হোয়াইটওয়াশের লক্ষ্যে বাংলাদেশের সামনে ১৭৯ রানের চ্যালেঞ্জ

সিরিজে ইতোমধ্যে এগিয়ে থাকা টাইগারদের সামনে এবার ইতিহাস গড়ার হাতছানি। মিরপুরের শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানকে ধবল ধোলাই করতে বাংলাদেশের প্রয়োজন ১৭৯ রান।

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। পাঁচটি পরিবর্তন এনে খেলতে নামে লিটন দাসের নেতৃত্বাধীন দল। সুযোগ পান তানজিদ হাসান, তাসকিন আহমেদ, মেহেদী হাসান মিরাজ, নাসুম আহমেদ ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।

পাকিস্তান ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই চড়াও হয় টাইগার বোলারদের ওপর। ওপেনার সাইম আইয়ুব ও সাহিবজাদা ফারহান প্রথম ৬ ওভারে তুলে ফেলেন বিনা উইকেটে ৫৭ রান। ওপেনিং জুটিতে আসে ৮২ রান। সাইম করেন ১৫ বলে ২১, ফারহান খেলেন ৪১ বলে ৬৩ রানের দারুণ ইনিংস। দুজনকেই ফেরান নাসুম আহমেদ।

তবে ওপেনিংয়ের পর কেউ বড় ইনিংস খেলতে না পারলেও ঝড়ো ছোট ছোট ইনিংসে ভর করে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে পাকিস্তান তোলে ১৭৮ রান। হারিস ১৪ বলে ৫, হাসান নওয়াজ ১৭ বলে ৩৩, মোহাম্মদ নওয়াজ ১৬ বলে ২৭ রান করেন। শেষদিকে সালমান আলী আঘা ১২ ও ফাহিম আশরাফ ৪ রানে অপরাজিত থাকেন।

বাংলাদেশের বোলিং ইউনিট যথারীতি ছিল দৃঢ়। তাসকিন আহমেদ ৪ ওভারে ৩৮ রানে ৩ উইকেট, নাসুম আহমেদ ৪ ওভারে মাত্র ২২ রানে ২ উইকেট, শরিফুল ইসলাম ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন নেন একটি করে উইকেট।

উল্লেখ্য, সিরিজের আগের দুটি ম্যাচ জিতে এরই মধ্যে ট্রফি নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। আজ জিতলে ইংল্যান্ড (২০২৩) এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ (২০২৪)-এর পর পাকিস্তানকেও হোয়াইটওয়াশ করার গৌরব অর্জন করবে টাইগাররা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
পাকিস্তান – ২০ ওভারে ১৭৮/৭ (ফারহান ৬৩, নওয়াজ ৩৩, তাসকিন ৩/৩৮, নাসুম ২/২২)

জয়ের জন্য বাংলাদেশের লক্ষ্য: ১৭৯ রান

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে নির্বাচন চাই: চরমোনাই পীরের হুঁশিয়ারি

বিদেশী প্রভাবে পরিচালিত সরকার ও দুর্নীতিবাজদের এই দেশের মাটিতে ঠাঁই হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম। তিনি বলেছেন, দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন আবার ফিরিয়ে আনার ষড়যন্ত্র চলছে, যা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) বিকেল ৫টায় বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার কাপুড়িয়া পট্টিতে এক গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, “আমরা পূর্ববর্তী সরকারে দেখেছি কিভাবে দেশের টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বানিয়ে পাড়ায় পাড়ায় ‘বেগমপাড়া’ বানানো হয়েছে। এখন সময় এসেছে এই চাঁদাবাজ-দখলদারদের বিদায় জানানোর।”

চরমোনাই পীর আরও বলেন, দেশে স্থায়ী শান্তি ও জনগণের প্রকৃত ক্ষমতা নিশ্চিত করতে হলে সংখ্যানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে প্রয়োজনীয় সংস্কার, গণহত্যার বিচার এবং ইসলামবিরোধী সব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা শাখার আয়োজনে এ গণসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মাওলানা এইচএম সাইফুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলের নায়েবে আমীর হাফেজ মাওলানা আব্দুল আউয়াল, কেন্দ্রীয় নেতা প্রিন্সিপাল মাওলানা আব্দুল মজিদ এবং জামায়াতে ইসলামীর বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা) আসনের প্রার্থী অধ্যক্ষ আব্দুল আলীম।

অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাগেরহাট জেলা ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি হাফেজ মাওলানা মাহফুজুর রহমান, সেক্রেটারি হাফেজ মাওলানা মোশাররফ হোসাইন, মাওলানা ইউসুফ ইকবাল, ইসলামী আন্দোলনের মনোনীত প্রার্থী মাওলানা ওমর ফারুক বিন নূরী, রুহুল আমীন সরদার এবং আসাদুল্লাহ প্রমুখ।

চরমোনাই পীর তার বক্তব্যে ইসলামী শাসন ব্যবস্থার পক্ষে জনমত গড়ে তোলার আহ্বান জানান এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হাতপাখা প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বন্দীদের পুনর্বাসনে জেলখানায় মানবিক পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান ধর্ম উপদেষ্টার

বন্দীরা সমাজেরই অংশ তাদের সংশোধনের সুযোগ দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা রাখতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘‘কারাগার থেকে বের হওয়ার পর যেন তারা অপরাধে না জড়ায়, সে লক্ষ্যেই জেলখানায় ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার পাশাপাশি উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।’’

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) দুপুরে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

ধর্ম উপদেষ্টা জানান, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বর্তমানে এই কারাগারে ধর্মীয় শিক্ষা পরিচালনা করছে। একজন নিযুক্ত শিক্ষক কয়েদি ও হাজতিদের নিয়মিত ইসলাম ধর্মীয় শিক্ষা দিয়ে থাকেন। তিনি বলেন, কারা কর্তৃপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী হিন্দু ধর্মাবলম্বী বন্দিদের জন্যও ধর্মীয় শিক্ষক নিযুক্ত করা হবে।

তিনি আরও বলেন, কারাগারের নিরাপত্তা ও কৌশলগত কারণে স্থায়ী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণ সম্ভব নয়। তবে, প্রতিটি ওয়ার্ডে ধর্মচর্চার পরিবেশ তৈরির ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর অংশ হিসেবে জায়নামাজ, ধর্মীয় গ্রন্থ, কার্পেটসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ করবে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

পরিদর্শনকালে তিনি কারাগারের কেন্দ্রীয় মক্তব, হেফজ শাখা, লাইব্রেরি, মনন ও শরীরচর্চা কেন্দ্র, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সেন্টার, রান্নাঘরসহ বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন এবং বন্দিদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন। তিনি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে দ্রুত ধর্মীয় বই সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দেন।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালনায় ১২টি মক্তব চালু রয়েছে। ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এসব মক্তব থেকে ৮,২২২ জন বন্দি আরবি শিক্ষা এবং ২,৪৭০ জন কোরআন শিক্ষায় অংশ নিয়েছেন। ইতোমধ্যে ২,৫০০ বার কোরআন খতম করা হয়েছে।

এই সময় তার সঙ্গে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আঃ ছালাম খান, আইজি (প্রিজন) সৈয়দ মোঃ মোতাহের হোসেন, এআইজি (প্রিজন) জাহাঙ্গীর কবির এবং সিনিয়র জেল সুপার সুরাইয়া আক্তারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বন্দীদের পুনর্বাসনে জেলখানায় মানবিক পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান ধর্ম উপদেষ্টার

বন্দীরা সমাজেরই অংশ তাদের সংশোধনের সুযোগ দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা রাখতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘‘কারাগার থেকে বের হওয়ার পর যেন তারা অপরাধে না জড়ায়, সে লক্ষ্যেই জেলখানায় ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার পাশাপাশি উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।’’

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) দুপুরে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

ধর্ম উপদেষ্টা জানান, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বর্তমানে এই কারাগারে ধর্মীয় শিক্ষা পরিচালনা করছে। একজন নিযুক্ত শিক্ষক কয়েদি ও হাজতিদের নিয়মিত ইসলাম ধর্মীয় শিক্ষা দিয়ে থাকেন। তিনি বলেন, কারা কর্তৃপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী হিন্দু ধর্মাবলম্বী বন্দিদের জন্যও ধর্মীয় শিক্ষক নিযুক্ত করা হবে।

তিনি আরও বলেন, কারাগারের নিরাপত্তা ও কৌশলগত কারণে স্থায়ী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণ সম্ভব নয়। তবে, প্রতিটি ওয়ার্ডে ধর্মচর্চার পরিবেশ তৈরির ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর অংশ হিসেবে জায়নামাজ, ধর্মীয় গ্রন্থ, কার্পেটসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ করবে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

পরিদর্শনকালে তিনি কারাগারের কেন্দ্রীয় মক্তব, হেফজ শাখা, লাইব্রেরি, মনন ও শরীরচর্চা কেন্দ্র, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সেন্টার, রান্নাঘরসহ বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন এবং বন্দিদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন। তিনি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে দ্রুত ধর্মীয় বই সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দেন।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালনায় ১২টি মক্তব চালু রয়েছে। ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এসব মক্তব থেকে ৮,২২২ জন বন্দি আরবি শিক্ষা এবং ২,৪৭০ জন কোরআন শিক্ষায় অংশ নিয়েছেন। ইতোমধ্যে ২,৫০০ বার কোরআন খতম করা হয়েছে।

এই সময় তার সঙ্গে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আঃ ছালাম খান, আইজি (প্রিজন) সৈয়দ মোঃ মোতাহের হোসেন, এআইজি (প্রিজন) জাহাঙ্গীর কবির এবং সিনিয়র জেল সুপার সুরাইয়া আক্তারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




চামড়া শিল্পে অগ্রগতির চাবিকাঠি সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়: শিল্প উপদেষ্টা

চামড়া শিল্পের বিকাশে পরিবেশবান্ধব ট্যানারি ব্যবস্থা, আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষ মানবসম্পদের পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বয় অপরিহার্য এমন মন্তব্য করেছেন শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান।

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় অনুষ্ঠিত ‘নবম বাংলাদেশ লেদার অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপো (বিএলএফ) ২০২৫’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বক্তব্যের শুরুতে শিল্প উপদেষ্টা মাইলস্টোন কলেজের প্রশিক্ষণ বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে গভীর শোক প্রকাশ করে তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

তিনি বলেন, “চামড়া শিল্প দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানিমুখী খাত। জাতীয় অর্থনীতিতে এই খাতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি লাখো মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি শিল্পখাতের একটি বড় সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে এ খাতে ৩৫ থেকে ৪০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান এবং ১২.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের চামড়া, চামড়াজাত পণ্য ও ফুটওয়্যার উৎপাদন ও রপ্তানির সুযোগ তৈরি হবে।”

আদিলুর রহমান খান আরও বলেন, “এই মেলা উদ্যোক্তা, রপ্তানিকারক ও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের একটি শক্তিশালী সেতুবন্ধন গড়ে তুলবে। যা রপ্তানি আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করবে।”

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান শাহিন আহমেদ। আরও বক্তব্য রাখেন বিসিক চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব বেবী রাণী কর্মকার, ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি জেনারেল মো. মিজানুর রহমান ও মোহাম্মদ আলী বাপ্পী।

বিসিক চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “চামড়া শিল্পের উন্নয়নে বিসিক নিরলসভাবে কাজ করছে। অবকাঠামো, প্রযুক্তি এবং উদ্যোক্তাদের সহযোগিতায় বিসিকের ভূমিকা আগামীতে আরও বিস্তৃত হবে।”

উল্লেখ্য, ২৪ থেকে ২৬ জুলাই পর্যন্ত চলমান এই আন্তর্জাতিক মেলায় ১৪টি দেশের ১৪৮টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। প্রদর্শনীতে আধুনিক ট্যানিং ও ফিনিশিং মেশিনারি, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যসামগ্রী, যন্ত্রাংশ ও প্রযুক্তি প্রদর্শিত হচ্ছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




আবরার হত্যা ও রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক কারাগারে

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যার মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হককে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) রাতে ঢাকার অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছানাউল্যাহ এ আদেশ দেন।

পূর্বের মামলায় গ্রেফতার দেখানোর পর রাত সোয়া ৮টার দিকে খায়রুল হককে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ তার জামিন আবেদন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করে। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে সকালে ডিবি পুলিশ তাকে ধানমন্ডির নিজ বাসা থেকে গ্রেফতার করে। তাকে যাত্রাবাড়ী থানার ২০২৪ সালের ১৮ জুলাইয়ের হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।

আদালতে উপস্থাপিত মামলার বিবরণে বলা হয়, কোটা বাতিলের দাবিতে চলা ছাত্র মিছিলে খায়রুল হকের উসকানিতে সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। এতে যুবদল কর্মী আবদুল কাইয়ুমসহ কয়েকজন প্রাণ হারান। এছাড়া, বিচারপতি থাকাকালীন সময়ে রাষ্ট্রদ্রোহিতা, বিশ্বাসভঙ্গ এবং জাল রায় তৈরির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আরও একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানানো হয়।

আদালতের কাছে তদন্ত কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন, খায়রুল হক একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। জামিনে মুক্তি পেলে তিনি মামলার তদন্তকে প্রভাবিত করতে পারেন। সে কারণেই তাকে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত জেলে রাখার আবেদন করা হয়।

উল্লেখ্য, খায়রুল হক ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর দেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন এবং ২০১১ সালের ১৭ মে অবসর গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদে তিনি আইন কমিশনের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর তিনি পদত্যাগ করেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল রায়ের জন্য তিনি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন।

খায়রুল হকের বাড়ি মাদারীপুর জেলার রাজৈর থানার আড়াইপাড়া গ্রামে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




আওয়ামী সন্ত্রাসে নিহতদের তালিকা তৈরির নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

চব্বিশে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পূর্ববর্তী ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী হামলা এবং তৎকালীন সরকারের নির্দেশে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হাতে যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) বিকেলে সিলেটের রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’-তে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন শহীদ বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের বাবা মোহাম্মদ বরকত উল্লাহ, ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ এবং মামা মোহাম্মদ মোফাজ্জল হোসেন। তারা আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার বিচার দ্রুত শেষ করার দাবি জানান এবং অতীতের সকল রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনার বিচার ও তদন্তের আহ্বান জানান।

মোহাম্মদ বরকত উল্লাহ বলেন, “দেশের স্বার্থে কথা বলায় আমার ছেলেকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তার মা আজও কান্নায় ভেঙে পড়েন। আমরা চাই না আর কোনো মায়ের বুক খালি হোক।”

তিনি কুষ্টিয়ার গড়াই নদীর উপর সেতু নির্মাণে স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবির কথা উল্লেখ করে বিষয়টি দ্রুত বাস্তবায়নে প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

আবরার ফাহাদের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ বলেন, “আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো শিক্ষার্থীবান্ধব নয়। ল্যাব, সরঞ্জামসহ শিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধার ঘাটতি আছে। আমরা আশা করি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।” তিনি বুয়েটে র‍্যাগিং বন্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ারও দাবি জানান।

প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস বলেন, “আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ড গোটা জাতিকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। তার সুষ্ঠু বিচার অবশ্যই সম্পন্ন হবে। পাশাপাশি, রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহতদের তালিকা করে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং তৎকালীন রাষ্ট্রীয় বাহিনীর ভূমিকাও এই তদন্তে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




আহতদের চিকিৎসায় সরকারের ব্যর্থতা তুলে ধরলেন জামায়াত আমির

২০২৪ সালের জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানে আহতদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে না পারার জন্য সরকারকে দায়ী করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “আহতদের চিকিৎসা, শহীদ পরিবারগুলোর সহায়তা এসব ক্ষেত্রেই সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ। আমরা দায়িত্বে গেলে এই পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো হবে আমাদের প্রথম অঙ্গীকার।”

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) বিকেলে সিলেট নগরীর শাহী ঈদগাহস্থ জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে এসব কথা বলেন তিনি। ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের স্মরণে সিলেট মহানগর জামায়াত এই কর্মসূচির আয়োজন করে।

জামায়াত আমির আরও বলেন, “যে রাজনৈতিক দল নিজ কর্মীদের চাঁদাবাজি বা দখলদারিত্ব থেকে মুক্ত রাখতে পারে না, তারা দেশের জন্য কখনোই নিরাপদ নয়। দেশের সর্বত্র আজ সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য। চা শিল্প আজ রুগ্ন, কারণ সরকারের উদাসীনতা ও অব্যবস্থাপনা। দেশের মানুষ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এক যুদ্ধ করেছে, সামনে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আরেকটি যুদ্ধ আসছে।”

তিনি জানান, রাজনৈতিক সংস্কার ও নিরপেক্ষ বিচার কার্যক্রম নিশ্চিত করে আগামী বছরের শুরুতেই একটি অবাধ নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছে জামায়াত।

সভায় সভাপতিত্ব করেন সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম। যৌথভাবে সভা পরিচালনা করেন মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি শাহজাহান আলী এবং নায়েবে আমীর নুরুল ইসলাম বাবুল।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। আরও বক্তব্য রাখেন, সিলেট জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান, হবিগঞ্জ জেলা আমির মখলিছুর রহমান, মাওলানা আব্দুস সালাম আল মাদানী, মাওলানা লুৎফর রহমান হুমায়দী, জামিল আহমদ রাজু, শামীম আহমদ, আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ প্রমুখ।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




স্বতন্ত্র কাঠামোর দাবিতে বরিশাল-ভোলা মহাসড়কে ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থীদের অবরোধ

স্বতন্ত্র কাঠামো প্রতিষ্ঠার এক দফা দাবিতে বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা বরিশাল-ভোলা মহাসড়কে দুই ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলা এই অবরোধে সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়, যার ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, তারা দীর্ঘ দুই মাস ধরে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালিয়ে আসছেন। তাদের মূল দাবি—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনতা থেকে মুক্ত হয়ে একটি স্বাধীন কাঠামোর অধীনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা। কারণ, বর্তমানে ঢাবির অধীনে থাকার কারণে প্রশাসনিক জটিলতা ও শিক্ষা কার্যক্রমে নানামুখী সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

এক শিক্ষার্থী জানান, ‘‘ঢাবিকে বারবার জানানো হলেও তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। আমরা গতবার শান্তিপূর্ণ সড়ক অবরোধ করেছিলাম, কিন্তু তখন পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনীও আমাদের ওপর বেধড়ক লাঠিচার্জ করে, যাতে ৩০ শিক্ষার্থী আহত হয়।’’ আজকের কর্মসূচি সেই ধারাবাহিকতারই অংশ। দাবি পূরণ না হলে শিক্ষার্থীরা ‘লংমার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঘোষণা করবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন।

অন্যদিকে, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী শাওন বলেন, ‘‘আমরা প্রথম থেকেই চাইছিলাম ঢাবি ও কারিগরি বোর্ড যৌথভাবে সমস্যার সমাধান করুক। কিন্তু তারা অপারগতা প্রকাশ করায় এখন বিআইটি (বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি) গঠনের মাধ্যমে স্বতন্ত্র কাঠামো দাবি করছি।’’

শিক্ষার্থী ইএইচ ইরান জানান, ‘‘এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের যাতে সমস্যা না হয়, সে বিবেচনায় আমরা সড়ক অবরোধ কর্মসূচি দীর্ঘায়িত করিনি। কিন্তু আমাদের দাবির ব্যাপারে দ্রুত সুরাহা না হলে আমরা কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবো।’’

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




শিক্ষক সংকটসহ ৭ দফা দাবিতে বরিশাল টেক্সটাইল শিক্ষার্থীদের উত্তাল আন্দোলন

বরিশাল টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে দীর্ঘদিনের শিক্ষক সংকট ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতকরণসহ সাত দফা দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে কলেজ ক্যাম্পাস থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে তারা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেয় এবং বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার কুশপুত্তলিকা দাহ করে ক্ষোভ প্রকাশ করে।

এর আগে গতকাল বুধবার বেলা ১২টা থেকে কলেজের প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে ‘অল শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু করে শিক্ষার্থীরা। দাবি আদায়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলছে, দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে তারা এবং তাদের পূর্ববর্তীরা একাধিকবার আন্দোলন করলেও কোনো কার্যকর পরিবর্তন হয়নি।

শিক্ষার্থীদের সাত দফা দাবিগুলো হলো—
১. শিক্ষক সংকটের স্থায়ী সমাধান,
২. ল্যাব ও ক্লাসরুম আধুনিকায়নসহ পর্যাপ্ত লোকবল নিয়োগ,
৩. ক্যাম্পাসে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি,
৪. তিন মাসের মধ্যে মার্কশিটসহ রেজাল্ট প্রদান,
৫. সেমিস্টার ও রিটেক ফি কমানো,
৬. শতভাগ আবাসিক সুবিধা নিশ্চিতকরণ,
৭. প্রতিটি সেমিস্টার ৬ মাসের মধ্যে সম্পন্ন ও ইম্প্রুভমেন্ট সিস্টেম চালু।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, তারা শুধু আশ্বাস নয়, বাস্তবিক সমাধান চান। কর্তৃপক্ষ যদি এবারও উদাসীন থাকে, তাহলে আন্দোলন আরও কঠোর হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫