার দলের অন্যতম অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, “আমরা সারা দেশে পদযাত্রা করছি এবং শহীদ পরিবারের সঙ্গে সরাসরি বসছি। দেখা যাচ্ছে, তাদের সবারই একই ধরনের সমস্যা রয়েছে। অনেক জায়গায় সরকারি উদ্যোগ পৌঁছায়নি বা পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে। প্রশাসনের কিছু জায়গায় এখনো স্বৈরাচারের দোসররা সক্রিয় রয়েছে।”

রবিবার (২০ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় চট্টগ্রামের নিউমার্কেট এলাকার হোটেল সৈকতে জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমি যখন সরকারে ছিলাম, তখন শহীদ পরিবারের জন্য নানা উদ্যোগ নেওয়ার ক্ষেত্রে চাপ সৃষ্টি করেছি। কিন্তু সেইসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মাঠ পর্যায়ে নানা জটিলতা রয়ে গেছে। এখনও অনেক জায়গায় অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার অভিযোগ রয়েছে।”

তিনি বলেন, “আমরা কোনো দলীয় পরিচয় নিয়ে আসিনি। আমরা এসেছি আপনাদের পাশে দাঁড়াতে। আপনাদের স্বজনরা আমাদের সঙ্গে গণঅভ্যুত্থানে ছিলেন। এ কারণেই দলমতের ঊর্ধ্বে আপনাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”

শহীদ কল্যাণ সেল গঠন

নাহিদ ইসলাম জানান, এনসিপির পক্ষ থেকে ‘শহীদ কল্যাণ-আহত সেল’ গঠন করা হয়েছে। এই সেলের অধীনে সারাদেশে সফর করে শহীদ পরিবার ও আহতদের তথ্য সংগ্রহ এবং সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “যেখানে যাচ্ছি, আমরা নতুন করে সবার নাম ও নম্বর সংগ্রহ করছি, যাতে ভবিষ্যতে নিয়মিত খোঁজ রাখা যায়।”

৩ আগস্ট ঢাকায় বড় কর্মসূচি

শহীদ পরিবারের স্বীকৃতি ও দাবি আদায়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, “জুলাইয়ের ঘোষণাপত্র বা জাতীয় সনদের বিষয়ে আমরা দীর্ঘদিন ধরে কথা বলে আসছি। সরকার বলছে, ৫ আগস্টের মধ্যে এটি ঘোষণা করবে। আমরা ৩ আগস্ট ঢাকায় এ বিষয়ে একটি বড় কর্মসূচি আয়োজন করছি, যাতে শহীদ পরিবারগুলোর দাবি কার্যকর হয়।”

উল্লেখ্য, চট্টগ্রামের এ কর্মসূচিতে এনসিপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সাক্ষাৎ শেষে প্রতিনিধি দলটি রাঙামাটির উদ্দেশে যাত্রা করে।




“ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা ভেঙে নতুন বাংলাদেশ গড়ব”—নাহিদ ইসলামের প্রত্যয়

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান শুধু একটি সরকারের পতনের আন্দোলন ছিল না, এটি ছিল মানুষের গণআকাঙ্ক্ষার বিস্ফোরণ। এর মাধ্যমে আমরা একটি নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েছিলাম।”

শনিবার (১৯ জুলাই) রাতে বান্দরবান প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে এনসিপি আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “বর্তমান রাষ্ট্রের আইন, নীতি ও সংবিধান জনগণের কল্যাণে রচিত হয়নি। এটি মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। সরকার বদল হয়েছে ঠিকই, কিন্তু রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সেই ‘অক্ষত সিস্টেম’ এখনো টিকে আছে। আমরা সেই ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়ে বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে চাই।”

তিনি অভিযোগ করে বলেন, “মুজিববাদের আদর্শে গড়ে ওঠা স্বৈরাচারী হাসিনা সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে বিভাজন তৈরি করেছে—কখনো বাঙালি বনাম পাহাড়ি, কখনো মুক্তিযোদ্ধা বনাম রাজাকার, আবার কখনো ধর্মনিরপেক্ষতার আড়ালে সামাজিক বিভাজন সৃষ্টি করেছে। তারা চাইলে সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে পারতেন, কিন্তু সেটা করেনি। তারা এই বিভাজনের ভিত্তিতে নানা অপকর্ম চালিয়েছে।”

নাহিদ আরও বলেন, “মুজিববাদি সংবিধান একটি ফ্যাসিবাদী কাঠামো তৈরি করেছে, যা জনগণকে বিভক্ত করে রেখেছিল। তবে এখন গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আমরা সেই বিভাজন দূর করতে সক্ষম হয়েছি। আমরা সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করেছি। সামনে বাংলাদেশ পন্থার ভিত্তিতে একটি নতুন রাষ্ট্র গড়ব।”

পথসভায় সভাপতিত্ব করেন এনসিপির বান্দরবান জেলা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক মো. শহীদুর রহমান সোহেল। এতে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের যুগ্ম আহ্বায়ক খান তালাত মাহমুদ রাফি প্রমুখ।