ভোটকেন্দ্রে শক্তিশালী উপস্থিতি নিশ্চিতের আহ্বান জামায়াত প্রার্থী হেলালের

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সংগঠিত ও শক্তিশালী উপস্থিতি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও বরিশাল-৫ (সদর) আসনের মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল।

শনিবার (২৬ জুলাই) বরিশাল নগরীর টাউন হল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত “ভোটকেন্দ্র প্রতিনিধি সম্মেলন ২০২৫”-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হেলাল বলেন, “নির্বাচন ঘিরে আমাদের সাংগঠনিক শক্তি কেন্দ্রীভূত করতে হবে। প্রতিটি কেন্দ্রেই আমাদের প্রতিনিধিদের দৃঢ় ও সংগঠিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। ইনশাআল্লাহ আমরা পরিকল্পিতভাবে কাজ করলে বিজয় হবেই।”

তিনি আরও বলেন, “দেশের মানুষ সব দল দেখে নিয়েছে। এবার জনগণ বিকল্প শক্তি হিসেবে জামায়াতকেই চাইবে। দুর্নীতি, চাঁদাবাজি আর ফ্যাসিবাদকে প্রতিহত করে ইসলামী শাসনব্যবস্থার মাধ্যমে গড়া হবে নতুন বাংলাদেশ।”

ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে বার্তা পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে হেলাল বলেন, “আমাদের বার্তা প্রতিটি ঘরে পৌঁছাতে হবে। ভোট শুধু রাজনীতি নয়, এটি দায়িত্ব ও আমানত।”

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বরিশাল মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা জাহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর এবং সঞ্চালনায় ছিলেন মহানগর সেক্রেটারি মাওলানা মতিউর রহমান।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বরিশাল জেলা আমির অধ্যাপক আ: জব্বার, মহানগর নায়েবে আমির প্রফেসর মাহামুদ হোসেন দুলাল, অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান, সদর উপজেলার আমির মাওলানা সফিউল্লাহ তালুকদার, নায়েবে আমির মাওলানা ইসমাইল হোসেন ও সেক্রেটারি অধ্যাপক কাওসার হোসাইন।

প্রতিনিধি সম্মেলনে বরিশাল-৫ আসনের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। বক্তারা আগামী জাতীয় নির্বাচনে সংগঠিতভাবে মাঠে থাকার প্রস্তুতির কথা বলেন এবং কেন্দ্রভিত্তিক কাঠামো আরও মজবুত করার আহ্বান জানান।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশাল-৫: মনোনয়ন যুদ্ধে মাঠ কাঁপাচ্ছেন হেভিওয়েট নেতারা

বরিশাল-৫ (সদর) আসন দক্ষিণাঞ্চলের রাজনীতিতে এটি এক অতি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দু। দলমত নির্বিশেষে সব রাজনৈতিক শক্তির কাছে এই আসনটি একটি মর্যাদার লড়াইয়ের প্রতীক। ২০২৫ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে মনোনয়ন যুদ্ধ। বিভিন্ন দলের হেভিওয়েট প্রার্থীরা রয়েছেন এই প্রতিযোগিতায়, যার মধ্যে বিএনপি ও ইসলামী দলগুলোর শক্ত অবস্থান স্পষ্ট।

স্বাধীনতার পর এ পর্যন্ত এ আসনে ১০টি নির্বাচন হয়েছে, যার মধ্যে ৮টিতে বিজয়ী হয়েছে বিএনপি। এ দলের হয়ে সবচেয়ে বেশি সময় সাংসদ ছিলেন অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান সারোয়ার। এবারও তিনি মনোনয়নের জন্য প্রস্তুত রয়েছেন। তার সঙ্গে মনোনয়ন প্রত্যাশায় রয়েছেন বিএনপির আরও এক উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জাতীয় কমিটির সদস্য এবায়েদুল হক চান, আবু নাসের মোহাম্মদ রহমতউল্লাহ ও মহানগর আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক।

বিএনপির এ নেতারা অতীতে আন্দোলন, মামলা ও কারাবরণে বহুবার সরব ছিলেন। ফলে দলীয় প্রতীকের লড়াইয়ে কে এগিয়ে থাকবেন—তা নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ।

তবে এ আসনে ইসলামী দলগুলোও শক্ত অবস্থানে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ইতোমধ্যে মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। বরিশাল সিটি নির্বাচনের সময় হামলার শিকার হওয়া এই নেতা বরিশাল অঞ্চলে যথেষ্ট পরিচিত এবং জনপ্রিয়।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে মনোনীত হয়েছেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল। পরিচ্ছন্ন ইমেজের এই নেতা দলীয়ভাবে ত্যাগী হিসেবে বিবেচিত।

জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকেও ইকবাল হোসেন তাপস প্রার্থী হতে পারেন, যদিও তফসিল ঘোষণার আগে বিষয়টি নিশ্চিত নয়।

এই আসনে তরুণ ভোটার আরিফুর রহমান বলেন, “সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হলে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে বরিশাল-৫ এর ফলাফলে বড় চমক আসতে পারে।”

এদিকে বরিশাল বিভাগীয় নির্বাচন বিশ্লেষক আনিসুর রহমান স্বপনের মতে, বরিশাল-৫ আসন শুধু সদরই নয়, বরং গোটা বিভাগের রাজনৈতিক দিকনির্দেশক। এই আসনের ফলাফল প্রভাব ফেলবে আশপাশের এলাকাগুলোর রাজনৈতিক ভারসাম্যে।

আসনের দীর্ঘ ইতিহাসে দেখা যায়, বিএনপির আব্দুর রহমান বিশ্বাস, নাসিম বিশ্বাস ও মজিবুর রহমান সারোয়ার একাধিকবার নির্বাচিত হয়েছেন। অপরদিকে আওয়ামী লীগের পক্ষে সর্বশেষ দুইবার নির্বাচিত হয়েছেন জাহিদ ফারুক শামীম। তার আগেও এই আসনে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি এবং জামায়াত বিজয়ী হয়েছে।

অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ আসনে কার হাতে উঠবে নির্বাচনের বিজয়মাল্য—তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে তফসিল ঘোষণার পর পর্যন্ত। তবে এরইমধ্যে এই আসনে মনোনয়ন যুদ্ধে যে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে, তা যেন জাতীয় রাজনীতিকেও নাড়া দিচ্ছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ঢাকা-বরিশাল রুটে বিমান চলাচল বন্ধ, উদ্বেগে যাত্রীরা

দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে ওঠা ঢাকা-বরিশাল রুটের যাত্রীবাহী বিমান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বাংলাদেশ বিমান।

শুক্রবার (২৫ জুলাই) থেকে এই রুটে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকায় বরিশাল, পটুয়াখালী ও কুয়াকাটার সঙ্গে রাজধানী ঢাকার দ্রুত আকাশপথে যোগাযোগ ব্যাহত হলো। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরিশাল বিমানবন্দরের ম্যানেজার সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, “বরিশাল থেকে সব ফ্লাইট বন্ধ।” এরপরই তিনি ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উড়োজাহাজ সংকটের কারণেই সাময়িকভাবে বরিশালসহ দুটি রুটে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ আশ্বস্ত করেছে, দুটি উড়োজাহাজ প্রাপ্ত হলেই এই রুটে বিমান চলাচল পুনরায় চালু হবে।

১৯৯৫ সালে বরিশাল বিমানবন্দর আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হলেও নিয়মিত ফ্লাইট অনেক সময়ই বন্ধ থাকে। সর্বশেষ ২০২১ সালের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে নিয়মিত বিমান চলাচল শুরু হয়। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর যাত্রী সংকটের অজুহাতে ২০২২ সাল থেকে সপ্তাহে তিন দিন করে ফ্লাইট চালানো হচ্ছিল।

বর্তমানে এই রুটে কোনো বেসরকারি এয়ারলাইনও ফ্লাইট পরিচালনা করছে না। বৃহস্পতিবার বিকেলে বাংলাদেশ বিমানের ‘এস ২ একেডি’ নম্বরের উড়োজাহাজ ৬০ জন যাত্রী নিয়ে বরিশালে আসে এবং ৬৫ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকায় ফিরে যায়। সেটিই ছিল সর্বশেষ ফ্লাইট।

দীর্ঘদিন আকাশপথে নিয়মিত যাতায়াতকারী যাত্রীরা বলছেন, ফ্লাইট বন্ধ থাকায় তারা সময়, অর্থ ও নিরাপত্তার দিক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা, পায়রা বন্দর, মেডিকেল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন কাঠামোর সঙ্গে এই রুট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি নজরুল ইসলাম খান রাজন বলেন, “এ রুটে পর্যাপ্ত যাত্রী থাকা সত্ত্বেও বারবার সার্ভিস বন্ধ করা হচ্ছে। এটা এ অঞ্চলের অর্থনীতির জন্য অশনি সংকেত।”

তিনি আরও বলেন, “এখন সময় এসেছে বিমানবন্দর আধুনিকায়ন করে যাত্রীবান্ধব করে তোলা ও ফ্লাইট চালু রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করার। অন্যথায় আমরা আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।”

সাধারণ যাত্রীরাও দ্রুত এই রুটে বিমান চলাচল স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




সন্ধ্যা নদীর ভাঙনে এক রাতেই চার ঘর বিলীন

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় সন্ধ্যা নদীর আকস্মিক ভাঙনে চারটি পরিবারের ঘর সম্পূর্ণভাবে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
শনিবার (২৬ জুলাই) ভোরে উপজেলার জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়নের দক্ষিণ চর হোগল পাতিয়া গ্রামে এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারুক আহমেদ জানান, নদী ভাঙনের কবলে পড়ে মজিদ ব্যাপারী, আজিদ ব্যাপারী, সালেক ব্যাপারী ও বারেক বেপারির বসতভিটা সম্পূর্ণভাবে বিলীন হয়ে গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তা হিসেবে দুই বান টিন এবং শুকনো খাবার সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ভাঙনরোধে জরুরি পদক্ষেপ নিতে অবহিত করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘হঠাৎ বিকট শব্দে ঘুম ভাঙে। দেখি নদীর পাড় দেবে যাচ্ছে। পানির তোড়ে ঘর, গাছপালা সব ভেসে গেছে। কেউ মালামাল সরাতে পারেনি।’

একই গ্রামের আজিজ ব্যাপারী জানান, ‘চোখের সামনে আমাদের গাছ, ঘর দেবে যেতে দেখেছি। কিছুই বাঁচাতে পারিনি।’

মজিদ ব্যাপারী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘স্ত্রী-সন্তান নিয়ে কোনোরকমে দিন চলছিল। কিন্তু এই নদী আমাদের সর্বস্ব কেড়ে নিল। এখন আমরা খোলা আকাশের নিচে।’

প্রবল স্রোতে গত দুই দিনে পানি বাড়তে থাকায় আশপাশের এলাকা নিয়ে আতঙ্ক বাড়ছে। ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে সবুজ বাংলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ চর হোগল পাতিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি জামে মসজিদ, ভাঙ্গারমুখ লঞ্চঘাটসহ অন্তত ২৫টি বাড়িঘর।

স্থানীয়রা দ্রুত ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




উপকূলে তিন নম্বর সংকেত, জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে দ্বীপ ও চর

উত্তর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের কারণে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে আবহাওয়ার চরম অবনতি ঘটেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় এলাকায় দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

আবহাওয়ার বিশেষ সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের উপর অবস্থানরত নিম্নচাপটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ২৫ জুলাই মধ্যরাতে পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডের ওপর অবস্থান করছিল। নিম্নচাপটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। এর প্রভাবে বঙ্গোপসাগরের বাতাসে চাপের তারতম্য বেড়ে গেছে, ফলে সমুদ্র উত্তাল হয়ে উঠেছে। এতে সমুদ্রবন্দর ও উপকূলীয় জেলাগুলোতে বাড়তি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

নিম্নচাপ ও অমাবস্যার প্রভাবে সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার উপকূলীয় এলাকা এবং নিকটবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ১ থেকে ৩ ফুট উচ্চতার বায়ু-চালিত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

আবহাওয়া অফিস থেকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে, উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলার পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকবে। এরই মধ্যে মৎস্যজীবীদের অনেকে ঘাটে নৌকা বেঁধে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছেন। তবে কিছু এলাকায় এখনো ঝুঁকি নিয়ে অনেকে মাছ ধরছেন, যা বড় ধরনের বিপদের কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে উপকূলীয় এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়িয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে উদ্ধারকারী দল ও আশ্রয়কেন্দ্রসমূহ। সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনগুলো বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে অনুরোধ করেছে এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে।

এদিকে উপকূলের সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে চরাঞ্চলের মানুষ যারা আগে থেকেই জোয়ারের পানিতে ভোগান্তিতে রয়েছে, তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা। অনেক কৃষকের ধানক্ষেত ইতোমধ্যে পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, নিম্নচাপটি স্থলভাগে উঠে এলেও এর প্রভাব কিছুদিন পর্যন্ত থেকে যেতে পারে। তাই সতর্ক সংকেত অব্যাহত থাকবে। পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষজনকে সব ধরনের সাবধানতা অবলম্বন করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



নির্বাচনের তারিখ ঘোষণায় ৫ আগস্ট সময়সীমা বেঁধে দিলেন জোনায়েদ সাকি

জাতীয় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণায় ৫ আগস্টের আল্টিমেটাম দিয়েছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি। তার মতে, বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন—এই তিনটি প্রক্রিয়া একসঙ্গে এগিয়ে না নিলে দেশে গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথ সুগম হবে না।

শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের বিপ্লব উদ্যানে গণসংহতি আন্দোলনের চট্টগ্রাম জেলা শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে এই বক্তব্য দেন তিনি।

সাকি বলেন, “নির্বাচনের পরিবেশ নেই—এই অজুহাত তুলে যারা নির্বাচন পেছানোর চেষ্টা করছেন, তারা আসলে গণতন্ত্রকে স্থগিত করতে চাচ্ছেন। আমরা সেটা হতে দেব না।” তিনি আরও বলেন, “দেশের মানুষ যদি ভোট দিয়ে আগের কাউকেই আনতে চায়, সেটাও তাদের অধিকার। জনগণের ওপর আস্থা না রেখে কেউ যদি সবকিছু নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়, সেটাই হচ্ছে প্রকৃত দখলদারিত্ব।”

তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “কোনো রাজনৈতিক শক্তি যদি আবারও ক্ষমতা দখলের পথে হাঁটে, তাহলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিরোধ করা হবে।”

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা সমন্বয়কারী হাসান মারুফ রুমি এবং সঞ্চালনা করেন যুগ্ম নির্বাহী সমন্বয়ক নাসিরউদ্দিন তালুকদার।
বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক ড. আতিকুর রহমান এবং সংগঠনের জেলা যুগ্ম সমন্বয়কারী মো. হারুন।




. “রাজপথে নেমেছি অধিকার ও ইনসাফের সংবিধানের জন্য” — নাহিদ ইসলাম

বিচার, সংস্কার ও নতুন সংবিধানের দাবিতে সিলেটে রাজপথে নেমেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘আমরা এমন একটি সংবিধান চাই, যেখানে সাধারণ মানুষের অধিকার ও মর্যাদার সুরক্ষা থাকবে।’

শুক্রবার (২৫ জুলাই) বিকেলে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’র অংশ হিসেবে সিলেট শহীদ মিনারে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম জানান, আগামী ৩ আগস্ট ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ ও ‘জুলাই সনদ’ আদায়ের লক্ষ্যে তারা আবারও শহীদ মিনারে জমায়েত হবেন। তিনি বলেন, “ইনশাআল্লাহ, আমরা শহীদ মিনার থেকেই জনগণের দাবি আদায় করব।”

তিনি আরও বলেন, “সিলেট ইসলামের সম্প্রীতি, ইনসাফ ও সংস্কৃতির প্রতীক। এই অঞ্চলে ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি লালিত হয় যুগ যুগ ধরে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতা সংগ্রাম পর্যন্ত প্রতিটি আন্দোলনে সিলেটের মানুষের সাহসিক ভূমিকা ছিল।”

প্রবাসী সিলেটিদের অবদানের কথা উল্লেখ করে নাহিদ বলেন, “আজ লন্ডনের বহু মসজিদ, স্কুল, রেস্টুরেন্ট ও রাস্তায় প্রবাসী সিলেটিদের ঘামে বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা ঘোরে। আমরা তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে চাই।”

উল্লেখ্য, এনসিপি’র ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন স্থান থেকে দলটির নেতাকর্মীরা অংশ নেন।




‘মাইলস্টোন দুর্ঘটনাকে পুঁজি করে পুনরায় সক্রিয় হচ্ছে আওয়ামী লীগ’: এনসিপি নেতা হাসনাত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ অভিযোগ করেছেন, মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির মতো হৃদয়বিদারক ঘটনাকেও রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে আওয়ামী লীগ। তিনি বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটেছে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, সেই মাইলস্টোনের শোককেই রাজনৈতিক হাতিয়ার বানিয়ে ফের ক্ষমতা আঁকড়ে ধরতে চাইছে আওয়ামী লীগ। দেশের স্বার্থে সব ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জাতীয় বীর আব্দুল কুদ্দুস মাখন পৌর মুক্তমঞ্চে এনসিপির পদযাত্রা পরবর্তী সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

হাসনাত বলেন, “দেশের জনগণ আজ রাস্তায় মরছে, হাসপাতালে মরছে, দুর্ঘটনায় মরছে স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা নেই। আমরা চাই, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে জনগণের স্বাভাবিক মৃত্যুর অধিকার নিশ্চিত করা হোক।”

তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, “আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থা এমন ভঙ্গুর কেন? একজন ইংরেজি অনার্সধারী ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী, এখন বাংলা অনার্সধারী। একজন দক্ষ চিকিৎসক কি এদেশে ছিল না, যাকে দিয়ে এই ব্যবস্থা পরিচালনা করা যেত?”

তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই একটি দক্ষ, জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা, যেখানে জনগণের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও মর্যাদা অগ্রাধিকার পাবে।”

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ হোসেন, সদস্য সচিব আক্তার হোসেন, যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা, যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফ মাহদি ও অন্যান্য নেতারা।

এর আগে, দুপুর পৌনে ১২টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রেলগেট এলাকা থেকে ‘জুলাই পদযাত্রা’ শুরু করে জেলা শহর প্রদক্ষিণ করেন এনসিপি নেতাকর্মীরা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




চাঁদাবাজি-লুটপাট নয়, মাটি ও মানুষের পাশে থাকতে চাই: মুফতি মিজানুর রহমান কাসেমী

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত বরগুনা-২ (পাথরঘাটা-বামনা) আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাওলানা মুফতি মিজানুর রহমান কাসেমী বলেছেন, দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা দলগুলো কখনও এই অঞ্চলের মানুষের কষ্ট বুঝতে চায়নি। তিনি উল্লেখ করেন, চাঁদাবাজি ও লুটপাটের রাজনীতি নয়, বরং মাটি ও মানুষের পাশে থাকতে চান তারা।

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) পাথরঘাটা ও বামনা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পথযাত্রা ও পথসভায় অংশ নিয়ে মাওলানা মিজানুর রহমান কাসেমী বলেন, ‘একদল লুটপাট করে ৫ আগস্টের পর পালিয়ে গেছে, আরেক দল নিরীহ মানুষকে মামলার ফাঁদে ফেলে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তারা হেভিওয়েট নেতার নাম ভাঙিয়ে দোকান-দোকানে চাঁদাবাজি করছে। আমরা এসবের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিচ্ছি এবং পাথরঘাটায় কোনো চাঁদাবাজি হতে দেব না। ব্যবসায়ী ও ভাইদের আমরা পাহারা দেব।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমার কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই। আমি চরমোনাই পীরের শিষ্য। আমরা রাজনীতি করি মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য। আপনারা আমাদের পাশে থাকলে ইনশাআল্লাহ, হাতপাখা বিজয় অর্জন করবে এবং এই জনপদের উন্নয়ন কেউ থামাতে পারবে না।’

এ সময় স্থানীয় ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মী, ধর্মপ্রাণ যুবক, ব্যবসায়ী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




মাইলস্টোন আহতদের বিদেশে চিকিৎসার উদ্যোগ নিচ্ছেন তৌহিদ আফ্রিদী

সমাজসেবায় নিজেকে নিবেদিত বাংলাদেশের শীর্ষ ইউটিউবার তৌহিদ আফ্রিদী মাইলস্টোন ট্র্যাজেডিতে আহত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ সেভাবে ভালো নেই, শোনছি ছোট ছোট শিশুদের কান্নার আওয়াজ, অনেক মায়ের বুক খালি হয়ে গেছে। আমি নিজেও এই শোকে মন বসাতে পারছি না। তবে বসে থাকলে হবে না, তাই আহত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াব।’

তিনি আরও জানান, ‘বাংলাদেশের চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। তবে যারা ক্রিটিক্যাল অবস্থায় আছেন, তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে পাঠাতে হলে আমি এবং আমার বন্ধুরা মিলে সাধ্যমতো তাদের দায়িত্ব নিতে চাই। এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে থাইল্যান্ড বা সিঙ্গাপুরে নিয়ে চিকিৎসা করানোর পরিকল্পনা রয়েছে।’

আফ্রিদী অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ করেন, ‘যারা সত্যিই ক্রিটিক্যাল অবস্থায় আছেন, তাদের অভিভাবকরা আমার ফেসবুক পেজে ইনবক্স করুন। আমি নিজে ফলোআপ রাখব এবং যোগাযোগ করব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি কোনও রাজনৈতিক কথাবার্তা বলছি না, প্রত্যেকে নিজের মতো করে সাহায্য করুন। যারা এই দুর্ঘটনার শুরু থেকে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করছেন, তাদের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা। যারা অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহে কাজ করছেন, তাদের জন্য আমরা সবসময় পাশে আছি। আমাদের মাই টিভি পরিবার তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।’

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫